ইরানের আকাশজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক হত্যাকাণ্ডে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন খাদের কিনারে, তখন সাত সমুদ্র তেরো নদী দূরের মস্কোয় বসে এক ভিন্ন সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের এই বিপর্যয় রাশিয়ার জন্য অস্বস্তির মনে হলেও, ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়- পুতিনের জন্য এটি কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক পূর্বাভাসের এক চূড়ান্ত প্রতিফলন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির নৃশংস পরিণতি পুতিনকে যে শিক্ষা দিয়েছিল, ইরানের বর্তমান ধ্বংসযজ্ঞ যেন সেই আশঙ্কারই এক জীবন্ত দলিল।
ইউক্রেন ফ্রন্টে রাশিয়ার আগ্রাসনকে যারা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আসছিলেন, পুতিনের কাছে ইরানের এই পরিস্থিতি তাদের জন্য এক মোক্ষম জবাব। তিনি একে দেখছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের ‘উচ্ছৃঙ্খল ও অযৌক্তিক’ আচরণের প্রমাণ হিসেবে। একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম রাশিয়ার কোষাগারকে সমৃদ্ধ করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন চোরাবালিতে আমেরিকার ব্যস্ততা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে দিচ্ছে এক অভাবনীয় কৌশলগত সুবিধা।
লিওনিদ রাগো জিনের এই বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে ইরানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে নিজের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পুতিন বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার দাপট এবং নিজের ‘ত্রাতা’ ইমেজকে আরও সুসংহত করছেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড মস্কোর জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার কিছু কট্টরপন্থি বিশ্লেষক দাবি করছেন যে, বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও রাশিয়াও একইভাবে আক্রান্ত হতে পারে। নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বেপরোয়া বক্তব্যগুলোকে তারা এই অশুভ ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
যদিও ইরানের ওপর এই হামলা মস্কোর জন্য উদ্বেগের কারণ, তবে এটি তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক কৌশল- এমনকি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের বিষয়টিকেও সঠিক বলে প্রমাণ করছে। এটি ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের সেই ধারণাকেই নিশ্চিত করছে যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব একটি ‘উচ্ছৃঙ্খল ও অযৌক্তিক’ শক্তি।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ সম্ভবত ২০১১ সালের লিবিয়া সংকটেরই এক প্রতিচ্ছবি, যা তার নিজস্ব নিরাপত্তাঝুঁকির ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সেই বছর ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন।
লিবিয়ায় ন্যাটোর সেই হামলাকে পুতিনের অনুগত এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে রাশিয়ার ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ছিল মেদভেদেভের, যা পুতিনকে আবারও প্রেসিডেন্সিতে।
২০১১ সালের অক্টোবরে, পুতিন যখন দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার মনোনয়ন গ্রহণ করেন তার ঠিক এক মাস পর, বিদ্রোহীদের হাতে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নৃশংসভাবে খুন হন এবং তার মৃত্যুর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমা নেতারা তখন গাদ্দাফি শাসনের পতনকে উদযাপন করলেও, তা লিবিয়ায় গণতন্ত্র বা সমৃদ্ধি- কোনোটাই আনতে পারেনি। উল্টো দেশটি গৃহযুদ্ধ এবং চরম বিভক্তির দিকে ধাবিত হয়।
পুতিনের কাছে এটি ছিল এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা- ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া এবং অতি-আত্মবিশ্বাসী পশ্চিমা বিশ্বের নব্য-উদারবাদী ‘গণতন্ত্রায়ন’ অভিযানকে যদি তিনি প্রশ্রয় দেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে তার এবং রাশিয়ার ভাগ্যেও এমন কিছু ঘটতে পারে। ওই বছরের ডিসেম্বরেই মস্কোতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে পশ্চিমাঘেঁষা শহরবাসীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এটি ক্রেমলিনের জন্য ছিল আরও একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেত।
২০১২ সালের মে মাসে নিজের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার আগে পুতিন কয়েক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ছিল, যা পরবর্তী দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের ‘ময়দান বিপ্লবে’ রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করেছিল।
ইরানের বর্তমান নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে পুতিন সম্ভবত আজ আত্মতৃপ্তি বোধ করছেন যে, ইউক্রেনে তার পদক্ষেপগুলো সঠিক ছিল। একই সঙ্গে তিনি তার সোভিয়েত পূর্বসূরিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন যে, তারা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তৈরি করে গিয়েছিলেন- যা রাশিয়ার প্রকৃত সার্বভৌমত্ব এবং তার নিজস্ব শাসনব্যবস্থার অভেদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
ইউরোপে রাশিয়ার নিকটতম প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নিজে একটি নৃশংস ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করা সত্ত্বেও, পুতিন নিজেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার একজন একনিষ্ঠ রক্ষক মনে করেন। তার মতে, এই বিশ্বব্যবস্থার পতনের মূল কারণ হলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের অতি-আত্মবিশ্বাস, অসহনীয় ঔদ্ধত্য এবং বেপরোয়া আচরণ।
