যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান অ্যাবার কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের আইন সভায় দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ফিলিস্তিনি আমেরিকান ও প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে রিপাবলিকান প্রার্থী হান খন টোর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গভীর রাতে তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’
মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যানুযায়ী, ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির ঘরে নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন কাওয়াস। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অভিবাসীদের অধিকার, শ্রমিক অধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।
‘মর্যাদার জন্য তহবিল দিন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়ুন’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালান তিনি। তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বাড়ি ভাড়া স্থিতিশীল রাখা, গণপরিবহনে বরাদ্দ বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা জোরদার করা।
বিশেষ করে কঠোর ফেডারেল নীতির মুখে থাকা অভিবাসী পরিবারগুলোর সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাওয়াস।
তার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী চক্রের সমাপ্তি হলো। জুনে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের পর জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পান।
২০২৭ সালে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আরবেনিতে আইনসভার নতুন সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেবেন কাওয়াস। দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত ফিলিস্তিনি আমেরিকান প্রতিনিধিদের ছোট তালিকায় যুক্ত হবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীন দল। যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। একই রকম ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (৪ নভেম্বর) তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শুরু হচ্ছে। যেটির সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবারের মধ্যে সামনে আসতে পারে।
কয়েকদিনের ব্যবধানে হওয়া দুই দেশের নির্বাচন প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতার শেষের শুরু করেছে। তাদের রাজনৈতিক পতন অবশ্যম্ভাবী- সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। বরং বলা যায়, তারা দুজনই এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্ষমতা ধরে রাখার চেয়ে ক্ষমতার শর্তগুলো নিজেদের পক্ষে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে তার দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল সরাসরি সরকার গঠনের প্রশ্ন তুলেছে। তার দল লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নেই।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রয়োজনীয় ২১৮ আসনের বিপরীতে তারা জিতেছে ২২৫টিতে। ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় থাকা আরও ৩৮টি আসনে দলটি এগিয়ে আছে।
উচ্চকক্ষ সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ৫৪টিতে নিশ্চিতভাবে জিতেছে, এগিয়ে আছে আরও একটিতে। বিপরীতে পরিষদ ও সিনেট উভয়কক্ষে রিপাবলিকানরা পেয়েছে যথাক্রমে ১৩৬ ও ৪৩ আসন। চূড়ান্ত ফলাফলে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।
এই ফলকে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও শুল্কের প্রভাব সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের লড়াই ছিল না; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোটে পরিণত হয়।
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সংকটের ধরন ট্রাম্পের থেকে আলাদা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার দল লিকুদ পার্টি নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২৭টি পেয়েছে। জোটের শরিকদের আসন মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। বিরোধী জোট ৪৮ আসন পেলেও তাদের সমর্থন দিচ্ছে ১৯ আসন পাওয়া আরব দলগুলো। ফলে বিরোধীরা সরকার গঠনের দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকার গঠনের জন্য সম্ভাবনাময় জোটের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের সঙ্গে আরবদের সমর্থন থাকায় প্রথমে গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াগুলোতেও শেষের আবেগের বার্তা আছে। নির্বাচনের আগেরদিন গত সোমবার ট্রাম্প তার ভাষণে নীতিগত বিষয় নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি। বরং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং ওয়াশিংটনকে আরও সুন্দর করে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবসরের প্রস্তুতির মতো বার্তা।
অপরদিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী- তিনি বলেছেন, ‘জয় চুরি হয়ে গেছে।’
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ডেমোক্র্যাটরা এখন তদন্ত কমিটি গঠন, শুনানি ও তলবের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে পারবে। সেটি হলে বাজেট, ঋণসীমা, শুল্কনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ফল মেনে নিতে প্রস্তুত এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আপত্তি নেই। কিছুদিন আগেও নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের নীতির বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। এখন তিনি সুর নরম করেছেন বলে মনে হচ্ছে।
কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানো মানেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ নয়। ট্রাম্পের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতি পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তাই ডেমোক্র্যাটরা তার পথ কঠিন করতে পারলেও সব সিদ্ধান্ত থামিয়ে দিতে পারবে না।
মঙ্গলবার এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন। একই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণার প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘নিরলসভাবে সক্রিয়’ থাকবেন বলে মনে হচ্ছে। কানাডার প্রতি তার সাম্প্রতিক বৈরী মনোভাবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।
