চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জন ক্লার্ক, মাইকেল ডেভোরেট ও জন মার্টিনিস। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স।
ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন গবেষণার জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা ভাগ হয়ে যাবে। বর্তমান বাজারে এর মান প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি ও শান্তি- এই ছয়টি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয় নোবেল। চিকিৎসা ও পদার্থবিদ্যার পর বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য ও শুক্রবার শান্তিতে নোবেলজয়ীদের নাম জানানো হবে। সবশেষে আগামী ১৩ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম। আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী।
এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘিরে রয়েছে আলোচনা। ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আবরাহাম অ্যাকোর্ডস’ চুক্তিতে ভূমিকা রাখার জন্য এক রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করেন। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে দেশ-বিদেশের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে শান্তিতে নোবেলের জন্য ট্রাম্প একাধিকবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার প্রক্রিয়া খুবই গোপন। সাধারণত মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয় না। এছাড়া বিচারকদের আলোচনা-পর্যালোচনা পরের ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। তবে মনোনয়নদাতারা চাইলে নিজেদের প্রস্তাবের কথা প্রকাশ করতে পারেন।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ৪১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করা সংগঠন ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। খবর ডন, জিও টিভির।
আইএসপিআর জানায়, হরনাই জেলার উপকণ্ঠে ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানে। তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন ‘ভারতসমর্থিত খারিজ’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে সেখানেই ধ্বংস করা হয়েছে।
আরেকটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয় পাঞ্জগুর জেলায়। সেখানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত এক ব্যাংক ডাকাতির লুটের টাকাও নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, এলাকায় অন্য কোনো ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজেশন অভিযান চলমান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে, যাতে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে জানানো হয়। আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বালুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে কেপিতে ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্য অংশে ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, গত বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেপিতে ৩ হাজার ৮১১টি, বেলুচিস্তানে ১ হাজার ৫৫৭টি এবং অন্যান্য এলাকায় ২৯টি ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গত বছরে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চৌধুরীর দাবি, দেশের ১০টি বড় সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এসব হামলায় আফগান সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজাবাসীর জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে যাচ্ছে ইসরায়েল। আগামী রোববার গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দিতে যাচ্ছে দেশটি। ক্রসিং খুলে দিলেও তা দিয়ে চলাচল হবে সীমিত পরিসরে।
শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা সিওগ্যাট শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, মিসরের সঙ্গে গাজাকে সংযুক্ত করা এই সীমান্ত দিয়ে কেবল ‘সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচল’ অনুমোদন দেওয়া হবে।
রাফাহ ক্রসিং গাজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার। এ ক্রসিং প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও ওষুধসহ মানবিক সহায়তা প্রবেশের একমাত্র পথ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে এই ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা বলা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।
চুক্তির প্রথম ধাপের মূল অংশ সম্পন্ন হয়েছে চলতি সপ্তাহে গাজায় আটক শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর হামাস এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানায়। এতে বিশেষ করে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া উভয় দিক থেকে খুলে দেওয়ার দাবি তোলা হয়।
তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ক্রসিংটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। সিওগ্যাটের বিবৃতিতে বলা হয়, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থান মিসরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে। ইসরায়েলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে এটি অনুমোদিত হবে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা ব্যবস্থার অনুরূপ।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে গাজা থেকে মিসরে চলে যাওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ফিরতে চান, তাদের কেবল ইসরায়েলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর এবং মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নির্দিষ্ট করিডোরে অতিরিক্ত পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়াও চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবই বিপজ্জনক’।
এমন এক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বেইজিং সফর রয়েছেন ও দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। পশ্চিমা নেতারা ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণে উদ্বিগ্ন থাকলেও, স্টারমার সর্বশেষ নেতা হিসেবে চীন সফরে গেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘আরও পরিশীলিত সম্পর্ক’, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ, কমানো শুল্ক ও বিনিয়োগ চুক্তির আহ্বান জানান। পাশাপাশি ২ নেতা ফুটবল ও শেক্সপিয়ারের সাহিত্য নিয়েও আলোচনা করেন।
