বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকবাহিনীর সঙ্গে সারা রাত ধরে গোলাগুলি হয়েছে: ভারত

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৮ মে, ২০২৫ ১২:৫৮

ভারতীয় সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বিতর্কিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্যরা রাতভর ছোট অস্ত্র ও কামানের গোলা বিনিময় করেছে। শ্রীনগর থেকে এএফপি এ সংবাদ জানিয়েছে।

বুধবার ভারত তার প্রতিবেশীর উপর মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে কয়েকদিন ধরে সীমান্ত সংঘর্ষ শেষে পরিস্থিতি এই কামান হামলায় রূপ নেয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবারের হামলায় পাকিস্তানে ৯টি ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ ধ্বংস করা হয়েছে। এর দুই সপ্তাহ আগে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ।

বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ইসলামাবাদ ‘ভারতের হত্যাকাণ্ডের বদলা নেবে।’

বুধবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ভারতের হামলা ও সীমান্তে গুলিতে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।

সীমান্তে সর্বশেষ সংঘর্ষের বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাতের বেলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পোস্টগুলো কাপওয়ারা, বারামুল্লা, উরি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের আখনূরের বিপরীতে এলাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ছোট অস্ত্র এবং কামান ব্যবহার করে বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে।’ ‘আমরাও পাল্টা জবাব দিয়েছি’।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং কূটনীতিকরা দুই দেশকে সংঘর্ষ থেকে পিছু হটতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। আমিও চাই তারা থেমে যাক।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (আজ) বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন, এর আগে তিনি পাকিস্তান সফর করেছেন। তেহরান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চাইছে।

ভারত ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের রক্তক্ষয়ী বিভাজনের পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যখন উপনিবেশিক কর্মকর্তারা সোজা লাইন টেনে মানচিত্রে বিভক্তির সীমারেখা এঁকেছিলেন, যা অনেক সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে দেয়।

মুসলিম-প্রধান কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের নিজের দাবি বলে মনে করে আসছে।


নির্বাচিত

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ সাড়ে চার হাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপাল এবং চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দেশ দুটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এই চিত্র তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন। দুই দেশ মিলিয়ে বর্তমানে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জন।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সপ্তম দিনে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ জন এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দুই দেশে মোট ৪ হাজার ৪৬২ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। যেহেতু এখনো কয়েক হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাই নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের তালিকায় একটি বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ ৫৮৩ জন বিদেশি পর্যটক বিশ্বের ৩০টি ভিন্ন দেশ থেকে হিমালয়ের এই দেশটিতে ভ্রমণে এসেছিলেন। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। বন্যার পানির প্রচণ্ড তোড়ে বহু মরদেহ কয়েকশ মাইল দূরে ভেসে গেছে। হিমাগারে পর্যাপ্ত হিমাগার বা ফ্রিজার না থাকায় নেপাল কর্তৃপক্ষ আপাতত নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে গণকবরে সমাহিত করছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

নেপালে টানেলে আটকা শত শত শ্রমিক, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় প্রলয়ংকরী বন্যায় বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিকের আটকে পড়ার ঘটনায় এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান চলছে। ভয়াবহ কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঘেরা বিশাল এই টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্ধারকারীরা পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির পাশাপাশি ভেতরে জরুরি ভিত্তিতে বাতাস পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিবিসি নেপালির দেওয়া তথ্যমতে, গত বুধবারের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০-এর বেশি কর্মীর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে টানেলের গভীর অভ্যন্তরে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, সেই সংখ্যাটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে এবং আপার ত্রিশুলিসহ বেশ কিছু দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের পাথর ভেঙে পথ বের করার চেষ্টা চলছে, কারণ সময় যত গড়াচ্ছে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি কাতর কণ্ঠে বলেন, "তাকে যদি খুঁজে পাওয়া যেত।" নিখোঁজ অন্য এক ব্যক্তির স্ত্রী সিতা পাণ্ডে নেপালের দৈনিক কান্তিপুরকে জানিয়েছেন, "তাঁর এখনও ৫০ শতাংশ আশা আছে যে তাঁর স্বামী বেঁচে আছেন, কারণ টানেলের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।" তবে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বজন জীবন খড়কা বলেন, "যত বেশি সময় যাচ্ছে তাঁদের আশা ততই কমে যাচ্ছে।" প্রিয়া খারেল নামের এক নারী তাঁর ভাইয়ের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তিনি জানান, "জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে মানুষ ছিল। তাই দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলে বাঁচানো সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন।"

