ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশির ভাগ অংশে শিগগিরই সামরিক অভিযান বাড়ানো হবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ এ কথা জানিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ বলেন, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা উপত্যকার দক্ষিণে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটা রাফা ও খান ইউনিস শহরকে পৃথক করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিস ও আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে আকাশপথে হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও হামাস কোনো হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
টানা দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় হামাসের ওপর আবারও হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পর থেকে তারা গাজায় আরও বড় এলাকা দখল করেছে। হাজারো গাজাবাসীকে নতুন করে বাস্তুচ্যুত করেছে। গত শনিবার কার্তজ বলেন, রাফা ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী সাবেক ইহুদি বসতি ‘মোরাগ এক্সিস’ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্পন্ন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর মধ্য দিয়ে গাজার খান ইউনিস থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার প্রায় এক–পঞ্চমাংশ ভূমিজুড়ে রয়েছে রাফা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, শিগগির গাজার আরও বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হামলা জোরদার করবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এসব এলাকার যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে মানুষদের সরিয়ে নিতে হবে। হামাসকে নির্মূল করা, জিম্মিদের মুক্ত করে আনা এবং যুদ্ধের অবসানের এটাই শেষ মুহূর্ত।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। জিম্মি করে গাজায় আনা হয় ২৫১ জনকে। ইসরায়েলের সরকারি তথ্য এটা। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যা এখনো চলছে। নির্বিচার হামলায় উপত্যকাটিতে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গড় ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর নিহত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৩ জন।
গাজায় হাসপাতালে মিসাইল ছুড়েছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজা সিটির প্রধান আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে মিসাইল হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের দোতলা ভবনে মিসাইল ছোড়ার পর সেখান থেকে আগুনের বিশাল কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়ছে।
এতে হাসপাতালটির আইসিইউ এবং অস্ত্রোপচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই সময় হাসপাতালের বিছানায় থাকা বেশ কয়েকজন রোগী দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। হামাস এই হামলাকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক চিকিৎসকে ফোন করে জানায়, তারা হাসপাতালে হামলা চালাবে। তাই দ্রুত হাসপাতালের সবাইকে সরিয়ে নিতে হবে।
স্থানীয় ওই সাংবাদিক আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে ফোন করেন, হুমকি দিয়ে বলেন, সব রোগী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষকে অবশ্যই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। আপনাদের হাতে আছে মাত্র ২০ মিনিট।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের বেলা রোগীরাও হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালের সামনে যেসব নারী ও শিশু আশ্রয় নিয়েছিলেন তারাও সরে যান।
দখলদার ইসরায়েল গাজা সিটির সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এরপর আল-আহলি হাসপাতালটি সেখানকার প্রধান হাসপাতালে পরিণত হয়। রোববার রাতে এই হাসপাতালটিতেও হামলা চালিয়েছে তারা। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে একই হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কয়েকশ মানুষকে হত্যা করেছিল দখলদার ইসরায়েল।
গাজার যে ৩৫ হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। উপত্যকাটির সরকারি মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলা চালানো হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে-গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স, আল-আহলি হাসপাতাল, আল-কুদস হাসপাতাল, আল হায়াত স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আল হেলু হাসপাতাল, আল-কারামা হাসপাতাল, দ্য পেশেন্ট’স ফ্রেন্ডস হাসপাতাল, পাবলিক সার্ভিস হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল আই হাসপাতাল, সেন্ট জন আই হাসপাতাল, আস-সাহাবা মেডিকেল কমপ্লেক্স, হামাদ হাসপাতাল, হাইফা হাসপাতাল, আল-ওয়াফা হাসপাতাল, আল-মাহদি মাতৃসদন হাসপাতাল, ইমিরাতি হাসপাতাল ও তুর্কি-ফিলিস্তিনি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল, কামাল আদওয়ান হাসপাতাল, বেইত হানুন হাসপাতাল, আল-আওদা হাসপাতাল, সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, আল-রান্তিসি শিশু হাসপাতাল, আল-নাসর শিশু হাসপাতাল, মোহাম্মদ আল-দুররাহ হাসপাতাল, বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল, হ্যাপি আল-ইয়েমেন হাসপাতাল, মুসলিম স্পেশালিস্ট হাসপাতাল ও জর্দান ফিল্ড হাসপাতাল।
আরও রয়েছে-মধ্য গাজার জাফা হাসপাতাল, দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চলের মোহাম্মদ ইউসুফ আল-নাজার হাসপাতাল, খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স আলজেরিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল দার আস সালাম হাসপাতাল ও আল-আমাল হাসপাতাল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হাসপাতালে হামলার ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, বিদ্যুৎ সংকট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চরম বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অব্যাহত অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড ও নৃশংসতা মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এক বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা এই গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরানা নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইবনোলরেজা টেলিফোনে তুরস্কের মন্ত্রীকে বলেন যে, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।” জেনারেল ইবনোলরেজা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সমস্যার সমাধানে কূটনীতির পথ অনুসরণ করার বিষয়ে সমর্থন জানান। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আঙ্কারার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গুলের জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিবেশি দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সংলাপই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনার একমাত্র পথ। দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আলোচনা তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের এই প্রস্তাবিত যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো মূলত মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইবনোলরেজা স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত, কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে নয়। ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে একটি বৃহত্তর মুসলিম সামরিক মেরুকরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইরান এখন তুরস্কের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সরকারি বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘মোল্ডএটিএসএ’-কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত রাজনৈতিক বাদানুবাদের জেরে মলদোভার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার ৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে দেশটির বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় মুনতিয়ানু উল্লেখ করেন যে, তিনি স্বীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো কাজে জড়িত থেকে আর রাষ্ট্র পরিচালনায় ইচ্ছুক নন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আমি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলাম এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারব। কিন্তু যখন বুঝলাম আমার নীতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মলদোভার সাংবিধানিক বিধি মোতাবেক, সরকারপ্রধান ইস্তফা দেওয়ামাত্রই গোটা সরকার কাঠামোটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মোল্ডএটিএসএ-র জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা নানাবিধ অভিযোগ সম্প্রতি দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমূল সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মলদোভার পার্লামেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং একই ব্যক্তি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন কি না—সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।
প্রসঙ্গগত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ মলদোভা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের অপেক্ষায় থাকা একটি দেশ।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর গিরিখাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এবং বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, বাসটি বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে প্রবেশ করার ঠিক পরপরই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত আটজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘এল নিনো’ দ্রুত একটি শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে বলে এক জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এবারের এল নিনো পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী হতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম খরা, তাপপ্রবাহ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডব্লিউএমও বিশ্বের দেশগুলোকে এখনই প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যার প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ডব্লিউএমও এই পরিস্থিতিকে ‘শক্তিশালী’ স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, যা চারটি স্তরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সংস্থাটির প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেন, “এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং এটি দ্রুত একটি শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে। এর ফলে অনেক অঞ্চলে খরা ও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা তীব্র হবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে।” তাঁর মতে, এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় চরম খরা দেখা দিতে পারে এবং বাংলাদেশসহ পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেরু অঞ্চল ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব জনবহুল এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৮৫০-১৯০০ সালের প্রাক-শিল্প যুগের গড়ের চেয়ে তাপমাত্রা ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি নিয়ে ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর, আর এই এল নিনোর প্রভাবে ২০২৫ সালেও তাপমাত্রার এই অসহনীয় ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকতে পারে।
যদিও এল নিনোর সরাসরি পুনরাবৃত্তি বা তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে এককভাবে দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই, তবে ডব্লিউএমও বিশ্বাস করে যে উষ্ণ বায়ুমণ্ডল ও সাগর এল নিনোর প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে ঘূর্ণিঝড় বা হ্যারিকেন সৃষ্টির প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর বিভাগগুলোকে রক্ষায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। শক্তিশালী এল নিনোর হাত ধরে আগত এই বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করা হবে বিশ্ববাসীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
