বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সন্ধ্যায় শোনা যেতে পারে নতুন পোপের নাম: গিওভান্নি বাতিস্তা

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৮ মে, ২০২৫ ১৭:৩৯

আজ সন্ধ্যায় নতুন পোপ নির্বাচিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন কলেজ অব কার্ডিনালের ডিন গিওভান্নি বাতিস্তা রে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) ইতালীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আজ সন্ধ্যায় যখন আমি রোমে ফিরব, ততক্ষণে সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হবে।’

সকালে একবার কার্ডিনালরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। দুপুরের আগে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে চিমনি দিয়ে।

গিওভান্নি বাতিস্তা রের বয়স এখন ৯১ বছর। পোপ হওয়ার জন্য আশি বছরের কম বয়স হতে হবে। যে কারণে তিনি কার্ডিনালের কনক্লেভে অংশ নিতে পারেননি। পোপ হওয়ার যোগ্য ১৩৩ কার্ডিনালকে নিয়ে গঠিত কলেজ অব কার্ডিনালস।

কোনো ধরনের মনোযোগ নষ্ট হওয়া ছাড়াই যাতে প্রার্থনা ও ধ্যান করতে পারেন, পাশাপাশি পোপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, সে কারণে ভ্যাটিকানের ভেতরে কার্ডিনালদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।

নতুন পোপ নির্বাচিত হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সকাল ও বিকালে নিয়মিত ভোট হবে।

ভোট হওয়ার পর একটি বিশেষ স্টোভে ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কালো ধোঁয়া বের হওয়ার অর্থ হচ্ছে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, অর্থা পোপ নির্বাচিত হননি। আর সাদা ধোঁয়া বের হলে বুঝতে হবে নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন।

পোপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রার্থী নেই। তবে বেশ কয়েকজন কার্ডিনাল আছেন, যারা পোপ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

তাদের মধ্যে আছেন, কনক্লেভের দেখভাল করা কার্ডিনাল পিয়াত্রিও প্যারোলিন, এশিয়ান ফ্রান্সিসখ্যাত কার্ডিনাল লুইস তাগলা, কঙ্গোর রক্ষণশীল কার্ডিনাল ফ্রিডোলিন এমবোঙ্গো বেসুঙ্গু ও ইতালীয় পিয়ারবাতিস্তা পিজ্জাবালা।

এদিকে নতুন পোপের নাম শোনার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককেই। রোমের বাসিন্দা প্রিসিলা পার্লান্তি বলেন, ‘এই অপেক্ষা অসাধারণ।’


হরমুজে জাহাজ পাহারার ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:৩৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালু করেছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। এ তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বিরতি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’। ট্রাম্প বলেন, “আমরা পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছি যে, অবরোধ পূর্ণমাত্রায় কার্যকর থাকলেও, চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না তা খতিয়ে দেখতে স্বল্প সময়ের জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত রাখা হবে।”

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রোজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

এ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যুদ্ধে ‘ধারাবাহিক ব্যর্থতার’ কারণে হরমুজ থেকে ‘পিছু হঠছেন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পরিবহন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবরোধ জারি করে ইরান, যার ফলে প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় শতাধিক জাহাজ আটকা পড়ে।

পরবর্তীতে এসব জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের লক্ষ্যে ৪ মে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা এখন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।


পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা

* তৃণমূল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার * বিজেপির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ * বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে কলকাতায় এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড় এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনে বিজয়ী আইএসএফ নেতা-কর্মীরা রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। বিশেষ করে নিমকুড়িয়া গ্রামে তৃণমূল সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ফিরোজ মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী তৃণমূল কর্মী জানান, আইএসএফ-এর বুথ সভাপতির নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ফিরোজের মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া বেঁওতা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ ওই পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইএসএফ বা বিজেপি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক নামে এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবক নির্বাচনের দিন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পরিবারের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে বাড়ির সামনেই তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ জানায়, বিশ্বজিতের পকেট থেকে একটি ভাঙা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বেলেঘাটা থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং কললিস্ট যাচাই করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোট চলাকালীন বড় কোনো প্রাণহানির খবর না থাকলেও ফলাফল পরবর্তী এই সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পুরোনো সংঘাতময় চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজেপির কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

