গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দুদকের ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। সেখান থেকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন দুদক কর্মকর্তারা।
অভিযোগপত্রে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও অবৈধভাবে রূপান্তর-স্থানান্তর করায় মানি লন্ডারিং ধারাও দেখানো হয়েছে অভিযোগপত্রে। মামলায় দুদক ১৩ জনকে আসামি করলেও অভিযোগপত্রে আরও একজনের নাম যুক্ত করা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, সাবেক এমডি আশরাফুল হাসান, ৫ পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘তদন্ত শেষে দণ্ডবিধি ও মানি লন্ডারিং আইনে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলামসহ বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।
গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ৯ মে হলেও হিসাব খোলা হয় এক দিন আগে ৮ মে। সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এ রকম ভুয়া সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২২ জুন অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৯তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলামের হিসাবে ৩ কোটি ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাবে ৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।
একইভাবে অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে ৪ কোটি টাকা ও দ্য সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে ৫ কোটি টাকা এবং অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ ও অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান নর্থ শাখায় যৌথ হিসেবে ৬ কোটি স্থানান্তর করা হয়, যা তাদের প্রাপ্য ছিল না।
আজ ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ সালের সালের এই দিনে ঘটে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুন। সেদিন প্রত্যেককে হত্যার পর পেট ফুটো করে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয় যাতে লাশও ভেসে উঠতে না পারে। একসঙ্গে এতোজনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা ও লাশ গুমের নৃশংসতায় শিউরে ওঠে মানুষ। সেই ভয়াবহ ৭ খুনের ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ। তবে এমন পৈশাচিকতার সুষ্ঠু বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষার অবসান হয়নি এখনো। নিম্ন আদালত ৯ বছর আগে ও উচ্চ আদালত ৮ বছর আগে রায় ঘোষণা করলেও আপিল বিভাগে ঝুলে রয়েছে মামলাটি।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রায় কার্যকর করতে বিলম্ব করে। এ নিয়ে স্বজনদের মনে ক্ষোভ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমসহ সাতজনকে। তিন দিন পর বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ের জামাই বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় আলাদা দুটি মামলা করেন।
সেই মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের আদেশ দেন।
পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ২০১৮ সালে ২২ আগস্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে অন্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন উচ্চ আদালত। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে সাড়ে সাত বছর ধরে শুনানির অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
এ দিকে বিচারের আশায় এখনো অপেক্ষার প্রহর গুণছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের দিন কাটছে ভয়ে, শঙ্কায়।
নিহত তাজুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, আসামিরা আওয়ামী লীগের সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় মামলার রায় কার্যকর করতে এতো টালবাহানা করেছে। এ কারণে দীর্ঘ ১২ বছরেও মামলার রায় কার্যকর হয়নি।
নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদি সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, 'আমাদের মামলার রায় নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত- সব পর্যায়েই হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, রায়টি খুব দ্রুত কার্যকর হবে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আজ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো বাস্তব অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তা, ভয় এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।'
'অনেকেই বলেন, আসামিপক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী- তারা হয়তো বের হয়ে আসবে। আমি এই মামলার একজন বাদি হিসেবে প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে থাকি। আমার স্বামীকে নির্মম ভাবে হারিয়েছি, নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকির মধ্যে থেকে ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। একসময় আমাদের ওপর হত্যার হুমকি ছিল, এমনকি আমাদের পাহারা দিয়েও রাখতে হয়েছে। এত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ আমরা এই পর্যায়ে এসেছি- শুধু একটি ন্যায় বিচারের আশায়।'
বিউটি বলেন, 'যেভাবে আমাদের স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে, তা সত্যিই অকল্পনীয় ও নিষ্ঠুর। এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সারাদেশের মানুষ তখন কেঁদেছে, এখনো সেই কষ্ট ভুলে যায়নি। আমরা যারা স্বামী, বাবা বা ভাই হারিয়েছি- শুধু তারাই এই শোকের গভীরতা বুঝতে পারি। এই যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের বড় করছি, সংগ্রাম করে বেঁচে আছি।'
তিনি বলেন, 'আজ আমাদের আর কোনো চাওয়া নেই- শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, যেন আমরা ন্যায় বিচার দেখতে পারি। সেই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বাসায় এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দিয়েছিলেন- যদি তাদের দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে সর্বপ্রথম এই সাত হত্যার বিচার নিশ্চিত করবেন। তাঁর সেই কথা আজও আমাদের মনে আছে। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমরা এখনো তাঁর দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছি।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে আমরা আশাবাদী, তাঁর ছেলে তারেক রহমানের প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি তাঁর মায়ের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং আমাদের এই সাতটি পরিবারের দুর্ভোগের প্রতি দৃষ্টি দেবেন। আমরা অনুরোধ জানাই- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যেন আমাদের এই মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেন। আমরা শুধু চাই- যারা এত নির্মম ভাবে আমাদের স্বজনদের হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি দ্রুত কার্যকর হোক। এটাই আমাদের শেষ আশা।'
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফলে শেখ হাসিনা সরকার এ রায়কে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে। অ্যাপিলেট ডিভিশনে যাতে শুনানি না হয় তা নিশ্চিত করেছে। তবে বর্তমান সরকার এ মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করলে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাজিব মণ্ডল দৈনিক বাংলাকে বলেন, সাত খুনের ঘটনায় স্বজনরা এখনো বিচার পায়নি। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হলেও রায় এখনো কার্যকর হয়নি। আশা করি, বর্তমান সরকারের অধীনে শিগগিরই রায় কার্যকর হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে তাদের যুক্তি ও দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করবেন এবং পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের অব্যাহতি বা ডিসচার্জ চেয়ে পালটা শুনানি করবেন।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল এই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে আজকের দিনটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তখন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। এরও আগে গত ৮ এপ্রিল একবার শুনানির কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
এই মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট আসামির সংখ্যা ২৮ জন। বর্তমানে এই মামলায় চারজন আসামি গ্রেফতার রয়েছেন, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাঈমুল হাসান রাসেল, সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। অন্যদিকে, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদারসহ অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের আইনি সহায়তা দিতে ট্রাইব্যুনাল থেকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে ব্যাপক নৃশংসতা চালানো হয়। আসামিদের সরাসরি উসকানি, পরিকল্পনা এবং প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করা হয়। এই গুলিবর্ষণে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিরীহ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
চলমান এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসের যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। একই সঙ্গে এ ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে পুলিশের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিটিটিসি) অভিযানে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেও এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল পুলিশের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিটিটিসি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি বিশেষ দল ২৩ এপ্রিল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো টাঙ্গুর এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রশ্ন ফাঁস গুজবের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অবৈধ আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালিয়ে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব, অপপ্রচার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধও জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজাকে আবারও লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এবার কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার জেরে এ উকিল নোটিশ দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ছাত্রশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব আই-ইয়াশ ইমনের পক্ষে কুষ্টিয়া জর্জকোটের আইনজীবী নুরুল ইসলাম নুরুল এ নোটিশ পাঠান।
উকিল নোটিশে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। মুফতি আমির হামজা সম্প্রতি এক বক্তব্যে ফজলুর রহমানকে ফজু পাগলা নামে আখ্যায়িত করেন। তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেন আমির হামজা।
এ ছাড়া ফজলুর রহমানকে কুকুর মারার ইনজেকশন দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন জামায়াত দলীয় এই সংসদ সদস্য। উকিল নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ফজলুর রহমানকে দেশ ও জাতির কাছে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এমন বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফজলুর রহমানের সম্মানহানি করা হয়েছে। এর ফলে তিনি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নোটিশ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে আমির হামজা যদি তার বক্তব্যের ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন তাহলে সমস্ত দায়-দায়িত্ব তাকে নিতে হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও অশালীন বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে মুফতি আমির হামজাকে দুটি উকিল নোটিশ দেয়া হয়। এছাড়া জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জেরে আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ১১ মে নির্ধারণ করেছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ শারমিন আফরোজের আদালতে মামলাটির চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পেছানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন আগামী ১১ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
মতিউর রহমানের আইনজীবী মো.ওয়াহিদুজ্জামান লিটন ঢালি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।
মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং এক কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। এই মামলারই অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেন দুদক।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০২৪ সালে কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানির জন্য আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।
গত ২ এপ্রিল হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এর আগে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নোটিশটি দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায়, হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলাল দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঘটনার দায় স্বীকার করে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায়, তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জশিতা ইসলাম তার এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল।
গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল শুনানির দিন পিছিয়ে ২৬ এপ্রিল নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গত ৮ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ কারণে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২৯ এপ্রিল ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ প্রসিকিউটর (পিপি) মো.সেলিম শাহী। তিনি বলেন, বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুননির্ধারণ করেছেন বিচারক। মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। অপরদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশ সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ ও তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয় ।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল তিনি বার কাউন্সিল নির্বাচনের সাধারণ আসনের (জেনারেল সিট) জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। একইসঙ্গে তিনি সারাদেশের আইনজীবী বন্ধুদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৪ এপ্রিল বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
দেশের আইন অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে শিশির মনিরের অংশগ্রহণ নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণা ঘিরে আদালত পাড়া ও আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে তিনি কারামুক্ত হন। কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমে রিকশায় করে মূল ফটকে আসেন। পরে সাদা রঙের একটি হাইচ গাড়িতে করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থ থাকায় মুক্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আবুল সরকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি মেলায় পালাগানের আসরে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।এরপর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ভুক্তভোগীর বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল।