ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ সেনা অভিযানের পাল্টা জবাব দিতে ‘অপারেশন বুনিয়ান উন মারসুস’ শুরু করেছে পাকিস্তান। এ অভিযানের আওতায় ইতোমধ্যে শুক্রবার রাতে ভারতের ১১টি সামরিক স্থাপনায় ২৬ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
শুক্রবার (৯ মে) রাতে ভারতের বারামুলা থেকে ভূজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এসব হামলা চালানো হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক অভিযানটির নাম ‘অপারেশন বুনইয়ান–উন–মারসুস’ রাখা হয়েছে। আরবি ভাষার এ শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘সুদৃঢ় প্রাচীর’।
জানা যায়, শুক্রবার রাতের হামলায় ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের বারামুলা জেলার উরি শহরে ভারতীয় সেনবাহিনীর একটি ব্রিগেডের হেডকোয়ার্টার এবং সরবরাহ বা রসদ ডিপো, নাগরোটা শহরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি ব্যাটারি ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের মন্ত্রণালয়ের দাবি, পাকিস্তান থেকে চালানো সন্দেহভাজন সশস্ত্র ড্রোন বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। বারামুল্লা, শ্রীনগর, অবন্তীপোরা, নাগরোটা, জম্মু, ফিরোজপুর, পাঠানকোট, ফাজিলকা, লালগড় জাট্টা, জয়সলমীর, বারমের, ভুজ, কুয়ারবেত এবং লক্ষী নালার কাছে ওই ড্রোনগুলো দেখা গেছে।
তারা আরও জানায়, ফিরোজপুরের একটি বেসামরিক এলাকায় একটি ড্রোন থেকে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ওই হামলায় স্থানীয় অনেক বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসছে। বিবিসির সাংবাদদাতারা ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগর এবং জম্মু শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে এই বিস্ফোরণের উৎস শনাক্ত করা যায়নি।
গত ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারায়। এই হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে মঙ্গলবার রাতে দেশটির ২৪টি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এতে পাকিস্তানে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন ৪৬ জনের বেশি। এর প্রতিশোধে পালটা হামলা চালিয়ে ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান এবং ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে দেশটিতে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।
আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে। ওই মাসে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে আটকের নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন ট্রাম্প। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটকের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করা হয়েছে। ডিএইচএসের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অভিযানটি শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল বলেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনো কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাদের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে।
সারদার মোহেবি বলেন, ‘আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালী শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি উপাদান।’
তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সব শর্ত ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালী অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।’
এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে, সে বার্তাই দিল তেহরান। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে—এমন ধারণাও নাকচ করেছে আইআরজিসি।
ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় একটি বেসরকারি বাস উল্টে নিচের সড়কে পড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। নিহতদের মধ্যে বাসটির চালক ও কন্ডাক্টরও রয়েছেন।
শনিবার সকালে চাম্বা জেলার বৈরাগড়-তিসা সড়কের চালুঞ্জ মোড়ের কাছে দেবিকোঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি বৈরাগড় থেকে চাম্বার দিকে যাচ্ছিল।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, শর্মা বাস সার্ভিসের বাসটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৈরাগড় থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং নিচের একটি সড়কের ওপর গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালক ও কন্ডাক্টরসহ মোট ১৮ জন ছিলেন। কয়েকজন যাত্রী বাসটির নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), হোম গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের চাম্বার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চাম্বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে চীনের বারবার দাবি তোলার জবাবে এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। রাজ্যটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে ভারতের সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলোর মানসম্মত ভারতীয় নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো এসব এলাকার সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।’
চীন দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের দাবি করে সেখানকার স্থানগুলোর চীনা নামকরণ করে আসছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি বারবার জোর দিয়ে বলেছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে।’
ভারতের নতুন অফিশিয়াল মানচিত্রে স্থান পাওয়া ২৭টি এলাকার মধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা’ (এলএসি) সংলগ্ন ‘লং জু’ এলাকা, যা ১৯৫৯ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রাথমিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। পাশাপাশি আপার সুবানসিরি জেলার ‘মাজা’ গ্রামকেও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক গিরিপথ: ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের সূচনালগ্নের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র ‘থাগ লা’ গিরিপথ। এ ছাড়া বিসা গ্রাম, জো লা, রিজা লা এবং পুকুর লা-এর মতো উঁচু পর্বতের সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পথসমূহ।
রসদ সরবরাহ কেন্দ্র: চ্যাংলাং জেলার ‘জয়রামপুর’, যা পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ: তাওয়াং রোডে অবস্থিত ১৯৬২ সালের যুদ্ধে নিহত জাসওয়ান্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিবিজড়িত ‘জাসওয়ান্তগড়’ এবং প্রয়াত মেজর ত্রিলোক সিং থাপার স্মরণে নির্মিত ‘শের-ই-থাপা মেমোরিয়াল’।
অন্যান্য ভৌগোলিক স্থান ও গ্রাম: উঁচু পাহাড়ের জলাশয় ‘সংভো সরোবর’, ‘বড় কুন্দুন’, ‘ছোট কুন্দুন’, ধান বাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর, সাগর, পদ্মা, জ্যোতি নগর, বৈশাখী, ছোট রোপুক, বড় রোপুক, শিবাজী নগর, সুনপুরা, কামলাং অভয়ারণ্যের সংলগ্ন কামলাং নগর এবং বুদ্ধ মন্দির।
চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে থাকে। ২০১৭ সালে চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের চীনা নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের চীনা নামের তালিকা প্রকাশ করে বেইজিং।
নয়াদিল্লি শুরু থেকেই চীনের এসব তথাকথিত ‘কাল্পনিক নাম দেওয়ার’প্রচেষ্টাকে সরাসরি নাকচ করে আসছে। ভারত সরকারের মতে, ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত সত্যকে বদলে দেওয়া যাবে না, বরং চীনের এমন আচরণ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রদেশে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডলফিন’। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তাই, পূর্ব-সতর্কতা হিসেবে উপকূলবর্তী বন্দর ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে চীন।
ডলফিনের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ০৩:০০ জিএমটি পর্যন্ত টাইফুনটি ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ডলফিন টাইফুন ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল।
ওকিনাওয়া প্রদেশের সরকার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাপানের দুই বড় অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা এএনএ ও জাপান এয়ারলাইনস ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। টাইফুনে আহত পাঁচজনই বয়স্ক। তাদের কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। প্রবল বাতাসের কারণে তিনজন পড়ে গিয়ে আহত হন।
জাপানে ওকিনাওয়া এবং কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপপুঞ্জকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চীনে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ডলফিন রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝোউশান শহর থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুডিং শহরের মধ্যবর্তী এলাকা আঘাত হানতে পারে। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৫ থেকে ১০১ মাইল বা প্রায় ১৩৭ থেকে ১৬২ কিলোমিটার হতে পারে।
এছাড়া, পূর্ব চীনে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস বয়ে যেতে পারে। সাংহাই ও আশপাশের প্রদেশগুলোতেও এর প্রভাবে পড়তে পারে। পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এমন অবস্থায় ঝেজিয়াং উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বন্দর কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট স্থগিত করা হয়েছে।
ঝেজিয়াংয়ের নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, শনিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং রোববার সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকেও শুক্রবার রাতের মধ্যে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলের কিছু রেল পরিসেবাও স্থগিত থাকবে।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তাইওয়ানে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে সপ্তাহান্তে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে, শনিবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শপথ গ্রহণ করেছেন। ৪৮ বছর বয়সি এই নেতা জুনের রান-অফ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি মাদকপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর এবং অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে মিতব্যয়ী আর্থিক নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় দে লা এসপ্রিয়েলা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, রাষ্ট্রীয় ব্যয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো এবং তেল-গ্যাস খাত পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একসময় আইনজীবী হিসেবে কাজ করা এই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ভোটের আগে ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে তিনি কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
শপথ গ্রহণের পর কালির পিচিঞ্চা ব্যাটালিয়ন সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া ভাষণে দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, আমি এসেছি এক জাতির আত্মসমর্পণের মানসিকতা ও হতাশার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভাগ্যের সবচেয়ে বড় রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করতে চাই। এর আগে পার্শ্ববর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বিশিষ্ট অতিথি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি শপথ নেন।
তিনি আরও বলেন, কলম্বিয়ার জনগণকে দৃঢ় বার্তা দিতে চাই। শৃঙ্খলা, কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। এবারের নির্বাচনে তিনি বামপন্থী ইভান সেপেদাকে পরাজিত করেন। সেপেদা বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ এবং তার রাজনৈতিক দল থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন।
দে লা এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’বলে পরিচয় দেন। প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থাকার সময় তিনি বলেছিলেন, আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হব, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, সবাইকেই। ১৯৯১ সালের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংবিধানের সুরক্ষায়ই কাজ করবেন।
তার জয় লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের অংশ। পেরু, আর্জেন্টিনা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও পানামায় দুর্বল অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান অপরাধ পরিস্থিতির কারণে ভোটাররা দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন। এর ফলে কঠোর দমনমূলক নীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে একসময় পিছিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীরা এখন জনসমর্থন আদায় করছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যই বাইরের হুমকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ‘প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তি’ প্রমাণ করেছে। আরাগচি বলেন, ‘মুসলিমরা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন আমরা ক্ষতিকর বহিরাগতদের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ সরাসরি মোকাবিলা করতে পারি। এখন সময় শুধু নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধকে ধারণ করার।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির কর্মকর্তারা বিদেশি শক্তির পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এ ছাড়া শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে শুক্রবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্রমেই উপলব্ধি করছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরুর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে পরে সমুদ্র নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা থমকে যায়।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা খুব শিগগিরই একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে তেহরান এখন তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা শিগগিরিই একটি চুক্তির আশা করছি। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দূর করার লক্ষ্যে একবার চুক্তি ঘোষণা করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে।’
তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ এবং ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করছে তার ওপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানি জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই তিনি একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছেন।
সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই অস্থায়ী চুক্তির বিষয়ে ইরান তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, খুব শিগগিরই এই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ‘এমএস নাউ’ (সাবেক এমএসএনবিসি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা চুক্তি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কেবল তখনই এই চুক্তিতে সমর্থন দেবে যদি এতে কোনো ধরনের ফি এবং ‘বাধা’ (যেমন কোনো পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা) না থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের পথটি ইরান এবং বহির্গমনের পথটি ওমান নিয়ন্ত্রণ করবে। তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-ও যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-এর সদস্য দেশগুলোও এই চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরেই এই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা খবর আসছিল। প্রাথমিকভাবে এটি ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী চুক্তি হবে। এই সময়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এর আগে গত জুনেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভেস্তে যায়।
হরমুজ নিয়ে ইরান–ওমান সমঝোতা শিগগিরই
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। শুক্রবার রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালীর দুই পাশে থাকা ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন আবার শুরু হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। আমরা শিগগিরই একটি চুক্তি হওয়ার আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘কোনো বাধা ছাড়াই’ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে চুক্তি ঘোষণা হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
তবে ইরান নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কিনা, তার ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তেলবাহী জাহাজ থেকে কর বা মাশুল আদায় এবং অনুমতি ছাড়া প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতেও।
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। তবে প্রতিবারই ইরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। ফলে এবারের আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে সম্পাদিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির মূল ভিত্তি হলো— ‘তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সামরিক হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।’ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সাত দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে একচ্ছত্র প্রভাব ও ‘নিরাপত্তা ছাতা’ ছিল, তা শিথিল হওয়ার এটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মূলত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকট নিরসনে এই তিন আঞ্চলিক পরাশক্তি নিজেদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিগত দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রধান ভরসাস্থল ছিল ওয়াশিংটন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় রিয়াদ বা অন্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ওয়াশিংটনের একতরফা পদক্ষেপ এবং প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইসরায়েলের সুরক্ষায় সরিয়ে নেওয়া সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলোকে বিচলিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈদেশিক নীতির ঘনঘন পরিবর্তনের ফলে আঞ্চলিক দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য একক কোনো পরাশক্তির ওপর আর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। এই প্রেক্ষাপটেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প খোঁজার প্রচেষ্টা হিসেবে এই ত্রিদেশীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
এই জোটটি নিছক কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং এটি তিন দেশের ভিন্নধর্মী ও শক্তিশালী সামরিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তান তাদের অভিজ্ঞ বিশাল সেনাবাহিনী ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মাধ্যমে কঠোর সামরিক প্রতিরোধের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। অন্যদিকে, ন্যাটো মানের সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের বিশ্ববাজার দখলে রাখা তুরস্ক অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যোগান দেবে। আর সৌদি আরব তাদের বিশাল অর্থনৈতিক মূলধন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই জোটের আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করবে। এই ত্রিভুজীয় শক্তির সংমিশ্রণে মধ্যপ্রাচ্যে এখন একটি স্বতন্ত্র নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠছে।
মক্কা চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এখন তিনটি প্রধান মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রয়েছে সরাসরি সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষ। অন্যদিকে রয়েছে তেহরানকেন্দ্রিক বিভিন্ন সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত ইরানি প্রতিরোধ অক্ষ। আর তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানকেন্দ্রিক এই স্বায়ত্তশাসিত জোট, যা পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে থেকে নিজস্ব কৌশলগত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে কাগজে-কলমে এই জোট অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মতো প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পাকিস্তান বা তুরস্ক কতটা সরাসরি যুক্ত হবে কিংবা ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের সীমাবদ্ধতা এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা এই জোটের কার্যকারিতায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে যে, রিয়াদ ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলো এখন থেকে পশ্চিমা অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করবে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য কোনো নতুন সংঘাত শুরু করা নয়, বরং তেহরান ও তেল আবিব উভয় পক্ষকেই এই বার্তা দেওয়া যে— একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করলে সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। সর্বোপরি, এই জোট ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেকোনো আলোচনায় সুন্নি মিত্র দেশগুলোকে তুলনামূলক শক্তিশালী দর-কষাকষির অবস্থানে নিয়ে যাবে। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তা নিশ্চিতভাবেই ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের অবসান ঘটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল জোগানোর অভিযোগে রাশিয়া থেকে তেল ও জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সক্ষমতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। ‘রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামক এই বিলটি শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিপুল জনসমর্থনে অনুমোদিত হয়। ১০০ সদস্যের এই সভায় ৮৬ জন সদস্য বিলটির সপক্ষে অবস্থান নেন এবং বিপক্ষে ভোট দেন মাত্র ১১ জন। বাকি ৩ জন সিনেটর ভোট দান থেকে বিরত ছিলেন। এই বিলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহাম।
বিলের মূল প্রস্তাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, “ইউক্রেন যুদ্ধের সময় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ব্যাপক মাত্রায় তেল ও জ্বালানি পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে রাশিয়াকে যুদ্ধের তহবিল সরবরাহ করেছে — যুক্তরাষ্ট্র চাইলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেসব দেশের ওপর ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে।” এই আইন কার্যকর হলে বিশেষ করে ভারত ও চীন বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়াও রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াও এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সিনেটের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের অধিবেশনে এটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যাবে এবং তার স্বাক্ষরের মাধ্যমেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ নেবে। প্রস্তাবিত এই আইনে কেবল জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, বরং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির প্রভাবশালী ধনকুবের ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপের বিষয়টিও এতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে সংঘাত প্রশমনের পথ খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেনারেল কেইন আশঙ্কা করছেন যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি করলে তা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে না, বরং ইরানের পক্ষ থেকে আরও ভয়াবহ পাল্টা হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে। তার মতে, কেবল বিমান হামলার ওপর নির্ভর করে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য করা অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ।
সিএনএন-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল কেইন বিষয়টি নিয়ে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য যে, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার একটি পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও মিত্র দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সেই অভিযান থেকে সরে আসেন।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর অস্ত্রের মজুত নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের পর্যাপ্ততা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও জেনারেল কেইন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় ক্ষতি করতে সক্ষম, তবে তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সমাধান খুঁজছে যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে এবং একই সাথে কূটনীতির পথও খোলা রাখবে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি বিশালাকার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সল্টলেক সিটি থেকে প্রায় ১৬০ মাইল দূরে রিচফিল্ডের পার্বত্য এলাকায় গত শুক্রবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের হেলিকপ্টারটি গত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট আগুন নেভানোর কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। দুর্ঘটনার সময় আকাশযানটিতে দুজন আরোহী ছিলেন, তবে তীব্র আগুনের কারণে উদ্ধারকারী দল এখনও দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করার কথা জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না।
অন্যদিকে ওরেগন অঙ্গরাজ্যে দাবানল মোকাবিলার সময় ৪৭ বছর বয়সী এক বুলডোজার চালক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ‘রাইটস স্প্রিং’ নামক দাবানলটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে আটকা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওরেগনের দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হওয়া এই আগুনটি ইতিমধ্যেই বিশাল এলাকা পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুনের আচরণ এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, যা অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম তুষারপাত এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। উটাহর ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টের ১৬৫ বর্গমাইল এলাকা ইতিমধ্যেই ভস্মীভূত হয়েছে এবং মাত্র ১৯ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জীবনবাজি রেখে ৬০০-এর বেশি দমকলকর্মী নিরন্তর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন। এর আগে গত জুন মাসেও কলোরাডোর দাবানলে চারজন দমকলকর্মীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় একজন শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর ওই শিক্ষার্থী নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল।
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা দেচরাপি কংদি জানান, হামলাকারী প্রায় ১৪ বছর বয়সি নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি স্কুল ভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে গুলি চালায়। কয়েক দফা গুলিবর্ষণের পর সে নিজের ওপরও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।
হামলায় নিহত শিক্ষক ছাড়াও আহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক এবং তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শ্রেণিকক্ষে লুকিয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা তাদের ধাপে ধাপে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ঘটনার পর পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য ও কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্রের নাগাল পেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ বন্দুক ও ছুরি হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।