ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই ঘোষণা দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আল-জাজিরা বলছে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এবং শান্তির বিষয়ে লেবানন যে সিদ্ধান্ত নেয় তা দেখানোর জন্য সব নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, হামলার ফলে ‘একটি নতুন যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা লেবানন এবং লেবাননের জনগণের জন্য দুর্দশা ডেকে আনতে পারে’।
এদিকে ইসরায়েলে ফের হুতি বিদ্রোহীরাও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তারা ইয়েমেন থেকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো হামলা চালানো হলো। সারি আরও বলেন, হুতিরা লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যানের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে।
লেবানন থেকে ইসরায়েলে দফায় দফায় রকেট হামলা
লেবানন থেকে ইসরায়েলে দফায় দফায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের সীমান্তে নিক্ষেপ করা তিনটি রকেট প্রতিহত করেছে।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিও এক খবরে জানিয়েছে, লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা কমপক্ষে পাঁচটি রকেট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে এবং দুটি লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে পড়েছে বলে জানানো হয়।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ইয়াহমোর শহরের উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করছে। তবে এসব সংঘাতে এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ সংগঠনও এখন পর্যন্ত ওই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন সেনাবাহিনী এখনো এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরেও লোহিত সাগরে একাধিক মার্কিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় হামলা চালিয়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ, শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা। ফিলিস্তিনিদের ওপর যতদিন পর্যন্ত আগ্রাসন চলবে তত দিন এই হামলা চলবে বলে জানানো হয়েছে।
পাল্টা হামলা ইসরায়েলের
ইসরায়েলি গোলা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহরে আঘাত হেনেছে। তেল আবিবের বিমান সীমান্ত সংলগ্ন আরও তিনটি শহরে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। লেবানন থেকে ছোড়া একাধিক রকেট প্রতিহত করার পর দেশটিতে পাল্টা গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।
এই পাল্টাপাল্টি হামলা তেল আবিব ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজা ঘিরে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তার ধারাবাহিকতায় পরে হিজবুল্লাহও তেল আবিবের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর একাধিক শীর্ষ নেতা, অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ ও অসংখ্য যোদ্ধাকে হত্যা করার পর ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ঝিমিয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়, তারপর শনিবারই প্রথম এই সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সীমান্তের ৬ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লেবাননের একটি জেলা থেকে ছোড়া তিনটি রকেট প্রতিহত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী গোলা ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনা রেডিও।
ইসরায়েলি গোলা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহরে আঘাত হেনেছে, তেল আবিবের বিমান সীমান্ত সংলগ্ন আরও তিনটি শহরে হামলা চালিয়েছে, বলেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
সীমান্তের ওপার থেকে রকেট ছোড়ার জন্য কারা দায়ী, তা বলেনি ইসরায়েল। রয়টার্স এ প্রসঙ্গে হিজবুল্লাহর মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে গোষ্ঠীটির কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র থাকবে না, ইসরায়েল সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে এবং ওই এলাকায় লেবাননের সরকারি বাহিনী মোতায়েন থাকবে এমন শর্ত ছিল।
চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের সব সামরিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া এবং সব অবৈধ অস্ত্র জব্দের ভারও লেবাননের সরকারের হাতে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সীমান্ত শহর মেটুলাতে রকেট ছোড়ার ঘটনার দায়ভার লেবা
ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে তেহরান। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রাখা হবে—তেলের দাম মেটাতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ান-এ।
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের পথ সুগম করতে একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইরান সরকার। বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন মূলত ডলারে হয়ে থাকে। কেবল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের কারবার চলে রুবল বা ইউয়ানে।
বিশ্বের জ্বালানি-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এখন তা সেই সীমাকেও ছাপিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধানিষেধ জারি হলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার কাজে তার ‘বিরাট প্রভাব’ পড়বে বলে শুক্রবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মানবিক বিষয়-সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বলেন, ‘এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা যেমন কঠিন হয়ে পড়বে, তেমনই বাড়বে এসবের পরিবহন খরচও।’
এদিকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিয়েছে আমেরিকা। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই খারগ দ্বীপ থেকে।
হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চিত সহজ নয়: যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল এলাকা। বড় পরিসরে কোনো জাহাজ চলাচল সেখানে নিরাপদে নিশ্চিত করার আগে আমাদের বর্তমান সামরিক লক্ষ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।’
এ ব্যাপারে এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেছিলেন, বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয়, কারণ এখন ইরানে হামলা চালাতে ব্যস্ত তাদের বাহিনী।’ তবে এ মাসের শেষ নাগাদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরান প্রণালিটি অবরুদ্ধ করতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল কি না। জবাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানান হেগসেথ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, কিছু দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি।
এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাখত রাভানচি বলেন, ‘কিছু দেশ ইতোমধ্যে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে, তারা যেন হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ না পায় সেটাই দেখছি আমরা।’
এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরান নৌ-মাইন পেতে রেখেছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘একেবারেই না। এটি সত্য নয়।’
নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেবে ইরান
