মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ব্যয় ছাড়াল ৩৭ বিলিয়ন ডলার, খরচের চাপে পেন্টাগন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৯

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়সহ বর্তমান সংঘাতের মোট খরচ ইতোমধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭৫০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যুদ্ধের এই বাড়তি ব্যয় পেন্টাগনের বাজেটের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া গেলে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাগুলোও এর ফলে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে, যার একটি বড় অংশই ইরান সংঘাত সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হবে। যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ব্যয়ের হার ছিল অত্যন্ত বেশি, যেখানে রয়টার্স একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল যে প্রথম ছয় দিনেই খরচ হয়েছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে এই বিশাল অংকের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনও প্রদান করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং সংঘাতের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। শুনানিতে সিনেটর প্যাটি মারে ও কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের অস্পষ্ট অবস্থান ও তথ্যের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর মতে, উসকানি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে ‘দশ গুণ বেশি শক্তিশালী’। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিনের হামলা-পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং বিশেষ করে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে হামলার নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আহত সেনাদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন, তবে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

নিউইয়র্কে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে দুই পক্ষের অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনাতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এ সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকটি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও পরবর্তী সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে আটটি যুদ্ধ বন্ধে নিজের ভূমিকার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ‘অসাধারণ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর হস্তক্ষেপে ৩ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে শেহবাজ তাকে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধের মীমাংসায় ভূমিকা রেখেছেন। এসব সংঘাত বন্ধ করা তাঁর জন্য সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর ভূমিকার কারণে ৩ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ট্রাম্প শেহবাজকে ‘টেরিফিক ম্যান’ বা ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের সামরিক সংঘাত হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাঁর প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থেমেছিল। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণেও তিনি একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে হয়েছিল; এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভূমিকার দাবি ভারত স্বীকার করেনি।

ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়লে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন হস্তক্ষেপ সেই পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করেছে।

জাতিসংঘে ভাষণের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ একাধিকবার টানেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব দেশের সংঘাত নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন, সেসব দেশের নেতারা তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফ বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষণে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ছাড়াও অন্যান্য যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসানে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে এসব সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা প্রত্যক্ষ ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

মোদিকে ব্যঙ্গ করে টানা হুমকির মুখে কমেডিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যঙ্গ করে অভিনয় করার পর অব্যাহত হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন কমেডিয়ান পুলকিত মণি। এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশের নয়ডা, লখনৌ ও কানপুরে তার নির্ধারিত শো বাতিল হয়েছে। পুলকিতের দাবি, লখনৌ ও কানপুরের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে ‘বারবার হুমকির’ কারণে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন পুলকিত। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গভঙ্গি ও কথাবলার ধরন নকল করে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা করেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের পর বিজেপির একাধিক নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতারা পরিবেশনাটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও কৌতুক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এর মধ্যেই পুলকিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শো বাতিলের ঘোষণা দেন। প্রথমে নয়ডার অনুষ্ঠান ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ কারণে বাতিলের কথা জানান তিনি। পরে পৃথক পোস্টে লখনৌ ও কানপুরের শো বাতিলের কারণ হিসেবে ‘বারবার হুমকি’র কথা উল্লেখ করেন। তবে হুমকিদাতাদের পরিচয় বা বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

তিনটি অনুষ্ঠান তিনি নিজে বাতিল করেছেন, নাকি আয়োজকরা বাতিল করেছেন—এ বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে স্পষ্টতা নেই। তবে পুলকিতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা পরিবেশনাটির সমালোচনা করলেও কংগ্রেসপন্থী নেতারা এটিকে কৌতুক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন। ফলে পুলকিতের শো বাতিলের ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও মতপ্রকাশের পরিসর নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


নির্বাচিত

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি হবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এবং অন্যটি পূর্ব উপকূলে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে যে এলাকায় নতুন ঘাঁটিটি করা হবে, সেখানে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান নামের একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল।

এ ছাড়া, পূর্ব উপকূলে যে ঘাঁটিটি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে ডেনমার্কের ডগ স্লেজ টহল বাহিনীর একটি সামরিক ফাঁড়ি রয়েছে। এই দুই ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।

তিনজনের মধ্যে দু’জন জানিয়েছেন, ঘাঁটি দুটির একটি নারসারসুয়াকে। সেখানে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যটি মেস্টারসভিগে। সেখানে বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর ইউনিট সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রলের ফাঁড়ি রয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির মূল খসড়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, চুক্তি সই হওয়ার আগ পর্যন্ত এর বিস্তারিত চূড়ান্ত হবে না। এদিকে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি আগের একটি বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত ও শক্তিশালী হবে’।

ডেনমার্কের ভাষ্যমতে, এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর না থেকে সামরিক জোট ন্যাটোর আওতায় আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন। ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি মাঝেমধ্যে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষই এমন ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের এমন হুমকির কারণে গত জানুয়ারি মাসে ন্যাটো জোটের ভেতরে এক কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়। সেই চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকত। বর্তমানে সেখানে শুধু পিটুফিক স্পেস বেস টিকে আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।


নির্বাচিত

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বাড়ছে: গুতেরেস

আন্তোনিও গুতেরেস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বাড়ছে এবং সংঘাতগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে মহাসচিব হিসেবে নিজের শেষ ভাষণ দেওয়ার আগের দিন গত সোমবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক সংঘাত এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যুদ্ধগুলোতে ‘পরাশক্তি’ এবং নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি সংকট তৈরি করেছে।” গুতেরেসের মতে, এর ফলে এমন এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেখানে মাঝারি শক্তির দেশগুলোও মনে করছে যে, তারা যা খুশি করতে পারে এবং এর জন্য তাদের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে খাদ্যপ্রাপ্তি, জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা তুলে ধরেন গুতেরেস।

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানিতে কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে চলমান সংকট, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সমস্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল স্থাপনায় হামলা যোগ হয়েছে।’

এসব পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাব বিশ্বের বহু অর্থনীতির ওপর ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ ক্রমেই ‘মরিয়া পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সারের সংকট তাদের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করছে।”

পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাবেক শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার গুতেরেস ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

তার উত্তরসূরির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গুতেরেসের মতে, একাধিক সংকটে জর্জরিত জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর রাখতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি। গুতেরেস বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এখনো মূলত ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে’।”

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর সামঞ্জস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের দাবি রয়েছে।

পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন?

গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এসপিনোসা।

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এর কোনো একটি দেশের ভেটোও এড়াতে হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হন।


নির্বাচিত

শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি ইরান

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই কথা জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে, তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তার একটি সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।’

এর আগে গত রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছিল, তারা জানতে পেরেছে—যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই’।

ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি পুনরায় শুরুর জন্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বর্তমানে ইরানের প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়েছে।

তবে রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা যেতে পারে।’ তেহরানের প্রস্তাব গত বুধবার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফিরে আসার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি সুবর্ণ সুযোগ।’ তবে তেহরান কূটনীতি পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী হলেও এর জন্য ওয়াশিংটনকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ ও ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। এদিন বিমানে ওঠার আগে তাদের দেশটির সামরিক বাহিনী সম্মান প্রদর্শন করে।

এদিকে ইরানি প্রেসিডেন্টকে ভিসা দিলেও; তার মিডিয়া টিমের অনেককে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। আর এ বিষয়টিকে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। মার্কিনিদের সঙ্গে ইরান এখনো যুদ্ধে লিপ্ত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এ যুদ্ধই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের মিডিয়া টিমের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজকে জানিয়েছেন, যাওয়া-আসাসহ পেজেশকিয়ানের সফরটি মোট পাঁচদিনের হবে। এ ছাড়া নিউইয়র্কে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন আব্বাসি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ার ঘটনাটি ঘটল; বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে—যা জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত জলপথ—চলাচলসংক্রান্ত মতপার্থক্যের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।


নির্বাচিত

গাজায় তীব্র হচ্ছে মানুষের হতাশা

গাজায় আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে বসে আছে এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই। গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সে সময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন।

যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে গত রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন।


নির্বাচিত

জাতিসংঘ অধিবেশনে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে

মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁ থেকে), ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো পালাক্রমে বক্তব্য দেয়। কেবল প্রয়োজন হলেই কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে সাধারণ বিতর্কে প্রথম বক্তব্য দেন ব্রাজিলের সরকারপ্রধান। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর শুরুর বিতর্কগুলোতে কোনো দেশ আগে বক্তব্য দিতে চাইত না। তখন ব্রাজিল এগিয়ে আসে। এরপর থেকে তারাই প্রথমে বক্তব্য দিয়ে আসছে।

সংস্থাটির সদরদপ্তর নিউইয়র্কে হওয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বক্তব্য দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বক্তব্য দেওয়ার তালিকা তৈরি হয় পদমর্যাদা ও ‘আগে এলে আগে’ নীতি অনুসরণ করে। সাধারণত নেতাদেরকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়।

প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অধিবেশন শুরুর সময় একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। নেতারা বক্তব্যের শুরুতে সংক্ষেপে প্রতিপাদ্য নিয়ে কথা বলেন। এরপর নিজেদের পছন্দের যেকোনো বিষয়ে বক্তব্য দেন। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য একটি কার্যকর জাতিসংঘ।’

সাধারণ বিতর্ক পর্বের সাইডলাইন বৈঠকে নেতারা যেসব বিষয়ে বক্তব্য ও আলোচনা করতে পারেন, সেগুলো তুলে ধরা হলো।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রযুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরির দুই সপ্তাহের মাথায় সাধারণ পরিষদে উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক হতে যাচ্ছে। খাতটির শীর্ষ নির্বাহীরা এরইমধ্যে দ্রুত উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এআই শিগগিরই নিজে নিজে উন্নত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা যায় না। তাই বিশ্বনেতাদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও বলেন, ‘এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এর মাধ্যমে ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’

ইরান যুদ্ধ

আজ বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্য দেওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা দেশগুলোর নেতারাও অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। তবে স্থবির হয়ে পড়া কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদ আরব নেতাদেরকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করতে পারে। সেখানে ইরান যুদ্ধ আলোচনার মূল বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ

দেশটিতে চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার আগ্রাসন চলছে। যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন।

আজ বুধবার জেলেনস্কির বক্তব্য দেওয়ার কথা। অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বক্তব্য দেবেন আগামী শনিবার। দুই দেশের সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদও পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় পরিষদ এখনো যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে না পারায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় হতাশা প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। নিউইয়র্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নেতানিয়াহু শহরটিতে পৌঁছালে গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু গত জুলাইয়ে তিনি আইনি ক্ষমতা না থাকার কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো বিক্ষোভেও তার অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার অধিকারকে তিনি সম্মান করেন।’

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সশরীরে বিতর্কে উপস্থিত থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়নি। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন।

নতুন মহাসচিব নির্বাচন

জাতিসংঘ নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনো কেউ পদটিতে বসার দৌড়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আগামী ৩১ ডিসেম্বর আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে এবারের অধিবেশনে নতুন মহাসচিবের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সুদানের সংঘাত

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সুদান সংঘাত নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। এতে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অর্জনে বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। তাই ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী দেশগুলো আবারও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ইরানের অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখে বিশ্ব চমকে যাবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে ইরানের নতুন ও অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব ‘অবাক’ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মোহেব্বি বলেছেন, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা কৌশলে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে থাকবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বৃদ্ধি এবং নতুন ধাঁচের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন সক্ষমতার আধুনিক অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নামব, যা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে।’

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু আগের মতো এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু আগের আক্রমণ করা স্থানগুলোর মতো হবে না। আমরা নতুন কিছু স্থান চিহ্নিত করেছি, যেখানে এখনও হামলা চালানো হয়নি।’

আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক’ পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।” তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হেরে গেছে এবং তা অত্যন্ত অপমানজনক এক ঐতিহাসিক পরাজয়। কিন্তু এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই।’

মার্কিন পরাজয়ের প্রমাণ হিসেবে তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করেও এই জলপথ পুনরায় চালু করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’।”

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যে বিনিয়োগ করা হয়েছিল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে, ইরানি হামলার পর তা উল্টো ‘চরম নিরাপত্তাহীনতার’ কারণ হয়ে উঠেছে।”

মোহেব্বি বলেন, “পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলা প্রমাণ করে, ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের হাতের নাগালে রয়েছে এবং এটি ওয়াশিংটনের জন্য ‘বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা’।”

আল জাজিরা বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতা করছে কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেছেন, আলোচনা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

উভয় পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বরাবরের মতো এই সফর কয়েক দিনের না করে সংক্ষিপ্ত করেছেন তিনি। সফরের সার্বিক কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করেছেন। এমনকি নিউইয়র্ক সফরে এবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী রাত্রিযাপনও করবেন না। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার এই সফরটি কয়েক দিনব্যাপী হওয়ার কথা ছিল।

তবে নিউইয়র্ক শহরজুড়ে সম্ভাব্য তীব্র বিক্ষোভের আশঙ্কাই তার এই আকস্মিক সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির দেওয়া গ্রেপ্তারের হুমকির বিষয়টিও।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরসূচি অনুযায়ী আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পরদিন নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায় অর্থাৎ ইসরায়েলি সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে তার এই ভাষণে মূলত ইরান প্রসঙ্গ সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে এবং বক্তব্যে কিছু চমকপ্রদ বিষয় উপস্থাপন করা হতে পারে।

ভাষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দেরি করবেন না নেতানিয়াহু। নিউইয়র্কে কোনো রাতও কাটাবেন না। সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির কারণে এবার তার এই সফরে কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিককেও সঙ্গে রাখা হচ্ছে না।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান উইং অব জিওন নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বদলে নিউ জার্সির একটি সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা ও মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে সম্ভাব্য বৈরী পরিস্থিতি এড়াতেই এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সফরে টেক্সাসে যাত্রা বিরতি করে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল ইসরায়েলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন এবং শেষ মুহূর্তের এই ব্যবস্থাপনায় মার্কিন পক্ষের অনাগ্রহের কারণেই মাস্কের সঙ্গে বৈঠকটি বাতিল করতে হয়েছে।

চলতি সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও নেতানিয়াহুর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত বৈঠকের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ পরিষদে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সময় স্বল্পতার কারণে তা চূড়ান্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র গত সোমবার অফিসিয়াল বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশনে’ ট্রাম্পের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপুরকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে পুনরায় যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার স্থপতি হিসেবে আখ্যা দেন মামদানি। গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানি জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এর আওতায়ও রয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টও।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও বাস্তবতার কথা স্বীকার করে মামদানি বলেন, মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় আন্তর্জাতিক আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক পুলিশের মাধ্যমে সরাসরি গ্রেপ্তার করার যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, স্থানীয় মেয়র হিসেবে সেই আইনি বা প্রশাসনিক এখতিয়ার তার নেই। তবে তিনি আইসিসির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মার্কিন প্রশাসনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিচারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জায়ামাতে ইসলামীকে লং মার্চ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এমন আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন শাহবাজ। তবে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইসলামাবাদমুখী মার্চ নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন শাহবাজ। এসময় তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

জবাবে হাফিজ নাঈম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না।

পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্ব সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা ঠেকাতে পারেনি। হাফিজ নাঈম বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে আমাদের স্বাগত জানাতে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে, তা দেখুক।


নির্বাচিত

হুতিদের সামরিক সহায়তা বন্ধে ইরানকে জি-৭ জোটের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সব ধরনের সামরিক সহায়তা প্রদান অবিলম্বে বন্ধ করতে ইরানের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, হুতিদের প্রতি তেহরানের অব্যাহত মদদ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্য ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এক যৌথ বৈঠকের পর জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিবেশী সৌদি আরবের ভূখণ্ড নিশানা করে হুতিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

জি-৭-এর পক্ষ থেকে হুতিদের সমস্ত সামরিক তৎপরতা এবং লোহিত সাগরসহ আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুমকি ও হামলা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রক্তক্ষয়ী এ সংকট নিরসনে হুতি গোষ্ঠীকে আন্তরিকতার সাথে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানান জোটের প্রতিনিধিরা। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বেসামরিক জাহাজে বাধা সৃষ্টি করার কারণে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপানের সমন্বয়ে গঠিত প্রভাবশালী এই জোটটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার স্বার্থে নিয়মিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করে থাকে।


নির্বাচিত

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের ভূমিধস বিজয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড রাশিয়া। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, পার্লামেন্টের মোট ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫০টিতেই একক বিজয় নিশ্চিত করেছেন পুতিনের দলের প্রার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন এই পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করে।

গত ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী স্টেট দুমার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে দেশের মোট ভোটারের ৫৯ দশমিক ৩২ শতাংশ নাগরিক নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং গণনা করা ভোটের ৫৮ শতাংশেরও বেশি সমর্থন পেয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে টানা ২৫ বছর ধরে দুমায় আধিপত্য বজায় রেখেছে পুতিনের দল। প্রতি পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ইতিহাসে এটি দলটির টানা পঞ্চম জয় হলেও এবারের মতো বিপুল ব্যবধান ও ভোটপ্রাপ্তি দলটির ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম দেশটিতে দুমার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার মস্কো প্রতিনিধি দিমিত্রি মেদভেদেঙ্কো এই ফলাফলকে ক্রেমলিনের যুদ্ধনীতির প্রতি অভ্যন্তরীণ সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, “এই ফলাফল এবং প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারের বিপুল অংশগ্রহণকে মস্কো সম্ভবত তাদের কর্মকাণ্ডের—বিশেষ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের প্রতি জনসমর্থন হিসেবে এবং নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখবে।”

রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন এল্লা পামফিলোভা জানিয়েছেন, নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি। দলটি মোট ভোটের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ পেয়ে স্টেট দুমার ৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী দল এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন লাভ করেছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি বিরোধী অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দল ইয়াবোলোকো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি।

নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ কোনো বিস্ময় তৈরি হয়নি এবং অনেকেই এটিকে অনুমেয় বলে মন্তব্য করেছেন। মস্কোর বাসিন্দা তাতিয়ানা আলজাজিরাকে বলেন, “সকাল বেলা আমি টেলিভিশন খুলে দেখলাম যে ইউনাইটেড রাশিয়া নির্বাচনে জিততে চলেছে। আমি অবাক হইনি এবং আমার ধারণা রাশিয়ার কেউই তেমন অবাক হয়নি।” ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন চান কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা সবাই মূল সংকটটি জানি, আর সেটি হলো ইউক্রেনে সংঘাত। আমি চাই, যদি সুযোগ থাকে কিংবা যদি সম্ভব হয়— শান্তিপূর্ণ উপায়ে যত শিগগির সম্ভব এই সংঘাত থামানো।”


নির্বাচিত

banner close