এদিকে নেতানিয়াহুকে আপাতত বিরোধী জোটের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক যদি বিরোধী জোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, তবে তারা ৪২ দিন সময় পাবে। এ সময়ে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। তারা সেটি করতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ধারাবাহিক জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, মার্কিন জনগণ এমন রাজনীতি চান, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে ঐক্যবদ্ধ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওবামা লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমেরিকান জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-তারা এমন রাজনীতি চান, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করে। তারা এমন নেতাদের চান, যারা মানুষের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারেন।’
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এই ফল সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবামা। একসময় যেসব এলাকাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন নির্বাচনি এলাকা বলে মনে করা হতো, সেখানেও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘তারা ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে এসেছেন এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও তাদের মধ্যে বৈচিত্র্য ছিল। তবে অভিন্ন মূল্যবোধ, জনসেবার প্রতি বিশ্বাস এবং নিজেদের নির্বাচনি এলাকার মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার তাদের এক করেছে।’
বর্তমান প্রশাসনের হাতে আরও দুই বছর ক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হলো কাজে নেমে পড়া-যেখানে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিবর্তন আনা, আরও ক্ষতি ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি তৈরি করা।’
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখা দুই দলের হাজারো নির্বাচনী কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, তারা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে হারিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। ভোট গণনার সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এদিকে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ‘ভালো করেছে’ বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করলেও নিজের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মোট আসন ১০০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। দুই স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কয়েকটি আসন ছিনিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এবারের নির্বাচনে টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডকে হারিয়ে আবার সিনেটে ফিরেছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন। এসব জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন ডেমোক্র্যাটরা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশনে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের মনোনীত মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা বাড়বে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে ভোট গণনা চলছে।
নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে বিস্ময় ও অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর এবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতছাড়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আইনসভার উভয় কক্ষের আধিপত্য পুনরুদ্ধার করল বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ফলস্বরূপ, দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও কড়া নজরদারি প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী ক্ষমতা তৈরি হলো ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন ইতোমধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে ডেমোক্র্যাটরা, এবং তারা আরও ৩৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত ১২৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৪৬টিতে এগিয়ে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীনভাবে হ্রাস পাওয়া জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যে লাল শিবিরকে হটিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আসন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে দলটি।
দীর্ঘদিনের লাল দুর্গ সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলেইন গ্রাহামকে পরাজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ; সেখানে ১৯৯৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে। এদিকে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো টেক্সাসে কোনো অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো; তিনি পরাজিত করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে। পাশাপাশি ওহাইওতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে হটিয়ে আসন পুনরুদ্ধার করেছেন শেরউড ব্রাউন এবং কানসাসে ক্ষমতাসীন সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন, যা অঙ্গরাজ্যটিতে ১৯৩২ সালের পর প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাটের সিনেট বিজয়।
বিদায়ী ১১৯তম কংগ্রেসে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন, বিপরীতে দুই স্বতন্ত্র নেতাসহ ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭ আসন। মঙ্গলবারের এই ফলাফলের মাধ্যমে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অর্জিত হোয়াইট হাউস, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—এই তিন ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে রিপাবলিকানদের গড়ে তোলা 'ট্রাইফেক্টা' বা নিরঙ্কুশ আধিপত্যের চূড়ান্ত অবসান ঘটল।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই অনুমিত থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন বিবেচনা করা হচ্ছিল। এবারের নির্বাচনে নিয়মিত ৩৩টি আসনের পাশাপাশি ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচনসহ মোট ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও ট্রাম্পের সরকারে যোগ দেওয়ায় ওই আসন দুটি শূন্য হয়েছিল। তীব্র লড়াইয়ের মুখেও জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং ভার্জিনিয়ায় দীর্ঘদিনের সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার নিজেদের আসন অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে, যার প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলে। সিএনএনের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেন না। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের গৃহীত নীতির ফলেই মার্কিন অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাজির করতে আইনি সমন জারির ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। একই সাথে সিনেটের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ এমনকি সুপ্রিম কোর্টের শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও দলটির হস্তগত হলো। তবে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিনেটে আইন পাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৬০ ভোটের নিয়মের কারণে নিজেদের আইন বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ডেমোক্র্যাটদেরও বাধার মুখে পড়তে হবে। তথাপি, ওয়াশিংটনে ক্ষমতার এই নাটকীয় পরিবর্তন ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরকে চরম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও চাপে ফেলতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। ভোট গণনার অগ্রগতিতে ৪১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মুসলিম সিনেটর হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৪ ভোট, যা মোট গণনাকৃত ভোটের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে সংগ্রহ করেছেন ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ভোটের এই ব্যবধানকে সামনে রেখে মার্কিন শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই সায়েদের জয়কে প্রায় সুনিশ্চিত বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে।
তবে আব্দুল এল-সায়েদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লড়াই একেবারেই সহজ ছিল না। দলের প্রাইমারি নির্বাচনে আইনপ্রণেতা হেলি স্টিভেনসকে পরাজিত করে সিনেট লড়াইয়ের টিকিট পান তিনি। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে নিজ দলের প্রার্থীকে ফেলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেন স্টিভেনস। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের পাশাপাশি প্রচারের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শিবিরের কড়া ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে 'জঙ্গি' ও 'জিহাদির' তকমা দেওয়া হয়।
সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে মিশিগানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার জরুরি সংকটগুলো সমাধানের বিষয়কেই প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন সায়েদ। নির্বাচনী মাঠে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, "মুসলিম সিনেটর হতে তিনি দাঁড়াননি, মিশিগানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দাঁড়িয়েছেন।"
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত ৫০টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৫৩টি আসন পেয়ে এই কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের নজিরবিহীন ভরাডুবি ঘটেছে। ঐতিহাসিক এই ফলাফলে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫৪টি আসন দখল করে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। একই সঙ্গে টেক্সাস, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন ডেমোক্র্যাটরা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, কেনটাকি, নিউ জার্সি ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্তত আটটি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জোরালো অবস্থানে রয়েছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও ডেমোক্র্যাটরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
সিনেট নির্বাচনে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করে আবারও সিনেটে ফিরছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন। অন্যদিকে টেক্সাসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধীদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের মুখে কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমস তালারিকো। এছাড়া সাউথ ক্যারোলাইনায় সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার আসনে দায়িত্ব পাওয়া ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। এর আগে নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনেও জয় তুলে নেন ডেমোক্র্যাট রয় কুপার।
মিশিগান ও মিনেসোটায় নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজনীয় চারটি অতিরিক্ত আসন পাওয়ার সমীকরণ ইতিমধ্যেই মিলে গেছে। এছাড়া জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন তারা।
জর্জিয়ায় জয় পাওয়ার পর এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "এক ব্যাপক ও চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নামের ব্যক্তির অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।"
কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর ঝুঁকি স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, "ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তবে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতাম! এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে এ নির্বাচনে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ মার্কিন প্রধান গণমাধ্যমগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ভোটার এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ওপর কংগ্রেসের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য চান বলে জানিয়েছেন।
এমনকি শক্ত রিপাবলিকান ঘাঁটি ফ্লোরিডায়ও প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাত্র ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে নিজের আসন রক্ষা করতে পেরেছেন রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি।
এদিকে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে, যাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তদারকি অভিযান বলা হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত ও আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো অনেক দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে আবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে সোমবার রাতভর ইরানের কেশম দ্বীপে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, হামলাগুলো সীমিত পরিসরে চালানো হয়েছে এবং এগুলো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দেয় না।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার। বিশেষ করে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত নতুন করে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’ গত আট দিন ধরে আলোচনাধীন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তির একটি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া প্রস্তাবগুলোও পর্যালোচনা করছে তারা। তেহরান সফর করা কাতারের প্রতিনিধিদল দোহায় ফিরে গেলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় যৌথ প্রচেষ্টা চলছে।’ ভবিষ্যতে আলোচনার পথ তৈরি করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ মেনে নেবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ওয়াশিংটনের কোর্টে বল, বলছে ইরান
