সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ইন্দোনেশিয়ায় বিয়েবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধ করে আইন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিয়েবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে দেশটির পার্লামেন্টে মঙ্গলবার এ আইন পাস করা হয়। খবর বিবিসির।

ইন্দোনেশিয়ানদের পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানকালে বিদেশি নাগরিকরাও এ আইনের আওতায় পড়বেন।

আইন অনুসারে, সঙ্গী বা অভিভাবক কারও বিরুদ্ধে বিয়েবহির্ভূত যৌনতার অভিযোগ তুলতে পারবেন। পরকীয়াও এ আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনটি পাসে দেশটিতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনকি বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানী জাকার্তায় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই আইন নারী, এলজিবিটি ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দেশটির আইনপ্রণেতারা এ আইন পাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বলছেন, ইন্দোনেশিয়া ডাচ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই প্রথম আইনটি পুরোপুরি সংশোধন করা হলো।

এর আগে ২০১৯ সালেও একবার এ আইনের খসড়া ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে তোলা হয়। ওই বছর এ নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়।

এবার বিরোধী দলগুলো বলছে, আইনটি সমাজকে পিছিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতাও হরণ করবে।

ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে ইতোমধ্যেই যৌনতা এবং সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর ধর্মীয় আইন রয়েছে। দেশটির আচেহ প্রদেশে কঠোর ইসলামী আইনের প্রয়োগ রয়েছে। জুয়া খেলা, মদ্যপান এবং ব্যভিচারের জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। এর মধ্যে আছে বেত্রাঘাতের মতো শাস্তিও।


ভূমিকম্পে তুরস্কের ঐতিহাসিক মসজিদ বিধ্বস্ত, দেখুন ছবিতে

ভূমিকম্পে তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘ইয়েনি চামি’ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমিকম্পে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর মালাতিয়ার ঐতিহাসিক ‘ইয়েনি চামি’ মসজিদের সিংহভাগ গুড়িয়ে গেছে। একদফা সংস্কার করে গত বছর প্রার্থনার জন্য মসজিদটি খুলে দেয়া হয়।

সোমবার ভোরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং পরবর্তী পরাঘাতে তুরস্ক ও সিরিয়ায় অন্তত ২ হাজার ৩০০ মানুষের প্রাণহানি এবং কয়েক হাজার ভবন ধ্বসে গেছে। ইয়েনি চামি মসজিদও এর শিকার।

ঐতিহাসিক মসজিদটির আগের একটি সংস্করণ ১৮৯৪ সালের ৩ মার্চ ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়েছিল। সে স্থানে পরবর্তীতে নতুন মসজিদ তৈরি করা হয়। সর্বশেষ সংস্করণটির কপালেও জুটল একই ভাগ্য।

তুরস্কের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলটি সিরিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে ছিল। তাই ভয়াবহ হতাহতের শিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াও।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

নিচের ছবিতে দেখুন ধ্বসে পড়ার আগে মসজিদটি দেখতে কেমন ছিল

আর ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত মসজিদের বর্তমান দশা দেখে নিন এখানে

বিষয়:

তুরস্ক-সিরিয়ায় যাচ্ছে রাশিয়ার উদ্ধারকারীরা

সিরিয়ার আলেপ্পোতে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধার তৎপরতায় ব্যস্ত উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় উদ্ধার কাজের সাহায্যের জন্য রাশিয়ার উদ্ধারকারীরা যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে সিরিয়ার উদ্দেশে রাশিয়ান উদ্ধাকারীরা রওনা হবে। আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মস্কোর সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার ধ্বংস্তুপ সরাতে রাশিয়ার ৩০০ সেনাসদস্য দেশটিতে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

নুরদায়ি শহরটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এই দুটি দেশ ছাড়াও লেবানন ও সাইপ্রাসে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার দূরের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে কম্পন।

তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেবার একই মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিগত ২৫ বছরে সাতবার তুরস্কে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী বলছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

কম্পনের তীব্রতা এবারে এতই বেশি ছিল যে মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৬৬টি পরাঘাত অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর দিছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিষয়:

তুরস্ক-সিরিয়াকে সাহায্যে প্রস্তুত রাশিয়া-ইউক্রেন-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কের দিয়ারবাকিরে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ ভূমিকম্পে শোকে মূহ্যমান তুরস্ক-সিরিয়া। ৭.৮ মাত্রার মূল ভূমিকম্প ও এর পরে বেশ কিছু সংখ্যক পরাঘাতে নিহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশগুলোর উদ্ধারকর্মীরা। তবে বিপদে পাশে পাওয়ার আশ্বাসও বিভিন্ন দেশ থেকে পাচ্ছে দেশ দুটি। রাশিয়া, ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তো আছেই, প্রয়োজনে সাহায্যে প্রস্তুত আপাতদৃষ্টিতে তুরস্ক-সিরিয়ার শত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলও।

রাশিয়া

রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে, তুরস্কের প্রয়োজন হলে ১ হাজার উদ্ধারকর্মীসহ দুইটি আধুনিক এল-৭৬ এয়ারক্রাফট পাঠাবে তারা। সমবেদনা জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে বার্তা পাঠিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

একইভাবে সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকেও বার্তা পাঠিয়েছেন পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কের ন্যাটো জোটের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এই কঠিন সময়ে আঙ্কারার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়ায় আজকের বিপর্যয়ের খবরে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে তুরস্ককে জানাতে আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তাদের চব্বিশ ঘণ্টা সার্ভিসের ইমার্জেন্সি রেসপন্স কোঅরডিনেশন সেন্টার তুরস্ক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছে। তাছাড়া জরুরি কোপারনিকাস ম্যাপিং সেবাও চালু করেছে ইউনিয়ন।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে আমাদের বন্ধুবৎসল তুর্কি জনগণকে অনুভব করছি। যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমরা।

গ্রিস

পাশাপাশি দেশ হওয়ায় তুরস্কের সাথে গ্রিসের সম্পর্ক তিক্ততাপূর্ণ। তবে ভূমিকম্পে আক্রান্তদের সাহায্যে প্রস্তুত দেশটি। গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিকস মিতসোতাকিস জানিয়েছেন, তার দেশের উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই সাহায্যার্থে পাঠানো হবে।

ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি চিকিৎসা এবং উদ্ধার তৎপরতায় সাহায্য করার জন্য তার দেশের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

জার্মানি

জার্মানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের আসলে কী দরকার তারা সেটি তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ভারত, স্পেন, তাইওয়ানও জানিয়েছে যেকোনো সাহায্যের জন্য প্রস্তুত তারা।

বিষয়:

দুই ছেলের অপেক্ষায় মা

তুরস্কে ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলা। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দিয়ারবাকির এলাকায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে দুই ছেলের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন এক মা।

তিনি বলেন,‘দোলনার মতো দুলছিল সাততলা ভবন। আমার ঘরে ৯ জন সদস্য ছিল। সাতজন বের হতে পেরেছি। তবে আমার দুই ছেলে বের হতে পারেনি। তারা বিধ্বস্ত ভবনে চাপা পড়েছে।’ ভূমিকম্পে ওই মায়ের হাত ভেঙে গেছে। মুখে আঘাত পেয়েছেন। নিজের শরীরে তীব্র ব্যথা উপেক্ষা করেই তিনি সন্তানের আশায় বিধ্বস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

দিয়ারবাকির আরেক যুবক জানান, তার বাড়ির পাশের বহুতল ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ শোনা যায়। তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখতে পান, চারদিকে ধ্বংসস্তুপ। আর্তনাদে চারপাশ ভারী হয়ে এসেছে।

গাজিয়ানতেপ শহরের উপকণ্ঠের এক বাসিন্দা জানান, গত ৪০ বছরে এমন ভূমিকম্প দেখিনি। অন্তত তিনবার শক্তিশালীভাবে আমাদের ভবনটি দুলে ওঠে। তুরস্কের গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিওফুটেজে দেখা যায়, ওসমানিয়া প্রদেশে একটি চারতলা ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে কম্বলে পেঁচিয়ে আহত এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বিষয়:

তুরস্কে ভূমিকম্প: লাইভস্ট্রিমে সহায়তার জন্য আর্তনাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কে ধ্বংসস্তুপে আটকা পড়া এক যুবকের সহায়তার জন্য আর্তনাদের ভিডিওফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায় ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়া এক যুবক মুঠোফোনে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ খুলে লাইভস্ট্রিমিং করে উদ্ধারের জন্য আর্তনাদ করছেন ।

আর্তনাদ করা ওই যুবকের নাম ফিরাত ইয়ালা বলে জানা যায়। ইয়ালাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানান। তবে তার বাবা-মা ধসে পড়া ভবনে আটকা রয়েছে।

তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে লাশের সংখ্যা বাড়ছেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য়ানুযায়ী, তুরস্ক ও সিরিয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৫ শ ছাড়িয়েছে।

তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেবার একই মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিগত ২৫ বছরে সাতবার তুরস্কে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী বলছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

বিষয়:

তুরস্কের ভূমিকম্পে কেঁপেছে গ্রিনল্যান্ডও

তুরস্কে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে কেঁপেছে গ্রিনল্যান্ডও। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের গাজিয়াতেপে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে দেশটি ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়া। মারাত্মক কম্পন অনুভূত হয়েছে আশেপাশের দেশ লেবানন, সাইপ্রাস কিংবা ফিলিস্তিনেও। কম্পনের মাত্রা এতই বেশি যে সেটি ৫ হাজার ৫ শ কিলোমিটার দূরের গ্রিনল্যান্ড থেকেও অনুভূত হয়েছে। ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানায়।

ভূতত্ত্ববিদ টিনে লারসেন এএফপিকে বলেছেন, ‘তুরস্কের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি স্পষ্টভাবে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের সিসমোগ্রাফে বোঝা গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

লারেসেন বলেছেন, ‘ডেনিশ দ্বীপ বোর্নহমে কম্পনের ঢেউ মূল উৎপত্তিস্থলে আঘাত হানার ৫ মিনিট পর এসেছে। আর গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে কম্পনের ঢেউ পৌঁছায় তুরস্কে মূল আঘাতের ৮ মিনিট পর। পরে এটি পুরো গ্রিনল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে।’

পরবর্তীতে ৭.৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প তুরস্কে আঘাত হানে। সেই ভূমিকম্পের কম্পনও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে বোঝা গেছে বলে জানান তিনি।

তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে লাশের সংখ্যা বাড়ছেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য়ানুযায়ী, তুরস্ক ও সিরিয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৫ শ ছাড়িয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস।

বিষয়:

তুরস্কে আবার ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

সোমবার ভোরে তুরস্কের গাজিয়াতেপে হানা ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। ধ্বংসস্তুপ থেকে বের করা হচ্ছে একের পর এক লাশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে ভোরের ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে আরেক প্রদেশে আবার ৭.৫ মাত্রার ভূকম্পন হয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন ভবন থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে লাশ। এরমধ্যেই ফের বড়সড় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানল দেশটিতে।

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলের কেহরামানমারাস প্রদেশের একিনোজো শহরে স্থানীয় সময় দুপরে ৭.৫ মাত্রার ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

একিনোজোর ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। যার গভীরতা ১০ কিলোমিটার।

অর্থাৎ ৯ ঘণ্টার মধ্যে বড়সড় তিনটি ভূকম্পন দেখলো তুরস্ক। এর আগে প্রথম ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর গাজিয়াতেপ প্রদেশের নুরদায়িতেই ৬.৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।

সোমবার ভোরে গাজিয়ানতেপে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে লাশের সংখ্যা বাড়ছেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য়ানুযায়ী, তুরস্ক ও সিরিয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৩ শ ছাড়িয়েছে।

ভূমিকম্পের ঘটনায় তুরস্কে এখনো পর্যন্ত অন্তত ৯১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ২৪ শরও বেশি লোককে উদ্ধার করেছে।

সিরিয়ায় এখনও পর্যন্ত ৩৮৬ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২৩৯ জনই আলেপ্পো, হামা, লাতাকিয়া, তারতুসের মতো শহরের। এছাড়া আহতের সংখ্যাও ৬৪৮ জনের বেশি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানায়।

এছাড়া সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ১৪৭ জনের প্রাণ গেছে বলে জানানো হয়। সেখানে আহতের সংখ্যা ৩৪০।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

সূত্র: জি নিউজ

বিষয়:

দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, ভূমিকম্পে নিহত ২৩০০ ছাড়িয়েছে

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে লাশের সংখ্যা বাড়ছেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য়ানুযায়ী, তুরস্ক ও সিরিয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।

তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভূমিকম্পের ঘটনায় তুরস্কে এখনো পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চেয়েছে তুরস্কের দুর্যোগ সংস্থা ।

তুরস্কের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলটি সিরিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে ছিল। তাই ভয়াবহ হতাহতের শিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিও।

সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৮১০ ছাড়িয়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

নুরদায়ি শহরটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এই দুটি দেশ ছাড়াও লেবানন ও সাইপ্রাসে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার দূরের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে কম্পন।

তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেবার একই মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিগত ২৫ বছরে সাতবার তুরস্কে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী বলছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

কম্পনের তীব্রতা এবারে এতই বেশি ছিল যে মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৬৬টি পরাঘাত অনুভূত হয়।

বিষয়:

ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্প

তুরস্কে ভূমিকম্পের তাণ্ডবচিত্র। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আনুমানিক চার হাজার বছর ধরে ভূমিকম্প লিপিবদ্ধ করে আসছে মানুষ। যতদূর জানা যায়, তাতে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্প হয়েছে ১৫৫৬ সালে। সে বছর ২৩ জানুয়ারি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে চীনের শানশি ও আশপাশের প্রদেশ। এতে আনুমানিক ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

মিং সম্রাট জিয়াজিংয়ের আমলের ঘটনাটিকে ইতিহাসে ‘জিয়াজিং মহাভূমিকম্প’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। হতাহতের আনুমানিক হিসাব পাওয়া যায় তৎকালীন স্থানীয় এক বর্ষপঞ্জিতে। ওই অঞ্চলের আরও ২৬টি ভূমিকম্পের খবর আছে তাতে। তবে জিয়াজিং ভূমিকম্প লিপিবদ্ধের ধরন অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। বর্ণনায় পাহাড়ধস, বন্যা, দিনের পর দিন ধরে আগুনের পাশাপাশি ভূদৃশ্যে পরিবর্তনেরও উল্লেখ রয়েছে।

হিস্ট্রি ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু প্রদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের প্রাণহানির কথা আছে বর্ষপঞ্জিতে। সে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ যদিও কম, তবু জিয়াজিং ভূমিকম্পকেই ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম মনে করা হয়।

হতাহতের সংখ্যায় এরপর হাইতি ভূমিকম্পের উল্লেখ রয়েছে। ২০১০ সালের সে ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা ছিল ৭ মত্রার। পরেই ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ৫ মাত্রার আর দুটি ভূকম্পন লিপিবদ্ধ করা হয়। দ্বিমত থাকলেও সে ঘটনায় ৩ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯৩০-এর দশকে রিখটার মাপকাঠি তৈরির পর বিজ্ঞানীরা শানসির ভূমিকম্পটি ৮ থেকে ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে ধারণা করেন। ভূকম্পনের মাত্রার দিক থেকে সেটা সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল না।

এ ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালে চিলির বালদিবিয়া ভূমিকম্পের উল্লেখ করা যেতে পারে। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আর আর পরবর্তী সুনামিতে ৫ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্পটি ছিল ৯ দশমিক ৩ মাত্রার।

প্রশ্ন হলো, শানসি ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী না হলেও এত মৃত্যু কেন হয়েছিল? এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে চীনের ওই অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব। সঙ্গে দুর্বল কাঠামোর পাথুরে ভবনগুলোকেও দায়ী করা হয়।

শানসি ভূমিকম্পের পর ভবন তৈরির উপকরণে পরিবর্তন আনে চীনের মানুষ। পাথরের বদলে বাঁশ-কাঠের ব্যবহার বাড়তে থাকে। তুলনামূলক নরম উপকরণ হওয়ায় ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনশীল হয়ে ওঠে। তা ছাড়া, দুর্ঘটনায় দেয়াল ভেঙে মানুষের ওপর পড়লে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়।

চীনা পণ্ডিত কিন কেদার বর্ণনায় শানসি ভূমিকম্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। সে ঘটনার পর ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে শুরু করেন তিনি। প্রাচীন এক নথিতে তার উপদেশ ছিল, ‘ভূমিকম্পের শুরুতে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের তাৎক্ষণিক বের হওয়া উচিৎ না। গুটিসুটি মেরে মাটিতে পড়ে থেকে সুযোগের অপেক্ষা করুন। পাখির বাসা ধসে গেলেও ভেতরে কিছু ডিম টিকে যেতে পারে।’

কিন কেদার সে পরামর্শ যে ঠিক, তা এখন বোঝা যায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরও এখন অনেকটা কাছাকাছি পরামর্শ দিয়ে থাকে।

বিষয়:

৮৪ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখল তুরস্ক

২০২০ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইজমিরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো এক ব্যক্তিকে সমাহিত করছেন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহে ভূমিকম্পে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে তুরস্ক-সিরিয়া। এরইমধ্যে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৬ শরও বেশি। সোমবার তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজিয়ানতেপ প্রদেশে হানা এ ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।

সমমাত্রার ভূমিকম্প প্রায় ৮৪ বছর আগে ১৯৩৯ সালেও একবার দেখেছিল তুর্কিরা। উত্তর-পূর্ব তুরস্কে আঘাত হানা সেই ভূমিকম্পে প্রাণহানি ঘটেছিল ৩০ হাজার মানুষের।

টেকনোটিক প্লেটের অবস্থানের কারণেই তুরস্ক এত ভূমিকম্পপ্রবণ। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ভূকম্পবিদ্যা গবেষক স্টিফেন হিকস এসব তথ্য জানান।

গত কয়েক যুগে ঘটে যাওয়া তুরস্কের ভয়াবহ কয়েকটি ভূমিকম্পসমূহ-

অক্টোবর ২০২০

এজিয়ান সাগরের উপকূলে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে তুরস্ক ও গ্রিসের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেবার ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।

জানুয়ারি ২০২০

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। ২২ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয় শতশত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়া, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া।

অক্টোবর ২০১১

৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্কের পূর্বাঞ্চল। প্রাণ হারায় ১৩৮ জন আর আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫০। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ইরান সীমান্তের কাছাকাছি। ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল ইরাকের কিছু অঞ্চলও।

মার্চ ২০১০

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পের আঘাত আসলে নৈমিত্তিক ঘটনার মতোই। ২০১০ সালেও দেশটির এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের আঘাত অনুভূত হয়। ৬ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে একটি গ্রাম প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ৪টি গ্রাম। প্রাণহানি ঘটে ৫১ জনের। মূল ভূমিকম্পের পর ৫ মাত্রার আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল।

আগস্ট ১৯৯৯

২৪ বছর আগে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছিল তুরস্কবাসী। সেবার পূর্ব তুরস্কের ইজমিরে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে প্রাণ যায় অন্তত ১৭ হাজার জনের।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি

বিষয়:

তুরস্কে ভূমিকম্পের পর পরাঘাত হয়েছে ৬৬ বার

তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ান শহর ইদলিবের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একটি ভবনে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। কম্পনের তীব্রতা এবারে এতই বেশি ছিল যে মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৬৬টি পরাঘাত অনুভূত হয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

তথ্যানুযায়ী, অন্তত ৯টি প্রদেশে পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে ৩ বার। ৫ মাত্রার বেশি ১৪ বার আর ৪ মাত্রার বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে ৩৪ বারেরও বেশি।

মূল ভূমিকম্পের ১১ মিনিট পরই সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থলের ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের সেই ভূকম্পনটির মাত্রা ছিল ৬.৭। মূল ভূমিকম্পের ১৯ মিনিট পর ৫.৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।

সোমবার ভোর ৪টায় বেশিরভাগ মানুষ যখন ঘুমে নিমগ্ন, তখনই অনুভূত হয় তুরস্কের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ ভূমিকম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

নুরদায়ি শহরটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এই দুটি দেশ ছাড়াও লেবানন ও সাইপ্রাসে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার দূরের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে কম্পন।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তুরস্কে ২৮৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যেখানে আহতের সংখ্যা ২৩ শ’রও বেশি। আর প্রতিবেশী সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা ৩২০। দেশটিতে ৬৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার আলেপ্পো, লাতকিয়া, হামা ও তারতুসে এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা।

তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেবার একই মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিগত ২৫ বছরে সাতবার তুরস্কে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে শক্তিশালী বলছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

বিষয়:

মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত তুরস্ক-সিরিয়া, ৬ শতাধিক প্রাণহানি

তুরস্কে ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলা। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। দুই দেশে এরই মধ্যে প্রাণহানি ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দুই দেশেরই বিভিন্ন জনপদ যেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে চলছে স্বজন হারানোর আহাজারি।

তুরস্কের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সোমবার ভোরে আঘাত হানা ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে সিরিয়ায়, আর ২৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তুরস্কে।

তুরস্ক সরকারের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে দেশটির অন্তত ১০টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়েছে ১ হাজার ৭০০ ভবন। এ পর্যন্ত অন্তত ২৮৪ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৩ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিবেশী সিরিয়াকেও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে ভূমিকম্পটি। সেখানকার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্প দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের লাটাকিয়া থেকে রাজধানী দামেস্ক পর্যন্ত কাঁপিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলেপ্পো শহর, সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি।

নিজেরা বেঁচে গেছেন ভাগ্যক্রমে, এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসস্থল। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হোয়াইট হেলমেটস’। এই বিপর্যয়ের পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সোয়লু জানান, ভূমিকম্পে কাহরামানমারাস, হাতায়, গাজিয়ানতেপ, ওসমানীয়ে, আদিয়ামান, মালাত্যা, সানলুরফা, আদানা, দিয়ারবাকির ও কিলিস শহর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সব সংস্থাকে ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গাজিয়ানতেপ, কাহরামানমারাস, মালাত্যা, ওসমানীয়ে, দিয়ারবাকির, সানলুরফাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়েছে শত শত ভবন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওতকায় জানান, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৮টি ভবন ধসে পড়ার খবর মিলেছে। এর মধ্যে গাজিয়ানতেপ ও কাহরামানমারাসেই বিপর্যস্ত হয়েছে ৯০০ ভবন।

তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জনপদের পর জনপদ যেন বিপর্যয় পরবর্তী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপেই জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

ভূমিকম্প কাঁপিয়েছে পাশের দেশগুলোকেও
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

এই কম্পনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তারপর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়। নুরদায়ি শহরের আশপাশে গাজিয়ানতেপেই রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ ও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি কম্পন অনুভূত হয়।

অবশ্য তুরস্কের ভূতত্ত্ববিদরা বলেছেন, প্রথমে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ ছিল। কয়েক মিনিট পরেই সেখানে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি তুরস্কের নিকটতম প্রতিবেশী সিরিয়ার পাশাপাশি লেবানন এবং প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে। এমনকি তুরস্কের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসকেও কাঁপিয়েছে এই ভূমিকম্প।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত তুরস্কের অনেক জনপদ। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় অবস্থানরত বিবিসির প্রযোজক রুশদি আবুয়ালোপ জানান, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন সেখানে প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের মতো কম্পন অনুভব করেছেন।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূতত্ত্ববিদ স্টিফেন হিকস বলেন, এটি তুরস্কের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হতে পারে।

এর আগে ১৯৩৯ সালে দেশটিতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময় ৩০ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়।

ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার আশা এরদোয়ানের
ভূমিকম্পের পরপরই জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি সংস্থাকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নির্দেশনা দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোয়ান। কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীও তৎপর হয়। উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে বিমান বাহিনীর দুটি উড়োজাহাজও।

এক বার্তায় এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘যত কম ক্ষতিতে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই দুর্যোগ একসঙ্গে কাটিয়ে উঠবো বলে আমি আশাবাদী।’

সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্কের ন্যাটো জোটের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এই কঠিন সময়ে আঙ্কারার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়ায় আজকের বিপর্যয়ের খবরে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে তুরস্ককে জানাতে আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো।’

বিষয়:

ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্ক-সিরিয়ায় নিহত বেড়ে ১৭৬

তুরস্কে ভূমিকম্পের তাণ্ডবচিত্র। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে সোমবার ভোরে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০০ জনেরই প্রাণহানি হয়েছে সিরিয়ায়, আর ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তুরস্কে।।

তুরস্ক সরকারের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে দেশটির অন্তত ১০টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়েছে শত শত ভবন। এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সোয়লু জানান, ভূমিকম্পে কাহরামানমারাস, হাতায়, গাজিয়ানতেপ, ওসমানীয়ে, আদিয়ামান, মালাত্যা, সানলুরফা, আদানা, দিয়ারবাকির ও কিলিস শহর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সব সংস্থাকে ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দুর্যোগ ও জরুরি সংস্থা ‘আফাদ’র বরাতে বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পে মোট ৭৬ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন ৪৪০ জন।

স্থানীয় সরকারগুলোর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, মালাত্যা প্রদেশে ২৩ জন, সানলুরফারে ১৭ জন, দিয়ারবাকিরে ৬ জন এবং ওসমানীয়েতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির খবর মিলছে। মালাত্যায় ১০০ জন, দিয়ারবাকিরে ৭৯ জন এবং সানলুরফাতে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন।

ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মালাত্যার গভর্নর হুলুসি সাহিন জানান, সেখানে ধসে পড়েছে ১৩০টিরও বেশি ভবন। ওসমানীয়ে প্রদেশের গর্ভনর এরদিনচ ইলমাজ জানান, তার প্রদেশে অন্তত ৩৪ ভবন ধসে পড়েছে। আর দিয়ারবাকিরের গভর্নর আলী ইহসান সুয়ের তথ্যমতে, সেখানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অন্তত ৬টি ভবন।

ভূমিকম্পকবলিত আরও বিভিন্ন এলাকায় অনেক ভবন একেবারে ধসে পড়ার খবর প্রকাশ হচ্ছে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি ও টিআরটি ওয়ার্ল্ডে।

অন্যদিকে মৃত্যুর মিছিল দেখা যাচ্ছে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিবেশী সিরিয়ায়। সেখানকার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্প দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের লাটাকিয়া থেকে রাজধানী দামেস্ক পর্যন্ত কাঁপিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলেপ্পো শহর, সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হোয়াইট হেলমেটস’।

ভূমিকম্প কাঁপিয়েছে পাশের দেশগুলোকেও
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপের শহর নুরদায়ির ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সমতলের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে।

এই কম্পনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তারপর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়। নুরদায়ি শহরের আশপাশে গাজিয়ানতেপেই রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ ও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি কম্পন অনুভূত হয়।

অবশ্য তুরস্কের ভূতত্ত্ববিদরা বলেছেন, প্রথমে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ ছিল। কয়েক মিনিট পরেই সেখানে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি তুরস্কের নিকটতম প্রতিবেশী সিরিয়ার পাশাপাশি লেবানন এবং প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও অনুভূত হয়েছে। এমনকি তুরস্কের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসকেও কাঁপিয়েছে এই ভূমিকম্প।

ইউএসজিএসের গ্রাফে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে কম্পন এলাকা

গাজায় অবস্থানরত বিবিসির প্রযোজক রুশদি আবুয়ালোপ জানান, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন সেখানে প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের মতো কম্পন অনুভব করেছেন।

ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার আশা এরদোয়ানের
ভূমিকম্পের পরপরই জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি সংস্থাকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নির্দেশনা দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোয়ান। কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীও তৎপর হয়। উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে বিমান বাহিনীর দুটি উড়োজাহাজও।

এক বার্তায় এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘যত কম ক্ষতিতে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই দুর্যোগ একসঙ্গে কাটিয়ে উঠবো বলে আমি আশাবাদী।’

সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্কের ন্যাটো জোটের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এই কঠিন সময়ে আঙ্কারার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়ায় আজকের বিপর্যয়ের খবরে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে তুরস্ককে জানাতে আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো।’

বিষয়:

banner close