মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এর আগে সামারা অঞ্চলে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হোয়াইট হাউসের চাপ মেনে নিয়েছে ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার যে দাবি জানানো হয়েছিল, তাতে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকে ইউক্রেন আবারও হামলা শুরু করেছে। ক্রেমলিনের অভিযোগ, কিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাকে সরাসরি উপেক্ষা করছে।
এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয় তার প্রশাসন।
সাম্প্রতিক তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি। তবে তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।
ওই কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো বলে দাবি করেছেন তিনি। হামলায় রাশিয়ার প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি ইউনিট ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান জেলেনস্কি। তিনি এসব হামলাকে ইউক্রেনের চলমান ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জেলেনস্কির বক্তব্য, ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রোববার রাতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিতে চাইছে মস্কো।
রাজধানী কিয়েভেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত রোববার শহরের বিভিন্ন এলাকায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। জেলেনস্কির দাবি, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটি রাশিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষয়ক্ষতি।
তিনি আরও দাবি করেন, গত মাসে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাশিয়া দখল করতে পেরেছে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
রাশিয়ার অধিকৃত ওলেশকি শহরে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এটি বহাল ছিল।
যুদ্ধবিরতির সময় উত্তর ইউক্রেনে কয়েকশ মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন। দুই পক্ষই এই উদ্ধার অভিযানকে সফল বলে উল্লেখ করেছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, এই যুদ্ধবিরতি মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
তবে ইউক্রেনের পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে রাশিয়ার সেনারা ওলেশকিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত সেনাদের সরিয়ে নতুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ইউক্রেনের পুনর্দখল করা খেরসন শহরের বিপরীতে অবস্থিত। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ায় ওই এলাকায় রাশিয়ার নতুন সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
জেলেনস্কি ফোন করলে আমি কথা বলব: পুতিন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফোন করলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই ফোন ধরবেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ দাবি করেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি অবশ্যই ফোন ধরবেন। পুতিন কখনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানাননি।’
চলতি মাসে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে উশাকভ এ মন্তব্য করলেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে ফোনালাপও হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দুই নেতার সরাসরি দেখা হয়েছিল। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছে কিয়েভ। এ জন্য গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার উদ্যোগও নিয়েছে ইউক্রেন।
গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি। তবে শুক্রবার কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার সরাসরি বৈঠক এড়াতে ফোনালাপের প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন।
ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে ফোনে এ ধরনের আলোচনার চেষ্টা করেছে।’ শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন 'সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ আরও বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি।’ এর আগে পুতিন সরাসরি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তিনি জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ বলে অভিহিত করেন।
সাইবার হামলায় অকেজো হয়ে গেছে ইউরোপের সাতটি দেশের কয়েক ডজন সুপারমার্কেটের ফ্রিজ (রেফ্রিজারেটর) ও ফ্রিজার (ডিপ ফ্রিজ)। এতে দোকানগুলোর হিমায়ন ব্যবস্থা অচল হয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় ৪০টি সুপারমার্কেট এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডেরও কয়েকটি দোকানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় অচল কিছু ফ্রিজ বা ফ্রিজারের ‘ইভাপোরেটর’ ডিফ্রস্ট মোডে চলে যাওয়ায় সেগুলোতে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছে বেলজিয়ামের ফ্রিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সাবকোবেল। ধারণা করা হচ্ছে, গত মাসে ফ্রান্সের কয়েকশ সুপারমার্কেটে যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয়েছিল, এবারও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
গত মাসের ওই হামলার পর ফ্রান্সে কয়েক মিলিয়ন ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘এবারের ঘটনাটি সাইবার হামলা। আক্রান্ত ফ্রিজগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সে গত মাসের হামলার পর থেকেই গ্রাহকদের ফ্রিজকে এই দুর্বলতা থেকে সুরক্ষিত করার কাজ চলছিল। তবে শুধু সফটওয়্যার আপডেট করলেই হবে না। ফ্রিজগুলোর কিছু ফিজিক্যাল পরিবর্তনও প্রয়োজন।’
ইউরোপের অধিকাংশ সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দূর থেকে এসব যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নির্ণয় করা যায়। মোয়েলানস বলেন, ‘নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ফ্রিজ ব্যবস্থাপনা করা সবচেয়ে সহজ সমাধান। ফ্রান্সের হামলার পর অধিকাংশ গ্রাহক এ ধরনের নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার শুরু করেছিলেন।’
তবে এবারও কয়েকটি দোকানের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বেলজিয়াম ও সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চল ফ্ল্যান্ডার্সের হুইলাার্টে ডেলহাইজের একটি শাখা জানিয়েছে, হামলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে।
ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট চেইন ক্যারেফোর জানিয়েছে, বেলজিয়ামে তাদের ১৫টি দোকান আক্রান্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব দোকান খোলা রাখা সম্ভব হয়েছে।
বেলজিয়ামে স্পার স্টোর পরিচালনাকারী কোলরুইট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের পাঁচটি দোকানের ফ্রিজ ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে। সুইডেনের ফার্নিচার বিক্রেতা আইকিয়ার বেলজিয়ামের মন্স শহরের একটি দোকানের হিমায়ন ব্যবস্থাও আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আরও কোনো শাখা আক্রান্ত হয়নি—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।
