বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

সাংবাদিক ইলিয়াসের বিচার শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৩৯
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৩৯

পিবিআই প্রধান বনজ কুমারের করা মামলায় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ অভিযোগ গঠন করেন। শুনানি শেষে এ মামলা থেকে বাবুলের ভাই মো. হাবিবুর রহমান লাবুকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এদিন আসামি লাবুর পক্ষে তার আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শামীম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামি লাবুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদি হয়ে এ মামলা করেন। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় বাবুল আক্তারের ভাই লাবু ও বাবা ওয়াদুদ জামিনে রয়েছেন। তবে সাংবাদিক ইলিয়াস পলাতক। তদন্ত শেষে গত ৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইলিয়াস ছাড়া অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরআগে বাবুল অক্তার ও তার পিতাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।


২৩ মে পর্যন্ত ড. ইউনূসের জামিন বৃদ্ধি করেছে আদালত

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:১৪
বাসস

শ্রমআইন লঙ্ঘনের দায়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত জামিন বৃদ্ধি করে আদেশ দিয়েছেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম. এ আউয়াল আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট খুরশীদ আলমখান।

শ্রমআইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূস শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। সাজার বিরুদ্ধে তার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিন চান। ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন এ আবেদন দাখিল করেন।

শ্রমআইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা এই মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ চারজনকে গত ১ জানুয়ারি ছয়মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই আপিল শর্তে ড. ইউনূসসহ চারজনকে এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত।

২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়। গত বছরের ৬ জুন মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ২২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়, যা শেষ হয় ৯ নভেম্বর। গত ২৪ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘শ্রমআইন ২০০৬ ও শ্রমবিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বা কর্মচারীদের শিক্ষানবিশকাল পার হলেও তাদের নিয়োগ স্থায়ী করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক বা কর্মচারীদের মজুরিসহ বার্ষিক ছুটি, ছুটি নগদায়ন ও ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ দেয়া হয়নি। গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। লভ্যাংশের ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী গঠিত বিলে জমা দেয়া হয়নি।’

শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন ড. ইউনূসসহ চারজন। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। অপর তিনজন হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।


সদরঘাট লঞ্চ ট্রাজেডি: পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড

ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ক্যামেরা থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৪৭
জবি প্রতিনিধি

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে দুই লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লেগে রশি ছিড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এম ভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার ও ম্যানেজার, বাকি দুজন এম ভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের মাস্টার।

শুক্রবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা চৌধুরি হিমেল এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির বাবুল দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সদরঘাট নৌ পুলিশের সদস্যরা আসামিদের আদালতে হাজির করলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাতদিনের পুলিশি রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরঘাট নৌথানার উপ-পরিদর্শক নকীব অয়জুল হক। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামিকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।

রিমান্ডে নেয়া আসামীরা হলেন- এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) আব্দুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্মপরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২টা ৫৫ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনালের ১১ নম্বর পল্টুনে এমভি তাসরিফ-৪ নোঙর করে থাকা অবস্থায় এমভি ফারহান-৬ এর চালক বেপরোয়া গতিতে লঞ্চ চালিয়ে ১১ নম্বর পন্টুনে ঢোকার সময় তাসরিফ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে তাসরিফ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। সেটি দ্রুত গতিতে এসে পন্টুনে অপেক্ষমান যাত্রীদের আঘাত করলে তারা নদীতে পড়ে যায়। এতে এক পরিবারের তিনজনসহ ৫ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফারহান এবং তাসরিফ লঞ্চের দায়িত্ব অবহেলা আছে।

নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে সাইমা (৩)। তারা তিনজন একই পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ এর ক্রয় ও সংরক্ষণ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন কমিটির সদস্য। কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ হতে প্রতি মৃত ব্যক্তির নমিনির কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।


লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৪ ০১:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় জঙ্গিরা। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকরা এই ঘটনায় পরদিন তাঁর ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর একই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়ে থাকে।

সেই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মাহফুজুল আলম রাসেল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম বিদেশ থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার পর নূর মোহাম্মদ তিন বছর নওগাঁয় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি ভিন্ন নামে পাসপোর্ট ২০০৮ সালে সৌদি আরবে চলে যান। ২০১৭ সালে তিনি একবার দেশে ফেরেন। তখন দেশে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে আবার সৌদি আরবে চলে যান। আজকে তিনি পরিবর্তিত নাম–পরিচয়ে দেশে এসেছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যে জেএমবি সদস্য নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম, সেটা স্বীকারও করেছেন।

মামলার নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। এই দুই জঙ্গি নেতার নির্দেশে আতাউর রহমান সানির নেতৃত্বে মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম, হাফিজ মাহমুদসহ অন্যরা হুমায়ুন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। মামলার নথি, অভিযোগপত্র ও দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে এ তথ্য জানা যায়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন মিজানুর ও আনোয়ারুল।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিজানুর বলেছিলেন, ‘আমরা জানতে পারি, বইমেলা থেকে প্রতিদিন রাত আটটা বা সাড়ে আটটার দিকে হুমায়ুন আজাদ হেঁটে বাসায় যান। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সেদিন আমিসহ অন্যরা বাংলা একাডেমিতে যাই। রাত সোয়া নয়টায় হুমায়ুন আজাদ যখন বইমেলা শেষে বাসায় ফিরছিলেন, তখন আমরা তাঁর পিছু নিই।’

জবানবন্দিতে মিজানুর আরও বলেছিলেন, ‘হুমায়ুন আজাদকে আমি ও নূর মোহাম্মদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করি। তখন দূরে থাকা লোকজন ছুটে এলে আনোয়ারুল একটা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। তখন লোকজন বিক্ষিপ্তভাবে পালাতে থাকে। আমরাও পালিয়ে যাই। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে শায়খ আবদুর রহমানকে এ ঘটনা জানাই।’


রাজনৈতিক দল অস্তিত্ব সংকটে থাকলে আবোল-তাবোল বলে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোনো দল যখন তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে ভয়ে থাকে, তখন তারা আবোল-তাবোল বলতে থাকে। তাই বিএনপি এখন আবোল-তাবোল বলছে। এটাকে কোনো ধর্তব্যের মধ্যেই ধরার প্রয়োজন নেই।

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার দুপুরে ‘হার পাওয়ার’ প্রকল্পের আওতায় নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করতে ৮০ জন নারীকে ল্যাপটপ বিতরণের আগে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনারা জানেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সব নাগরিক পুরুষ ও মহিলা সবাই সমান অবদানের অধিকারী হবেন। এটা তিনি সংবিধানের মধ্যে লিখে দিয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এবং নারীদেরকে ক্ষমতায়নের জন্য অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে এই হার পাওয়ার প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ নারী। এই ৫০ ভাগ নারী যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারে তাহলে কিন্তু এই দেশ বা জাতি এগোতে পারবে না।’

জেলা প্রশাসন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর (হার পাওয়ার) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার মুক্তার।

বিষয়:

বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় আরও তিনজন গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবন ‘গ্রিন কোজি কটেজে’ আগুনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন জেস্টি রেস্টুরেন্টের মালিক মোহর আলী ওরফে পলাশ, ফুকো রেস্টুরেন্টের মালিক আবদুল্লাহ আল মতিন ও ভবনের তত্ত্বাবধায়ক নজরুল ইসলাম খান। এই নিয়ে ওই আগুনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ) মো. আনিচুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বেইলি রোড ও শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের আটতলা ভবনে আগুন লাগে। এতে ৪৬ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৮ শিশু। ভবনের নিচ তলার খাবার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। এই ঘটনায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

এর আগে এই আগুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ‘চুমুক’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান এবং ‘কাচ্চি ভাই’ নামের অন্য একটি খাবারের দোকানের ব্যবস্থাপক জয়নুদ্দিন জিসান।


