সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আল-আকসা মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনা ইসরায়েলিদের!

আল আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ১৩:১০

মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ। এটি ভেঙে সেখানে ইহুদি মন্দির স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে তারা। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। গতকাল শনিবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যাপারে সতর্কতা দিয়ে ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় এক্সে একটি পোস্ট করেছে। এতে তারা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তারা বলেছে, আল-আকসা মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনাকে আমরা দখলকৃত জেরুজালেমে ইসলামিক এবং খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থানে পদ্ধতিগত উসকানি হিসেবে বিবেচনা করি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এ বিষয় সংক্রান্ত জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে এই উসকানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে দেখা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা প্রায়ই মুসলিমদের পবিত্র এ স্থানে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তারা সেখানে ধর্মীয় প্রার্থনা করে। এতে তাদের সরাসরি সহায়তা করে দখলদার ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এসব অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ভূমিতে জোরপূর্বক বাস করে। তারা দখলদার ইসরায়েলি সরকার থেকে সবধরনের সুরক্ষা পেয়ে থাকে।

গত সপ্তাহেও আল-আকসা মসজিদে কয়েক ডজন ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) জোর করে ঢুকে ধর্মীয় আচার পালন করে। জেরুজালেমের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চুক্তি অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত ওই মসজিদ চত্বরে অমুসলিমদের কোনো ধরনের ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি নেই।

১৯৬৭ সালে আল-আকসা নিজেদের দখলে নেয় ইসরায়েল। চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে পারেন। ইহুদিরা প্রবেশ করতে পারেন, তবে প্রার্থনার অনুমতি নেই তাদের। এরপরও সেখানে অবস্থিত ‘টেম্পল মাউন্টে’ প্রার্থনা করে থাকেন ইহুদিরা।

আল-আকসায় ইহুদিদের প্রবেশ বাড়ছে

ইসরায়েল এক দিনে এক হাজারের বেশি ইহুদি পুন্যার্থীকে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ ১৮০ জন করে ইহুদি প্রবেশ করেছেন। সংখ্যার দিক থেকে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রবেশের ঘটনা। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় এ প্রবেশ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ইহুদিদের কাছে এ স্থান ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত।

ইসরায়েল এত দিন পর্যন্ত একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি ইহুদি প্রবেশে অনুমতি দিত না। কিন্তু এবার সে নীতি থেকে সরে এসে একসঙ্গে বৃহৎ পরিসরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে। আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানে থাকা ইসলামিক ওয়াক্‌ফ জানায়, গত বুধবার এক দিনে প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি ইহুদি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পাসওভারের ছুটি শুরুর পর এ সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি তাদের।

ওয়াক্‌ফের আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাজবাজ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যা ঘটেছে তা নজিরবিহীন। এটি অত্যন্ত ভীতিকর পরিস্থিতি। ২০০৩ সালে যেখানে ২৫৮ জন প্রবেশ করেছিল, এখন তা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এমন চিত্র আগে দেখিনি।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদকে ভাগ করে ফেলার বিষয়টি ক্রমেই বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি অনেকটাই হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পুনরাবৃত্তি।’ তিনি যোগ করেন, ‘গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।’

স্থিতাবস্থার প্রশ্নে বিতর্ক

ঐতিহাসিকভাবে ১৭৫৭ সালের উসমানীয় ফরমান অনুযায়ী, অমুসলিমদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং ইহুদিদের শুধুমাত্র ওয়েস্টার্ন ওয়াল বা দেয়াল সংলগ্ন এলাকায় প্রার্থনার অনুমতি ছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বারবার বলেছেন, ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় থাকবে।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ ক্রমেই নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। অনেক রক্ষণশীল ইহুদি নেতা টেম্পল মাউন্টে উপাসনার দাবি জানিয়ে আসছেন, যদিও তাদের ধর্মীয় নেতারা ‘পবিত্রতা রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত’ সেখানে প্রার্থনার অনুমতি দেননি।

সরকারের কট্টর ডানপন্থি সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বারবার আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি উপাসনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি তাকে বেশ কয়েকবার মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করতেও দেখা গেছে।


নির্বাচিত

ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি, আমরা ভেনেজুয়েলা নই: আরাগচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এক ঐতিহাসিক ভুল করেছে এবং তেহরানের সামরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল ছিল। তুরস্কের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি বলেন, “ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি। আমরা ভেনেজুয়েলা নই।” তাঁর মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল ইরানের ওপর আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদী হামলা চালিয়ে দেশটিকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হবে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তাঁদের ধারণার ঠিক বিপরীত।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য পাচারের ফলেই ইসরায়েল সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে যা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা জানত প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিদিন সকালে তাঁর দপ্তরে অবস্থান করেন এবং সেই অনুযায়ী তারা পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। তবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে ছিল না; সর্বোচ্চ নেতার ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা রণকৌশল ইরান আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিল।

বর্তমান যুদ্ধাবস্থা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর আগে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পূর্ণ অনুমোদন নিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছিল। ইরান মূলত কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের সুযোগটি যাচাই করতেই সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। অনাগত দিনে পুনরায় কোনো আলোচনায় বসা হবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরাগচির এই কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইরান বর্তমান সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।


নির্বাচিত

পেরুতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পেরুর রাজধানী লিমার পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ জুনিনে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২১ জন। পেরুর জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের বরাত দিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাতে ৫.১ এবং ৩.৭ মাত্রার দুটি পৃথক কম্পন এলাকাটিকে প্রকম্পিত করে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি রবিবার এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকেজ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৪৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ১৮টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে অবশ্য মৃতের সংখ্যা ছয়জন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় জুনিনের চুপাকা শহরসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত কাঁচা মাটির ইট বা ‘অ্যাডোব’ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো ভূমিকম্প সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে তাঁদের এলাকাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রথম কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ হতে ২৪ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য যে পেরু ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৬ বলে জানিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ হতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৫০ সেনা নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দি করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রোববার এএফপিকে সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাদের বহরে হামলা চালানো হয়। ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে।’

জেএনআইএম ও এফএলএ হামলার দায় স্বীকার করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে একটি সূত্র বলেন, ‘এ হামলায় প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ভারি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক সেনা নিহত ও অন্তত ২৪ জন বন্দি হয়েছেন।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা। মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ‘আমাদের কয়েকজন সদস্যকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কৌশলগত কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখছি, কী কারণে আমাদের সদস্যরা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন।’

একাধিক সূত্র এএফপিকে জানায়, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই তাদের গন্তব্য গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, ‘কোনো রুশ সদস্য নিহত হননি। নিহতরা সবাই সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।’ শনিবার মালি সেনাবাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের বহরটি ‘সন্ত্রাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাতা অতর্কিত হামলাশিকার হয়েছে। তবে তারা হতাহতের কোনো সংখ্যা জানায়নি।

২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালিতে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতার পর নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো দেশ থেকে ভিসার জন্য আবেদন করলে তা অনুমোদনের সুযোগ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসার আবেদনকারীদের উচিত নিজ নিজ দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অথবা কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ভিসা পাওয়া বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে এই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া ভিসা ফি কোনো অবস্থাতে ফেরতযোগ্য নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৪৩০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর ১ মার্চ প্রথম মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।

একই দিন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত হন অপর এক সেনা। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তিনি মারা যান। ১২ মার্চ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। ওই উড়োজাহাজটি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করছিল।

তবে ওয়াশিংটনের দাবি, এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে আরেকটি উড়োজাহাজ জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

১ জুলাই আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার কারণে ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ ঘটনায় জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস ইন ইরানের (এইচআরএএনএ) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে এইচআরএএনএ সামরিক বাহিনীর নিহত সদস্যদের কোনো যাচাইকৃত সংখ্যা দেয়নি। পাশাপাশি রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

অন্যদিকে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের কর্তৃপক্ষের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। তবে এই সংখ্যার মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন সামরিক সদস্য, সে বিষয়ে কোনো পৃথক তথ্য দেওয়া হয়নি।


নির্বাচিত

সৌদি আরবকে পরমাণু কর্মসূচির অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে একটি পরমাণু চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলা হয়, এই খসড়া চুক্তিটি মূলত ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এটিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেননি।

মূলত, ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছুটা সময় নিচ্ছেন ট্রাম্প। কারণ চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য বেশিরভাগ দেশ সাধারণত অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজের জন্য নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তিগত আইনি অধিকার পাবে। এটি মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সৌদিতে পারমাণবিক কাঁচামাল ও বেসামরিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি আইনি কাঠামো মাত্র।

এদিকে প্রস্তাবিত খসড়ায় জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি চাইলেই সৌদির পরমাণু কেন্দ্রগুলো আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবে না। পরিবর্তে, তদারকি ব্যবস্থাটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যেহেতু পারমাণবিক বোমা তৈরিরও মূল উপায়, তাই কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ভবিষ্যতে এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ সুগম হতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে। ফলে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি সৌদিকে এই সুবিধা না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে এই প্রযুক্তি সহজে পাওয়ার চেষ্টা করবে। এছাড়া এর মাধ্যমে মার্কিন পরমাণু শিল্পে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

ইউক্রেনে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সবচেয়ে বড় আকারে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল থেকে শুরু করে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ হামলায় এখন পর্যন্ত একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর এই ব্যাপক বোমাবর্ষণ রাজধানীর মোট ছয়টি জেলাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে।

যুদ্ধের পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা ইউক্রেনের জন্য এই সাম্প্রতিক হামলা বড় ধরনের প্রতিরক্ষামূলক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ইউক্রেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিন দেশটিকে রুশ বিমান হামলা সহ্য করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ উত্তপ্ত। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার মন্ত্রিসভা রদবদলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ইউক্রেনীয় সৈন্যদের মধ্যেও চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ইউক্রেন যখন যুদ্ধে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আসছিল, ঠিক তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরানোর এই পদক্ষেপ জেলেনস্কির প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রোববারের এই হামলায় কিয়েভের অসংখ্য আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক অফিস, শিল্পকারখানা, একটি ছাত্রাবাস এবং বহু যানবাহন আগুনে পুড়ে গেছে। স্যাভিয়াতোশিনস্কি জেলায় জ্বলন্ত বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং শেভচেনকিভস্কি জেলায় একটি তিন তলা ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর একটি অনাবাসিক ভবন থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি এবং দিনিপ্রো জেলাতেও আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে কাজ করতে হয়েছে।

এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি রাজধানীতে চালানো রাশিয়ার একটি ‘নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’। এই রুশ সন্ত্রাস থামাতে হলে এখন মস্কোর ওপর বিধ্বংসী আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কিয়েভ ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে রুশ ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ান ড্রোন আঘাত হানলে ট্রেনের কন্ডাক্টর প্রাণ হারান। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পুড়ে যাওয়া বগির ছবি প্রকাশ করেছে।

চলতি জুলাই মাসে কিয়েভে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, যার মধ্যে অন্তত সাতবার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতে রাশিয়ার ছোড়া মোট ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জবাবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে যেন জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করা যায়, সেই কৌশলগত অংশ হিসেবে এই নৌ-হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দেশের অভ্যন্তরে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এই লাইসেন্স প্রদানের বিস্তারিত শর্ত ও সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার রিফুয়েলিং বিমান আনতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা, সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন আবারও সংঘাতের মাত্রা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে অনিবার্য বলতে নারাজ, তবু তাদের মূল্যায়ন, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।

টানা আট রাত ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে গোলাগুলির এই বিনিময় যেন এখন একধরনের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। ইরানে প্রতিটি নতুন দফার হামলা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতি দেয়, আবার অভিযান শেষ হওয়ার পর আরেকটি বিবৃতি প্রকাশ করে। জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে দেয় এবং নতুন করে হুমকি উচ্চারণ করে। শনিবার রাত থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্তও একই ধারা অব্যাহত ছিল। রোববার সকালে কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের একাধিক ঘটনার পর এমন মূল্যায়ন সামনে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আরেক দফা উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য নিজেদের প্রস্তুতির মাত্রা বাড়াচ্ছে, যা প্রয়োজনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার পথও খুলে দিতে পারে। অঞ্চলে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন, রিফুয়েলিং বিমান ও যুদ্ধবিমান পৌঁছানো, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য আরও কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা জারি এবং সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তনের খবর, সব মিলিয়ে বড় ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন যদি নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তবে তা সম্ভবত সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সীমিত সংঘর্ষও নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেও সহজ নয়। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা দেয়, এক দিন আগে জর্ডানে ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও এক সেনা এখনো নিখোঁজ। সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা।

মার্কিন কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে জর্ডানে আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এর জবাব হিসেবে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিশোধকে যথেষ্ট বলে মনে না-ও করতে পারেন।

আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নিহত সেনারা মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। এই ঘাঁটির একটি টার্মিনাল হাই অলটিট্যুড এয়ার ডিফেন্স বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গত মার্চ মাসে হামলার শিকার হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং এমন অত্যন্ত দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ভূমির কাছে পৌঁছানোর সময় কৌশলে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ইরানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, মার্কিন মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, লক্ষ্য নির্ধারণে (টার্গেট অ্যাকুইজিশন) ইরান হয়তো চীন বা রাশিয়ার সহায়তা পাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যও ফুরিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলা এবং মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে কঠোরপন্থীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাদের দাবি, এখন ‘কাজ শেষ করার’ সময় এসে গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। ভবিষ্যৎ হামলাকে আরও কার্যকর করতে এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অতিক্রম করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।


নির্বাচিত

ইরান যুদ্ধে কৌশলে পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তথ্য দিয়েছেন পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড ডেস রচেস। তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা বাড়াচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ডেভিড ডেস রচেস জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অভিযান ইরানের আরও ভেতরে প্রবেশ করেছে। মূলত ইরান যেন ক্ষেপণাস্ত্র, সৈন্য বা ড্রোন দিয়ে উপকূলীয় এলাকাকে শক্তিশালী করতে না পারে, সেজন্যই এই উপকূলকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম ধাপ থেকে মার্কিন হামলার কৌশল পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথম ধাপে হামলাগুলো করা হয়েছিল নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য। একই সঙ্গে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক উৎক্ষেপণ করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করার জন্য ওই হামলাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওই হামলাগুলোর কারণে ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক উৎক্ষেপণ করতে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। তবে তারা একই সঙ্গে একক অথবা হয়তো দুটি বা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা সাধারণত প্রতিহত করা হয়।’

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারগুলোর ওপর ইরানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করে। ডেস রচেস বলেন, ‘নতুন এই হামলাগুলো সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। যেমন চাবাহারের টাওয়ারগুলো, যেগুলো ইরান লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে বেসামরিক নৌযান চলাচল ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন অভিযানের পরবর্তী ধাপে ইরানের অভ্যন্তরে থাকা জাতীয় নেতৃত্ব, জাতীয় সামরিক স্থাপনা এবং দ্বৈত-ব্যবহারের অবকাঠামোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার আশা করছেন তিনি।’ অবশ্য তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে কেবল বিমান শক্তির স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি কখনোই দাবিকৃত রূপ অনুযায়ী কাজ করে না, অথবা খুব কমই করে থাকে।

জর্ডানে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও একজন নিখোঁজ হয়েছেন। গত শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গত শুক্রবার জর্ডানে মার্কিন ও মিত্রবাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া একজন সেনাসদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তারা চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন সামান্য আহত হলেও তারা দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

সেনা নিহতের পর ইরানে ফের হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় প্রতিশোধমূলক এ হামলা তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং আগের রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দ্রুত শাস্তি দেওয়া।

সেন্টকম জানিয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালানোর সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আহত চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আহত অন্যান্য সেনারা চিকিৎসা শেষে আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন।

নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সেন্টকম। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাদের প্রতি শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা কখনোই এমন কিছু দেখতে চাই না। তারা আমাদের দেশের সেবায় জীবন দিয়েছেন।’ অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স-এ লিখেছেন, বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

নিহত সেনাদের পরিচয় তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

এর আগে গত শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনী ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় ঘাঁটির কয়েকটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

পশ্চিম তীরে মসজিদে ইসরায়েলিদের আগুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামের মসজিদে আগুন দিয়েছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। রোববার রাতে ওই গ্রামের মসজিদের পাশাপাশি কারখানাতেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক ওই স্থাপনার প্রবেশদ্বার পুড়ে যাওয়া এবং এর দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি স্প্রে করতে দেখেছেন।

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বৃদ্ধির মাঝে এই ঘটনা ঘটেছে। গ্রাম কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাবি এএফপিকে বলেছেন, রাতের বেলা মুখোশধারীসহ দুই ডজনেরও বেশি বসতি স্থাপনকারী আল-তুওয়ানি গ্রামের আল-তাকওয়া মসজিদে হামলা চালায় এবং এতে আগুন ধরিয়ে দেন।

তিনি বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা দুটি বাড়ি এবং একটি দুগ্ধজাত পণ্যের কারখানায়ও আগুন ধরিয়ে দেন। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি স্প্রে করেন। রাবি বলেন, গ্রামবাসীরা তাদের ঘর থেকে বের হয়ে আসায় বসতি স্থাপনকারীরা পালিয়ে যান। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এএফপির সাংবাদিকের তোলা ছবিতে দেখা যায়, একটি শিশু এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি মসজিদের পুড়ে যাওয়া প্রবেশদ্বার ও জানালাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। সেখানে একটি জায়নামাজের অংশও পুড়ে গেছে।

রাবি বলেন, মাসাফের ইয়াত্তা সম্প্রদায়ের নারীদের পরিচালিত ডেইরি কারখানাটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে এই হামলায় প্রাণহানির মতো কোনও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেনি।

ইসরায়েলি পুলিশ বলেছে, ওই গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়ার পর গত রাতে সেখানে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, একটি ইবাদতখানার দরজার ক্ষতি করা এবং দেয়ালে গ্রাফিতি স্প্রে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ। ফিলিস্তিনি মানবাধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চোখের সামনেই বসতি স্থাপনকারীদের এই হামলা ঘটেছে। তিনি বলেন, আগুন দেওয়া মসজিদের কাছেই একটি ইসরায়েলি সামরিক ওয়াচটাওয়ার রয়েছে।

তবে রাবি বলেছেন, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গ্রামে পৌঁছান এবং মসজিদ ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‌‌‘‘একেবারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে মাসাফের ইয়াত্তা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং এই সংঘাতকে ‘‘ধর্মীয় যুদ্ধে’’ রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে উৎসাহিত করার জন্য ইসরায়েলের ‘‘চরমপন্থী দখলদার সরকারকে’’ দায়ী করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সমন্বয় সংস্থার (ওসিএইচএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ছয়টি করে হামলা হচ্ছে; যার ফলে অনেক হতাহত কিংবা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করেন। ইসরায়েলিরা ছাড়াও প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাস করে আসছেন। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা ভুলতে পারবে না: মোজতবা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ার দিয়ে বলেছেন, ‘তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।’ গত শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির এই হুঁশিয়ারি সংবলিত বিবৃতি পাঠ করা হয়।

বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘‘মহাশয়তান’’ (যুক্তরাষ্ট্র) যেভাবে গত মাসের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে, তা প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ’’। আর জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

মোজতবা খামেনি লিখিত ওই বিবৃতিতে হুঁশিয়ার করে আরও বলেন, ‘মার্কিন শত্রু এখন যুদ্ধ উসকে দিতে চাইছে ও আরও বড় মূল্য দেওয়ার ও অপমানের মুখোমুখি হতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের জানা উচিত, প্রিয় ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।’

মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার ‘‘আসল চেহারা’’ উন্মোচন করেছে। আর এর মাধ্যমে তাদের ‘‘প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা ও কু-অভিপ্রায়’’ প্রকাশ পেয়েছে।’ তিনি দেশকে রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার এবং সংঘাত চলমান থাকায় জনগণকে ‘সতর্ক’ ও ‘সক্রিয়’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে ইরানের ওপর তাদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। তারা ইরানের সেতু, রেলপথ, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানাসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

জবাবে বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান। সেই সঙ্গে তেহরান ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি করেছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় এমন খবর সামনে এসেছে যে ইয়েমেনের হুতিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানের সমর্থনে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে ও হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।