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে নেপালেই মারা গেছেন ৯৩৯ জন। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৯২৫, যার একটি বড় অংশই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরালো করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভৌগোলিক পরিবর্তন। অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, পুরো এলাকাটি এখন চেনা দায় হয়ে পড়েছে এবং পাহাড়সম পাথরের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ভাটির জেলা চিতওয়ানেও, যেখানে নদীপথে ভেসে আসা প্রায় ৩০০ মৃতদেহ উদ্ধারের পর শনাক্তকরণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় লাশগুলো অস্থায়ীভাবে দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি পর্যায়ে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্যে কড়া সেন্সরশিপ জারি করা হয়েছে। একইভাবে নেপাল কর্তৃপক্ষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্যোগ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি বাংলা।


নির্বাচিত

শি-পুতিনের সঙ্গে একই বৈঠকে মোদি-শাহবাজ-পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউরেশীয় দেশগুলোর জোট সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে কিরগিজস্তানে। এতে যোগ দিতে বিশবেকে গেছেন চীনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা।

সম্মেলনের মূল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ। সেখানে শি, পুতিন, পেজেশকিয়ান, মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অংশ নেওয়ার কথা আছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্বের পাল্টা প্রভাব হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে ২৫ বছর আগে এসসিও জোট গঠন করা হয়। এতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং মস্কোর মিত্র বেলারুশও আছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার এই জোটের সংলাপ অংশীদার।

অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও গত কয়েক বছরে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে জোটের গতি আরও বেড়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন অন্যদের পাশাপাশি মাসুদ পেজেশকিয়ান ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কোতে বিরল সফর করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সফরে ইরান ও ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসসিওর এবারের সম্মেলনটি আরেক কারণেও গুরুত্ব পাচ্ছে। জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ বর্তমানে সামরিক ও বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে আছে। চলতি মাসে ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার খাতের মধ্যে আছে স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক পরিবহন।

চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। হুমকির জবাবে তারা নিজেদের স্বার্থ ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা’ করার কথা বলেছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপিকে বলেছেন, এই জোট থেকে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাবে, তা অনিশ্চিত। সংকটের সময়ে এসব জোট সমস্যা সমাধানে তেহরানকে খুব কমই সহযোগিতা করেছে।

এসসিও জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। কিছু বিষয়ে মতবিরোধও আছে।

পণ্য পরিবহন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা আছে। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা গেছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিদশা থেকে ছবি শেয়ার করলেন মাদুরো

নিকোলাস মাদুরো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে প্রথমবার ছবি শেয়ার করেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। রোববার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দুটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তাকে ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরে দুই হাত দিয়ে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা গেছে।

ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় মাদুরো তার নাতি-নাতনি, শিশু-কিশোর ও প্রিয়জনদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা এখনো শক্ত রয়েছি। তোমাদের ভালোবাসায় আমাদের হৃদয় পরিপূর্ণ। আমরা শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ভেনেজুয়েলা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’

ছবিতে মাদুরোকে আগের তুলনায় বেশ শুকনো দেখা যায়। তবে, ছবিগুলো সত্যিই আটককেন্দ্রের ভেতর থেকে তোলা কি না এবং কর্তৃপক্ষ এগুলো প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিল কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আটককেন্দ্রে মাদুরোর সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। প্রতিটি কলের সর্বোচ্চ সময় ১৫ মিনিট।

গত রোববার প্রকাশ করা ছবিগুলোর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, সেগুলো গত ২৫ জুন তোলা হয়েছিল। মাদুরোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের জন্য ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার হিসেবে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় একটি তেল চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে। মাদুরোর ছবি প্রকাশের সময়ের সঙ্গে এই চুক্তির ঘোষণারও মিল রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।

মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও ‘নারকোটেররিজম’-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা মাদক পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ জুন তাদের বিচার শুরু হওয়ার কথা।


নির্বাচিত

ইরানের খার্গ দ্বীপ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইনের একটি পোস্টে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোস্টটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ক্লিপও ছিল।

সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে ইরানের ওই জ্বালানি কেন্দ্র হামলার মুখে পড়েছে, এমন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে রয়টার্স অনুরোধ জানালেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

ইরানের গণমাধ্যমেও ট্রাম্পের পোস্টের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খার্গ দ্বীপ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’ তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

ডিজেটি বলতে তিনি নিজের নামের আদ্যক্ষর, অর্থাৎ ডোনাল্ড জন ট্রাম্প, বুঝিয়েছেন। এআইয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন করা ছবি শনাক্তকারী সফটওয়্যার ব্যবহার করে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হতো। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপটিতে হামলা হলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ পড়বে।

খার্গ থেকে প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত লারাক দ্বীপে কয়েকটি রকেট লঞ্চারের ওপর মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রায় এক মাস সামরিক অভিযান বন্ধ রেখে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরান ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের শাস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর পরই আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটল।

এর আগে রোববার রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুতে ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করে এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জি-২০ জোটের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে রয়টার্সকে বেসেন্ট বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আপনারা এ ধরনের আরও অনেক পদক্ষেপ দেখতে পাবেন।’ নৌ চলাচলের ওপর হুমকির মধ্যে সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে দিনে পাঁচটিতে নেমেছে বলে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ হামলা এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।


নির্বাচিত

গুগল ম্যাপে বদলে গেল লেক অন্টারিওর নাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল ম্যাপে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ দেখানো হচ্ছে। তবে কানাডার ব্যবহারকারীরা আগের মতোই ‘লেক অন্টারিও’ নামটি দেখতে পাবেন। ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই গুগল ম্যাপে এই পরিবর্তন আনা হলো।

গুগল জানিয়েছে, সরকারি নথিতে কোনো ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন হলে তারা ম্যাপেও তা প্রতিফলিত করে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুগল ম্যাপ ব্যবহারকারীরা এখন ‘লেক আমেরিকা’ নামটি দেখতে পাবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে গুগল ম্যাপে পরিবর্তনটির কথা জানান। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফোনে গুগল ম্যাপ লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করেছে।

তবে কানাডায় নামটি ‘লেক অন্টারিও’ই থাকবে বলে জানিয়েছে গুগল। আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরে থাকা ব্যবহারকারীরা ‘লেক অন্টারিও (লেক আমেরিকা)’—দুই নামই দেখতে পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভৌগোলিক নামের মান নির্ধারণকারী সংস্থা জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গুগল এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি নির্বাহী আদেশের পর মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের সব সরকারি নথি ও তথ্যভাণ্ডারে নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কানাডার আপত্তি

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত শনিবার তিনি ‘লেক অন্টারিও’ লেখা একটি নতুন সাইন উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে জলাশয়টির ঐতিহাসিক নামের প্রতি সমর্থন জানান তিনি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘অন্টারিও’ নামটির ঐতিহাসিক উৎস উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী ওয়েন্ডাটদের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে গুগল ম্যাপেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য নামটি পরিবর্তন করা হয়।

বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

লেকের নাম নিয়ে এই বিরোধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২২ আগস্ট কানাডার ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভৌগোলিক নামের বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।


নির্বাচিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি অঞ্চলজুড়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান।

ফার্স নিউজের এই প্রতিবেদনের কিছু সময় আগেই, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী লারাক দ্বীপে অবস্থিত ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

সংবাদ সংস্থা তাসনিম বলেছে, প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে, প্রায় এক ঘণ্টা আগে হরমোজগান প্রদেশের লার্ক দ্বীপের একটি স্থানকে লক্ষ্য করে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু প্রাথমিক বেসরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। কৌশলগত প্রণালী হরমুজের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত লারাক দ্বীপে এই হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত রোববার লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

