ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশ ক্রোয়েশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে বসনিয়া সীমান্তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অন্তত ১০০ জন অভিবাসীকে আটক করেছে বসনিয়ার সীমান্ত পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বসনিয়ার সীমান্ত পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উত্তর বসনিয়ার বিস্তরিকা এলাকার সীমান্ত পয়েন্টে পরিচালিত দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি অভিযানে ৪০ জন পাকিস্তানি ও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিকের একটি দলকে সীমান্ত অতিক্রমের সময় আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া একই এলাকা থেকে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আরও ৩৩ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে সীমান্ত অতিক্রমের জন্য অভিবাসীদের ব্যবহৃত দুটি নৌকা জব্দ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ মানবপাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অধিবাসীরা ইইউ দেশগুলোতে পৌঁছানোর জন্য যেসব অনিয়মিত পথ ব্যবহার করেন, তার মধ্যে তথাকথিত ‘বলকান রুট’ অন্যতম জনপ্রিয়। বসনিয়া মূলত এই বলকান রুটের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে এই বালকান রুটে ৪ হাজার ৯০০টিরও বেশি অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য মস্কো ও কিয়েভ সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত। তারা হলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তারা এ সফর শুরু করেন।
মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। এরপর কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে সফর নিয়ে আলোচনা করেন উইটকফ ও কুশনার।
যুদ্ধ বন্ধে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। তারা দুজনই দক্ষ আলোচক। তাদের পাঠিয়েছি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় কিনা সে চেষ্টা করতে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফরকে সামনে রেখে রাশিয়ার সাথে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ যথাক্রমে শনিবার মস্কো এবং রোববার কিয়েভ সফর করার কথা রয়েছে।
শান্তি আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি ও দূতদের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে এই কূটনৈতিক সফরের সময় উভয় পক্ষকে বিমান হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এক বার্তায় ট্রাম্পের দূতদের এই সফরের কথা নিশ্চিত করে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের নিরাপদ গমনাগমন নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমা স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বৈঠক ও লজিস্টিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা চালানো হবে না। একইভাবে রাশিয়াকেও বিমান হামলা বন্ধ রেখে নীরবতা পালনের মাধ্যমে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ‘বাস্তব বিকল্প’ চায় উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, তার দেশ রাশিয়াকে নিয়ে নয়, বরং ট্রাম্পের দূতদের নিয়ে ভাবছে। মস্কো তাদের কী জবাব দেয় ও দূতেরা কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। তবে জেলেনস্কির প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় এখনও কোনো বার্তা দেয়নি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার সরকার।
জেলেনস্কির এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি এমন এক দিনে এলো, যেদিন ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে ভরদুপুরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, মূলত গোয়েন্দা প্রধানের কার্যালয়কে লক্ষ্য করেই ওই হামলাটি চালানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর রাশিয়ার দিনের বেলার বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিয়েভে হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওদেসা অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর বিমান হামলায় একজন নিহত এবং এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এছাড়া নিপ্রো শহরে পৃথক এক হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সংঘাতের এমন তীব্রতার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘস্থায়ী নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইউক্রেনের রাজধানীতে ট্রাম্পের শীর্ষ দূতদের এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান। গত বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে বিনা শর্তে শত শত কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা চাওয়া হলেই ইউরোপ পরিশোধ করত। কিছুটা দেরিতে হলেও আমরা এখন সেই অর্থ ফেরত চাইব। তবে ইউরোপের কোন কোন দেশের কাছে এই অর্থ চাওয়া হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেনের কিয়েভ ওব্লাস্টে চালানো বিমান হামলায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) একটি গুদাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো প্রাণহানি না হলেও এই হামলায় জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি ইউক্রেনের দুই প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে হওয়া গোলাগুলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গত বুধবার হওয়া অভ্যন্তরীণ কলহের বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, এ ঘটনার জন্য উভয় সংস্থাকেই জবাবদিহি করতে হবে। তারা যে আচরণ করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরখাস্তের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত বুধবার প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে ইউক্রেনের দুই প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক জাহাজগুলো বাল্টিক সাগর অঞ্চলের জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও সমুদ্র তলদেশের কেবলের ওপর গোপনে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে পোল্যান্ড। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে ইতালিতে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে সরকারগুলো যা পারেনি, তা করে দেখিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তার সরকার একটানা ক্ষমতায় থাকার নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০২২ সালের ২২ অক্টোবর ক্ষমতাগ্রহণ করেন মেলোনি। এরপর পেরিয়ে গেছে এক হাজার ৪১৩টি দিন। ধনকুবের সিলভিও বার্লুসকোনি এর আগে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪১২ দিন টানা ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েছিলেন। বার্লুসকোনির সেই রেকর্ড এবার নিজের করে নিলেন মেলোনি।
নিজের কট্টর ডানপন্থি সরকারের এই মাইলফলক অর্জন উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছেন মেলোনি। ইতালির বারি শহরে এ উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ যোগ দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে ওই অনুষ্ঠানের কাছেই বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে পোস্ট করে মেলোনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার মাইলফলক অর্জন করল।’
‘আমি এই কৃতজ্ঞতা ও গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে এই অর্জনকে স্বাগত জানাই। স্থিতিশীলতা অর্জন করা সবাইকে বলে বেড়ানোর মতো কোনো রেকর্ড নয়। কিন্তু একটি জাতিকে পরিকল্পনা করতে, সিদ্ধান্ত নিতে, অঙ্গীকার রক্ষা করতে এবং সবার কাছ থেকে সম্মান আদায় করতে হলে (স্থিতিশীলতার) এই শর্ত পূরণ অপরিহার্য’, যোগ করেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কোচে চেপে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে দক্ষিণের পুলিয়া অঞ্চলের রাজধানী বারিতে আসছেন মেলোনির কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স ফর ইতালি (এফডিআই)-এর সমর্থকরা। আয়োজকরা বলছেন, বন্দর এলাকার ওই অনুষ্ঠানস্থলে ১০ হাজার মানুষ জমায়েত হতে পারেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মেলোনি। এ সময় তার সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানি। বিশ্লেষকদের মত, ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগাম প্রচারণা হিসেবে এই সমাবেশকে ব্যবহার করতে চাইছেন মেলোনি। অনুষ্ঠানের স্লোগান হিসেবে নির্ধারণ করা হয় ‘ইল গোভের্নো পিউ স্তাবিলে, ল’ইতালিয়া পিউ ফোর্তে (সবচেয়ে স্থিতিশীল সরকার, সবচেয়ে শক্তিশালী ইতালি)।
চার বছরের শাসনামলে সরকারের নানা অর্জন নিয়ে কথা বলেন মেলোনি। মেলোনির সরকার নতুন করে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি, ব্যক্তি পর্যায়ের আয়করের পরিমাণ কমেছে ২১ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।
মেলোনির আমলে দেনায় জর্জরিত ইতালি আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। তবে সমালোচকরা বলেন, স্থিতিশীলতা এলেও সে অনুযায়ী অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।
মাইলফলক অর্জনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিজের মত দিয়েছেন সিজিআইএল ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মরিজিও লানদিনি। তিনি বলেন, ‘কারও বেতন কি বেড়েছে? না। পেট্রোলের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। চাকরির নিরাপত্তা কমেছে। মানুষ এখন অবসর নিতে পারছে না আর স্বাস্থ্যসেবাও আগের মতো কার্যকর নেই।’
অবৈধ অভিবাসন কমানোর অঙ্গীকার করে ব্রাদার্স ফর ইতালি ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। তাদের দাবি, চার বছরে অবৈধ অভিবাসন ৮০ শতাংশ কমেছে। অনুষ্ঠানে বারি শহরের ঐতিহ্যবাহী অ্যাসাসিন স্প্যাগেটি পরিবেশন করা হবে। এই স্প্যাগেটির বিশেষত্ব হলো এর সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত ঝাল, স্মোকি স্বাদের সস।
ভারতে জেনজি আন্দোলনের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে মাঠে নেমেছে নতুন প্রজন্ম ‘জেন আলফা’। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা, শিক্ষক সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ করছে।
উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাতপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ জন শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসরুমে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানায়। আট বছর বয়সী প্রিয়ার মতো কেউ কেউ হাতে তুলে নেয় জাতীয় পতাকা। স্কুলটির বর্তমান ভবন বেশ পুরোনো এবং জরাজীর্ণ। ২০২৩ সালে একটি দেয়াল ধসে এক ছাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর সংস্কার না করায় স্কুলের একটি অংশ এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে।
সেই থেকে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষার্থীরা একটি নতুন ভবনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু গত ২২ আগস্ট তাদের এই অপ্রত্যাশিত প্রতিবাদের আগ পর্যন্ত কেউ তাদের কথায় কান দেয়নি। যেখানে ১০ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সি শিশুরা স্কুল ও সরকার প্রধানদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে। শিশুরা ধর্মঘট করছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে যান।
ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক অবস্থি শিশুদের নতুন একটি ভবন দ্রুত নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ততক্ষণে প্রায় সন্ধ্যা নেমে আসায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হয়। প্রিয়া জানায়, 'আমি খুব খুশি, আমরা একটা নতুন ভবন পেতে যাচ্ছি। আমরা ভয়ে থাকতাম যে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনটি হয়তো একদিন ধসে পড়বে। ভয়ে আমরা পড়াশোনায় মন দিতে পারতাম না, তাই আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করেছি।'
প্রিয়া ও তার বন্ধুরা শুধু নয়। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যের শিশুরা স্কুলে এই ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে। গ্রামীণ এলাকার যেসব সরকারি স্কুল অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়ছে, মূলত সেখানেই এই প্রতিবাদের খবর বেশি পাওয়া গেছে।
এই বিক্ষোভগুলো কেবল ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুন মাসের শুরুর দিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মূল প্রতিবাদস্থল 'যন্তর মন্তর'-এ জেন জি প্রজন্মের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জমায়েত হতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর জের ধরে বহু তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার পর অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই ছিল তাদের মূল দাবি।
তবে মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ-দুর্দশা নিরসনের বদলে তাদের বিদেশি শক্তিপুষ্ট চরমপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলে, ক্ষমতাসীনাদের প্রতি তরুণদের প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ভারতের তীব্র বেকারত্ব ও ছদ্মবেকারত্ব সংকটও বিক্ষোভের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
জনপ্রিয় এই যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। ব্যাপক বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের উদ্দেশে গত মে মাসে গঠিত একটি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ছিল এটি।
মোদি সরকারের কার্যত দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব অমিত শাহের অধীনস্থ নিরাপত্তা বাহিনী যখন সংসদের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমনপীড়ন চালায়, তখন এই 'জেন জি' আন্দোলনটি দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে।
বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবি জানিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ তীব্র রূপ নিলে মোদি সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। এর ফলশ্রুতিতে মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
এরপর থেকে সিজেপি ভারতের বিদ্যালয়গুলোর বেহাল দশার দিকে নজর দিয়েছে। সামুহি ভাতপুরওয়ার মতো বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন এমন এক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বিরল—শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া এবং প্রশ্ন তোলা।
সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বন্দরনগরী বসাসোতে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এই ঘাঁটি থেকে আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলা, নজরদারি অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও পুন্টল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই অঞ্চলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ নয়, উত্তর সোমালিয়ায় নতুন সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠারও অংশ। একই সঙ্গে সিআইএ বসাসোতে তাদের কার্যক্রম বাড়াবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর পুন্টল্যান্ডের আল-মিসকাদ পর্বতমালার টোগা মিরালে ও টোগা বালাদে এলাকায় মার্কিন নজরদারি ড্রোন উড্ডয়ন করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইএস জঙ্গিদের শনাক্ত করার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। একই দিনে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-মাদো পাহাড়েও আল-শাবাবের বিরুদ্ধে নজরদারি অভিযান চলে।
গালফ অব এডেনের তীরে অবস্থিত বসাসো শহর মানব পাচার ও শরণার্থী চলাচলের অন্যতম প্রধান রুট। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে আইএস-বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি লোহিতসাগর ও গালফ অব এডেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তাও নতুন ঘাঁটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গত ২ আগস্ট আফ্রিকমের একটি প্রতিনিধিদল পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আবদুল্লাহি দেনির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর পুন্টল্যান্ড সরকার এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বসাসোর সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে।
তবে ড্রপ সাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঁচজন পৃথক পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগে সেখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না। কেবল গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি অফিস ছিল। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত চুক্তিটি গত ২৭ জুলাই ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকম ও প্রেসিডেন্ট দেনির গোপন বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এবং পরে বসাসোয় শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, বসাসোয় অবস্থানরত সিআইএ সদস্যরা আইএসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। গত বছরের জুলাইয়ে আইএস-সোমালিয়ার অর্থ শাখার প্রধান আবদিউয়েলি মোহামেদ ইউসুফকে যৌথ মার্কিন-সোমালি অভিযানে আটক করার পর তাকেও বসাসোর সিআইএ পরিচালিত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
নতুন ঘাঁটির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী স্ট্রাইক ফোর্সও গঠন করবে। এই বাহিনীর সদস্যদের বেতন, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে বলে জানিয়েছেন পুন্টল্যান্ডের কর্মকর্তারা। তবে বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবেন, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।
ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার সংখ্যা আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে ২০৫টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ৫৩ শতাংশই আইএসকে লক্ষ্য করে।
নতুন ঘাঁটি নির্মাণ নিয়ে আইনি বিতর্কও দেখা দিয়েছে। সোমালিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি করার ক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের। অথচ বসাসো ঘাঁটির বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি এবং তারা আগে থেকেই বিষয়টি জানত কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ৫ বিলিয়ন ডলারের বোমা, গাইডেন্স কিট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি’র অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এনিয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্য সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করা। একই সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন বাহিনী ও উপসাগরীয় অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় উন্নত করাও এর লক্ষ্য।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই প্যাকেজ সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে। দপ্তরটি সৌদি আরবকে ন্যাটোর সদস্য নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজে হাজার হাজার গাইডেন্স কিট ও বোমার পাশাপাশি ফিউজ, টার্গেট ডিটেক্টর, বিভিন্ন ধরনের কনটেইনার, সহায়ক সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। তবে চূড়ান্তভাবে অস্ত্র বিক্রি সম্পন্ন করতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ, শুক্রবারের (৪ সেপ্টেম্বর) এই অনুমোদন কোনো সম্পন্ন অস্ত্র চুক্তি নয়; বরং সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার একটি ধাপ।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরানি বাহিনী এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরব।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে লেবার ডে’তে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে-তে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪.০৩ ডলারে উঠতে পারে। এর ফলে ২০১২ সালে প্রতি গ্যালন ৩.৮৩ ডলারের আগের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
আগামী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পালিত হতে যাওয়া লেবার ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি ছুটির দিন। দেশটির শ্রম আন্দোলনের অবদান স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে এ সময় অনেক মার্কিন নাগরিক ভ্রমণে বের হন।
গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪.১৩ ডলার। গত বছরের গড় দামের তুলনায় যা প্রায় ১ ডলার বেশি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের দাম মার্কিন ভোক্তাদের জন্য একটি বড় ‘চাপের জায়গা’ বা ‘পেইন পয়েন্ট’।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করায় জ্বালানির বাড়তি খরচ এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের কেরালা রাজ্যে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল অঞ্চলের একটি প্রকৌশল কলেজের আটজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ত্রিশূর জেলার কৈপামঙ্গলমের পানাম্বিক্কুন্নু এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পেছনে শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়িটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা গুরুভায়ুর থেকে কোডুঙ্গাল্লুরের দিকে যাচ্ছিলেন। জাতীয় মহাসড়ক-৬৬-এ নির্মাণকাজের কারণে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ব্যারিকেড ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে থাকার কারণে চালক হঠাত দেওয়া ব্যারিকেডটি দেখতে পাননি। এর ফলে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে পার্ক করা মহারাষ্ট্রের একটি লরির পেছনে গাড়িটি প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে—তাঁরা হলেন সূর্য, যুবসঞ্জিত, বিশ্ব, জোহুয়া, সন্তোষ ও প্রসন্ন। এদের মধ্যে প্রথম চারজন দিন্দিগুলের এবং বাকি দুজন মাদুরাইয়ের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠান।
এই ঘটনায় কৈপামঙ্গলম পুলিশ পলাতক লরি চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহত অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারই জানত না যে তাদের সন্তানরা কেরালা ভ্রমণে গিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেপালের আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কোনো শ্রমিকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও নতুন কোনো প্রাণের সন্ধান না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অলৌকিকভাবে ৯ দিন আটকে থাকার পর সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজন নামে দুই শ্রমিককে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
শনিবার কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) একটি বিশেষ ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের গভীরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্য অম্বর মহাত জানান, সুড়ঙ্গটি বর্তমানে কাদা, মাটি এবং ধসে পড়া পাথরে প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব ধসে পড়ে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫-২০ মিনিট তল্লাশি চালালেও আর কারো সন্ধান পাননি।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান বা আকস্মিক বন্যার ফলে অন্তত ছয়টি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে কারো কণ্ঠস্বর শোনার গুঞ্জনে নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত তা হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক প্রকৌশলী উদয় নেউপানে জানান, সুড়ঙ্গের ভূগর্ভস্থ অংশে কিছু ফাঁকা জায়গা থাকায় পূর্ববর্তী দুই শ্রমিক প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিলেন।
নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এই প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। প্রকল্পের প্রধান অভাস ওঝা জানান, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধান চালিয়েও আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।
বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। এই ভিসার অপব্যবহার রোধে কোন কোন কাজগুলো করা আইনত নিষিদ্ধ, তা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দূতাবাস তাদের সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করা, যা সাধারণত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ হিসেবে পরিচিত, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া এই ভিসায় অবস্থানকালে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করে কোনো কাজ করা যাবে না। পাশাপাশি কোনো ডিগ্রি অর্জন বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করা কিংবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করাও এই নির্দিষ্ট ভিসার শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ আগস্ট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস। সেখানে বলা হয়েছিল যে, স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার যেমন পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজ করা, ক্লাসে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত না করে কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে ভিসা বাতিল করা হতে পারে। মূলত ভিসার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অভিবাসন আইন মেনে চলতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এসব নির্দেশনা নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার একটি সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির লা পাজ বিভাগের ভিয়াচা শহরে অবস্থিত ‘রেজিমিয়েন্তো ২ বলিভার’ নামক সামরিক ঘাঁটিতে এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রিতা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং এটি ১৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এরনেস্তো জাস্তিনিয়ানো জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৫২ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৬ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সামরিক স্থাপনার যে স্থানে আতশবাজি বা অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী মজুত করা ছিল, সেই এলাকাতেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের সূত্রপাত, তা এখনো অস্পষ্ট।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পর পর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং স্থাপনার ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীতে গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। সম্প্রতি দেশটির সান্তা ক্রুজ বিভাগের একটি সামরিক গুদাম থেকে প্রায় ৩৩ হাজার রাউন্ড গুলি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ভিয়াচার এই বিস্ফোরণের সাথে গুলি চুরির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইপোহ শহরের বারচাম এবং কানথান-চেমোর এলাকায় অভিবাসন বিভাগের পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ১৭৫ জন বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশই বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের শ্রমিকও রয়েছে এই তালিকায়। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনটি ভিন্ন স্থানে—একটি কাঠের কারখানা, রাবার দস্তানা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং খাবারের দোকানে এই তল্লাশি চালানো হয়। মোট ৩০৫ জন শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই করার পর অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৭৫ জনকে হেফাজতে নেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের সময় কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আটকের ভয়ে অনেকে কারখানার সীমানাপ্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং কেউ কেউ স্তূপীকৃত কাঠের তক্তা ও আবর্জনার ঝুড়িতে লুকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। তবে উঁচু দেয়াল ও কাঁটাতারের কারণে অনেকেই পালাতে ব্যর্থ হন এবং এই হুলস্থুলের মধ্যে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, বৈধ পাসপোর্ট না থাকা, কর্মসংস্থান পারমিটের বাইরে কাজ করা এবং নিয়োগকর্তার শর্ত ভঙ্গের দায়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
মহাপরিচালক আরও জানান, অভিযানের সময় বেশ কিছু শ্রমিকের কাছে ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের সন্ধান মিলেছে। এর নেপথ্যে কোনো সক্রিয় জালিয়াত চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো নিয়োগকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে দালালের মাধ্যমে জাল নথিপত্র দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করে থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ধরপাকড় অভিযান তীব্রতর হয়েছে। এর আগে গত মাসেও দেশজুড়ে পরিচালিত এক অভিযানে সহস্রাধিক বিদেশিকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৬০ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। বৈধ নথিপত্র ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া বিদেশি শ্রমিকদের চিহ্নিত করতে দেশটির কর্তৃপক্ষ সারা বছরব্যাপী এমন সাড়াশি অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ায় চলতি অর্থবছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য বাংলাদেশের ভর্তুকি ব্যয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। ফলে সরকারকে অতিরিক্ত সহায়তার জন্য বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলো ভেঙে পড়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এতে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্পট মার্কেটে দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে করোনা মহামারির পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চাপ বাড়াচ্ছে এলএনজি। গত বছর সরকার প্রাথমিকভাবে এলএনজি ভর্তুকির জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য এই খাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন করেছে, যা গত বছরের চূড়ান্ত ব্যয়ের প্রায় তিনগুণ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে কেবল বর্তমান প্রবণতার ভিত্তিতে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গ্যাসের জন্য সরকার ভর্তুকি বাবদ খরচ করেছে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা।’
বিশাল রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। অর্থের জোগান বাড়াতে তুলনামূলক কম অগ্রাধিকারের অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আর্থিক ক্ষতির এই ধারা শুধু গ্যাসেই সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করেছে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ব্যয় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে যেতে পারে। গত বছর এ খাতে ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, যেখানে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
২০২৬ সাল পর্যন্ত কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই চুক্তি ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশকে আবারও অস্থির স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান তিন এলএনজি সরবরাহকারীর মধ্যে কাতারও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ প্রয়োগ করেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্স (জেডসিএ) গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট আরও গভীর একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে—আমদানি করা জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা।’
এর একদিন আগে বাংলাদেশ প্রতি ইউনিট ২৮ ডলারের বেশি দামে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়, এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে ব্যয়বহুল উদ্যোগ। শুধু এই এক চালানের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কঠিন হিসাব তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘রিগ্যাসিফিকেশন ও টার্মিনাল চার্জ বাদ দিয়েও প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২৮ ডলার দরে কেনার অর্থ এলএনজির দাম ইতোমধ্যেই প্রতি ঘনমিটারে ১১৮ টাকা বেশি।’
এলএনজির প্রচলিত একক ১ এমএমবিটিইউ বা ১ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট। এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে ১০০ ওয়াটের প্রায় ৩ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি এক ঘণ্টা জ্বালানো সম্ভব।
শফিকুল আলম বলেন, ‘পেট্রোবাংলা যে দামে গ্যাস পায়, তার সঙ্গে তুলনা করলে সরকারকে প্রতি ঘনমিটারে ৯৫ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে।’
গ্যাসের ঘাটতি প্রকৃত অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। জেডসিএর তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে। হরমুজে সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে এ সময়ে আমদানি ৮৩ শতাংশ কমে ৬ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টনে নেমে এসেছে।
গবেষণা সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ‘আমদানি কমার অর্থ ব্যয় কমা নয়।’ বছরের বাকি সময়ে জ্বালানির দাম যদি জানুয়ারি-আগস্টের গড় দরে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত ব্যয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান, যা টাকা, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদ ব্যয়ের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬৪ শতাংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় বিদ্যুৎ গ্রিডও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি ছিল ১১ আগস্ট। ওই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়, যা জাতীয় চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। এই সংকটে গ্রামাঞ্চলে দিনে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
শিল্প খাতের প্রভাব ভয়াবহ। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় দেশের সাতটি বড় সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ হয়ে গেছে অথবা উৎপাদন কমিয়েছে। অর্থনীতির মেরুদণ্ড রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১৫-২০ শতাংশ কমেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দাম যতই হোক, সরকারকে এলএনজি আমদানি করতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসাগুলো এক উভয় সংকটে পড়েছে; হয় তাদের বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে, নয়তো কারখানা বন্ধ রেখে লোকসান গুনতে হবে।’
সম্প্রতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমানের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আটটি কার্গো সংগ্রহ করেছে এবং ভারতের কাছে ডিজেল চেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে, ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ এলএনজি কার্গো আমদানির জন্য একটি চুক্তিও করেছে ঢাকা।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, ‘এই পদ্ধতি আর্থিকভাবে ধ্বংসাত্মক হতে পারে। জেডসিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমান জ্বালানির দাম অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।’
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে সতর্ক করে শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রস্তাবিত সব টার্মিনাল যদি প্রায় ৬৫ শতাংশ সক্ষমতায় ব্যবহার করা হয়, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি বেড়ে প্রায় ৭৩০ বিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১২ ডলার হলে এর জন্য বাংলাদেশের বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। গড় দাম ২০ ডলারে উঠলে আমদানি ব্যয় ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’