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তেহরান ইতোমধ্যে নিজেদের ‘শক্তিশালী ও যৌক্তিক জবাব’ দিয়েছে। গালিবাফ বলেন, ‘হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায় শত্রুপক্ষ। কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করছে। ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভুল হিসাব করলে তার জবাব হবে অননুমেয় এবং তা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন-এমন আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাইবার হামলায় অকেজো হয়ে গেছে ইউরোপের সাতটি দেশের কয়েক ডজন সুপারমার্কেটের ফ্রিজ (রেফ্রিজারেটর) ও ফ্রিজার (ডিপ ফ্রিজ)। এতে দোকানগুলোর হিমায়ন ব্যবস্থা অচল হয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় ৪০টি সুপারমার্কেট এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডেরও কয়েকটি দোকানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় অচল কিছু ফ্রিজ বা ফ্রিজারের ‘ইভাপোরেটর’ ডিফ্রস্ট মোডে চলে যাওয়ায় সেগুলোতে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছে বেলজিয়ামের ফ্রিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সাবকোবেল। ধারণা করা হচ্ছে, গত মাসে ফ্রান্সের কয়েকশ সুপারমার্কেটে যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয়েছিল, এবারও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
গত মাসের ওই হামলার পর ফ্রান্সে কয়েক মিলিয়ন ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘এবারের ঘটনাটি সাইবার হামলা। আক্রান্ত ফ্রিজগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সে গত মাসের হামলার পর থেকেই গ্রাহকদের ফ্রিজকে এই দুর্বলতা থেকে সুরক্ষিত করার কাজ চলছিল। তবে শুধু সফটওয়্যার আপডেট করলেই হবে না। ফ্রিজগুলোর কিছু ফিজিক্যাল পরিবর্তনও প্রয়োজন।’
ইউরোপের অধিকাংশ সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দূর থেকে এসব যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নির্ণয় করা যায়। মোয়েলানস বলেন, ‘নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ফ্রিজ ব্যবস্থাপনা করা সবচেয়ে সহজ সমাধান। ফ্রান্সের হামলার পর অধিকাংশ গ্রাহক এ ধরনের নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার শুরু করেছিলেন।’
তবে এবারও কয়েকটি দোকানের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বেলজিয়াম ও সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চল ফ্ল্যান্ডার্সের হুইলাার্টে ডেলহাইজের একটি শাখা জানিয়েছে, হামলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে।
ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট চেইন ক্যারেফোর জানিয়েছে, বেলজিয়ামে তাদের ১৫টি দোকান আক্রান্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব দোকান খোলা রাখা সম্ভব হয়েছে।
বেলজিয়ামে স্পার স্টোর পরিচালনাকারী কোলরুইট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের পাঁচটি দোকানের ফ্রিজ ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে। সুইডেনের ফার্নিচার বিক্রেতা আইকিয়ার বেলজিয়ামের মন্স শহরের একটি দোকানের হিমায়ন ব্যবস্থাও আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আরও কোনো শাখা আক্রান্ত হয়নি—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।
সুইডেনের বৃহত্তম গ্রোসারি ও খুচরা বিক্রেতা চেইন শপ আইসিএ ও কুপের কয়েকটি দোকানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইসিএ জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের বাইরে পরিচালিত অল্পসংখ্যক দোকানে ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত দোকানগুলোকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সুইডেনের সিওবো শহরের আইসিএ’র একটি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, রাতের মধ্যে তাদের ফ্রিজ ও ফ্রিজার ‘হ্যাক’ করে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে দেওয়া হয়েছিল। দোকানটি কিছু সময় বন্ধ রাখার পর আবার গ্রাহকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সুইডেনে কুপের ৮০০ দোকানের মধ্যে সাতটি আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের কয়েকটি কে-স্টোরেও ফ্রিজে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ১৩টি সুপারভ্যালু সুপারমার্কেট আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রভাব নির্দিষ্ট একটি মডেলের ফ্রিজের মধ্যেই সীমিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন গত সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা ইরানিদের ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হামলার পরিসর ছোট ছিল। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। ইরান নিয়ে তার বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজের প্রশাসন ও সরকারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।’ এদিন রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো যুদ্ধ চলছে না’।”
তিনি বলেন, ‘এটি চলমান কোনো যুদ্ধের মতো নয়। এখন কোনো যুদ্ধ চলছে না। তবে তারা যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কিন্তু তারা খুব করেই চুক্তি করতে চায়। আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশ ভালো।’
একই দিনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ও ট্রাম্প দুজনই ‘বেশ আশাবাদী’।”
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য সীমিত হামলার সঙ্গে এই অভিযানের ধরন একই রকম।
তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যেন জাহাজে হামলা চালাতে না পারে, তা ঠেকাতেই এসব হামলা করা হচ্ছে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এর আগে চালানো হামলায় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত সোমবারের হামলার আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালীর আকাশে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সেগুলোতে আঘাত করতে পারেনি ইরান।’
