আজ সন্ধ্যায় নতুন পোপ নির্বাচিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন কলেজ অব কার্ডিনালের ডিন গিওভান্নি বাতিস্তা রে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ইতালীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আজ সন্ধ্যায় যখন আমি রোমে ফিরব, ততক্ষণে সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হবে।’
সকালে একবার কার্ডিনালরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। দুপুরের আগে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে চিমনি দিয়ে।
গিওভান্নি বাতিস্তা রের বয়স এখন ৯১ বছর। পোপ হওয়ার জন্য আশি বছরের কম বয়স হতে হবে। যে কারণে তিনি কার্ডিনালের কনক্লেভে অংশ নিতে পারেননি। পোপ হওয়ার যোগ্য ১৩৩ কার্ডিনালকে নিয়ে গঠিত কলেজ অব কার্ডিনালস।
কোনো ধরনের মনোযোগ নষ্ট হওয়া ছাড়াই যাতে প্রার্থনা ও ধ্যান করতে পারেন, পাশাপাশি পোপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, সে কারণে ভ্যাটিকানের ভেতরে কার্ডিনালদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।
নতুন পোপ নির্বাচিত হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সকাল ও বিকালে নিয়মিত ভোট হবে।
ভোট হওয়ার পর একটি বিশেষ স্টোভে ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কালো ধোঁয়া বের হওয়ার অর্থ হচ্ছে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, অর্থা পোপ নির্বাচিত হননি। আর সাদা ধোঁয়া বের হলে বুঝতে হবে নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন।
পোপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রার্থী নেই। তবে বেশ কয়েকজন কার্ডিনাল আছেন, যারা পোপ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
তাদের মধ্যে আছেন, কনক্লেভের দেখভাল করা কার্ডিনাল পিয়াত্রিও প্যারোলিন, এশিয়ান ফ্রান্সিসখ্যাত কার্ডিনাল লুইস তাগলা, কঙ্গোর রক্ষণশীল কার্ডিনাল ফ্রিডোলিন এমবোঙ্গো বেসুঙ্গু ও ইতালীয় পিয়ারবাতিস্তা পিজ্জাবালা।
এদিকে নতুন পোপের নাম শোনার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককেই। রোমের বাসিন্দা প্রিসিলা পার্লান্তি বলেন, ‘এই অপেক্ষা অসাধারণ।’
কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সুপেয় পানি শোধনাগার বা ডিস্যালিনেশন প্লান্টের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আক্রমণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়াদ। শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে সৌদি সরকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার প্রতি রিয়াদ পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। সৌদি আরব অবিলম্বে সকল পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা পরিহার করে সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
অন্যদিকে, সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট স্পেকটেটর’ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। একজন ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে তারা জানিয়েছে যে, মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো এবং পানি শোধন প্রকল্পগুলোতে আক্রমণের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তেহরানের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁরা এখন তুলনামূলক নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম অত্যাধুনিক মধ্যপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। তাঁদের মতে, এই নতুন কৌশলের ফলে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় পড়েছে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা বিরাজ করছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। টানা অষ্টম দিনের মতো পরিচালিত এই বিমান হামলায় ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত দ্বীপ এবং উপকূলীয় এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রবিবার (১৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানের ফলে ইরানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খুজেস্তান প্রদেশের শাদেগান শহরের সন্নিকটে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। হামলার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ হতে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ইরানের কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অন্তত ছয়টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদদাতারা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং পার্শ্ববর্তী কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এটি মার্কিন বিমান হামলা কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, রবিবার ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করেছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরণের আচরণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা বা গুরুত্ব নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কড়া মন্তব্য করেন। আনাদোলু নিউজ এজেন্সি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন যে, “জবরদস্তি, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং নিষ্ঠুরতা—এগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মাশুল দিতে হবে এবং তাঁদের আরও বড় অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, ইরানের সাধারণ জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের মিত্র শক্তি বা ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে যা তাঁরা চিরকাল মনে রাখবে। খামেনি এই সংকটময় মুহূর্তে অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর হাত হতে ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় দেশের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জনগণের প্রতি সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাঁর এক্স পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই ঐতিহাসিক সময়ে সকল প্রকার বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকাই হবে বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর টানা বিমান হামলা ও ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে ওই সমঝোতাটি কার্যত ভেস্তে গেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও তাদের পক্ষ হতে দেওয়া সকল অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে পুনরায় এক বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গাজা উপত্যকার নুসেইরাত এলাকায় একটি জানাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ব্যক্তির জন্য জানাজাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই দিনই একই এলাকায় ভিন্ন একটি ইসরায়েলি হামলায় সে ব্যাক্তি নিহত হন। এ ছাড়া গাজার অন্যান্য এলাকায় পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩ জন নিহত হন। ফলে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সারাদিনে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২ জনে পৌঁছেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নুসেইরাতের হামলাকে শোকাহত মানুষের ওপর চালানো একটি নৃশংস গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হামাস। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং জাতিসংঘের প্রতি গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর একটি সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে হামলায় অসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে ঘোষণা দেয়। এতে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যদিও যুদ্ধবিরতির ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে, তবুও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED জানিয়েছে, গাজায় জুন মাসে ৪০টিরও বেশি ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায়ও হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংস্থা এবং কয়েকজন বিশ্বনেতা এই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে চলতি বছরের শেষ দিকে খাদ্যসংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে সংকটজনক খাদ্য অনিরাপত্তায় ভোগা মানুষের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশটির ৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৫ লাখ ২ হাজার শিশু (প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে একজন) তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ২১ হাজার গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীও অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) গ্লোবাল হাঙ্গার মনিটর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭৮ হাজার শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। যা অপুষ্টির সবচেয়ে মারাত্মক ধরন এবং তাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সংকটজনক খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।
এছাড়া জরুরি খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ২৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে থাকা সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।
সেভ দ্য চিলড্রেনের মাদাগাস্কার প্রতিনিধি তাতিয়ানা দাসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু-সহনশীল সহায়তার জন্য মানবিক তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্ভিক্ষপ্রবণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের লেবারপন্থী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে আগামী দিনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
জানা যায়, বার্নহ্যামের দলীয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্ভাব্য এ প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। জনসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তার সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী হলেও নিজেকে বদলে ফেলবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ করবেন এবং জনগণের কাছাকাছি থেকেই নেতৃত্ব দেবেন।
লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অন্যতম জনপ্রিয়। জনমত জরিপেও লেবার সমর্থকদের কাছে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত।
২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বার্নহ্যাম। ওই সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে, দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে আরও দুবার অংশ নিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। ২০১০ সালে তিনি এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হ্যারি পটার খ্যাত বিশ্বখ্যাত লেখিকা জে কে রাউলিং। যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তার জন্য ৬০ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ লেখিকার প্রতিষ্ঠিত একটি সেবাকেন্দ্রকে ‘অধিকার-বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেয় সংস্থাটি। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘চ্যারিটি কমিশন’।
সম্প্রতি অ্যামনেস্টির যুক্তরাজ্য শাখা ‘এ গ্রোয়িং থ্রেট: দ্য অ্যান্টি-রাইটস মুভমেন্ট ইন দ্য ইউকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে রাউলিংয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘বেইরাস প্লেস’ নামক সেবাকেন্দ্রটিকে অধিকার-বিরোধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রাউলিং লেখেন, ‘সংবাদমাধ্যমের যেসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয় আমি কোনো বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছি, সেগুলো দেখে সাধারণত আমি হেসেই উড়িয়ে দিই। কিন্তু এবার অ্যামনেস্টির এই আক্রমণ আমাকে এমন এক ক্ষোভে পুড়িয়েছে যা প্রতি ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।’
চতুর্মুখী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ওয়েবসাইট থেকে বিতর্কিত প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে প্রতিবেদনটি ভুলবশত আপলোড করা হয়েছিল। এতে ব্যবহৃত ভাষা অ্যামনেস্টি ইউকে-এর প্রকৃত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায় না।
এদিকে ‘বেইরাস প্লেস’-এর প্রধান নির্বাহী লেসলি জনস্টন অ্যামনেস্টির এই পদক্ষেপকে ‘নিন্দনীয় এবং গভীর আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্যাতিত নারীদের সহায়তায় যারা দিনরাত কাজ করছেন, তাদের এভাবে অধিকার-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
২০২২ সালে হ্যারি পটার রচয়িতা জে কে রাউলিং এই সেবাকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেন্দ্রটি মূলত যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি ও মানসিক সহায়তা দিয়ে থাকে। লেখিকা রাউলিং নিজে অতীতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারীদের জন্য নির্দিষ্ট একক লিঙ্গভিত্তিক স্থানের পক্ষে জোরালো কথা বলে আসছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ট্রান্স-অধিকার কর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সমালোচকদের একাংশ তার বিরুদ্ধে ট্রান্সফোবিয়ার অভিযোগ আনলেও রাউলিংয়ের দাবি, তিনি কেবল নারীদের অধিকার রক্ষার্থেই সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।
যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু না হলেও আইনগতভাবে তাদের কোনো ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানছে ইরান। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির তেল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুনার বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থাপনাটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুয়েত দমকল বাহিনী জানিয়েছে, সকালে হামলার পর দুটি জায়গায় আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর সময় আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজের সময় শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালিয়ে যায় তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা পূর্ণ যুদ্ধে নামব। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের
আইআরজিসি’র সতর্কবার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীর উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছে, তারা এর দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য দায়ী করে আইআরজিসি জানায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিধ্বংসী জবাবের মুখে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটেছিল এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী।
বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুপক্ষ নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। সামরিক সংঘর্ষে নিজেদের পরাজয় আড়াল করতে তারা যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয়েছে। হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, বন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করে, মার্কিন বর্বরতার বিরুদ্ধে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়। তাই, আগ্রাসনের জবাব দেওয়া ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তবে তারা জানায়, আপাতত তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা সীমিত রেখেছে যাতে ওয়াশিংটন তার অমর্যাদাকর নীতি পরিবর্তনের সুযোগ পায়।
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে টানা ২১ দিন ধরে অনশনে থাকা সমাজকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে (৫৯) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে তিনি এই অনশন শুরু করেন। শনিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী সভামঞ্চ ঘিরে ফেলে, পরে স্ট্রেচারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চলতি বছরের মে মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম সংকটে পড়েন। এ ঘটনার প্রতিবাদে যুব সমাজ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
তাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন। ওয়াংচুকের এই আন্দোলন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ তার এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
টেলিভিশনে সম্প্রচারে দেখা যায়, শনিবার সকালে অনশনস্থলে সাদা কাপড়ের চাদর দিয়ে মঞ্চটি আড়াল করে পুলিশ ওয়াংচুককে বের করে নিয়ে যায়। ডিসিপি শচীন শর্মা গণমাধ্যমকে জানান, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশনা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।
তবে হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করার এবং প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেন। অনশনস্থল থেকে ওয়াংচুককে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুলিশ অন্য আন্দোলনকারীদেরও সরিয়ে দেয়।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তারা সোনম স্যারকে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে গেছে...। ৬০ বছর বয়সি একজন মানুষ, যিনি ২০ দিন ধরে কিছুই খাননি, তাকে দিল্লি পুলিশ এভাবে বলপ্রয়োগ করে নিয়ে গেল। তারা তাকে কোথায় রেখেছে, আমরা জানি না।
এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিজিৎ নিজেও আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, আগামী ২০ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে তারা সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।
ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা বাড়ছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সপ্তম রাতের অভিযানে তারা ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হামলা করা হয়েছে।
এদিকে ইরান শনিবার নতুন করে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি ও রয়টার্স।
সেন্টকমের দাবি, এ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য, কুয়েতের আল-আদিরি শিবির ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। এর আগে বাহরাইন ও কাতার উভয় দেশই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছিল।
মার্কিন হামলায় ইরানের ২০ গ্রামে বন্ধ পানি সরবরাহ
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের অন্তত ২০টি গ্রামে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেস্যালিনেশন) প্ল্যান্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্প ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ তীব্র পানিসংকটে পড়েছে।
শনিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম হরমোজগান প্রদেশের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হামজেহ পোরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে অবস্থিত একটি পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেস্যালিনেশন) স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের পাম্পিং স্টেশন এবং প্ল্যান্টের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে অন্তত ২০টি গ্রামে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে দুই পক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। এসময় চারটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, একটি জাহাজ অচল এবং আরেকটিতে ওঠার কথা জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করায় চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে থামানো হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথে চলাচল করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে পুড়ে যায়। তবে সেন্টকম এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সার তো দূরের কথা, ‘এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও’ রপ্তানি হবে না।
ইরানে হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু ও একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক শহরে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার পর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানীয়জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। এ ছাড়া ইয়াজদ, আহভাজ, সিরিক, খোররমাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর খামির এলাকায় সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হন। সেখানে একটি রেলস্টেশনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তেলের দাম বেড়েছে
