রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার এখনো কোনো কথা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এক্সিওস এই খবর জানিয়েছে।
সাইবেরিয়ার রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত মারিয়া শিপিলোভা নামের এক গবেষণাগার কর্মীর সম্ভাব্য প্লেগ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়। যদিও শিপিলোভার মৃত্যু নিউমোনিক প্লেগে হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় পাঁচটি হাসপাতাল এবং ইনস্টিটিউটের বহু কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিপিলোভা ‘অজ্ঞাত কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়ায়’ মারা গেছেন এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবাণুর উপস্থিতি মেলেনি। তা ছাড়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অসুস্থতা বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কেবল এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমরা তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করব।’ রোগটি আগে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হলেও বর্তমানে অনুজীব ও জীবাণু শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে নিউমোনিক প্লেগ অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য।
এক্সিওসের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউরোপীয় কমিশন এই সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে গত আগস্টে সরে দাঁড়ানো ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। গত সোমবার মার্কিন এই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে অন-এয়ার কনট্রিবিউটর হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য বিভাগে কাজ করবেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি সারা হাকাবি স্যান্ডার্স ও কেলি ম্যাকএনানিও দায়িত্ব ছাড়ার পর ফক্স নিউজে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে লেভিটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পথ বেছে নেওয়া অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল।
ফক্স নিউজের প্রধান নির্বাহী সুজান স্কট লেভিটের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা লেভিটকে বর্তমান মার্কিন রাজনীতির বিষয়ে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।
ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে লেভিট বলেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবার নেটওয়ার্কটির দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময়কার উদ্যম ও স্পষ্টবাদিতাও ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২৯ বছর বয়সি লেভিট ছিলেন হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি প্রেস সেক্রেটারি। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নিজের দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর প্রকাশ করে লেভিট ইতিহাসের প্রথম দায়িত্ব পালনরত হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গর্ভধারণের ঘোষণা দেওয়ার নজির তৈরি করেন।
প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হোয়াইট হাউসের গণমাধ্যম ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন লেভিট। প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড কাভার করা সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত ‘প্রেস পুল’-এর ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।
এ ছাড়া ব্রিফিং রুমে ‘নিউ মিডিয়া’র জন্য আলাদা আসন চালু করা হয়। সেখানে প্রায়ই রক্ষণশীল ভাষ্যকার ও ট্রাম্প-সমর্থকদের দেখা যেত। সাংবাদিকদের সঙ্গে লেভিটের একাধিক প্রকাশ্য বিরোধও হয়েছিল।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় সমর্থক হিসেবে লেভিট প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফক্স নিউজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও নেটওয়ার্কটির সমালোচনা থেকে তিনি কখনো বিরত থাকেননি। গত রোববার এক দীর্ঘ ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ফক্স নিউজের সকালের অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের সমালোচনা করেন তিনি। নিজের সাম্প্রতিক সমাবেশগুলো অনুষ্ঠানটিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প।
এ ছাড়া ফক্স নিউজের বামঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ভাষ্যকার জেসিকা টার্লভেরও সমালোচনা করেন তিনি। দীর্ঘদিনের উপস্থাপক মারিয়া বার্টিরোমোর সঙ্গে নেটওয়ার্কটির সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এখনো ফক্স নিউজের সঙ্গে যুক্ত। তার পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পও নেটওয়ার্কটির নিয়মিত মুখ। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক ল্যারি কুডলো সম্প্রতি বার্টিরোমোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত রোববারের সকালের অনুষ্ঠানগুলোতে তাকে দেখা যাবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশ থেকে হুতি যোদ্ধাদের হটিয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনি বন্দর শহর মোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলেও দাবি করেছে সশস্ত্র বাহিনী।
গত সোমবার লোহিত সাগরের উপকূল ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়। এ সময় তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের বেশ কয়েকটি অবস্থান থেকে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হটিয়ে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার দিকে এগিয়ে যায়।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোচা সরকারি বাহিনীর দখলে এসেছে; সরকারি আরেকটি সূত্রের তথ্যানুসারে, সৌদি বিমান বাহিনীর ব্যাপক সহায়তায় সৈন্যরা শহরটির উপকণ্ঠে পৌঁছেছে। খবর পাওয়া গেছে যে হুতি যোদ্ধারা পাহাড়ি এলাকার দিকে পিছু হটছে।