ইন্দোনেশিয়ার অস্থির পাপুয়া অঞ্চলে এক মর্মান্তিক হামলায় এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। হত্যার পর তারা বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী ‘ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিপিএনপিবি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে অবতরণের পর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস এফ. গোসেলিন বলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেছেন, বেসামরিক পাইলটরা ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ওই অঞ্চলে যাতায়াতে সহায়তা করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের নির্দেশনা অমান্য করে পাপুয়ার আকাশে কোনো বিমান ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করলে একইভাবে আক্রমণ চালানো হবে। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সরকার যদি পাইলটের মরদেহ ফিরিয়ে নিতে চায়, তবে তাদের কোনো সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া সেখানে আসতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। সাতজন যাত্রী বহনকারী ওই বিমানটির সঙ্গে অবতরণের পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড্ডয়নের আগে বা অবতরণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য তাদের কাছে ছিল না। মূলত ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে আদিবাসীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও একই সংগঠনের হাতে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলট দীর্ঘ ১৯ মাস বন্দি ছিলেন, যাকে দীর্ঘ আলোচনার পর মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, এই সংঘাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিদ্রোহীরা এখন ইন্দোনেশীয় সরকারকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আজ শুক্রবার ভোর থেকে অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় এই নেতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। আজ ভোরেই তাঁর মরদেহ মোসাল্লার মূল প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে আসা হয়, যেখানে আগামী দুই দিন সাধারণ জনগণ তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই মরহুম নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী শনি ও রবিবার মোসাল্লায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার তেহরানে মূল জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ইরানের পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। সর্বশেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে এই মহান নেতার চিরবিদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের দাবি, তিব্বতের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পরিচয় বা নেপথ্যের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব তিব্বত জানিয়েছে, নিহতের নাম লোবগা রাংজেন। তিব্বতের স্বাধীনতা ও জাতীয় সংহতির সপক্ষে সরাসরি আবেদন জানানোর পর তিনি নিজের দেহে অগ্নিসংযোগ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউইয়র্ক উল্লেখ করেছে, রাংজেন পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে তিনি একটি তিব্বতি পতাকা সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরিচিত লোবসাং পালজর জানান, নিজ ভূমিতে চীনা সরকারের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে রাংজেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।
এই আত্মাহুতির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন চীনে নতুন একটি জাতিগত ঐক্য আইন কার্যকর করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই আইনের মাধ্যমে বেইজিং তিব্বতি ও উইঘুরসহ অন্তত ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, চীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেড় শতাধিক তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন। যার মধ্যে অন্তত ১০টি ঘটনা ঘটেছে নির্বাসনে থাকা তিব্বতিদের মাঝে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে তিব্বত চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেইজিং এই ঘটনাকে "শান্তিপূর্ণ মুক্তি" হিসেবে অভিহিত করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নির্বাসিত তিব্বতিরা সেখানে চীনের দমনমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে। তবে চীন সরকার সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে স্মরণকালের ভয়াবহতম ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই নজিরবিহীন আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৯১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় রাজধানীর প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, এটি ২০২৬ সালের মধ্যে কিয়েভের ওপর চালানো রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী আক্রমণ।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়া এই হামলায় ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ড ৪৩৬টি সামরিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অস্বাভাবিক উচ্চতায় থাকায় ইউক্রেনের বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সেগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই হামলার ফলে রেড ক্রসের একটি বিশাল ত্রাণ গুদামও ধ্বংস হয়ে গেছে, যাতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণ সামগ্রী ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আজ শুক্রবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, এই হামলায় কিয়েভে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।
হামলার ভয়াবহতা দেখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনগুলো পরিদর্শনকালে পশ্চিমা মিত্রদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ না করায় আজ এত প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা কিয়েভের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই দূরপাল্লার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
দিনিপ্রো নদীর তীরের আবাসিক এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত কাতারিনা মাথেরনোভা এই পরিস্থিতিকে ‘কিয়েভের ওপর নেমে আসা নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিয়েভের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, অনেকে তাদের সারাজীবনের উপার্জিত আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের এ হিসাব বাস্তবে রূপ নিলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
চার মাস আগে নিহত হওয়া খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হয় ১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্য। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে জানাজার শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত জনতা মরদেহ বহনকারী যাত্রাপথ আটকে দিলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলিও ছোড়ে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেদিন দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরদিন সকাল ৭টায় পুনরায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস খোমেনির জানাজাকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময় ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশের সমান।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। টানা ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে তার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালায়
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশজুড়ে একাধিক ধাপে তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হবে।
প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও ঐতিহাসিক কারবালায়ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে।
কারবালা থেকে ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাসহাদে নেওয়া হবে তার মৃতদেহ। সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। খামেনির শেষ বিদায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছেন খামেনিকে বিদায় জানাতে দুই কোটির বেশি মানুষ জড়ো হতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থায় চিড় ধরছে। তাই ইরানের সঙ্গে ভিন্ন পথে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগস্টের ডেডলাইনকে সামনে রেখে যে আলোচনা চলছে, তার সমান্তরালেই—তবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে—চলছে এই আঞ্চলিক তৎপরতা।
প্রথম আলোচনা হয়েছিল ইরান ও ওমানের মধ্যে। তারপর ওমান আর কাতার। এরপর ইরান ও সৌদি আরব, এবং সবশেষে কাতার ও সৌদি আরব। সবগুলো আলোচনার উদ্দেশ্য—যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর আঞ্চলিক সহাবস্থানের চেহারা কেমন হবে, তা চূড়ান্ত করা।
কূটনীতির এমন মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া তৎপরতা তো কেবল শুরু। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সাথে এক 'নতুন স্বাভাবিকতার সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত থাকায় সামনে এমন আরও বৈঠক ঘটতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ছাড়ের বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে কী ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারে, এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে আলোচনায়।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো গোনুল তোল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই কমে গেছে। ব্যাপারটা বেশ কয়েক বছর ধরেই ঘটছে।’ এখনকার মূল ভাবনা হলো, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের নিজস্ব বোঝাপড়াতেই আসতে হবে—উপসাগরীয় দেশগুলো যদি শেষপর্যন্ত নিজেরাই চুক্তি করে বসে, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’
আপাতত প্রকাশ্য বার্তাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সুরের সঙ্গে মিলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক জোটের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ‘মুক্ত, নিঃশর্ত ও অবাধ নৌযান চলাচল’-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ‘যেকোনো ধরনের টোল, ফি বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা’কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাটাম হাউসের আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি বলেন, ‘তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা একটা রেড লাইন হতে যাচ্ছে।’ তবে উপসাগরীয় কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা এ-ও বলছেন যে, ইরান তার সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড এমনি এমনি হাতছাড়া করবে না। তাই সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে দেশগুলোর বাস্তববাদী হওয়া দরকার।
দ্য টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে, ‘সার্ভিস ফি’ আদায়ের জন্য একটি সম্ভাব্য স্কিম নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রকাশ্যে বলা হবে, এই অর্থ হরমুজ থেকে মাইন সরানো, পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস, বন্দর চার্জ কিংবা বিমাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে কোন সংস্থার এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত কার হাতে এই অর্থ পৌঁছাবে, তা এখনও অস্পষ্ট।
ইরান ইতোমধ্যেই এই অভিমুখে কাজ শুরু করেছে। তাদের নবগঠিত গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নির্দেশনা জারি করেছে—এখন থেকে হরমুজ পাড়ি দেওয়া সব জাহাজের ইরানি বিমা থাকা বাধ্যতামূলক। তেহরান ও ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যে ৬০ দিনের সময়সীমা ঠিক করেছে, তা শেষ হওয়ার পর থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা।
গোনুল তোল বলেন, 'ইরান এখন বুঝতে পেরেছে, পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী এক হাতিয়ার তাদের হাতে আছে—হরমুজ। এ অস্ত্র তারা যখন খুশি ব্যবহার করতে পারে। তাই এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে যেখানে ইরানই শেষ কথা বলবে। নিজেদের এই কর্তৃত্ব ধরে রাখতে তারা সবকিছুই করবে।'
ফি-কে যতই রংচং মাখিয়ে উপস্থাপন করা হোক না কেন, তাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্ত করা যাবে না। তিনি বারবার বলেছেন, কোনো ধরনের চার্জ আদায় করতে নেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞদেরও আশঙ্কা, এর ফলে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হতে পারে। যদিও ট্রানজিট ফি নিষিদ্ধ করে, এমন একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চুক্তিতে বলা আছে, ‘জাহাজকে নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের’ জন্য ফি ধার্য করার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর হাতে সম্ভবত বিকল্প খুব সামান্যই। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ, ইরান ও ওমান আটকে পড়া জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি রুটের বিষয়ে সম্মত হওয়ার পরই হরমুজে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে হুমকি দেয় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। নির্ধারিত এই রুটগুলোর নিজেদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব দাবি করে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘এসব রুটের বাইরে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
এর পরদিনই এক তাইওয়ানিজ শিপিং অপারেটর জানায়, প্রণালীতে তাদের একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, জাহাজটিতে ইরান ড্রোন হামলা করেছিল। এরপরই ওয়াশিংটন ও তেহরান পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে, যার আঁচ গিয়ে লাগে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। তবে উভয় পক্ষই আপাতত নতুন করে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা সংস্থা সুফান সেন্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই হুমকি ও হামলাগুলো ‘সম্ভবত উপসাগরীয় দেশগুলোর—বিশেষ করে ওমানের—জন্য প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি...ইরানকে সহযোগিতা না করলে আন্তর্জাতিক নৌপথে তারা হামলা চালিয়েই যাবে।’
অলাভজনক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াসমিন ফারুক বলেন, এসব হামলা না হলেও ‘উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যেখানে আগের স্বাভাবিক অবস্থা হয়তো আর ফিরবে না। আঞ্চলিক আলোচনার টেবিলে তারা এখন নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই তুলে নিতে যাচ্ছে।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় সৌদি আরব নেতৃত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও এককভাবে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। এর বাইরে ইরাককে নিয়ে আরেকটি জোট তৈরি হতে পারে, যাদের অর্থনীতি অনেকটাই এই প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০ এস সি হক চপার হেলিকপ্টার আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। চার আরোহী বিশিষ্ট এই হেলিকপ্টারটি সাগরে আছড়ে পড়ার পর ৩ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সাগরে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে চপার হেলিকপ্টারটিকে পাঠানো হয়েছিল। নিখোঁজ সেই সেনা সদস্যের অনুসন্ধানে নৌবাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা চলছে”।
কেন্দ্রীয় কমান্ড আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে কোনো নাশকতামূলক হামলার যোগসূত্র নেই এবং উদ্ধারকৃত সেনাসদস্যরা বর্তমানে বিপদমুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। এই হেলিকপ্টারটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের এয়ারক্রাফট বহরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টহলরত দুটি প্রধান মার্কিন রণতরীর একটি হলো এটি, যার অপরটির নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ৪০ দিনব্যাপী সামরিক অভিযানের সময় বেশ কিছু সামরিক এয়ারক্রাফট ও যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চপার হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি সেই তালিকায় সবশেষ সংযোজন। এর আগে জুন মাসেও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে হরমুজ প্রণালিতে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও সেবার পাইলট অক্ষত অবস্থায় নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। নিখোঁজ সেনাসদস্যকে খুঁজে পেতে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বর্তমানে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের লাহোরে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লাহোর শহরের কাহনা শহরতলিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের অধিকাংশের বয়স সাত থেকে ১১ বছর। এরমধ্যে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুরাও রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, তারা মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয়।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৪টি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ছাদ ধসের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে দুর্ঘটনার পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিজের ভাতিজি রয়েছে উল্লেখ করে ৪৫ বছর বয়সি জহির নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, ভবনটির ছাদের অবস্থা আগে থেকে খুবই জরাজীর্ণ ছিল।
তিনি আরও বলেন, শিশুরা যখন ভেতরে পড়াশোনা করছিল, তখন ছাদের টাইলস মেরামতের কাজ চলছিল। মেরামত কাজের জন্য তারা ছাদের ওপর অনেক বেশি ভারি ওজনের জিনিসপত্র রেখেছিল। মূলত সে কারণে ছাদটি শিশুদের ওপর ধসে পড়ে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না যে, শিশুদের হারানোর শোকে সান্ত্বনা জানাতে প্রথমে কার বাড়িতে যাব।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ এ ঘটনাকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা এক বার্তায় তিনি বলেন, ১৪টি নিষ্পাপ প্রাণের অকাল মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।
সেই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
ভেনিজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। খবর ডয়চে ভেলের।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে। তবুও নিখোঁজ স্বজনদের আশায় বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশেই অপেক্ষা করছেন।
এমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ধসে পড়া ভবনের পাশে ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছেন তিনি। সিএনএনকে তিনি বলেন, 'এই অপেক্ষা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। ভাবছি, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো বেরিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ২৫ জুন সংগ্রহ করা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন দিয়েছেন। তবে তারা এটিকে প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন।