বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের আকাশপথ ব্যবহার করতে চায় ভারত

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৩

পাকিস্তানের আকাশসীমা প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় বিমানগুলো এখন চীনের হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু।

রাম মোহন বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছে। শেষ পর্যন্ত কতটা এগোয়, তা দেখা যাক।’

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার দুই দিন পর পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ছয় দিন পর ভারতও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। তখন থেকে ভারতীয় বিমানগুলোকে ইউরোপে যেতে-আসতে ঘুরপথ ধরতে হচ্ছে। ফলে সময়ও বেশি লাগছে, জ্বালানি খরচও বেড়ে গেছে।

পাকিস্তান সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় এই নিষেধাজ্ঞা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে ভারত চীনের সিনকিয়াং প্রদেশের দিকে নজর দিয়েছে। সিনকিয়াং চীনের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ। উইঘুর মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলটি আটটি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে। মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত। হোটান সেই প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মরূদ্যান শহর। প্রাচীন সিল্ক রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটি।

হিন্দুস্তান টাইমস বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক মানচিত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছে, দিল্লি থেকে পাকিস্তান এড়িয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল যেতে সময় লাগছে ৭ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করা গেলে তা কমে দাঁড়াত ৬ ঘণ্টা ৭ মিনিট। হোটানের পথ ব্যবহারের অনুমতি পেলে সময় ও খরচ দুটোই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারাই প্রথম সরকারকে অনুরোধ করেছিল চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে। তাদের হিসাবে, নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ কোটি ডলার। হোটান হয়ে উড়াল চালানো গেলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি সাশ্রয় হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। এই বাড়তি খরচের চাপেই নিউইয়র্ক ও ভ্যাঙ্কুভার থেকে দিল্লির উড়াল ১৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে। দিল্লি-ওয়াশিংটন রুট বন্ধও করে দিতে হয়েছে।

তবে প্রস্তাব বাস্তবায়ন সহজ নয়। হোটান দিয়ে যেতে হলে ভারতীয় বিমানগুলোকে লাদাখের লেহ হয়ে চীনের আকাশে ঢুকতে হবে। তারপর হোটানের ওপর দিয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। এলাকাটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু পর্বতশ্রেণির ওপর অবস্থিত। জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে নামতে হবে উরুমচি বা কাশগরে। সিনকিয়াং চীনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। একাধিক দেশের সঙ্গে সীমান্ত এবং উইঘুর অধ্যুষিত হওয়ায় চীন এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকে।

তবু ভারতের কিছু মহল আশাবাদী। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের পরও দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বাণিজ্যিক স্বার্থে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গত বছর অক্টোবরে ইন্ডিগো কলকাতা-গুয়াংজু সরাসরি উড়াল চালু করে। নভেম্বরে দিল্লি-গুয়াংজু রুট শুরু হয়। এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ছয় বছর পর দিল্লি-সাংহাই উড়াল পুনরায় চালু করেছে। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের আগে চীনের চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সও গুয়াংজু-দিল্লি সরাসরি সেবা শুরু করার কথা জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, প্রায় এক বছর ধরে হোটানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ভারত। এ নিয়ে উভয় পক্ষই এখন গঠনমূলক আলোচনা করছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় ভারত-চীন সম্পর্ক এখন বেশ ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘২০২৪ বা ২০২৫ সালের চেয়ে বর্তমান সম্পর্ক অনেক ভালো। মূলত সম্পর্কের এই উন্নতির ওপর ভিত্তি করেই হোটান প্রস্তাব বাস্তবায়নে আশাবাদী হয়ে উঠছে নয়াদিল্লি।’


নির্বাচিত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  শিগগিরই শেষ হবে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন সামরিক অভিযানকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টায় মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাই জিতব’ এবং পুরো বিষয়টি খুব দ্রুত শেষ হবে। যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের একটি পরিকল্পনা সংশোধিত আকারে সামনে আসতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ ও শত্রুতা বন্ধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ট্রাম্পকে ‘বড় মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে যুদ্ধ থেকে সরে যাওয়ার আগে পরাজয় স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালু হয়েছে—এমন মার্কিন দাবি সঠিক নয়। সংগঠনটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা সত্ত্বেও ইরান এখনো প্রণালীকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছে।

