সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১৬ ভাদ্র ১৪৩২
জেনারেল অনিল চৌহান

চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৫ ১২:০১

ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান তথা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ ডিফেন্স অব স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান বলেছেন, বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের অভিন্ন স্বার্থের কারণে ভারতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। গত মঙ্গলবার তিনি এই কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিল চৌহান বলেছেন, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে স্বার্থের সম্ভাব্য অভিন্নতা ভারতের ‘স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর’ গুরুতর ‘প্রভাব’ ফেলতে পারে। ভারতীয় থিংকট্যাংক অবজারভার ফাউন্ডেশনের এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক দুর্দশাকে বাইরে শক্তিগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি ভারতে দুর্বলতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

জেনারেল চৌহান বলেন, ‘চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এমন একটি সম্ভাব্য স্বার্থের মিল থাকতে পারে, যা ভারতের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’ তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে চীন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কতটা রাষ্ট্রীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তিনি বলেছেন, সংঘর্ষের সময় উত্তরের সীমান্তে (চীনের দিকে) কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড লক্ষ করা যায়নি।

অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জেনারেল চৌহান বলেন, সম্ভবত এই প্রথমবার দুটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, ভারত ঘোষণা করেছে, পারমাণবিক হুমকি দিয়ে বাধা দেওয়া যাবে না।

জেনারেল চৌহান আরও করেন, অপারেশন সিঁদুর এক ধরনের ‘বিশেষ ঘটনা’ এবং এটি সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষা হতে পারে। তিনি বলেন, যুদ্ধে আরও বিস্তৃতি সম্ভব, যা নতুন যুদ্ধক্ষেত্র যেমন সাইবার ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতে পারে।


গাজা সিটি ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

গাজায় ইসরায়েলি হামলা জোরদার, একদিনেই নিহত ৭৭
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন রুটি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ ও জোরপূর্বক উচ্ছেদ অভিযানের মুখে গাজা নগরী ছেড়ে শত শত ফিলিস্তিনি পালাচ্ছেন। হাতে গোনা সামান্য মালপত্র ট্রাক, ভ্যান ও গাধার গাড়িতে তুলে তারা এলাকা ছাড়ছেন।

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিম দিকে দেইর আল-বালাহর কাছে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাবু ফেলতে শুরু করেছে। এদের অধিকাংশকেই একাধিকবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে।

আগস্টের শুরু থেকে ইসরায়েলি সেনারা হামলা জোরদার করেছে গাজা সিটতে। শহর দখল ও প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান— এমন আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)।

গত শুক্রবার ইসরায়েল জানায়, তারা নগরী দখলের ‘প্রাথমিক ধাপ’ শুরু করেছে এবং এটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে।

গত শনিবার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই দিন একদিনেই গোটা গাজায় ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু গাজা নগরীতেই নিহত ৪৭ জন। এর মধ্যে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন রুটি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়।

অন্যদিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবাসিক ভবনে হামলায় সাতজন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ‘গাজা নগরীজুড়ে হামলা আরও বাড়ছে। ঘরবাড়ি, কমিউনিটি সেন্টার সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনধারার ভিত্তি ভেঙে পড়ছে। এ সব ঘটছে যখন মানুষ দুর্ভিক্ষ, অনাহার আর পানিশূন্যতার মধ্যে রয়েছে। পুরো পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ে গড়াচ্ছে।’

গাজা সংঘাতে ৯০০ ইসরায়েলি সেনা নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার লড়াই চলাকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) এক রিজার্ভ সদস্য নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত সৈনিক সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস (রিজার্ভ) এরিয়েল লুবলিনার (৩৪)। তিনি চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত হওয়া ৯০০তম ইসরায়েলি সেনা।

তার মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করা হচ্ছে। আইডিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে, দুর্ঘটনাবশত অন্য একজন সৈনিকের ছোড়া গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

গাজার খান ইউনিসে নিহত হন লুবলিনার। তিনি উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত বিয়ালিকের বাসিন্দা ছিলেন। লুবলিনার প্রায় ১০ বছর আগে ব্রাজিল থেকে ইসরায়েলে আসেন। তার স্ত্রী বারবারা স্পেন থেকে আসা একজন অভিবাসী। লিওর নামে তাদের নয় মাস বয়সি একটি ছেলে আছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুবলিনারের রিজার্ভ ডিউটির পর্ব শেষ করার কথা ছিল এবং পরিবারটি ছুটি কাটাতে ব্রাজিল যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। জুন মাস থেকে তিনি এই পর্বে ডিউটিতে ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে উত্তর গাজার জায়তুন এলাকায় সাঁজোয়া যানে বোমা বিস্ফোরণে সাতজন ইসরায়েলি সেনা আহত হন। সেনাদের বহনকারী ওই যানটি একটি রাস্তার পাশে পুতে রাখা বিস্ফোরক যন্ত্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর, বাকিদের আঘাত আশঙ্কাজন নন। তাদের মধ্যে পাঁচ সেনাকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামাসের মুখপাত্রকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা

গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএন-এর গত শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা সিটিতে হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র আবু ওবায়দাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, গাজা সিটিতে হামাসের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, একাধিক হিব্রু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, হামাসের দীর্ঘদিনের মুখপাত্র হুদাইফা সামির আবদুল্লাহ আল-কাহলৌত, যিনি আবু ওবায়দা নামে পরিচিত, তাকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় তারা নির্ভুল গোলাবারুদ, আকাশপথে নজরদারি এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন আবু ওবায়দা। ইসরায়েলের এই দাবির বিষয়ে হামাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি সর্বদা মুখোশ পরে থাকেন এবং তার আসল পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে কারও কোনো তথ্য জানা নেই। এর আগেও ইসরায়েল বেশ কয়েকবার তাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে।

এদিকে, চিকিৎসা সূত্র জানায়, গত শনিবার ভোরে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ভবনটিতে নারী, শিশু এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছিল।


ইসরায়েলের ২১ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বেসিজ সংগঠনের প্রধান জানিয়েছেন, গত জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান দখলদার ইসরায়েলের ২১টি কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আর ইরানের এই টার্গেটগুলো এমন এক নির্ভুলতায় সম্পন্ন হয়েছে, যার ভ্রান্তি এক মিটারেরও কম। খবর মেহের নিউজের।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি গতকাল রোববার জানান, শত্রুপক্ষ ওই ১২ দিনের যুদ্ধ উসকে দিয়েছিল এবং একইসঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকেও সক্রিয় করেছিল। যাতে ভেতর থেকে ও বাইরে থেকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

তার ভাষায়, ‘এই ১২ দিনে আমরা জায়নিস্ট শাসনের ২১টি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছি। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভরসা করে আমরা আমাদের টার্গেট ব্যাংক সম্পন্ন করেছি, যার নির্ভুলতা এক মিটারেরও কম। আজ আমরা তাদের দুর্বল দিকগুলো পুরোপুরি জানি এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের প্রতিটি বর্গমিটারে কী ঘটছে সে সম্পর্কে অবগত’।

বেসিজ সংগঠনের প্রধান এ সময় সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি আবার কোনো আগ্রাসন ঘটে, তাহলে ইরান কেবল জায়নিস্টদের নয় বরং তাদের সমর্থকদেরও দায়ী করবে।

গোলামরেজা সোলেইমানি বলেন, ‘যান এবং খুঁজে দেখুন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে কত দেশ ইসরাইলকে রক্ষা করতে অংশ নিয়েছিল এবং কত হাজার টন বোমা ও বিস্ফোরক তারা একটি নিরস্ত্র জাতির ওপর বর্ষণ করার জন্য জায়নিস্ট শাসনকে দিয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে’।

গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও অঘোষিত আগ্রাসন শুরু করে, যা ১২ দিনের যুদ্ধকে উসকে দেয়। এই যুদ্ধে অন্তত ১,০৬৪ জন নিহত হয়, যার মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।

এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।

প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডজুড়ে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, পাশাপাশি কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতেও (যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি) আঘাত হানে।

গত ২৪ জুন ইরান তার সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপরই চাপে ফেলে এবং আগ্রাসন থামাতে বাধ্য করে।


সি আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দিলেন পুতিন ও মোদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

রাশিয়া ও ভারতের রাষ্ট্রনেতাসহ প্রায় ২০টি ইউরেশীয় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ চীনে পৌঁছেছেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর আমন্ত্রণে এক সম্মেলনে যোগ দিতে তারা তিয়ানজিনে একত্রিত হয়েছেন।

উদ্দেশ্য আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনকে কেন্দ্র বিন্দুতে রাখা।

তিয়ানজিন থেকে এএফপি জানায়, এই সম্মেলনের নাম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও), চলবে সোমবার পর্যন্ত। উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তিয়ানজিনে এই শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর কয়েকদিন পরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

এসসিও’র সদস্য দেশগুলো হলো- চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। এছাড়াও, আরও ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা ‘সংলাপ সহযোগী’ হিসেবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিয়ানজিনে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

চীন ও রাশিয়া এসসিও-কে প্রায়ই ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এ বছরের সম্মেলনটি প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার সিনহুয়াতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, এই সম্মেলন ‘সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ ও হুমকি মোকাবিলায় এসসিও-এর সক্ষমতা বাড়াতে এবং সমগ্র ইউরেশীয় অঞ্চলে সংহতি জোরদার করতে’ সহায়ক হবে।

পুতিন আরো বলেন, ‘এসব উদ্যোগ বিশ্বকে আরো ন্যায়পরায়ণ ও বহুমুখী শক্তির বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেবে।’

চীনের তাইওয়ান দাবি ও রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বেইজিং ও মস্কো এসসিও-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডিলান লো বলেন, ‘চীন দীর্ঘদিন ধরে এসসিও-কে একটি পশ্চিমাবিরোধী ক্ষমতাধর জোট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করে এই জোট এক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে যা আরো গণতান্ত্রিক।’

২০০১ সালে এসসিও প্রতিষ্ঠার পর এবারই জোটটির সবচেয়ে বড় আসর বসেছে। এতে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০জনের বেশি শীর্ষ নেতা।

লো আরও বলেন, ‘এত বিশাল সংখ্যক দেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে চীনের প্রভাব বাড়ছে এবং পশ্চিমা-বহির্ভূত দেশগুলোর জন্য এসসিও একটি আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের লিজি লি বলেন, বেইজিং এসসিও’র মাধ্যমে ‘প্রভাব বিস্তার করার এবং এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে যে ইউরেশিয়ার নিজের প্রতিষ্ঠান আছে এবং নিজের নিয়মে খেলা চলে।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘চীন এটিকে সার্বভৌমত্ব, একে অন্যের ওপর হস্তক্ষেপ না করা এবং বহুমুখী শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভিন্ন ধরনের এক ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটি এটিকে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে প্রচার করছে।

শনিবার তিয়ানজিনে সি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

পুতিন সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করবেন। সেখানে যথাক্রমে আলোচনা হবে ইউক্রেন সংঘাত এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে।

জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিম তাই ওয়েই বলেন, ‘বিশ্ব মঞ্চের একজন খেলোয়াড় হিসেবে এসসিও থেকে পাওয়া সব ধরনের সুবিধা রাশিয়ার প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সমর্থনও তার দরকার।’

লিম এএফপিকে বলেন, ‘রাশিয়া ভারতকেও নিজেদের পক্ষে টানতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বিরোধ এই সুযোগ তৈরি করেছে।’

এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী শনিবার তিয়ানজিনে পৌঁছান। এটি ২০১৮ সালের পর তার প্রথম চীন সফর।

বিশ্বের এই দুই জনবহুল দেশ দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রভাব বিস্তারে একে অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২০ সালে তাদের মধ্যে সীমান্তে এক প্রাণঘাতী সংঘর্ষও হয়েছিল।

গত বছরের অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে মোদী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এর মাধ্যমেই সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।


ইরানে এ বছর ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর : জাতিসংঘ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

জাতিসংঘ আজ শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি বছর ইরানে এ পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে ভয় দেখাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ইরান এ বছরের শুরু থেকে গতকাল ২৮ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।’ প্রকৃত পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু জুলাই মাসেই ইরান কমপক্ষে ১১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের দ্বিগুণ।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতিগত ধরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা এর শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শামদাসানি বলেন, ‘ইরানে এই মুহূর্তে ১১ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন নির্বাসিত বিরোধী দল পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন অব ইরানের (এমইকে) সদস্যপদ গ্রহণ করায় ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের’ অভিযোগে অভিযুক্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের জীবনের জন্য যে অধিকার রয়েছে, মৃত্যুদণ্ড তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।’


কমালা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার : হোয়াইট হাউস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, সিএনএন রিপোর্ট করেছে যে হ্যারিসের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক অনুমোদিত বর্ধিত সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার মেয়াদ বাতিল করেছে প্রশাসন।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার ছয় মাসের সুরক্ষার মেয়াদ ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।


মোদি ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’: ট্রাম্প

আমার ফোনেই থেমেছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বলেন তিনি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গত মে মাসে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা শুধু তার ফোনকলের মাধ্যমেই থেমেছিল।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত শুরু হলে আমি মোদিকে ফোন করি। তাকে জিজ্ঞেস করি, পাকিস্তানের সঙ্গে কী চলছে? আমি তাকে একজন অত্যন্ত ভয়ংকর মানুষ মনে করি। ফোনকলে তার রাগ ও ঘৃণা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। দুদেশের মধ্যে এই বৈরিতা অবশ্য বহু পুরোনো—শত শত বছরের শত্রুতার মতো।’
ট্রাম্প আরও জানান, সেই ফোনকলে তিনি মোদিকে সতর্ক করেছিলেন—আমি বলেছিলাম, আমি আপনাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যচুক্তি করতে চাই না। যদি সংঘাত পরমাণু যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে সেটাই আপনাদের পরিণতি হবে। আমি আরও বলেছিলাম, আগামীকাল যদি ফোন না করেন এবং সংঘাত না থামান তাহলে শুধু বাণিজ্যচুক্তিই বাতিল করব না, এমন শুল্ক আরোপ করব যাতে আপনাদের মাথা ঘুরে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। এরপর ৪ মে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’, যেখানে লস্কর-ই-তইয়বা (লেট) এবং জইশ-ই মোহাম্মদ (জেম)-এর ৭০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।
জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৭ মে শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’। পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে ভারতে ৩১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।
টানা পাঁচ দিন সংঘাত চলার পর ৯ মে দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ইসলামাবাদ এজন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিলেও নয়াদিল্লি সেই দাবি মানেনি।
সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দিল্লির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে। এই শুল্ক গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।


পাকিস্তানে বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারত চেনাব, রাভি ও শতদ্রু নদীতে পানি ছাড়ার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বন্যায় সিয়ালকোট জেলার সাম্বারিয়ালে একই পরিবারের পাঁচজন মারা গেছেন। গুজরানওয়ালা বিভাগে ১৫ জন, গুজরাটে ৪ জন, নারোয়ালে ৩ জন এবং হাফিজাবাদ জেলায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে কাসুর, নারোয়াল ও পিন্ডি ভাটিয়ান এলাকার শত শত গ্রাম। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে শত শত গবাদি পশু এবং কয়েক হাজার একর ফসল। বাহাওয়ালনগরে ডুবে গেছে বহু বাড়িঘর।

চেনাব নদীর পানি প্রবেশ করেছে চেনিওট ও ওজিরাবাদের বহু গ্রামে। লাহোরের শাহদারায় রাভি নদীতে পানির প্রবাহ ১ লাখ ৪৫ হাজার কিউসেক ছাড়িয়েছে, আর জাসারে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার কিউসেক। তবে লাহোর কমিশনার জানিয়েছেন, শীর্ষ প্রবাহ পেরিয়ে গেছে এবং পানির স্তর কমতে শুরু করেছে।

শতদ্রু নদীতেও একাধিক স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গণ্ডা সিং ওয়ালায় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার কিউসেক, আর হেড সুলেমানকিতে ১ লাখ ৯ হাজার কিউসেক। চিশতিয়ানে প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে ছয়টি রক্ষাবাঁধ। এতে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় সাত হাজার একর ফসল নষ্ট হয়েছে।

বাহাওয়ালনগরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত একশর বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৯০ হাজারের মতো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে অস্থায়ী বাঁধ, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও মাঠের ফসল।

স্থানীয় কৃষকরা ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়বে।


গাজা সিটির নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক

ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
আপডেটেড ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা সিটির আরও ভেতরে নতুন এলাকায় ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা চালিয়ে ধ্বংস করছে সেখানকার বাড়িঘর। পালাতে বাধ্য হচ্ছে বাসিন্দারা।

এর মধ্যেই গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গাজা সিটি জয় করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এ শহর খালি করতেই হবে।

গাজা সিটির বাসিন্দারা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের ট্যাংক গাজা সিটির উত্তর প্রান্তে ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ঢুকে গোলা ছুড়ে। এতে অনেকে আহত হয়। বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয় অনেক বাসিন্দা।

৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, ‘হঠাৎ খবর এল এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে লাগল। আমরা দেখলাম মানুষ আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতি না হলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির সামনেই এসে পড়বে।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে নতুন অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের শেষ ঘাঁটি সেখানে অবস্থিত বলেই দাবি তাদের।

অপরদিকে, গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের অর্ধেকই এখন এই শহরে বাস করছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সবাইকেই সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে শহরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা গত বুধবার বলেছেন, তারা সরে যাবেন না। কারণ, দক্ষিণে পালানো মানে মৃত্যুদণ্ডের সামিল।

ওদিকে, গত বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি বলেছেন, ‘গাজা সিটি খালি করাটা অনিবার্য। আমি নিশ্চিত করে জানাতে চাই, দক্ষিণাঞ্চলে বিশাল ফাঁকা এলাকা রয়েছে। মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির এবং আল-মাওয়াসিতেও ফাঁকা জায়গা আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, হোয়াইট হাউজে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে। তিনি বলেছেন, এ বছর শেষেই যুদ্ধের অবসান হবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে বৈঠক করছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে।

গত বুধবার ইসরায়েলের ট্যাংক আবার গাজা সিটির প্রান্ত থেকে জাবালিয়া এলাকায় ফিরে যায়। যদিও গাজার পূর্বদিকের শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ বছর বয়সী এক শিশুও আছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল’ করছে। গত ২২ আগাস্ট পশ্চিম গাজার সাধারণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রধান মাহমুদ আল-আসওয়াদকে হত্যা করার কথাও জানিয়েছে সেনারা। তবে হামাস তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ জোরাল হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলজুড়ে হাজারো মানুষ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করে।

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনও সাড়া দেয়নি। তবে হামাস গত সপ্তাহে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর জবাবে ইসরায়েল সেদিন থেকেই গাজায় যুদ্ধ শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধে গাজার প্রায় সব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

গাজায় ২৩৩ ইমামকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে বেড়েই চলেছে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ধ্বংস। টার্গেট করা হচ্ছে মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম, ইসলাম ধর্মের প্রচারকদের। অবকাঠামোর ধ্বংসের কারণে মসজিদ ও উপাসনালয়হীন হয়ে পড়েছে অনেক পাড়া-মহল্লা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৩৩ জন ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারককে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস করেছে ৮২৮ মসজিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৬৭টি মসজিদ। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বোমা হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে তিনটি চার্চ, হত্যা করা হয়েছে ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানকে।

গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল থাওয়াবতেহ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ ও প্রতিরোধের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করতে, ঈমান জাগ্রত রাখতে এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হত্যা ও নির্মূল করার মাধ্যমে মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলের অপরাধগুলো চিহ্নিতকারী আওয়াজ নিস্তব্ধ করা হচ্ছে।

শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অতীতের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন হচ্ছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিচয় এবং সমষ্টিগত স্মৃতি মুছে ফেলার এই প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।

গাজায় অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু

ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলায় গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ। এই উপত্যকাটিতে অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশ করতে না পারায় শিশুদের ক্রমবর্ধমানভাবে না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।


চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি অংশ নেবেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রধান দেশগুলোর কোনো শীর্ষ নেতা এতে যোগ দিচ্ছেন না।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে কিমের প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে কিম এ সফর যাচ্ছেন। তবে তিনি কতদিন চীনে অবস্থান করবেন কিংবা শি জিনপিং, পুতিন বা অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আগামী বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন ইরান, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নেতারাও। কুচকাওয়াজে চীনের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি ভাষণ দেবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ নেতা পুতিনের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতার এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান সহায়তাকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালেও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে চীনের সহায়তা অপরিহার্য। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেই কিমের এ সফর।

কিমের চীন সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কূটনীতি শুরুর প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের প্রস্তাব এখনো প্রত্যাখ্যান করে চলেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিলে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিয়ের সঙ্গে বৈঠককালে অতীতের কিমের সঙ্গে নিজের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা ভীষণ উপভোগ করেছিলাম। মনে আছে, আমি যখন সীমান্ত রেখা পার হয়েছিলাম, সবাই তখন উত্তেজনায় ফেটে পড়েছিল।’

প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে কিম তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে একাধিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন।


যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যৌন অপরাধ করে ভারতীয়রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দণ্ড সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দণ্ডের সংখ্যা ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ থেকে ১০০ মামলায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬৬ শতাংশ ও ইরাকের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংখ্যাগুলো পৃথক অপরাধীর নয়, বরং দণ্ড প্রদানের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুতর অপরাধের দণ্ডে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছে, ২০২১ সালের ২৭৩ থেকে ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালে ৫৮৮ ঘটনায় পৌঁছেছে। আলজেরীয় ও মিসরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে আরো বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২৯৩ জন ভারতীয় নাগরিক ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ২০৬ জন প্রবেশ করেছে।

এর পরও ভারতীয়রা অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে একটি ছোট অংশ। সবচেয়ে বেশি আফগানিস্তান, ইরান ও সিরিয়ার নাগরিকদের দেখা গেছে।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলোতে অবৈধ আগমনের ১৫ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের। পাঁচ হাজার ৪৭৪ জন ভারতীয় আশ্রয় আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় চার হাজার জন বৈধ ভিসাধারী (প্রধানত শিক্ষার্থী ভিসা), ৪০০ জন ছোট নৌকা ব্যবহার করে প্রবেশকারী এবং বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে গিয়ে আবেদন করেছে।

প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তে দুই হাজার ৬৯১টি প্রত্যাখ্যান, ২০টি মঞ্জুর ও বাকিগুলো বিচারাধীন।

গণমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় নাগরিকরা বৈধ অভিবাসনেও শীর্ষে রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ায় সর্বাধিকসংখ্যজ কাজ ও পর্যটন ভিসা পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী ভিসা প্রাপ্তদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রুপ। গত জুন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ১৪ জন প্রধান আবেদনকারীকে শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে আরো দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে সব বিদেশি নাগরিকের যৌন অপরাধে দণ্ড চার বছরে ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছরে যৌন অপরাধের দণ্ডের সাত ভাগের এক ভাগ (১৪.১ শতাংশ) বিদেশি নাগরিকরা পেয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে একই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে দণ্ড ৩৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এই তথ্যগুলো পুলিশ ন্যাশনাল কম্পিউটার (পিএনসি) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোল থিংকট্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া। ২০২৫ সালে শুধু ছোট নৌকায় প্রায় ২৭ হাজার ৯৯৭ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের প্রথম আগমনের পর থেকে একই সময়ে সর্বোচ্চ।


গ্রিনল্যান্ডের নুক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

গ্রিনল্যান্ডের নুক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। আজ বুধবার ডেনিশ পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, দূরের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন রানওয়ে চালুর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্লাইট বন্ধের ঘটনা ঘটলো।
কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত বছরের নভেম্বরে নুক বিমানবন্দরে নতুন রানওয়ে চালু করা হয়। এর ফলে বড় আকারের বিমানগুলো অবতরণ ও উড্ডয়নের সুযোগ পায় এবং দূরের যাত্রায় ভ্রমণকারীদের আইসল্যান্ড হয়ে বিমানে ওঠার ভোগান্তির অবসান ঘটে।
নুক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট রয়েছে।
কিন্তু, গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দরের সময়সূচি অনুসারে, আজ বুধবার সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী এবং ১১ টা ৫০ মিনিটে ডেনমার্কের বিলুন্ড শহরগামী দু’টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ডেনিশ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স উইন্ডফেল্ড এএফপিকে বলেন, ‘নুক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার জন্য আমরা গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দরকে নির্দেশনা দিয়েছি। সেখানে নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা কর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত এবং বিমানবন্দরটি নিজস্ব পদ্ধতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা মেনে চলতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।’
তবে, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

উইন্ডফেল্ড বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দর এখন মন্ত্রণালয়কে জানাবে যে, কখন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পুনরায় নিশ্চিত করতে পারবে তারা।


ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় চিঠি: ফেমার কর্মীদের বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা)’র কয়েকজন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ঐসব কর্মী প্রকাশ্যে সংস্থার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করায় প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ঘূর্ণিঝড় হারিকেন ক্যাটরিনার ২০তম বার্ষিকীতে সোমবার একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন ফেমার ১৮০ জন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মচারী। চিঠিতে তারা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে নেওয়া বাজেট কাটছাঁট, কর্মীদের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য সংস্কারের কারণে আবার সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার কারণে ২০০৫ সালের হারিকেন মোকাবিলায় ফেমার ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

চিঠিটি ১৮০ জন পাঠালেও মাত্র ৩৬ জন নিজেদের নাম প্রকাশ করেছেন। বাকিরা প্রতিশোধের ভয়ে পরিচয় গোপন রেখেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ই-মেইল পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, প্রায় ৩০ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, ফেমার কর্মীদের পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে যে তাদের অবিলম্বে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে তারা ‘কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তবে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা চালু থাকবে।’

এ বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে আবার ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি ফেমা বিলুপ্ত করতে চান এবং রাজ্যগুলোকে ‘নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করতে’ দিতে চান।

তিনি সংস্থাটিকে অদক্ষ বলে অভিযোগ করছেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলছেন, ফেমা রিপাবলিকান শাসিত রাজ্যগুলোর প্রতি ব্যাপক রাজনৈতিক পক্ষপাত করে।

২০০৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে হারিকেন ক্যাটরিনা মার্কিন উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। এতে লুইজিয়ানার নিউ অরলিয়েন্স শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এই দুর্যোগে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দুর্যোগে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে তৎক্ষণাৎ সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং বিভ্রান্তিকর যোগাযোগের কারণে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রক্রিয়া তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

এর পরের বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উন্নতি আনতে ‘পোস্ট-ক্যাটরিনা ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ (পিকেইএমআরএ) নামে একটি আইন প্রণয়ন করে কংগ্রেস।

সোমবার পাঠানো খোলা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ‘দুই দশক পরে ফেমা আবার এমন প্রক্রিয়া ও নেতৃত্ব কাঠামো চালু করছে যেসব প্রতিরোধ করার জন্যই পিকেইএমআরএ আইনটি তৈরি করা হয়েছিল।’

চিঠিতে কর্মীরা কংগ্রেসকে অনুরোধ করেছেন যাতে ফেমাকে একটি মন্ত্রিসভা পর্যায়ের স্বাধীন সংস্থায় পরিণত করা হয় এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বরখাস্ত’ থেকে এটিকে রক্ষা করা হয়।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের ব্যয় সংক্রান্ত বিধিনিষেধ চালুর কারণে ফেমা’র ‘দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কমে গেছে’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোয়েম নির্দেশ দিয়েছেন, ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের প্রতিটি ফেমা চুক্তি, অনুদান ও কাজ নিজে যাচাই করবেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘জুলাই ২০২৫-এ টেক্সাসের কেরভিলে বন্যার সময় এই নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ার প্রভাব ভীষণভাবে দেখা গেছে। তখন কাজ শুরু করতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়।’

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বাজেট কাটছাটের কারণে এই বছর ফেমা’র এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণকালীন কর্মচারি চাকরি ছেড়েছেন। মূলত ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’র বাজেট কমানোর নির্দেশনার কারণেই এমনটা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শনের মহড়া চীনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং আগামী সপ্তাহে চীনে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামে ২০-এর বেশি বিশ্বনেতাকে একত্র করবেন। এটি হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ‘গ্লোবাল সাউথ’–এর শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় মহড়া। একই সঙ্গে তা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার রাশিয়াকে আরেকটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনেও সাহায্য করবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনটি উত্তর চীনের বন্দর শহর তিয়ানজিনে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর মাধ্যমে সাত বছরের বেশি সময় পর চীনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হবে প্রথম সফর। দুই দেশ ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমানোর দিকে কাজ করছে।

শেষবার শি চিন পিং ও পুতিনের সঙ্গে মোদির একই মঞ্চে দেখা হয় গত বছরের ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার কাজানে। তখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে উপেক্ষা করেছিলেন। নয়াদিল্লিতে রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন যে মস্কো আশা করছে, শিগগিরই চীন ও ভারতের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হবে।

‘শি চিন পিং এ সম্মেলনকে ব্যবহার করতে চাইবেন একটি নতুন ও মার্কিন-নেতৃত্বাধীন নয় এমন এক বৈশ্বিক ব্যবস্থার চিত্র হিসেবে। তা ছাড়া, জানুয়ারি থেকে হোয়াইট হাউসের যেসব চেষ্টা চীন, ইরান, রাশিয়া এবং এখন ভারতকে মোকাবিলা করার জন্য করা হয়েছে, সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আনতে পারেনি’, বলেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দ্য চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার।

‘ব্রিকস ট্রাম্পকে কতটা চমকে দিয়েছে, তা দেখুন—এটি করার জন্যই মূলত এ ধরনের জোট করা হয়েছে’, বলেন এরিক ওল্যান্ডার।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেছেন, এ বছরের এসসিও সম্মেলন ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় হবে। তিনি বলেন, এই ব্লক একটি ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’।

প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাভিত্তিক এ ব্লক ছয়টি ইউরেশীয় দেশের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ১০টি স্থায়ী সদস্য এবং ১৬টি সংলাপ সহযোগী ও পর্যবেক্ষক দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে। কার্যপরিধিও নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতায় বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সম্মেলনে ‘সম্প্রসারণ’ অনেক দেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তাঁরা একমত যে বছরের পর বছর এই ব্লক সরাসরি ফলপ্রসূ সহযোগিতা দিতে পারেনি। তা ছাড়া, চীন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে সাউথ ব্লকের শক্তি প্রদর্শনের দৃশ্যমান অবস্থা দেখতে চায়, বিশেষ করে বর্তমানে যখন বিশ্ব রাজনীতি অস্থিতিশীল।

‘এসসিও ঠিক কোন লক্ষ্য নির্দেশ করে এবং এর বাস্তবায়ন কেমন—তা বেশ অস্পষ্ট। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বড় নেতাদের একত্র করতে পারে এবং তারা নিজেদের অবস্থান ও বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারেন’, বলছেন বেঙ্গালুরুর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটের ইন্দো-প্যাসিফিক রিসার্চ প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন মনোজ কেওয়ালরামানি। তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যার সমাধানে এসসিওর কার্যকারিতা খুব সীমিত।’

প্রধান সদস্য দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনো রয়েছে। গত জুনে এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সভায় যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়নি। কারণ, ভারত আপত্তি তুলেছিল যে এতে কাশ্মিরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর ২২ এপ্রিলের হামলার উল্লেখ নেই। ওই হামলা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দশকের সবচেয়ে বড় সীমান্ত সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়। সভায় ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের ঘটনায় এসসিওর নিন্দাতেও যোগ দেয়নি নয়াদিল্লি।

তবে সীমান্তে পাঁচ বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীন সম্প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে। এর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক চাপের প্রেক্ষাপটে, সম্মেলনের ফাঁকে সি ও মোদির মধ্যে ইতিবাচক বৈঠকের আশা তৈরি হয়েছে।

এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ‘ভারত সম্ভবত তার অহংকার চেপে রেখে ও এবারের এসসিও-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ভুলে গিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোবে। এখন মোদির জন্য এটাই বড় অগ্রাধিকার।’

বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, চীন–ভারত উভয় পক্ষ সীমান্তে আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে। যেমন, সৈন্য প্রত্যাহার, বাণিজ্য ও ভিসা সীমাবদ্ধতা শিথিল, জলবায়ুর মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সরকারি পর্যায়ে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন।

যদিও ওই সম্মেলন থেকে বড় কোনো নীতির ঘোষণা আসার কথা নয়, তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এ জোটকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না। ওল্যান্ডারের মতে, এই সম্মেলনের আসল গুরুত্ব হলো—এর দৃশ্যমানতা (বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি ও শক্তির প্রদর্শন)। এটি প্রকৃতপক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনের পর চীন থেকে মোদির দেশে ফেরার আশা করা হচ্ছে। আর পুতিন বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অবস্থান করবেন। রাশিয়ার বাইরে এটি হবে তার জন্য সচরাচর দৃশ্যমান নয়—এমন দীর্ঘ সময় কাটানো।

সূত্র: রয়টার্স


banner close