ভোটের ফলপ্রকাশের পর হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত।

স্থানীয় এবং বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাকে তৃণমূল আশ্রিত ব্যক্তিরা খুন করেছে বলে অভিযোগ।

উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন যাদব। পরিবার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক। রাজ্যজুড়ে বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন যাদব। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েক জন। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় যাদবকে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে যান ঘটনাস্থলে।

এরপর রক্তাক্ত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা এলাকায়। ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এক জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে তার নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি।


চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের মধ্যাঞ্চলে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৬১ জন আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (৫ মে) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে হুনান প্রদেশের লিউয়াং এলাকার লিউয়াং হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পাহাড় ঘেরা একটি গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।

ঘটনার পর সিসিটিভির ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, যেখানে আগে ভবন ছিল সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন।

অক্ষত থাকা কিছু ভবন থেকেও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই ছাদ উড়ে গেছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ৪৮০ জনেরও বেশি উদ্ধারকারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলের আশেপাশের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই পুলিশ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আটক করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

লিউয়াং চীনের একটি প্রধান আতশবাজি উৎপাদনকেন্দ্র। এখানে চীনের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া আতশবাজির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং বিদেশে রপ্তানি করা আতশবাজির ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

গত বছর হুনানের অন্য একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালে উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরের আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হুবেই এবং জিয়াংসু প্রদেশের আতশবাজির দোকানে পৃথক দুটি বিস্ফোরণে যথাক্রমে ১২ জন এবং ৮ জন নিহত হন।


পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিহত ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের একাধিক শহরে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এই হামলায় মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হামলায় কথিত ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ ও নিরাপত্তা সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। যাতে ১০ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য এবং আরো ৪ জন কথিত ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ নিহত হয়েছেন।

বেলুচিস্তান প্রদেশের খারান, ওয়াশুক, আভারান, কেচ ও মাস্তুং জেলায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএনআইর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির মুখপাত্র মেজর গওহরাম বেলুচ জানান, এসব অভিযানে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের চেকপোস্ট, সামরিক ক্যাম্প, সামরিক বহর, সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যাদেরকে ‘ডেথ স্কোয়াড এজেন্ট’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ বলা হয়।

বিএলএফ দাবি করে, খারান শহরের গাজি রোডে একটি ফ্রন্টিয়ার কর্পস চেকপোস্টে রকেট ও গ্রেনেড লঞ্চার দিয়ে হামলা চালানো হয়। সেখানেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ওয়াশুকের নাগ-গ্রারি এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এতে দুজন ‘সশস্ত্র এজেন্ট’ নিহত হয়েছে। সেখান থেকে অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল জব্দের কথাও জানায় গোষ্ঠীটি।

আভারানের তিরতিজ এলাকায় একটি প্রধান সামরিক ক্যাম্পে স্নাইপার হামলা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। একই এলাকায় একটি সামরিক বহর ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ওপর হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা সরকারি কোনো সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ সামরিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক উপস্থিতিই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সোমবার (৪ মে) হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান, কয়েকটি ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। যদিও তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন রণতরীকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ফুজাইরাহতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। যদিও ঘটনার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ড্রোন হামলা ও রহস্যজনক বিস্ফোরণের মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী শিপিং ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো সংকট নিরসনের স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা:

হরমুজ প্রণালীতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। সোমবার ওমানের খাসাব বন্দর থেকে ইরানের উপকূলের দিকে যাত্রা করা বেসামরিক ওই জাহাজ দুটি মাঝপথে হামলার শিকার হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে।