সুইডেনের বৃহত্তম গ্রোসারি ও খুচরা বিক্রেতা চেইন শপ আইসিএ ও কুপের কয়েকটি দোকানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইসিএ জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের বাইরে পরিচালিত অল্পসংখ্যক দোকানে ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত দোকানগুলোকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সুইডেনের সিওবো শহরের আইসিএ’র একটি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, রাতের মধ্যে তাদের ফ্রিজ ও ফ্রিজার ‘হ্যাক’ করে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে দেওয়া হয়েছিল। দোকানটি কিছু সময় বন্ধ রাখার পর আবার গ্রাহকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সুইডেনে কুপের ৮০০ দোকানের মধ্যে সাতটি আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের কয়েকটি কে-স্টোরেও ফ্রিজে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ১৩টি সুপারভ্যালু সুপারমার্কেট আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রভাব নির্দিষ্ট একটি মডেলের ফ্রিজের মধ্যেই সীমিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন গত সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা ইরানিদের ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হামলার পরিসর ছোট ছিল। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। ইরান নিয়ে তার বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজের প্রশাসন ও সরকারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।’ এদিন রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো যুদ্ধ চলছে না’।”
তিনি বলেন, ‘এটি চলমান কোনো যুদ্ধের মতো নয়। এখন কোনো যুদ্ধ চলছে না। তবে তারা যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কিন্তু তারা খুব করেই চুক্তি করতে চায়। আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশ ভালো।’
একই দিনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ও ট্রাম্প দুজনই ‘বেশ আশাবাদী’।”
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য সীমিত হামলার সঙ্গে এই অভিযানের ধরন একই রকম।
তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যেন জাহাজে হামলা চালাতে না পারে, তা ঠেকাতেই এসব হামলা করা হচ্ছে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এর আগে চালানো হামলায় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত সোমবারের হামলার আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালীর আকাশে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সেগুলোতে আঘাত করতে পারেনি ইরান।’
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হলেও এগুলোর কোনোটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে টানা দুই দিন ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে।
একদিনেই সম্পদ ৮৫০ কোটি ডলার বাড়ায় আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী হয়েছেন ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ভর করে বাইটড্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিংকে পেছনে ফেলে তিনি এই স্থানে ফিরলেন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। এর আগে গত বুধবার আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে অভিষেক তার সম্পদ বৃদ্ধিতে বাড়তি প্রভাব ফেলেছে।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, গত সোমবার (২ নভেম্বর) আম্বানির সম্পদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলারে। এ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিনি ২৩তম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ঝাং ইমিংয়ের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধিই আম্বানির সম্পদ বাড়ার প্রধান কারণ। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ রুপিতে পৌঁছায়। এতে এক দিনেই প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।
কোম্পানিটির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রিলায়েন্সের আয় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি, যা প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের সমান। অথচ বিশ্লেষকরা এ সময়ে ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি রুপি বা প্রায় ২৩৩ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে তেল পরিশোধন ও রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন ব্যবসার ভালো ফল এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মুনাফা বাড়ায় কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরালো হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে। আইপিওতে জিও প্ল্যাটফর্মসের মূল্যায়ন করা হয় প্রায় ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাজারমূল্যের হিসাবে রিলায়েন্স ভারতের বৃহত্তম কোম্পানি। তেল ও গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা, গণমাধ্যম এবং আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ২০০০’ তালিকায় বিশ্বের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অবস্থান ছিল ৫৫তম। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রি ১১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার, মোট সম্পদ ২২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার এবং মুনাফা ৯১০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টায় সবার আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) সবার আগে কেন্দ্র খুলে দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এরপর নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোর ৬টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও নিজস্ব স্থানীয় সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে। ডাকযোগে পাঠানো মেইল-ইন ব্যালট ও আগাম ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত ভোটার ইতোমধ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
চলমান এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের প্রতিটিতেই ভোটগ্রহণ চলছে। এর পাশাপাশি উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন এবং দেশের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হবে এই ভোটাভুটিতে।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা।
এ কারণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রগুলোতে আনুষ্ঠানিক গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কখন, কোথায় ও কীভাবে ভোট
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৩ কোটির বেশি যোগ্য ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন, কংগ্রেসে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন কারা। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন হচ্ছে।
এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন করবেন ভোটাররা। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। গতকাল মঙ্গলবারের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যেসব বিষয় জানা জরুরি, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
আমেরিকানরা কেন ভোট দিচ্ছেন?
