বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

২২ বছরেও শেষ হয়নি মডেল তিন্নি হত্যার বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪ ২৩:২৭

সৈয়দা তানিয়া মাহবুব। সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ডাকনাম তিন্নি নামে। ৯০-এর দশকের নামকরা মডেল ছিলেন তিন্নি। ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ২২ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি তিন্নি হত্যার বিচার। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গুমরে কেঁদে বেড়ান তিন্নির বাবা।

তিন্নি তার প্রথম টিভি বিজ্ঞাপন হেনোলাক্স ক্রিম দিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্টারশিপ কনডেন্সড মিল্ক, লিজান মেহেদী, গন্ধরাজ তেল, এলিট পেইন্ট, কোয়ালিটি আইসক্রিম, বম্বে উপটান ও রিচি জুসের বিজ্ঞাপন করে জনপ্রিয়তা পান।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে আলোচিত মডেল তিন্নির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সফি উদ্দিন।

২২ বছর পার হয়ে এখনো বিচার শেষ না হলেও আশা দিয়েই চলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তারা বলছে, খুব শিগগিরই মামলাটির বিচারকার্য শেষ হবে এবং ভিকটিম ন্যায়বিচার পাবেন।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে।

নিহত মডেল তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি একবার রায়ের পর্যায়ে চলে এসেছিল। কিন্তু এ মামলায় আমার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। ওই সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে চলে আসে। এখন শুনেছি যুক্তিতর্কে এসেছে।

তিন্নির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ের মধ্যে একটা তো মারা গেছে, অন্যটা কাছে নেই। এই ঘটনার পর থেকে সবাই আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আমি এখন খুব একা, বড়ই একা। আমার বেঁচে থেকে আর কী লাভ! আমি জানি আমার মেয়ে হত্যার বিচার হবে না। আল্লাহর কাছে বিচার ছেড়ে দিয়েছি, তিনি এর সঠিক বিচার করবেন। আসামি অনেক প্রভাবশালী। তাকে দেশের বাইরে পাঠাতে রাষ্ট্রও সহায়তা করেছে। এখনো মাঝেমধ্যে দেশে আসে, আবার চলেও যায়। অনেকে দেখেই না দেখার ভান করে। সবাই মুখ খুলতে ভয় পায়, অদৃশ্য এক অপশক্তির ভয়ে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ মামলার আসামির সাজা হলেও লাভ কী? তাকে তো আর কেউ ধরবে না। সাজাও কার্যকর হবে না। মেয়ে হারানোর কষ্ট, আমার কষ্ট হয়েই থেকে যাবে। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে হয়তো এই পৃথিবীতে আসামির বিচার হবে না, তবে ঠিকই আল্লাহর কাঠগড়ায় একদিন তার বিচার হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মিজানুর রহমান সজল বলেন, ঠিকমতো সাক্ষী আদালতে না আসায় মামলাটির বিচারকার্য শেষ হতে কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া রায়ের পর্যায়ে এসেও নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আরও বিলম্বিত হয়। সব মিলিয়ে মামলাটি প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। আশা করি খুব শিগগিরই এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ সাজাও দাবি করেন এই পাবলিক প্রসিকিউটর।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ভোলা নাথ দত্ত বলেন, আলোচিত মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার জন্য ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখ ঠিক ছিল। কিন্তু সেদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষী তিন্নির বাবা ও চাচা সাক্ষ্য দিতে চাইলে আদালত রায় মুলতবি করে সাক্ষ্যগ্রহণে চলে যান। তিন্নির বাবা ও চাচাসহ অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক পর্যায়ে চলে এসেছে। আশা করি, এই মামলায় খুব শিগগিরই যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

এদিকে পলাতক আসামির (অভীর) পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সফি উদ্দিন। পরে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়।

এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর সাবেক ছাত্রনেতা ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভীকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে মামলার আসামি শুরু থেকে পলাতক রয়েছে।

২০১০ সালের ১৪ জুলাই অভীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। চার্জশিটভুক্ত ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।


সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ফের পেছাল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

ছবি: চিত্রনায়ক সালমান শাহ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। ফলে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমানশাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানশাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরানশাহনিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান।

তারা সালমানশাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমানশাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমানশাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


হাসানাত আবদুল্লাহর নির্দেশে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যা

ছবি: সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার মামলায় সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবেই তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থায় দেওয়া হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন মামলায় ২৩তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