এ দিকে, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে বলেন, এটা তাদের জন্য খুব বিপজ্জনক। আবার আগামী এপ্রিলেই নিজে চীন সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এর আগে গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বেইজিং সফরে অর্থনৈতিক চুক্তির পর ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।
অন্যদিকে, ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য না করলেও ব্রিটিশ বাণিজ্য বিভাগের মন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, ট্রাম্প যা বলেছেন তা ‘ভুল’। অবশ্যই আমরা ‘চোখ খুলেই’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছি।
স্টারমারও একই সময়ে বেইজিংয়ে ইউকে-চায়না বিজনেস ফোরামে বলেন, শি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার ‘খুব উষ্ণ’ বৈঠকগুলো ‘বাস্তব অগ্রগতি’ এনেছে। তিনি ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও মদে শুল্ক কমানোর বিষয়ে হওয়া চুক্তিকে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন।
স্টারমার বলেন, এইভাবেই আমরা পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান তৈরি করি, যা অত্যন্ত জরুরি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারের লেবার সরকার এখনো যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণে সংগ্রাম করছে। আর সে কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
একই সময়ে ট্রাম্পের অনিশ্চিত শুল্ক হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা-সংক্রান্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের, বিশেষত যুক্তরাজ্যকে, অস্থির করে তুলেছে।
চীনে যাওয়ার বিমানে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে যুক্তরাজ্য বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও বাণিজ্য- সব ক্ষেত্রেই আমরা পাশাপাশি।
স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা জানান, স্টারমারের চীন সফরের লক্ষ্য সম্পর্কে ওয়াশিংটন আগেই অবহিত ছিল।
সাধারণত ট্রাম্পকে সমালোচনা করা এড়িয়ে চললেও, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিরোধিতায় আরও স্পষ্ট হয়েছেন। তিনি গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ‘অত্যন্ত বিরক্তিকর’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ও গ্রিনল্যান্ড দখলে তার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, কানাডার মতো যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দেবেন কি না- এমন প্রশ্নে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, যতক্ষণ না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেন ও কঠিন কিছু বলেন, ততক্ষণ এমন কিছু হওয়ার শঙ্কা নেই।
সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী দেশটির সরকারের সঙ্গে এক বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় তারা সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে একীভূত হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উৎখাত করার পর দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে দামেস্কের অন্তর্বর্তী সরকার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের উত্তরে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছিল।
তবে গত প্রায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ধীরে ধীরে একটি চুক্তিতে রূপ নেয়। শুক্রবার এসডিএফ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় কুর্দি সামরিক বাহিনীকে ধাপে ধাপে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে একীভূত করা হবে। এর কিছুক্ষণ পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, এই চুক্তির ফলে কুর্দি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
এই চুক্তি এমন এক সময় এল, যখন গত তিন সপ্তাহে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এসডিএফের কাছ থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ঘটনার এই দ্রুত মোড় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর আগে কুর্দি যোদ্ধা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করতে কয়েক মাস আলোচনা চললেও তাতে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তার সরকার হতাশায় ভুগছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, এসডিএফ বাহিনী রণক্ষেত্র ত্যাগ করে সরে যাবে। সরকারি বাহিনী হাসাকাহ ও কামিশলির শহরকেন্দ্রে মোতায়েন হবে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে একীভূত করা হবে। এসডিএফের তিনটি ব্রিগেড নিয়ে একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া কোবানে শহরে (যা আইন আল-আরব নামেও পরিচিত) অবস্থিত আরেকটি ব্রিগেডকে আলেপ্পো গভর্নরেটের অধীনে যুক্ত করা হবে। আলেপ্পো সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রধান শহর। এসডিএফের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর প্রতিষ্ঠিত শাসন ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা হবে।
একসময় সিরিয়ার মোট ভূখণ্ডের এক-চতুর্থাংশ বা তারও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা এসডিএফের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। বিশেষ করে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বাহিনী ১৪ মাস আগে বাশার আল-আসাদকে উৎখাতে অভিযান শুরু করার পর থেকেই এই প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। আল-শারার একসময় আইএসআইএলের (আইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।
কুর্দি রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোকে রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার একটি চুক্তি প্রথম হয় ২০২৫ সালের মার্চে। তবে বছরের শেষ সময়সীমার আগেও সেটির বাস্তবায়নে খুব কম অগ্রগতি হয়। এর ফলেই সরকারি বাহিনী আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করে। গত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বজায় ছিল বলে মনে করা হলেও, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এ অবস্থায় কুর্দি বাহিনী ক্রমেই চাপের মুখে পড়ে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাদের ঘাঁটি ধরে রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত টম বারাক শুক্রবারের এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এটি ‘অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান এবং সব সিরিয়ার জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি এক যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, সিরিয়ার পরিস্থিতির অগ্রগতিতে তিনি ‘খুবই সন্তুষ্ট।’ আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-শারা তার আগের আইএসআইএল সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পেছনে ফেলে বিশ্বনেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন এবং গণতন্ত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে তারা তাকে সুবিধা দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে আল-শারা জোর দিয়ে বলেন, ‘সিরিয়ার ভূখণ্ড গত অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সরকার আন্তরিক। এর আগে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসডিএফকে সমর্থন দিলেও এখন স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আল-শারাকেই তাদের প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আল-শারা সব দিক থেকে সিরিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতায় বুধবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ওই বৈঠকে আগ্রহ দেখায় ক্রেমলিন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মোবাইল ফোনের পেছনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে রেখেছেন—এমন কিছু ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবিতে দেখা যায়, জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট-এর একটি ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় নেতানিয়াহু তার বিলাসবহুল গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছেন। ছবিগুলোতে তার ফোনের ক্যামেরা লেন্স ও সেন্সর অংশ মোটা লাল টেপ দিয়ে ঢাকা দেখা যায়।
এই বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন পডকাস্টার মারিও নওফল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নেতানিয়াহুর ফোনের ক্যামেরায় টেপ কেন? তিনি কাকে বা কী নিয়ে এতটা চিন্তিত?’
তিনি আরও বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ফোন এভাবে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।
নেতানিয়াহু কেন ফোনের ক্যামেরায় টেপ ব্যবহার করেন—এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাইপফ্রেশ। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনে লাগানো লাল স্টিকারটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি একটি বিশেষ নিরাপত্তা স্টিকার। ক্যামেরার ওপর এমনভাবে এটি লাগানো হয়, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গোপন বা স্পর্শকাতর তথ্যের ছবি তোলা সম্ভব না হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনে থাকা ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও অন্যান্য সেন্সরের মাধ্যমে গোপন তথ্য রেকর্ড বা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নেসেটের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সরকারি এলাকায় ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
‘ক্ল্যাশ রিপোর্ট’ নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, ফোনে স্টিকার ব্যবহার করা সম্ভবত একটি প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে গোপন তথ্য সংরক্ষিত এলাকায় কেউ আড়ি পাততে বা রেকর্ড করতে না পারে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলে কিছু নির্দিষ্ট স্মার্টফোন ও টিকটকসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। দেশটির গুপ্তচরবৃত্তি প্রযুক্তির ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ ও বিতর্কিত।
এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলো ইসরাইলভিত্তিক এনএসও গ্রুপের ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার, যা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং এমনকি রাষ্ট্রনেতাদের ওপর নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও অনুমতি ছাড়াই নজরদারির অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে আলোচনার জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আনকারার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান একটি ভিডিও কনফারেন্স প্রস্তাব করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অংশ নেবেন। এমন ধরনের সরাসরি কূটনীতি ট্রাম্পের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু সংযমী ইরানি কূটনীতিকদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের কূটনীতিকরা ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংযম দেখানো ছাড়া দেশটি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পারবে না।
গত মঙ্গলবার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সিনিয়র প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সামরিক নির্দেশনা দিলে তাদের বিভাগ তা পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। ইরানের কাছে চুক্তি করার সব বিকল্প রয়েছে। তারা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে অগ্রগতি না করলে আমরা প্রস্তুত।
ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন, সময় সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হবে ভয়াবহ ও ভেনিজুয়েলার অভিযান থেকে অনেক বড়। তবে বৃহস্পতিবার নানারকম কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের অনেক বড় ও শক্তিশালী জাহাজ ইতোমধ্যেই ইরানের দিকে যাচ্ছে, আশা করি এগুলো ব্যবহার করতে হবে না।
ইরানও প্রতিরোধে দৃঢ়। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি জানান, জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে অভিজ্ঞতা থেকে তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে এবং ১,০০০ সমুদ্র ও স্থলভিত্তিক ড্রোন তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তৃত জোগান যে কোনো হামলার প্রতিশোধে যথেষ্ট। তবে ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক দুর্বলতা হলো তাদের বিমান প্রতিরক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্কো রুবিও জানান, প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন সেনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও একতরফা ইউএভির আওতায় রয়েছে। এক সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কূটনৈতিক পথও ব্যবহার করছে।
ক্রেমলিন দুইপক্ষকে কূটনীতির জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু তুরস্ক এখন প্রধান মধ্যস্থতার ভূমিকা নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য আজও উদ্বিগ্ন, কারণ সংঘাত সহজেই পুরো অঞ্চলে ছড়াতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরে জনগণের মধ্যে দুই ভিন্ন অভিমত দেখা যাচ্ছে। একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, আর অন্য অংশ বিদ্রোহী পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর হোসেইন মুসাভি বলেন, পর্যাপ্ত হয়েছে, খেলা শেষ। তিনি সংবিধানভিত্তিক গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানের ওপর হামলা করা ভুল। যুদ্ধ শুরু করা ভুল। ইরান পারমাণবিক ফাইল নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ইরানকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বাস তৈরি করতে হবে এবং কৌশলগত অবস্থান বোঝাতে হবে।
ফিদান বৃহস্পতিবার টম ব্যারাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যিনি আনকারায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি। তুরস্ক ও ইরানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় পরীক্ষার মতো, যেখানে কোনো সামরিক সংঘাত পুরো অঞ্চলকে অস্থির করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট এড়াতে মধ্যস্থতার আঞ্চলিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েই চলেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা তাদের দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশাল মার্কিন ‘আর্মাডা’ বা নৌবহর ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি ইরানের সরকার পরিবর্তন ও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তারা একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন যে তারা আলোচনা নয় প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত।
তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির আলোচক দলের একজন সিনিয়র সদস্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা এখন ইরানের অগ্রাধিকার নয় বরং দেশকে রক্ষার জন্য ২০০ শতাংশ প্রস্তুত থাকা।
আল জাজিরা বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী বহু সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ইরানি বাহিনী বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে যে সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন কৌশলগত এক হাজার ড্রোন যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আত্মঘাতী ড্রোনও রয়েছে।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার আমির হামাতি বলেন, হুমকির অনুপাতে, সেনাবাহিনীর এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত যুদ্ধের জন্য কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখা, উন্নত করা এবং যেকোনো আগ্রাসনের প্রতি সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানো।
এ ছাড়া ইরানের সরকারপন্থিরা মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির একজন তরুণ নারী আল জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু করতে পারবে না। আল্লাহ না করুক তারা যদি আমাদের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তাহলে ইরান চূড়ান্ত জবাব দেবে এবং তাদের স্তর মাটিতে মিশিয়ে দেবে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর কাজ করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের দায়িত্ব দিয়েছেন যেন তারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে খাদ্য আমদানি করতে পারেন।
সেইসঙ্গে বিমান হামলার সময় ইরানিদের সুরক্ষার জন্য জনসাধারণের আশ্রয়স্থলের প্রয়োজনীয়তার দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির ফেডারেল তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। চোখের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আতাউল্লাহ তারার জানান, আদিয়ালা কারাগারে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস)-এ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ইমরান খানকে।
মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শনিবার রাতে ইমরান খানকে পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পুনরায় চোখ পরীক্ষা শেষে তার লিখিত সম্মতি নিয়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি সামান্য চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আতাউল্লাহ তারার জানান, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় ইমরান খানের মৌলিক অঙ্গ-সঞ্চালন স্বাভাবিক ছিল এবং তার সামগ্রিক স্বাস্থ্য সন্তোষজনক ছিল।
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইমরান খান পুরোপুরি ভালো আছেন।’ কারা বিধিমালা অনুযায়ী বন্দিদের প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ সেবা নিশ্চিত করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।
এর আগে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পিটিআই ও তাদের মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বুধবার যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দাবি করা হয়, কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলীয় নেতা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেন, ‘২০ ডিসেম্বরের পর ইমরান খানের সঙ্গে আর কোনো সাক্ষাৎ হয়নি।’
তিনি জানান, সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ইমরান খান চোখের সংক্রমণে ভুগছিলেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য গুরুতর—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি পুনরায় বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, তিনি পুরোপুরি ভালো আছেন।’
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে চিঠি দিয়েছেন ৭৫ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান। গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পাঠানো এই চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেংসহ ৭৫ জন আইনপ্রণেতা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকস্মিক এই স্থগিতাদেশের কারণে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশিয়ান-আমেরিকান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ফিরতে পারছেন না এবং এর ফলে বিশ্বের ‘৪০ শতাংশ’ মানুষ সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন, যা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার শামিল। এতে আরও বলা হয় যে, যারা পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বিনিয়োগ কিংবা চাকরির সূত্রে আইনি পথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের ‘সঠিক উপায়ে আসতে’ উপদেশ দেওয়া হলেও প্রবেশের আগেই তাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কংগ্রেসম্যানরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘নির্দয় আচরণের শামিল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, অভিবাসীরা বৈধ পন্থায় যাবতীয় নিয়ম মেনেই ভিসার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, রাশিয়া ও ব্রাজিলসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন জনগণের কল্যাণভাতা গ্রহণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এটি নিশ্চিত হওয়া না যাবে যে নতুন অভিবাসীরা মার্কিন সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হবেন না, ততক্ষণ এই আদেশ বলবৎ থাকার কথা জানানো হয়েছে।
মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসার আবেদন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আবেদনকারী নিজের খরচে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না তা যাচাই করা হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর অভিবাসন নীতির কঠোরকরণের অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বর থেকেই এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে গত সপ্তাহে ব্যাপক আকারে এই ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বঙ্গোপসাগরে যৌথ সামরিক মহড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত ও রাশিয়া। আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে মাসে হবে ‘মিলান ২০২৬ নাভাল এক্সরাসাইজ’ নামের ওই মহড়া।
রুশ নৌবাহিনীর অধিভুক্ত সংস্থা রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ডের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে দেশটির বৃহত্তম বার্তাসংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।
মহড়ায় রাশিয়ার প্যাসিফিক ফ্লিট ফ্রিগেট মার্শাল রণতরী শাপোশনিকভসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ অংশ নেবে। উল্লেখ্য, বিশাল আকৃতির শাপোশনিকভ খুবই সৃমৃদ্ধ রণতরী।
সাগর থেকে এটি একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন বিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম।
প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে সামরিক টহলে শাপোশনিকভকে ব্যবহার করে রাশিয়ার নৌবাহিনী। মহড়ায় অংশ নিতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে এই যুদ্ধজাহাজ।
রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বুধবার ওমানের মাস্কাট বন্দর পেরিয়েছে শাপোশনিকভ। বঙ্গপোসাগরে মহড়া শেষে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিশাখাপত্তমের উদ্দেশে রওনা দেবে শাপোশনিকভ।
আগামী ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেখানে ভিড়বে। বঙ্গপোসাগরে যে সামরিক মহড়া হবে, তা তিন মাস আগে ঘোষণা করেছিল ভারতের নৌবাহিনী।
২০২৫ সালের অক্টোবরে এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছিলেন দেশটির নৌবাহিনীর ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন।
ব্রিটেন থেকে লরিতে করে ২৩ বাংলাদেশি নাগরিককে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন সহজতর করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে আরও বলা হয়, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) কর্মকর্তারা ডোভার ফেরি বন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় লরিটি থামান এবং একটি গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে লরির ভেতরে লুকিয়ে থাকা ওই ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিল। যারা ব্রিটেন থেকে অভিবাসীদের পাচারে জড়িত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অভিবাসন অপরাধ ব্রিটেন ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এনসিএ বুধবার জানায়, উদ্ধার হওয়া ২৩ বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জনই বৈধভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করছিলেন। তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে একজনকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকা থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এই অপরাধচক্রের মূলহোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার কাছাকাছি একটি স্থানে ট্যাক্সি চালিয়ে লোকজন পরিবহন করছিলেন। লরির চালক ৩২ বছর বয়সি এক রোমানিয়ান পাসপোর্টধারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের লরির মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে বাইরে নেয়ার চেষ্টা করছিল। যাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রান্সের প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়া যায়। এনসিএর শাখা কমান্ডার সাজু সাসিকুমার বলেন, মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রগুলো যাদের তারা পরিবহন করে, তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একই সঙ্গে তারা ব্রিটেন ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ দমন এনসিএর শীর্ষ অগ্রাধিকার এবং এই তদন্তটি এ ধরনের অপরাধে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান প্রায় ১০০টি তদন্তের একটি। এই ঘটনা এমন এক প্রেক্ষাপটে সামনে এলো, যখন গত বছরের নভেম্বরে এনসিএ সতর্ক করে যে মানুষ পাচারকারী চক্রগুলো বৃটেনের ভেতরে ও বাইরে অভিবাসী পাচারের জন্য লরি চালকদের টার্গেট করছে। পুলিশ জানায়, পাচারকারীরা চালকদের টার্গেট করছে বলে জানা গেছে এবং বৈধ পণ্যবোঝাই লরির আড়ালে মানুষ পারাপারের জন্য তাদের হাজার হাজার পাউন্ডের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে কেন্টে মানুষ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নয়জন লরি চালককে গ্রেপ্তার করেছিল এনসিএ।
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জিও নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় তারার জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ‘২০ মিনিটের’ চোখের চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আদিয়ালা কারাগারে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ইমরান খানকে পরীক্ষা করেছিলেন, পরে তারা সুপারিশ করেন একটি ছোট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এরপরই তাদের পরামর্শ মেনে গত শনিবার রাতে তাকে পিমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইমরানের লিখিত অনুমোদনের পরই পিমসে তার চোখের বিশদ পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালীন তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল ছিল। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। জেলের নিয়ম মেনে সকল বন্দির মতো তাকেও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’
এদিকে ইমরানের দল পিটিআই বলেছে, তারা বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছেন, ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআভিও) ধরা পড়েছে, যার ফলে সঠিক চিকিৎসা না পেলে ইমরান খান চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। তবে গতকাল মঙ্গলবারও পিটিআই এমপিরা ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) একটি নতুন আবেদন দাখিল করেছেন।
এদিকে ইমরান খানের মেডিকেল রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তার বোন নওরীন নিয়াজি।
মঙ্গলবার এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, একাধিক সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম সূত্রের মতে, আমাদের ভাই ইমরান খানকে রাতের আড়ালে চোখের চিকিৎসার অজুহাতে পিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে তিন ঘন্টা রাখা হয়েছিল এবং তারপর চরম রহস্য এবং ভয়ঙ্কর নীরবতার পরিবেশে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।’
সরকারের কাছে ইমরানের বোন প্রশ্ন রাখেন, ‘যদি প্রতিবেদনগুলো সত্য হয় তবে কেন ইমরান খানের পরিবার এবং আইনজীবীদের কাছে সত্য বলার সাহস কারো নেই? কার কাছ থেকে এবং কার নির্দেশে এটি গোপন করা হচ্ছে? আমাদের ভাইকে জেলের ভেতরে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, আর কেন আমাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে?’
প্রসঙ্গত, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পিটিআইয়ের প্রধান ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে সাক্ষাতে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়িয়ে পড়ে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর পূর্ব জেরুজালেম সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১১ দেশ। তারা বলেছে, এ পদক্ষেপটি ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম দুর্বল করার জন্য ইসরায়েলের আরও একটি অগ্রহণযোগ্য উদ্যোগ।
গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই ধ্বংসযজ্ঞকে একটি ‘অভূতপূর্ব হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল সরকারকে সব ধরনের ধ্বংসকাজ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসা এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইসরায়েল কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছে। জাতিসংঘ এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা করছে। তবে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ বিতরণে ইউএনআরডব্লিউএ সবচেয়ে সক্ষম সংস্থা।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে। এ আইনের মাধ্যমে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে আইন সংশোধন করা হলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তা তীব্রভাবে নিন্দা করেন। গত সপ্তাহে ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতিতে ইসরায়েলি বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে ভবন ধ্বংস শুরু করে।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এটি একটি জাতিসংঘ সংস্থা ও তার স্থাপনার বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব হামলা। আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী সব দেশের মতো ইসরায়েলেরও জাতিসংঘের স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা ও সম্মান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
লাজারিনি জানান, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেওয়া রায়ের সরাসরি লঙ্ঘন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো ইউএনআরডব্লিউএর ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং সংস্থাটির কার্যক্রম সহজতর করা।