আইআরজিসি এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইআরজিসি হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপ (লঞ্চার) লক্ষ্যবস্তু করায় বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে রাজধানী তেহরান, শিরাজ, কারাজ ও খোররামাবাদ থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যম ফার্স নিশ্চিত করেছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরপরই জর্ডানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের প্রতিবেশী দেশটিতে থাকা মার্কিন মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরান ওই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে ইরান। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। প্রায় সব ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধে নিয়োজিত মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল উদেদ বিমান ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে অসমর্থিত সূত্রের বরাতে দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হামলার দায় স্বীকার করে ইরান-সমর্থিত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য নৌযান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ঘনিষ্ঠ ওই চ্যানেলটি জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নতুন দফার হামলায় প্রণালীতে থাকা ‘অবাধ্য জাহাজ’ এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন কর্মকর্তারা।

হরমুজে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। সোমবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্যেই এই হামলা করা হয়।

এর আগে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষাবাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি সোমবার ভোরের দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে আঞ্চলিক একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে বিস্ফোরণের খবরও প্রচার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের চালানো হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের একটি ছাপাখানা ধ্বংস হয়েছে। এতে আগুনে পুড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক বই ও পাঠ্যপুস্তক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্প গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।

কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত ছাপাখানাটিতে হামলার সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছিল। সেখানে প্রায় ১৩ লাখ বই ছাপার প্রস্তুতি চলছিল, যা ইউক্রেনের মোট স্কুলপাঠ্য বইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু রাতের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো কারখানাটি ধ্বংস হয়ে যায়।

ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা একটি পোড়া ইংরেজি ভাষার পাঠ্যবইয়ের পাতায় লেখা—‘আমার নাম উইলিয়াম, আমি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছি। আমার দাদি নটিংহ্যামে থাকেন।’ এখন সেই পাতাটিও যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাই বলেন, এসব হামলা ইচ্ছাকৃত বলেই তার বিশ্বাস। গত দুই মাসে বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ও গুদামকেন্দ্রও হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তাঁর মতে, একটি জাতির পরিচয় মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুদ্রণ ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫ টিরও বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, চলতি বছরে ইউক্রেনে ছাপা মোট বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে।

কিয়েভের পোচাইনা পুরোনো বইয়ের বাজারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে শত শত দোকান ও অসংখ্য পুরোনো বই পুড়ে যায়। ২৮ বছর বয়সি বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ধ্বংসস্তূপে একটি ভেজা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বই হাতে খুঁজছিলেন কিছু উদ্ধার করা যায় কি না। তিনি বলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে যেন আমাদের হৃদয় হারানো।’

শুধু বই নয়, জাদুঘর, শিল্পকলা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র স্টুডিও, গ্রন্থাগার ও অপেরা ভবনও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠের ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদও ড্রোন হামলায় আগুনে পুড়ে যায়। মেরামতে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং দুই বছর সময় লাগতে পারে।

ইউনেসকো ১৯৯০ সালে ঐতিহাসিক এই কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ২০২৩ সালে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়ও রাখা হয়।

ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলাকে যুদ্ধের সামরিক প্রভাব থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের ১ হাজার ৯০০ টির বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন এখন বই, শিল্পকর্ম ও সাহিত্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে। দেশটির প্রকাশনা খাতকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাস বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য ইউক্রেন সরকারকেই দায়ী করেছে। রাশিয়া দাবি করেছে, কিছু সাংস্কৃতিক স্থাপনা সামরিক স্থাপনা আড়াল করতে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রাশিয়া নিয়মিত অস্বীকার করে আসছে।


নির্বাচিত

রাজপথে চাকরিপ্রার্থীরা, অবরুদ্ধ কলকাতা

কলকাতার রাজপথে চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের পোশাক পরার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন তারা। লিখিত পরীক্ষা হয়েছে, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা শেষ। এরপর সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তবু হাতে আসেনি নিয়োগপত্র। সময় গড়িয়েছে, সামনে এসেছে দুর্গাপূজা। এবার আর অপেক্ষা না করে চাকরির ফল প্রকাশের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