নির্বাচিত

গালি দেওয়াকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যায় না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শুধু গালিগালাজ, অপশব্দ বা কটু কথা ব্যবহার করলেই তাকে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। একটি মামলার রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে এই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। আদালত বলেছেন, ‘এ ধরনের ভাষা যতই আপত্তিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় অশ্লীলতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।’

বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছেন। মূলত, এক ব্যক্তির আবেদনের শুনানি করার সময় আদালত এই মন্তব্য করেন। ওই ব্যক্তি নিম্ন আদালতের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টেও বহাল রাখা হয়েছিল।

নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ২৯৪ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানান, কোনো গালিগালাজ বা কটু ভাষা নিজে থেকেই এই ধারার অধীনে অশ্লীলতার অপরাধ তৈরি করতে পারে না।

এই রায়ে দেশের শীর্ষ আদালত বলেন, ‘কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণকে অশ্লীল হিসেবে বিবেচনা করতে হলে এটি প্রমাণ করতে হবে, তা ছিল কামোদ্দীপক, যা মানুষের কামুক প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে এবং যার মধ্যে শ্রোতা বা দর্শকদের মনকে কলুষিত ও নীতিভ্রষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে।’

আদালত আরও যোগ করেন, ‘এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার করলে, অভিযোগের সব দাবিকে যদি সম্পূর্ণ সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও এই ঘটনাকে কোনোভাবেই অশ্লীল বলা যায় না।’

বিচারপতিদের বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ব্যবহৃত শব্দগুলো যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে না।’ রায়ে বলা হয়, ‘এই মামলায় এমন কোনো দাবি করা হয়নি যে ওই শব্দগুলোর ব্যবহারে জনসমক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির বিরক্তি বা হয়রানি সৃষ্টি হয়েছে- যা এই ধারার অধীনে অপরাধ প্রমাণের জন্য একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। অভিযোগকারীর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটেনি। ফলে এই উপাদানের অনুপস্থিতিতে ২৯৪(বি) ধারার অধীনে কোনো অপরাধই গঠিত হয় না।’

ঘটনার প্রেক্ষাপট

মামলাটির সূত্রপাত ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমির বিরোধকে কেন্দ্র করে। সেখানে আবেদনকারী ও তার ভগ্নিপতির মধ্যে একটি তর্কাতর্কি হয়। এর ঠিক দুই দিন পর, একই সম্পত্তির বিষয় নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নে বা ভাতিজার সঙ্গে আবেদনকারী আবার বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, অভিযোগকারী যখন এই বিবাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে আসেন, তখন আবেদনকারী তাকে অত্যন্ত নোংরা গালিগালাজ, কটু কথা ও জাতিগত অপমানসূচক শব্দ প্রয়োগ করেন।

এই ঘটনার পর নিম্ন আদালত আবেদনকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত)ও ৫০৬(২) (ক্রিমিনাল ইন্টিমিডেশন বা অপরাধমূলক হুমকি) ধারার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিলে। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ওই ব্যক্তিকে এসসি/এসটি আইনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও, ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে দেওয়া সাজা বহাল রেখেছিলেন। এবার সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজার একটি বড় অংশ তথা অশ্লীলতার অভিযোগটি খারিজ করে দিলেন।


নির্বাচিত

নেতানিয়াহু বললেন ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু তিনিই নন, তার বিশ্বাস ইসরায়েলের অধিকাংশ মানুষও ফাইনালে আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবেন।’

আজ সোমবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগের দিন ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়াহনিশের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ওয়াহনিশ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর হাতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি জার্সি তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পাঠানো একটি অডিও বার্তাও শোনান।

বার্তায় মিলেই বলেন, ‘আপনি আমার বন্ধু, সব সময় আমাদের সমর্থন করেন। আমি জেনে খুব খুশি হয়েছি যে আপনি আমার কারণে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন।’

জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, তুমি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আমরা তোমার পাশে আছি। নানা ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছি, আগামীকালও করব। শুভকামনা।’

পরে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটা লুকাই না যে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার বিশ্বাস, ইসরায়েলের বেশির ভাগ নাগরিকও আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করছেন। শুভকামনা। ভামোস আর্জেন্টিনা।’

বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় এবং নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। অন্যদিকে স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে খেলবে।

উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। দুই দেশের বর্তমান সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দেখা গেছে।


নির্বাচিত

banner close