এদিকে সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সেগুলো পরে ভেঙে যায়।


নির্বাচিত

ইরাকের তেল বিক্রির টাকা যাচ্ছে মার্কিন ব্যাংকে

ইরাকের একটি তেল শোধনাগার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শেষ মার্কিন সেনা সরে গেছে। ইরান এবং ইরানের মিত্রদের কাছে এই ঘটনা এক ধরনের বিজয়। কারণ, ইরাকে তাদের গভীর প্রভাব রয়েছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন চালানোর পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে কয়েক লাখ ইরাকি এবং মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রি থেকে পাওয়া ডলারের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটন অসাধারণ মাত্রার প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। এর প্রভাব ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণেও পড়েছে।

এর মূল ভিত্তি হলো নিউইয়র্কে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল থেকে পাওয়া অর্থ পরিচালনা করা। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রোভিশনাল অথরিটি (সিপিএ) ইরাকের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক (ডিএফআই) নামে একটি তহবিল গঠন করে। এই তহবিল রাখা হয় নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ সংগ্রহ করা এবং তা পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা।

এই তহবিলের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল-সংক্রান্ত মামলা, ঋণদাতাদের দাবি এবং অন্যান্য আইনি দাবির হাত থেকে ইরাকের তেল রাজস্ব সুরক্ষা দেওয়া। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই নির্বাহী আদেশ নবায়ন করে আসছেন।

পরে ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সিবিআই) একটি হিসাবে পরিণত হয়। আজও সেই ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে।

ইরাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস হলো তেল। দেশটির রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে তেল থেকে। ফলে ইরাকের তেল রাজস্ব ও ডলার প্রবাহের ওপর প্রভাব রাখার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

২০২০ সালে ইরাকি সরকার যখন ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল, তখন ওয়াশিংটন ইরাককে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা অর্থে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বাগদাদ সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে।

অধিকৃত ইরাকের প্রথম দিকের বছরগুলোর তুলনায় এখন ইরাক তার নিজস্ব আর্থিক বিষয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপরও এই আর্থিক সংযোগটি দেখিয়ে দেয় যে, ইরাক তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনও রয়ে গেছে।

ইরাকি সরকারি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেছেন, এই ব্যবস্থা ইরাকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে।

প্রথমত, এটি ইরাকের তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, এটি ইরাককে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ডলার সংগ্রহে তুলনামূলক সহজ প্রবেশাধিকার দেয়। তৃতীয়ত, এটি ঋণদাতাদের দাবি, মামলা-মোকদ্দমা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ধাক্কা থেকে ইরাকের তেল রাজস্বকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও বেড়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে এই আর্থিক ব্যবস্থা ইরাকের মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপর আস্থা ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি ইরাকের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করে।


নির্বাচিত

সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির সমাপ্তি টেনে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বাহিনীর এই সেনা সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সৈন্যদের চূড়ান্ত বিদায়ের ফলে দেশটিতে নতুন করে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

তেহরান ও তাদের আঞ্চলিক অক্ষ এই দীর্ঘ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তিকে নিজেদের বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে এ সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা নির্ধারিত হলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সিদ্ধান্তটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করল। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগেই পরবর্তীতে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থান ঘটেছিল।

এর আগে ২০১১ সালের শেষ দিকে প্রথম দফায় ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল ওয়াশিংটন। তবে আইএসের তাণ্ডবে তিন বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে ২০১৪ সালে পুনরায় দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসবিরোধী যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দেয়। দীর্ঘ এই যুদ্ধে আফগানিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ প্রাণহানির শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; ইরাক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এমনকি চলতি বছরেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে সাতজনই ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন, যার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল গত জুলাইয়ে এরবিলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে।

সাধারণ ইরাকিদের মাঝে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক সাড়া ফেললেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মার্কিন সহায়তা ছাড়া স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এককভাবে উগ্রপন্থী হুমকি ও মিলিশিয়াদের দৌরাত্ম্য কতটা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। কারণ অতীতের ইতিহাস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইরাকের মতো ভূকৌশলগত অঞ্চলে হঠাৎ তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা চরম বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।