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হলেও এগুলোর কোনোটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে টানা দুই দিন ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে।
একদিনেই সম্পদ ৮৫০ কোটি ডলার বাড়ায় আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী হয়েছেন ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ভর করে বাইটড্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিংকে পেছনে ফেলে তিনি এই স্থানে ফিরলেন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। এর আগে গত বুধবার আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে অভিষেক তার সম্পদ বৃদ্ধিতে বাড়তি প্রভাব ফেলেছে।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, গত সোমবার (২ নভেম্বর) আম্বানির সম্পদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলারে। এ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিনি ২৩তম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ঝাং ইমিংয়ের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধিই আম্বানির সম্পদ বাড়ার প্রধান কারণ। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ রুপিতে পৌঁছায়। এতে এক দিনেই প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।
কোম্পানিটির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রিলায়েন্সের আয় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি, যা প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের সমান। অথচ বিশ্লেষকরা এ সময়ে ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি রুপি বা প্রায় ২৩৩ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে তেল পরিশোধন ও রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন ব্যবসার ভালো ফল এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মুনাফা বাড়ায় কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরালো হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে। আইপিওতে জিও প্ল্যাটফর্মসের মূল্যায়ন করা হয় প্রায় ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাজারমূল্যের হিসাবে রিলায়েন্স ভারতের বৃহত্তম কোম্পানি। তেল ও গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা, গণমাধ্যম এবং আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ২০০০’ তালিকায় বিশ্বের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অবস্থান ছিল ৫৫তম। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রি ১১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার, মোট সম্পদ ২২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার এবং মুনাফা ৯১০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টায় সবার আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) সবার আগে কেন্দ্র খুলে দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এরপর নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোর ৬টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও নিজস্ব স্থানীয় সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে। ডাকযোগে পাঠানো মেইল-ইন ব্যালট ও আগাম ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত ভোটার ইতোমধ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
চলমান এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের প্রতিটিতেই ভোটগ্রহণ চলছে। এর পাশাপাশি উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন এবং দেশের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হবে এই ভোটাভুটিতে।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা।
এ কারণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রগুলোতে আনুষ্ঠানিক গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কখন, কোথায় ও কীভাবে ভোট
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৩ কোটির বেশি যোগ্য ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন, কংগ্রেসে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন কারা। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন হচ্ছে।
এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন করবেন ভোটাররা। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। গতকাল মঙ্গলবারের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যেসব বিষয় জানা জরুরি, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
আমেরিকানরা কেন ভোট দিচ্ছেন?
মার্কিন ফেডারেল সরকারে আইন প্রণয়ন, বিলে ভোটদান ও প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মনোনয়ন অনুমোদনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ভোটাররা ৩৫ জন সিনেটরকে (১০০ সদস্যবিশিষ্ট সিনেটের মধ্য থেকে) নির্বাচিত করবেন। সিনেটররা ছয় বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করেন।
আইন তৈরি, সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যকে নির্বাচন করবেন। তারা দুই বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশে ভোটাররা গভর্নরদেরও বেছে নেবেন, যারা অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজ্য-স্তরের রাজনীতিবিদ এবং রাজ্যের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মূল ইস্যুগুলো
বহু ভোটারের কাছে এবার অর্থনীতিই প্রধান ইস্যু, যারা জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ মূল্যের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি দেশটির ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যের ওপরে রয়েছে, যার একটি কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ। ভোটাররা অভিবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইস্যু নিয়েও আগ্রহী।
ভোটগ্রহণ কখন শেষ হবে?
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকিতে সবচেয়ে আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। মিশিগানে রাত ৮টায় এবং কানসাসে সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। উভয় ক্ষেত্রেই সময়টি আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা। আইওয়ায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। সবশেষে আলাস্কায় আজ বুধবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত প্রায় ১টায় (জিএমটি ৬টা) ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
ফলাফল কখন জানা যাবে?