হরমুজ প্রণালীতে কার্যত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারের বেশি ছিল, যা এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইরানের হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘের উদ্বেগ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান আবারও ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’ শুরু করবে। তার ভাষ্য, ইরান আর ‘যেমন কর্ম তেমন প্রতিক্রিয়া’-তে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান ও অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্রের ভাষ্য, এ ধরনের হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির জন্য পাইপলাইন চালু করছে ইরাক। এ লক্ষ্যে দেশটি বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক সরকার পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে একটি হলো একটি জ্বালানি সরবরাহপথ পুনরুদ্ধার করা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাগদাদ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই তেল রপ্তানি করতে পারবে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যখন বাগদাদ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এ প্রণালীতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নৌযান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনটি পুনর্নির্মাণের জন্য ইরাক ও সিরিয়া একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাইপলাইনটি উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রধান মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন এ চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পাইপলাইনটি পুনর্বাসনের জন্য ইরাক ও সিরিয়ার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক বাস্তবায়ন করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, পুনর্বাসনের পর এই পাইপলাইন দিয়ে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। তারা এই পাইপলাইনটিকে ইরাকের তেল উৎপাদনকে ভূমধ্যসাগরীয় রপ্তানি বাজার এবং এর বাইরের অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে অভিহিত করেছে।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, ইরাকের সর্বশেষ তেল পাইপলাইন-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো নতুন যোগাযোগব্যবস্থা উন্মোচন করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।
কোম্পানিটির করপোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং বলেন, সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্প ছাড়াও শেভরন তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরাকের সঙ্গে আরও দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংকের সঙ্গে ইরাক সরকারও একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে ইরাকি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ওয়াশিংটন সম্মেলনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, আমরা উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছি। যাদের প্রকল্প আছে, তারা আমাদের কাছে এসে কথা বলতে পারেন। আমরা কারও জন্য কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করব না।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়াতে বড় ধরনের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই সামরিক পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় যে অভিযান চলছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত আকারে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। এ ছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনের ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, সেখানে ইরান নতুন করে সামরিক অবকাঠামো তৈরি করছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে তিনি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করা।’
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হামলার মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ আসতে পারে। ইতোমধ্যে টানা পাঁচ দিন ধরে হরমুজ প্রণালী ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসের আশপাশে অন্তত সাতটি সেতুতে হামলা হয়েছে। এই এলাকাকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। দেশটির দাবি, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় সমানসংখ্যক বিমান রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েক ডজন বিমান আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়নকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছে, কারণ অন্যান্য ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে এসব মার্কিন বিমান বেন গুরিয়নে অবস্থান করায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিমানগুলো কোথায় রাখা হবে সে ব্যবস্থা ইসরায়েল সরকারকেই করতে হবে।
চলতি গ্রীষ্মকালে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। এই তাপপ্রবাহে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ১৫ দিনে বেলজিয়ামে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষের। বেলজিয়ামের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিয়েনসানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, গত ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ঘটেছে এসব মৃত্যু। খবর আনাদোলুর।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়াতে। তারপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে রাজধানী ব্রাসেলস এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ফ্ল্যান্ডার্স। বিবৃতিতে সিয়েনসানোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে দেশে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর রেকর্ড রাখছে সংস্থাটি।
সেসব রেকর্ডের তথ্যানুযায়ী, এ বছরই প্রথম তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট হিটস্ট্রোক ও শারীরিক জটিলতায় বেলজিয়ামে এত বেশিসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বেলজিয়ামে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ২০২০ সলে। সে বছর ১ হাজার ৫৫৭ জনের প্রাণহানি হয়েছিল দেশটিতে।
গত জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অর্থায়নে পরিচালিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া উপাত্ত অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সিংহভাগই—অর্থাৎ প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি—ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের মধ্যে।
সাধারণত অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোক ছাড়াও হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যার বড় শিকার হন মূলত বয়োবৃদ্ধরা।