চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে বিতর্কিত একটি প্রবালপ্রাচীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনা ম্যানিলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে এবং এই দাবির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের আপত্তি ও আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে আমলে নেয়নি।
চীন ও ফিলিপাইন গত কয়েক মাস ধরে ওই বিতর্কিত জলসীমায় একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে। এদিকে ফিলিপাইন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় পরিসরের যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে, যাকে চীন ‘অস্থিতিশীলতাকে উসকে দেওয়া’ বলছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শনিবার জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ‘টাইশিয়ান রিফ’ বা ‘স্যান্ডি কেই’-তে সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করে।
ছোট্ট এই বালুচর স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের অংশ এবং থিতু দ্বীপের (ফিলিপাইন ভাষায় ‘পাগ-আসা’) কাছাকাছি, যেখানে একটি ফিলিপাইন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
সিসিটিভি জানায়, উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা স্যান্ডি কেই-তে নেমে ‘সার্বভৌমত্ব ও অধিক্ষেত্র প্রয়োগ’, ‘পরিদর্শন’ এবং ‘ফিলিপাইনের বেআইনি কার্যকলাপের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ’ করেছে।
প্রতিবেদনে একটি ছবি প্রকাশ করা হয় যেখানে দেখা যায়, পাঁচজন কালো পোশাকধারী ব্যক্তি নির্জন ওই প্রবালপ্রাচীরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পাশে একটি কালো রঙের রাবার নৌকা ভাসছে।
আরেকটি ছবিতে চারজন উপকূলরক্ষী সদস্যকে জাতীয় পতাকার সাথে প্রবালপ্রাচীরের ওপর পোজ দিতে দেখা যায়, যেটিকে সিসিটিভি ‘সার্বভৌমত্বের শপথ’ বলে উল্লেখ করে।
সিসিটিভি আরও জানায়, তারা প্রবালপ্রাচীর থেকে ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, কাঠের টুকরো এবং অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করেছে।
দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এক অজ্ঞাতনামা ফিলিপাইন সামুদ্রিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, পতাকা উত্তোলনের পর চীনা উপকূলরক্ষীরা ওই এলাকা ছেড়ে গেছে।
এখনও পর্যন্ত চীন প্রবালপ্রাচীরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
গত কয়েক মাসে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলগুলোর পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য চীন ও ফিলিপাইন পরস্পরকে দায়ী করে আসছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শুক্রবার জানায়, দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বেইজিংয়ের ভূমি পুনরুদ্ধার কর্মকাণ্ডে স্থানীয় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি, ম্যানিলার অভিযোগ মিথ্যা।
থিতু দ্বীপে ফিলিপাইনের সেনা উপস্থিত রয়েছে এবং ২০২৩ সালে সেখানে একটি উপকূলরক্ষী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করে ম্যানিলা, চীনের ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব’ মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।
সোমবার থেকে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তিন সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক যৌথ মহড়া ‘বালিকাতান’ (অর্থাৎ ‘কাঁধে কাঁধে’) শুরু করেছে। এবারের মহড়ায় প্রথমবারের মতো সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ম্যানিলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএস মেরিন কর্পসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস গ্লিন বলেন, দুই পক্ষ কেবল ১৯৫১ সালের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষার সংকল্পই প্রদর্শন করবে না, বরং তা বাস্তবায়নের ‘অতুলনীয় সক্ষমতাও’ দেখাবে।
তিনি বলেন, ‘‘কোনো কিছুর চেয়ে দ্রুত বন্ধন গড়ে তোলে যৌথ প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা।’’ তবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
চীন এ মহড়াকে ‘আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে এবং ম্যানিলাকে ‘বহিঃআঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে এক নজিরবিহীন ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হলো দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এই রাজ্যের একটি জাতীয় মহাসড়কে আজ রোববার দুপুরে অবতরণ করেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী ‘সি-১৩০জে’ সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান। জরুরি অবতরণ সুবিধার (ইএলএফ) অংশ হিসেবে নির্মিত এই বিশেষ মহাসড়ক কাম রানওয়েটি উদ্বোধন করতেই মোদি এই সামরিক বিমানে চড়ে সেখানে পৌঁছান। ভারতীয় বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জাতীয় সড়ক-৩৭-এর মোরান অংশে নির্মিত এই পরিকাঠামোটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম জরুরি অবতরণ সুবিধা সম্পন্ন মহাসড়ক। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
আসামে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিনের সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চাবুয়া বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সামরিক বিমানে করে মোরান বাইপাসের এই বিশেষ রানওয়েতে অবতরণ করেন। প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি অত্যন্ত শক্তিশালী করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এখানে অনায়াসেই বড় মাপের যুদ্ধবিমান ও ভারী পরিবহন বিমান ওঠানামা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, এই ধরনের অবকাঠামো কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় এবং সাধারণ মানুষের সেবায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। এখানে সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের বিশাল পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করতে সক্ষম।
মহাসড়কে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি চিত্তাকর্ষক বিমান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। প্রায় ৪০ মিনিটের এই মহড়ায় অংশ নেয় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান ছাড়াও রাশিয়ার সুখোই এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল ফাইটার জেট। এই প্রদর্শনী মূলত মহাসড়কটিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রানওয়ে হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ ছিল। উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রথম এই ধরনের মহাসড়ক রানওয়ে ২০২১ সালে রাজস্থানের বারমের জেলায় উদ্বোধন করা হয়েছিল। আসামের এই নতুন সুবিধাটি জরুরি অবস্থায় ডিব্রুগড় বিমানবন্দর বা পার্শ্ববর্তী বিমানঘাঁটিগুলোর বিকল্প হিসেবে সরাসরি ব্যবহৃত হবে, যা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জন্য এক বিশাল শক্তি যোগাবে।
ভৌগোলিকভাবে আসামের এই মোরান অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে। ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ৬০০ কিলোমিটার এবং রংপুর সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের মতো। পাশাপাশি এই এলাকাটি চীন সীমান্তেরও বেশ কাছাকাছি। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিরাপত্তার প্রশ্নে এই মহাসড়কটি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে। আজকের এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আসামে আরও বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, যার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটির সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও রয়েছে। এই সেতুটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোদির এই সফর এবং মহাসড়কে সামরিক বিমানের অবতরণ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন বারতা পৌঁছে দিল।
সিরিয়া থেকে ৫ হাজার ৭০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন আইএস বন্দিকে সফলভাবে ইরাকে স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। দীর্ঘ ২৩ দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিভিন্ন আটক কেন্দ্র থেকে এসব যোদ্ধাকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতিগত পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য কারাগার ভাঙার ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন বাহিনী এই বিশালসংখ্যক বন্দিকে নিরাপদে ইরাকে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সুদীর্ঘ অপারেশনটি অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ইরাকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে শেষ দফার বন্দিদের পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযান সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্দি কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) পরিচালিত বিভিন্ন কারাগারে আটক ছিলেন। তবে সম্প্রতি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে শুরু করলে বন্দিদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। কারাগার ভেঙে বন্দিদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক সরকার এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো-অপারেশনের (এনসিআইজেসি) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, মোট ৫ হাজার ৭০৪ জন আইএসআইএল বন্দি ইরাকে পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৩ জন সিরীয় নাগরিক এবং ৪৬৭ জন ইরাকি। এছাড়া ৭১০ জন বিভিন্ন আরব দেশের এবং ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৯৮০ জনেরও বেশি বিদেশি যোদ্ধা রয়েছেন। বিশাল এই বন্দিবহর এখন থেকে ইরাকের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারগুলোতে অবস্থান করবে এবং আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার আল-হোল ও পার্শ্ববর্তী শিবিরের পরিস্থিতি গত কয়েক বছরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আইএসের স্বজনদের রাখা এসব শিবিরে সম্প্রতি পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে এবং সেখান থেকে অধিকাংশ বিদেশি পরিবার তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছে। ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে আইএস যে নারকীয় সহিংসতা চালিয়েছিল, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তা অপরিহার্য ছিল। ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় গোষ্ঠীটিকে পরাজিত করার পর হাজার হাজার সন্দেহভাজন যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে এসডিএফের বিভিন্ন শিবিরে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এসব বন্দির বিচার প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সেন্টকমের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ রোববার গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে এটি লঙ্ঘন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও বোমাবর্ষণ করেছে, যা ওই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি পরিস্থিতিকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের ‘ইয়েলো লাইন’ সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি শক্তিশালী হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলাটি ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত তথাকথিত নিরাপদ সীমানার বাইরে ঘটেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থান ছিল। অন্যদিকে, উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। এই হামলার পর এলাকাটিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও তাদের দাবি, উত্তর গাজার একটি ভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তারা সেখানে অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, অন্তত দুজনকে হত্যা করা হয়েছে যারা ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ ছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় বেসামরিক স্থাপনা ও তাঁবুতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