সাড়ে পাঁচ হাজার সার্টিফিকেট দিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তা, জানতেন ঊর্ধ্বতনরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পীরেরবাগ থেকে টাকার বিনিময়ে আসল সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামানের অপকর্মের বিষয়ে জানতেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বোর্ডের ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে আর্থিক ভাগ নেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে পীরেরবাগে অভিযান চালিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছিলাম। এই সার্টিফিকেট কিন্তু জাল নয় বরং সরকার যে কাগজ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সনদ দেয় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামান একই কাগজ ব্যবহার করে সার্টিফিকেট বানাতেন। অর্থাৎ তিনি শিক্ষা বোর্ড থেকে কাগজ এনে বাসায় বসে সার্টিফিকেট বানাতেন।

রেজাল্ট অনুযায়ী তিনি টাকা নিতেন, তবে ৩৫ হাজারের কমে কাজ করতেন না। সার্টিফিকেট বানানোর পর সেই রেজাল্টের তথ্য শিক্ষা বোর্ডের সার্ভারে আপলোড করে দিতেন। এই সার্টিফিকেট দিয়ে অনেকে বিদেশে গেছেন, অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, আবার অনেকে চাকরি করছেন। এভাবে তিনি সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি সার্টিফিকেট দিয়েছেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তারের পর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনেক চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন।

ডিবিপ্রধান বলেন, শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদ তৈরির কাগজ কীভাবে বের করা হতো, এ প্রশ্নের জবাবে শামসুজ্জামান গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, সবাইকে ম্যানেজ করে অর্থাৎ শিক্ষা বোর্ডের সবার সঙ্গে যোগসাজশ করে কাগজ বের করা হতো। এমনকি তার এই সার্টিফিকেট তৈরির কারখানার বিষয়ে অনেক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও জানতেন। সবাই তার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, শামসুজ্জামানের অবৈধভাবে সার্টিফিকেট তৈরির বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা তদন্ত করতে গিয়ে দেখলেন অনেক কিছু বেরিয়ে আসছে। ফলে সেটি ধামাচাপা পড়ে যায়। এরপর অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঠানো হয় কম্পিউটার কাউন্সিলে। তারাও চুপ হয়ে যায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে শামসুজ্জামান আমাদের বলেছেন, সার্টিফিকেট তৈরির বিষয়টি সবাই জানতেন। টাকার বিনিময়ে সবাই তার কাছে ম্যানেজ হতো। সবকিছুই তদন্ত করছি। শামসুজ্জামানের অপকর্মের বিষয়ে কারা তদন্ত করতে গিয়ে চুপ হয়ে গেছেন তাদেরও আমরা খুঁজছি। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই করে কোন কোন রাঘব বোয়াল জড়িত, সবার নাম প্রকাশ করা হবে।


চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার একদিনেই অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও সহকারী কমিশনারের ১৮ পদে রদবদলের আদেশ জারি করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় এ বদলির আদেশ দেন।

সিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) স্পিনা রানী প্রামাণিক জানান, সিএমপি কমিশনার ১৮ পদে রদবদল করেছেন। এর মধ্যে ১২ জন অতিরিক্ত উপকমিশনার ও ৬ জন সহকারী কমিশনার রয়েছেন।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নগর পুলিশের উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার পংকজ দত্তকে সিএমপি সদর দপ্তরে এবং দক্ষিণ জোনের নোবেল চাকমাকে সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপরারেশন) পদে বদলি করা হয়েছে।

জনসংযোগ শাখা থেকে স্পিনা রানী প্রামাণিককে নগর পুলিশের পশ্চিম জোনে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত উপকমিশনার পদে পদোন্নতি পাওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ।

সিএমপি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপারেশন) মো. জাহাঙ্গীরকে উত্তর জোনে এবং পশ্চিম জোনের আশরাফুল করিমকে দক্ষিণ জোনে বদলি করা হয়েছে।

