শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
২১ ফাল্গুন ১৪৩২
সাধারণ পোশাকে ১৫০ জন ট্রাম্প টাওয়ারে প্রবেশ করেন

ট্রাম্প টাওয়ারের লবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ, গ্রেপ্তার ১০০

ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর প্রতি সংহতি
নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তারদের সঙ্গে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৫ ২১:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলের প্রতি সংহতি জানিয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের লবিতে বিক্ষোভ করেছে শতাধিক মানুষ। এই বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ফিলিস্তিনিপন্থি শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রধান আলোচকদের একজন ছিলেন মাহমুদ খলিল। গত শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় স্টুডেন্ট ওয়ার্কার্স অব কলাম্বিয়া ইউনিয়ন।

এদিকে, এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই প্রতিবাদ শুরু হয়। সাধারণ পোশাকে প্রায় ১৫০ জন ট্রাম্প টাওয়ারে প্রবেশ করেন। ভবনের ভিতরে গিয়ে তারা তাদের শার্ট খুলে ফেলেন ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনমূলক বার্তা লেখা লাল টি-শার্ট পরে ফ্লোরে বসে আন্দোলন শুরু করেন। সে সময় তারা ‘মাহমুদকে মুক্ত করো’স্লোগানও দেন।

এনওয়াইপিডির প্রধান জন চেল বলেন, ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা পুলিশ বিভাগ থেকে সাড়া দিই। ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার শুরু করি। মোট ৯৮ জনকে অবৈধ প্রবেশ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, প্রতিবাদের আয়োজক সংগঠন ইহুদি ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) জানায়, অভিনেত্রী ডেবরা উইঙ্গারও এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। জেভিপির তাল ফ্রিডেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বাকস্বাধীনতায় আক্রমণ করছেন আর এটি করার জন্য তিনি ইহুদি বিদ্বেষের মিথ্যা অভিযোগ ব্যবহার করছেন।

অভিনেতা মরগান স্পেক্টর বলেন, আপনি যদি আমেরিকান হন ও সংবিধানে বিশ্বাস করেন, তাহলে আজ এখানে দাঁড়ানো আপনার উচিত। প্রতিবাদী জোশ ডাবনাউ বলেন, আমাদের মতামত প্রকাশের অধিকার আছে এবং ভয়ের কারণে আমি আমার প্রথম সংশোধনীর অধিকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকব না।

মাহমুদ খলিল কে?

মাহমুদ খলিল একজন ফিলিস্তিন সমর্থক ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শিক্ষার্থী। গত শনিবার নিউইয়র্ক সিটি থেকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করেন ও লুইজিয়ানায় স্থানান্তর করে।

গ্রেপ্তারের পরে খলিলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারপতি সেই সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তার আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন, যেন তিনি তার স্ত্রীর কাছাকাছি থাকতে পারেন। তার স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযান, পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

* মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা ইরানের * আজারবাইজানে ইরানের ড্রোন হামলা * ইরানের ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর দাবি বাহরাইনের * ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ইরান আশপাশে প্রায় দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে টার্গেট করেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরানে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।

তেহরানসহ ইরানের পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (IRGC) আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর ভবন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,০৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানান, পুরো দেশ এখন সব দিক থেকে আক্রান্ত। অন্তত ৩০০ শিশু ও কিশোর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং আহত মানুষের সংখ্যা ৬,০০০ ছাড়িয়েছে।

মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালাল ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করল ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ইরান বলেছে, তারা পারস্য উপসাগরে আমেরিকার একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইরানি নৌবাহিনী ‘সফলভাবে একটি আমেরিকান তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে’। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ১৯তম দফার হামলা

ইরানের প্রেস টিভি এবং আইআরজিসি (IRGC) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে তাদের ১৯তম দফার হামলা শুরু করেছে।

তাসনিম নিউজ আইআরজিসি-র উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ট্রু প্রমিজ-৪’।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। তবে মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই।