নির্বাচিত

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। দেশটির সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সর্বোচ্চ আসন পাওয়ায় বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাঁকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিউনিসিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজলা বুদেনের পর এল মানসুরি হলেন সমগ্র আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান।

৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি পেশায় একজন অভিজ্ঞ করপোরেট আইনজীবী। রাজধানী রাবাতের মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি দলটির সক্রিয় নেতৃত্বে রয়েছেন এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে ঐতিহাসিক মারাকেশ শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেন।

মরক্কোয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের কাঠামোর অধীনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা বাদশাহর হাতে থাকলেও সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল থেকেই সরকারপ্রধান মনোনীত করা হয়। তবে ৩৯৫ আসনের মরক্কোর পার্লামেন্টে পিএএম এককভাবে ৯৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের চেয়ে অনেক কম। বিদায়ী সরকারের প্রধান শরিক দল ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে পিএএমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে নতুন জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমঝোতা ও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে ইসলামপন্থী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবারের নির্বাচনে ৫৪টি আসন পেয়ে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল মাত্র ১৩টি। তবে দলটির নেতা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা নতুন সরকারে অংশ নেবেন না এবং সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন। এমন ত্রিমুখী রাজনৈতিক সমীকরণ ও জোট গঠনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়েই মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মন্ত্রিসভা সাজাতে হবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে।


নির্বাচিত

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘অসহনীয়’ চাপ তৈরি করেছে ইরান যুদ্ধ: কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল-আনসারি। ছবি : রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘অসহনীয়’ চাপ তৈরি হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে কাতার। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার দেশটি জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় তাদের মধ্যস্থতার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল-আনসারি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান পরিস্থিতির ভয়াবহ পরিণতি বৈশ্বিক অর্থনীতি আর কত দিন সহ্য করতে সক্ষম হবে। সংকট নিরসনে চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, যেকোনো বড় সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা ও মতপার্থক্য থাকে; মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যকার সেই দূরত্ব কমিয়ে আনা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করাই বর্তমানে কাতারের মূল ভূমিকা। তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কাতার উভয়ের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের দায়িত্ব পালন করছে।

সংঘাতের বিস্তার ঘটলে পুরো অঞ্চলের মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করেছেন কাতারি মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ছাড়াও ইরাক ও জর্ডানের মতো কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ যুদ্ধে জড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং তেহরানের সঙ্গে তাদের আলাদা কোনো সংঘাতও নেই। এই দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালানোকে অযৌক্তিক আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সংঘাতের বাইরে থাকা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে আর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না—তেহরানকে এ বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও শান্তির স্বার্থে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে স্থায়ী সহাবস্থান ও পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিচ্ছে দোহা।

কাতার জানিয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো দুই পক্ষকে একটি গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে নিয়ে আসা এবং হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্ন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। ড. আল-আনসারি মনে করিয়ে দেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কেবল অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসই সরবরাহ করা হয় না; বরং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অতিপ্রয়োজনীয় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো সারের কাঁচামাল এবং অ্যালুমিনিয়াম, পেট্রোকেমিক্যাল ও হিলিয়ামের মতো শিল্পোপকরণও বিশ্ববাজারে যায়। নৌপথ অবরুদ্ধ থাকায় এসব প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং অনেক দেশ বাধ্য হয়ে পুনরায় পরিবেশ দূষণকারী কয়লা ব্যবহারে ফিরে যাচ্ছে, যা আসন্ন শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত করতে পারে।


নির্বাচিত

বিলাসবহুল জীবনের খরচ জোগাতে এক মাসের শিশু ‘বিক্রি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও শখের খরচ মেটাতে এক মাস বয়সী সন্তানকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে ‘বিক্রি’ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে কয়েক দফা হাতবদল করে শেষ পর্যন্ত হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাবা-মা অভাব-অনটনের কারণে নয়, বরং বিলাসী জীবনযাপন ও শখ পূরণের জন্য সন্তানকে বিক্রি করেন। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন কেনার অর্থ জোগাড় করতে তারা শিশুটিকে বিক্রি করেন বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশুটির বাবা-মা ছাড়াও রয়েছেন দালাল সীমা রেশওয়াল, পাড়েগাঁওয়ের বাসিন্দা সঙ্গীতা আভাড এবং ভুয়া ডাক্তার হিসেবে পরিচিত সুরেশ গুন্টুকা। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা-মা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তারা ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের মুকুন্দওয়াড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানেই তারা শিশুটিকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন।

