মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইমরান খানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৩

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ তার সাবেক স্বামীর সঙ্গে কারাগারে ‘কথিত আচরণ’ নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে ট্যাগ করে জেমিমা লেখেন, ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?

এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, ইমরান খানের পরিবার ও তার দল দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে কারাগারের বাইরে ভিড় জমায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে আছেন। একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে। ইমরান ও তার দল এসব মামলাকে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছে।

জেমিমা দাবি করেন, তার দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমানের বাবা ইমরান খান গত তিন বছর ধরে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারণে কঠোর শাস্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ইমরান খান) তিন বছর ধরে একাকী বন্দিত্ব সহ্য করছেন।’

তার অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস ধরে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাকে বই, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের কথা উল্লেখ করে জেমিমা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ এবং এটি নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে।’ অথচ ইমরানকে ১৫ দিন নয়, তিন বছর ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জেমিমা বলেন, ‘পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে ইমরানের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ, নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে দুইবার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।’ কিন্তু এসব নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইমরান খানের সাবেক স্ত্রীর মতে, এটি আর শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি এখন মানবাধিকার সংকট।

জেমিমা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ইংল্যান্ডে বহু বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন।’

তার মতে, ব্রিটেনের সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো। পাকিস্তানে বিনামূল্যে ক্যানসার হাসপাতাল এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ তার দাতব্য কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জেমিমা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে তিনি এর আগেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।’

জেমিমার দাবি, এখন যুক্তরাজ্যকে প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানকে নিজেদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে হবে—ইমরানের চিকিৎসাসেবা ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, দীর্ঘদিনের একাকীত্বের অবসান ঘটাতে হবে এবং তার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


নির্বাচিত

ইরান আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে নিজের এক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কথিত এ হত্যাচেষ্টা কখন, কোন স্থানে কিংবা কোন ছেলেকে নিশানা করা হয়েছিল, সেসব নিয়ে কিছুই জানাননি তিনি।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছে তার দল। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আনলেন নেতানিয়াহু।

ইরান তার এক ছেলেকে নিশানা করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, “বিষয়টি ‘অবিশ্বাস্য’।” এ সময় ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু।

জনমত জরিপের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকোট আগামী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে রয়েছেন।

ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সংস্থা আইজেনকোটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে কথা বলেন নেতানিয়াহু। এ সময় আইজেনকোটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গত জুলাইয়ে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন। তার নিরাপত্তার ব্যয় ইসরায়েলি করদাতাদের বহন করা নিয়ে দেশটিতে তখন সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। তবে বাবার শেষকৃত্য উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।


নির্বাচিত

দিল্লিতে টানা ভারী বৃষ্টি, রেড অ্যালার্ট জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জলমগ্ন রাস্তা, কোমর সমান পানি আর ধীরগতির যানবাহনে তীব্র যানজটও দেখা দিয়েছে। তবে দুর্যোগের মেঘ এখন কাটেনি। দিল্লিতে আবারও নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজধানীর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বজ্রপাত, দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লির শহরজুড়ে বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। মধ্য দিল্লি, পূর্ব দিল্লি, নয়াদিল্লি, উত্তর দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, শাহদারা, দক্ষিণ দিল্লি, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি এবং পশ্চিম দিল্লিসহ প্রায় সব কয়টি জেলাকেই সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।

বিমান চলাচল নিয়ে যাত্রীদের জন্য জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আপাতত বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গত সোমবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট বিকল্প পথ হিসেবে জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে পাঠাতে হয়েছিল।

হঠাৎ এই প্রলয়ংকরী বৃষ্টির কারণ হিসেবে আইএমডির আবহাওয়াবিদ ড. শশীকান্ত জানান, শুষ্ক উত্তরী বাতাস ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাপূর্ণ পূর্বী বাতাসের সংযোগই এর মূল কারণ।

তিনি বলেন, ‘একদিকে উত্তর দিক থেকে শুষ্ক ঊর্ধ্বগামী বাতাস প্রবেশ করছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতায় ভরা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই তীব্র এই বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড় হচ্ছে।’

এদিকে গত সোমবার (২৪ আগস্ট) মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। রাজীব চক, আইএফএফসিও চক, রেলওয়ে রোড, ওল্ড দিল্লি রোড ও মেহেরৌলি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাস্তায় স্কুলবাস আটকে পড়া ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় গুরুগ্রাম প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরকে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার পরামর্শ দিয়েছে এবং সব স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।


নির্বাচিত

চলতি গ্রীষ্মে গতবারের চেয়ে ৩৫ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে লেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে পরপর চারটি রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত বছরের গ্রীষ্মের তুলনায় অন্তত অতিরিক্ত ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহাদেশটির অর্ধেকেরও কম এলাকার অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনেই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক জাতীয় হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

গত মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। শত শত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বকালের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। ফ্রান্সে জাতীয় গড় তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানিতে গত জুনের শেষ দিকে টানা তিন দিন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। ওই সময় দেশটির ৪৬টি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। স্পেনেও দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে জার্মানিতে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন। শুধু গত ২২ থেকে ২৮ জুনের এক সপ্তাহেই ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই।

২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা ইইউর অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর চলতি বছরের জুনের ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হার দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারি তখনও সক্রিয় ছিল।

রেকর্ড রাখা শুরুর পর জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য ২০২৬ সালই সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। এর আগে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, যখন ৮ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আরকেআই জানিয়েছে, স্বাভাবিক গ্রীষ্মে জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যু সাধারণত ২ হাজারের নিচে থাকে।

স্পেনের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউটের মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে তাপের কারণে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সাল স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন ৪ হাজার ৫২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বিভিন্ন দেশ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব ভিন্ন পদ্ধতিতে করে। স্পেন ও জার্মানি তাৎক্ষণিকভাবে মডেল ব্যবহার করে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে কতজনের মৃত্যু তাপের কারণে হয়েছে, তা অনুমান করা হয়।

এ ধরনের হিসাবের প্রয়োজন হয় কারণ মৃত্যুসনদে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি ‘তাপ’কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকেই থাকা শ্বাসতন্ত্র বা হৃদরোগের মতো অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, স্ট্রোক করে বা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন।

তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো চলতি আগস্টের শুরুর দিকের মৃত্যুর হিসাবও প্রকাশ করেনি। জার্মানির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ গত সপ্তাহে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় কম বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ফ্রান্সে ৫০০টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে দেশটির ৯৮ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় ছিল। ফ্রান্স প্রথমে সব ধরনের মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কতজনের মৃত্যু তাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, তা নির্ধারণ করা হয়।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০। তবে চলতি আগস্টের তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক এই হিসাব ইলেকট্রনিক মৃত্যুসনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের তথ্য ধারণ করে।

ইতালির জাতীয় তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে। ফলে দেশটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর হিসাব প্রকাশে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইতালি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করে অসম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সূচক দিয়েছে।


নির্বাচিত

ভারত সফরে যাবেন শি জিনপিং

শি জিনপিং
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন। তার সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদলও ভারত সফরে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র। সফরটি হলে সাত বছর পর ভারত সফরে যাবেন শি জিনপিং। পাশাপাশি এটি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও চীনের সম্পর্কের বরফ গলার নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে ভারত। সেখানে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য বার্তার কারণে। বিশেষ করে, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের সফর সেই প্রক্রিয়ার নতুন ইঙ্গিত হতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ভারতের একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা এখন হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক খুব ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাক্যবিনিময়ও হয়েছে।

ভারতের আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজবেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় ও এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে চীন সমর্থন করে।

তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে বর্তমানে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি শি জিনপিং। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন দুটিই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত নয় ও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ।

দশকের পর দশক সীমান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও ২০২০ সালের সংঘর্ষে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এর পরবর্তী চার বছর সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নকরণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের সেনা টহলদল মুখোমুখি হয়েছিল বলে খবর প্রকাশের পর গত ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল গত সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন।


নির্বাচিত

ইরানি ড্রোন ধ্বংসকারী অস্ত্র তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে কম খরচের ইন্টারসেপ্টর তৈরি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারআস’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কারখানায় থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে ঘণ্টায় ২০০ মাইল গতিসম্পন্ন এসব ড্রোন ধ্বংসকারী অস্ত্র তৈরি হচ্ছে।

পাওয়ারআসের মুখপাত্র জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারখানায় বর্তমানে মাসে প্রায় তিন হাজার ইন্টারসেপ্টর তৈরি হচ্ছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ১৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র রপ্তানি না করে স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন জোরদার করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরব আমিরাতের ওপর ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে ১৫ জন নিহত, শত শত মানুষ আহত, একটি তেল শোধনাগার বন্ধ এবং দুটি আমাজন ডেটা সেন্টার ধ্বংস হয়।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট অস্ত্রের সংকট দেখা দেওয়ায় পাওয়ারআসের তৈরি ‘গার্জিয়ান’ নামের এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর চাহিদা বেড়েছে, যা মাত্র পাঁচ হাজার ডলারে লেগোর মতো সহজে জোড়া দেওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল সিনেনস্কি জানান, আমিরাতের কারখানায় দিনে ৩০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই তা ১০০টিতে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় তারা ২২ মিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে এবং ভারতের মুম্বাইয়ের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারআস সম্প্রতি একটি গলফ কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা কিথ কেলগ এই কোম্পানির পরামর্শক বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মাইকেল সিনেনস্কি, রোমান ভিনফেল্ড এবং ব্রেট ভেলিকোভিক যৌথভাবে পাওয়ারআস গঠন করেন। তারা ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও একাধিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষার নতুন মডেল তৈরি করেন। সেন্টারের গবেষণা কর্মকর্তা স্ট্যাসি পেটিজন ও আলবার্ট ভিডালের মতে, এসব সাধারণ অস্ত্র মূল মিসাইল ব্যবস্থার বিকল্প না হলেও সাশ্রয়ী মূল্যে ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরক্ষা দেবে।


নির্বাচিত

ভিসা ফি এক লাখ ডলারের বেশি করার উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলারের বেশি করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি নেওয়া হতে পারে। প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এখনই নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তাবটির ওপর আগামী ৩০ দিন জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এটি কার্যকর করতে পারবে।

এইচ-১বি ভিসা মূলত প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে। নতুন ফি কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করেছিল। তবে আদালতের রায়ে সেই ফি আদায় বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ফি অবৈধ বলে রায় দেয় এবং প্রশাসনকে তা আদায় থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। বিষয়টি এখন আপিল আদালতে পর্যালোচনাধীন। একই সঙ্গে অন্য একটি আদালতে এই ফি নিয়ে পৃথক আইনি লড়াই চলছে।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত বছরের সাময়িক ১ লাখ ডলারের ফি-এর পরিবর্তে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের স্থায়ী ফি চালু হতে পারে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা মনে করেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে এবং এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা চাকরির সুযোগ হারান।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কিছু বিশেষায়িত পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা প্রয়োজন। তাদের মতে, এই ভিসা ব্যবস্থা বন্ধ বা কঠিন হয়ে গেলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী নিয়োগে সমস্যায় পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ফি-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।

মামলাকারীদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ডিএইচএস এ ধরনের ফি বা কর আরোপ করতে পারে না। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যবহার করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মূল আইনকে পাশ কাটানো যায় না।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই ফি কোনো সাধারণ কর নয়। বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে এইচ-১বি ভিসার চাহিদাও কমেছে। মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করেছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ২৫ শতাংশের বেশি কম।

২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, গত বছরের সংখ্যা ছিল তার অর্ধেকেরও কম।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি নতুন নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বেশি দক্ষ এবং বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আগস্টের শুরুতে ডিএইচএস আরও একটি পৃথক নিয়ম প্রস্তাব করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা বিদেশে থাকা কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের আবেদনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যোগ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তবে এর আগে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হতে হবে এবং আদালতে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জগুলোরও নিষ্পত্তি হতে হবে।


নির্বাচিত

শিশু ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগে নেপালজুড়ে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিক্ষোভ চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকরা।

দেশটির মাধেশ প্রদেশে গত সপ্তাহে নিখোঁজ হয় শিশুটি। এর তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে দেশটিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অপরাধকে কেন্দ্র করে আইন সংস্কারের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠক হয়। পরে একটি লিখিত সমঝোতা হয়। বৈঠকে সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে।

এ ঘটনা নেপালে কিশোর অপরাধীদের সঙ্গে আইনিব্যবস্থায় কীভাবে আচরণ করা হয়, তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু অধিকারকর্মী ধর্ষণ বা হত্যার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী গৌরীপ্রধান এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের জন্যও গুরুতর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’ তবে মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক এক কিশোরের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিও কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে বলেন, ‘ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের একজন সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আরও কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি রয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১০ বছরের কম বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

হাইতিতে রাতভর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৭, আহত ২২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিতে গ্যাং সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের অদূরে কেনস্কফ নামক পাহাড়ি জনপদে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে চালানো এই নৃশংস হামলার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সুরক্ষা না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইতিতে জাতিসংঘের ইন্টিগ্রেটেড অফিস হতাহতের এই প্রাথমিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছে, যা পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেনস্কফ এলাকাটি রাজধানীতে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পয়েন্ট হওয়ায় গত বছর থেকেই এখানে গ্যাংদের বারবার হামলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে এই তাণ্ডব চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে ছিল, যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭-এ দাঁড়িয়েছে। হামলার সময় বেশ কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম পাপের বাড়িও রয়েছে। স্থানীয়রা বর্তমানে পুলিশপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বলছেন যে, তারা এক চরম অপমান আর অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

হাইতি সরকার এই হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়ে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাস্তবের চিত্র ভিন্ন; গ্যাংগুলোর বিশাল জোট এখন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা এবং তার আশপাশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। চলতি বছরের শুরুতেও দুই মাসব্যাপী চলা এক হামলায় এই এলাকায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং প্রায় ২০০টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ক্রমাগত এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আগামী ডিসেম্বর মাসে হাইতিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সশস্ত্র গ্যাংগুলোর প্রভাবের কারণে গত এক দশকে দেশটিতে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। যদিও জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত একটি বিশেষ বাহিনী বর্তমানে পুলিশকে সহায়তার চেষ্টা করছে, তবে কেনস্কফের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাঁদের উপস্থিতি এখনও কার্যকর হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিহাসের সাথে এখন যোগ হয়েছে এই সীমাহীন গ্যাং দাঙ্গা, যা হাইতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে এলাকার মানুষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করছেন।


নির্বাচিত

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যবসায়িক বা পর্যটন ভিসায় (B1/B2) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন— এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের এক বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে এই পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ নথি এবং মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যারা বি-ওয়ান এবং বি-টু ভিসার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে থেকেই এই ২ লাখ ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করবে।

এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এপি-কে জানিয়েছেন, অনেকেই দর্শনার্থী হিসেবে অ-অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিল করা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট কতজনের ভিসা বাতিল হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যবসায়ী বা পর্যটক মর্যাদা কেড়ে নিয়ে একটি নতুন আইনি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ভিসা আবেদনকারীদের কাছ থেকে এই মর্মে নিশ্চয়তা চাওয়া হচ্ছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করবেন না এবং ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন আইন কঠোরতর করা হচ্ছে। গত দেড় বছরে হাজার হাজার বিদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে এবং আবেদনের ফিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, “ভুয়া আশ্রয় আবেদনে” জনগণ অতিষ্ঠ এবং অভিবাসন আইনের ফাঁকফোকর হিসেবে একে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আইনি জটিলতা এড়াতে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কভাবে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।


নির্বাচিত

প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটক না করার আহ্বান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের অনির্দিষ্টকাল ধরে বিনাবিচারে আটকে রাখা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি এখনো কারাগারে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এখানো সুনির্দিষ্ট অভিযোগই দাখিল করা হয়নি।

এইচআরডব্লিউ বলছে, শেখ হাসিনা সরকারের ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগে অনেককে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তাদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সংস্থাটির ভাষ্য, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে কারাগারে অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী মারা গেছেন। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রতিপক্ষের শত শত রাজনৈতিককর্মীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে খেয়ালখুশি মতো আটকে রাখা বন্ধ করা।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটি বলছে, সংস্কার না করে বর্তমান রূপে ওই বিল পাস হলে নতুন কমিশন এসব খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিনা অভিযোগে আটকদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, হাসিনা প্রশাসনকে সমর্থক অন্যান্য দলের সাবেক আইনপ্রণেতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা রয়েছেন।

এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, গুম ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসিকিউটররা বারবার এমন সব মামলায় জামিন নামঞ্জুর করার আবেদন করেছেন, যেখানে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নিম্ন ও জেলা আদালতগুলো ধারাবাহিকভাবে জামিন নামঞ্জুর করছে এবং হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলায় তাদের আটকে দিচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে ৮২ বছর বয়সি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

এক আন্দোলনকারীকে হত্যার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের তিন মাসে দুর্নীতিসহ আরও চারটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রতিটি মামলায় নিম্ন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে।

কারাগারে এ বি এম খায়রুল হকের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে পরিবার এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছে। হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করলেও ২০২৬ সালের ১০ মার্চ (শেষ মামলায় জামিন পাওয়ার আগের দিন) পুলিশ তাকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মুক্তি আটকে দেয়।

নতুন ওই দুই মামলায় নিম্ন আদালত জামিন নামঞ্জুর করলেও ১২ মে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয়। কিন্তু তিনি মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ আরও একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। আগের একটি মামলায় যে সময়ে তাকে ঘটনাস্থলে থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল, নতুন মামলাটিতেও ঠিক একই সময়ে তিনি ১০ কিলোমিটার দূরে আরেকটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

এভাবে হাইকোর্টের জামিন এবং পুলিশের নতুন মামলা দায়েরের চক্র চলতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপে ১৯ আগস্ট তিনি মুক্তি পান। এই পুরো সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।

অন্য আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীরা এইচআরডব্লিউকে বলেন, ‘তারা এখন তাদের মক্কেলদের জামিন চাইতে নিরুৎসাহিত করছেন। কারণ জামিন পেলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করে দেয় বলে তাদের আশঙ্কা।’

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক বছরের বেশি সময় অভিযোগ ছাড়াই কাউকে আটক রাখার সুযোগ দেয় কেবল লিখিতভাবে উল্লেখ করা ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যাদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছে, সেই দেড় শতাধিক ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। জামিন প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের আপিলের অধিকারও নেই।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বয়স ৮১ বছর। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ট্রাইব্যুনাল প্রথম তাকে আটক করে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই তিনি ২২ মাস ধরে আটক রয়েছেন।

এইচআরডব্লিউ বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি জামিন চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেনি এবং কোনো ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির’ কথাও বলেনি। বরং বিচারকার্যক্রম দুই দফা মুলতবি করা হয়েছে। সর্বশেষ তা আগস্টের শেষ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের ২২ মাস ধরে ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে থাকার কথাও বলা হয়েছে এইচআরডব্লিউ।

তার পরিবার এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার পায়ে গ্যাংগ্রিন হয় এবং তিনটি পায়ের আঙুল কেটে ফেলতে হয়। পড়ে গিয়ে তার কোমরের হাড়ও ভেঙে যায়। জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে।

কারাগারে অনেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অনেক পরিবার অভিযোগ করেছে। ৭৫ বছর বয়সি শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত এবং হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৭১ বছর বয়সি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২২ মাস ধরে বিনাবিচারে আটক আছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত।

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনটি হত্যা মামলা ও একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আটক ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, তাকে যথাযথ ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং জামিনও দেওয়া হয়নি।

একই ধরনের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জিয়াউল হক জিয়ার মৃত্যুর ক্ষেত্রেও। ৬৫ বছর বয়সি জিয়াউল হককে ৬ জানুয়ারি আটক করার সময়ই তিনি অসুস্থ ছিলেন। জামিন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ১৪ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে কাউকে আটক করা কিংবা নির্দিষ্ট শর্তে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিচার শুরুর আগে আটক রাখার বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হওয়া উচিত, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আটক প্রত্যেক ব্যক্তির আটকাদেশ আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় কি না, তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমমানের কর্তৃপক্ষের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে; তা না হলে তাকে মুক্তি দিতে হবে। বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ বলে ধরে নেওয়ার নীতি এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

এলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘যে বিচারব্যবস্থায় বয়স্ক ব্যক্তিরা অভিযোগ গঠনের আগেই হেফাজতে মারা যান, সেখানে বিচার শুরুর আগেই আটক রাখাকে কোনোভাবেই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাদের অধীনে কারাগারে হওয়া প্রতিটি মৃত্যুর স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং বিনা অভিযোগে দীর্ঘ সময় ধরে খেয়ালখুশি মতো আটক রাখা বন্ধ করা।’


নির্বাচিত

বাড়ছে রাশিয়া-ভারতের ঘনিষ্ঠতা

পুতিন-জয়শঙ্করের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্রেমলিনে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। খবর ফার্স্ট পোস্টের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন তিনি।

মস্কোতে জয়শঙ্করকে স্বাগত জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘তার এই সফর ভারত ও রাশিয়ার কয়েক দশকের সম্পর্কের গভীরতা ও শক্তিকে তুলে ধরছে।’ রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুতনিকের প্রতিবেদনে পুতিনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘মন্ত্রী মহোদয়, আপনাকে দেখে আমি খুবই আনন্দিত। আপনার আজকের সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মাত্রাকে তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশ সরকার, সংসদ এবং অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।’ পুতিন এদিন আরও বলেন, ‘২০২৬ সালেও ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।’ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

জয়শঙ্কর বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’ একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভারতের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেছেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন মোদি। পাশাপাশি ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর বিষয়েও তিনি আগ্রহী।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ১২ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানে নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ ৫৭ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। আটকদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশি। সোমবার (২৪ আগস্ট) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার দুপুর ২টায় রাজ্যের সেরেমবান এলাকায় তিনটি স্পটে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন জেআইএমের পুত্রাজায়া সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তারা। কুয়ালালামপুরে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের (কেবিআরআই) কর্মকর্তারাও এই অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিবাসন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে আটকদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ৭ জন স্থানীয়, ৩ জন ইন্দোনেশিয়ার এবং ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক আছেন। আটকদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হোস্টেল ও বাজেট হোটেলে বিদেশি নারীদের অবস্থানের ব্যবস্থা করত। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘ক্যাপ্টেন’ বা ম্যানেজার হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসন বিভাগ জানায়, বিদেশি নারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি সেবার জন্য প্রায় ৫০ রিংগিত করে নিতেন। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকরা তাদের গ্রাহক। প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে চক্রটি বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৪০ হাজার রিংগিত লাভ করত বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সাতজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ধারা ৫৬(১)(ডি)-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। আর অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৬(১)(সি) এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ আরও জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।


নির্বাচিত

banner close