মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘন্টা পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতে এবং আশ্রয়দানের ওপর নতুন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা পাঠাবেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করার পদক্ষেপ নেবেন। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ট্রাম্প দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করার বিতর্কিত আদেশ ঘোষণা করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়।’
মার্কিন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত একটি অধিকার বাতিল করার পদক্ষেপ কঠোর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যা একটি অনিবার্য বিষয় বলে প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন।
এই পুশব্যাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের যথেষ্ট কারণ আছে, তবে আপনি ঠিক হতে পারেন।’
আরেকটি নির্বাহী আদেশে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আইনি অভিবাসন আমার পছন্দ। আমার ভালো লাগে। আমাদের লোক দরকার এবং আমি এতে একেবারেই রাজি। আমরা এটা চাই।’
‘তবে, আমাদের আইনি অভিবাসন থাকতে হবে।’
এর আগে উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম ঘোষণা করেছিলেন, তিনি তার ‘দেশের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য’ মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা পাঠাবেন।
তিনি বলেন, ‘সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ করা হবে এবং আমরা লাখ লাখ বিদেশি অপরাধীকে যেখান থেকে তারা এসেছে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব।’
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি আগেই ঘোষণা করেছিলেন, প্রশাসন আশ্রয়দান প্রথা বন্ধ করবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল
ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম প্রভাব তার উদ্বোধনের কয়েক মিনিট পরেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অভিভাসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে চালুকৃত একটি অ্যাপ অফলাইন হয়ে যায়।
মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অ্যাপে ৩০ হাজার লোকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারিত ছিল।
ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টা এবং অভিবাসন নীতেতে কট্টরপন্থী প্রখ্যাত স্টিফেন মিলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আগ্রহী সকল অবৈধ অভিবাসীদের এখনই ফিরে যাওয়া উচিত।’
‘অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী যে কেউ বিচার এবং বহিষ্কারের মুখোমুখি হবেন।’
কেলি বলেন, প্রশাসন ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের অধীনে প্রচলিত "মেক্সিকোতে থাকুন" নীতিটিও পুনর্বহাল করবে।
এই নিয়মের অধীনে, মেক্সিকান সীমান্তে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করেন তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা করার অনুমতি ছিল না।
মার্কিন-মেক্সিকান সীমান্তে হতাশা
"যেহেতু আমরা এখানে আছি, দয়া করে আমাদের প্রবেশ করতে দিন," ২৭ বছর বয়সী কিউবান তরুণী ইয়াইমে পেরেজ বলেন।
তিনি বলেন, "দয়া করে, এখানে আসার জন্য আমরা যে সব পরিশ্রম করেছি তার পরে, আমাদের আপনাদের দেশে প্রবেশ করতে দিন, যাতে আমরা জীবনে নিজেদের আরও উন্নত করতে পারি।"
ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূকম্পনের ফলে রাজধানী শহরের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুল সংখ্যক মানুষ চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ভেনিজুয়েলা সরকার। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধার তৎপরতায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যে আঘাত হানে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূকম্পন। ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুর্যোগে "১০,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির ৪৪% আশঙ্কা এবং ১,০০,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির ৩০% আশঙ্কা রয়েছে"। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস এবং সমতলে মাটির স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার (লিকুইফেকশন) মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো ও রেল চলাচলের পাশাপাশি জরুরি নয় এমন সব কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রদ্রিগেজ আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে এক সাক্ষাৎকারে জানান যে কারাকাস ছাড়াও দেশের ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবোসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন। একে অপরের খোঁজ নিন।"
কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবনসহ বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার এই অভিজ্ঞতাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভেনিজুয়েলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে, যখন মানুষ সিমন বলিভারের ঐতিহাসিক কারাবোবো যুদ্ধের বিজয় উদযাপন করছিলেন। সাধারণ ছুটি থাকায় অধিকাংশ মানুষ সপরিবারে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই চরম সংকটে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রবল বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। একই সঙ্গে প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে কলকাতা শহর। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যানবাহন, ব্যাহত হয়েছে সড়ক চলাচল।
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছিল। দুপুর গড়াতেই হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বজ্রপাত। কয়েক ঘণ্টার এই দুর্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বজ্রাঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, পুরুলিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায়। মাঠে কাজ করার সময়, গবাদিপশু আনতে গিয়ে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থানের সময় অনেকেই বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন।
কোচবিহারে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে একই সময়ে বজ্রপাতের একাধিক ঘটনা ঘটে।