এরপর সীমা শিশুটিকে পাড়েগাঁওয়ের বাসিন্দা সঙ্গীতা আভাডের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। সঙ্গীতা পরে শিশুটিকে সুরেশ গুন্টুকা নামের এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান। পুলিশ তাকে ভুয়া ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার কাছে শিশুটিকে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুরেশ গুন্টুকা পরে শিশুটিকে হায়দরাবাদে বসবাসকারী উমা খাটকাম নামের এক আত্মীয়ের কাছে একই দামে বিক্রি করেন। এভাবে উদ্ধার হওয়ার আগে শিশুটিকে কয়েক দফা হাতবদল করা হয়।

শিশুটিকে সর্বশেষ হায়দরাবাদের এক বাসিন্দার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে। ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থেকে হায়দরাবাদের দূরত্ব ৫৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। শিশুটিকে মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির জন্মদাতা বাবা-মা এবং লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুন্ডলিকনগর থানার পরিদর্শক বিবেক সোনাওয়ানের নেতৃত্বে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটিকে কীভাবে একাধিক ব্যক্তির কাছে হাতবদল করা হলো এবং এ লেনদেনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

পুরো বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করবে ইরান: রুবিও

মার্কো রুবিও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইরান পুরো বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করবে এবং মানুষ হত্যা করবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরমাণু অস্ত্র পেলে ইরান সমুদ্রপ্রণালীগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, টোল আদায় করবে এবং কে জ্বালানি পাবে আর কে পাবে না তা নির্ধারণ করবে, যা একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে।


ইরান সরকারের সমালোচনা করে রুবিও অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা অর্থনৈতিক বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ তারা জনগণের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ব্যয় না করে অস্ত্র তৈরি ও ‘বিপ্লব রপ্তানি’ করার কাজে ব্যবহার করে।


তিনি আরও বলেন, ‘এই অর্থ দিয়ে ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের তহবিল জোগায় এবং সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অর্থায়ন করে।’


ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মগুরুরা দেশটি পরিচালনা করছেন, যাদের কাছে পৃথিবীর শেষ দিন বা ধ্বংস ডেকে আনা একটি ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে হয়।’


যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির ঘটনায় বিদেশি শক্তির হাত দেখছেন রুবিও
ইরানে হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


গত রোববার ভোরে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাজ্য পুলিশ এলাকাটিতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘোষণা করে। গত সোমবার তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও পুলিশ জানায়, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে তারা কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে মার্কো রুবিও বলেন, ‘সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যে যা ঘটেছে, যা প্রায় ঘটতে যাচ্ছিল এবং যা ঘটতে পারত—তা খুবই গুরুতর একটি পরিস্থিতি। এতে স্পষ্টতই একটি বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে।’ তবে তিনি নিজের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংযোগ থাকতে পারে।’ সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি হলে এমনটা করতাম না।’


নির্বাচিত

নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দেশটির দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি বিভাগের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই নির্বাহী কর্মকর্তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


নিহত ৪০ বছর বয়সি জোনাথন ম্যাককিনসে পত্রিকাটির গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা থাকা স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।


ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর জোনাথনের ৭৬ বছর বয়সি শ্বশুর শোইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


আদালতের নথির বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ‘নিহত জোনাথন ও তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাং আলাদা বসবাস করছিলেন। গত বছর আলামেডা কাউন্টির আদালতে উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এনে সুরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন।


জোনাথনের করা সুরক্ষার আবেদনে বলা হয়, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি পোশাক পছন্দকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি তাকে এবং তার এক ছেলেকে ‘জঘন্য সমকামী’, ‘বিকৃত মানসিকতার’ ও ‘দানব’ বলে গালিগালাজ করতেন।


আবেদনে তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে স্তন অপসারণ অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে শ্বশুর শোইয়ং ঝাং তার বুকে সজোরে ঘুষি মেরেছিলেন। স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের সঙ্গেও জোনাথনের সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে।’


