সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

‘জেন-জি' দের বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের লাদাখ

* সহিংসতায় নিহত ৪, কারফিউ জারি * চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি সরকার
বিক্ষোভ চলাকালে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একটি পুলিশের গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:১৭

ভারতের লাদাখে রাজ্য মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিকে ঘিরে চলমান আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। গত বুধবার লেহ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ-আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠায় লেহ শহরে কারফিউ জারি করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
লাদাখে এখন হাড় কাঁপানো শীত। হিমালয়ের সাড়ে ১১ হাজার ফিট উচ্চতায় ছিমছাম ছোট শহরে এখন বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। আলাদা রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ সংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে তরুণরা ফেটে পড়েছেন বিক্ষোভে। আগুন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে।
ভারতের হিমালয় অঞ্চলের লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরির কোটা, লেহ ও কার্গিলকে নিয়ে একটি লোকসভা আসনের দাবিতে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন করে আসছিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ ১৫ জন।
একসময় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আন্দোলনের ডাক দেয় লাদাখ অ্যাপেক্স বডি(এলএবির) যুব শাখা। পরে গত বুধবার এনডিএস মেমোরিয়াল গ্রাউন্ডে জমায়েত হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।
এরপর মিছিল নিয়ে তারা লেহ শহর প্রদক্ষিণ করার সময় বিজেপি সদরদপ্তর ও হিল কাউন্সিলের অফিসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে অবনতি হয় পরিস্থিতির।
তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করলে জনতা সহিংস হয়ে ওঠে। এরপর দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য।
এরপরই অনশনভঙ্গ করে বিবৃতি দেন সোনম ওয়াংচুক।
তিনি বলেন, ‘আমি সব যুবককে সহিংসতা থামিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা লাদাখ বা দেশে অস্থিরতা চাই না।’
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিক্ষোভের দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে শাসক দল বিজেপি।
বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য এক্সে একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, লেহ শহরের আপার ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর ফুনছগ স্তানজিন ছেপাগকে বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিতে দেখা গেছে।
এরপর বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সাম্বিত পাত্রা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ তুললেন, লাদাখে জেন জিয়ের নামে যে আন্দোলনের ছবি দেখানো হচ্ছে, তা আসলে কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র।’
পাত্রার দাবি, ওই কাউন্সিলরকে অস্ত্র হাতে বিজেপি কার্যালয়ের দিকে মিছিল করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘এটা আসলে রাহুল গান্ধীর নকশা, জর্জ সোরোসের সঙ্গে মিলে দেশকে অশান্ত করার চক্রান্ত।’
অন্যদিকে, এই অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘লাদাখে কংগ্রেসের এত প্রভাব নেই যে তারা পাঁচ হাজার তরুণকে রাস্তায় নামাতে পারে।’ তার দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ফল না মেলায় তরুণদের হতাশাই সহিংসতার বড় কারণ।
ওয়াংচুক আরও জানান, জেন জি প্রজন্ম এতদিন বিক্ষোভে সেভাবে অংশ নেয়নি। তবে গত বুধবার একসঙ্গে ২ থেকে ৫ হাজার তরুণ বিক্ষোভে যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এছাড়া দুজন বয়স্ক নাগরিকের আহত হওয়ার ঘটনা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করেছে। আর তাতে জ্বালানি জুগিয়েছে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবি, সঙ্গে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুত আলোচনার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্ত।
লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া ও ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করার দাবি ২০১৯ সালে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর থেকেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে বিজেপি এখন সেটিকে কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করে দায় মুক্তি চাইছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের।
লাদাখ ভারতের একটি কৌশলগত এলাকা, যা চীনের সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত শেয়ার করে। ২০২০ সালে ভারত-চীন সেনাবাহিনীর সংঘর্ষেও এই এলাকাই ছিল মূল কেন্দ্র।
এখন এই সীমান্তবর্তী এলাকায় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ভারতের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সিদ্দিক ওয়াহিদ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত ২০১৯ সালে নিয়েছিল, তারই ফল এখন ঘরে ঘরে আগুন হয়ে ফিরছে। আগে ছিল কাশ্মীর, এখন লাদাখও সরকারের মাথাব্যথা।