মুর্শিদাবাদে নদীপথে চলাচলকারী একটি নৌকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়বৃষ্টির সময় নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ায় বজ্রাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন বন্ধু একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে একজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, কলকাতায় ঝড়ের তাণ্ডবে বহু এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। ধর্মতলা, মৌলালি, ডাফরিন রোড, হাইকোর্ট চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
হাইকোর্ট এলাকার পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বরেও ঝড়ের প্রভাব দেখা যায়। বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনাও ঘটে। কলকাতা পৌর কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে।
উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন। রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় বাতাসের গতি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদেরও সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খোলা মাঠ, জলাশয় ও গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্রিটেনে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অথবা নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (২৪ জুন) তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্দ্রতা ও অন্যান্য আবহাওয়াগত কারণে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। ফলে বাইরে অবস্থানকারী মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চরম গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে জারি করা চরম তাপমাত্রা সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে, কারণ আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন গরমের এই তীব্রতা কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষগুলো নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগেভাগে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কিছু স্কুল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়।
তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু শিক্ষা খাতেই নয়, পরিবহন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।
তীব্র দাবদাহের কারণে ভুগছে পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এ অস্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বুধবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক এই চরম আবহাওয়ায় এটিই ছিল দেশটির প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেনারেটর সরবরাহ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল দুর্ঘটনাজনিত এবং বর্তমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে কেউ আহত হননি।’
রয়টার্সের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, পরিবহন নেটওয়ার্কে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং স্কুল ও পর্যটনস্থল বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।
আবহাওয়া সংস্থা মেটিও ফ্রান্স জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের আগস্টের তাপপ্রবাহের সঙ্গে তুলনীয়। সেই তাপপ্রবাহ ১৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে আনুমানিক ৮০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।
বর্তমান তাপপ্রবাহ কত দিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত নয়। এটি ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত বিন্যাসের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যার আকৃতির কারণে দিন দিন তাপমাত্রা জমা হতে থাকে এবং আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে উত্তপ্ত হচ্ছে, ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বেশি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
এই তাপপ্রবাহের কারণে নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মঘণ্টা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে যাতে শ্রমিকরা দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সময়ে খুচরা বিক্রেতারা বৈদ্যুতিক পাখা ও বহনযোগ্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণে বিকেলের কাজ নিষিদ্ধ হওয়ায় কৃষকরা রাতের বেলায় শস্য কাটছেন।
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে জলাশয়ে ঝাঁপ দেওয়ার সময় কয়েক ডজন মানুষ ডুবে মারা গেছেন। ব্রিটেনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার পরিচালনাকারী সংস্থা বুধবার দিনের পরবর্তী সময়ে রেকর্ড ভাঙতে পারে এমন তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ উৎপাদকদের আরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।
তাপমাত্রা যখন ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠেছে, তখন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ‘রেড হিট’ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি শুধু অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য নয়, সুস্থ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
ব্রিটেনের রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বুধবার ও বৃহস্পতিবার—সবচেয়ে গরম এই দুই দিনে—শুধু জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছে, কারণ অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে আনা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে পারিবারিক বাড়ির বাইরে একটি গরম গাড়ির ভেতরে মারা যাওয়া দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক কৌঁসুলি জানান, শিশুদের মা বলেছেন যে তার অজান্তেই শিশুরা গাড়ির ভেতরে ছিল।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফ্লোরেন্স, মিলান, রোম, তুরিন ও ভেরোনাসহ ১৬টি শহরের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, বিশেষ করে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তাপপ্রবাহটি সম্ভবত আগামী রোববার ও সোমবারের মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে।
তাদের মতে, তুসকানি ও এমিলিয়া অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আর লিগুরিয়ার মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে মানুষের অনুভূত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে আবারও শান্তি আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জানান, অ্যাঙ্কোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে এই আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে পুতিন অভিযোগ করেন, মূলত ইউক্রেনের একগুঁয়েমি ও উদ্যোগের অভাবে আগের আলোচনা প্রক্রিয়া মাঝপথে থমকে গিয়েছিল।
বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই আলোচনা হতে হবে ইস্তাম্বুলে হওয়া পূর্ব সমঝোতা, অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা অনুযায়ী। সবচেয়ে বড় কথা হলো যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে এ আলোচনা করা দরকার।
রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, থমকে যাওয়া এই আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে প্রমাণ করতে পারে।
গত বছর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে তিন দফায় (১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই) শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকগুলো থেকে বড় আকারের যুদ্ধবন্দি বিনিময় এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আমেরিকার আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে প্রথমে ২৮ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যা পরে সংশোধন করে ২০ দফায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ইউক্রেন কোনোভাবে নিজেদের ভূখণ্ড বা জমি রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় চুক্তিটি আটকে যায়।
এরপর চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আরও তিন দফা বৈঠক হয়। এর মধ্যে গত ২৩-২৪ জানুয়ারি ও ৪-৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠক দুটি আবুধাবিতে এবং গত ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এই শান্তি প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে ২০২২ সালের বসন্তকালেও ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠকে একটি খসড়া শান্তি চুক্তি প্রাথমিকভাবে সই হয়েছিল। রাশিয়া এখন সেই পুরোনো চুক্তিগুলোর সূত্র ধরে নতুন করে সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতীকী অবস্থান নিয়ে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যেই এ পদক্ষেপ হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএফপি জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আগে অনুমোদিত প্রস্তাবটি সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এতে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এটি একটি ‘কনকারেন্ট রেজ্যুলেশন’ হওয়ায় প্রেসিডেন্টের সইয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে না এবং এর আইনি কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
তারপরও প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং পরে লেবানন ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশকে জড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে ২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ইয়েমেন ও ইরানে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ বিল পাস করেছিল কংগ্রেস। তবে ট্রাম্প সেগুলোতে ভেটো দেন এবং কংগ্রেস তা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়।
মঙ্গলবারের ভোটের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ‘এই সিনেটররা আমার কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছেন। কিন্তু যেভাবেই হোক আমি কাজটি সম্পন্ন করব, কারণ আমি সবসময়ই তা করে থাকি।’
এ ভোটাভুটির সময় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারককে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। সম্ভাব্য ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচলের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার ভোটের আয়োজন করেন, যাতে রিপাবলিকানদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়। ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-সমাপ্তি চুক্তি—উভয় বিষয় নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ভোটের আগে দেওয়া বক্তব্যে শুমার বলেন, ‘রিপাবলিকানরা বন্ধ দরজার আড়ালে ট্রাম্পের যুদ্ধ, গোপনীয়তা ও ইরান চুক্তি নিয়ে যতই সমালোচনা করুক না কেন, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হলে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এর আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও প্রস্তাবটি পাস হয়। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে একযোগে এর পক্ষে ভোট দেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে বিরল বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
‘বিপজ্জনক সম্ভাবনা’
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিদেশে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মোতায়েনের ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের ওপর প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ অসাংবিধানিক। তাদের মতে, ট্রাম্প ঘোষিত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
প্রশাসনের আরও বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করা হলে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের দরকষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ভোটের আগে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, আলোচনার সময় প্রধান সেনাপতির ক্ষমতা সীমিত করা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সম্ভাবনা’।
তবে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার দাবি, আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যুদ্ধ চলেছে এবং ট্রাম্প বারবার নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন।
যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও কংগ্রেসে উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাতের কারণে বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত এগিয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়, হরমুজ প্রণালীর কর্তৃত্ব এবং লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে তারা একমত হতে পারছে না। দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার বলেছেন, ‘ইরান ‘‘অনির্দিষ্টকালের’’ জন্য তাদের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।’ অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় এ ধরনের কোনো ছাড় দেয়নি।
গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, এই বিষয়গুলোই ছিল তার মূল ভিত্তি। এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি ওই স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