মার্কিন ফেডারেল সরকারে আইন প্রণয়ন, বিলে ভোটদান ও প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মনোনয়ন অনুমোদনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ভোটাররা ৩৫ জন সিনেটরকে (১০০ সদস্যবিশিষ্ট সিনেটের মধ্য থেকে) নির্বাচিত করবেন। সিনেটররা ছয় বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করেন।
আইন তৈরি, সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যকে নির্বাচন করবেন। তারা দুই বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশে ভোটাররা গভর্নরদেরও বেছে নেবেন, যারা অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজ্য-স্তরের রাজনীতিবিদ এবং রাজ্যের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মূল ইস্যুগুলো
বহু ভোটারের কাছে এবার অর্থনীতিই প্রধান ইস্যু, যারা জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ মূল্যের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি দেশটির ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যের ওপরে রয়েছে, যার একটি কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ। ভোটাররা অভিবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইস্যু নিয়েও আগ্রহী।
ভোটগ্রহণ কখন শেষ হবে?
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকিতে সবচেয়ে আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। মিশিগানে রাত ৮টায় এবং কানসাসে সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। উভয় ক্ষেত্রেই সময়টি আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা। আইওয়ায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। সবশেষে আলাস্কায় আজ বুধবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত প্রায় ১টায় (জিএমটি ৬টা) ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
ফলাফল কখন জানা যাবে?
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করতে পারে। এদিন সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ অব্যাহত থাকবে। কারণ, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হতে সময় লাগবে। এরপর কর্মকর্তারা ভোট গণনার ফল প্রকাশ করবেন। তবে প্রাথমিক ফল প্রকাশের অর্থ এই নয় যে, বিজয়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদ সংস্থাগুলো ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোনো আসনে বিজয়ী ঘোষণা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে ফলাফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নাও হতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি কী?