এই দাবির সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আর হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনি সরকারের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইয়েমেনি বাহিনী অবশ্য সোমবারের আগেই বাব আল-মান্দেব প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবস্থান দখল করে নিয়েছিল, যার মধ্যে ধুবাব জেলার একটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। বাব আল-মান্দেবের প্রবেশমুখ এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রণালী লোহিত সাগরের সাথে এডেন উপসাগরের সংযোগ স্থাপন করেছে এবং একই সঙ্গে এটি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ।
সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে. তাদের নৌবাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদেইদাহ অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
এর জবাবে পাল্টা এক বিবৃতিতে হুতিরা দাবি করেছে যে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিঘে অবস্থিত সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক ঘাঁটি।
এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবের সরকার বা আরামকো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। হুতিরা সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী যানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান অবরোধ জারি করায় বন্ধ আছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বৈশ্বিক বাজারের ২০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বাব আল-মান্দেব প্রণালীও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় যুদ্ধের গত কয়েক মাসে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্বও বেড়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাঝখানে অবস্থিত ময়উন বা পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে কৌশলগত এ প্রণালীর দখল নেয় হুতি বাহিনী। তবে এই প্রণালীকে ঘিরে নতুন সংঘাত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেনি সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারলেও, হুতিরা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য এলাকা থেকে বাব আল-মান্দেব কিংবা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম।
ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের আশপাশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। সরকারি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, হুতিরা একটি পাহাড়ি রাস্তার কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে, ফলে শহরের ভেতরে থাকা সরকারি বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে সরকারি অপর একটি সূত্র এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, হুতিরা তাইজ প্রদেশের কিছু অংশেও অগ্রসর হয়েছে এবং তাইজ-আদেন সড়কের একটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে, এতে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পরস্পরবিরোধী তথ্যের সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভারতের দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘিরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার এ কর্মসূচি পালন করে বিরোধীরা। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী জোট ভারতের প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য।
নির্বাচন কমিশনের দিকে এগোতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল আটকে দিলে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাহুল গান্ধী ও তার বোন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।
নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত পাঁচটির বেশি কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় ১৪০ জন বিরোধী সংসদ সদস্যের মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিরোধী নেতারা সেখানে অবস্থান নিয়ে ধর্নায় বসেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাসে তুলে নিয়ে যায়।
রাহুল গান্ধীকে এ সময় ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তার হাতে থাকা একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই স্লোগান পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এখন পদত্যাগ করার সময়।’ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিক্ষোভে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্য বিরোধী নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটক ও যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেখানে জমায়েতের অনুমতি নেই।
গত ২ অক্টোবর থেকে নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাম দলসহ বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ করছে। এর আগে ১ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোট যৌথ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল দেশজুড়ে বিক্ষোভ, বিরোধী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে মিছিল এবং ১ নভেম্বর দিল্লিতে বড় সমাবেশ।
দিল্লিতে সাড়ে ৩ ঘণ্টার বৈঠকে ১৯টি দলের নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কপিল সিবাল অংশ নেওয়ার পর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, আরজেডির তেজস্বী যাদব, এনসিপি (এসপি) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, পিডিপিপ্রধান মেহবুবা মুফতিসহ বিরোধী জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত পাঁচ দিনে যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভের ঘটনায় বিভিন্ন ধারায় নয়টি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, দাঙ্গা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগের ধারাও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি সংগঠন দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদেরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি রয়েছে।
‘বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব’
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘আমরা শুধু ওদের মোকাবিলা করছি না। আমরা ওদের ধ্বংস করে দেব।’ গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংসদের মকরদ্বার থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন দলের নেতারা এতে অংশ নেন।