‘ইরান নিয়ে আলোচনাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়’

ভ্লাদিমির পুতিন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই আলোচনার গুরুত্ব কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় মস্কোর সমর্থন পেতে সোমবার ভোরে রাশিয়ায় পৌঁছান আরাঘচি। এর আগে, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। যে কারণে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান জানাতে শনিবার মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান সফরে যান আরাঘচি। ওমান সফর নিয়ে তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যা সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য উপকারী হবে।

ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসলামাবাদ সফরও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সেখানে তিনি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যকর রূপরেখা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বিষয়ে আসলে কতটা আন্তরিক সেটিই এখন দেখার বিষয়। আরাঘচির ওই মন্তব্যের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেন।

আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে উভয়পক্ষই এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে, লেবাননে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও দুই নারীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।


ইরানের হামলা: পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষতি

সৌদির একটি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক বিমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানি হামলায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম প্রাথমিকভাবে যতটা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে যা জানানো হয়েছে তার তুলনায় অনেক বেশি, এবং এসব ক্ষতি মেরামতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অঞ্চলটির একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত সাতটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরঞ্জাম সংরক্ষণের গুদাম, অপারেশন পরিচালনার কমান্ড সেন্টার, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

এছাড়া রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা এবং এমনকি কিছু বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামরিক চলাচল ও নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইরানের একটি পুরোনো এফ-৫ যুদ্ধবিমান শক্তিশালী মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন পর্যন্ত এই হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি। এমনকি ওই অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও ক্ষতির মাত্রা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

স্বচ্ছতার অভাবে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এক সহকারী জানান, তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে তথ্য চেয়ে আসছেন, কিন্তু এখনো পূর্ণ চিত্র জানতে পারেননি—বিশেষ করে এমন সময়ে যখন পেন্টাগন রেকর্ড পরিমাণ বাজেট চাইছে।

তিনি বলেন, ‘কেউ কিছু জানে না। আর এটা প্রশ্ন না করার কারণে নয়। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে জানতে চাইছি, কিন্তু নির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছি না—এমন সময়ে যখন পেন্টাগন রেকর্ড পরিমাণ বাজেট চাইছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ চেয়েছে। সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কার্যক্রমে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ৮৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে।

ইরানে আবার হামলার হুমকি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। দেশটির এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রতিরক্ষাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রচেষ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল আর ইরানে নতুন করে ইসরায়েলের হামলার হুমকিতে আবার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধিদল অবশ্য ইসলামাবাদ ছেড়ে গেছে। তবে ইরানের প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বৈঠকে বসার আগে তাদের দাবিগুলো পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ৩৯ দিনের হামলার পর ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। এতে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সেই পাকিস্তানেই ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রায় ২১ ঘণ্টা বৈঠক করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখানে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়নি। তাই ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের কারণেই মূলত দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর মধ্যেই প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে গত বুধবার তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে থেকে। এর অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটন বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটিতে আর কোনো হামলা হবে না—এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণসহ নানা বিষয়ে বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

আবার যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। কারণ, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। বিবিসির সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) জানানো হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ‘খামেনি যুগের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটাতে’তার দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবুজসংকেতের অপেক্ষায়’ রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার লক্ষ্য ইরানের সক্ষমতাকে সর্বাত্মকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

কাৎজের এ মন্তব্যকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কাৎজের ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের সামরিক ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী।

কাৎজ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, প্রধান মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় সাপেক্ষে সব ধরনের সামরিক পথই খোলা রাখা হয়েছে।


জাপানের ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভূমিধসের শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টা ২৩ মিনিট) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-পৃষ্ঠের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের কোনো তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হোক্কাইডো দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাপ্পোরো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী ঝাঁকুনির কারণে হোক্কাইডোর পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে বড় পাথর খসে পড়া এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই শক্তিশালী কম্পনের ঠিক এক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। জেএমএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহ এই অঞ্চলে একই ধরনের বা এর চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত সপ্তাহের সোমবারও হোক্কাইডোর আইওয়াত জেলায় ৭.৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, যার কম্পন কয়েকশ মাইল দূরে অবস্থিত রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয় এবং অন্তত ছয়জন আহত হন।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি ভূমিকম্প হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে যত ভূমিকম্প হয়, তার প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে সংঘটিত হয়ে থাকে। এই নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানের অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক ঘন ঘন কম্পন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


শিগগিরই ইরান যুদ্ধের অবসান দেখছেন ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে এবং এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই বিজয় অর্জন করবে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, তেহরান যদি প্রকৃতপক্ষে শান্তি চায় তবে তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এখন থেকে পরবর্তী সকল আলোচনা কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রতিনিধিদের বিষয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের আলোচকদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করলেও অনেকের মধ্যেই সেই বিচক্ষণতার অভাব রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান শেষ পর্যন্ত সঠিক ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, যেকোনো ধরনের ফলপ্রসূ আলোচনায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

আঞ্চলিক রাজনীতির আলোচনায় পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং ফিল্ড মার্শালকে ‘চমৎকার’ ও ‘সম্মানযোগ্য’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, পাকিস্তান-ভারত সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ১১টি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাব মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশটির প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের নৈশভোজে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প হামলাকারীকে একজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হামলাকারীর ম্যানিফেস্টো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সে অত্যন্ত অসুস্থ এবং তার মধ্যে খ্রিস্টানবিরোধী উগ্র মনোভাব কাজ করছিল। হামলাকারীর পরিবারও তার মানসিক সমস্যার বিষয়টি আগে থেকে জানত বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতায় হামলাকারীকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নিজে নিরাপদ আছেন বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।


যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ধ্বংস করল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রোববার এক বিবৃতিতে প্রাদেশিক আইআরজিসি বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে চলমান যুদ্ধবিরতি চলাকালীন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো আবিষ্কৃত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাঞ্জানে আইআরজিসির কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ‘তিনটি জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা এবং আরও একটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা।’

বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৫৭ এমওপি হলো ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের একটি অস্ত্র, যা মাটির গভীরে প্রোথিত সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা।

বিবৃতি অনুসারে, আইআরজিসি বাহিনী প্রদেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে দূষিত করার উদ্দেশে শত্রু যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি ছোট বোমাও শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছে।

সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরজিসি আরও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটও নিষ্ক্রিয় করেছে, যেগুলো এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল। যদিও সেগুলো অকার্যকর ছিল।

এছাড়া রকেটগুলোর মধ্যে ৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১০টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, বিবৃতিতে জিবিইউ-৩৯ টাইপ দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে, যেগুলো এর আগে প্রাদেশিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ভূপাতিত করা হয়েছিল।


মালিতে সশস্ত্র হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে চালানো হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার দেশটির একাধিক সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত শনিবার দেশটির কাটি শহরে সাদিও কামারার বাসভবনে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা হামলা চালান। শহরের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় চালানো ওই হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনও লক্ষ্যবস্তু করেন জঙ্গিরা।

মালিতে ২০২০ এবং ২০২১ সালে পরপর সংঘটিত দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন কামারা। মালি থেকে দীর্ঘদিন সংবাদ সংগ্রহ করা আল-জাজিরার নিকোলাস হক বলেন, ‘তিনি ক্ষমতাসীন সামরিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং কেউ কেউ তাকে মালির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখতেন।’

হক বলেন, ‘হামলাকারীরা কাটি শহরে কামারার বাসভবনে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই দুর্গসম সামরিক শহরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতাও বসবাস করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাটিকে দেশের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তা সত্ত্বেও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএমআইএন) এবং আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) তুয়ারেগ যোদ্ধারা সেখানে হামলা চালিয়েছেন।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গোইতা একটি সুরক্ষিত স্থানে নিরাপদে আছেন। হামলা শুরু হওয়ার সময় তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে তিনি সামরিক বাহিনীর কমান্ডে বহাল রয়েছেন।’ সশস্ত্র জঙ্গিরা মালির রাজধানী বামাকো ছাড়াও উত্তরের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেসহ আরও বেশ কিছু স্থানে হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, রোববারও কিদালে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হক বলেন, ‘অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও এখনো গোলাগুলি চলছে।’

বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি বলেন, ‘সম্ভবত আগামী দিনগুলোতে মালিতে বিভিন্ন অঞ্চল ও কৌশলগত সব অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে আরও লড়াই দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী আগে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ত, তারা এখন তাদের সাধারণ শত্রু মালির রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’

বুকার্তি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এই দুটি গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে লড়াই করছে। কিন্তু গত বছর তারা একজোট হয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঘোষণা দেয়। গত কয়েক দিনে আমরা যা দেখছি, তা মূলত সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন।’

মালিতে এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসির মহাসচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স।


ওমান সফর শেষে পুনরায় পাকিস্তান আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তান ছাড়ার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দেশটিতে সফরে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, ওমান সফর শেষে আরাগচি আজ রোববার সন্ধ্যায় পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। পাকিস্তান থেকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে রাশিয়া। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তাঁর এই ঝটিকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে এসেছিলেন আরাগচি। শনিবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তাঁর সেই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি ওমান সফরে চলে যান। পুনরায় পাকিস্তানে ফেরার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আরাগচি আজ ইসলামাবাদে এসে পুনরায় পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না। ইরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মাত্রারিক্ত এবং একপাক্ষিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দিলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

গত শুক্রবার আরাগচির সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ইতোমধ্যে ইরানে ফিরে গেছেন। সেখানে তাঁরা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ওই প্রতিনিধি দলটিও পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি বা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান।

সামগ্রিকভাবে, আব্বাস আরাগচির এই পুনরায় পাকিস্তান আগমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্দার আড়ালে কোনো একটি শক্তিশালী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বরফ গলানোর চেষ্টা করা হলেও দাবি-দাওয়ার অনড় অবস্থানই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার সফরের আগে ইসলামাবাদে আরাগচির এই যাত্রাবিরতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় কোনো কার্যকর অগ্রগতির খবর আসে কি না।


উইটকফ ও কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করেছেন। হোয়াইট হাউস থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করবে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই সফর স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামাবাদ না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা ফলাফল ছাড়া শুধু আলোচনার জন্য এত সময় এবং শ্রম ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো আলোচনার জন্য তাঁর প্রতিনিধিরা সর্বদা প্রস্তুত থাকলেও অনর্থক দীর্ঘ ভ্রমণে তিনি আগ্রহী নন।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বর্তমানে তীব্র কোন্দল ও নীতিগত বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। তাঁর মতে, ইরানি প্রশাসনের ভেতরে কে প্রকৃত ক্ষমতার দায়িত্বে আছে তা তারা নিজেরাই স্পষ্ট জানে না। ট্রাম্প কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আলোচনার ক্ষেত্রে বর্তমানে সব শক্তিশালী তাস যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং ইরান যদি প্রকৃতপক্ষে শান্তি আলোচনা করতে চায়, তবে তারা সরাসরি ফোন কল করলেই হবে।

ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে তাঁর সফর শেষ করেছেন। পাকিস্তানে অবস্থানকালে আরাঘচি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও সম্পন্ন করেছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বাতিলের এই ঘোষণাটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টাকে এক ধরনের বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, যাদের ওপর মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের নতুন অবস্থানের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক সংলাপের বিষয়টি আপাতত থমকে গেল। ট্রাম্পের এমন কঠোর ও অপ্রত্যাশিত কৌশলগত অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের নৈশভোজে বন্দুকধারীর হামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেলে সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালীন এক বন্দুকধারীর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার (সিক্রেট সার্ভিস) সদস্যরা। শনিবার রাতে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এই আয়োজনে হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন খাবার টেবিলে বসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলেন, ঠিক তখনই হোটেলের বাঙ্কেট হলের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ পাওয়ার পরপরই সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে ঘিরে ফেলেন এবং তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার সময় হোটেলের লবিতে এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়েছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত বন্দুকধারীকে পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গুলির ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো হলটি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেখানে উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করেন। ওয়াশিংটন পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে পুরো হোটেলটি ঘিরে রেখেছে।

হামলার শিকার হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেলেনিয়া ট্রাম্প দুজনেই সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই নৈশভোজে সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের অনেক বিশিষ্ট তারকা ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওইজা জিয়াং জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থগিত হওয়া নৈশভোজের অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করা হবে।

প্রতিবছর হোয়াইট হাউজে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে এই বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সশরীরে উপস্থিত থাকেন। অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভেন্যুতে এমন হামলার ঘটনা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।


প্রথমবার ম্যালেরিয়ার ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রথমবারের মতো নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ম্যালেরিয়ার একটি ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। খবর এএফপির।

অনুমোদিত ওষুধটি হলো আর্টেমেথার-লুমেফ্যান্ট্রিন, যা এই প্রথমবার নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদাভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতদিন শিশুদের চিকিৎসায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে ব্যবহার করা হতো, যা ভুল ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াত।

ডব্লিউএইচও জানায়, এই ওষুধটি তাদের প্রাক-যোগ্যতা স্বীকৃতি পেয়েছে, যা নির্দেশ করে এটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত, নিরাপদ ও কার্যকর।

সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ম্যালেরিয়া বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের এবং সমাজের কাছ থেকে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও আশা কেড়ে নিয়েছে। তবে নতুন টিকা, উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং শিশুদের জন্য উপযোগী ওষুধ এই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ম্যালেরিয়া নির্মূল নির্মূল করা এখন আর স্বপ্ন নয় এটি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। তবে তা কেবল টেকসই রাজনৈতিক ও আর্থিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সম্ভব। এখন আমরা তা করতে পারি। এখন আমাদের অবশ্যই করতে হবে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ঘটনা আফ্রিকায় এবং মৃত্যুর বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই ওষুধের অনুমোদন সরকারি পর্যায়ে ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং আফ্রিকার ম্যালেরিয়া-প্রবণ অঞ্চলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর চিকিৎসা ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

তবে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ওষুধ ও কীটনাশকের প্রতিরোধ ক্ষমতা, রোগ শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়া অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেখানে থেমে নেই অস্থিরতা। ইরানের রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে যেমন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে পুরোপুরি থেমে নেই সংঘাতও। দক্ষিণ লেবাননজুড়ে দিনভর বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে টায়ার শহর থেকে এই বিকট শব্দগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

ইসরায়েল শনিবার (২৫ এপ্রিল) লেবাননে ‘ইয়েলো লাইনে’ এর উত্তরে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ এই স্থানগুলি রকেট নিক্ষেপের কাজে ব্যবহার করছিল।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হলেও, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত পুরোপুরি থামবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে রকেট হামলার অভিযোগও তুলেছে ইসরায়েল। ড্যানন অভিযোগ করেন, ‘হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিকে ব্যাহত করতে রকেট হামলা চালাচ্ছে। আর ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দিতে হচ্ছে। আমরা যখনই কোনো হুমকি দেখছি, তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও দুজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর পরদিন শুক্রবার এ হামলা চালায় দখলদার বাহিনী।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াদি আল-হুজাইরে দুইজন, টৌলিনে দুইজন এবং স্রিফা ও ইয়াতের এলাকায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

এদিকে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, ২৯ মার্চ তাদের ঘাঁটিতে হামলায় আহত এক ইন্দোনেশিয়ান শান্তিরক্ষী শুক্রবার হাসপাতালে মারা গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই হামলায় একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলা ব্যবহৃত হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল শহরে তারা ছয়জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় উল্লেখিত নিহতদের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে মোট ২ হাজার ৪৯১ জন নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল তিন সপ্তাহ

হোয়াইট হাউসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যায়ের এক বৈঠকের পর লেবানন ও ইসরায়েল তাদের যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওভাল অফিসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইতার ও যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আয়োজন করেন। দুই রাষ্ট্রদূতের আগের বৈঠকও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হয়েছিল, যেখানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। ওই বিরতি রোববার শেষ হওয়ার কথা।

তার আগেই বৃহস্পতিবার ওই বিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ল। প্রথম দফা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েল একাধিক হামলা চালিয়েছে; বুধবারই তাদের হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জন নিহতও হয়।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া লেবাননের ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক-সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ওভাল অফিসের বৈঠকে ছিল না। ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘দখলদার’ আখ্যা দিয়ে তারা বলছে, ‘দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ অধিকার তাদের রয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আতিথেয়তা দিতে তিনি মুখিয়ে আছেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিন সপ্তাহের বিরতি চলাকালে লেবানন ও ইসরায়েলের নেতারা আরও বসবেন বলে তিনি আশা করছেন।

‘দুই দেশ এ বছরই একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাবে এমন চমৎকার সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেছেন তিনি।

বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকেবি ও লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির কারণে লেবাননে সহিংসতার পরিমাণ অনেকখানি কমলেও দেশটির দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী স্বঘোষিত একটি ‘বাফার জোনের’ দখলও নিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যাওয়া রাষ্ট্রদূত মোয়াওয়াদ বৈঠক আয়োজনের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘আপনার সহায়তা, সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আবার লেবাননকে মহান বানাতে পারব।’

লেবাননের এক কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, আলোচনার পরের ধাপে তারা লেবানন ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ইসরায়েলে আটক লেবাননের নাগরিকদের দেশে ফেরানো ও স্থলসীমান্ত চিহ্নিত করার দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর ব্যাপারে লেবানন সরকারের সঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়াতে চাইছে তেল আবিব। গত এক বছর ধরে বৈরুত শান্তিপূর্ণ উপায়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

ওভাল অফিসে বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লাইতার বলেছেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল কীভাবে করা যায়, আলোচনায় সে ব্যাপারে প্রাধান্য দিতে হবে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়।

‘হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসির চরদের সঙ্গে যদি খুবই কোমল আচরণ করা অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের পারস্পরিক অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন অসম্ভবই থেকে যাবে,’ লাইতার এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনের ইসরায়েল দূতাবাস।


ইরানকে ঘিরে মার্কিন অবরোধের ভবিষ্যৎ কী

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ শুরু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করে এবং গভীর সমুদ্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকে পথ বদলাতে নির্দেশ দেয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একে ‘জলদস্যুতার শামিল’ এবং ‘বেআইনি কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন নৌঅবরোধের জবাবে ইরান সব বিদেশি জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে এবং কয়েকটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দও করেছে। এর আগে তারা কেবল নিজেদের জন্য ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ দেশের জাহাজগুলোকে ওই পথে চলার অনুমতি দিত।

১৯ এপ্রিল ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিনা মূল্যে মেলে না।’ তিনি লেখেন, ‘একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা হবে, আর অন্যদিকে সবার জন্য বিনা মূল্যে নিরাপত্তা আশা করা হবে—এমনটা হতে পারে না। পছন্দটা একদম পরিষ্কার: হয় সবার জন্য উন্মুক্ত তেলের বাজার, না হয় সবার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান ও এর মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের নিশ্চিত ও স্থায়ী অবসানের ওপর।’ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া হলেই কেবল পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অবরোধ ইরানের বেশ ক্ষতি করছে ঠিকই, তবে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেশটির রয়েছে।

মার্কিন অবরোধে কতটা ক্ষতি হচ্ছে ইরানের?

ইরান সমুদ্রপথে তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীসহ ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ এই বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে। তবে এই পথ দিয়ে তারা নিজেদের জ্বালানি পণ্য রপ্তানি চালিয়ে গেছে।

ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বাণিজ্য ও তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের মতে, ইরান গত মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। এপ্রিলে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পাঠিয়েছে তারা। ২০২৫ সালে তাদের গড় রপ্তানি ছিল দিনে ১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ব্যারেল।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান ৫৫ দশমিক ২২ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে। গত এক মাসে ইরানের তিন ধরনের প্রধান তেলের (ইরানিয়ান লাইট, ইরানিয়ান হেভি এবং ফোরোজান ব্লেন্ড) দাম কোনো দিনই ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নামেনি। অনেক দিন এই দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে।

এমনকি ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের হিসাব ধরলেও, চলমান তেল রপ্তানি থেকে গত এক মাসে ইরান অন্তত ৪ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর বিপরীতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইরান তেল রপ্তানি থেকে দিনে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করত, যা মাসে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

সহজ কথায়, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় গত এক মাসে তেল রপ্তানি থেকে ইরান ৪০ শতাংশ বেশি আয় করেছে। আর এই আয় বন্ধ করাই ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌঅবরোধের অন্যতম প্রধান কারণ।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক স্নাইডার ১৪ এপ্রিল আল জাজিরাকে জানান, গত ছয় সপ্তাহে তেল রাজস্বের দিক থেকে ইরান লাভবান হয়েছে। কিন্তু মার্কিন অবরোধের কারণে সেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র কি দীর্ঘদিন অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে?

স্নাইডার জানান, আগামী ১ মে একটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ট্রাম্প। কারণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর জন্য তার হাতে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা ওই দিন শেষ হবে।

তিনি জানান, যেসব জাহাজের মাধ্যমে এই অবরোধ কার্যকর রাখা হচ্ছে, সেগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এ ছাড়া চীনের পণ্য বহনকারী জাহাজগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্র বারবার জব্দ করতে থাকে, তবে চীন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাও দেখার বিষয়।

স্নাইডার বলেন, ‘চীন ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যে অবরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পাশাপাশি প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা ক্ষতি না করলেও, এই অঞ্চলে ও বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন মিত্রদের ক্ষতি করছে। ফলে ট্রাম্পের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই পক্ষের আচরণ থেকে যদি কিছু বোঝার থাকে, তবে তা হলো—ইরান ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে, আর ট্রাম্প ক্রমশ অধৈর্য হয়ে পড়ছেন।’

বাহরাইনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম এরেলি আল জাজিরার ‘দিস ইজ আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ইরানিরা এই পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তাদের নিজেদের পরিকল্পনা আছে। তেল মজুত বা বিক্রি করার বিকল্প উপায়ও তাদের হাতে আছে।’ তিনি বলেন, ‘এমনকি তাদের তেল ফুরিয়ে গেলেও, এই কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে থাকার পথ তাদের জানা আছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় ট্রাম্প এবং আমেরিকান জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলেও ইরানিরা ঠিকই টিকে থাকবে।’


ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ইরান। তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো তিনি নিশ্চিত নন।

ফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু না জানালেও ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমানে ইরানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গেই মার্কিন প্রতিনিধি দল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই তেহরান এই প্রস্তাব তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তার প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইরানের ক্ষমতাসীন নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছে। ট্রাম্পের মতে, ইরান এখন আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি অন্বেষণ করতে আগ্রহী।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোপূর্বে যেসব দাবি উত্থাপন করেছিল, সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই ইরান এই বিশেষ প্রস্তাবটি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

শুক্রবার দুপুর ১টা ১২ মিনিটে প্রকাশিত এই সংবাদে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

এদিকে, গতকাল শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর শুরুর আগে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, ‘বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। শত্রু এখন যুদ্ধের এ চোরাবালি থেকে বাঁচতে এক সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে, যেখানে তারা আটকা পড়েছে।’

এমন এক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এলো, যখন মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার বর্তমানে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনার পরিকল্পনা দেশটির নেই।


banner close