কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো তার বোন ও স্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকা এই নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার পর এই সাক্ষাৎ হলো।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে বেশ কয়েকটি মামলার মুখোমুখি হয়ে আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন।
ডন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বোন নওরীন নিয়াজি এই বছর প্রথমবারের মতো তার সাথে ১৫ মিনিটের জন্য দেখা করেছেন। কারা সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি এই প্রকাশনাটি জানিয়েছে, তারা দুজন কারাগারের কনফারেন্স রুমে দেখা করেন, যেখানে তারা তার স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
নওরীন তাকে মেডিকেল চেকআপের জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের আদেশের কথাও জানান বলে তারা যোগ করেন।
সাক্ষাৎ সংক্রান্ত আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, কারণ সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই সাক্ষাৎ ব্যবহার করলে ইমরান খানকে দেওয়া এই ছাড় প্রত্যাহার করা হবে।
আলীমা খান ও উজমা খানসহ খানের অন্য বোনদের এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে তার সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়াও তার দলের রাজনৈতিক নেতাদের এই সাক্ষাতে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়।
কারা সূত্র একটি জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছে, স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে খানের সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। আদিয়ালা কারাগারে বন্দি বুশরা বিবির সঙ্গে তার সন্তান মুসা ও মুবাশারা মানেকা এবং ননদ মেহেরুন্নিসাও সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে, সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসা সেবার জন্য খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করার এবং ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ব্রিটিশ রাজধানীতে নথিভুক্ত মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা ২০২৩ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিমবিদ্বেষ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের ১ হাজার ৩১টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। অথচ ২০২৩ সালের পুরো বছরে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৮টি।
ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ক্ষেত্রে টেল মামা ‘অ্যান্টি-মুসলিম হেট’ এবং ‘অ্যান্টি-মুসলিম ভায়োলেন্স’- এই পরিভাষা ব্যবহার করে। চলতি বছরের শুরুতে বৃটিশ সরকারও ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটির পরিবর্তে একই পরিভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
টেল মামার পরিচালক ইমান আত্তা বলেন, এটি কোনো সাময়িক বিচ্যুতি নয়। মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণার ধারাবাহিক ও স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
টেল মামার পরিসংখ্যানে লন্ডনে মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার দ্রুত বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২১ সালে লন্ডনে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১৮-তে। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি রেকর্ড ১ হাজার ৯০৯টিতে পৌঁছায়।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে হামলা, নামাজের সময় হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো ঘটনা রয়েছে।
ব্রিটেনজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো। গত জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছিল, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ‘জরুরি মাত্রায়’ পৌঁছেছে।
জুলাইয়ে পুলিশ ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে হামলার কথিত পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঘটনাটির সঙ্গে ‘চরম ডানপন্থি সন্ত্রাসবাদ’-এর যোগসূত্র রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে এডিনবরায় ছুরিকাঘাতের ঘটনায়ও মুসলিমরা হামলার শিকার হন। বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার মধ্যেও মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃটেনে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে উগ্র ডানপন্থি তৎপরতাও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের বিস্তারও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মে মাসে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্স লীগের নেতা টমি রবিনসনসহ উগ্র ডানপন্থি ব্যক্তিরা মধ্য লন্ডনে ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামে একটি সমাবেশ আয়োজন করেন। সেখানে বক্তারা প্রকাশ্যেই মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দেন।
পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলা
গত মাসে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট ‘মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে বৃটেন সরকারের সরকারি অংশীদার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। মসজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সরকারি তহবিল পেতেও অনেক প্রতিষ্ঠান সমস্যার মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অনেক মসজিদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য সরকারি অর্থ সহায়তার আবেদন করে মাসের পর মাস সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আবার কিছু আবেদন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারগুলোর নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ৪ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি মুসলিমবিদ্বেষী হামলা ও উগ্র ডানপন্থি প্রচারণা ঠেকাতে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি।
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুইজন মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তারা হলেন—আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার (৩৫)। তাদের দুজনেরই বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এবং তারা উভয়েই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তার নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যান। বুধবারই (১৯ আগস্ট) তার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হয়েছেন।
সাজুর বড় ভাই সাহেব আলী সরদার জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভাইয়ের খোঁজে তার মোবাইলে কল দিলে কলকাতার একটি থানা থেকে পুলিশ সদস্য ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান যে অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন। পরে ছবি দেখে তারা পরিচয় নিশ্চিত করেন। সাজুর বড় ভাবি তানিজা আক্তার জানান, সাজু অবিবাহিত ছিলেন এবং হজ পালন করার পর থেকেই নিভৃত জীবন যাপন করতেন। তিনি সাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত রেবতী সরকার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রেবতী ১১ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। তার স্বামী ভবেশ সরকার ইটভাটার শ্রমিক। তার ছোট ভাই তপন সরকার জানান, ফোনকলের মাধ্যমে তারা রেবতীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র-মিডিয়াসূত্রে জানা গিয়েছে। এই খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুইজন নিহতের খবর পাওয়ার পর তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। নিহত অন্য বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন। তারা হলেন— দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০) এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত অপর দুইজন ভারতীয় নাগরিক।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে ৫৭টি ‘শক্তিশালী’ পরমাণু বোমা রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রধারী কিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের সময় ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা তৈরি হতে দেওয়া উচিত ছিল না। তবে এখন কিমের হাতে এসব অস্ত্র রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের ৫৭টি পরমাণু বোমার দাবিটি অবশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার হাতে প্রায় ৬০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে। পাশাপাশি আরও অন্তত ৩০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো বিভাজনযোগ্য উপাদান দেশটির কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জানিয়েছেন, বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে বলে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। ফলে ট্রাম্পের ৫৭টির হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে।
কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। নভেম্বর মাসে চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন—এপেকের সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই সফরকে ঘিরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তারা লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। খবর বিবিসির।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ ও দ্য সানের প্রাথমিক তথ্যমতে, হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকবেন। এটি রাজপরিবারের কোনো বাসভবন নয়।
তাদের সন্তান সাত বছর বয়সি প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সি প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে একটি ব্রিটিশ স্কুলে পড়াশোনার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার রাজা চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে হ্যারি বা মেগান কারোরই রাজপরিবারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে ফেরার পরিকল্পনা নেই।
চলতি বছরের জুলাইয়ে সন্তানদের নিয়ে হাইগ্রোভে রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন হ্যারি ও মেগান। তবে তখন তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিবিসি জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তের আগে রাজা চার্লস এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি হ্যারি, মেগান ও নাতি-নাতনিদের আরও কাছে পাওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
হ্যারি ও মেগানের রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকবেন। ২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং যুক্তরাজ্য ছেড়ে যান। ওই বছরের মার্চে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
এরপর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। তবে গত জুলাইয়ে রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়।
গ্লুচেস্টারশায়ারে রাজার ব্যক্তিগত বাসভবনে ওই সাক্ষাৎ হয়। রাজপ্রাসাদ এটিকে 'ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান' হিসেবে বর্ণনা করে। চার বছরেরও বেশি সময় পর ওই প্রথম রাজা চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সরাসরি দেখার সুযোগ পান।
২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর হ্যারি ও মেগান আর একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে আসেননি।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন হ্যারি ও মেগান। পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর গত জুলাইয়ের সফর বাতিল করার কথাও তারা ভেবেছিলেন।
গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে করা আইনি লড়াইয়েও হেরে যান হ্যারি। রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে মেগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তার নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, রাজপরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নির্ধারণ করে ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর দ্য প্রটেকশন অব রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস’। যুক্তরাজ্য সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘অত্যন্ত কঠোর ও মানানসই’ বলেও জানান তিনি।
হ্যারি অবশ্য আগেই বলেছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারছেন না। গত জুলাইয়ের সফরে হ্যারি আহত ও অসুস্থ সাবেক সামরিক সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ইনভিক্টাস গেমস’-এর প্রচারণায় অংশ নেন। আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।
ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের চিফ প্রোগ্রামস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফিসার ডেভিড ওয়াইজম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘আগামী বছরের বার্মিংহাম ইভেন্টের আগেই প্রিন্স হ্যারিকে যুক্তরাজ্যে ফিরে পাওয়া অত্যন্ত চমৎকার একটি খবর।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দেশে ফিরে আসছেন দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। ঠিকানা পরিবর্তন করা যেকোনো মানুষের জন্যই বেশ মানসিক চাপের, তাই আশা করছি সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবং বাচ্চারাও তাদের নতুন স্কুলে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।’
তবে গত জুলাইয়ের হ্যারির সফর একটি মামলায় হাইকোর্টে তার হেরে যাওয়ার কারণে কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। ‘ডেইলি মেইল’ ও ‘মেইল অন সানডে’-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে ওই গোপনীয়তা-সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও জোরদার করলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইরান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানানো হয়, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
সম্ভাব্য আক্রমণের তালিকায় থাকা ঘাঁটিগুলোর মধ্যে বুলগেরিয়ার বিজমার বিমানঘাঁটি অন্যতম, যা গত মাসে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। এ ছাড়া গত মার্চে প্রথম দফায় ড্রোন হামলার শিকার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতেও পুনরায় আঘাত হানার কথা ভাবছে তেহরান।
ইরান তাদের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক মার্কিন সামরিক আউটপোস্টে হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের পানির নিচের ফাইবার-অপটিক কেবলগুলোতেও সাবোটাজ বা নাশকতা চালানোর বিষয়টি তাদের সামরিক ভাবনায় রয়েছে।
ইরানের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকা যদি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে, তবে ইরান যেকোনো মূল্যে আত্মরক্ষা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্ত ছাড়িয়ে ইউরোপেও হামলা চালাবে। গত সোমবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং শান্তিবৈঠক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছাতে পারলেও সেগুলোর নির্ভুলতা ও শক্তির পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। এর আগে ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ার মার্কিন-যুক্তরাজ্য ঘাঁটিতে হামলা ব্যর্থ হলেও সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছিল তেহরান।
ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ঘিরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ লেখা ছিল। যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা হবে—এর আগে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই তিনি এই ছবি প্রকাশ করেন। পরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের পোস্টটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়।
এর জবাবে এক্সে ইরানের সরকারি ‘ইরান ইন হায়দরাবাদ’ অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও ট্রাম্পের পোস্টের জবাব দেন। এক্সে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার বিভ্রম শিগগিরই হয় ঠিক হবে, নয়তো আমরা এই বিভ্রান্ত মানুষটির বিভ্রম ঠিক করব।’
ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের সবচেয়ে বড় বসতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনেক ইরানি-আমেরিকান বাস করেন। ইউসিএলএর তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান রয়েছেন।
১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের বিস্তার ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামে পরিচিত।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই দুই দেশের উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী সময়ে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরে আলোচনা থমকে যায়।
এদিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
‘ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে নজর সরানোর কৌশল’
তেহরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরুর হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে আমেরিকার নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি লেখেন, ‘তথাকথিত ইকোনমিক ডি-ডে হলো আমেরিকার নিজস্ব সংকটের দিক থেকে নজর সরানোর চেষ্টা, যার মধ্যে রয়েছে অভূতপূর্ব ঋণ এবং লাফিয়ে বাড়তে থাকা সুদের খরচ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যর্থ নীতিগুলোকে বারবার জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেবল আরও পরাজয় এবং ইরানিদের শত্রুতাকে ডেকে আনবে। মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এবং সার্বিক সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ চালু করতে যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তেহরানকে যেকোনো উপায়ে সমর্থনকারী যেকোনো দেশকে মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যোগ করেন, এটি একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হতে যাচ্ছে এবং ইরানের এই হুমকিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে আমেরিকার সমস্ত মিত্রদের একসঙ্গে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা ‘কিউ-লাইনার’ (নিরাপত্তা বেষ্টনী) বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনে বাইরে পার্কিং খুঁটি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে দেওয়ার তিন দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নিল ভারত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এএনআই। এদিন সকালে বুলডোজার চালিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান হাইকমিশন চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা রেলিং, ধাতব কাঠামো, প্লাস্টারের টুকরো, কংক্রিটের টুকরো, ইট ইত্যাদি। এছাড়াও দেখা গেছে টিনের শেড, সাদা ধাতব বেড়া প্রভৃতি। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল ভবন বা মূল প্রবেশপথটি অক্ষত রয়েছে।
নয়াদিল্লির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে স্থাপিত ‘কিউ-লাইনার’টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থেকে পার্কিংয়ের খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলেছিল।
সূত্রটি আরও জানায়, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে পার্কিংয়ের খুঁটি সরানোর ঘটনায় পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা পার্কিংয়ের খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার পর, দিল্লিতে একটি গলিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের পার্কিংয়ের সারির লাইনও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন দাবি করেছে যে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে ও ভিসা বিভাগের কাছে রাখা হয়েছিল ব্যারিকেড, ধাতব রেলিং। নির্মাণ করা হয়েছিল গেটসহ একাধিক কাঠামো। কিন্তু জানা যাচ্ছে, সেগুলো সরকারি অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল। অভিযোগ পেতেই পদক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় অবৈধ নির্মাণগুলো।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার জবাবে ভারতীয় বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান শুরু করলে ১০ মে
যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তা শেষ হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক চরম অবনতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, আঞ্চলিক সুরক্ষার উন্নতি প্রত্যক্ষ করে বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর সফর করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সার্জিও গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে স্পষ্টভাবে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে অবিহিত করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে সিকিউরিটি পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আমেরিকান নাগরিকদের জন্য এই অঞ্চলে ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের এই মন্তব্য ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রকাশ্য স্বীকৃতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে একটি ‘কড়া প্রতিবাদপত্র’ হস্তান্তর করেছে এবং গোরের বক্তব্যকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে দাবি করেছে।
গত কয়েক মাস থেকে রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতে ড্রোন হামলার চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে দেশটিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
রাশিয়া জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যেই ভারত থেকে একটি জাহাজে করে পেট্রোল পৌঁছেছে দেশটিতে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তবে যুদ্ধে জড়ানোর পর দেশটির জ্বালানি খাত বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
ইউক্রেনের হামলায় নিজেদের তেল শোধনাগার ও ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমদানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই অভিযান রাশিয়াজুড়ে এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
ভারত থেকে অন্তত একটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশ করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন শিল্প খাতের তিনটি সূত্র। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও এর প্রমাণ মিলেছে। বেলারুশ ও কাজাখস্তান থেকেও রেলপথে পেট্রোল আমদানির ব্যবস্থা করছে রাশিয়া। পাশাপাশি জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, রাশিয়া এশিয়া থেকেও ডিজেল আমদানি শুরু করেছে।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার পোর্ট সাইদের কাছে সমুদ্রে ‘শিপ-টু-শিপ’ পদ্ধতিতে প্রায় ৬৮ হাজার টন পেট্রোল নেয়। ওই পেট্রোল ভারতের ভাদিনার বন্দরে ‘অগ্নি’ নামের একটি ট্যাংকারে তোলা হয়েছিল। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ট্যাংকারটি রাশিয়ার আর্কটিক বন্দর ভিতিনোতে পেট্রোল খালাস করে।
যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞায় রুশ তেল কম দামে বিক্রি হওয়ায় ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। এতদিন ভারত ছিল রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা; সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সম্পর্কের প্রবাহে নতুন এক চিত্র তুলে ধরছে।
মূলত যুদ্ধের প্রভাবে নিজেদের পরিশোধন সক্ষমতায় সংকট তৈরি হওয়ায় ভারত থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে আরও অন্তত দুটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বুধবার (১৯ আগস্ট) আমদানি শুরুর বিষয়টি স্বীকার করলেও কত পরিমাণ জ্বালানি এবং কোন কোন দেশ থেকে তা আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আবারও জ্বালানি কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম তেল কোম্পানি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোসনেফট জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের সব স্টেশনে একবারে সর্বোচ্চ ৩০ লিটার পেট্রোল কেনা যাবে।
সংঘাত তীব্র হওয়ার কারণে সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে নতুন করে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শহর এল ওবেইদে গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এই সতর্কবার্তা আসে। এ সময় পাশের নর্থ দারফুর রাজ্যে মৌসুমি বন্যাও বাস্তুচ্যুতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। সুদানজুড়ে পরিবারগুলো সহিংসতা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ হারাচ্ছে এবং এখন তাদের ধ্বংসাত্মক বন্যার অতিরিক্ত বোঝাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এল ওবেইদ শহর অন্তর্ভুক্ত শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, এল ওবেইদে বারবার সংঘর্ষ এবং শহরের প্রধান বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প চালানো, হাসপাতাল পরিচালনা এবং টেলিফোন লাইন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
আইওএম জানিয়েছে, ব্লু নাইল রাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষও বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে নর্থ দারফুরের তাওয়িলা এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ হাজারের বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।
অ্যামি পোপ বলেন, ‘সুদান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি মোকাবিলা করছে। সংঘাত, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও বন্যার সম্মিলিত প্রভাব হাজার হাজার পরিবারকে তাদের সামর্থ্যের সীমার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।’
২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৮৬ লাখ মানুষ। এ ছাড়া ৪২ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
এল ওবেইদে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোর একটিতে থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক আলমিকদাদ আলরুহাইদ জানান, ওই পথে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন দিয়ে সেনাবাহিনীর যানবাহন, তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী ট্রাকে হামলা চালানো হয়েছে।
সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন শহরটি যুদ্ধের দীর্ঘতম অবরোধগুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছে। তবে আরএসএফ এখনো শহরটির দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান আলরুহাইদ। এতে অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে এল ওবেইদের জনসংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার। তবে সুদান ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বেড়ে ৩৪ লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৯ হাজার শিশু এল ওবেইদে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন।
হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে নীরবে এক বিশেষ ও গোপন নৌপথ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাচ্ছে। যুদ্ধ এখনো অচলাবস্থায় থাকলেও হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন সচল রাখার এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন দুই কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলছে। এর আওতায় প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণের একটি নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করছে। নৌপথটি ওমানের উপকূলঘেঁষা। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালীটি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, বর্তমান পরিমাণ তার প্রায় অর্ধেক।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই অভিযান যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক প্রভাব, অর্থাৎ তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং এর কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, কিছুটা কমাতে সাহায্য করছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম তেল বের হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই অভিযান শুধু তেলভর্তি ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিযানের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র খালি তেলবাহী জাহাজকে আরব সাগর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতেও সহায়তা করছে। এসব জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করে আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণের পথ নিয়ন্ত্রণ করছি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্তু তারা প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণ করে না। নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে।’
হরমুজ প্রণালীর এই অভিযান পরিচালনাকারী টাস্কফোর্সটি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। টাস্কফোর্সটি উপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও সমন্বয় করছে। প্রতিদিন তারা একটি তালিকা তৈরি করে, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগরের দিকে বের হওয়া জাহাজগুলোর তথ্য থাকে।
একই সঙ্গে ভাড়া করা খালি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোরও একটি তালিকা তৈরি করা হয়। এসব জাহাজ আরব সাগর থেকে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরে যায় এবং সেখানে তেল সংগ্রহ করে। প্রতি রাতে জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি বড় বহর হিসেবে প্রণালী দিয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য এবং আলাদা আরেকটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি বড় বহর হিসেবে ভেতরে প্রবেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণের নৌপথ দিয়ে চলাচল করে।
জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও মোতায়েন রয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দুই সপ্তাহব্যাপী একটি সামরিক অভিযান ইরানের রাডার এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়ার পর এই নৌপথ চালু করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সবকিছু ঠিকঠাক করতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই কাজ করতে হবে, মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বললেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা একদিনে বা সামনের সপ্তাহে সমাধান হয়ে যাবে এমন কোনো অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা যাবে না।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এই খাত নানা সংকটের মুখে পড়েছিল। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় নেটওয়ার্ক থাকলেও সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফার বিষয়টি জড়িত থাকে। তবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি বা বারডেমের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করেছে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বললেন, বর্তমান সরকার শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল কাজ শুরু করবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স এবং ১ লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় ভারত গিয়েছিলেন তারা। ইচ্ছা ছিল ভিনদেশে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসার। কিন্তু সেই আশার যাত্রা যে চিরতরে নিভে যাওয়ার পথ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) ১৫ এইচ নম্বরের একটি পাঁচতলা ভবনের ‘শিখা ইন’ নামের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু ও এক নারীসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের ১ জন তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বেঁচে যাওয়া প্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাটি আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; এটি চরম কাঠামোগত অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অনুপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক লোভের করুণ পরিণতি।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে দুটা থেকে আড়াইটার মধ্যে। ভবনের তৃতীয় তলায় ‘শিখা ইন’ নামের হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
আগুন খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ার আগেই ঘন ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন ঢেকে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিহতদের শরীরে বড় ধরনের কোনো পোড়ার দাগ পাওয়া যায়নি; ঘন কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা বাসিন্দারা ধোঁয়া দেখে প্রাণ বাঁচাতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ল্যাডার (মই) ব্যবহার করে জানালা ও বারান্দা দিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারীরা প্রায় ৮০ জনকে জীবিত বের করে আনলেও, ৯ জনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আহত আরও ৬ জন বাংলাদেশিকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া মৃত পাঁচজন বাংলাদেশির মধ্যে চারজনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য এবং একজন সাভারের শিশু।
এরা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা দেবাশিস দত্ত (৩৭)। তিনি দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল নাইন’-এর জেলা প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত, দেবাশিস দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) এবং ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহমেদ বাবু। বাকি নিহতদের মধ্যে একজন ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান। অন্য ৩ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত। কলকাতার পাশাপাশি বেঙ্গালুরু গিয়ে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে বিমানে তারা কলকাতায় ফেরেন। পরদিন বুধবারই (১৯ আগস্ট) দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। ভারতে অবস্থানকালে দেবাশিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত তাদের ভ্রমণের বিভিন্ন তথ্য ও ছবি শেয়ার করছিলেন। মৃত্যুর কিছু সময় আগে দেওয়া তার একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন—‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই...’। আনন্দের সেই বিদায়ী বার্তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ পোস্ট।
এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দেবাশিসের ৮ বছর বয়সি বড় মেয়ে মহিমা দত্ত (পাখি), কারণ সে কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়িতে থেকে গিয়েছিল। কিন্তু এক রাতেই বাবা, মা ও একমাত্র ছোট ভাইকে হারিয়ে এক নিমেষেই এতিম হয়ে গেল শিশুটি।
ছেলের এমন করুণ মৃত্যুর খবরে দিশেহারা হয়ে বিলাপ করে দেবাশিসের মা স্বপ্না দত্ত বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। কালকেও তো ভালো মানুষটা আমার সঙ্গে কথা বলল! এখন আমার কী হবে?
অশ্রুসজল চোখে বাবা দিলীপ দত্ত আর্তনাদ করে বলেন, একজন বাবা হয়ে কীভাবে সন্তানের লাশ মেনে নেব?
গতকাল সকালে দিলীপ দত্ত ছেলে, পুত্রবধূ ও তাদের সন্তানের মৃত্যুর খবর পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ছেলের (দেবাশীষ) লাশের ছবি দেখেছেন।
দিলীপ দত্ত জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাহিমাকে (৮) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর তার শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তারা কলকাতায় দুই দিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত এগারোটায় উড়োজাহাজে করে কলকাতায় আসেন তারা। সেখানে হোটেলে উঠেছিলেন।
দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকে তার বাড়িতে বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত পাগলপ্রায়। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আমার দেবা (দেবাশীষ) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’
আজকের পত্রিকার শোক
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আজকের পত্রিকা পরিবার গভীরভাবে শোক জানিয়েছে এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে।
পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অকালমৃত্যু আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। পরিবারটির এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে আজকের পত্রিকা তাদের পাশে রয়েছে। আমরা প্রয়াত দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত স্বজনেরা যেন এই কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণ ও শোক সামলানোর শক্তি পান, সে জন্য প্রার্থনা করছি।
দেবাশিসের অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশিস অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার এই নির্মম প্রস্থান কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন পর্যন্ত জানা গেছে—ওই হোটেলে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশ তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টির খোঁজখবর রাখছেন। তিনি ঘটনাস্থলের হোটেল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সাথে উপহাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সাথে বাংলাদেশে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তথ্য সহায়তার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টির খরচ বহন করবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। আবাসিক ব্যবহারের ভবন হলেও লোভে পড়ে মূল পিলার কেটে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক গেস্ট হাউস বানানো হয়েছিল। ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য মাত্র একটি অত্যন্ত সরু পথ ছিল। কোনো জরুরি বের হওয়ার পথ না থাকায় ধোঁয়ায় সিঁড়ি ঢেকে গেলে ভেতরে আটকা পড়েন বাসিন্দারা। ফায়ার সেফটি ও ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবসা চলছিল।
কলকাতা পুলিশ এই ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা করেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন; তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ।
টানা তৃতীয় বছরের মতো মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে রয়ে গেছে গাজা। ২০২৫ সালে সেখানে ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ)।
বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ওসিএইচএ জানায়, ২০২৫ সালে ত্রাণকর্মী নিহতের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সুদান। দেশটিতে ওই বছর ৭১ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন।
মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান আউটকামসের এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত, আহত কিংবা অপহৃত হয়েছেন। এটি ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতার নতুন রেকর্ড।
ওসিএইচএ জানায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম হলেও মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর সহিংসতার সামগ্রিক মাত্রা কমার কোনো লক্ষণ নেই। এ ছাড়া ৩২২ জন আহত এবং ২৩৫ জন অপহৃত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, ‘মাত্র তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি বলেন, শুধু বিষয়টি তুলে ধরলে পরবর্তী ত্রাণকর্মীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক দপ্তর আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।
কম খরচে তৈরি করা যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ঘটেছে সশস্ত্র ড্রোন হামলায়। এসব হামলায় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেনে শুধু এপ্রিল মাসেই ড্রোন হামলায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়াতেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় অস্ত্রবাহী ড্রোনের হামলা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চার গুণ বেড়েছে।
ত্রাণকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন। মার্চে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। মে মাসে মাত্র এক সপ্তাহে ইউক্রেনে চারটি মানবিক সহায়তাবাহী বহরে হামলা চালানো হয়।
টম ফ্লেচার বলেন, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ড্রোন পুরোনো এক বিপদের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে—বেসামরিক জীবনকে ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা। প্রযুক্তি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের আইন পরিবর্তন হয় না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।