সুরক্ষার আবেদনপত্রের বরাত দিয়ে দ্য মার্কারি নিউজ বলেছে, ২০১০ সালে জোনাথন যখন নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার স্ত্রী শরীর থেকে চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত টিউব জোরপূর্বক টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার পর ২০১১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।


জোনাথন বলেছিলেন, ২০১৩ সালেও একবার ঝগড়ার সময় স্ত্রী তাকে কড়াই দিয়ে পিটিয়েছিলেন। এ ছাড়া স্ত্রী তাদের সন্তানদের সঙ্গেও মৌখিক নির্যাতন চালাতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে স্ত্রী ক্যান্ডিস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাকবিতণ্ডার সময় জোনাথন তার হাত চেপে ধরে টেবিলের কোনায় আছড়ে ফেলেছিলেন, ফলে তার মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের একটি হাড় ভেঙে যায়। জোনাথন তার শাশুড়ির ওপরও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে দাবি করেন ক্যান্ডিস।


আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ক্যান্ডিস ডাবলিন পুলিশকে ফোন করে অভিযোগ করেন, জোনাথন তাদের ছয় বছরের ছেলের মুখে থাপ্পড় মেরেছেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের দুটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালেও জোনাথন তার হাত জখম করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ক্যান্ডিস।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জোনাথন পরবর্তীতে আদালতে এসব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং পেরেন্টিং ক্লাসে অংশ নেওয়ার শর্তে আদালত থেকে জামিন পান।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপোড়েন?

নেতানিয়াহু ভাষণ দেওয়ার সময় নিউইয়র্কে বিক্ষোভে মেতে ওঠে শত শত মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে এসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত নেতা’র খেতাব পাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে যেন ‘মুখ লুকিয়ে পালাতে’ হলো। একইদিনে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংবাদের শিরোনাম করে—‘নেতানিয়াহুর স্বল্পসময়ের নিউইয়র্ক সফর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতিফলন।’

রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়—জাতিসংঘে ভাষণ দিতে আসা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক সংক্ষিপ্ত সফর গত বছরের সপ্তাহব্যাপী সফরের সুস্পষ্ট বিপরীত। গত বছর তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে এবারের সফরে বোঝা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্পর্ক কঠিন সময় পার করছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ বছর নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু ৮ ঘণ্টার কম সময় থেকে থাকতে পারেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল—তিনি ৯ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে ৫ দেশ লাতিন আমেরিকার।

গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিমতীরে বসতিস্থাপন বাড়ানোয় দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরায় নেতানিয়াহু লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পথ খুঁজছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে এটাও জানানো হয় যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়—গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে নেমে দুপুরে জাতিসংঘে ভাষণ দেন। আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও পানামার রাষ্ট্রপতিদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি বিমানবন্দরে চলে যান।

অতীতের স্মৃতিচারণ করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—নেতানিয়াহু এক এক করে ১৪ বার দাঁড়িয়েছিলেন জাতিসংঘের ভাষণমঞ্চে। বিশ্ব সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে ও পরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতেন তিনি। আর মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হতো তার দীর্ঘ বৈঠক।

যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর বৈঠকের সংবাদ ফলাও করে তুলে ধরা হতো ইসরায়েলের জনগণের সামনে। কিন্তু, এবারের চিত্র নেতানিয়াহুর জন্য একেবারেই অন্যরকম। এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অর্থাৎ, নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের ‘বিশ্ব সম্মেলনে’ ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাউকেই যেন পাশে পাননি এই ইসরায়েলি নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের পর অপর ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাজ্য সম্প্রতি, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে ব্যবসা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

অপর ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্স এখন তেল আবিবের ‘শত্রুর’ তালিকায়। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠছে ‘জিগিরের বন্ধু’ জার্মানির বিরুদ্ধে। তাই তেল আবিবের কাছ থেকে বার্লিনও দূরত্ব বজায় রাখছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরায়েলের নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে বিরক্ত একসময়ের ঘনিষ্ঠ ইউরোপের অন্যান্য দেশও।

সেই যেন ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’র বাস্তবতা ইসরায়েলের বাইরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নেতানিয়াহুকে। উপরন্তু, গণহত্যার অভিযোগে তার মাথার ওপর আছে আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের ভাষণমঞ্চে দাঁড়ান, তখন অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের এক এক করে অধিবেশনস্থল ছাড়তে দেখা যায়।

তার ভাষণের সময় সুবিস্তৃত হলরুমের বিশাল অংশ ফাঁকা দেখা যায়। এমনকি, সম্মেলনের সভাপতিদের আসনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজনের আসন ফাঁকা ছিল। সেদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনের শিরোনামে জানায়, ‘ভাষণের আগে ব্যাপক হারে সভাকক্ষ ত্যাগ করতে দেখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া।’

এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকায় কূটনীতিকদের এই প্রতিবাদ। সেই অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় সম্মেলন কক্ষে যেমন প্রতিবাদ হয়েছে, তেমনি জাতিসংঘ ভবনের বাইরেও হয়েছে বিক্ষোভ-সমাবেশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়—নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অস্কার বিজয়ী হলিউড তারকা এলিয়ট পেইজ, সুসান সারানডন, হান্নাহ আইনবিন্ডারসহ আরও অনেকে। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ কর’ ও ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া হলিউড তারকাদের পাশাপাশি শতাধিক প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তারের খবরও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিক্ষোভের মুখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে বেপরোয়া নেতানিয়াহু।

এতে আরও বলা হয়—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলি নেতা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের জনমানসেও ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। গত জুলাইয়ে পিউ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে—৬২ শতাংশ মার্কিনি নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬০ শতাংশ ইহুদি আশা করছেন যে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হবে।

ইসরায়েলবিরোধী মার্কিন সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন-এর রাজনৈতিক শাখার পরিচালক বেথ মিলার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে নিউইয়র্কে আসছেন যার মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে এখানে কেউ তাকে দেখতে চাচ্ছেন না।’

বেথ মিলারের মতে, এখন অনেকে চান না মার্কিনিদের করের টাকা ইসরায়েলি সরকারকে দেওয়া হোক। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবের কাওয়াস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘হাজারো মানুষ আমাদের শহরে নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করছেন।’


নির্বাচিত

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলিদের হামলা

পশ্চিম তীরে একটি বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ইসরায়েলি সেটলাররা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের তিনটি ফিলিস্তিনি গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। তারা বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দিয়েছে এবং কুরাইয়ুত গ্রামে এক বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারীকে মারধর করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নাবলুসের দক্ষিণে জালুদ গ্রামে তুবাসি পরিবারের দুটি বাড়িতে আগুন দেয় বসতিস্থাপনকারীরা। প্রায় দুই মাস বাস্তুচ্যুত থাকার পর ইসরায়েলি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবারটি বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা হয়।


স্থানীয় সূত্রগুলো তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে গ্রামের বাসিন্দারা বসতিস্থাপনকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। আগুনে তুবাসি পরিবারের দুটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী বসতিস্থাপনকারীদের থামানোর বদলে তাদের সুরক্ষা দেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত সেনা পাঠায়। পরে ইসরায়েলি বাহিনী তুবাসি পরিবারের সদস্যদের বন্দুকের মুখে আবারও বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, জালুদ এলাকায় রাতে ১০০ জনের বেশি বসতিস্থাপনকারী দাঙ্গা করেছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা রাস্তা বন্ধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছোড়ে। ফলে বাস্তুচ্যুত একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।


দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, জালুদ এলাকায় ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে সেনা ও ইসরায়েল সীমান্ত পুলিশ বাহিনী কাজ করেছে। ওই এলাকায় একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সহিংসতার কারণে পরিবারটিকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’
তুবাসি পরিবারের বাড়ির মালিক মাহমুদ তুবাসি আনাদোলুকে বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবারটি বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায়, বসতিস্থাপনকারীরা বাড়িটি দখল করে নিয়েছে এবং তাদের সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না। বাড়িটিরও ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছিল।’ মাহমুদ তুবাসি বলেন, রাতে বসতিস্থাপনকারীরা আবার বাড়িটিতে ফিরে এসে আগুন দেয়। এতে বাড়িটি পুড়ে যায় এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বসতিস্থাপনকারীদের বারবার হয়রানি ও সহিংসতার কারণে তুবাসি পরিবারকে জুলাই মাসে জালুদের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছিল।’