এসবের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। পেনসিলভানিয়ার এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালোই যাচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, ফলে দলটি তাদের পরবর্তী ম্যাচের একদিনের পরিবর্তে দুই দিন আগে মেক্সিকোর টিজুয়ানা থেকে সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে।
যুদ্ধের প্রতি দেশের মানুষের সমর্থন কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এটি মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যা দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও দুর্বল অবস্থানে আছে। বিপরীতে, মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশটির অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।
এদিকে সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যা চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিনিধি সভায় পাস হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে খোদ ট্রাম্পের দলের কিছু নেতার মধ্যেও যে গভীর উদ্বেগ জন্মেছে, এই ভোটাভুটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ (সিনেট ও প্রতিনিধি সভা) ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট বা যুদ্ধকালীন ক্ষমতা আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কোনো প্রস্তাব পাস করল। তবে এই ভোটাভুটি যুদ্ধের ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
তেলের দাম গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে জাতিসংঘের জাহাজ চলাচলবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে তারা।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য এই পথে অবাধে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সময়সীমা পার হওয়ার পর তারা জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক বা অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান। এই দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়ে জোর দিয়েছে এবং জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং এর আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে তারা একত্রে কাজ করবে।
ওমান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক পথ বা করিডোর তৈরি করতে তারা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে সমন্বয় করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো সফর করছেন। দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে এই প্রণালীতে কোনোভাবেই শুল্ক বা টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।’
সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দেশটির পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের রূপরেখাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বর্তমান রূপরেখা চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য প্রবেশের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটি জানান তিনি।
তবে ইরান আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি। বিদেশের ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, অবরুদ্ধ সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি স্পষ্ট করেন, এই অর্থ খরচের সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।
ওয়াশিংটন এরই মধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছে। ফলে তেহরান তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি করে তাদের অর্থ নেওয়ার সুযোগ পাবে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধটিও একটি বড় অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ও নেতারা একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপারসন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্যের একটি সমান্তরাল ‘জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি’ ঘোষণা করেছেন। তারা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের গঠনতন্ত্রের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও ২০২২ সালের পর নতুন কমিটি করা হয়নি, যা একটি সাংগঠনিক সংকট তৈরি করেছে।
অন্যদিকে দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীসহ দলের আট শীর্ষ নেতা ও বিধায়কদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট তৃণমূল) থেকে বহিষ্কার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতোমধ্যেই উভয় পক্ষই (মমতা এবং ঋতব্রত শিবির) ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কাছে নিজেদের কমিটিকে বৈধ উল্লেখ করে চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীরা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পেয়ে গেলে মূল দল এবং এর ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, তারা কোনো নতুন প্রতীক চাইছেন না কারণ তারাই মূল দল।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় ‘জোড়া ঘাসফুল’-কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও দলীয় প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। দুটি ঘাস ও একটি ফুলের সমন্বয়ে গঠিত এই নকশাটি তৃণমূল কংগ্রেসের মূল স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর প্রতীকী রূপ হিসেবে তৃণমূলে গ্রামীণ ও সাধারণ মানুষের আবেগকে তুলে ধরে।
এই প্রতীক নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলটি ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে এবং ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির জেরে দলে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির পর সেই প্রতীকীও হাতছাড়া হতে পারে মমতার, এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (আইএমও)।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গোয়েজ জানিয়েছেন, ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় দেশ ও সামুদ্রিক শিল্পের সহযোগিতায় এই ‘বৃহৎ আকারের কার্যক্রম’ পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করেছি এবং এই উদ্ধার অভিযানকে সফল করতে নিরাপদ নৌচলাচলের পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি।’
গত সপ্তাহে সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছে। ফলে উদ্ধার অভিযান ও সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে এমন গ্যারান্টি রয়েছে যার অধীনে ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের আওতায় আসবে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘ইরান সুদূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরের পরমাণু পরিদর্শনে পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। এটি “পরমাণু সততা” নিশ্চিত করবে।’