নির্বাচন সদনের অদূরে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। এ সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে আকাশবাণী কার্যালয় চত্বরের ভেতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী। পুলিশ সেখানেও তাকে আটকে দেয়। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য সেখানে পৌঁছান। দুপুরে সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তারা এখানে এসেছেন। তার সঙ্গে আরও প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য এসেছেন, তারাও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করছেন।’
নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একই প্রসঙ্গে টেনে রাহুল অভিযোগ করেন, তারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। তার ভাষ্য, মোদি, শাহ ও ভাগবত ‘ভোট চুরি’ করে দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার তাদের সহায়তা করেছেন।
মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হামের ব্যাপক বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সোমবার গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই বিশেষ পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারা শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটির কোনো অঙ্গরাজ্যে জারিকৃত প্রথম জরুরি অবস্থা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে মোট ১০৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯২ জনই আক্রান্ত হয়েছেন গত ১৫ জুলাইয়ের পর। আক্রান্তদের মধ্যে অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহরটিতে সাতজন এবং বাকি ১০১ জন অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দা। মূলত টিকাদানের হার তুলনামূলক কম থাকা ১৮টি গ্রামীণ কাউন্টিতে সংক্রমণের গতি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এসব গ্রামীণ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করেছে।
আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই জরুরি নির্দেশনায় হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) প্রতিষেধক টিকাদানের অনুমোদনের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত নার্সদের সরাসরি পরীক্ষার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ বিক্রেতাদেরও দুই বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদানের সকল তথ্য পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য বা নগরীর টিকাদান সার্ভারে নথিভুক্ত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমোদনের আবশ্যকতা শিথিল করা হয়েছে, তবে টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবক বা ব্যক্তির সম্মতি বহাল থাকছে।
এদিকে নিউইয়র্কের পার্শ্ববর্তী রাজ্য পেনসিলভানিয়াতেও হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং সেখানে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রেও চলতি বছরে হাম পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে; ১৯৯১ সালের পর এবারই দেশজুড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি বৈঠকের পর সোমবার যৌথভাবে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তির অধীনে কার্যকর হওয়া এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক যৌথ সামরিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ন্যাটোর নীতিমালার আদলে প্রণীত এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, মিত্র তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানান, “এই হামলার ঘটনায় এবং এর জন্য দায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জোটের কাঠামোর মধ্যে যৌথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে কমিটি সম্মত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর বর্বরোচিত হামলা রুখতে এই জোটভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দৃঢ় সংহতি ও ঐক্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন দেশ সৌদি আরবে "সম্মতি অনুযায়ী সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা প্রদান করবে এবং তাদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে"। বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো "অনুমোদিত ব্যবস্থা" এবং সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ জাতীয় আইন কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমানের আকাশপথের সহায়তায় ইয়েমেনি বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোচা পুনর্দখল করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেছে।
অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় শহর রাবিঘের আরামকো তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের এই দাবির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার বহুমুখী সংঘাতকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত তীব্র উত্তেজনার মুখে গত আগস্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ গঠিত হয়। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্যমতে, এই ত্রিপক্ষীয় জোটের সম্মিলিত শক্তির মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত সেনা সদস্য, ৩ হাজার ৪০০টি সামরিক বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি নৌযান।
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ৩২ জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। সোমবার দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এক শোকবার্তায় জানান, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বিমানের কোনো আরোহীই জীবিত রক্ষা পাননি। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
দেশটির বিমান চলাচল বিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামোর তথ্যমতে, উড়োজাহাজটি এডো রাজ্য থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী লাগোসের উদ্দেশে উড়াল দিয়েছিল। উড্ডয়নরত অবস্থায় ওন্দো রাজ্যের ইগবোকোদা অঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে বিমানটির রাডার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে একটি নৌ-ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
নাইজেরীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত সামরিক উড়োজাহাজটি এটিআর-৪২ মডেলের ছিল। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দল জলযানের সাহায্যে নদী এবং এর সংলগ্ন এলাকায় নিবিড় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় বাসিন্দার বরাতে জানা যায়, উড়োজাহাজটি বনাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূপাতিত হয় এবং ঘটনাস্থলজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
কুড়িগ্রামের দইখাওয়া সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। গরু চোরাচালানের সময় তাদের আটক করার পর গুলি করা হয় বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।
এর আগে রোববার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাহেবের আলগার দইখাওয়া সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাংলাদেশি সহযোগীরা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিষয়টি জানাননি হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশি পাহারায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের বরাতে তিনি জানান, উলিপুর সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ জোয়ানরা তাদের গরু পাচারের সময় গুলি করে মৃত ভেবে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গোপনে রংপুর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ খবর পেয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে স্পেশাল অ্যাক্টে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তি হলেন, আব্দুল আলীম ও ইসমাইল হোসেন। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা মাইনকার চর জেলার সুখচর থানার দক্ষিণ সালমারা মাইনকার চর বড়বালু এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, আব্দুল আলীম ঐ এলাকার আব্দুল মজিদ মন্ডলের ছেলে এবং ইসমাইল হোসেন মৃত আব্দুল করিম শেখের ছেলে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় দুই নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কাজেই এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার রয়েছে।
মস্তিষ্কের কোটি কোটি স্নায়ুকোষের ভিড়ে কোন নিউরন কীভাবে স্মৃতি তৈরি করছে, অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করছে কিংবা আচরণ বদলে দিচ্ছে—বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এটি ছিল বড় এক রহস্য। এবার সেই রহস্যের আরও গভীরে পৌঁছানোর পথ খুলে দেওয়া গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি অপটোজেনেটিক্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসারথ এবং জার্মানির পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি তাদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি তাদের পুরস্কার দিয়েছে ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত আবিষ্কারের’ জন্য। তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের অর্থ পুরস্কার।
শুরুটা হয়েছিল শৈবাল নিয়ে: শুনতে অবাক লাগলেও মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের এই প্রযুক্তির শিকড় মানুষের মস্তিষ্কে নয়, এককোষী শৈবালে। বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান জানতে চেয়েছিলেন, কীভাবে এককোষী শৈবাল Chlamydomonas আলোর উৎসের দিকে সাঁতার কাটে। এই কৌতূহল থেকেই শুরু হয় এমন একটি গবেষণা, যা পরে স্নায়ুবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তন আনে।
হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল শৈবালের কোষে চ্যানেলরোডপসিন নামের একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন শনাক্ত করেন। আলো পড়লে এই প্রোটিনের মাধ্যমে কোষের ভেতরে বৈদ্যুতিক পরিবর্তন তৈরি হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রোটিন অন্য কোষে প্রবেশ করালেও সেই কোষ আলোতে সাড়া দিতে পারে। এই আবিষ্কার থেকেই বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেন—যদি এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষে বসানো যায়, তাহলে কি আলো ব্যবহার করে নিউরনকে ইচ্ছামতো চালু বা বন্ধ করা সম্ভব?
আলোকে বানানো হলো ‘সুইচ’: এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এগিয়ে আসেন কার্ল ডাইসারথ। তিনি চ্যানেলরোডপসিনের জিন স্নায়ুকোষে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা চালান। ২০০৫ সালে তিনি দেখান, নীল আলো ব্যবহার করে এ ধরনের স্নায়ুকোষে বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করা সম্ভব। দুই বছর পর, জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। এভাবেই গড়ে ওঠে অপটোজেনেটিক্স—জেনেটিক পরিবর্তন এবং আলোর প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিউরনের কার্যক্রম অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সহজ ভাষায় বললে, বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট নিউরনকে এমনভাবে প্রস্তুত করেন, যাতে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এরপর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রয়োগ করে সেই নিউরনকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়। ফলে পুরো মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট নিউরনের ভূমিকা আলাদা করে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
বদলে গেল মস্তিষ্ক গবেষণার পদ্ধতি: অপটোজেনেটিক্সের আগে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারলেও কোনো নির্দিষ্ট নিউরন একটি আচরণ বা অনুভূতির জন্য সরাসরি দায়ী কি না, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন ছিল। নতুন এই প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করে।
গবেষকেরা এখন নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে পারেন, ওই নিউরন সক্রিয় হলে প্রাণীর আচরণ বা মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট কার্যক্রমে কী পরিবর্তন ঘটে। এর মাধ্যমে স্মৃতি, ভয়, শেখা, অনুভূতি, চলাফেরা এবং বিভিন্ন আচরণের সঙ্গে নির্দিষ্ট স্নায়ু সার্কিটের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হচ্ছে।
নোবেল কমিটির মতে, অপটোজেনেটিক্স জীবন্ত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিকিৎসায় কতটা সম্ভাবনা: অপটোজেনেটিক্সকে এখনই পারকিনসনস, আলঝেইমারস বা বিষণ্ণতার সরাসরি চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এসব রোগের পেছনে মস্তিষ্কের কোন স্নায়ু সার্কিট কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