২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সহিংসতা বেড়েছে। চলতি বছর এই সহিংসতা আরও দ্রুত বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতিস্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে।


অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলা হয়েছে। প্রায় ২০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল এই ধরনের হামলার দ্রুততম বৃদ্ধি। বিভিন্ন বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠী ফিলিস্তিনিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনারা তাদের সমর্থন বা সুরক্ষা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে গুলি চালানো, বাড়ি অবরোধ করা এবং অন্যান্য ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এসব হামলাকে ‘পোগ্রোম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


গতকাল মঙ্গলবার নাবলুসের দক্ষিণে কুরাইয়ুত এলাকায় আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধ নারীকে মারধর করে। স্থানীয় সূত্রগুলো আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মী বাশার আল-কুরাইয়ুতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে ওই নারীকে হাত ও মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ দেখা যায়। তিনি জানান, একদল বসতিস্থাপনকারী বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করে।


নির্বাচিত

ইরানকে ছাড় দেওয়ার খবর ‘অসত্য’ বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং দেশটির জব্দ অর্থ ছাড় করতে রাজি আছেন। বিনিময়ে তেহরানকে পরমাণু ইস্যুতে ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি’ দেখাতে হবে। গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। তবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন—এই প্রতিবেদন ‘অসত্য।’

বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চালাচ্ছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পরমাণু ইস্যুগুলোর সমাধান না হলে কোনো চুক্তি হবে না।’ গত শনিবার ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে, গত রোববার ট্রাম্প আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।’ ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

তবে গত সোমবার ট্রাম্প এমন ধারণাও অস্বীকার করেন যে, তিনি ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, আমি তাদের দেওয়ার জন্য কিছুই প্রস্তাব করিনি! গত রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তি করতে চাই, সেটি নয়। এটা এমন একটি চুক্তি, যেটিতে হয়তো আমরা এক বছর আগে রাজি হয়ে যেতাম। তারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করেছে।’

ওই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে যে, তারা পরমাণু ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে প্রস্তুত। তবে কোন পক্ষ কখন কী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, সেই সময়সূচি নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।

গত রোববার সিএনএনের জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে না। ওয়াল্টজের যুক্তি ছিল, তেহরান ‘আগেই সবকিছু চাইছে’, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াল্টজ সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মূল কথা হলো, তারা সবকিছু আগে চাইছিল এবং তারপর আলোচনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল।’

পরে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ বলেন, “ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্পের খুব বেশি আস্থা না থাকার বিষয়টি ‘সাধারণ বুদ্ধির ব্যাপার’।” তিনি তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ইরান জানতই যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে না। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘একটি বেশ কৌশলী ও সন্দেহজনক চেষ্টা’।

ওই মার্কিন কর্মকর্তাও ওয়াল্টজের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘ইরানের প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্দিহান।’ এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, ইরান সেটি লঙ্ঘন করেছে। ওই সমঝোতার পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তবে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিছু ছাড় দিলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড় করে দিতে প্রস্তুত।


নির্বাচিত

এআই বিকাশে মানবাধিকার ও সমতা নিশ্চিতের তাগিদ: আইরিন খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে টেকসই উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (ডিডিপিএ) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই সব মানুষের বৈচিত্র্য ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। নতুন প্রযুক্তি যেন ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি না দিয়ে মানবকল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় কিংবা জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না—এমন সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে রয়েছে। বাংলাদেশ ডিডিপিএর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিকতা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচার থেকে সৃষ্ট কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রকাশিত বক্তব্যেও এসব বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে আইরিন খান এআই ব্যবহারে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিকে এমনভাবে বিকশিত ও ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তা বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে না দেয় এবং ঘৃণা বা সহিংসতা ছড়ানোর মাধ্যম না হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘও ডিডিপিএর ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে বলেছে, উদীয়মান ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জাতিগত বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির যথাযথ সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বৈষম্য মোকাবিলায় তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বর্ণবাদবিরোধী বিশ্ব সম্মেলনে গৃহীত হয়। এটি বর্ণবাদ, জাতিগত বৈষম্য, বিদেশিবিদ্বেষ ও সংশ্লিষ্ট অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।

২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বৈশ্বিক জনসমর্থন জোরদার করা।


নির্বাচিত

banner close