তবে ট্রাম্পের এই পোস্টের ঠিক আগেই ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব পরমাণু কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করেছিল, জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি তা পরিদর্শন করতে পারবে না।
এর প্রতিক্রিয়ায় একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইরানিরা তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশগুলোর ওপর আইএইএর জোরালো পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানি প্রশাসন তাদের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের শান্ত রাখতে নিজেদের মতো করে কথা বলবে।’
এদিকে পাকিস্তানের সফরে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইরান আমাদের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই, কারও সঙ্গে কখনো আলোচনা করবে না।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো কথা হয়নি এবং এটি টেবিলে একেবারেই ছিল না’। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফর শুরু করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পৌঁছানোর পর তিনি কুয়েত ও বাহরাইনেও যাবেন, এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
গত মঙ্গলবার আমিরাতে পৌঁছে রুবিও সতর্ক করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে কোনো দেশকে টোল বা কর আদায় করতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।’
রুবিও বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশের টোল বা ফি নেওয়ার অনুমতি নেই। এটি আন্তর্জাতিক আইন। আমার মনে হয় না এই অঞ্চলের কোনো দেশকে এ ব্যাপারে আমাদের বোঝাতে হবে, তারা আমাদের সঙ্গে একমত হবেন।’
আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকার ওপর নির্ভর করছে।
আইএমওর মহাসচিব ডোমিঙ্গোয়েজ বলেন, ‘নাবিকদের সহায়তার এই চুক্তি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলা বন্ধ করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার নিরপরাধ নাবিকের কয়েক মাসের কষ্ট ও দুর্ভোগ এবং সমগ্র বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের পর, আমি গভীর সন্তোষের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাই।’
ওমানের নৌ-কর্তৃপক্ষের বরাতে আইএমও জানিয়েছে, উদ্ধার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রণালীটি দিয়ে দুটি অস্থায়ী রুট ব্যবহার করা হতে পারে। প্রতিটি জাহাজের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করে নির্দেশনা দেওয়া হবে। আইএমও প্রতিদিন নিরাপদে চলে যাওয়া জাহাজের সংখ্যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং সারসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। ইরানের চুক্তির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওই মন্তব্য করেছেন। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া চুক্তির বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল ছিল না, বরং এটি সাহসী ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও কর্তৃত্বের ফল।
তিনি বলেন, ‘আর এই কারণেই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা অবশ্যই ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চল থেকে বিদেশি সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহারকে একটি কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করি। কারণ তারা কেবল টেকসই নিরাপত্তা তৈরিতেই ব্যর্থ নয়, বরং অস্থিতিশীলতারও উৎস।’
বুধবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করে বাঘের গালিবাফ। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে তার এই বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ইরান বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে যুদ্ধের সময় এসব ঘাঁটি পরিচালনাকারী দেশগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে দ্বন্দ্বে নয়, বরং মিথস্ক্রিয়ায় এবং নির্মূলে নয়, বরং সহাবস্থানের মাধ্যমে দেখি।’ তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম মূল শর্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং আছে। লেবাননে যুদ্ধের অবসান ইরানের যুদ্ধের অবসানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’
‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতিও গাজার মতো হতো’
আমাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গাজায় চলমান নির্মমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তি না থাকলে শত্রুরা ইরানের শিশু কিংবা বৃদ্ধ, কাউকেই রেহাই দিত না।’
বুধবার সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে পাকিস্তান সফরকালে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে আমরা কখনো কোনো আপস করব না।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমীরি মোগাদ্দামসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ওমান থেকে এসে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান। পেজেশকিয়ানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি। এটি না থাকলে দেশটির অবস্থা গাজার চেয়েও খারাপ হতে পারত। তাই এই কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও বৈধভাবে বসবাসের নিয়মে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত একটি নতুন বিধিমালার অনুমোদন দিয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা উন্মুক্ত মেয়াদের ব্যবস্থা বাতিল করবে। এর ফলে শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের দেশটিতে অবস্থানের ক্ষেত্রে এখন থেকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।
নতুন এই ভিসা নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। এখন থেকে তাদের সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য ভিসা প্রদান করা হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি সময়ের হয়, যেমন—গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি প্রোগ্রাম, তবে অতিরিক্ত সময়ের জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। আগে যেখানে পড়ালেখা শেষ করার পর নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হতো, নতুন নিয়মে তা কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে এই নীতিতে। পড়ালেখা চলাকালীন কোনো প্রোগ্রাম বা বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না। একটি নির্দিষ্ট স্তর (যেমন স্নাতক) সফলভাবে শেষ করার পরেই কেবল উচ্চতর স্তরে ভর্তির সুযোগ থাকবে; একই স্তরে বা নিম্ন স্তরে বিষয় পরিবর্তনের সুবিধা আর থাকছে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যত দিন পড়াশোনার শর্ত পূরণ করেন, তত দিন দেশটিতে অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নবায়ন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভিসা নীতির বিষয়ে দেশটির বিভিন্ন কলেজ ও মেডিকেল সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই কঠোর নিয়মাবলীর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সম্পন্ন করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তারা এই সময়সীমা ও নবায়ন প্রক্রিয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ও শরীর শীতল করতে ফ্রান্সে পানিতে নেমে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনও চরম গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্কুল এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র দাবদাহের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা দিন দিন আরও বাড়ছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস মেতেও ফ্রান্স জানিয়েছে, দেশের একটি বড় অংশজুড়ে তীব্র হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) স্পর্শ করতে পারে এবং পশ্চিম ফ্রান্সের কিছু অংশে এটি সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৪৭ সালে তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা শুরুর পর থেকে দেশটি এই প্রথম সবচেয়ে উত্তপ্ত বিকাল এবং রাত প্রত্যক্ষ করলো। আবহাওয়াবিদেরা এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে দেশের ৫৪টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন। গরম থেকে বাঁচতে ফ্রান্সের মানুষ বিভিন্ন খাল ও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, গরম থেকে বাঁচার এই আকুলতা তিনি বুঝতে পারছেন, তবে অননুমোদিত বা বিপজ্জনক স্থানে সাঁতার কাটার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
দাবদাহ নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকের আগে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে একটি দুঃখজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। আমাদের কাছে আসা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জন মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই তরুণ।
অন্য এক মর্মান্তিক ঘটনায়, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারপেনত্রাস এলাকার এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সোমবার বাড়ির সামনে পার্ক করা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাদের মা। পরে প্রথম উদ্ধারকারীরা চেষ্টা করেও তাদের আর জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে পারেননি।
প্যারিসে বহুতল ফ্ল্যাটগুলোতে পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন এবং তীব্র গরমের মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গরমের কারণে প্যারিস ও ব্রাসেলসের মধ্যকার ট্রেনসহ বেশ কিছু ট্রেন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
বৈশ্বিক আবহাওয়ার জন্য নতুন সতর্কসংকেত, দ্রুত এগোচ্ছে এল নিনোবৈশ্বিক আবহাওয়ার জন্য নতুন সতর্কসংকেত, দ্রুত এগোচ্ছে এল নিনো
ব্যবসায়িক নেতারা জানিয়েছেন, এই চরম আবহাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিও ধাক্কা খাচ্ছে। ফ্রান্সের নিয়োগ কর্তাদের গ্রুপ এমইডিইএফ-এর প্রধান প্যাট্রিক মার্টিন বিএফএম টিভি-কে বলেন, ফ্রান্স এখন ধীরগতিতে চলছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সুরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সুপারিশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। তীব্র চাহিদার কারণে প্যারিসের বেশ কয়েকটি এলাকার দোকানে ইলেকট্রিক ফ্যান শেষ হয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, গ্রিক অক্ষর ওমেগার আকৃতির মতো একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাস বা ওমেগা ব্লক-এর কারণে এই তীব্র দাবদাহ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মাঝখানে গরম বাতাস আটকে থাকে এবং দুই পাশে ঠান্ডা বাতাস অবস্থান করে, যার ফলে দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তেই থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দাবদাহ ও ঝড় আরও বেশি শক্তিশালী এবং তীব্র হচ্ছে, যা তাপমাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতেরও কারণ হচ্ছে।
মিয়ানমারে গত বছরের নির্বাচনী আমেজকে কেন্দ্র করে পরবর্তী ছয় মাসে ৭০০’র বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী (জান্তা) দায়ী বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য সামনে আনা হয়।
জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে সামরিক বাহিনী কর্তৃক নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ পর্যন্ত মিয়ানমারে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। জান্তা বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারানো এই ৭০২ জনের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা। ফাইটার জেট, ড্রোন, প্যারামোটর এবং গাইরোকপ্টার ব্যবহার করে চালানো এসব বিমান হামলায় অন্তত ৫০৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের প্রায় ৫৭ শতাংশ। এই বিমান হামলাগুলোতে ১৭৫ জন নারী এবং ১১২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
এই বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী—ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এমন প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সরাসরি বলেন, ‘এই ৭০২ জনের মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর।’
তবে মুখপাত্র এটিও স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক মারা যায়নি। এই প্রতিবেদনটি কেবল জাতিসংঘের কাছে থাকা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, তাই এটি দেশের মোট হতাহতের চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নয়। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে কার্যত গৃহযুদ্ধ চলছে। এই তীব্র অস্থিরতার মাঝেই সামরিক জান্তা চলতি বছরে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে একটি নামমাত্র নির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে তাদের অনুগত মিত্ররা জয়লাভ করে। তবে ভোটের এই পুরো সময়জুড়েই সাধারণ মানুষের ওপর জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত ছিল বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।