খামেনির জানাজা ও উত্তরসূরি নির্বাচন

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতি চলছে, যা বিশাল জনসমাবেশে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনি গত শনিবার নিহত হন। তার সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিহত হন।

এদিকে, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের কাজ চলছে। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, তারা খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘ইরানের পরবর্তী নেতা যেই হোন না কেন, তিনি যদি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তবে তাকেও নির্মূল করা হবে।’

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছি। যারা নেতা হতে চাচ্ছে, তারাই শেষ পর্যন্ত মারা যাচ্ছে।’

আজারবাইজানে ইরানের ড্রোন হামলা

নিজেদের ছিটমহল নাখচিভানে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে আজারবাইজান। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাখচিভানের একটি বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্যটি একটি স্কুলের কাছে পড়েছে। এই ঘটনায় দুই বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আজারবাইজান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা প্রয়োজনীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আজারবাইজান সরকার ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি এবং এটি এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইরান এখন পর্যন্ত আজারবাইজানকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে আঞ্চলিক দেশগুলোকে জড়িয়ে যুদ্ধ চলতে থাকায় ইরানের হামলাগুলো অনিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইরানের ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর দাবি বাহরাইনের

বাহরাইনের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৫টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেনারেল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

বিবৃতিতে জেনারেল কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অত্যন্ত সক্রিয় আছে এবং ইরান থেকে আসা মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করছে। নাগরিক এবং বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন তারা বাড়ির বাইরে বের না হন।’

কতগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি এবং সেসবের আঘাতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য জেনারেল কমান্ডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের ঘাঁটি আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে ইরান।

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় খোর আল-জুবায়ের বন্দরের কাছে নোঙর করা বাহামাসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন ইরাকি নৌবাহিনীর একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে একটি ছোট অজ্ঞাত নৌকা ট্যাঙ্কারটির কাছাকাছি আসে। এর কিছুক্ষণ পরই জাহাজটির বাম পাশে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবারই ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা প্রদেশ থেকে প্রতিবেশী একটি দেশকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনী একটি মোবাইল লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম জব্দ করেছে। এতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।


ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: নিজের ভূ-রাজনৈতিক বিজয় দেখছেন পুতিন?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের আকাশজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক হত্যাকাণ্ডে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন খাদের কিনারে, তখন সাত সমুদ্র তেরো নদী দূরের মস্কোয় বসে এক ভিন্ন সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের এই বিপর্যয় রাশিয়ার জন্য অস্বস্তির মনে হলেও, ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়- পুতিনের জন্য এটি কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক পূর্বাভাসের এক চূড়ান্ত প্রতিফলন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির নৃশংস পরিণতি পুতিনকে যে শিক্ষা দিয়েছিল, ইরানের বর্তমান ধ্বংসযজ্ঞ যেন সেই আশঙ্কারই এক জীবন্ত দলিল।

ইউক্রেন ফ্রন্টে রাশিয়ার আগ্রাসনকে যারা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আসছিলেন, পুতিনের কাছে ইরানের এই পরিস্থিতি তাদের জন্য এক মোক্ষম জবাব। তিনি একে দেখছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের ‘উচ্ছৃঙ্খল ও অযৌক্তিক’ আচরণের প্রমাণ হিসেবে। একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম রাশিয়ার কোষাগারকে সমৃদ্ধ করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন চোরাবালিতে আমেরিকার ব্যস্ততা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে দিচ্ছে এক অভাবনীয় কৌশলগত সুবিধা।

লিওনিদ রাগো জিনের এই বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে ইরানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে নিজের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পুতিন বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার দাপট এবং নিজের ‘ত্রাতা’ ইমেজকে আরও সুসংহত করছেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড মস্কোর জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার কিছু কট্টরপন্থি বিশ্লেষক দাবি করছেন যে, বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও রাশিয়াও একইভাবে আক্রান্ত হতে পারে। নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বেপরোয়া বক্তব্যগুলোকে তারা এই অশুভ ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