সদর দপ্তরের অতিরিক্তি উপকমিশনার (ক্রাইম) কামরুল হাসানকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম), বন্দর জোনের শেখ শরীফ উজ জামানকে সদর দপ্তরের ক্রাইম শাখায়, এমটি শাখার কাজী হুমায়ন রশীদকে বন্দর জোনে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া মুকুর চাকমাকে এমটি শাখায়, মফিজ উদ্দিনকে নগর বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি) এবং বাবুল চন্দ্র বণিককে এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।

পৃথকভাবে জারি হওয়া আরেক আদেশে ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের সহকারী কমিশনার আসিফ মাহমুদ গালিবকে কর্ণফুলী জোনে, চকবাজার জোনের সব্যসাচী মজুমদারকে ডবলমুরিং জোনে, সিএমপি সদর দপ্তরের শরীফুল আলম চৌধুরী সুজনকে ট্রাফিক উত্তর জোনে, সহকারী কমিশনার (ক্রাইম) নূরে আলম মাহমুদকে চকবাজার জোনে বদলি করা হয়েছে।

আরও দুই সহকারী কমিশনার নুরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে সদর দপ্তরের ক্রাইম শাখায় এবং দেলোয়ার হোসেনকে ট্রাফিক বিভাগের বন্দর জোনে পদায়ন করা হয়েছে।


ডিএমপির অভিযান: এক দিনে গ্রেপ্তার ৩৬

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালায় ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার কে এন রায় নিয়তি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৯০৩টি ইয়াবা, ৪৬ কেজি ১৪৫ গ্রাম গাঁজা ও ৪৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২২টি মামলা করা হয়েছে।

বিষয়:

অর্থ আত্মসাত ও পাচার : ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

আপডেটেড ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৪৩
বাসস

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের সংরক্ষিত ফান্ডের লভ্যাংশের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতে বদলির আদেশ দেন। আগামী ২ মে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

এদিকে গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক শাহজাহান অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার।

গত বছরের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থার উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

দুদকের মামলায় আসামি ছিলেন ১৩ জন। চার্জশিটে এ মামলায় নতুন একজন আসামিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

আসামিরা হলেন, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস. এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, এডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, এডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম। পরে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল ইসলামকে চার্জশিটে আসামি করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। সদস্যদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।

গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ৯ মে হলেও হিসাব খোলা হয় একদিন আগে ৮ মে। সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এরকম ভুয়া সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২২ জুন অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৯তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডভোকেট ফি হিসেবে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে ও গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামানের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলামের হিসাবে ৩ কোটি ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ-বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাবে ৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

একইভাবে এডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।


মৃত্যুদণ্ড সাজার নীতিমালা প্রণয়নে রুলের লিখিত আদেশ প্রকাশ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৫১
বাসস

সাধারণ নীতিমালা ছাড়া অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আরোপ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে না প্রশ্নে জারি করা রুলের লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর রুলের লিখিত আদেশ প্রকাশ করা হয়।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রুলের সার্টিফায়েড কপি আজ হাতে পেয়েছি। নীতিমালা প্রণয়ন করা ছাড়া বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ হবে না-তা জানতে চেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন নীতিমালা তৈরি করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।’

বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ড শাস্তির বিধান চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রেসপনডেন্ট করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিন্তু এই বিধান সংবিধানের ৩২ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদ, ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ১৯৮৪ সালের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনে মৃত্যুদণ্ডকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এসব দলিলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১১২টি দেশ মৃত্যুণ্ড নিষিদ্ধ করেছে।

বিষয়:

আলাদীনের চেরাগ!

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর বিদেশে সম্পদের পাহাড়
তানজিম আশরাফুল হক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৪ ২৩:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছিলেন পোশাকের খুচরা ব্যবসায়ী। মাত্র কয়েক বছরেই হয়ে গেলেন অঢেল সম্পদের মালিক। যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও গড়ে তুলেছেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কী এমন আলাদীনের চেরাগ হাতে পেলেন পোশাক ব্র্যান্ড তানজিম ও এক্সটেসির কর্ণধার তানজিম আশরাফুল হক।

একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ের নামিদামি সব শপিং মলে রয়েছে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। খুলেছেন তানজিম আনটোল্ড, তানজিম স্কোয়াড নামে ৫টি আউটলেট। নিজ দোকানের ব্র্যান্ডিং করতে পৃথিবীর বড় বড় ডিজে ও পপতারকাদের এনে মিউজিক শো আয়োজন করেন। পোশাকের মডেলও বানান তাদের।

দুবাই, লেবানন, দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস ও যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট, রিসোর্ট, দোকান, হোটেল। পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনাতে। সেখানে আল-সাহাব টাওয়ার ও বিউপোর্ট টাওয়ারে কিনেছেন ৪টি অ্যাপার্টমেন্ট।

তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী আসমা সুলতানা, মেয়ে জারা ইরভিন হক, জাইনা আদিভা হক, জোয়ানা আমরিন হক। পরিবারসহ নিয়েছেন ক্যারিবিয়ান দেশ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নাভাসের নাগরিকত্ব। এই নাগরিকত্ব নিতে খরচ করতে হয়েছে ৩ লাখ ডলার। জানা গেছে, ওই দেশে বিনিয়োগ করেই তানজিম হক এই নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া সেন্ট কিটসের রাজধানী বাসেতেরের সমুদ্র পাড়ে রয়েছে নিজস্ব একটি ৪ তারকা হোটেলও। সে দেশেও কিনেছেন একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট। সময়ে-অসময়ে পরিবার নিয়ে ছুটে যান সেন্ট কিটসে। অবকাশ সময় কাটান নিজের রিসোর্টেই।

জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্য উপসাগরের পাড়ঘেঁষা দুবাই মারসা অঞ্চলের দুবাই মেরিনাতে বিলাসবহুল আল-সাহাব টাওয়ার-১-এর ১১ তলায় অ্যাপার্টমেন্টে ১১০২ নম্বর ফ্ল্যাটের মালিক তানজিম আশরাফুল হক। এই ফ্ল্যাটেই তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

এ ছাড়া দুবাই মেরিনার বিউপোর্ট টাওয়ারেই তানজিম হকের ২ বেড রুমের ১২৪৩ স্কয়ার ফিটের ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে অবস্থিত সেন্ট্রাল পার্ক টাওয়ারেও একটি ফ্ল্যাট আছে তানজিমের। সেখানে তানজিমের ছোটভাই তাসিন হক বসবাস করেন।

এই ভবনের প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলার। দুবাইতে অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট, প্লট কেনাবেচার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্রপার্টি ফাইন্ডার ও বাইউট ডটকম ঘেঁটে দেখা গেছে, দুবাই মেরিনার আল-সাহাব টাওয়ার ও বিউপোর্ট টাওয়ারে ২ বেড রুমের ১২৭৫ স্কয়ার ফিটের প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য ইউনিটভেদে ৩২ থেকে ৪২ লাখ দুবাই দিরহাম। এতে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম দাঁড়ায় ৮ লাখ ৭১ হাজার থেকে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এ ছাড়া দুবাইয়ের বহুজাতিক শপিং মলগুলোতে প্রতিটি দোকান ভাড়া মাসে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার দিরহাম এবং এককালীন অগ্রিম হিসাবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ দুবাই দিরহাম খরচ করতে হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আরও জানা যায়, দুবাইয়ের ৪টি শপিং মলে একাধিক দোকান রয়েছে তানজিম আশরাফুল হকের। তানজিম আনটোল্ড, তানজিম স্কোয়াড নামে এসব দোকানের নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে তানজিম ৩টি পোশাক শোরুম চালু করেছেন। এই তথ্য তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়ে ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সূত্রমতে ২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ক্যারিবিয়ান গভর্ন্যান্স কনসালট্যান্টের মাধ্যমে অ্যাম্বাসাডর ওয়েন্ডেল লরেন্স বরাবর সেন্ট কিটস অ্যান্ড নাভাসের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেন তানজিম আশরাফুল হক। আবেদনপত্রে পরিবারের ৩ সদস্যের নাগরিত্ব প্রদানের অনুরোধ জানানো হয় এবং ৩ লাখ ডলারের বিনিয়োগ মর্মে এই আবেদন করা হয়। পরে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়। ওই আবেদনপত্রটি সেন্ট কিটস ইনভেস্টমেন্ট সিটিজেনশিপ ইউনিটের প্রধান চেরিলিন পেম্বাটন অনুমোদন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়ে দেন। পরে ওই বছরের ২৩ মে তানজিম আশরাফুল হক, স্ত্রী আসমা সুলতানা, মেয়ে জাইনা আদিবা হককে ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন সেন্ট কিটস সরকার।

