শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
১৩ চৈত্র ১৪৩২

ইসরায়েলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির দাবি
ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে জনতার বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২১ মার্চ, ২০২৫ ২০:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৫ ২০:২৭

ইসরায়েলের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। ফিলিস্তিনের গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেন তারা। গতকাল শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবি, নেতানিয়াহুর সরকার দেশের গণতন্ত্রকে আঘাত করেছে। দেশটিতে এ বিক্ষোভের কারণে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। আয়োজকরা বলছেন, বিক্ষোভ যেভাবে গতি পাচ্ছে তাতে আগামীতে আরও বেশি বিক্ষোভ হতে পারে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্তের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে ইসরায়েল দুই মাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর এ বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা সরকারকে রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামাসের হাতে আটক ৫৯ জিম্মির দুর্দশা উপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৪ জিম্মি জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রাদার্স ইন আর্মস প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রধান নির্বাহী এইতান হার্জেল বলেন, এই সরকার এখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য আবারও যুদ্ধ শুরু করেছে, ইসরায়েলের জনসাধারণকে বিরক্ত করে এমন বিষয়গুলো থেকে নজর সরাতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব স্তরে বৈধতা হারিয়েছে, তারা ব্যর্থ হচ্ছে।

সাবেক সিনিয়র নৌ কর্মকর্তা এবং বিক্ষোভের সংগঠক ওরা নাকাশ পেলেদ বলেন, আমি মনে করি আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি, আমাদের সংগঠিত হতে হবে, আমাদের অবিচল থাকতে হবে, আমাদের মনোযোগী হতে হবে। (বিক্ষোভ) সহিংস হতে পারে না (কিন্তু) এটি ভদ্র হতে হবে না।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের আইন বিশেষজ্ঞ ড. আমির ফুচস বলেন, সরকারের বারকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু তবুও প্রশাসনিক আইন মেনে চলতে হবে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে ৯৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি তাণ্ডব ও ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ৯৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল ঘোষণা করেছে কানাডা। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মেলানি জোলি গাজা এবং পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদানে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, রেড ক্রস এবং এনজিও অংশীদারদের সহায়তা করার জন্য ৯৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল ঘোষণা করেছেন।

এই সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে অপরিহার্য পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার, বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে এবং দুর্বল মানুষকে সাহায্য করা। আরও ২৪.৫৫ মিলিয়ন ডলার জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, সুরক্ষা এবং আশ্রয়।

এছাড়া ২৪.৭৫ মিলিয়ন ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার জন্য ব্যয় করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে মাইন অপসারণ। অপরদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং শাসনব্যবস্থার জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি টেকসই নয়। কানাডা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছে। বেসামরিক নাগরিক এবং মানবিক কর্মীদের সুরক্ষাসহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

কানাডা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তারা এমন প্রচেষ্টার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিরা শান্তি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সাথে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে।

গাজায় ৩ দিনে প্রাণ গেল ৬০০ ফিলিস্তিনির

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় আরও ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। এ নিয়ে পবিত্র রমজানে ইসরায়েলের এই বর্বর হামলায় গত তিনদিনে প্রাণ হারাল প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি। এমনকি গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাতে স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৮৫ জন নিহত ও আরও ১৩৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ হাজার ৬১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করছে মন্ত্রণালয়।

আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৫৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল হামলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও আহতের সংখ্যাও বাড়ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাতে তাদের স্থল আক্রমণ চলছে এবং সৈন্যরা বেইত লাহিয়া শহর ও উত্তর দিকে কেন্দ্রীয় এলাকায় অগ্রসর হচ্ছে। ইসরায়েল বলেছে, গাজা উপত্যকায় পুনরায় শুরু করা স্থল অভিযান আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে বুধবার (১৯ মার্চ) ওই অঞ্চলের উত্তর-দক্ষিণের প্রধান পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সৈন্যরা।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে গাজায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস। স্থল ও আকাশপথে ইসরায়েলের নতুন হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি বৃদ্ধির প্রতিশোধে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।


ইরান অভিযানে আত্মঘাতী হামলায় সক্ষম চালকবিহীন ‘ড্রোন বোট’ মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

চালকবিহীন ‘ড্রোন বোট’ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টহল ও সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্যে চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ ব্যবহার শুরু করেছে তারা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির আরও বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এটি প্রথমবার, যখন সক্রিয় কোনো সংঘাতে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল ওয়াশিংটন।

ড্রোন বোটগুলো কেবল নজরদারির জন্য নয়, প্রয়োজন হলে আত্মঘাতী হামলার মতো আক্রমণাত্মক কাজেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে বলে জানা গেছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রয়টার্সের পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, চালকবিহীন নৌবহর গঠনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। তবে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন এসব নৌযান সরাসরি অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে আঘাত হানার পর থেকেই এই প্রযুক্তি আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এসব ড্রোন নৌযান ব্যবহার করে সরাসরি কোনো আক্রমণ চালিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক ‘ব্ল্যাক-সি’ প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই নৌযানগুলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ বা ‘জিএআরসি’ নামে পরিচিত।

এক বিবৃতিতে হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে জিএআরসির মতো ড্রোন নৌযান ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এ বিশেষ প্ল্যাটফর্মটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে টহল দেওয়ার সময় সফলভাবে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে থেকে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।

বর্তমানে ব্যবহৃত অন্য কোনো ড্রোন ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি। একইভাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জীবনের শেষ ছবি জনসমক্ষে

মৃত্যুর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে চলমান শোক ও উত্তেজনার মধ্যেই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি জনসমক্ষে এসেছে। তেহরান থেকে প্রকাশিত এই চিত্রটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জীবনের শেষ এই ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল মায়াদিন ইংলিশ দাবি করেছে, খামেনির মৃত্যুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে এটিই ছিল তাঁর শেষ ছবি।

প্রকাশিত এই ছবিতে তাঁকে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে ছবিটি ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, অভিযানের প্রথম দিনেই সকালে নিজ দপ্তরে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিহত হন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি সেই সময় জানিয়েছিল যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলায় সকালের দিকেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রাণ হারান। সে সময় তিনি তাঁর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পন্ন করছিলেন।


হরমুজ প্রণালিতে মালয়েশীয় জাহাজ চলাচলে ইরানের বিশেষ অনুমতি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে “দ্রুত ছাড়পত্র” দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁদের তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বর্তমানে কাজ চলছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ পেয়েছে বা এর পেছনে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাধারণত নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণকারী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশটি অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় “ভালো অবস্থায়” আছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়াকে তাদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়া সরকার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত বরাদ্দ হ্রাস এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে বাসা থেকে কাজ করার পদ্ধতি চালুর মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, “খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে, দাম বাড়বে সার ও জ্বালানিরও। তাই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। তবে তার অর্থ এই নয়, মালযেশিয়া পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত।”

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই এমন জাহাজগুলোর জন্য এই পথ খোলা রাখা হয়েছে, যদিও জলপথটিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে তেহরান। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাবিত আইনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে কোনো কোনো জাহাজের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যাটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরান ও লেবাননে বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। চলমান সংঘাতে দুই দেশে ব্যাপক হারে মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোর ধ্বংসযজ্ঞ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। একই সময়ে লেবাননে ইসরাইলি স্থল অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ, ফলে দুই দেশ মিলিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ লাখে।

প্রায় এক মাসের সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত এক হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশটির ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শত শত স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি। রাজধানী তেহরানেও বিপুলসংখ্যক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, হামলার পর থেকে ইরানের মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছুটে বেড়াচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও আজারবাইজানের সীমান্ত এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশত্যাগী মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে লেবাননের পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনীর নির্দেশে দক্ষিণাঞ্চলের লিটানি নদী থেকে জাহরানি নদী পর্যন্ত এলাকা খালি হয়ে পড়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড জনশূন্য হয়ে গেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি পাঁচজনের একজন এখন বাস্তুচ্যুত। আশ্রয় সংকটে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় কিংবা যানবাহনে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু।

যুদ্ধের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। কাসমিয়েহ, আল-কানতারা ও খর্দালিসহ একাধিক প্রধান সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির চেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদে সরে যাওয়া যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা জোরদার না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরশীল নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আর নির্ভরশীল নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকার নিজস্ব ভূখণ্ডে প্রচুর তেল মজুত থাকায় এই সংকটে দেশটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

যদিও পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এবং অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম মাঝে মাঝে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, তবুও ট্রাম্পের মতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন তাদের এক শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই গত এক মাসে জ্বালানির দাম গ্যালন প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে তিনি অঙ্গরাজ্যগুলোকে তেলের ওপর কর স্থগিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কর স্থগিত করার বিষয়ে তিনি এখনই প্রস্তুত নন, তবে প্রয়োজনে এটি একটি বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানকে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার ‘বিপজ্জনক ভুল’ বলে অভিহিত করলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিষয়টিকে ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে তুলনা করে নিজের ভূমিকার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে ইরান একটি ‘উপহার’ দিয়েছে বলে রহস্যময় মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প, তার ব্যাখ্যায় তিনি জানান, পাকিস্তান পতাকাবাহী আটটি তেলের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে তেহরান।

ট্রাম্পের মতে, এটি আলোচনার জন্য ইরানের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং তিনি দাবি করেন যে ইরান পর্দার আড়ালে চুক্তির জন্য যোগাযোগ করছে। ইরান আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও ট্রাম্প তাদের ‘চতুর দরকষাকষাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন।

এদিকে ইরান সংকটের প্রভাবে সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ নীতিমালার পরিকল্পনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত বছর বাণিজ্য যুদ্ধের সময় কৃষকদের ১২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এবারও সংকটের মুখে থাকা কৃষকদের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আমেরিকার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ কৌশলের একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।


পিটিআই নেতা আলিয়া হামজা মালিক গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ওপর প্রশাসনের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার লাহোর থেকে পিটিআইয়ের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রধান সংগঠক আলিয়া হামজা মালিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাঁকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর বর্তমান অবস্থান বা তাঁকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

আলিয়া হামজা মালিক পিটিআইয়ের রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নারী নেত্রী এবং পাঞ্জাব প্রদেশে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু আইনি জটিলতায় জর্জরিত। এর আগে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ১০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং মানবাধিকার মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

পিটিআইয়ের এই প্রভাবশালী নেত্রীর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে লাহোরসহ পুরো পাকিস্তানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও দণ্ডাদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ৯ মে-র সেই সহিংস ঘটনার পর থেকে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআইয়ের অসংখ্য শীর্ষ ও স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেককেই ইতোমধ্যে কারাবরণ করতে হয়েছে অথবা তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিয়া হামজা মালিকের মতো একজন সক্রিয় সংগঠককে গ্রেফতার করার ফলে পাঞ্জাব প্রদেশে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক শক্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে দলের প্রধান ইমরান খানের কারাবাসের মধ্যে যখন দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের ধরপাকড় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় পিটিআই সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশের আইন ও শান্তি বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আলিয়া হামজাকে ঠিক কোন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে এবং তাঁর আইনজীবীরা পরবর্তীকালে কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।


হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার আরও একটি কৌশলগত জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ জারির কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তেহরানের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আইআরজিসি-র একজন উচ্চপদস্থ সেনা কমান্ডার ফার্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের কোনো দ্বীপপুঞ্জ বা মূল ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করে, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে, তবে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সেক্ষেত্রে আইআরজিসি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি নতুন ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলো।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই অত্যন্ত সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। ফলে এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ইরানের সীমানা থেকে দূরে হলেও এই প্রণালিতে অবরোধ জারির সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রধান কারণ হলো ইয়েমেনের ওই অঞ্চলটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান সমর্থিত ও মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। আইআরজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করার বিষয়ে ইতিমধ্যে হুথি নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা ইরানকে পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হুথিদের হাতে থাকা অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সংকীর্ণ পথে যেকোনো জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, ইরানের এই দ্বিমুখী অবরোধের হুমকি—একদিকে হরমুজ এবং অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব—বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চাইছে। যদি এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ একই সঙ্গে অবরুদ্ধ হয়, তবে তা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।


মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই দাবি করা হয় এবং এর স্বপক্ষে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুই দেশের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান তথ্যযুদ্ধের এক নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।

আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সেটি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই হামলার সঠিক স্থান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা বিমানে থাকা পাইলটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি'তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে হঠাৎ করে একটি জোরালো বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়। এরপর বিমানটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং সেটি থেকে কালো ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। তেহরানের দাবি, এই ভিডিওটি তাদের সফল অভিযানের অকাট্য প্রমাণ।

মার্কিন নৌবাহিনী এবং মেরিন কোরের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত এই এফ/এ-১৮ হর্নেট বা সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানগুলো মূলত বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার উপযোগী বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ। এগুলো প্রায়শই আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি ওই অঞ্চলে অনেক বেশি বেড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে মোটেও আমলে নিচ্ছে না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ইরানের দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি এবং তাদের সব বিমান ও পাইলট নিরাপদ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, যা ওয়াশিংটন কখনোই স্বীকার করেনি।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রবল মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যযুদ্ধ চলছে। ইরান ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একে প্রোপাগান্ডা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা কঠিন হলেও, এই পাল্টাপাল্টি দাবি সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় এ ধরনের প্রতিটি ঘটনাই বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।


আইআরজিসি নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রভাবশালী কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাসে এক সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলিরেজা তাংসিরি ছিলেন ইরানের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের প্রধান কারিগর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ ও কঠোর নজরদারির পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ইসরাইলি ওই কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার পেছনে মূল পরিকল্পনাটি ছিল তাংসিরির। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া ইসরাইলের সামরিক কৌশলের একটি বড় অংশ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। বন্দর আব্বাস এলাকাটি ইরানের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং সেখানে আইআরজিসি-র শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এমন একটি স্থানে হামলা চালিয়ে নৌপ্রধানকে হত্যার দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইরানের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কমান্ডার ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর এসেছে। যদি আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি ইরানের নৌবাহিনীর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে পারে কিংবা ইসরাইলি স্বার্থে বড় ধরনের কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ পাবে বিশেষ নিরাপত্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ছয়টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দেশগুলোর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান কখনও হামলা করবে না এবং যুদ্ধ চলাকালীন বা যুদ্ধ পরবর্তী সময়েও তারা এই জলপথে বিশেষ ‘নিরাপত্তা প্যাসেজ’ সুবিধা পাবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকার বাকি পাঁচটি দেশ হলো— ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাক।

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি, বরং সেখানে বিদেশি জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি জানান, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতিমধ্যে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে। এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যাদের ইরান ‘মিত্র’ বলে বিবেচনা করে, তাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উল্লিখিত ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং তাদের সমন্বিত সম্মতির মাধ্যমেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্বালানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে কঠোর অবরোধ জারি করে তেহরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। ইরান অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তাদের এই অবরোধ কেবল ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র যেমন— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর প্রযোজ্য। বিপরীতপক্ষে, ‘অশত্রু’ বা ‘মিত্র’ রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচলে ইরান সবসময়ই নমনীয় থাকবে।

তবে মিত্রদেশগুলোর জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছু কঠোর নিয়ম জারি করেছে ইরান। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব দেশের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি, জলপথটি ব্যবহারের জন্য টোল আদায়ের বিষয়েও ভাবছে তেহরান। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক সব বিদেশি জাহাজকে বাধ্যতামূলকভাবে টোল দিতে হবে— এমন একটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। ইতিমধ্যে সেই আইনের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়াও চলছে।

পরিশেষে বলা যায়, ইরানের এই ঘোষণা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মাঝেও এই ছয়টি দেশের জাহাজের জন্য ইরানের বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তেহরানের নতুন মিত্রতার সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। এটি কেবল সামুদ্রিক নিরাপত্তা নয়, বরং বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার দাবি নাকচ করল তেহরান: ‘হামলা চালিয়ে যাওয়ার’ ঘোষণা আরাগচির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের আলোচনার টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা নেই, বরং তাদের প্রধান নীতি হচ্ছে ইসরাইল ও মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলা অব্যাহত রাখা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তাঁর বক্তব্যে জানান, গত কয়েক দিনে কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে কিছু বার্তা পাঠিয়েছে। ইরানও সেই সব বার্তার বিপরীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। তবে এই ধরনের বার্তা আদান-প্রদানকে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না, তবে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে হলে ইরানকে তাঁর গত চার সপ্তাহের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, বর্তমান এই সংঘাতের পুরো দায়ভার ইসরাইলের এবং এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে। তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটন ভেবেছিল দ্রুত সামরিক বিজয় অর্জন এবং তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে, কিন্তু ইরানের পাল্টা জবাব বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে কোনো অপশক্তিই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারবে না। আপাতত কূটনীতির চেয়ে সামরিক শক্তিতেই তেহরান বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে ওয়াশিংটন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ট্রাম্প যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন, তখন থেকেই তেহরান আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, সামরিক চাপের মুখেই ইরান নমনীয় হতে বাধ্য হচ্ছে এবং পর্দার আড়ালে চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মূলত একটি গভীর কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের প্রতিফলন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে ইরানকে শর্তহীন আলোচনায় বসাতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান পাল্টা হামলা এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং এর প্রভাব কেবল এই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরবে নাকি সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।


হরমুজ প্রণালিতে পাকিস্তানের জাহাজ আটকে দিল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (২৫ মার্চ) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় জাহাজটি আটকানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেলেন নামের পাকিস্তানের পতাকাবাহী সেই কার্গো জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির দিকে যাচ্ছিল; কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জাহাজটিকে আটকানো হয়।

আটকের পর জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং ক্রুদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহাজটি ছেড়েও দিয়েছে আইআরজিসি। তবে হরমুজ প্রণালি পেরোনোর সুযোগ আর পায়নি সেলেন। জাহাজটিকে ঘুরপথে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি এবং সেই নির্দেশ মেনে হরমুজ থেকে পিছু হটেছে সেলেন।

এক্সবার্তায় আইআরজিসি বলেছে, আইনি প্রোটকল না মানা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ার কারণে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি থেকে পিছু হটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক প্রতিটি জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য।

প্রসঙ্গত, জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ন। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান, ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরহারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।

তবে অন্যান্য দেশের থেকে পাকিস্তানের ব্যাপারটি আলাদা। কারণ, ইরান-পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশ এবং উভয় দেশই দাবি করে যে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এ কারণে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যেতে চাইছেন তিনি; আর এ বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন পাকিস্তানকে। পাকিস্তানও বেশ আগ্রহের সঙ্গে এই দায়িত্ব নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে।


ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলে ইরানের হামলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন যে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে কতটা মরিয়া, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে কতটুকু গুরুত্ব পেয়েছে বা তারা একে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানো ইসরায়েল এই প্রস্তাবে একমত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে এই শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর মধ্য দিয়ে এটিই প্রতীয়মান হচ্ছে, চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এবং আরও কয়েকটি দেশকে জড়িয়ে ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউস এখন তাদের তৎপরতা জোরালো করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস এই পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের কোনো অনুলিপি হাতে পায়নি। তবে স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা এর কিছু সাধারণ রূপরেখা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই প্রস্তাবে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, উৎপাদন স্থাপনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতারা শুরু থেকেই অঙ্গীকার করে আসছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।

তবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪৪০ কিলোগ্রাম উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।

এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রস্তাবিত এই শান্তি প্রস্তাবে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলে কার্যত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি জ্বালানির দামও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

আপাতদৃষ্টিতে যুদ্ধ দ্রুত থামার কোনো লক্ষণ নেই; ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন এই সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার কথা স্বীকার করলেও বলেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ ও পেন্টাগনের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র হামলা অব্যাহত থাকবে।’

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। একইসঙ্গে মিসর ও তুরস্কও ইরানকে ইতিবাচকভাবে আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করছে। ধারণা করা হয়, ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, যা তাকে দুই পক্ষের মধ্যে দূতিয়ালি করার ক্ষেত্রে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইরানি ও একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিল্ড মার্শাল মুনির সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তানকে আলোচনার ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছেন।

২০২৫ সালে ফিল্ড মার্শাল মুনির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার সাক্ষাৎ করেন। ট্রাম্প তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তাকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবেও অভিহিত করেন। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে চলমান সংলাপের প্রচেষ্টাকে তার দেশ ‘পূর্ণ সমর্থন’ জানায়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে, চলমান এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ ও চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান প্রস্তুত এবং একে তারা সম্মানের বিষয় মনে করে।’

তবে মার্কিন এই প্রস্তাবের দ্রুত জবাব দেওয়া ইরানের জন্য কঠিন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংকটে পড়েছেন এবং তারা আশঙ্কা করছেন, সশরীরে কোনো বৈঠকে মিলিত হলে ইসরায়েল সেখানে বোমা হামলা চালাতে পারে।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরায়েল তেহরানে ইরানি নেতৃত্বের একটি কম্পাউন্ডে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও আরও অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। ফলে বর্তমানে কূটনীতি, যুদ্ধ কিংবা শান্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা আসলে কার হাতে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে আলোচনার জন্য হোয়াইট হাউসের এই ব্যাকুলতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প বর্তমান সরকারকে অন্তত আপাতত ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে রাজি; যদিও সেই সরকারকে অনেক বেশি দুর্বল ও অনুগত হয়ে থাকতে হবে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চান কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বলে আসছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ধারাবাহিক হামলা ইরানের কমান্ড কাঠামো পঙ্গু করে দিয়েছে এবং তাদের পাল্টা হামলার ক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সংঘাত এখন শেষ হওয়ার দিকে এগোনো উচিত। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটাই ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি দ্রুততর এবং আরও তীব্র হয়েছে আর কমেছে যুদ্ধ শেষ করে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট উপায়।


banner close