যদিও ইরানের ওপর এই হামলা মস্কোর জন্য উদ্বেগের কারণ, তবে এটি তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক কৌশল- এমনকি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের বিষয়টিকেও সঠিক বলে প্রমাণ করছে। এটি ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের সেই ধারণাকেই নিশ্চিত করছে যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব একটি ‘উচ্ছৃঙ্খল ও অযৌক্তিক’ শক্তি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ সম্ভবত ২০১১ সালের লিবিয়া সংকটেরই এক প্রতিচ্ছবি, যা তার নিজস্ব নিরাপত্তাঝুঁকির ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সেই বছর ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন।

লিবিয়ায় ন্যাটোর সেই হামলাকে পুতিনের অনুগত এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে রাশিয়ার ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ছিল মেদভেদেভের, যা পুতিনকে আবারও প্রেসিডেন্সিতে।

২০১১ সালের অক্টোবরে, পুতিন যখন দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার মনোনয়ন গ্রহণ করেন তার ঠিক এক মাস পর, বিদ্রোহীদের হাতে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নৃশংসভাবে খুন হন এবং তার মৃত্যুর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমা নেতারা তখন গাদ্দাফি শাসনের পতনকে উদযাপন করলেও, তা লিবিয়ায় গণতন্ত্র বা সমৃদ্ধি- কোনোটাই আনতে পারেনি। উল্টো দেশটি গৃহযুদ্ধ এবং চরম বিভক্তির দিকে ধাবিত হয়।

পুতিনের কাছে এটি ছিল এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা- ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া এবং অতি-আত্মবিশ্বাসী পশ্চিমা বিশ্বের নব্য-উদারবাদী ‘গণতন্ত্রায়ন’ অভিযানকে যদি তিনি প্রশ্রয় দেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে তার এবং রাশিয়ার ভাগ্যেও এমন কিছু ঘটতে পারে। ওই বছরের ডিসেম্বরেই মস্কোতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে পশ্চিমাঘেঁষা শহরবাসীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এটি ক্রেমলিনের জন্য ছিল আরও একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেত।

২০১২ সালের মে মাসে নিজের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার আগে পুতিন কয়েক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ছিল, যা পরবর্তী দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের ‘ময়দান বিপ্লবে’ রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করেছিল।

ইরানের বর্তমান নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে পুতিন সম্ভবত আজ আত্মতৃপ্তি বোধ করছেন যে, ইউক্রেনে তার পদক্ষেপগুলো সঠিক ছিল। একই সঙ্গে তিনি তার সোভিয়েত পূর্বসূরিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন যে, তারা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তৈরি করে গিয়েছিলেন- যা রাশিয়ার প্রকৃত সার্বভৌমত্ব এবং তার নিজস্ব শাসনব্যবস্থার অভেদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

ইউরোপে রাশিয়ার নিকটতম প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নিজে একটি নৃশংস ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করা সত্ত্বেও, পুতিন নিজেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার একজন একনিষ্ঠ রক্ষক মনে করেন। তার মতে, এই বিশ্বব্যবস্থার পতনের মূল কারণ হলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের অতি-আত্মবিশ্বাস, অসহনীয় ঔদ্ধত্য এবং বেপরোয়া আচরণ।

ইউক্রেনে সর্বাত্মক আগ্রাসন চালানোর ধারণার শিকড় নিহিত রয়েছে ১৯৩০-এর দশকের সোভিয়েত তত্ত্বে, যার মূল কথা ছিল- যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া। ২০০৭ সালে যখন ন্যাটো ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন থেকেই দেশ দুটি ক্রেমলিনের চোখে ‘শত্রু ভূখণ্ডে’ পরিণত হয়। ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এই তত্ত্বটি প্রথমবারের মতো সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার অভিযানকে ক্রেমলিন একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়া যে ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে ইরান যা মোকাবিলা করছে, তা থেকে রক্ষা পেতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমের সঙ্গে এই লড়াইয়ে ইউক্রেনকে চূড়ান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার মাধ্যমে ক্রেমলিন রাশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীকে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব থেকে আড়াল করতে পেরেছে। আর রুশ সমাজের কাছে এই যুদ্ধকে একটি ‘অনিবার্য’ পরিস্থিতি হিসেবে সফলভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, দুদেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বৈরী সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান রাশিয়ার এক অপ্রত্যাশিত মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল- যখন পশ্চিমের অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে তুর্কি ‘বায়রাক্তার’ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার ওপর প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তার করবে। তবে ইরানের এই সমর্থন কোনো নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের নিদর্শন ছিল না; বরং এর বিনিময়ে তেহরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করেছে।