আজ সোমবার কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার চৌমাথা পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাকরিপ্রার্থীরা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী এই মিছিলে অংশ নেন।

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পরও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

আজ সোমবার মিছিলে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। সেখানে লেখা ছিল, ‘এবার পূজায় উর্দি চাই’ এবং ‘অপেক্ষা আর করছি না, রেজাল্ট ছাড়া যাচ্ছি না।’ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, দ্রুত চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে দুর্গাপূজার আগেই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

চাকরিপ্রার্থীদের বিশাল মিছিল ও বিক্ষোভের কারণে ধর্মতলা চত্বর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারের পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী সময়ে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সফল চাকরিপ্রার্থীদের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, সাক্ষাৎকার পর্বও শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপরও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু মে মাসে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে।

আগস্ট মাস শেষ হয়ে সেপ্টেম্বর শুরু হতে চললেও এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের একজন উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার বাসিন্দা সৌমেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সামনে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। তার আগেই রাজ্য সরকারকে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।’ তার কথায়, ‘এবার পূজায় পুলিশের উর্দি পরে আমরা কর্তব্য পালন করতে চাই।’


নির্বাচিত

অস্ত্র বিক্রিতে মার্কিনিদেরও পেছনে ফেলল ইসরায়েলিরা

ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্ত্র বিক্রিতে বিশ্বের বড় সামরিক শক্তিগুলোকেও পেছনে ফেলল ইসরায়েল। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ছয়গুণ এবং রাশিয়ার প্রায় ১৯ গুণ বেশি। গত ২৫ আগস্ট ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক সুসান আবুলহাওয়া প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির মূল্য মাথাপিছু প্রায় ২৬৩ ডলারের সমান ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ ছিল ৪১ ডলার এবং রাশিয়ায় ১৪ ডলার। ইসরায়েলের ইহুদি জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরে হিসাব করলে মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানির মূল্য আরও বেড়ে প্রায় ৩৪০ ডলারে দাঁড়ায়।

তবে, মোট অস্ত্র রপ্তানির হিসাব করলে বিশ্বের চিত্রটি আবার বদলে যায়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের হিসাবে ইসরায়েলের অবস্থান ছিল সপ্তম। তাদের ওপরে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালি।

জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে অবশ্য অন্যান্য দেশের তুলনায় ইসরায়েল অনেকটাই এগিয়ে। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের অবস্থান দ্বিতীয়। গবেষণা অনুযায়ী, নরওয়ের তুলনায় ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি প্রায় আড়াইগুণ বেশি।

বিষয়টি শুধু ২০২৫ সালের কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরের প্রায় প্রতি বছরই মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল হয় শীর্ষে ছিল, নয়তো শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারকদের একটি ছিল।

১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র দেখা গেছে। এ সময়ে ইসরায়েলের গড় মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি ছিল বছরে প্রায় ৫৬ ডলার। বিশেষ করে গত এক দশকে অন্য অস্ত্র রপ্তানিকারকদের সঙ্গে ইসরায়েলের ব্যবধান আরও বেড়েছে।

শুধু জনসংখ্যার তুলনাতেই নয়, অর্থনীতির আকারের তুলনাতেও ইসরায়েলের অস্ত্র ব্যবসার গুরুত্ব বেশ বড়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিআইপিআরআই) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশের সমান ছিল। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এ অনুপাতের চেয়ে তা তিনগুণের বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ছয়গুণেরও বেশি।

এ সময়ে ইসরায়েল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির কথা জানিয়েছিল। এটি তাদের জিডিপির প্রায় দুই দশমিক পাঁচ শতাংশের সমান।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে আটগুণ এবং ফ্রান্সের প্রায় নয়গুণ বড়। অর্থাৎ মোট অর্থের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় ভূখণ্ডগুলো অনেক বেশি অস্ত্র বিক্রি করলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকার বিবেচনায় ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি অন্য বড় রপ্তানিকারকদের তুলনায় অনেকটাই বড়।


নির্বাচিত

নেপালে লাশ দাফন শুরু, নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হিমালয় অঞ্চলে সুনামির মতো ভয়াবহ বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যুর পর সোমবার নেপালে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর দাফন শুরু হয়েছে। ভয়াবহ এই বন্যার পানির স্রোতে গ্রাম ও জনপদ ভেসে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন। অন্যদিকে অনেক পরিবারকে উপচে পড়া মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বুধবার বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে এসে বিভিন্ন গ্রাম ও শহর ভাসিয়ে নেয়। এতে নেপাল ও সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিছু মরদেহ স্রোতে ভেসে ভারতের ভূখণ্ড পর্যন্ত চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনো অন্তত ৩ হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯৩৩ জন শ্রমিকও রয়েছেন।

রোববার নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য ও প্রকৌশলীরা হিমালয়ের নদী উপত্যকায় অবস্থিত ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকে পড়েছেন বলে ধারণা করা শ্রমিকদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে খননকাজ চালান।

এর আগে উদ্ধারকারীরা সফলভাবে টানেলের ভেতর একটি পাইপ ঢোকাতে সক্ষম হন।

দুর্যোগের সময় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ৩৩ বছর বয়সী সুরেন্দ্র দৌলুরি জানান, তিনি যে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে কাজ করছিলেন, সেখানে প্রচণ্ড পানির স্রোতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধারের চার দিন পর এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব জোরে একটি শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি টারবাইন ফ্লোর কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে ছয়জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।’

কিছু শ্রমিক উঁচু জায়গা কিংবা নির্মাণ এলাকার এমন অংশে পৌঁছাতে সক্ষম হন, যেখানে পানির ভয়াবহ স্রোত পৌঁছাতে পারেনি।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। খনন করা এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় কাজ কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হয়।

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। ফলে পানি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নদীপথে নেমে আসে।

এই প্রবল স্রোতের কারণে বিশাল কয়েকটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উদ্ধারকাজে নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি করে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তের একটি বন্দর এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের পর নতুন একটি হ্রদ সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেখানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত চীনা উদ্ধারকারীদের রোববার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের হিসাবে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা রোববার জানিয়েছে, দেশটির অংশে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫০২ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে নিশ্চিতভাবে ৭৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এত বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত হিমায়িত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় নেপালি কর্তৃপক্ষ মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই দাফন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে পরে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা যায় এবং পরিবারগুলো তাদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারে।

স্বজন হারানো মানুষজন মরদেহ শনাক্তকেন্দ্রে জড়ো হচ্ছেন। সেখানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে। অনেক সময় ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্বজনরা চোখ বন্ধ করে ফেলছেন।