ভোটাররা ডাকযোগে, আগাম অথবা নির্বাচনের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের দিন শেষ হওয়ার পরও ডাকযোগে পাঠানো, সাময়িক এবং অন্যান্য কিছু ব্যালট গণনা করা হয়। এ কারণে ভোট গণনা চূড়ান্ত করতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
যেসব আসনের দিকে নজর থাকবে
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বেশি পেতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে দলটির প্রয়োজন তিনটি আসন।
মিশিগান: ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। গত রোববার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফ্লোরিডা: ডেমোক্র্যাট অ্যাঞ্জি নিক্সন রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
জর্জিয়া: ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান মাইক কলিন্স।
মেইন: রিপাবলিকান সিনেটর সুজান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার: ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিস পাপাসের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সিনেটর ও রিপাবলিকান জন সুনুনু।
নর্থ ক্যারোলাইনা: ডেমোক্র্যাট রয় কুপার ও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে ইরানের কেশম দ্বীপে সামরিক আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। এক কর্মকর্তার সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, এই তৎপরতা কোনো সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের অংশ নয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করেছে, অতীতেও এ ধরনের সীমিত মাত্রার আঘাত গোপনে পরিচালনা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সংঘটিত এই সামরিক পদক্ষেপ বার্তা দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন-তেহরান সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই আক্রমণ চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতেই পারে।’
একই সুর শোনা গেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যেও। সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বা সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে।’
মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূতের সফরের মধ্যেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সামরিক জান্তা। গত চার দিনে অন্তত ৯টি বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫১ জন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। খবর দ্য ইরাবতীর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আসিয়ানের বিশেষ দূত মারিয়া তেরেসা লাজারো মানবিক সহায়তা মিশনে মিয়ানমার সফর করেন। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগিতে অবস্থানকালে তিনি জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে তার সফরের মধ্যেই জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইরাবতীর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত জান্তা বাহিনী অন্তত ৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ১৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে রাখাইন রাজ্যে। রাজ্যটির প্রায় পুরো অঞ্চলই বর্তমানে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাখাইনের ম্রাউক-ইউ শহরে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একটি অস্থায়ী মাতৃসদন বিধ্বস্ত হলে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও নয়জন। গত ১০ ডিসেম্বর জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ম্রাউক-ইউ জেলা হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ওই অস্থায়ী মাতৃসদনটি চালু করা হয়েছিল।
আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রোববার রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় মোট ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে কারেন্নি রাজ্যের লইকাও শহরে একটি স্কুলে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও আটজন। রোববার ওয়ানগাউত গ্রামের স্কুলটিতে ছুটির দিনের খাবার পরিবেশনের সময় দুটি জান্তা যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে বোমা ফেলা হয়।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। মোট জরিমানার মধ্যে পিইউসি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি, দিল্লির সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২ লাখ রুপি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজের কারণে সৃষ্ট দূষণের জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি আদায় করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ যানবাহনকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে ১২৭টি চালান দেওয়া হয় এবং ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। ২ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।
ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছিল ১৪০টি হালকা মোটরযান (এলএমভি), ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান (এলসিভি), ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে।
পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্য দিল্লি নয় এমন ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহনও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনো চালান দেওয়া হয়নি।
সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের মোট ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বৈধ পিইউসি সনদ ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানে ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। পরিবহন বিভাগ দিয়েছে ৭৩টি চালান, যার বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি।
নির্মাণ ও ভাঙার কাজের স্থান থেকে ছড়ানো ধুলা নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের বড় নির্মাণস্থল ছিল ৯১টি। এর মধ্যে ১৬টিতে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিলেছে।
বড় নির্মাণস্থলগুলোর ক্ষেত্রে দুটি কাজ বন্ধের নির্দেশ এবং চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ৫০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ২০৯টি ছোট নির্মাণস্থলের মধ্যে ১৭টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের বিরুদ্ধে ১৫টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিদর্শন করা ৩০০টি নির্মাণস্থলের বিরুদ্ধে ১৭টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানের ওপর মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার আবহেই উত্তর-পূর্ব সোমালিয়া উপকূলে একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার নিজেদের দখলে নিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। ছিনতাইকৃত ওই নৌযানটিতে ২১ জন ইরানি জেলে ও সোমালিয়ার দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ সর্বমোট ২৩ জন আরোহী অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও)।