তবে রাশিয়া ও ইরানের এই সম্পর্ক এখন এতটাই গভীর নয় যে মস্কো ইরানের পক্ষ হয়ে এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। এর বাইরেও, ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রেমলিনের একটি অলিখিত ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ রয়েছে। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছে এবং রাশিয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞাতেও যোগ দেয়নি। যেহেতু ইসরায়েল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মানে না, তাই এটি এখন রাশিয়ার সেই সব ধনী অভিজাত বা অলিগার্চদের জন্য একটি ‘নিরাপদ স্বর্গ’ হয়ে উঠেছে, যাদের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

রাশিয়ার নিরপেক্ষ থাকার আরও একটি বড় কারণ হলো- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে এটি শেষ করার চেষ্টা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে, মস্কো চায় না ইউরোপীয় নেতারা কোনোভাবে তাতে বিঘ্ন ঘটাক বা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পাক।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইউরোপের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরানের বিপ্লবী গার্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের রয়েছে।

আইআরজিসি বিবৃতিতে বলেছে, ‘আগেই বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবনা অনুযায়ী যুদ্ধের সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে।’

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকে।

ইরানের জেনারেল কিওমারস হায়দারি বলেছেন, ইরান তাদের লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থেকে সরে আসবে না।

খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের উপ-কমান্ডার হায়দারি বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা আমাদের কাছে কোনো বিষয় নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আট বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, এবং আমরা এই যুদ্ধ শেষ করব তখনই, যখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং শত্রুকে তার লজ্জাজনক কাজের জন্য অনুতপ্ত ও হতাশ করা যাবে।’

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধ থামবে না

দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।

সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। নতুন করে প্রতিবেশী তুরস্ক ও আজারবাইজানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

এই সংঘাত বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছে না রাশিয়া। দেশটি বলেছে, ইরানে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে ‘টেনে আনার চেষ্টার’ অভিযোগ তুলেছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ইরানে হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধে টানছে বলে নতুন করে মন্তব্য করল রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রুশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানকে কিছু আরব দেশের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে প্ররোচিত করেছে, যার কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- এতে রুশ পক্ষ গভীরভাবে অনুতপ্ত।

এতে আরও বলা হয়েছে, এভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরব দেশগুলোকে অন্য কারো স্বার্থের যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে।

রাশিয়া জানায়, স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ হলো ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা, কিন্তু আপাতত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ইরানের বিরুদ্ধে এবার আরও এক দেশে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ ককেশাসের দেশ আজারবাইজান দাবি করেছে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের দুজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি ড্রোন নাখচিবান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে দুটি স্থানে আঘাত হানে। একটি ড্রোন সরাসরি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে হামলা চালায় এবং আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের ভবনের কাছে পড়ে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ফলে বিমানবন্দরের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আজারবাইজান সরকার। এ ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের কাছে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রতিবাদপত্রও দেওয়া হবে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইতোমধ্যে দেশটি আশপাশে প্রায় দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে টার্গেট করেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করল ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

ইরান বলেছে, তারা পারস্য উপসাগরে আমেরিকার একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইরানি নৌবাহিনী ‘সফলভাবে একটি আমেরিকান তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে’। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।