মামলার চার আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক। গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যকে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে। গ্রেপ্তার কার্যক্রম তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। ওসি তাকে বলেন, আটক দুই ব্যক্তিকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এসপি এহসানউল্লাহ। আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা তাতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। পরে এসপি থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবির বলেন, হত্যাকাণ্ড ও এহসানউল্লাহর আচরণের বিষয়ে ২০১৫ সালে তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।

তবে হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এহসানউল্লাহ ওই বিরূপ মন্তব্য সত্ত্বেও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পরে আবার বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান বলে দাবি করেন হুমায়ুন কবির। তার অভিযোগ, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রভাবই এহসানউল্লাহকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস জুগিয়েছিল।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন হাসানাত আবদুল্লাহ। তার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ওই দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


ট্রান্সজেন্ডার বিয়েতে এনআইডি, জালিয়াতির অভিযোগে হাইকোর্টের রুল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর একটি মন্দিরে গত ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত কথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’কে কেন্দ্র করে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার ও মিথ্যা পরিচয়ের অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আহসান ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

রিটে বলা হয়, গত ১০ জুলাই ওই মন্দিরে তাসনুভা আনান শিশিরকে ‘কনে’ হিসেবে উপস্থাপন করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রথম ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ হিসেবে প্রচারিত হয়।

রিট আবেদনকারীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির প্রকৃত মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি। অন্যের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, বাবা-মায়ের নাম ও জন্ম তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে বাংলাদেশে লিঙ্গ পরিবর্তনের বৈধতা দেওয়ার মতো কোনো আইন বা বিধান নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং চকবাজার থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান রিটটি করেন। এর আগে ২৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে পরে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর ২৩ ও ২৭ ধারা, দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৯৬ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


তারিক সিদ্দিককে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ্র তাঁর নামে এ নোটিশ জারি করেন। আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে মামলার বিষয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ঠিকানায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। সেখানে তাঁর অধীনস্থ কাউকেও পাওয়া যায়নি। পরে সাইদুল ইসলাম নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তাঁর ঠিকানায় নোটিশটি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারায় মামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ‘শ্রবণ ও গ্রহণের’ জন্য নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের করা মামলায় এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে ক্রয়সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে যুক্ত করার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনটি বিমানবন্দরের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা করে দুদক। এর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলাটিও রয়েছে।

দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরের যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারি ব্যবস্থাপনা এবং রাডার স্থাপন প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে ২৫০ কোটি টাকা, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের মামলায় তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

তারিক আহমেদ সিদ্দিক ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে করা এসব মামলার অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি; দুদকের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।


দুই দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি ‘পিচ্চি রাজা’, মামলা করল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে (৩০) দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে রাজাকে।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পলাতক রাজাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেলে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুর মহানগরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা একজন উপপরিদর্শক (এসআই) তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ দেন। তখন দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে বাকি ২৯ আসামিকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর রাজাকে ধরতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে দুই দিন পার হলেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কমিটির সদস্যসংখ্যা তিন ও পাঁচ বলা হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পুলিশের কাছে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথা বলা হয়েছে। গত ১৯ মে তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, রাজা, তাঁর স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবর পেয়ে বিমানবন্দরে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এরপর তাঁকে একটি বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে কারা ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ। পলাতক রাজাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।


আসিফ মাহমুদের রিট আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ

ছবি: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংবাদ সম্মেলনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস কে তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালত জানান, বিষয়টি বিস্তারিত শুনানির দাবি রাখে, তাই চলমান বার্ষিক অবকাশ শেষে নিয়মিত বেঞ্চে এর শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানান, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অবকাশকালীন ছুটি শেষ হলে তারা আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে পুনরায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সুপ্রিম কোর্টের এই ছুটি শেষ হবে আগামী ২৫ অক্টোবর।

এর আগে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসাইন তারেক রিট আবেদনটির সরাসরি বিরোধিতা করে বলেন, দুদকের সংবাদ সম্মেলন চ্যালেঞ্জ করে এমন আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দায়ের করা এই রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি জানান, চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত ঘিরে দুদক যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সংবাদ সম্মেলন না করে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা ব্যক্তির সুনাম ও মর্যাদার সুরক্ষা ব্যাহত করে এবং প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। এতে দুদকের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী জানান, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক থেকে দুটি সংবাদ সম্মেলন করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। তার দাবি, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেই রিটটি করা হয়েছে।