ইউক্রেনে সর্বাত্মক আগ্রাসন চালানোর ধারণার শিকড় নিহিত রয়েছে ১৯৩০-এর দশকের সোভিয়েত তত্ত্বে, যার মূল কথা ছিল- যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া। ২০০৭ সালে যখন ন্যাটো ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন থেকেই দেশ দুটি ক্রেমলিনের চোখে ‘শত্রু ভূখণ্ডে’ পরিণত হয়। ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এই তত্ত্বটি প্রথমবারের মতো সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার অভিযানকে ক্রেমলিন একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়া যে ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে ইরান যা মোকাবিলা করছে, তা থেকে রক্ষা পেতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমের সঙ্গে এই লড়াইয়ে ইউক্রেনকে চূড়ান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার মাধ্যমে ক্রেমলিন রাশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীকে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব থেকে আড়াল করতে পেরেছে। আর রুশ সমাজের কাছে এই যুদ্ধকে একটি ‘অনিবার্য’ পরিস্থিতি হিসেবে সফলভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, দুদেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বৈরী সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান রাশিয়ার এক অপ্রত্যাশিত মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল- যখন পশ্চিমের অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে তুর্কি ‘বায়রাক্তার’ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার ওপর প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তার করবে। তবে ইরানের এই সমর্থন কোনো নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের নিদর্শন ছিল না; বরং এর বিনিময়ে তেহরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করেছে।
তবে রাশিয়া ও ইরানের এই সম্পর্ক এখন এতটাই গভীর নয় যে মস্কো ইরানের পক্ষ হয়ে এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। এর বাইরেও, ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রেমলিনের একটি অলিখিত ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ রয়েছে। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছে এবং রাশিয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞাতেও যোগ দেয়নি। যেহেতু ইসরায়েল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মানে না, তাই এটি এখন রাশিয়ার সেই সব ধনী অভিজাত বা অলিগার্চদের জন্য একটি ‘নিরাপদ স্বর্গ’ হয়ে উঠেছে, যাদের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
রাশিয়ার নিরপেক্ষ থাকার আরও একটি বড় কারণ হলো- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে এটি শেষ করার চেষ্টা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে, মস্কো চায় না ইউরোপীয় নেতারা কোনোভাবে তাতে বিঘ্ন ঘটাক বা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পাক।
যুক্তরাষ্ট্র যদি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরান কিংবা ইরানের তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচলনা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে চতুর্গুণ হামলা চালাবে তেহরান। ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাঘাব এস্ফাহানি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এস্ফাহানি বলেন, ‘যুদ্ধসংক্রান্ত যে কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আমরা যতদ্রুত সম্ভব সাড়া দেবো। যদি তেলকূপ কিংবা ইরানের যে কোনো অবকাঠামোগত স্থাপনায় হামলা হয়, তাহলে যেসব দেশ আগ্রাসনকারীদের সহযোগিতা করছে— সেসব দেশ লক্ষ্য করে চতুর্গুণ হামলা পরিচালনা করবে ইরান।’
‘আমরা ভিন্ন ধারার অঙ্ক চর্চা করি। এই অঙ্কে ইরানের এক কূপ (মার্কিন মিত্রদের) চারটি কূপের সমান’ এক্সবার্তায় বলেন এস্ফাহানি।
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত কিছুদিন ধরে ইরানের বন্দর, হরমুজ প্রণালি, পারস্য ও আরব সাগরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী যে অবরোধ জারি করেছে— তার জেরে বিপুল চাপে পড়েছে ইরানের তেলবাণিজ্য।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তারা শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়। কারণ তারা নগদ অর্থের সংকটে ধুঁকছে। প্রতিদিন তাদের লোকসান হচ্ছে ৫০ কোটি ডলার। সেনা এবং পুলিশ বাহিনী ইতোমধ্যে অভিযোগ তোলা শুরু করেছে যে তারা বেতন পাচ্ছে না।’
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই পোস্ট দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরোনো আগেই এক্সে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সতর্কবার্তা দেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
‘তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড অব্যবহৃত আছে’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের আধিপত্যের ধারণা বাস্তবসম্মত নয় এবং তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ অব্যবহৃত রয়েছে।
রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশলকে একটি সমীকরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন।
গালিবাফের মতে, ইরানের শক্তির মূল ভিত্তি সরবরাহভিত্তিক- যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেলের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর করছে চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপের ওপর, যেমন কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।
তিনি বলেন, তেহরানের হাতে এখনো এমন কিছু বিকল্প রয়েছে যা এখনো প্রয়োগ করা হয়নি। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার বেশ কিছু অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তারা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে- দেখা যাক, সরবরাহ কার্ড বনাম চাহিদা কার্ড।’ ইরানের সম্ভাব্য কৌশল প্রসঙ্গে গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে বাব এল-মান্দেব প্রণালী এবং পাইপলাইন সংক্রান্ত বিকল্প এখনো প্রয়োগ করা হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়া হয়েছে, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা। অধিকাংশ আসনেই তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, এমনকি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও আসন পেয়েছেন তারা। ফল ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ ও বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
গত শনিবারের এই ভোট ছিল ২০০৬ সালের পর গাজায় প্রথম কোনো নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম ফিলিস্তিনি নির্বাচন।
গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে গাজা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং অধিকৃত পশ্চিমতীরে নির্বাচন বয়কট করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিছু তালিকায় হামাস-সমর্থিত প্রার্থীরা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত তালিকা ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থিত বলে পরিচিত তালিকা ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ মাত্র দুটিতে জয় লাভ করেছে। বাকি আসনগুলো কোনো পক্ষের সাথে যুক্ত নয় এমন দুটি স্থানীয় গ্রুপ লাভ করেছে।
পশ্চিমতীরে আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো আসনে তারা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হয়নি। নির্বাচনে গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে তা ছিল ৫৬ শতাংশ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ।
গাজায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি বিধি-নিষেধ এবং চলমান সংঘাতকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনী সরঞ্জাম ইসরায়েলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি। এ ছাড়া বিশাল জনপদ বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি।
২০০৭ সাল থেকে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি এবং পশ্চিম তীরে বয়কট করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিছু তালিকায় তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। গাজায় ফাতাহ-সমর্থিত তালিকা ১৫টির মধ্যে ৬টি আসন পেলেও, হামাস-ঘনিষ্ঠ তালিকা মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ফাতাহ এগিয়ে থাকলেও হামাসের প্রভাব পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়।
দখলদার ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবার হাত মেলালেন দেশটির দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ। নিজেদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করে নতুন এক নির্বাচনী জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মূলত ২০২৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকারকে পরাজিত করাই এ নতুন ঐক্যের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানিয়েছেন, নতুন এই রাজনৈতিক দলের নাম হবে ‘টুগেদার’ (একত্রে)। বেনেট নিজেই এ জোটের নেতৃত্ব দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনকালের সমালোচনা করে বেনেট বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর পর এখন সময় এসেছে নেতানিয়াহুর থেকে আলাদা হওয়ার। ইসরায়েলকে তার বর্তমান পথ পরিবর্তন করতে হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে এমনিতেই চাপে থাকা নেতানিয়াহুর জন্য বেনেট-লাপিদ জোট এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ নতুন জোটবিরোধী জনমতকে একীভূত করতে পারলে আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে।
আগামী অক্টোবর মাসে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিরোধীদলগুলো বেশ কয়েকবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকার ভাঙার চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়েছে। আগামী নির্বাচনের উদ্যোগও আলোর মুখ দেখেনি। এবার দেশটির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী একজোট হয়ে নেতানিয়াহুকে হটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ জানান, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে চলেছেন। উদ্দেশ্য, নেতানিয়াহুকে পরাজিত করা। লাপিদ নিজেও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে উভয় নেতা যৌথভাবে প্রার্থীর তালিকা উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় এবং যৌথ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে।
মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেছেন, ‘এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।’
রাশিয়া ও ইরান দীর্ঘদিনের মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মস্কো তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থক হিসেবে কাজ করছে। ক্রেমলিন প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে সংরক্ষণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে, তবে সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হয়। যদিও এই চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং আলোচনায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে এ মন্তব্য করেন।
এর আগে মার্চ মাসে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, জাহাজ ও বিমান চলাচল-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে—যা এই যুদ্ধে মস্কোর সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
রাশিয়া সফরের আগে আরাগচি পাকিস্তান ও ওমানে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সফর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো, জানালেন আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি জানান, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দাবির’ কারণেই কোনো সফল সমাধান আসেনি।
বর্তমানে রাশিয়া সফরে থাকা আরাগচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রুশ মিত্রদের সঙ্গে বিশেষ পরামর্শ করবেন। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিভিন্ন শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার বিষয়টিও স্পর্শ করেন। তিনি বলেন, ‘এই জলপথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত একটি বৈশ্বিক বিষয়।’ এই ইস্যুতে ওমানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
আরাগচি আরও জানান, হরমুজ প্রণালী রক্ষায় ইরান ও ওমানের মধ্যে অনেক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার ব্যাপারে দুই দেশ একমত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই আলোচনার গুরুত্ব কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় মস্কোর সমর্থন পেতে সোমবার ভোরে রাশিয়ায় পৌঁছান আরাঘচি। এর আগে, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। যে কারণে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান জানাতে শনিবার মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান সফরে যান আরাঘচি। ওমান সফর নিয়ে তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যা সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য উপকারী হবে।
ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসলামাবাদ সফরও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সেখানে তিনি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যকর রূপরেখা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বিষয়ে আসলে কতটা আন্তরিক সেটিই এখন দেখার বিষয়। আরাঘচির ওই মন্তব্যের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে উভয়পক্ষই এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে, লেবাননে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও দুই নারীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
ইরানি হামলায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম প্রাথমিকভাবে যতটা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে যা জানানো হয়েছে তার তুলনায় অনেক বেশি, এবং এসব ক্ষতি মেরামতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অঞ্চলটির একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত সাতটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরঞ্জাম সংরক্ষণের গুদাম, অপারেশন পরিচালনার কমান্ড সেন্টার, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
এছাড়া রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা এবং এমনকি কিছু বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামরিক চলাচল ও নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইরানের একটি পুরোনো এফ-৫ যুদ্ধবিমান শক্তিশালী মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন পর্যন্ত এই হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি। এমনকি ওই অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও ক্ষতির মাত্রা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
স্বচ্ছতার অভাবে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এক সহকারী জানান, তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে তথ্য চেয়ে আসছেন, কিন্তু এখনো পূর্ণ চিত্র জানতে পারেননি—বিশেষ করে এমন সময়ে যখন পেন্টাগন রেকর্ড পরিমাণ বাজেট চাইছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ কিছু জানে না। আর এটা প্রশ্ন না করার কারণে নয়। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে জানতে চাইছি, কিন্তু নির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছি না—এমন সময়ে যখন পেন্টাগন রেকর্ড পরিমাণ বাজেট চাইছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ চেয়েছে। সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কার্যক্রমে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ৮৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে।
ইরানে আবার হামলার হুমকি
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। দেশটির এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রতিরক্ষাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রচেষ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল আর ইরানে নতুন করে ইসরায়েলের হামলার হুমকিতে আবার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধিদল অবশ্য ইসলামাবাদ ছেড়ে গেছে। তবে ইরানের প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বৈঠকে বসার আগে তাদের দাবিগুলো পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ৩৯ দিনের হামলার পর ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। এতে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সেই পাকিস্তানেই ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রায় ২১ ঘণ্টা বৈঠক করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখানে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়নি। তাই ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের কারণেই মূলত দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর মধ্যেই প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে গত বুধবার তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে থেকে। এর অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটন বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটিতে আর কোনো হামলা হবে না—এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণসহ নানা বিষয়ে বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আবার যুদ্ধের আশঙ্কা
ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। কারণ, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। বিবিসির সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) জানানো হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ‘খামেনি যুগের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটাতে’তার দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবুজসংকেতের অপেক্ষায়’ রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার লক্ষ্য ইরানের সক্ষমতাকে সর্বাত্মকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
কাৎজের এ মন্তব্যকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কাৎজের ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের সামরিক ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী।
কাৎজ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, প্রধান মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় সাপেক্ষে সব ধরনের সামরিক পথই খোলা রাখা হয়েছে।
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টা ২৩ মিনিট) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-পৃষ্ঠের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের কোনো তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হোক্কাইডো দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাপ্পোরো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী ঝাঁকুনির কারণে হোক্কাইডোর পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে বড় পাথর খসে পড়া এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই শক্তিশালী কম্পনের ঠিক এক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। জেএমএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহ এই অঞ্চলে একই ধরনের বা এর চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত সপ্তাহের সোমবারও হোক্কাইডোর আইওয়াত জেলায় ৭.৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, যার কম্পন কয়েকশ মাইল দূরে অবস্থিত রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয় এবং অন্তত ছয়জন আহত হন।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি ভূমিকম্প হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে যত ভূমিকম্প হয়, তার প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে সংঘটিত হয়ে থাকে। এই নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানের অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক ঘন ঘন কম্পন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে এবং এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই বিজয় অর্জন করবে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, তেহরান যদি প্রকৃতপক্ষে শান্তি চায় তবে তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এখন থেকে পরবর্তী সকল আলোচনা কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রতিনিধিদের বিষয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের আলোচকদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করলেও অনেকের মধ্যেই সেই বিচক্ষণতার অভাব রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান শেষ পর্যন্ত সঠিক ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, যেকোনো ধরনের ফলপ্রসূ আলোচনায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
আঞ্চলিক রাজনীতির আলোচনায় পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং ফিল্ড মার্শালকে ‘চমৎকার’ ও ‘সম্মানযোগ্য’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, পাকিস্তান-ভারত সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ১১টি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাব মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশটির প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের নৈশভোজে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প হামলাকারীকে একজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হামলাকারীর ম্যানিফেস্টো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সে অত্যন্ত অসুস্থ এবং তার মধ্যে খ্রিস্টানবিরোধী উগ্র মনোভাব কাজ করছিল। হামলাকারীর পরিবারও তার মানসিক সমস্যার বিষয়টি আগে থেকে জানত বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতায় হামলাকারীকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নিজে নিরাপদ আছেন বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
রোববার এক বিবৃতিতে প্রাদেশিক আইআরজিসি বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে চলমান যুদ্ধবিরতি চলাকালীন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো আবিষ্কৃত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাঞ্জানে আইআরজিসির কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ‘তিনটি জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা এবং আরও একটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা।’
বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৫৭ এমওপি হলো ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের একটি অস্ত্র, যা মাটির গভীরে প্রোথিত সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা।
বিবৃতি অনুসারে, আইআরজিসি বাহিনী প্রদেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে দূষিত করার উদ্দেশে শত্রু যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি ছোট বোমাও শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছে।
সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরজিসি আরও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটও নিষ্ক্রিয় করেছে, যেগুলো এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল। যদিও সেগুলো অকার্যকর ছিল।
এছাড়া রকেটগুলোর মধ্যে ৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১০টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, বিবৃতিতে জিবিইউ-৩৯ টাইপ দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে, যেগুলো এর আগে প্রাদেশিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ভূপাতিত করা হয়েছিল।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে চালানো হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার দেশটির একাধিক সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত শনিবার দেশটির কাটি শহরে সাদিও কামারার বাসভবনে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা হামলা চালান। শহরের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় চালানো ওই হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনও লক্ষ্যবস্তু করেন জঙ্গিরা।
মালিতে ২০২০ এবং ২০২১ সালে পরপর সংঘটিত দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন কামারা। মালি থেকে দীর্ঘদিন সংবাদ সংগ্রহ করা আল-জাজিরার নিকোলাস হক বলেন, ‘তিনি ক্ষমতাসীন সামরিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং কেউ কেউ তাকে মালির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখতেন।’
হক বলেন, ‘হামলাকারীরা কাটি শহরে কামারার বাসভবনে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই দুর্গসম সামরিক শহরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতাও বসবাস করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাটিকে দেশের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তা সত্ত্বেও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএমআইএন) এবং আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) তুয়ারেগ যোদ্ধারা সেখানে হামলা চালিয়েছেন।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গোইতা একটি সুরক্ষিত স্থানে নিরাপদে আছেন। হামলা শুরু হওয়ার সময় তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে তিনি সামরিক বাহিনীর কমান্ডে বহাল রয়েছেন।’ সশস্ত্র জঙ্গিরা মালির রাজধানী বামাকো ছাড়াও উত্তরের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেসহ আরও বেশ কিছু স্থানে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, রোববারও কিদালে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হক বলেন, ‘অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও এখনো গোলাগুলি চলছে।’
বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি বলেন, ‘সম্ভবত আগামী দিনগুলোতে মালিতে বিভিন্ন অঞ্চল ও কৌশলগত সব অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে আরও লড়াই দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী আগে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ত, তারা এখন তাদের সাধারণ শত্রু মালির রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’
বুকার্তি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এই দুটি গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে লড়াই করছে। কিন্তু গত বছর তারা একজোট হয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঘোষণা দেয়। গত কয়েক দিনে আমরা যা দেখছি, তা মূলত সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন।’
মালিতে এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসির মহাসচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স।
পাকিস্তান ছাড়ার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দেশটিতে সফরে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, ওমান সফর শেষে আরাগচি আজ রোববার সন্ধ্যায় পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। পাকিস্তান থেকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে রাশিয়া। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তাঁর এই ঝটিকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে এসেছিলেন আরাগচি। শনিবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তাঁর সেই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি ওমান সফরে চলে যান। পুনরায় পাকিস্তানে ফেরার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আরাগচি আজ ইসলামাবাদে এসে পুনরায় পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না। ইরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মাত্রারিক্ত এবং একপাক্ষিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দিলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
গত শুক্রবার আরাগচির সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ইতোমধ্যে ইরানে ফিরে গেছেন। সেখানে তাঁরা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ওই প্রতিনিধি দলটিও পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি বা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান।
সামগ্রিকভাবে, আব্বাস আরাগচির এই পুনরায় পাকিস্তান আগমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্দার আড়ালে কোনো একটি শক্তিশালী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বরফ গলানোর চেষ্টা করা হলেও দাবি-দাওয়ার অনড় অবস্থানই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার সফরের আগে ইসলামাবাদে আরাগচির এই যাত্রাবিরতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় কোনো কার্যকর অগ্রগতির খবর আসে কি না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করেছেন। হোয়াইট হাউস থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করবে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই সফর স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামাবাদ না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা ফলাফল ছাড়া শুধু আলোচনার জন্য এত সময় এবং শ্রম ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো আলোচনার জন্য তাঁর প্রতিনিধিরা সর্বদা প্রস্তুত থাকলেও অনর্থক দীর্ঘ ভ্রমণে তিনি আগ্রহী নন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বর্তমানে তীব্র কোন্দল ও নীতিগত বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। তাঁর মতে, ইরানি প্রশাসনের ভেতরে কে প্রকৃত ক্ষমতার দায়িত্বে আছে তা তারা নিজেরাই স্পষ্ট জানে না। ট্রাম্প কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আলোচনার ক্ষেত্রে বর্তমানে সব শক্তিশালী তাস যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং ইরান যদি প্রকৃতপক্ষে শান্তি আলোচনা করতে চায়, তবে তারা সরাসরি ফোন কল করলেই হবে।
ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে তাঁর সফর শেষ করেছেন। পাকিস্তানে অবস্থানকালে আরাঘচি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও সম্পন্ন করেছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বাতিলের এই ঘোষণাটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টাকে এক ধরনের বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, যাদের ওপর মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের নতুন অবস্থানের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক সংলাপের বিষয়টি আপাতত থমকে গেল। ট্রাম্পের এমন কঠোর ও অপ্রত্যাশিত কৌশলগত অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেলে সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালীন এক বন্দুকধারীর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার (সিক্রেট সার্ভিস) সদস্যরা। শনিবার রাতে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এই আয়োজনে হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন খাবার টেবিলে বসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলেন, ঠিক তখনই হোটেলের বাঙ্কেট হলের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ পাওয়ার পরপরই সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে ঘিরে ফেলেন এবং তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার সময় হোটেলের লবিতে এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়েছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত বন্দুকধারীকে পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গুলির ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো হলটি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেখানে উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করেন। ওয়াশিংটন পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে পুরো হোটেলটি ঘিরে রেখেছে।
হামলার শিকার হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেলেনিয়া ট্রাম্প দুজনেই সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই নৈশভোজে সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের অনেক বিশিষ্ট তারকা ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওইজা জিয়াং জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থগিত হওয়া নৈশভোজের অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করা হবে।
প্রতিবছর হোয়াইট হাউজে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে এই বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সশরীরে উপস্থিত থাকেন। অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভেন্যুতে এমন হামলার ঘটনা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।