তাসনিমের বরাতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার যে দাবি করেছিল, সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে নতুন এই হামলার তথ্য সামনে আসে। ঘটনার পরপরই দুই দেশের মধ্যে দোষারোপ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নৌকাগুলো বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছিল এবং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ইরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

তেহরান জানিয়েছে, সোমবার কোনো ইরানি নৌযান ধ্বংস বা আক্রান্ত হয়নি। বরং তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজ দুটি ওমান থেকে পণ্য নিয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী হওয়ায় এখানে যেকোনো সংঘাত বা হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষা ও নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ পরিস্থিতিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

হরমুজ প্রণালীতে সহিংসতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে সহিংসতা ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ফলে হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে তেলের দাম।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।


আমিরাতে বন্দরে হামলায় আগুন, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাটি ইরানের পরিকল্পিত কোনও হামলা নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা। এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতাকে’ দায়ী করেছেন তিনি। মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সামরিক বাহিনীর ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবিকে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‌‌‘উল্লিখিত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার কোনও পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছিল না। যা ঘটেছে তা মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুঃসাহসিকতার ফল; যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর সংরক্ষিত জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করা।’

তিনি বলেন, এ জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অবশ্যই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের অনুচিত প্রথা বন্ধ এবং এই সংবেদনশীল তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক দুঃসাহসিকতা থামাতে হবে। তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ইরানের এই স্পিকার বলেন, ‘তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই অপকর্ম অবশ্যই প্রশমিত হবে।’ গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয়। আর ইরান এখনো (পাল্টা ব্যবস্থা) শুরুই করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকার ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অধিকৃত ভূখণ্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ৪০ দিনব্যাপী ১০০ দফার এই পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইরানের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পরবর্তীতে এই জলপথে আরও বিধিনিষেধ আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের শর্তজুড়ে দেয় তেহরান। ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


মমতার পরাজয়ের কারণ কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরুর পর থেকে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস কেন পরাজিত হয়েছে? বামদের ‘দুর্গ’ পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপি ‘ভূমিধস জয়’-পেল?

নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনে বেশকিছু কারণ আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে একটি ব্যাপার হলো, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক) নামক একটি পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে জরিপের কাজ করাতো তৃণমূল কংগ্রেস। আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন প্রশান্ত কিশোর, যিনি নিজে বিহারে রাজনীতি করছেন। অতীতে তার পরামর্শ তৃণমূল কংগ্রেসকে নানাভাবে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর সেই প্রতিষ্ঠানে নেই। সেই কারণে আই-প্যাক যথাযথ পরামর্শও দিতে পারেনি। তাই পশ্চিমবঙ্গের মতো জটিল সমীকরণের একটি রাজ্যে আই-প্যাকের ওপর অতি নির্ভরতায় বিপদে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, মুসলিম ভোটের ওপর অত্যাধিক নির্ভরতা। অতীতে মুসলিম ভোটের ৭৫-৮০ শতাংশ তারা পেয়েছে। এবারও তারা ভেবেছিল মুসলিমদের ৮৫-৯০ শতাংশ ভোট পাবে। কিন্তু নতুন দুটো দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও মুর্শিদাবাদের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি মুসলিমদের ভোট নিজেদের দিকে নিতে সফল হয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ফল পাওয়া যায়নি। পেলে দেখা যাবে তারা কত শতাংশ ভোট টানতে পেরেছে।

এরপর আসে হিন্দু ভোট। কোনো দল যখন হিন্দু ভোটের ৫৫ শতাংশ পায়, তারা জয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এখন পর্যন্ত বিজেপির নিশ্চিত জয়ী ও এগিয়ে থাকা আসন বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬০-৬৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হিন্দু ভোট পেয়েছে দলটি।

সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘ভূমিধস’ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বিজেপি। এর মাধ্যমে একটি বিষয় আবারও প্রমাণ হতে যাচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মানুষ যাকে দেয়, তাকে ঢেলেই দেয়।

বিজেপির জয়ে উদ্বেগ

বিজেপির জয়ে নতুন সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমন উদ্বেগের জায়গাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, উত্তর ভারতের দল বিজেপি কীভাবে বাঙালির মনন-সংস্কৃতির সঙ্গে মিশবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান জনসংখ্যা রয়েছে। বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল কীভাবে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে মিশবে?