মিলিয়ন ডলার খরচে দুবাইতে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই এক্সপো সিটিতে দুবাই’স প্রথম মেগা ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে। নাম দেওয়া হয় আনটোল্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। দুই দিনব্যাপী এই কনসার্টে প্রায় এক লাখ মানুষ জড়ো করা হয়। জনপ্রতি ১০০ থেকে ৫০০ দিরহাম পর্যন্ত টিকিটের মূল্য ধরা হয়। দুবাই এক্সপো সিটিতে বিশাল এই সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন তানজিম হকের প্রতিষ্ঠান দ্য তানজিম স্কোয়াড। মূলত তানজিম হকের পোশাকের শোরুম উদ্বোধনের জন্যই এই আয়োজন করা হয়। এতে হাজির করা হয় জনপ্রিয় ডাচ্ ডিজে গায়ক আরমিন ভ্যান বুরেন, ডিজে রকস্টার ডন ডায়াবলো ও ডিজে গায়ক হার্ডওয়েল, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গায়িকা বেবে রেক্সা, ইংলিশ গায়িকা এলি গোল্ডিং, আমেরিকান জনপ্রিয় রেপার জি-ইজি, জ্যামাইকান ডিজে গায়ক মেজর লেজার, জার্মান গায়ক পাল কাল্কব্রেনার, অস্ট্রেলিয়ান জনপ্রিয় গায়ক অ্যান্ড প্রডিউসার টিমি ট্রাম্পেটসহ আরও নামিদামি বিখ্যাত সব গায়ককে ভাড়া করে আনা হয়।

তানজিম আশরাফুল হকের বাংলাদেশি পাসপোর্টে নিজস্ব ঠিকানা হিসেবে বনানীর একটি বাসার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। যার হাউস নং ৯২, রোড নং ২৩/এ, ফ্ল্যাট নং ৫/এ, বনানী, ঢাকা। ৫ তলায় তার একটি ফ্ল্যাট কেনা। তবে ওখানে কেউ থাকেন না, ওখানে তার শোরুমের মালামাল রাখা হয়। শার্ট-প্যান্ট প্যাকিং করা হয় বলে জানা গেছে। রাজধানীর গুলশানেও তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেওয়া।

এ ছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসুন্ধরা আর/এ’তে ৩ একর জমির ওপর নির্মাণ করেছেন সুবিশাল বাংলো বাড়ি। নাম এস্কেপ ডেন। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি বাড়ির আদলে এই বাড়িটি ১০টি কার্গো কনটেইনার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। স্থপতি কাজী ফিদা ইসলাম বাড়িটির ডিজাইন করেছেন।


ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৪০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালায় ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কে এন রায় নিয়তি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪৬২টি ইয়াবা, ১৫১ গ্রাম হেরোইন, ১০৬ কেজি ৬৫০ গ্রাম ৮০০ পুরিয়া গাঁজা, ৩০ গ্রাম আইস ও ১১৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৪টি মামলা করা হয়েছে।

বিষয়:

হুন্ডির মাধ্যমে পাচার ৪০০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জেট রোবোটিক’ একটি অ্যাপস। এ অ্যাপের অ্যাডমিন কুমিল্লার শহিদুল ইসলাম ওরফে মামুন। তিনি ২০২০ সাল থেকে দুবাইতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বসে নিজস্ব এজেন্টের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর দায়িত্ব নিতেন তিনি। গত তিন থেকে সাড়ে ৩ মাসে তিনি ৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স ব্লক করেছেন জেট রোবোটিক অ্যাপের মাধ্যমে।