শ্রীলংকার কাছে ইরানি জাহাজডুবি, চাপে পড়বেন মোদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে শ্রীলংকার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের ভূরাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষক চেতনা কুমার ও অ্যাডাম ফারার লিখেছেন, এই ঘটনাটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য ঘরোয়া অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনাটি একটি অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও শ্রীলংকা- উভয় সরকারের ওপরই রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে তারা দেখছেন না।

ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে স্পষ্ট নিন্দা না করায় ভারতে সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদি সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ স্বার্থ রক্ষার মতো জটিল ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বর্তমানে নানা কারণে পরীক্ষার মুখে রয়েছে। কঠিন শুল্ক আলোচনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ঘটনাটি যেহেতু শ্রীলংকার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি ঘটেছে, তাই প্রকাশ্যে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে ভারত ও শ্রীলংকা যেখানে নিয়মিত যৌথ টহল পরিচালনা করে, সেই এলাকায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের উপস্থিতি ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীলংকা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস দেনা গত বুধবার দেশটির উপকূলের কাছে ডুবে যায়। এতে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, আর শতাধিক নাবিক নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন জাহাজটিকে ডুবিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠে থাকা জাহাজে সরাসরি হামলা চালাল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধজাহাজটি ভারত সফর করেছিল। সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ প্রায় ৪০টি দেশের নৌযানের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতে অংশ নেয় জাহাজটি।


‘ইরানের অনেক ড্রোন আটকাতে সক্ষম নয় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইন প্রণেতাদের বলেছেন, ইরানের শাহেদ ড্রোন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের সকলকে আটকাতে সক্ষম হবে না, ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন যে, ড্রোনগুলো প্রত্যাশার চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করছে, ব্রিফিংয়ে থাকা দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

এগুলো নিচু এবং ধীর গতিতে উড়তে সক্ষম। - এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বিমান প্রতিরক্ষা এড়াতে বেশি সক্ষম করে তোলে। ব্রিফিংয়ের সাথে পরিচিত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে যে, কর্মকর্তারা ড্রোনগুলো সম্পর্কে উদ্বেগকে কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রের অংশীদাররা ইন্টারসেপ্টর মজুত করছে।

ইরানের সাথে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার হুমকির মুখে, কর্মকর্তারা এই ব্রিফিংয়ে ছিলেন।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে এবং নতুন হামলা ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ের সাথে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, কর্মকর্তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনকে একটি আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা, তার নৌবাহিনী ধ্বংস করা, তার পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ করা এবং দেশটিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে’ অস্ত্র দেয়া থেকে বিরত রাখা।

অন্যদিকে, ব্রিফিংয়ের সাথে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, কর্মকর্তারা ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা উল্লেখ করেননি। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হত্যা করেছে এবং ট্রাম্প বলেছেন যে এই অভিযানে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। পরবর্তী উত্তরসূরি খুঁজে বের করার জটিল প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া এই সংঘাত কতদিন ধরে চলতে পারে সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ব্রিফকারীরা তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার একটি সময়সীমা উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু কোনো আইন প্রণেতা বলেছেন, এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মিত্ররা: জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানি শাহেদ ড্রোন থেকে সুরক্ষা পেতে ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরক্ষা বিষয়ক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু আরব দেশ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ড্রোন প্রতিরোধের বিষয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে গত কয়েক দিনে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে চায় এই দেশগুলো।

তবে এই সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে জেলেনস্কি কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনীয় সহায়তা তখনই দেওয়া হবে যখন এটি ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না এবং একইসঙ্গে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে কিয়েভের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও স্পষ্ট করেন যে, যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে, ইউক্রেনও তাদের যুদ্ধ থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করবে।


ইরানের জন্য কী করছে চীন-রাশিয়া

চীন-রাশিয়া এবং ইরানের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।

এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে সহায়তা করতে দেখা যাচ্ছে না ঘনিষ্টবন্ধু চীন ও রাশিয়াকে। এমতাবস্থায় একটি প্রশ্ন অনেকের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে যে, বেইজিং ও মস্কো তাদের মিত্র তেহরানকে রক্ষায় আদৌ কিছু করছে কিনা?

মার্কিন মিত্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ওয়াশিংটনের সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যে সমরাস্ত্র পাঠিয়েছে। গণহত্যাকারী ইসরায়েলকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব করছে তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত চীন ও রাশিয়া ইরানকে কোনো অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বৃষ্টির মতো বোমা ফেললেও সেগুলো ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই মস্কো ও বেইজিংয়ের।

তেহরানের দুই সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক অংশীদার রাশিয়া ও চীন—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধকে (যাতে ১ সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে) আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘মানবিক নৈতিকতার সমস্ত নিয়মের নিষ্ঠুর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইসরায়েলি প্রতিপক্ষ গিডিওন সারকে বলেছেন, শক্তি দিয়ে প্রকৃতপক্ষে সমস্যার সমাধান করা যায় না, একই সঙ্গে তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা পরিহারের আহ্বান জানান।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রতিক্রিয়া ইরান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

মস্কো ও বেইজিং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং যৌথ নৌ মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ মোর্চা প্রদর্শন করছে সেই ‘যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে আসছে বলে তারা দাবি করে।

তবে তাদের কড়া বক্তব্য সত্ত্বেও, ইরানকে সামরিকভাবে সহায়তা করতে হস্তক্ষেপ করার কোনো সদিচ্ছা এখন পর্যন্ত কেউই প্রকাশ করেনি।

রাশিয়া-ইরান কৌশলগত অংশীদার, সামরিক মিত্র নয়

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই চুক্তি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে আরও গভীর করেছে এবং পরিবহন করিডোরের মতো প্রকল্পগুলোকে সমর্থন করেছে, যা ইরানের মধ্য দিয়ে রাশিয়াকে পারস্য উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর ঠিক আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও এই দুই দেশ ভারত মহাসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। যাহোক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মস্কো এতে সাড়া দিতে বাধ্য ছিল না, কারণ চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অর্থাৎ, এটি একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে পরিণত হওয়া থেকে কিছুটা দূরে ছিল।

রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সাবেক মহাপরিচালক এবং ‘ভালদাই ডিসকাশন ক্লাব’-এর সদস্য আন্দ্রে কর্টুনভ মস্কো থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বলেন, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি ‘অধিকতর বাধ্যতামূলক’ চুক্তির উদাহরণ।

তিনি বলেন, ওই চুক্তির অধীনে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ‘যেকোনো সংঘাতে যোগ দিতে বাধ্য থাকবে’, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেত্রে ‘শুধু উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক পক্ষ সংঘাতে লিপ্ত হলে অন্য পক্ষ কোনো প্রতিকূল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে’।

কর্টুনভ বলেন, রাশিয়া ইরানের সমর্থনে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এর ঝুঁকি অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, মস্কো সম্ভবত ‘ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে’। তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার সময়ও রাশিয়া একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল। যদিও চুক্তিতে স্পষ্ট বলা আছে যে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য নয়।

কর্টুনভ জানান, তেহরানে তার কিছু পরিচিত ব্যক্তি ‘এক ধরনের হতাশা’ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল যে রাশিয়া কেবল কূটনৈতিক পদক্ষেপের চেয়েও বেশি কিছু করবে।

চীন-ইরান সম্পর্ক ও সীমাবদ্ধতা

২০২১ সালে চীন ও ইরান জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে ইরানকে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পোস্টডক্টরাল ফেলো জোডি ওয়েন বলেছেন, বেইজিংয়ের কাছে সম্পর্কটি বাস্তবসম্মত এবং স্থিতিশীল।

তিনি বেইজিং থেকে ফোনে বলেন, রাজনৈতিক দিক থেকে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে এবং অর্থনৈতিক দিকে সহযোগিতা অত্যন্ত গভীর; অনেক প্রতিষ্ঠানের ইরানে বিনিয়োগ রয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং দীর্ঘকাল ধরেই এই অংশীদারিত্বের চারপাশে স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা বজায় রেখেছে, বিশেষ করে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে।

চীন সরকার সর্বদা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে। আমি মনে করি না চীন সরকার ইরানে অস্ত্র পাঠাবে, বলেন জোডি ওয়েন।

এর পরিবর্তে, বেইজিংয়ের ভূমিকা সম্ভবত কূটনীতি এবং সংকট ব্যবস্থাপনার দিকেই বেশি নিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় চীন মার্কিন পক্ষ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।’


ইরান ও ভেনিজুয়েলার পর এবার ইকুয়েডরে ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধফ্রন্ট, চলছে যৌথ অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে নতুন এক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের পর এবার ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমনের নামে ইকুয়েডর উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডর সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনারা।

হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গোলার্ধের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আপস করবে না। ট্রাম্পের নতুন নীতি অনুযায়ী মাদক পাচারকে এখন আর সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বড় মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলা চালানোর আইনি সুযোগ পাচ্ছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এই অভিযানকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দাবি করলেও, বিশ্লেষকরা একে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন। মেক্সিকো মার্কিন সেনাকে জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরকে তাদের সামরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জলযানে অন্তত ৪৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকের পরিবার দাবি করেছে যে তারা সাধারণ মৎস্যজীবী ছিলেন, যা নিয়ে সমালোচকরা এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ট্রাম্পের এই ‘লোহার মুষ্টি’ নীতিকে স্বাগত জানালেও, দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ড্রোন নজরদারি ও হেলিকপ্টারের মহড়া ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

ইকুয়েডরের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। মাত্র দুই মাস আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন কারাগারে বন্দি করার ঘটনার ধারাবাহিকতাই এটি। ইকুয়েডর একসময় শান্তির দ্বীপ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে কোকেন পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের আকাশ থেকে ইকুয়েডরের সমুদ্রসীমা পর্যন্ত ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ও নতুন যুদ্ধ-ফ্রন্ট বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ফের ড্রোন হামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল পরিশোধনাগার আবারো ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) একই শোধনাগারে হামলা করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় শহরে অবস্থিত আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একটি ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা হয়েছে। তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো। প্রথমে হামলাটি ইরান চালিয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে জানা গেছে এই হামলার পেছনে ছিল ইসরায়েল।

ওই সময় ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই হামলাকে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বা ছদ্মবেশী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেন। তা মতে, ইসরায়েল মূলত ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের সাম্প্রতিক হামলার অপরাধ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তেহরান ইতোমধ্যে অনেকগুলো স্থাপনায় সফলভাবে আক্রমণও চালিয়েছে, কিন্তু আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো কখনোই ইরানের হামলার তালিকায় ছিল না।

ইরান দাবি করছে, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর তেল অবকাঠামোতে আঘাত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে ইরানকে দোষী সাব্যস্ত করতে চাইছে বলে তেহরান মনে করে।


মার্কিন হামলায় ডুবল ইরানি যুদ্ধজাহাজ, নিহত ৮০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। টর্পেডো হামলায় জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন-এ আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে একটি ইরানি ফ্রিগেট ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশনকে জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে পিট হেগসেথ বলেন, ‘ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, যে জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিল।’

তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেবল শুরু করেছে; সামনে আরও বড় আকারের অভিযান আসছে। যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের আকাশসীমার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার আশা করছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সাফল্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সময় নেবে। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সফল হওয়া নিশ্চিত করতে যত সময় প্রয়োজন, আমরা তত সময় নেব।’


পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, ইরানে নিহত বেড়ে ১০৪৫

* তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা * কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র * জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পঞ্চম দিনে গড়াল। যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে গেছে তেহরান থেকে তেল আবিব, রিয়াদ থেকে বৈরুত, দুবাই থেকে নিকোশিয়া (সাইপ্রাস) পর্যন্ত। চলমান যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের একাধিক স্থানে ভয়াবহ হামলা চালানো হচ্ছে এবং তেহরানও অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। খবর রয়টার্স, আল জাজিরার।