নির্বাচিত

মক্কা জোট ও বাংলাদেশ; বৈশ্বিক কূটনীতির নতুন মোড়

* চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী * পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত * বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখবে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের
মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান আর তুরস্কের শীর্ষ নেতারা এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান- মুসলিম বিশ্বের এই তিন দেশ সম্প্রতি যে ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ সই করেছে, তাতে বাংলাদেশও যোগ দেবে কি না তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। একদিকে সামরিক তাৎপর্য, অন্যদিকে জোটের সম্প্রসারণের চেষ্টা দুটি মিলিয়েই এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশেও আগ্রহ আছে। যদিও গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখানো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি। যদিও চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ ‘ইতিবাচক অবস্থানে’ আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, এ সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত সপ্তাহের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বা মক্কা প্যাক্টে যোগদানে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না। একই সঙ্গে অন্য অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই চুক্তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (১) হুমায়ুন কবির।
গতকাল রোববার ঢাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী চুক্তি, যা নতুন নানা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে বাংলাদেশ ‘ইতিবাচক’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গেই এই আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।’
সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারকদের একটি এবং একইসঙ্গে বড় অর্থনৈতিক শক্তি। তুরস্ক নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দেশটির আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, মিসাইল সমৃদ্ধ শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। আর মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রশক্তির দেশ পাকিস্তান। তিনটি দেশ মিলে যে চুক্তি সই করে তার আনুষ্ঠানিক নাম মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এটা স্বাক্ষরও হয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ পবিত্র নগরী মক্কায়। একে এমন একটি জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হচ্ছে।
সামরিক জোটের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় আর গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটুকু অবদান রাখবে, তা নিয়ে সব দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে সামরিক তাৎপর্য থাকায় তিনটি দেশের এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই এটাকে ‘মুসলিম নেটো’ নামেও ডাকছেন।
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত সাতই অগাস্ট এই চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।
তিনি আরও বলেন, এতে যোগদান করার বিষয়টি এখানো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে যারা এই প্যাক্টের সদস্য, তাদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেওয়ার জন্য, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্যাক্ট হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের মুসলিম পরিবারের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে কারো, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই।
একইসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়নি ফলে এখানে যোগ দিলে কী লাভ হবে সেগুলোও আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।
মক্কা প্যাক্ট মূলত প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। নামেই প্রতিরক্ষা শব্দটি আছে। চুক্তিতেও আলোচনা হচ্ছে মূলত এই জোটের যৌথ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তুরস্ক ও পাকিস্তান। যৌথ জোটের দেশগুলো সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় থেকে শুরু করে অস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় পর্যন্ত যেতে পারে।জোটের তিনটি দেশের তিন ধরনের সক্ষমতা আছে। যেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। সৌদি আরবের আছে অঢেল অর্থ, তেল, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা এবং রাজনৈতিক শক্তি। তুরস্কের আছে অত্যাধুনিক সামরিক শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি, মিসাইল, সেন্সর, নৌশক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা। আছে উন্নত মানের অস্ত্র প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ।
পাকিস্তানের আছে দক্ষ সৈন্য, বিশাল পেশাদার সেনাবাহিনী ও অবকাঠামো, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরমাণু অস্ত্র। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের জন্য আমেরিকার বাইরে অস্ত্র সংগ্রহের নতুন দ্বার খুলে যাচ্ছে। তারা তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমদানি করতে পারবে। অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের দরকার অর্থ। তারা অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রি করে সেটা পাবে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে পারবে। এই দেশগুলো যদি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে সেটা দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আর এখানেই আসছে বাংলাদেশসহ নতুন দেশগুলো যদি মক্কা জোটে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ। সেগুলো কী?
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকগুলোই আছে। প্রথমটিই হচ্ছে, জোটের একটি নির্দিষ্ট নীতি যেখানে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটা জোটের বাকি দেশগুলোর উপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে বলা হচ্ছে, নেটোর আদলে এমন কোনো জোটে বাংলাদেশ থাকলে সেটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। মক্কা জোটে পাকিস্তান থাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শুরু থেকেই এই জোটকে এক ধরনের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যেকোনো সংঘাতে মক্কা জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের ঝুঁকি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে।
মক্কা জোটে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, আমাদের প্রায়োরিটি অনেকগুলো আছে। সেগেুলো মাথায় রেখে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, আমি একটি সামরিক জোটে জয়েন করতে চাই কি না। একইসঙ্গে আমাকে চিন্তা করতে হবে যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য আমার দক্ষিণ এশিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন।
গবেষণা সংস্থা ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ বলেন, আমরা তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন, আরমার্ড ভেহিকেল এরকম অনেক কিছুই আমদানি করি। এই অংশীদারত্বটা আরো বড় হতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সুযোগও আসে যে, তুরস্কের মতো একটা দেশের সঙ্গে আমরা জয়েন্ট কোলাবরেশনে গিয়ে কোনোকিছু উন্নত করতে পারি কি-না, বিশেষত মিলিটারি টেকনোলজির ক্ষেত্রে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনও মনে করেন, মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রে নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা একটা বড় উদ্দেশ্য। তাছাড়া সৌদি আরবে বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন। দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধানতম উৎস। সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীও বটে। ফলে চুক্তিতে থাকলে সেটা বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সহায়তারও নতুন দ্বার খুলতে পারে।
বাংলাদেশের একজন ভূ-রাজনীতির গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। সেদিক, বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ভারত ভাবতে পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর হাবীব গণমাধ্যমকে বলেন, একটি জোটের দিকে ঝুঁকলে অন্য পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই আন্তর্জাতিক বিষয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে এসেছে। একই সাথে, বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আমাদের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই মূল প্রশ্ন হলো—এই নির্দিষ্ট জোটে যোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু উপযুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হবে? এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেমন হবে? দায়িত্ব ও ব্যয়ের ভাগাভাগি কীভাবে পরিচালিত হবে? বাংলাদেশ এখানে কী ভূমিকা বা অবদান রাখবে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। তাই বলা যায়, আমরা কীভাবে এগোব সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রস্তাবিত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের যুক্ত করা একেবারেই আবশ্যক।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেন, মক্কা চুক্তিতে ঢাকার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে নানামুখী জল্পনা বাড়ছে। আর এর মধ্য দিয়েই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, এটি যদি একটি সামরিক জোট হয়, তবে এর সকল সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সাথে মিলে যায়, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান নিজে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। এটি একটি জটিল বিষয় এবং আমাদের খুব সতর্কতার সাথে এর মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে আলোচনার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের যুক্ত থাকতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেছেন, এই জোটে যোগ দিলে কি বাড়তি কোনো প্রতিরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হবে? সেই নিরাপত্তার কি আদৌ প্রয়োজন আছে? কিংবা জোটে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কি সত্যিই এই সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব? আর এই তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়ার সম্ভাব্য মূল্য বা মাশুল কতটুকু হতে পারে?


নির্বাচিত

জীবিতদের খুঁজে পেতে উদ্ধারকারীদের তৎপরতা অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খুঁজে পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এদিকে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছুঁয়েছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নেপালে ৭৩৪ জন ও তিব্বতে ১৬ জনসহ মোট ৭৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল জানিয়েছে, দেশটিতে কয়েকশ বিদেশিসহ ২ হাজার ৪৯৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রোববার দেশটি মৃতের হালনাগাদ সংখ্যা ৭৩৪ জন বলে জানিয়েছে।

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অনেকটাই সীমিত। ফলে এই অঞ্চলে দুর্যোগের ভয়াবহতার সংবাদ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি রোববার জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

টানেলে আটকা শতাধিক মানুষ

একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, শনিবার রাতে নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশুলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে পাইপ ঢুকিয়ে সেটির মাধ্যমে বাতাস পাঠানো শুরু করেছে।

তবে রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় ওই স্থানে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ রোববার উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। অসংখ্য শ্রমিক নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সময় সেখানে বরফ ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসে। এই ঘটনায় ৯৩৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন।

এ ধরনের উদ্ধারকাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ভারত। সহায়তার জন্য চীনও নয় সদস্যের একটি টানেল উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। আগের কয়েক দিনে উদ্ধারকাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা একটি খালি হয়ে যাওয়া হ্রদ থেকে এটি ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই হ্রদ উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিধসের পর ‘এখন নতুন একটি হ্রদ তৈরি হচ্ছে’। সিসিটিভি জানায়, গিরং সীমান্তবন্দর এলাকার উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেছে জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

পুনর্নির্মাণে লাগতে পারে বিলিয়ন ডলার

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ খরচ হতে পারে।‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করব এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করব। তবে সহায়তার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনই দায়ী?

ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বুধবারের বিপর্যয়টি হিমবাহ ধসের কারণে ঘটেছে। এতে বরফ ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া রোববার জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘নেপালের লিরুং পর্বতের দক্ষিণ ঢালে থাকা একটি হিমবাহ’ ভেঙে যাওয়ায় বরফ ও পাথরের ধস নামে। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হঠাৎ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা এই পার্বত্য পরিবেশগুলোর ভঙ্গুর অবস্থাকে সবার সামনে উন্মোচন করেছে।’


নির্বাচিত

banner close