সাইবার সুরক্ষায় নতুন আইন, গুরুত্ব পাচ্ছে নাগরিক অধিকার

* সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব * আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়ো নয়, নেওয়া হবে মতামত * ডিজিটাল মানহানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড * বুলিং, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংও আসছে শাস্তির আওতায় * গুজব ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন সহজ ও গতিশীল হয়েছে, তেমনি বেড়েছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, পরিচয় জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডারে অননুমোদিত প্রবেশ—নানা ধরনের অপরাধ এখন ডিজিটাল পরিসরে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারের কারণে নিরাপদ সাইবার পরিবেশের প্রয়োজনও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই প্রয়োজন থেকেই প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে কাজ চলছে। তবে সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আইনটি কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হবে না। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরই খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। ফলে নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় শুধু অপরাধ দমন নয়, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ এবং নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

অপরাধ দমনে প্রস্তাবিত বিধান: প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ডিজিটাল মানহানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। নারী বা শিশুর ক্ষেত্রে শাস্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে। ‘অপমান’, বুলিং, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও অশ্লীল কনটেন্টকেও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া গুজব ও ফেক নিউজ ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় গুজবকে ভিত্তিহীন বা যাচাই না করা এমন তথ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার কথা বলা হয়েছে, যা বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ভুয়া খবর বলতে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি বা প্রচার করা মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানোর কথা বলা হয়েছে।

কনটেন্ট অপসারণ ও ব্লকের ক্ষেত্রেও সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ অনুমোদিত সংস্থা বা বাহিনীকে কনটেন্ট ব্লকের অনুরোধ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলেও কনটেন্ট ব্লকের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব: খসড়ার বিভিন্ন বিধান নিয়ে নাগরিক সমাজ, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও ‘মানহানিকর’সহ বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা এসেছে। কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, স্বাধীন নজরদারি, নোটিশ ও আপিলের সুযোগ রাখার বিষয়েও মতামত দিয়েছেন অংশীজনরা।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর টিআইবি, ARTICLE 19, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বাধীন নজরদারি, নোটিশ ও আপিলের কার্যকর সুযোগ এবং অর্থবহ অংশীজন পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার—এই তিনটি জটিল বিষয়কে একই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানিকরসহ কয়েকটি ধারণার সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ থাকে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারের প্রভাব বেশি থাকলে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক নজরদারি দুর্বল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়ো নয়: ARTICLE 19-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অধিকার ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর টিআইবি ও ARTICLE 19-সহ ১৯টি সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতেও বলা হয়, মানহানি, ‘ম্যালাইনিং’, গুজব ও অপতথ্যের মতো অপরাধের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট না হলে প্রয়োগে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়ে স্বাধীন বিচারিক যাচাই এবং কার্যকর প্রক্রিয়াগত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা বলেছে।

গণমাধ্যমের সুরক্ষায় নতুন প্রস্তাব: সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে গণমাধ্যমের অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফা পরামর্শ সভায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া আইনটি পাস হলে বাংলাদেশ ‘‘বৃহৎ কারাগারে’’ পরিণত হতে পারে। তিনি গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ ঠেকাতে সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমসংক্রান্ত বিষয় দেখার জন্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।’

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘প্রস্তাবিত খসড়ায় বর্তমান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যথাযথ প্রতিফলন নেই। তার মতে, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগের দিকটিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।’ তিনি সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা সরকার গ্রহণ করেছে।

মাহফুজ আনাম গণমাধ্যমের জন্য পৃথক সাইবার আইন অথবা অন্তত এমন পৃথক বিধিমালা ও নির্দেশিকার কথাও বলেছেন, যা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করবে; কিন্তু সাংবাদিকতা, বাকস্বাধীনতা ও প্রকাশনার স্বাধীনতায় বাধা তৈরি করবে না। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে দুটি বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বয়—একটি সাইবার অপরাধ নিয়ে এবং অন্যটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কাজ করবে।

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব: গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সভায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব এসেছে—কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার এ প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে। অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ার পর বিষয়টি বিলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথাও জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে না এবং কোনো সাংবাদিক যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। অংশীজনদের মতামত নিয়েই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে’ বলেও জানান তিনি।

মোবাইল কোর্ট নিয়েও আলোচনা: গণমাধ্যমের অংশীজনদের সাম্প্রতিক সভায় সাইবার আইনের কিছু অপরাধ মোবাইল কোর্টে বিচারের সুযোগ রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মতপ্রকাশ বা কনটেন্টসংক্রান্ত অভিযোগে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ন্যায্যবিচার ও বিচারিক সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে সাইবার অপরাধের প্রকৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাগত স্বাধীনতা—দুটি বিষয় একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় দেখলে আইনের উদ্দেশ্য ও প্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণেই খসড়া চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সামনে সংশোধিত খসড়া: সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এ প্রক্রিয়ার ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সম্পাদক পরিষদ, অ্যাটকো এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি গঠন ও বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।

অংশীজনদের কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়ার পর খসড়াটি আবারও জনসাধারণের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা জানিয়েছে সরকার। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন, আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিলটি সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া এগোবে।

সাইবার অপরাধের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর আইন প্রয়োজন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ নেই। অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, সাইবার হয়রানি, শিশু যৌন নির্যাতন, সেক্সটর্শন, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনটির আওতা যেন জনস্বার্থের সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সরকারের সমালোচনা, তথ্য যাচাই, মতামত বা বৈধ অনলাইন বক্তব্যকে অযথা অপরাধের ঝুঁকিতে না ফেলে, সে বিষয়েও বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।


মিসবাহর ১০ বিয়ের তথ্য দিলেন আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচিত ইসলামিক বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় দায়ের করা মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। তাঁর পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাতের দায়ের করা মামলায় আদালতের সমন পেয়ে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত আপসের শর্তে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। বিষয়টি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল।

আইনজীবী ইবরাহিম খলিল বলেন, যৌতুক মামলায় সোমবার সমনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামি হাবিবুর রহমান মিসবাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে মিসবাহ একাধিক বিয়ে করেছেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, শুনানিতে তারা মিসবাহর ১০টি বিয়ের তথ্য পেয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন। এসব বিয়ের মধ্যে কয়েকটির কাবিননামা বা অন্যান্য প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে কাবিননামা, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিসবাহ নিজের কাছে রেখেছেন বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিসবাহর স্ত্রীদের মধ্যে মরিয়ম, গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক নারী, আসমা, তানিয়া, নায়মা জান্নাত, মেহের আফরিন, আদিবা, বুশরা, আয়েশা আক্তার ও সাবিফুন্নাহারের নাম রয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার বিষয়।

ইবরাহিম খলিলের দাবি, শুনানির সময় মিসবাহ আদালতে দুটি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম এবং বর্তমান বাদী নায়মা জান্নাতের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, আদালত বাদীপক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। স্বীকৃত দুই বিয়ের বাইরে অন্য কোনো বিয়ের কাবিননামা বা প্রাসঙ্গিক নথি পরবর্তীতে আদালতে দাখিল করা সম্ভব হলে, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব শর্তের পাশাপাশি আপসের সুযোগ রেখে মিসবাহকে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।

অন্য বিয়ের কাবিননামা পাওয়া না গেলে কীভাবে তা প্রমাণ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, প্রয়োজনে আদালতের কাছে তদন্তের আবেদন করা হবে। নাম-ঠিকানা দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নারী মিসবাহর স্ত্রী কি না, তা যাচাইয়ের আবেদন করা যেতে পারে।

বিদেশি নাগরিককে বিয়ের বিষয়ে ইবরাহিম খলিল বলেন, বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করার ক্ষেত্রে আইনগত বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিয়ে বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটি প্রমাণের বিষয়। কাবিন ও নিবন্ধন ছাড়া বিয়ের দাবি করা হলে তা আইনগতভাবে যাচাই প্রয়োজন।

বাদীর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। বাদীর নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হলে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের পর ২০২০ সালে হুমায়রা জান্নাতকে বিয়ে করেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ। পরে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, নির্যাতন এবং একাধিক বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তিনি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় আদালতে সি.আর. মামলা করেন।

গত ২০ আগস্ট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মিসবাহর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। মামলার নালিশি অভিযোগে হুমায়রা জান্নাত দাবি করেন, বিয়ের সময় মিসবাহ তাঁর আগের বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে মিসবাহর একাধিক বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা আদালতে দাবি করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


মরিয়মকে এমপি নজরুল প্রথমে বিয়ে করেন ‘মৌখিকভাবে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম ওরফে গাজী নজরুলের কাছ থেকে মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন কালেমা পড়ে মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন নজরুল। পরে এ বিয়ের নিবন্ধন করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। নতুন করে রিমান্ড না চেয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নজরুলকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে মিরপুরের ওই বাড়িতে নজরুলের যাতায়াত ছিল। ঢাকায় এলে তিনি সেখানে রাতযাপন করতেন এবং সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলায় মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথম দফায় নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। দুই দফায় মোট আট দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তখন নজরুল দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি মরিয়মকে বিয়ে করেছেন। তবে বিয়ের সময় ও নিবন্ধন নিয়ে তখন বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তাতে ১৭ জুন মৌখিকভাবে বিয়ের কথা বলা হয়েছে। বিয়ের পরবর্তী নিবন্ধন এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামেসংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে এমপি নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দুই ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ৫ বছরের দণ্ড

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখার দুই কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬১ টাকা ২৯ পয়সা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক আদীব আলী। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইয়াছিন আলী এ তথ্য দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খান এ সবুর রোড মেসার্স মিংহুয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও সাজেদা ওয়াহাব অ্যান্ড সন্সের প্রোপ্রাইটর শেখ আবু রাশেদ, প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জহিরুল হক এবং একই ব্যাংক শাখার সাবেক ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ কাজী রবিউল ইসলাম।

আদালতের সূত্র জানায়, আসামি সৈয়দ জহিরুল হক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক থাকাকালীন অপর আসামি শেখ আবু রাশেদ এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ঋণ লিমিট মঞ্জুরের জন্য প্রাইম ব্যাংকে আবেদন করেন।

শাখাব্যবস্থাপকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইম ব্যাংক লি. প্রধান কার্যালায় অপর আসামি রাশেদের মালিকাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শতকরা ২০ শতাংশ মার্জিনে এক কোটি ২০ লাখ টাকার এলসি মঞ্জুর করে। রাশেদ ভারত থেকে ১৪টি এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে।

সৈয়দ জহিরুল হক ও শেখ আবু রবিউল ইসলাম ১৪টি এলসির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য বাবদ ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৭ টাকা ৯১ পয়সা ২৭টি এলটিআর হিসাবের মাধ্যমে ২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিকারক ব্যাংকের অনুকূলে পরিশোধ করেন।

রাশেদ আমদানি করা পণ্য বিক্রি করে ঋণপত্রের শর্ত মোতাবেক পাওনা পরিশোধের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকলেও তিনি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেননি।

সূত্রটি আরও জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার আশায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার কর ২০০৪ সালে ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে আমদানি পণ্যের মূল্য বাবদ ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬১ টাকা ঋণপত্রের শর্ত ভেঙে ব্যাংকে পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন।


৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সালমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান ওরফে সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঋণের আসল টাকা হিসেবে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদে ও বিভিন্নভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে পর্যাপ্ত জামানত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে ঋণের অর্থের উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে প্রথমে ৯০ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ১০ জানুয়ারি ওই ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৫ জুন তা আরও বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, ঋণের শেষ দফায় সীমা বাড়ানোর সময় ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ওই বন্ধক নেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পর্যাপ্ত জামানত না থাকা সত্ত্বেও ঋণের সীমা বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

যাচাই ছাড়াই ঋণ দেওয়ার অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আগে স্কাইমার্কের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচয় ও কেওয়াইসি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর পরিশোধের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

এ ছাড়া ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আগে নেওয়া ঋণের ব্যবহার এবং ঋণের সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতাও যাচাই করা হয়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ না করে ঋণ অনুমোদন ও সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্কাইমার্কের ঋণে সুদ ও অন্যান্য চার্জ ছিল ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সা। ওই দিন ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা।

দুদক এই অর্থকে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও গন্তব্য গোপন করার উদ্দেশ্যে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম আসামি সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন। তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া মামলায় স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর, পরিচালক ইশরাত জাহান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে/হবে।

সালমান এফ রহমান ও তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৪টি ‘ভুয়া ও কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সেই বৃহত্তর অনুসন্ধানের একটি অংশ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার কার্যক্রম এখন এগোবে। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়; মামলার চূড়ান্ত দায় বা অপরাধ নির্ধারণ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন রেজাউল হক

বিচারপতি মো. রেজাউল হক। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের প্রবীণ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে গমন ও অবস্থানকালে এবং আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় গমন ও অবস্থানকালে অথবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

এ বিষয়ে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


banner close