ভারত মহাসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এ ঘোষণা দেন।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল হাতামি বলেন, ‘আইআরআইএস দেনা-এর ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষ করে ইরানে ফিরে আসছিল। সে সময় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে শতাধিক ক্রুকে হত্যা করা হয়। আমরা এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইআরআইএস দেনা-এর ক্রুরা ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকবেন। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।’
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রের বিশাখাপত্তমে আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলন ২০২৬’ আয়োজন করা হয়। ৭০টিরও বেশি দেশ এই মহড়ায় নিজেদের এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অংশ নেয়। এসব দেশের মধ্যে ছিল ইরানও। নিজেদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা নিয়ে মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরান।
মহড়া শেষে ইরানে ফেরার পথে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় আইআরআইএস দেনা। জাহাজটিতে থাকা ১০৪ জন ক্রুর মধ্যে ৯৪ জনই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। শুক্রবার এসব মরদেহ তেহরানকে ফেরত দিয়েছে কলম্বো।
ইরানে জরুরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা চীনের
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানে ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেবে চীন। শাজারাহ স্কুলে হওয়া হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচারে হামলার নিন্দা জানায় বেইজিং।
তিনি বলেন, ‘স্কুলে হামলা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন এবং মানবতা ও মানব বিবেকের মৌলিক সীমা অতিক্রম করেছে।’ মুখপাত্র আরও জানান, চীনের রেড ক্রস সোসাইটি ইরানে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দিতে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির অন্তত ১০ জন শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সন্ধান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিনিময়ে এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা মূলত ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় খামেনি ছাড়াও রয়েছেন ইরানের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। এছাড়া খামেনির দপ্তরের আরও দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশ না করা আইআরজিসি-র কয়েকজন কমান্ডারের তথ্যের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসি-কে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, এই কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও মার্কিন নাগরিকদের হত্যার পেছনে সরাসরি জড়িত।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যৌথ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে তিনিও মার্কিন বিমান হামলায় সম্প্রতি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করছে যে, এই মুহূর্তে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ‘গোপনে’ বা আড়ালে অবস্থান করছেন, তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। গত শুক্রবার রয়টার্সের প্রচারিত এক ভিডিওতে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে তেহরানে এক জনসমাবেশে প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
ওয়াশিংটন দাবি করছে, এই শীর্ষ কর্মকর্তারা মূলত সেই শক্তির অংশ যারা মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিল। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান একাধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তেহরান বরাবরই আমেরিকার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা এবং বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবার এ ধরণের অলীক অভিযোগ এবং কোটি ডলারের পুরস্কারের ফাঁদ পেতে থাকে। সব মিলিয়ে এই পুরস্কার ঘোষণাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখ যুদ্ধের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান। হামলার পর দূতাবাসের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) সকালের দিকে এ হামলা হয়।
দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোনে প্রবেশের পর সরাসরি দূতাবাস সীমানার ভেতরে গিয়ে পড়ে। গ্রিন জোন এলাকাটি ইরাকি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত।
এ ছাড়া অন্য একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, একটি ড্রোন এই কূটনৈতিক মিশনকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালায়। বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার পরপরই এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ইরাকের রাজধানীতে হামলায় ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ ধারণ করা ছবিতে বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সদর দপ্তরটি দেখা গিয়েছিল। এই হামলার ঠিক এক দিন আগে শুক্রবার দূতাবাসটি ইরাকের জন্য ‘লেভেল ৪’ নিরাপত্তা সতর্কতা নবায়ন করেছিল। সেখানে সতর্ক করা হয়েছিল, ইরান এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অতীতে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় ফের বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হলে অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আজ নিশ্চিত করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভি। এই অতর্কিত হামলায় পুলিশবাহী গাড়িটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
জেলা পুলিশ কর্মকর্তার (ডিপিও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পুলিশ সদস্যরা যখন তাঁদের নির্ধারিত এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁদের গাড়িটি হামলার শিকার হয়। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থলেই স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা এসএইচওসহ সাতজন পুলিশ সদস্য মারা যান। নিহতদের নাম ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। শাহাদাতবরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন এসএইচও সদর আজম, কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা এবং সাখি জাদা। কর্তব্যরত অবস্থায় এমন বড় আকারের হতাহতের ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়া জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং একটি বড় ধরণের তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিস্ফোরণটি আগে থেকে পেতে রাখা কোনো আইইডি ছিল নাকি এটি একটি আত্মঘাতী হামলা, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে ওই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নজরে রেখে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
লাক্কি মারওয়াতের এই পৈশাচিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি এক শোকবার্তায় নিহত বীর পুলিশ সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি হামলায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত তাঁদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যদের এমন আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে।
পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১১ মার্চ) উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউএসটিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারার আওতায় এই তদন্ত পরিচালিত হবে। এতে দেখা হবে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি এবং বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর, যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না, তাও মূল্যায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও অনেক সরকার তাদের বাজারে এ ধরনের পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিদেশি সরকারগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা এবং এসব অনৈতিক কার্যক্রম মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নির্ধারণ করা হবে।