সবশেষ চ্যালেঞ্জ হলো, ভবিষ্যতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কতটা শেকড় গাড়তে পারবে। কারণ, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বামপন্থি রাজনীতির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় তারা কী করবে, কীভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।

আর প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ২ হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত আছে। এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুপ্রবেশসহ সীমান্ত ইস্যুতে কীভাবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও কাজ করবে, এর ওপরেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করবে।

কেউ যদি মনে করে থাকে যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কেবল গত ৫-৬ মাস কাজ করেছে, সেটা কিন্তু ঠিক নয়। গত ৩-৪ বছর ধরেই তারা গভীর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যেটা তারা সেভাবে প্রকাশ করেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণেই তারা আজ জয়ের পথে।

দ্বিতীয় ব্যাপার হলো, তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। একইসঙ্গে দলের ভেতরে বিভাজন দেখা দিয়েছিল। ফলে সেটার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাতা দেন, তারা ক্ষমতায় এলে সেটা দ্বিগুণ করে দেবে। এই ঘোষণা গ্রামের মানুষকে ব্যাপক হারে আকর্ষিত করেছে। ধরুন, একটা পরিবারে চারজন থাকলে তারা জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা পাচ্ছে। বিজেপি এলে তারা ১২ হাজার টাকা পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটা বড় ব্যাপার। বিজেপির জয়ের পেছনে তাদের এই ক্যাম্পেইনটিও সফলভাবে কাজ করেছে।

আবার স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করে প্রায় ২৭ লাখ ‘বহিরাগত’ ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটিও বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। নমিনেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এবার বাইরের কাউকে বাছাই করেনি। পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয়দেরই মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। গতবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতাদের তারা মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেটাও তারা দেয়নি। এটিও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।


পদত্যাগ না করার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, বিজেপির কাছে এই পরাজয় জনমতের স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়, বরং এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও কেন্দ্রীয় শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগ করছেন কবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মমতা জানান, এখনই তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?

তিনি বলেন, যেখানে লড়াইটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছিল, সেখানে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়া মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা।

রাজনৈতিক মহলে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা চললেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। বরং এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।


হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় আঘাত হেনেছে। সোমবার ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে নিশ্চিত করেছে।

তবে ইরানের এই দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে বাধা দিতে এসেছিল আইআরজিসির ছয়টি নৌযান। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সেই নৌযানগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের এই সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন দাবির পর তাঁরা একটি নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করেছেন। সেই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, আইআরজিসির কোনো সামরিক নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং ওমান থেকে ইরানগামী সাধারণ যাত্রীবাহী দুটি ছোট নৌকাই মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় নৌকা দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন আরোহী প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারার মাধ্যমে পারাপারে সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এই অভিযানের ফলে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বারবার পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির দাবি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


কেরালায় বাম দুর্গে মুসলিম তরুণীর বিজয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কেরালার রাজনীতিতে ৪৬ বছরের অজেয় দুর্গের পতন ঘটিয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) তরুণ নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। সোমবার (৪ মে) ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, কোজিকোড জেলার পেরাম্বরা আসনে তিনি ক্ষমতাসীন এলডিএফ জোটের কনভেনার ও হেভিওয়েট নেতা টি পি রামকৃষ্ণানকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে তাহলিয়া কেবল নিজের দলের প্রথম নারী বিধায়ক হওয়ার গৌরবই অর্জন করেননি, বরং ১৯৮০ সাল থেকে সিপিআইএমের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা এই আসনে হানা দিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। পেশায় আইনজীবী ও হিজাব পরিহিত এই লড়াকু তরুণীর বিজয়কে কেরালার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বামপন্থিদের জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

ফাতেমা তাহলিয়ার এই জয়ের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট নির্বাচন কমিশনে নালিশও করেছিল। তবে সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তাহলিয়া আইইউএমএলের ছাত্র সংগঠন এমএসএফের নারী শাখা ‘হারিতার‘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের ভেতর নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে সাহসী কথা বলে বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসা এই তরুণী এখন কেরালা বিধানসভায় আইইউএমএলের নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পেরাম্বরার সাধারণ মানুষ প্রথাগত রাজনীতির বাইরে একজন শিক্ষিত, আধুনিক ও প্রতিবাদী তরুণীকে বেছে নিয়ে কেরালার ক্ষমতার ভারসাম্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


তেল স্থাপনায় ইরানি হামলার পর আমিরাতের হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা এমিরেতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় গত সোমবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে পরিচালিত এই হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে তেল শোধনাগার ও ডিপো সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। আহতদের শরীরে মাঝারি ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ত্বরিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এই আক্রমণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনো প্রকার দ্বিধা করবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলার যথাযথ ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এবং সক্ষমতা আমিরাত রাখে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকারের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইরান থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আমিরাতের বিমান বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দিয়ে সাগরে পতিত হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ইরানের ড্রোনগুলো হানা দেয়।

ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনটি আমিরাতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে অসংখ্য তেল শোধনাগার এবং বৃহদাকার তেলের ডিপো রয়েছে যা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। উল্লেখ্য যে, এই হামলাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি এই আঘাতের পর আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে।


চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ২১, আহত ৬০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হতাহতদের অধিকাংশই বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে কর্মরত ছিলেন এবং অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়া নিশ্চিত করেছে।

বিস্ফোরণটি লিউইয়াং শহরের হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানির ওয়ার্কশপে ঘটে। শহরটি চীনের আতশবাজি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ড ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বিস্ফোরণ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কারখানার আশপাশের ৩ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, কারখানার অদূরেই কালো বারুদের দুটি বড় গুদাম থাকায় এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে এবং জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে বেইজিং প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী আতশবাজি রপ্তানিতে চীন একক আধিপত্য বজায় রেখে আসছে। ২০২৫ সালে চীনের কোম্পানিগুলো প্রায় ১১৪ কোটি ডলারের আতশবাজি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর যত আতশবাজি বিক্রি হয়, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই উৎপাদিত হয় চীনে। এই শিল্পের বিশাল বিস্তৃতির পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কারখানার কারিগরি মান নিশ্চিত করা এখন চীন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিল ওপেক প্লাস জোটের ৭ দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দৈনিক তেল উত্তোলন বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস জোটের সাতটি প্রভাবশালী সদস্যরাষ্ট্র। গত সোমবার এক অনলাইন বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, কুয়েত, আলজেরিয়া, ইরাক, কাজাখস্তান এবং ওমান সম্মিলিতভাবে এই পরিকল্পনায় ঐকমত্য পোষণ করে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশগুলো চলতি মাস থেকে শুরু করে আগামী জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিক্রমে নেওয়া এই উদ্যোগটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উত্তোলন বৃদ্ধির পরিমাণটি আগে আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকগুলোতে আটটি সদস্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে গত ২৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা সংশোধন করতে হয়েছে। আমিরাতের অনুপস্থিতির কারণে উত্তোলনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করে ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনই মূলত ওপেক প্লাসকে এই সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জোটটি এতদিন উৎপাদন কমিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তবে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে বাজার পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছেন না। ব্রিটিশ জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’-র মতে, বর্তমানে তেলের দাম বাড়ার পেছনে পণ্যের ঘাটতির চেয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়াই প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। অর্থাৎ, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই এখন বাজারের জন্য বেশি জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, ওপেক প্লাসের এই পদক্ষেপকে বাজারের অস্থিরতা কমানোর একটি জোরালো প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই তেল উৎপাদন বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন অনেকখানি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপর। আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন এই সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী জুন মাসের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


banner close