গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দুদকের ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। সেখান থেকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন দুদক কর্মকর্তারা।
অভিযোগপত্রে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও অবৈধভাবে রূপান্তর-স্থানান্তর করায় মানি লন্ডারিং ধারাও দেখানো হয়েছে অভিযোগপত্রে। মামলায় দুদক ১৩ জনকে আসামি করলেও অভিযোগপত্রে আরও একজনের নাম যুক্ত করা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, সাবেক এমডি আশরাফুল হাসান, ৫ পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘তদন্ত শেষে দণ্ডবিধি ও মানি লন্ডারিং আইনে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলামসহ বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।
গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ৯ মে হলেও হিসাব খোলা হয় এক দিন আগে ৮ মে। সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এ রকম ভুয়া সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২২ জুন অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৯তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলামের হিসাবে ৩ কোটি ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাবে ৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।
একইভাবে অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে ৪ কোটি টাকা ও দ্য সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে ৫ কোটি টাকা এবং অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ ও অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান নর্থ শাখায় যৌথ হিসেবে ৬ কোটি স্থানান্তর করা হয়, যা তাদের প্রাপ্য ছিল না।
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রয়াত সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আদালতে রিমান্ড চাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির দাবি, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহ হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সহজ হবে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে!
এছাড়া, বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কীভাবে এবং কার প্ররোচনায় দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়েও জানতে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন আশরাফুল হক ডন। সেই দিন আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর ১২ আগস্ট তাঁকে আদালতে তোলা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালাত।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে শুনানি শেষে তা আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেইসঙ্গে এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রসিকিউশন কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে প্রসিকিউশন যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে তা জমা দেয়।
প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, পলাতক থাকায় জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রাজধানীর গুলশান থানায় দায়েরকৃত একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর এই আদেশ দেন। এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, যা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।
সাজার পরোয়ানা মূলে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-২ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরের স্যানিটারি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিদিশার সঙ্গে বাদীর ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে বিদিশা সিদ্দিক ২০০৫ সালে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন, যা ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। বাদীর দাবি অনুযায়ী, টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাদীকে অপেক্ষা করতে হবে।”
কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীরসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো বাকি তিন আসামি হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। মিফতাহসহ চারজনকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাকর্মকর্তা রুহুল আমিন, আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এ মামলায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি ও অনলাইন কোচিং কার্যক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের (বিচারক) সম্পৃক্ততায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে কোচিংয়ের প্রচারে বিচারকদের নাম, পদবি, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, প্রকাশ বা সরবরাহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের সদস্যদের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, জুডিশিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোচিংয়ের প্রচার-প্রচারণায় কোনো বিচারকের নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না। কোনো বিচারকও এ ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না। বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে পাওয়া গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাপ্তরিক তথ্য কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদনা, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা।
এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া চলচ্চিত্র অভিনেতা ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন মহানগর দায়রা জজ আদালতেও নামঞ্জুর হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও এই আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ডন। এরপর তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হলে ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ২০ আগস্ট সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আসামির উপস্থিতিতে আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর আনুষ্ঠানিক শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনে নতুন করে এই মামলাটি দায়ের করেন। মূলত ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হকের আদালত নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করার পর এই মামলার পথ সুগম হয়। আদালত সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের মূল অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত বলে কথিত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এরপর তার বাবা প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা করলেও পরে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সবশেষ পিবিআই পৃথকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলেও সবকটিতেই পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণার জেরে এটি 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সালমানের মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় মামলাটি আবারও হত্যার অভিযোগ হিসেবে নতুন করে তদন্তের মুখে পড়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন। আদালত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ধার্য করেন।
এর আগে একই মামলায় গত ১৮ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ আসে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে কারওয়ান বাজারের বাপেক্স ভবন, পল্লী ভবন, পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও কাব্যকস সুপার মার্কেটের সামনে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে হামলা চালান। এতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় সিএসএফের নিরাপত্তাকর্মীসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনায় তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তার, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং তদন্তের স্বার্থে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হোক।
প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গুলশান থানার একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গুলশান থানার একটি প্রতারণা মামলায় বিদিশা এরশাদ দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বর এলাকার এরাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাত ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলাগুলোতে মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আরামিট সিমেন্ট পিএলসি সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে কোনো প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, জুবলী রোড শাখা থেকে অর্থ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক জানায়, প্রথম ঘটনায় ২০১৮ সালের ২০ মার্চ আরামিট সিমেন্ট পিএলসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, কামাল বাজার শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তৃতীয় ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সদরঘাট শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে নয়টি ডিলের মাধ্যমে গ্রাহকের ইকুইটি ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন। পরে আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখিয়ে ডিল অনুমোদন করানো হয়। অনুমোদিত ঋণের অর্থ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং ইউএইতে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পাচার করা অর্থ দিয়ে ইউএইতে সম্পদ কেনা হয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে অর্থ আত্মসাতের ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়ারি’ ও অন্যতম হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুকমীলা জামানকে আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদন এবং ভুয়া সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডিল অনুমোদন করিয়ে অর্থ আত্মসাত ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
আরামিট সিমেন্টের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলমের বিরুদ্ধে মালামাল সরবরাহ না হলেও ভুয়া ও মিথ্যা আবেদন করে ডিল অনুমোদন করানো এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর, নগদ উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ ও ইউএইতে পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরামিট সিমেন্টের এজিএম মো. আব্দুল আজীজের বিরুদ্ধে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক সেজে ভুয়া সরবরাহকারী হিসেবে আবেদন করা এবং ডিল অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি আরামিট গ্রুপের এজিএম এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পিএস হিসেবেও কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব খোলা, ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল এবং অর্থ পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
আরামিট সিমেন্টের এজিএম একেএম মারুফের বিরুদ্ধেও মালামাল সরবরাহ না হলেও ভুয়া ও মিথ্যা আবেদন করে ডিল অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে।
মামলাগুলোতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জুবলী রোড শাখার একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মুহাম্মদ তানভীর হাসান, মো. আবদুল কাদের, মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, মো. আশরাফ উদ্দীন, মোহাম্মদ রাশেদ সাদাত, আকতারুল আজীম, মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, মো. শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী, আবুল কালাম আজাদ ও শেখ মনিরুজ্জামান।
এ ছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, কামাল বাজার শাখার মো. রুবেল উদ্দিন, কে এ এ এম ইয়াসির হেলালী ও ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখার মো. এমদাদুল হাসান ও খোরশেদ আলমকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা ডিলের বিপরীতে কোনো মালামাল সরবরাহ না হলেও অফিস নোট, পে-অর্ডার ইস্যু ইন্সট্রাকশনসহ বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আব্দুল আজীজ আরামিট গ্রুপের এজিএম ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পিএস হওয়া সত্ত্বেও তাকে সরবরাহকারী দেখিয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল এবং ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। পরে অর্থের প্রকৃত গন্তব্য অনুসন্ধান না করে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং ইউএইতে পাচারে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নতুন করে আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়ের দিন ধার্য করেছেন।
আজ আলোচিত এই মামলার রায়ের জন্য নির্ধারিত দিন থাকলেও আদালতের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক সময়ের আবেদন করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করেছেন এবং তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৩১ আগস্ট রায়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে শুধু ধর্ষণই করেননি, বরং নির্মমভাবে হত্যারও চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
নিম্ন আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। মামলার বাকি তিন আসামিকে প্রমাণের অভাবে খালাস দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে প্রেরিত হলে তা পেপারবুক আকারে শুনানির জন্য প্রস্তুত করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান মামলাটি পরিচালনা করছেন। পুরো মাগুরাবাসী তথা দেশবাসী এখন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ন্যাবিচার পাওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। ৩১ আগস্টের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের চূড়ান্ত ভাগ্য।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে তিন কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন আগামী ২৭ আগস্ট ধার্য করেছেন।
রিমান্ডের জন্য আবেদনে তিন কারণ দেখিয়ে সিআইডি বলেছে, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মা মামলার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনের দ্বিতীয় কারণে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সিআইডি বলছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডির দাবি, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে গেল বছরের ২০ অক্টোবর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
মামলাটি এরপর তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।
তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ১৬ জন আসামির সবাইকে একসাথে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না এবং ওই রায়ে বিচারক মামুনুর রশিদ সঠিক বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁকে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার সময় এই কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন। রায়ে ১৬ জন আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪ জন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জন আসামিকে নির্দোষ হিসেবে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ জন আসামির সকলকেই মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালত মনে করেন, গণহারে এই দণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে বিচারিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেননি নিম্ন আদালতের ওই বিচারক।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর অনুসারীরা ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।
হাইকোর্টের আজকের এই রায়ের মাধ্যমে ১৬ জন আসামির মধ্যে ১৪ জনের ভাগ্য পরিবর্তন হলো। অধ্যক্ষ ও শামীমের সাজা বহাল থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলমসহ ১০ জন মুক্তি পেতে যাচ্ছেন । উচ্চ আদালতের এই রায় ও বিচারকের প্রতি দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমে বিচারিক মানদণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হলো। বর্তমানে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দোকান ঘর দখলের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) লোহাগাড়ার বাসিন্দা আমির হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নালিশি মামলাটি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শওকত আলী, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে লোহাগাড়ায় জমি ক্রয় করে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন বাদী আমির হোসেন। ভবনটির নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং উপরের তলায় বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর ভাইসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীর কাছে দীর্ঘ দিন ধরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বহিরাগত হওয়ার দোহাই দিয়ে এবং সেখানে বসবাস করার বিনিময়ে এই অর্থ দাবি করা হয় বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইলে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে বাড়ি দখলের হুমকি দেন। ওই রাতেই আসামিরা বাদীর ভবনের নিচতলায় থাকা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মালামাল ও ক্যাশ থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া আসামিরা ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ দেন যেন আগামী মাস থেকে ভাড়া তাঁদের হাতে দেওয়া হয়।
বাদী আমির হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে গত ২০ আগস্ট বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসলে আসামিরা পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ছাড়বেন না বলে জানান। এমনকি চাঁদা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এদিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ পেলে তাঁরা দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবেন। বর্তমানে এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।