যেসব দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত চালানো হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, বাহরাইন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং (চীন), ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, ভেনিজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ছাড়া ৩০২(বি) ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এমন তদন্ত শুরু করতে পারে।
ইউএসটিআর জানায়, তদন্ত শুরুর পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারকে এ বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এ তদন্তের শুনানি আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। যারা এ বিষয়ে মতামত দিতে চান বা শুনানিতে অংশ নিতে চান, তাদের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত ও আবেদন জমা দিতে হবে।
মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। আহত দুজন হলেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।
জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর গেস্ট হাউসের ভেতর থেকে সাতজনকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানান, আহতদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে এবং অপরজনকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিতে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। এ দুর্ঘটনায় মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলার জেরে অস্থির বিশ্ব তেলবাজারকে শান্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। এ মুহূর্তে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক করতেই এই সিদ্ধান্ত।
এ ঘোষণার পরেই শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা থিতিয়ে এসেছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েয়েল হামালা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ। আকাশছোঁয়া তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিল।
গত বুধবারই ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছিল, দাম কমাতে তারা নিজেদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়বে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ মিলিতভাবে যে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই অংশ। এর আগে আইইএর বলেছিল, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ তেলের জোগানে ইতিহাসের বৃহত্তম সংকট তৈরি করেছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১২ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনাবেচা ও সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ছাড় কার্যকর থাকবে ওয়াশিংটন সময় ১১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত।
ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়লে মার্কিন জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। নভেম্বরেই দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির। তাই ভোট বৈতরণি পেরোতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হোয়াইট হাউসের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যম এক্স-এ বিবৃতি দেন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ‘সুচিন্তিত’ ও ‘স্বল্পমেয়াদি’। এর ফলে রাশিয়ার কোষাগারে বড় কোনো আর্থিক সুবিধা পৌঁছাবে না।
ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়েই বেসেন্টের দাবি, তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাময়িক। আমাদের দেশ ও অর্থনীতি এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে লাভবানই হবে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বের ৩০টি জায়গায় সমুদ্রে রাশিয়ার প্রায় ১২৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে ছিল। আমেরিকার দেওয়া এই বিশেষ ছাড়ের ফলে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে তেলের যে বিপুল ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রায় পাঁচ-ছয় দিনের জোগান নিশ্চিত করা যাবে।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এ পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বাড়লেও ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার আর্থিক পথ রুদ্ধ করার পশ্চিমা প্রচেষ্টাকে তা জটিল করে তুলতে পারে। এমনকি এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতান্তর হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
জি-৭ রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উপযুক্ত সময় এটি নয়।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
উল্লেখ্য এর আগে গত ৫ মার্চ ভারতকেও সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছিল মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতেও সক্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিমা ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে তিনি ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে মার্কিন নৌসেনা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা (এসকর্ট) দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোন্স অ্যাক্ট নামক একটি নিয়মও সাময়িকভাবে শিথিল করার কথা ভাবছে হোয়াইট হাউস। এই নিয়ম শিথিল হলে বিদেশি জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে সহজেই জ্বালানি ও কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে পারবে, যা পরিবহন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অভ স্টাফ স্টিফেন মিলার ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তেলের দাম কমাতে প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আগামী দিনে এ ধরনের আরও সিদ্ধান্ত দেখা যাবে।
যদিও যুদ্ধের কারণে তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আমেরিকার আর্থিক লাভের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের এক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট কেবল ধনকুবেরদের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত।
২০২২ সালের পর এই প্রথম বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। দু-সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়ার দৈনিক আয় ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমেরিকার এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ক্রেমলিনের রাজকোষ যে আরও স্ফীত হবে, তা বলাই বাহুল্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফক্স নিউজ রেডিওর 'দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তীব্র আক্রমণ চালাতে পারে। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে এবং এর জবাবে ওয়াশিংটন তার অতুলনীয় সামরিক শক্তি ও অসীম গোলাবারুদ নিয়ে যেকোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে 'সন্ত্রাসী শাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করে তা পুরোপুরি ধ্বংস করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে আসছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের এই কার্যক্রম বন্ধ করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে তিনি একটি বড় সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং খামেনি শাসনকে নির্মূল করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। আল জাজিরা ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করাকে ‘খুবই সম্মানজনক’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের সরকারকে একটি ‘উন্মাদ গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা নিজ দেশ ও বহির্বিশ্বে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এখন সেই শাসনের অবসান ঘটাচ্ছেন এবং একে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক দায়িত্ব বলে মনে করেন। ট্রাম্পের এই কড়া ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার পথে রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে এবং তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিসহ অন্যান্য সমরাস্ত্রের মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতেই এই আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অতুলনীয় সমরাস্ত্র এবং সীমাহীন গোলাবারুদ নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করছে এবং তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী দীর্ঘ সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে।
একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই আকাশপথে ভয়াবহ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা এই সংঘাতকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো এবং সেসব দেশের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট দেশের সরকারকে সমূলে বিনাশ করার এমন প্রকাশ্য ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে অনেকে মনে করছেন।
সূত্র: এএফপি
আফগানিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ ও রাজধানী কাবুলে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত নতুন করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিল জারদান জানিয়েছেন, বোমা হামলায় চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খলিল জারদান জানান, বোমা হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তাদের বাহিনী মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যমে জানান, কান্দাহারের দক্ষিণ, পাকতিয়া এবং পাকতিকা অঞ্চলে পাকিস্তান আক্রমণ চালিয়েছে। অপর একটি পোস্টে জাবিউল্লাহ জানান, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী কান্দাহার বিমানবন্দরে একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা কাম এয়ারের জ্বালানি ডিপোতেও হামলা করেছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের অভিযানে কোনো বেসামরিক মানুষ নিহত হয়নি। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানে অন্তত ৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৪ জন শিশু। অন্যদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
কিছুদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে- এমন অভিযোগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। এরপর থেকে সীমান্ত অঞ্চলে সংঘর্ষের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: এএফপি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রণকৌশলগত আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজগুলোকে পাহারা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী এখনও ‘প্রস্তুত নয়’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এটা হয়তো শিগগিরই ঘটবে, কিন্তু এখন সম্ভব নয়। আমরা প্রস্তুত নই। কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সমস্ত সামরিক শক্তি ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং এই সক্ষমতা উৎপাদনকারী যাবতীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার কাজে মনযোগ দিয়েছে। আমি এমনটাই মনে করি।
একই দিন অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকেও সাক্ষাৎকার দেন ক্রিস রাইট। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে ক্ষমতার বলে গত ৪৭ বছর ধরে হরমুজ প্রণালীকে হুমকির মুখে রেখেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেই ক্ষমতাকেই ধ্বংস করতে সেখানে গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সেনা না পাঠাতো, তাহলে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ও ব্যাপক আকারের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জোরে আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে ইরান স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি দখল করে নিতো।
“হ্যাঁ এটা সত্যি যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে জ্বালানি পরিবহনে কিছু সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আপনি যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে স্বল্পমেয়াদি কিছু যন্ত্রণা আপনাকে সহ্য করতে হবে।”
আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ না করলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলচলকারী মার্কিন, ইসরায়েলি কিংবা তাদের প্রতি মিত্রভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা করা হবে।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কয়েকটি জাহাজে হামলা করাও হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রি সরকার হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে তোলার হুমকি দিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটা অসম্ভব। তবে তারপরও আমরা সামরিক অভিযানের দিকেই মনোযোগ দেবো।”
ইরাকের আকাশসীমায় অভিযানের সময় একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানায়, পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজটিতে থাকা ছয়জনের মধ্যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুজনের বিষয়ে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
সেন্টকমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, গতকাল দুপুর প্রায় ২টার দিকে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সে সময় উড়োজাহাজটিতে ছয়জন ক্রু সদস্য অবস্থান করছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। সেন্টকম জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর গুলির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১২ দিনে ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার বেসামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের তথ্যের বরাত দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ২৪ হাজার ৫৩১টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, যার সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৭৫টি। এছাড়া দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪ হাজার ৫১১টি, স্কুল ৬৯টি, রেড ক্রিসেন্টের কেন্দ্র ১৬টি, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ২১টি এবং ১৯টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রাণহানিও বেড়েই চলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ১ হাজার ২ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলেছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সেই সংলাপ চলে, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর আসে। ওইদিন নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সঙ্গে অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা।
এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটি এবং কিছু বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।