পারকিনসনস, মৃগী, বিষণ্ণতা এবং অন্য স্নায়বিক ও মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নিউরন ও স্নায়ু সার্কিট নিয়ে গবেষণায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে এর বেশির ভাগ চিকিৎসাগত প্রয়োগ এখনো গবেষণা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। তাই নোবেল পুরস্কারটি কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারের জন্য নয়; বরং মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পথ তৈরির মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতি।
তিন বিজ্ঞানীর তিন ধাপের অবদান: তিন বিজ্ঞানীর কাজকে একটি ধারাবাহিক গল্প হিসেবেও দেখা যায়। হেগেম্যান ও নাগেল খুঁজে বের করেন আলোর প্রতি সংবেদনশীল চ্যানেলরোডপসিন। এরপর ডাইসারথ সেই আবিষ্কারকে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর প্রযুক্তিতে রূপ দেন। অর্থাৎ শৈবালের একটি মৌলিক জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য থেকে তৈরি হয় মস্তিষ্ক গবেষণার শক্তিশালী নতুন হাতিয়ার।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কার্ল ডাইসারথের পাশাপাশি পিটার হেগেম্যান কাজ করেন বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গেয়র্গ নাগেল জার্মানির ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের গবেষণা মিলে স্নায়ুবিজ্ঞানে এমন এক পদ্ধতির জন্ম দিয়েছে, যা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নোবেল কমিটির এই স্বীকৃতি তাই শুধু তিন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণার পুরস্কার নয়; এটি মস্তিষ্কের জটিল জগতকে আরও নির্ভুলভাবে বোঝার এক নতুন যুগের স্বীকৃতিও। যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একদিন এককোষী শৈবালের আলো শনাক্ত করার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল, সেই গবেষণাই আজ মানুষ কীভাবে স্মরণ করে, অনুভব করে ও আচরণ করে—তার রহস্য উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বিজ্ঞানীর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়া হবে।
আবাসন সংকট নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্পেনে বিক্ষোভ চলছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এর মধ্যেই পার্লামেন্টে সরকারের আনা দুটি আবাসন-সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য আরও বেশি কাজ করতে হলে নতুন করে তাদের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পার্লামেন্টে আরও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যাতে তার সরকার আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।’
সানচেজ সরকারের প্রস্তাবিত দুটি ব্যবস্থার মধ্যে একটিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভাড়াটেদের উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালুর কথা ছিল। অন্য প্রস্তাবে কিছু ভাড়ার চুক্তি আরও স্থিতিশীল করার কথা বলা হয়। তবে গত শুক্রবার পার্লামেন্টে দুটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়ে যায়।
এর পরদিন গত শনিবার আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে বড় বিক্ষোভ হয়। সরকারের হিসাবে, শুধু মাদ্রিদেই বিক্ষোভে অংশ নেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। তবে আয়োজকরা দাবি করেছেন, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বেশি।
আবাসন সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ অবশ্য এর আগেই বাড়ছিল। গত মাসের শেষদিকে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সি মারাই দেল কারমেন আবাসকালকে ৭০ বছর ধরে বসবাস করা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল ভবনটি কিনে নেওয়ার পর ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় তাকে বাড়িটি ছাড়তে হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়া সানচেজ সরকারের জন্য সম্প্রতি আরেকটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করাতে সানচেজ সরকারকে জোটসঙ্গী ও অন্য দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে, আইন পাস করতে সরকারকে বারবার অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে।
তবে, আগাম নির্বাচন সানচেজের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে দলটি উগ্র ডানপন্থি ভক্স পার্টির সমর্থন নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছেড়ে যাওয়া এমপি ও বিধায়কদের ফিরে আসার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দলটির প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময়ের মধ্যে ফিরতে না পারলে তাদের আর জায়গা থাকবে না বলে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূলের বড় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যেসব এমপি ও বিধায়ককে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছি, তাদের অনেকেই বিশ্বাসঘাতক। তাদের এখানে কোনো জায়গা নেই। আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরব। যারা তৃণমূল ছেড়েছেন, তারা ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে এলে ঠিক আছে। এরপর আর তাদের আর জায়গা থাকবে না।’
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী হতে পারে না। বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় দল পুনর্গঠনে তৃণমূলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, নেতারা নয়, সাধারণ কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। ১৯৯৮ সালে যেভাবে তিনি দল গড়ে তুলেছিলেন, সেভাবেই আবার তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারবেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হয়ে মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও দলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তার ডান চোখের বেশির ভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের দিকে লং মার্চ শুরু করেছেন তার হাজারো সমর্থক।
গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে লং মার্চটি শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরের শহরটি থেকে যাত্রা করে রাতে লং মার্চে বিরতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে আবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে লং মার্চটি শুরু করার কথা রয়েছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহেই লং মার্চটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে, সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা চলায় কর্মসূচিটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে, ইমরান বরাবরই বলে আসছেন, তার বিরুদ্ধে করা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লং মার্চ
টি ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে।
এ সময় দেশের মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, ইমরানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পাওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতে দলটির নেতারা ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
পাশাপাশি, তার দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছিল দলটি। গত আগস্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমরানকে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে, তার পরিবার ও পিটিআইয়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়নি।
এর আগে, ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে অন্তত আটজন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী গতকাল সোমবার বাব আল–মান্দেব প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখল করেছে। সামরিক ও সরকারি সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিরা যেসব এলাকায় অগ্রসর হয়েছিল, সেসব এলাকা পুনর্দখল করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ থেকে সরিয়ে দিতে সরকারি বাহিনী লড়াই করছে।
তিন সামরিক কর্মকর্তা ও এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনী বাব আল–মান্দেব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলার বড় একটি অংশ দখল করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপক বিমান সহায়তায় তারা ওই এলাকার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এর আগে হুতিপন্থি গণমাধ্যম সরকারি বাহিনীর ওই এলাকায় অগ্রসর হওয়ার খবর অস্বীকার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে তীব্র লড়াই চলছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা স্থবির থাকা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল–মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি এরই মধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে লড়াই শুরু হওয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং এমন একটি অঞ্চলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যেখানে এরই মধ্যে ব্যাপক সংঘাত চলছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলের জন্য তারা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, দেশকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত’ না করা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সৌদি আরব এই সামরিক অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। হুতিদের পিছু হটাতে সৌদি আরব তার মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তাও চেয়েছে। এর লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা বন্ধ করা।
ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে সংঘাত চললেও সবচেয়ে তীব্র লড়াই হচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে বাব আল–মান্দেব প্রণালীর কাছের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইজ শহরের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে হুতিরা সরকারি বাহিনীকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত এক সংবাদ সংস্থা এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিযোদ্ধারা তাইজ প্রদেশের আল-মাওয়াসিত জেলা থেকে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে। তারা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান আল-আলিমির বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
পাহাড়ি এই জেলাটি তাইজ থেকে এডেন যাওয়ার প্রধান সড়কের কাছে অবস্থিত। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাইজ শহরটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। সরকারি বাহিনীর জন্য শহরটিতে প্রবেশের এটিই ছিল সর্বশেষ সড়কপথ।
ইয়েমেন যুদ্ধের পটভূমি
ইয়েমেনে বর্তমান সংঘাতের শুরু ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের সরকারকে পুনর্বহাল করা এবং ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। জোটটি এ লক্ষ্যে বিমান হামলা শুরু করে।
তবে যুদ্ধ দ্রুতই রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থায় পরিণত হয়। ইয়েমেনের বেশির ভাগ যুদ্ধফ্রন্টে দীর্ঘদিন কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। এমনিতেই ইয়েমেন ছিল আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। চলতি গ্রীষ্ম পর্যন্ত সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল।
সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব এলাকা ফিরে পেতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইরানপন্থি হুতিরাও দেশের ভেতরে আরও এগিয়ে গেছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘিরে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে দেশের বাকি অংশ পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে এই অভিযান সহজ হবে না। সম্প্রতি হুতিদের হঠাৎ অভিযানে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা কৌশলগত একটি সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই পথ তাইজ শহরকে সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারি বাহিনী সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দেয়।
তাইজ ও তার আশপাশে কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের লড়াইয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা দখল করে নিয়েছে। প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে এবং থানাও দখল করেছে। সেখানে এখনো তুমুল সংঘর্ষ চলছে।