তবে তিনি ঠিকই চাহিদা অনুযায়ী গন্তব্যে টাকা পাঠিয়েছেন। এ জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চট্টগ্রামের বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটসকে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৮টি বিকাশ এজেন্ট সিমে আগে থেকেই সমপরিমাণ বা বেশি অনলাইনে টাকা সংগ্রহ করে রাখা হয়। এরপর সংগ্রহ করা টাকা এজেন্ট সিম থেকে অ্যাপের ব্যবহার করে প্রবাসীদের আত্মীয়দের নম্বরে অর্থ পাঠিয়ে দিয়ে আসছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি।

জেট রোবোটিক অ্যাপসের ব্যবহারকারী ও হোতা মামুনের দুই সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সার্বক্ষণিক অনলাইন মনিটরিংয়ের সময় মাসখানেক আগে এ অ্যাপস ও বিকাশ এজেন্ট সিমে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য জানতে পারে সিআইডি। এরপর বুধবার দিনগত রাতে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে এ ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। তারা হলেন- তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটসের মালিক নাসিম আহমেদ (৬২), এজেন্ট সিমের টেরিটোরি সেলস ম্যানেজার ফজলে রাব্বি সুমন (৩২) ও মো. কামরুজ্জামান (৩৩) এবং জেট রোবোটিক অ্যাপসের বাংলাদেশের প্রতিনিধি জহির উদ্দিন (৩৭) এবং খায়রুল ইসলাম ওরফে পিয়াস (৩৪)।

ওই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি মোবাইল, ১৮টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ৬টি মডেম ও ২৮ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা।
সিআইডি বলছে, এ ধরনের ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কার্যক্রম থেকে বিকাশ কোনোভাবে দায় এড়াতে পারে না। কারণ যেসব সিম ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো বিকাশ এজেন্ট সিম। এ ছাড়া অস্বাভাবিক লেনদেন হলে সেটা দেখার দায় বিকাশেরই।

আজ বিকেলে মালিবাগে নিজ কার্যালয়ে সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গত তিন মাসে ৪০০ কোটি টাকা বাংলাদেশে আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে জেট রোবোটিক অ্যাপসের মাধ্যমে। অভিনব কৌশলে এ অ্যাপস ব্যবহারকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ডিভাইসগুলো জব্দ করেছি। চট্টগ্রামের বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটস। প্রতিষ্ঠানটির কাছে রয়েছে ১ হাজার ১০০ বিকাশ এজেন্ট সিম। এসব এজেন্ট সিমের তাদের পারফর্ম ভালো না সেসব এজেন্টের সিমগুলো ডিএসওরা নিয়ে জেট রোবোটিক অ্যাপস ব্যবহারকারীদের সরবরাহ করে।’

এজেন্ট সিম নেওয়ার পর বিকাশ থেকে ই-মানি এজেন্ট সিমে আনা হয়। এ এজেন্ট সিমের কয়েকটি ভাড়া নেয় এ রোবোটিক অ্যাপস। হুন্ডি চক্রটির মূলহোতা শহিদুল ইসলাম ওরফে মামুন। দুবাই বসে মামুন যখন অ্যাপসের মাধ্যমে এজেন্ট সিমের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। সে তখন বিকাশের মাধ্যমে রুট পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী পাঠাতে পারে। তখন আর বাংলাদেশে বিকাশের এজেন্টদের প্রয়োজন হয় না। কারণ বিকাশের এজেন্ট সিমগুলো গ্রহণ করে থাকে শুধু ই-মানি ট্রান্সজেকশনের জন্য।

সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, শুধু এ জেট রোবোটিক অ্যাপসই নয়, এরকম বেশ কিছু অ্যাপস বাংলাদেশে চলমান। আমরা বেশ কিছু এমন অ্যাপসের সন্ধান পেয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় এ কার্যক্রম চলছে।


banner close