রোববার, ১ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

এক মিনিটেই মৃত্যু খামেনিসহ ৪০ শীর্ষ ইরানি সামরিক কর্মকর্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫৫

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম দফার হামলায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪০ জন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। রোববার (১ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইডিএফ এই অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করে একে ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে একটি ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ।

আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে তেহরানের একটি নির্দিষ্ট সরকারি কমপাউন্ডে যখন ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ একটি জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন, ঠিক তখনই ৩০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান। এই হামলায় পুরো কমপাউন্ডটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নিহতদের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুলরহিম মোসাভিও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত অত্যন্ত উন্নত গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে এই হামলাটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে, নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ের সাতজন সদস্য তখন একই স্থানে অবস্থান করছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই অভিযানের সফলতায় বড় ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ইরানের শীর্ষ নেতাদের শনিবার সকালে ওই বৈঠকে বসার খবরটি সিআইএ আগেভাগেই জানতে পারে এবং সেই তথ্য ইসরায়েলকে সরবরাহ করে। আমেরিকার কাছ থেকে পাওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল তাদের হামলার পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি জঙ্গিবিমানগুলো ওড়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। আইডিএফ দাবি করেছে, এই আক্রমণের ফলে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কমান্ড চেইন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একযোগে তেহরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানোর ফলে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এই অপারেশনটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনো চলমান: পাকিস্তানি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টারি বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের সামরিক অভিযান সমাপ্তি সংক্রান্ত খবরগুলোকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তান তার অভিযান বন্ধ করেছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

ড. তারিক ফজল চৌধুরি জানান, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী এবং ড্রোনের ফুটেজ গণমাধ্যমে সরবরাহ করা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভিডিও প্রকাশ বন্ধ করার অর্থ এই নয় যে অভিযান থেমে গেছে। মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই ভিডিও প্রচার স্থগিতের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পাকিস্তান তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর এমন বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আফগান সীমান্তে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত আপাতত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি দূর করতেই মূলত সরকার এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রচারণায় কিছুটা গোপনীয়তা অবলম্বন করলেও সামরিক কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী ড্রোনের হামলা ও অন্যান্য অভিযান যথারীতি বলবৎ রয়েছে।


বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে আহমেদ ওয়াহিদিকে নিয়োগ দিল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতির পরপরই নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। গত শনিবারের ভয়াবহ অভিযানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর তাঁর শূন্য পদে নতুন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিদিকে। আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ওয়াহিদি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, কারণ ২০২২ সালে ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তিনি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ ও কঠোর সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ওয়াহিদিকে দায়িত্ব দিয়ে ইরান তাদের সামরিক শক্তি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক আগ্রাসনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। নেতৃত্বের এই বিশাল শূন্যতা পূরণে কালক্ষেপণ না করেই তেহরান এই নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে আইআরজিসির নতুন কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরান পাল্টা আঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ আমির হাতামি জানিয়েছেন, তাঁদের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো পারস্য উপসাগর এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যে অভিযানের কয়েকটি পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং শত্রুপক্ষকে উপযুক্ত জবাব দিতে তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে সক্রিয় রয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক নজিরবিহীন উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।


আজ এমন আঘাত করব, যা আগে কখনও অনুভব করেনি: আলি লারিজানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ইরান আজ এমন এক শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার ভয়াবহতা শত্রু পক্ষ আগে কখনো অনুভব করেনি। লারিজানির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

লারিজানি তাঁর পোস্টে গতকালকের সামরিক অভিযানের সফলতা দাবি করে বলেন, ‘গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান, এবং তা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’ এরপরই তিনি আজকের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে লেখেন, ‘আজ আমরা তাদের এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।’ তাঁর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান আজ আরও বড় পরিসরে এবং ভিন্ন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে যাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, আলি লারিজানির এই হুমকির ভাষা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আগের এক সতর্কবার্তার সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইরান আজ বড় ধরণের হামলার ঘোষণা দিলেও তাদের তা করা উচিত হবে না। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি ইরান হামলা চালায় তবে যুক্তরাষ্ট্রও এমন শক্তি প্রয়োগ করবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। লারিজানি যেন ট্রাম্পের সেই একই সুর ব্যবহার করেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। খামেনি হত্যার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই ‘অভূতপূর্ব’ আঘাতের ঘোষণা বিশ্ব সম্প্রদায়কে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ যদি ইরান তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী বড় কোনো হামলা চালায়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সব মিলিয়ে এখন বিশ্ববাসীর নজর আজ ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ: সংঘর্ষে নিহত ৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে আয়োজিত বিক্ষোভে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

করাচির মাই কলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। আজ সকালে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় শিয়া মুসলিমসহ সাধারণ মানুষ। বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দিয়ে দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গতিরোধ করে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশন। পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা ও দূতাবাসের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। করাচি সিভিল হাসপাতালের পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সাঈদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। এছাড়া আহত আরও বেশ কয়েকজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো করাচি শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। খামেনি হত্যার এই প্রতিবাদ কেবল করাচিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


শুধু আমিরাতেই ১৩৭ মিসাইল ও ২০৯ ড্রোন ছুঁড়েছে ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার পারদ চরমে তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার সকালে শুরু হওয়া এই ‘ষষ্ঠ দফার’ অভিযানে তেহরান আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান একযোগে ১৩৭টি মিসাইল এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলার প্রভাবে পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত আবু ধাবি বিমানবন্দর। সেখানে একটি ড্রোন বা মিসাইল আঘাত হানলে এখন পর্যন্ত ১ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটেছে। অন্যদিকে দুবাই থেকেও বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সিএনএন-এর প্রতিনিধিরা স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টার দিকে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

দুবাইয়ের বিজনেস বে এলাকার আকাশে একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হলেও সেটির ধ্বংসাবশেষ সরাসরি দুবাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর জেবেল আলিতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে বন্দর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। স্থানীয় দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের পরিকল্পিত হামলার অংশ এবং তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শুধু আমিরাত নয়, ইসরায়েলেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। সেখানে তাদের হামলায় ৪০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। খামেনি হত্যার এই শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাকিস্তানেও। কাশ্মীরে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার একাংশে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক নজিরবিহীন বিমান হামলায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। শনিবারের এই ভয়াবহ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এই শোকাবহ খবরটি নিশ্চিত করেছে। একই হামলায় অভিজাত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, ইরানের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নিহত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি গত বছরের জুন মাস থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ হিসেবে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারক ছিলেন। একই বৈঠকে উপস্থিত থাকা আলী শামখানি ও মোহাম্মদ পাকপুরের মতো অভিজ্ঞ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একযোগে নিহত হওয়াকে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এই বিশাল বিপর্যয়ের পরপরই চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি) এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সিএনএন ও তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের এই শূন্যতা পূরণে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের এই শাহাদাতের ঘটনা ইরানকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।


ইরানের পাল্টা হামলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যদি পাল্টা বড় ধরনের কোনও হামলা চালায়, তবে দেশটিকে ‘নজিরবিহীন শক্তি’ দিয়ে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এইমাত্র জানিয়েছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করতে যাচ্ছে, যা এর আগে তারা কখনও করেনি।

ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তাদের এমনটা না করাই ভালো হবে। কারণ তারা যদি তা করে, তবে আমরা তাদের ওপর এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি!

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলো ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। শনিবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন ‘এসপাইডেস’-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক বা যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জাহাজগুলোকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা এই সামুদ্রিক পথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই পথটি ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান যদি দীর্ঘ সময় এই পথটি বন্ধ রাখে, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভারতের একটি সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি বন্ধ হওয়া মানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগা। এদিকে, খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দিয়েছে।


কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় শহীদ হন খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার ভোরে তেহরানে তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই ঘটনাকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার শিকার হয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত কাউন্সিলের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বিবিসি ভেরিফাই উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিল যে, তেহরানের লিডারশিপ হাউস কম্পাউন্ড বা খামেনির কার্যালয় এলাকাটি এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম এই ঘটনাকে শত্রুপক্ষের ‘মানসিক যুদ্ধের’ জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, খামেনি কোথাও লুকিয়ে ছিলেন না বরং তিনি তাঁর কর্মস্থলেই বীরত্বের সাথে অবস্থান করছিলেন, যা তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুকে ‘কাঙ্ক্ষিত বিচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ইসরায়েলের সুনিপুণ সহযোগিতায় এই অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে খামেনি বা তাঁর সাথে থাকা অন্য নেতাদের পালানোর কোনো পথ ছিল না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দেশটির বিপ্লবী গার্ড এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা এখনও যুদ্ধ করতে চাইছে না তারা চাইলে ক্ষমা বা নিরাপত্তা পেতে পারে, তবে দেরি করলে পরিণতি হবে মৃত্যু। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে পারে। শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির প্রাসাদটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


ইরানে তিন সদস্যের সাময়িক ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহতের পর দেশটির রাষ্ট্রীয় শাসনভার পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সাময়িক ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই পরিষদের প্রধান লক্ষ্য।

ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শক্তিশালী পরিষদে রয়েছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ ফকিহ (ইসলামি আইনবিদ)। এই তিন সদস্য সম্মিলিতভাবে সাময়িকভাবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা রাষ্ট্রের অভিভাবকহীনতা দূর করতে সংবিধান অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।

ইরানের শাসনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের মূল দায়িত্ব পালন করে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’। এই পরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে থাকে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। সংবিধান অনুযায়ী, একক কোনো উত্তরাধিকারী চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এই অ্যাসেম্বলি একটি ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠনের ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সাংবিধানিক ক্ষমতার আলোকেই এই পরিষদ গঠিত হলো।

উল্লেখ্য যে, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক ভয়াবহ যৌথ অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাঁর নিজ কার্যালয়ে সপরিবারে নিহত হন। হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে ইতিমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এই শোকাবহ ও সংকটময় মুহূর্তে দেশটিকে নেতৃত্ব দিতে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে এই সাময়িক পরিষদ এখন থেকে কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝে এই তিন সদস্যের পরিষদের ওপরই এখন পুরো ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছে।


খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে আইআরজিসির তোড়জোড়, সামরিক কাঠামোতে বিশৃঙ্খলার আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক উত্তেজনা ও নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরবর্তী নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে চলমান বিমান হামলার মুখে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় আইআরজিসি দ্রুত এই নেতৃত্বশূণ্যতা পূরণ করতে চাইছে।

সাধারণত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ওপর। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পরিষদের অধিবেশন ডাকা সম্ভব হচ্ছে না। এই সুযোগে আইআরজিসির কমান্ড কাঠামো চাইছে রোববার ভোরের আগেই কোনো একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে। যদিও ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও আইআরজিসি চাইছে একজন নির্দিষ্ট একক নেতার অভিষেক ঘটাতে, যা মূলত বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এক ধরণের চাপ সৃষ্টির নামান্তর।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতর বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কমান্ড চেইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আদেশ আদান-প্রদান এবং অপারেশনাল সমন্বয়ে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এতে করে আগামী দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি সামরিক বাহিনীর কিছু নিম্নপদস্থ সদস্য ও কমান্ডার পরবর্তী হামলার ভয়ে তাদের নির্ধারিত ঘাঁটি ও সামরিক কেন্দ্রে যোগ দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসির কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও একটি বড় উদ্বেগ কাজ করছে দেশের সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। তারা আশঙ্কা করছে যে, রোববার সকালে দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দলে দলে রাস্তায় নেমে আসতে পারে। এতে নতুন করে বড় ধরনের গণজমায়েত ও বিক্ষোভের ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ করা আইআরজিসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে এক বিশাল অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিটি মুহূর্ত।


খামেনির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ইরান, প্রতিশোধের ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তাঁর শাহাদাতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স ও তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে নিজের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ভয়াবহ হামলার শিকার হন ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা। হামলায় খামেনির পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতনিও নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর ঘাতকদের হাতে তাঁর শাহাদাতবরণ এই মহান নেতার আন্তরিক সেবার প্রতি জনগণের স্বীকৃতিরই নিদর্শন। তারা এই মহান নেতাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান বলে উল্লেখ করেছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করেছে যে, ঘাতক পক্ষকে এই অপরাধের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত ঘাতকদের ছাড়বে না।’ এই ঘোষণা আসার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের পাল্টা হামলা শুরু করেছে। তেহরানের রাজপথ থেকে শুরু করে প্রতিটি শহর এখন শোকাতুর জনতার ভিড়ে স্তব্ধ হয়ে আছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দেশটির উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিষদ নিরবচ্ছিন্ন বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন দেশটিতে সব ধরনের উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, এক মহান নেতাকে হারানোর বেদনায় পুরো ইরান এখন শোক আর প্রতিশোধের অগ্নিশিখায় জ্বলছে।


banner close