একই সময়ে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আকাশপথে ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের মহড়া নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ বারের বেশি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৫৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৫৯০ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি। যুদ্ধের ভয়াবহতায় অঞ্চলটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে খাদ্য, পানীয় ও চিকিৎসার অভাবে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে ইতালির ডানপন্থি সরকার। জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই বিলে সবুজ সংকেত দেওয়ার মাধ্যমে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই নতুন আইনের আওতায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা আটকাতে অস্থায়ী নৌ-অবরোধের মতো কঠিন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, যদি ইতালি সরকার মনে করে যে অভিবাসীদের আগমনের ফলে দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় ‘ব্যতিক্রমী চাপ’ তৈরি হচ্ছে কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবে তারা নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে প্রবেশে সরাসরি বাধা দিতে পারবে। বিশেষ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট হুমকি থাকলে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত জলসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে, যা পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সমুদ্রপথে অননুমোদিত যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ইতালির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করায় মেলোনি সরকার শুরু থেকেই একে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে আসছে।
আইনের প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, যারা এসব নিয়ম লঙ্ঘন করে ইতালির জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করবে, তাদের জন্য ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত বড় অংকের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো জাহাজ বা সংস্থা বারবার একই ধরনের নিয়ম অমান্য করে, তবে সংশ্লিষ্ট নৌকা বা জাহাজ বাজেয়াপ্ত করারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারে নিয়োজিত বেসরকারি দাতব্য সংস্থাগুলোর জাহাজকে লক্ষ্য করেই এই জরিমানার বিধান আনা হয়েছে। এছাড়া নতুন এই আইন কার্যকর হলে ইতালিতে পা রাখার আগেই অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়াটি আলবেনিয়ার মতো তৃতীয় কোনো দেশের কেন্দ্রে সম্পন্ন করার সরকারি পরিকল্পনা আবারও সচল করার পথ সুগম হবে। ইতিপূর্বে আদালতের বিভিন্ন রায়ে এই ‘আউটসোর্সিং’ প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকলেও নতুন আইনের মাধ্যমে সরকার একে পুনরায় কার্যকর করতে চাইছে।
প্রস্তাবিত বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইতালির জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের কেবল তাদের নিজ দেশে নয়, বরং এমন কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হতে পারে যাদের সঙ্গে রোমের বিশেষ প্রত্যাবাসন চুক্তি রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির রেশ ধরেই মেলোনি সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া এই খসড়া বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইতালির সংসদের উভয় কক্ষে উত্থাপন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনার পর উভয় কক্ষে পাস হলে এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। রোম আশা করছে, এই আইন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনের হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার দিবাগত রাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত ইমরান খানের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁর সমর্থকদের তীব্র আন্দোলন ও বিরোধী জোটের বিক্ষোভের মুখে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, হাসপাতালে স্থানান্তরের পর ইমরানের শারীরিক অবস্থার সামগ্রিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাঁর প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
সম্প্রতি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে ইমরান খান তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান, বিরোধী দলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এবং মাহমুদ খান পাকিস্তানের পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীও কে-পি হাউজে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এই সম্মিলিত চাপের মুখে ইমরান খানকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইমরান খানের চোখের চলমান চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। মন্ত্রী আরও জানান, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিস্তারিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে। একই সাথে তিনি এই ইস্যুটি নিয়ে কোনো ধরনের গুজব না ছড়াতে এবং এটি নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশটির সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীও এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, একজন কারাবন্দি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যেসব মানবাধিকার প্রাপ্য, তার সবই ইমরান খানকে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকা এই জনপ্রিয় নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চরম উদ্বেগ কাজ করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের বোরগু এলাকার তিনটি গ্রামে এই নৃশংসতা চালায় বন্দুকধারীরা। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হামলার পর বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিউদুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন একদল ডাকাত প্রথমে তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলা চালায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত গুলি চালালে ছয়জন সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সন্ত্রাসীরা কেবল মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং অনেক গ্রামবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও স্থানীয়দের দাবি, এটি অনেক বড় একটি সংখ্যা।
তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে তাণ্ডব চালানোর পর হামলাকারীরা পার্শ্ববর্তী কোনকোসো গ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। কোনকোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়াহ তিমোথি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ বিক্ষিপ্ত গুলির শব্দে তাদের গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙে। সন্ত্রাসীরা গ্রামের পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে থাকে। তিমোথির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল এই গ্রামেই অন্তত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানিয়েছেন, কোনকোসোতে নিহতের সংখ্যা ৩৮ পর্যন্ত হতে পারে। হামলাকারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে অনেককে গুলি করে এবং কাউকে কাউকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় নাইজেরীয় বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা গেছে। তবে হামলাকারীরা ততক্ষণে গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিয়ে বনের দিকে পালিয়ে যায়। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল ছাড়াও একাধিক সশস্ত্র ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে, যারা মূলত মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই পার্শ্ববর্তী কাওয়ারা এবং কাতসিনা রাজ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পৃথক হামলায় দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই প্রাণহানি নাইজেরীয় সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এক বড় ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটি তাদের পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতের প্রসারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে যুক্তরাজ্য ও কানাডার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে রোববার বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা গত কয়েক বছরের বৈরী সম্পর্কের অবসানে বেইজিংয়ের এক ইতিবাচক কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও কানাডার সাধারণ পাসপোর্টধারীরা এখন থেকে কোনো ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য চীনে অবস্থান করতে পারবেন। পর্যটন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ, সাংস্কৃতিক বিনিময় অথবা ট্রানজিটের মতো বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। বেইজিং জানিয়েছে, এই বিশেষ সুবিধাটি আপাতত চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মূলত গত মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বিশেষ করে ১৬ জানুয়ারি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যেখানে ভিসামুক্ত যাতায়াতের প্রস্তাবটি নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছিল।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের এই ছাড় দেওয়ার বিষয়টিকে গত কয়েক বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর এক ইঙ্গিত হিসেবে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে কানাডায় চীনা নাগরিক মেং ওয়ানঝৌ গ্রেপ্তারের পর থেকেই চীন-কানাডা সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে কানাডা চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের ৫জি সরঞ্জামের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। বেইজিংয়ের বর্তমান পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে যে তারা বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী। তবে চীন এই সুবিধা দিলেও কানাডা বা যুক্তরাজ্য চীনের নাগরিকদের জন্য পাল্টা কোনো সুবিধা দেবে কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে কানাডায় চীনা নাগরিকদের প্রবেশাধিকার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ ব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের তাগিদ থেকেই চীন তাদের ভিসা নীতি শিথিল করছে। এর আগে তারা ইউরোপের বেশ কিছু দেশের জন্য একই ধরনের সুবিধা চালু করেছিল। ব্রিটেন ও কানাডার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা বেইজিংয়ের নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। এই পদক্ষেপের ফলে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের পারস্পরিক সফর দ্বিপাক্ষিক আস্থার সংকট দূর করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নতুন যাতায়াত ব্যবস্থা চীন এবং এই দুই প্রভাবশালী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কের স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নির্দশন এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য সেলিমিয়ে মসজিদ দীর্ঘ চার বছরের ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে আগামী রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এদিরনে শহরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এই মসজিদটি ইবাদতের জন্য চালু হওয়ার সংবাদে স্থানীয় মুসল্লি এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সংস্কার কাজের পাশাপাশি মসজিদের পার্শ্ববর্তী সেলিমিয়ে স্কয়ারকেও নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও পর্যটন পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিশ্বখ্যাত স্থপতি মিমার সিনানের কালজয়ী নকশায় নির্মিত এই মসজিদটি পরিদর্শনে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী এদিরনে শহরে আসেন। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মসজিদের ছাদে নতুন করে সিসার আবরণ দেওয়া হয়েছে, পাথরের দেওয়ালগুলো মেরামত করা হয়েছে এবং চারটি আকাশচুম্বী মিনারের চারপাশ থেকে সংস্কার কাজের জন্য ব্যবহৃত মাচাগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের কাঠের তৈরি শৈল্পিক দরজা ও জানালাগুলোকেও অত্যন্ত নিপুণভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়েছে। গম্বুজের ভেতরের অলঙ্করণ ও কারুকাজ নিয়ে কিছু বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেসব কাজ সম্পন্ন করে মসজিদটিকে এর আদি ও গৌরবময় রূপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিরনের প্রাদেশিক মুফতি এরকান আকসু এই শুভ ক্ষণ নিয়ে তাঁর গভীর আবেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তাঁরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়, জুমার খুতবা প্রদান এবং তারাবিহ নামাজের বিশেষ আমেজ ফিরে পেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে কোরআন তিলাওয়াত এবং ধর্মীয় আলোচনার যে আধ্যাত্মিক আবহ এই মসজিদে তৈরি হয়, তা উপভোগ করতে সবাই উদগ্রীব হয়ে আছেন। দেড় বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই ঐতিহাসিক মসজিদে বড় জামাতে নামাজ শুরুর স্বপ্ন দেখছিলেন, যা অবশেষে এবারের রমজানে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।
এবারের রমজান মাসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রমজান, মসজিদ ও জীবন’। এই উপলক্ষ্যে সেলিমিয়ে স্কয়ারে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রদর্শনী বুথ এবং বড় তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তুরস্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুসরণ করে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণকে সুগন্ধি গোলাপজল দিয়ে ধৌত করে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। রমজানের প্রথম দিন থেকেই মুসল্লিরা এই স্থাপত্যশৈলী উপভোগের পাশাপাশি তাঁদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। মূলত একটি আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের লক্ষ্যেই এই প্রাচীন মসজিদটিকে নতুনভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে তুরস্ক সরকার।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ সংকুচিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান শেখ একরিমা সাবরি এই আশঙ্কাজনক সংবাদটি প্রকাশ্যে এনেছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম থেকে এই খবর জানা গেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ একরিমা সাবরি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “মুসলিমরা আশার সঙ্গে রমজানকে স্বাগত জানায়, মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে। তিনি শাবান মাসের শেষ দিকে রমজানকে স্বাগত জানাতেন। কিন্তু জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দুঃখিত, দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে আগত মুসল্লিদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করতে যাচ্ছে।” ইসরায়েলি প্রশাসনের এই অনভিপ্রেত পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
একরিমা সাবরি আরও উল্লেখ করেন যে, দখলদার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি যুবককে পবিত্র মসজিদে প্রবেশে সরাসরি বাধা প্রদান করেছে। ইসরায়েলি প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানের সময় কোনো ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে না। এই পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এর অর্থ হলো আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ফলে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হবে। এটি স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং মুসলমানদের রোজা পালনে ব্যাঘাত ঘটাবে।”
তথ্যমতে, পূর্ব জেরুজালেমের কয়েকশ ফিলিস্তিনি বাসিন্দার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ যুবককে লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন তারা পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে না পারে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এমনকি ছয় মাস পর্যন্তও কার্যকর রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে এখনো গঙ্গার পানি চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে কোনও আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরই এ ব্যপারে আলোচনা শুরু হবে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ বছর ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। শুক্রবার লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত গঙ্গার পাণিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও আলোচনা শুরু হয়নি। তবে তিনি বলেছেন, পানীয় ও শিল্পের জন্য পানির প্রযোজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মত নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে সরকার।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের মতামত না নিয়েই সরকার গঙ্গার পাণনচুক্তির পুর্নবীকরণের পথে এগোচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্রের খবর ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। তারই ভিত্তিতে ভারত সরকার একটি খসড়াও তৈরি করেছেন।
২০২৫ এর মার্চে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন এবং বাংলাদেশের একটি যৌথ দলসহ কারিগরি দল গঙ্গার পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তি নবায়নের জন্য কাঠামোগত অখণ্ডতা মূল্যায়নের জন্য ফারাক্কা ব্যারেজে পরিদর্শন করেছিল।
জেন-জি বা জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের দলগুলোর জন্য রাজপথের উত্তাপকে ব্যালটে রূপান্তর করা যে কতটা কঠিন, তা ফুটে উঠেছে ফলাফলে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ৩০০ আসনের সংসদে তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র ৬টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে ভোটাররা বেছে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)। এই দল তিনবার দেশ পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ তাদের শাসনামল ছিল ২০০১-২০০৬ সাল।
জোটের কারণে বিশ্বাসহীনতার অনুভূতি
এনসিপির অনেক সমর্থক বলেছেন, ডিসেম্বরে আরেকটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শক্তি ইসলামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'র সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কারণেই এনসিপি কার্যত লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে।
শুরুতে দলটি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অধীনে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এনসিপির দাবি, ঢাকায় অভ্যুত্থানের এক অগ্রসৈনিক নিহত হওয়ার পর তারা একটি বড় শক্তির সমর্থন প্রয়োজন মনে করায় এই জোটে যোগ দিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত জনসমর্থন তৈরি করতেও ব্যর্থ হয়েছে এনসিপি।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা এনসিপি পূরণ করতে পারেনি।
তিনি বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটারের কাছে একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হয়েছে, তাই তাদের সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
এনসিপি থেকে এবারের নির্বাচনে যে ছয়জন জয়লাভ করেছেন তাদের মধ্যে একজন ৩২ বছর বয়সি আইনজীবী ও দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, তার দল আরও বেশি আসনে জয়ের আশা করেছিল। তার দাবি, অনেক আসনেই তারা খুব সামান্য ব্যবধানে হেরেছে।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এনসিপি এসব আসনে জয় পেয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এই জোটের সেইসব তরুণ ভোটারকে দূরে ঠেলে দিয়েছে যারা শেখ হাসিনার পতনের পর একটি সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক শ্রেণি আবির্ভূত হোক তা দেখতে চেয়েছিল।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, দলটি বিরোধী শিবিরে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর দেবে।
রয়টার্স বলছে, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় পাননি। এ ছাড়া তহবিলের অভাব এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অস্পষ্ট অবস্থানের কারণেও দলটি পিছিয়ে পড়েছে।
এবারের নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরাজিত প্রার্থী হলেন ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি গত ডিসেম্বরে জোট গঠনের প্রতিবাদে এনসিপি ছেড়ে ঢাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন।
জারা ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান। তিনি বলেছেন, আমরা দেখিয়েছি যে একটি পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা আমাকে আশাবাদী করেছে এবং ব্রিটেনে চিকিৎসা পেশায় ফিরে যাবেন না বলে জানান জারা। তিনি বলেছেন, আমাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে পড়ে আছে।
লন্ডনের একটি উপশহরে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে কিছু দিন আগে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে। রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি ভোট দেন। ২০০৮ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।
নির্বাচনের পরদিনই তারেক রহমান কার্যত প্রধানমন্ত্রী-প্রত্যাশী হয়ে উঠেছেন। সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। সরকারি ফল প্রকাশিত হয়েছে। ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
তবে এটি শুধু নিয়মিত সরকার পরিবর্তন নয়। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার একটি সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ থেকে শুরু করে নতুন একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। এই উচ্চকক্ষ নিম্নকক্ষকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পাবে। পুরো প্যাকেজটির লক্ষ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া।
গত ১৫ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। বিরোধীদের কারাবন্দি করা হয়েছে বা হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভরে গেছে অনুগত লোকজন দিয়ে। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে ঘটে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান। ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে সেই আন্দোলন সরকারের পতন ঘটায়। শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছে।
পুরোনো মিত্র ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সহিংস দমন–পীড়নের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে। এই সরকারে ছিলেন টেকনোক্র্যাট ও শিক্ষাবিদেরা। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রবীণ অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে এই নির্বাচন উদার গণতন্ত্রের জন্য নিখুঁত জয় নয়। নতুন যাত্রার কথা বলা হলেও ভোটাররা বেছে নিয়েছেন পুরোনো নেতৃত্বের দলকে। ২০০০ দশকের শুরুতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। যদিও সে সময় প্রতিবছরই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের রেটিং ক্রমেই বেড়েছে, অর্থাৎ দুর্নীতির পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশের কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাত থাকা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এখন বিএনপির অনুগতদের নিয়ন্ত্রণে গেছে।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালতও তাকে খালাস দিয়েছে এসব অভিযোগ থেকে। এখন বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় বিদেশফেরত নেতা-কর্মীতে ভরা। তিনি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা জোর দিয়ে বলছেন। কিন্তু তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সত্যিই তা করবেন।
আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট প্রায় ৮০টি আসন পেয়েছে। এতে তারা প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। এটি বিস্ময়কর! কারণ, অতীতে তারা কখনো ১৮টির বেশি আসন পায়নি। তারা কোনো নারী প্রার্থীও দেয় না। অনেক বাংলাদেশির মনে এখনো ১৯৭১ সালের স্মৃতি, যখন তারা দেশের স্বাধীনতা ঠেকাতে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল।
তবে জামায়াতকে অনেক ভোটার কঠোর ইসলামপন্থার জন্য ভোট দেননি। তারা দলটির প্রতিষ্ঠানবিরোধী অবস্থান ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সমর্থন করেছেন। এখন দেখার বিষয়, দলটির নেতারা সংস্কারমুখী অবস্থানে থাকবেন কি না। নাকি দলীয় গঠনতন্ত্রে থাকা পুরোনো অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘আল্লাহর নির্দেশনা’ অনুসারেই নীতি নির্ধারণের পথে হাঁটবেন।
২০২৪ সালের বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি তরুণরা হতাশ হতে পারেন। তাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সমর্থককে হতাশ করেছে। ফলে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
নতুন সরকারের সামনে বড় সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির প্রধান আলী রীয়াজ বলেছেন, বিএনপি বারবার গণভোটে পাস হওয়া সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। তিনি আশা করেন, তারা সত্যিই তা করবে। তবে ইতোমধ্যে বিএনপির কিছু উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপকারী কিছু ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এসব ব্যবস্থা সরকারে দলীয় ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। অনেকেই ভোট দিতে আসেননি। এখনো অনেক বাংলাদেশি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তাদের প্রিয় দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অনেকে ঘরেই থেকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে কি না বা ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, তা কেবল আদালতই ঠিক করবে। তবে এই অবস্থান খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। কিন্তু নতুন সরকার বড় সিদ্ধান্তগুলো ভুলভাবে নিলে দেশ আবার ২০০০ দশকের পথে ফিরে যেতে পারে। সেই সঙ্গে সমস্যার তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও একটি ইস্যু— প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামপন্থা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নজিরবিহীন টানাপড়েন ও পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে প্রবীণ কূটনীতিক সন্দীপ চক্রবর্তীর নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লি যখন ঢাকার সাথে সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে নতুন করে সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন অভিজ্ঞ এই কূটনীতিককে বাংলাদেশে পাঠানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সন্দীপ চক্রবর্তী বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতে বাংলাদেশে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১৯৯৬ ব্যাচের ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তা সন্দীপ চক্রবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ জানাশোনা রাখেন। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার বা ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তাঁর বেশ ভালো জানাশোনা তৈরি হয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত বছরের শেষ দিকেই ঢাকায় হাইকমিশনার পদের জন্য যোগ্য কূটনীতিকদের যে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে সন্দীপ চক্রবর্তীর নাম ওপরের দিকেই ছিল।
সন্দীপ চক্রবর্তী ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জাকার্তায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মেয়াদে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাঁর পেশাদারিত্বের এক বড় প্রমাণ। এর আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ব এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। মূলত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এবং আসন্ন নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের প্রাক্কালে দিল্লির পক্ষ থেকে এমন কাউকে ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন, যিনি এখানকার মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও পরিবেশ সম্পর্কে আগে থেকেই সম্যক ধারণা রাখেন।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার ফলে ভারতের সাথে দেশটির সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই সংবেদনশীল সময়ে একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে সন্দীপ চক্রবর্তী যদি ঢাকায় আসেন, তবে তা দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শীঘ্রই এই নতুন নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লির সাউথ ব্লক এখন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ‘রিসেট’ বা নতুন শুরুর জন্য একটি কার্যকর কূটনৈতিক চাল চালার প্রস্তুতি নিচ্ছে।