সংস্থাটির বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার (১ নভেম্বর) ইরানের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোমালিয়ার বন্দর শহর ‘বান্দার বেইলা’র পূর্ব দিক থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিতে ‘আজিনি’ নামের ট্রলারটিতে উঠে পড়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভেতরে থাকা ক্রুদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১২ জন জলদস্যু ওই ট্রলার ও এর ২৩ জন আরোহীকে জিম্মি করে রেখেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ‘আজিনি’ ট্রলারটির নির্মাণশৈলী সোমালি জলদস্যুদের ‘মাদার শিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য বেশ উপযুক্ত। সাধারণ ছোট নৌযান ছিনতাই করে জলদস্যুরা সেগুলোকে গভীর সমুদ্রে অভিযানের জন্য ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটি হিসেবে কাজে লাগায়।
উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে সাধারণ স্পিডবোট নিয়ে যেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, সেখানে গিয়ে বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতেই তারা এই কৌশল প্রয়োগ করে। এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, শনিবার নাগাদ অপহৃত ট্রলারটি পূর্ব দিকে আরও ১১০ নটিক্যাল মাইল অগ্রসর হয়েছে, যা অঞ্চলটির অত্যন্ত ব্যস্ত আন্তর্জাতিক নৌপথের অত্যন্ত সন্নিকটে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই ইরানি ট্রলারটিকে তারা পরবর্তী দস্যুবৃত্তির ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালিয়া সংলগ্ন জলসীমায় জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু গ্রীষ্মের মৌসুমেই তারা অন্তত ছয়টি জলযান দখল করে, যার কয়েকটিতে প্রাণহানির নজিরও রয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে অপহৃত জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার ‘অনার ২৫’ উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করে। তবে উদ্ধার অভিযান শুরুর পূর্বেই জলদস্যুদের গুলিতে ৫ জন জিম্মির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ এলাকায় একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে চালকসহ আরোহী ৯ জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাস্থলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব মার-এ-লাগো বাসভবন থেকে মাত্র ৯ মাইল (১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।
শনিবার (১ নভেম্বর) অপরাহ্ণে পাম বিচের ক্রেসহ্যাভেনের একটি লোকালয়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল তদারককারী সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিনের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এবং এতে মোট ৯ জন যাত্রী ছিলেন।
এফএএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচের ক্রেসহ্যাভেন অংশে বিমানটি ভূপাতিত হয়। আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে বিকট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) একযোগে তদন্ত শুরু করেছে, যার মূল দায়িত্বে রয়েছে এনটিএসবি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ পরে প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে এফএএ।
এদিকে উদ্ধার তৎপরতা নির্বিঘ্ন করতে জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও ১০ম অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়কটিতে যান চলাচল রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং সাধারণ পথচারীদের ওই এলাকা পরিহার করতে বলা হয়েছে।
পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টের এক বার্তায় জানায়, “এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই সবাইকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে আসতে দেখা যায়। এর পরপরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশ ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় ছেয়ে যায়।
ফ্লাইট নজরদারিকারী পোর্টাল ফ্লাইটরাডার২৪-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের ওই উড়োজাহাজটি বেলা ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে এটি ৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছিল।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া পৃথক দুই সংঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার মণিপুর রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের’ মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
‘এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো তল্লাশি অভিযানে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।’
কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের শীর্ষ এক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।
এদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের প্রান্তিক এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক এই সংঘাত মণিপুরের বিরাজমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে কুকি সম্প্রদায়।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী ইরানে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ-এর কাছে নিজের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে ইয়াদোল্লাহ বলেন, “শত্রুরা যে পরিকল্পনাই করুক আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”
বিপ্লবী গার্ডের এ শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, এবার আর কোনো আকস্মিক আগ্রাসনের মুখে পড়ে ইরান অপ্রস্তুত থাকবে না। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো আঘাত এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে দাবি করে কড়া সতর্কবার্তা দেন ইয়াদোল্লাহ। তিনি বলেন, “শত্রুরা যে অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করবে, হোক সেটি বিমান হামলা চালিয়ে বা সীমান্ত অতিক্রম করে সেটি তাদের জন্য ‘হত্যার ময়দান’ হয়ে উঠবে।”
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই ইরানে স্বল্পমেয়াদি অথচ অত্যন্ত তীব্র মাত্রার সামরিক আঘাত হানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাস্তবতায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলার সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করতে পারলেও সেই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে তাদের নিজেদের শর্তে; অর্থাৎ আঘাত হেনে ওয়াশিংটনের নির্বিঘ্নে সরে পড়ার কোনো সুযোগ রাখা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রাথমিক কাঠামোয় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতিতে তৃতীয় কোনও দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করতে নিশ্চয়তাদাতা পক্ষ হিসেবে চীনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হলে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও যাচাইব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে বা শর্ত লঙ্ঘন করলে তা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতা পক্ষগুলোর সমন্বয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গত শুক্রবার সকালে তেহরানে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের এ সফর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির প্রস্তাবসংবলিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কাতারের দূতেরা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চলছে। তারা কথা বলতে চায়। তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
ইরানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতে পারছে না। তারা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি একটি যুদ্ধ, তবে প্রচলিত ধরনের যুদ্ধ নয়; আমরা সেখানে সাত মাস ধরে রয়েছি।’