এদিকে, ইরান সমর্থিত ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী সারায়া আওলিয়া আল-দাম দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) এ হামলা চালানো হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের ভেতরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে গোষ্ঠীটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি তাদের লক্ষ্যবস্তু ঠিক কী ছিল। তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা ফুটেজে আকাশপথে একটি অস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে, বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল এক জরুরি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সেই ‘হুমকি প্রতিহত’ করতে কাজ করছে। জেরুজালেম, তেল আবিবসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডোম’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আমরা অত্যন্ত বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি, যা সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কারণে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি ছিল একটি বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাৱ, যা ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো হিমশিম খাইয়ে দিচ্ছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে; ঠিক যেখানে দুদিন আগে ৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছিল।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত এক মাস স্থায়ী হতে পারে। তেহরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রতিশোধমূলক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আল-খারজ গভর্নরেটের ওপর দিয়ে উড়ে আসা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কিছু ‘শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান’ ধ্বংস করার দাবি করেছে।

ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত: বুধবার তেহরানেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানীতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী শাখা- বাসিজের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ভবনে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের দপ্তরগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। তেহরান থেকে আল জাজিরার তৌহিদ আসাদি জানান, তেহরান ছাড়াও কারাজ ও ইসফাহানের মতো বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, তাদের স্থল বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অপারেশন শুরু করেছে এবং ২৩০টি ড্রোন এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে নৌ-অভিযান পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

তৌহিদ আসাদি তার প্রতিবেদনের শেষে বলেন, তেহরানে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণই আমি দেখছি না; বরং সংঘাত ছড়িয়ে পড়াই এখন এই যুদ্ধের মূল প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কাতার। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বিবৃতিতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটিকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে দ্বিতীয়টি রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই ঘাঁটির ওপর পড়ে। এতে কারও প্রাণহানি হয়নি।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর। বাইরের যেকোনো হুমকির কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নাগরিক, প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং গুজবে কান না দিয়ে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।

ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কোনো বস্তুগত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটিটি কাতার ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীও ব্যবহার করে থাকে।


ইরানে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ, ইউরোপে গ্যাসের দাম বাড়ল দ্বিগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এর জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম মুহূর্তের মধ্যে ১০০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যেখানে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা গ্যাসের দাম ছিল ৩১.৯৫ ইউরো, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা এক লাফে ৬৫.৫০ ইউরোতে গিয়ে ঠেকেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব গ্যাস বাজারে এটিই সবচেয়ে বড় ধাক্কা। বিশ্বের মোট এলএনজি রফতানির প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ইরান আক্রমণের পর পারস্য উপসাগরীয় এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা। নিরাপত্তা শঙ্কায় কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে ক্রেতাদের জন্য ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যারা গ্যাস কিনতেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গ্যাসের মজুদ বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। গত বছরের তুলনায় মজুদ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার গ্যাসের জন্য এখন এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইইউ-এর ‘ন্যাচারাল গ্যাস কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে দীর্ঘ তিন দশক পর বড় পরিবর্তন এল। গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির ক্ষমতাধর সংস্থা ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক বিশেষ অধিবেশনে মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। জানা গেছে, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি-র প্রত্যক্ষ সমর্থন ও চাপে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে, নিহত শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও সমাহিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ। খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে তাঁর নিজ জন্মভূমি এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হবে। যদিও তাঁর দাফন কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে মাশহাদ শহরটি বর্তমানে শোকাতুর জনতার ভিড়ে প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৮৬ বছর বয়সি এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসনভার পরিচালনা করেছিলেন এবং তাঁর প্রস্থান দেশটির ইতিহাসে এক যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক ভয়াবহ বিমান হামলার শিকারে পরিণত হন আলি খামেনি, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন যখন ইরান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে যুদ্ধের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের ওপর এখন পুরো মুসলিম বিশ্বের নজর। বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মোজতবা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করেন এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতিতে কী ধরণের পরিবর্তন আনেন, সেটিই এখন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


banner close