বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষিপণ্যে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৯

আদা, মরিচ, টমেটো ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে।’ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার জনবল, কার্যাবলি, উল্লেখযোগ্য অর্জন, কৃষিক্ষেত্রের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে কৃষিজমি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কৃষিতে গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। টেকসই কৃষি উৎপাদনের জন্য মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষির উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা জরুরি। এজন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে।

বৈঠকে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং আরও জোরদার এবং কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে কৃষির বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন এবং চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে পাট খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাটকে কৃষি ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করছে। কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষির আধুনিকায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় অধিকতর গতিশীল হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম এমপি, মো. মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল এমপি, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি, মোছা. সাবিরা সুলতানা এমপি, মো. গোলাম রছুল এমপি এবং মো. আব্দুল বারী সরদার এমপি অংশ নেন।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আনসার ব্যাটালিয়নের সহায়তায় মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে ডিএনসিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী মার্কেট থেকে মিরপুর-২ নম্বরের সনি স্কয়ার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে গতকাল বুধবার এক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই মোবাইল কোর্ট অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী।

অভিযান চলাকালে রাস্তা ও ফুটপাতের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড এবং ইউনিপোল সাইনও অপসারণ করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত দোকানপাটের বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর আনসার পশ্চিম জোন কমান্ডারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর আনসার ব্যাটালিয়ন (৪১ বিএন)-এর বিভিন্ন পদবির ৩০ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন ছিলেন। থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা (মিরপুর)-এর উপস্থিতিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এই অভিযানে অংশ নেয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানটি শেষ হয়।

জনভোগান্তি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। এই অভিযানের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হওয়া ফুটপাতগুলো অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে।


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইসরায়েলের সহায়তা চাইল সৌদি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব। হুথিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা পেতে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মধ্যস্থতা করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমদ্য জেরুজালেম পোস্ট

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সেন্টকমের সহায়তা চেয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদারে ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের অবস্থান, সক্ষমতা ও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়াই এ যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ইসরায়েল নয়, মিসর এবং উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশের কাছেও একই ধরনের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ড, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তা জোরদার করতেই রিয়াদ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চাইছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একইভাবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি সেন্টকমের কাছ থেকেও।

তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে ইসরায়েলের ভেতরেও সতর্ক অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আইডিএফের আশঙ্কা, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েল যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

সৌদি আরব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ব্রিটেনের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

বাব আল-মানদেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই অঞ্চলে হুথিদের তৎপরতা বাড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সৌদি-ইসরায়েল যোগাযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আলোচনার বিস্তারিত দিক এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।


নির্বাচিত

ট্রাইব্যুনালে মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ও শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।

অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর পাঁচজন পলাতক বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের হামলার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর তারা সেটিকে অনুসরণ করে অধীনস্থদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক থাকায় ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর সব আসামির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

আরও একটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এদিন আরও একটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিলের কথা জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের একটি সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন যুবকদের সরকারের সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গুম করত এবং তাদের বিভিন্ন ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখা হতো।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকে পরবর্তী সময়ে হত্যার পর ঘটনাকে ‘জঙ্গি নাটক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। আবার কিছু ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যেত না এবং তাদের লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। কাউকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন জানায়, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও ওই ৩০ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

মক্কার কাছে ড্রোন উদ্বিগ্ন হয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

আনোয়ার ইব্রাহিম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের মক্কার কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করার খবরে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, ‘মক্কা আল-মুকাররামার কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করার খবর গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তা ও পবিত্রতার জন্য যেকোনো ধরনের হুমকির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ মক্কার বাসিন্দা ও হজযাত্রীদের সুরক্ষায় সৌদি আরব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

আনোয়ার বলেন, ‘এ ঘটনা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।’ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত সংযম দেখানো এবং দেরি না করে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।’

এর আগে বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার কাছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। তবে ড্রোনটি উৎক্ষেপণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি প্রতিহত করা হয়। মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ শহরটির দক্ষিণে গিয়ে পড়ে।


নির্বাচিত

আগামী বছরই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইটের লক্ষ্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী বছর ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বিমানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুসহ বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে এফএএর আইএএসএ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বমানের লিগ্যাসি এয়ারলাইনস হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। তবে বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ দ্রুত করা জরুরি।

বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে রাষ্ট্রদূতের সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

মার্কিন ঘাঁটিতেও ঠেকানো যাচ্ছে না ইরানকে, বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভর করে আসছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কিন্তু ছয় মাসের যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলাসবহুল হোটেলে আগুন লাগার পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতিতে ইরান ও তার মিত্রদের হামলা এড়াতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁজছেন উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা।

তবে সেই উদ্যোগও বাধার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সোমবারের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হয়। উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ফলে এসব দেশের সামনে নতুন নিরাপত্তা বিকল্প খোঁজা ছাড়া উপায় নেই। কুয়েত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বাদর আল-সাইফ বলেন, পুরোনো ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন কিছু গড়ে তুলতে হবে এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বাহরাইনসহ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ইরানের তুলনায় কম। গত কয়েক দশকে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ে উন্নত অস্ত্র কিনলেও তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিকল্প নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কোনও একক শক্তি নেই। চীন ও রাশিয়াও এসব দেশকে রক্ষায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি।

আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান উঠলেও সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো উদ্যোগগুলো এখনো পরীক্ষিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো মার্কিন নিরাপত্তার ছায়াকে সরিয়ে না দিয়ে তার পাশাপাশি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিমানবন্দর, বন্দর ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় মার্কিন সহায়তা ও অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে এসব হামলা দেশগেুলোকে অস্থিতিশীল অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভাবমূর্তি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে তারা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আল-বুসাইদি উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরান ও ইরাককে নিয়ে বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সৌদি আরব, আমিরাত ও কাতারও ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

এক সম্মেলনে আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনোয়ার গার্গাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুঁজতেই হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতা তাদের সামনে এ ছাড়া আর কোনও বিকল্প রাখে না।


নির্বাচিত

বৃহস্পতিবারই স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই ওই সভা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় আয়োজন। এ ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবদের অংশগ্রহণে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির সম্ভাব্য সূচি প্রকাশ এবং তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের মন্তব্যের পর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ের মূল বিষয় ছিল ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও নির্ধারিত মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য নগরবাসীকে সর্বোচ্চ স্বস্তি দেওয়া, জনদুর্ভোগ কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সড়কে একাধিক সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দুর্ভোগ বাড়ে। তাই আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সময়ে ইউটিলিটি শিফটিংসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও সুচারুভাবে তদারকির জন্য এমআরটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি ১৫ দিন পরপর উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে কর্মকর্তা পর্যায়ের সাব-কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


নির্বাচিত

তারেক রহমানকে পৃথক দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: রণধীর জয়সওয়াল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের নয়াদিল্লিতে সদ্য অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের, আর অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, এ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রিত হন। ফলে তিনি দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন; একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের একটি ব্রিফিং অনুযায়ী, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই বক্তব্যের পরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন যে, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেক প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে রণধীর জয়সওয়ালের মন্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণটি এখনো বহাল রয়েছে। ভারত গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।


নির্বাচিত

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতাদের চুক্তিতে সই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের বিভক্তির দাবিতে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী ফার্স্ট মিনিস্টাররা আনুষ্ঠানিকভাবে একজোট হওয়ায় নিজের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।

এই চরমপত্রটি (আল্টিমেটাম) বার্নহাম এবং তার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এজেন্ডার জন্য এক বড় ধাক্কা। তার এই নীতি তিনটি দেশে স্বশাসনের দাবিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, যেখানে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশেই স্বাধীনতাকামী ফার্স্ট মিনিস্টাররা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গত সোমবার সকালে কার্ডিফে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টাররা—এসএনপি নেতা জন সুইনি, প্লেইড কাইম্রু নেতা রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং সিন ফেইন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও’নিল—একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই তিন নেতা ঘোষণা দেন, বার্নহামই হবেন যুক্তরাজ্যে শেষ প্রধানমন্ত্রী। তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের মধ্যকার এই যৌথ চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের সময় ফুরিয়ে আসছে’ এবং ঘোষণা করা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক পরিবর্তন আসছে’। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার গণভোটের অনুমতি দেওয়ার জন্য ডাউনিং স্ট্রিটের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হলো।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার সুইনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবশ্যই একটি স্বাধীনতা গণভোট আয়োজন করতে হবে।’ তিনি দাবি করেন, আবারও ভোটগ্রহণ হলে স্কটল্যান্ডের জনগণ ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পক্ষেই রায় দেবে। তিনি ঘোষণা করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বার্নহামই হবেন সমগ্র যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বদানকারী চূড়ান্ত প্রধানমন্ত্রী। কারণ স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে কেবল ‘বাধার’ মুখেই পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এসএনপি নেতা বলেন, ‘স্কটল্যান্ডের মানুষকে যদি গণভোটে স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তারা সেই পথই বেছে নেবে। কারণ জনমত জরিপের সব তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটিই স্কটল্যান্ডের মানুষের পছন্দ।’ এই দলীয় নেতারা নিজ নিজ সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং স্ব স্ব দলীয় প্রধান হিসেবে বৈঠকে মিলিত হয়ে অর্থনীতি, জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথ অংশীদারিত্বের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

আইরিশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিন ফেইন প্রেসিডেন্ট মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের সাথে একাত্ম হয়ে দলটি সরকারকে ‘সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা এবং তা সহজতর করার’ আহ্বান জানিয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই দ্বীপজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরো অঞ্চলজুড়ে মানুষ এমন সব প্রথম মন্ত্রী পাচ্ছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে, যারা প্রত্যেকেই যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এতে আরও বলা হয়, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে যারা দেখছেন, তাদের জন্য এর চেয়ে স্পষ্ট সংকেত আর হতে পারে না যে, ওয়েস্টমিনস্টারের সময় শেষ হয়ে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, এর চেয়েও ভালো একটি পথ আছে, সমান মর্যাদায় জাতিগুলো একসাথে কাজ করবে, চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাধারণ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমাদের আন্দোলনের পেছনে জনসমর্থন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক পরিবর্তন আসছেই।

তাই আমরা আমাদের দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং বাস্তবিক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে একসাথে কাজ করলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। নেতারা আরও বলেন, ‘আমাদের জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। কোনো ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের এই অধিকার নেই যে, তারা গণতন্ত্রকে আটকে দেবে কিংবা জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে—এই মূলনীতিকে ক্ষুণ্ণ করবে।

তাদের মতে, আমরা স্বীকার করি যে, আমাদের দলগুলোর বিভিন্ন সাংবিধানিক অবস্থান রয়েছে এবং প্রতিটি জাতি তার নিজস্ব উপায়ে এবং নিজস্ব সময়ে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। গ্রীষ্মের আগে স্যার কিয়ার স্টারমারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে বার্নহাম তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করে তুলেছিলেন, যার মধ্যে একটি পর্যটন কর চালু করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।


নির্বাচিত

৫০ বছরে সর্বনিম্নে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র সূচক

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ প্রতিবাদ মিছিল থেকে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘হুমকি ও পদক্ষেপের’ কারণে বিশ্বজুড়ে আইনের শাসনও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে, গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশ ও নেপালসহ কিছু দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) জানিয়েছে—বিশ্বজুড়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ অন্তত গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

আন্তঃসরকারি এই সংস্থার বার্ষিক ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ প্রতিবেদনকে এ ধরনের সবচেয়ে বিস্তৃত গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে ১৭৪টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে দেশগুলোর গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক অবনতির মাত্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এটি একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান একটি বড় প্রবণতার অংশ। ২০২৫ সাল ছিল টানা ১১তম বছর, যখন গণতান্ত্রিক অগ্রগতির চেয়ে অবনতি হওয়া দেশের সংখ্যা বেশি ছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক অবনতির ধারা।

প্রতিবেদনের লেখকরা বলেন, ‘২০২৫ সালে গণতন্ত্রের জন্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এর অবক্ষয় ঠেকানোর কঠিন বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং একই সঙ্গে তা আরও জটিল হয়েছে।’ তারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত নির্বাহী শাখায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন এবং ব্যক্তিগত কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ ও তার কথিত শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কাজে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেন। এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। এতে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের মিত্রতা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।’

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা সতর্ক করে বলেছেন, গণতন্ত্রের অবনতি হলে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণার মূল বার্তা হলো, যেকোনো দেশের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে গণতন্ত্রে বিনিয়োগ থাকা উচিত। গণতন্ত্রের মানের অবনতি এবং সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, নীতিনির্ধারণ কিংবা জনপরিসরের বিতর্কে তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।’

সুইডেনের আপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পৃথক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের তথ্যেও সংঘাত বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের তথ্যভাণ্ডার ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত সহিংসতা ছিল সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাতের সংখ্যাও ছিল অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।

তবে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে বর্ণবাদবিরোধী কৌশল এবং শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।

সিরিয়াতেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে দমনমূলক শাসক বাশার আল-আসাদের স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণবিক্ষোভ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ও অর্থবহ সংস্কার করা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।

কাসাস-জামোরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাপ্রবাহ অন্যান্য দেশকেও প্রভাবিত করেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ’ করা দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি তখন বলেছিল, ২০১৯ সাল থেকেই দেশটিতে গণতন্ত্রের ‘দৃশ্যমান অবনতি’ শুরু হয়েছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি গত ৫০ বছরের গণতান্ত্রিক সূচকের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোর মূল্যায়ন করে। এরপর দেশগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: গণতান্ত্রিক দেশ, ‘হাইব্রিড’ সরকার এবং কর্তৃত্ববাদী শাসন। বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে গণতন্ত্রের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে আইনের শাসনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৭১টি, অর্থাৎ ৪১ শতাংশ দেশ, আইনের শাসনের ক্ষেত্রে নিম্নমানের অবস্থানে ছিল। একই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের অবনতির গতিও ছিল দ্রুত। মোট ২৯টি দেশে আইনের শাসনের সূচকে অবনতি হয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতে ঘাটতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) মহাপরিদর্শক কার্যালয়। গত সোমবার প্রকাশিত কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার’ থাকার দাবির সঙ্গে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (ওইইএফ) আনুমানিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু ব্যবহৃত গোলাবারুদের পেছনেই খরচ হয়েছে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপারেশন এপিক ফিউরিতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং পুনরায় সরবরাহ ব্যবস্থায় শিল্প খাতের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ‘ইরানের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা ধ্বংস করা’।

গোলাবারুদের ঘাটতি মোকাবিলায় পেন্টাগন অস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা, উৎপাদনের সময় কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও নির্বাচিত গোলাবারুদের মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইউক্রেন ও তাইওয়ানের মতো যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, অন্যদিকে চীনের চাপ মোকাবিলায় তাইওয়ান মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

যদিও ট্রাম্প বারবার অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘প্রায় সীমাহীন’ গোলাবারুদ রয়েছে। গত সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে।

তবে এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর সংকট ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি মার্কিন বাহিনী তাদের থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ মজুত ব্যবহার করে ফেলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এত বড় পরিসরের অভিযান আর চালানো হয়নি।

প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতিরও তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সংঘাতে চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, একটি এফ-৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান লজিস্টিকস ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না এবং ব্যয় কে বহন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গত ৩০ জুন পর্যন্ত অপারেশন এপিক ফিউরিতে সাতজন মার্কিন সেনা সদস্য যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধবহির্ভূত ঘটনায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৪১৭ জন সেনাসদস্য।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শুরু করে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


নির্বাচিত

মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে মক্কা চুক্তি: এরদোয়ান

রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর সামনে থাকা ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করছে।

সোমবার তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সামসুনে তরুণদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এরদোয়ান বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা মুসলিম বিশ্বের প্রতি একটি বার্তা দিতে চাই। ইতিবাচক কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

মুসলিম দেশগুলোর সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চুক্তিটিকে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে আঙ্কারা। এরদোয়ান বলেন, মুসলিম বিশ্বের সমস্যাগুলোর দিকে বড় শক্তিগুলোরও জরুরি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুরস্ক নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

এরদোয়ান বলেন, মুসলিম বিশ্বের সামনে থাকা সমস্যাগুলো যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে উঠতে হবে—তুরস্ক এটাই বলছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় তুরস্ক এই অঞ্চলের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে পারি না। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে তুরস্ক।

বক্তব্যে গত জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে এরদোয়ান জানান, সম্মেলন উপলক্ষে আগত বিশ্বনেতাদের তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্প করপোরেশনের তৈরি আধুনিক অস্ত্র উপহার দেওয়া হয়েছিল, যা নেতারা বেশ পছন্দ করেছেন।

পাশাপাশি, তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ায় আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ৩১) আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close