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করতে পারে। এদিন সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ অব্যাহত থাকবে। কারণ, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হতে সময় লাগবে। এরপর কর্মকর্তারা ভোট গণনার ফল প্রকাশ করবেন। তবে প্রাথমিক ফল প্রকাশের অর্থ এই নয় যে, বিজয়ী নির্ধারিত হয়ে গেছে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদ সংস্থাগুলো ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোনো আসনে বিজয়ী ঘোষণা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে ফলাফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নাও হতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি কী?
ভোটাররা ডাকযোগে, আগাম অথবা নির্বাচনের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের দিন শেষ হওয়ার পরও ডাকযোগে পাঠানো, সাময়িক এবং অন্যান্য কিছু ব্যালট গণনা করা হয়। এ কারণে ভোট গণনা চূড়ান্ত করতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
যেসব আসনের দিকে নজর থাকবে
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বেশি পেতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে দলটির প্রয়োজন তিনটি আসন।
মিশিগান: ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। গত রোববার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফ্লোরিডা: ডেমোক্র্যাট অ্যাঞ্জি নিক্সন রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
জর্জিয়া: ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান মাইক কলিন্স।
মেইন: রিপাবলিকান সিনেটর সুজান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার: ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিস পাপাসের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সিনেটর ও রিপাবলিকান জন সুনুনু।
নর্থ ক্যারোলাইনা: ডেমোক্র্যাট রয় কুপার ও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে ইরানের কেশম দ্বীপে সামরিক আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। এক কর্মকর্তার সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, এই তৎপরতা কোনো সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের অংশ নয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করেছে, অতীতেও এ ধরনের সীমিত মাত্রার আঘাত গোপনে পরিচালনা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সংঘটিত এই সামরিক পদক্ষেপ বার্তা দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন-তেহরান সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই আক্রমণ চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতেই পারে।’
একই সুর শোনা গেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যেও। সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বা সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে।’
মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূতের সফরের মধ্যেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সামরিক জান্তা। গত চার দিনে অন্তত ৯টি বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫১ জন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। খবর দ্য ইরাবতীর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আসিয়ানের বিশেষ দূত মারিয়া তেরেসা লাজারো মানবিক সহায়তা মিশনে মিয়ানমার সফর করেন। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগিতে অবস্থানকালে তিনি জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে তার সফরের মধ্যেই জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইরাবতীর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত জান্তা বাহিনী অন্তত ৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ১৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে রাখাইন রাজ্যে। রাজ্যটির প্রায় পুরো অঞ্চলই বর্তমানে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাখাইনের ম্রাউক-ইউ শহরে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একটি অস্থায়ী মাতৃসদন বিধ্বস্ত হলে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও নয়জন। গত ১০ ডিসেম্বর জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ম্রাউক-ইউ জেলা হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ওই অস্থায়ী মাতৃসদনটি চালু করা হয়েছিল।
আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রোববার রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় মোট ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে কারেন্নি রাজ্যের লইকাও শহরে একটি স্কুলে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও আটজন। রোববার ওয়ানগাউত গ্রামের স্কুলটিতে ছুটির দিনের খাবার পরিবেশনের সময় দুটি জান্তা যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে বোমা ফেলা হয়।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। মোট জরিমানার মধ্যে পিইউসি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি, দিল্লির সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২ লাখ রুপি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজের কারণে সৃষ্ট দূষণের জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি আদায় করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ যানবাহনকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে ১২৭টি চালান দেওয়া হয় এবং ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। ২ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।
ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছিল ১৪০টি হালকা মোটরযান (এলএমভি), ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান (এলসিভি), ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে।
পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্য দিল্লি নয় এমন ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহনও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনো চালান দেওয়া হয়নি।
সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের মোট ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বৈধ পিইউসি সনদ ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানে ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। পরিবহন বিভাগ দিয়েছে ৭৩টি চালান, যার বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি।
নির্মাণ ও ভাঙার কাজের স্থান থেকে ছড়ানো ধুলা নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের বড় নির্মাণস্থল ছিল ৯১টি। এর মধ্যে ১৬টিতে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিলেছে।
বড় নির্মাণস্থলগুলোর ক্ষেত্রে দুটি কাজ বন্ধের নির্দেশ এবং চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ৫০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ২০৯টি ছোট নির্মাণস্থলের মধ্যে ১৭টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের বিরুদ্ধে ১৫টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিদর্শন করা ৩০০টি নির্মাণস্থলের বিরুদ্ধে ১৭টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানের ওপর মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি।