রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

১৪ বছরের কারাদণ্ড বহালই থাকল ডিআইজি মিজানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২০

গত বছরের ২১ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ডিআইজি মিজান। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সেই মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহালই রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এ ছাড়া এই মামলায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী, ভাই ও ভাগনেকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

৯৫ ভাগ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি

# গোপনে অপরাধীদের সহযোগিতার কারণেই এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী, চরমপন্থিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে : পুলিশ সুপার # নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয় : ডেপুটি পুলিশ কমিশনার # পুলিশ প্রশাসনের যতগুলো শাখা মাঠে রয়েছে শাখাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে : নাগরিক সমাজ # যে কোন মূল্যে অপরাধ কর্মকাণ্ড থামাতে হবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : কেডিএ প্রশাসক # সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে : কেসিসি প্রশাসক
ছবি: প্রতীকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে তার ৯৫ শতাংশেরই নেপথ্যের কারণ মাদক কাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা। চাঁদাবাজদের কারণে বড় বড় ব্যবসায়ীরা সেল ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সামাজিক অবক্ষয় আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এটি স্বীকার করেছেন খোদ পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। আর খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং-এর আধিপত্যের কারণে খুলনার জনপদ অশান্ত হয়ে উঠেছে। সর্বত্র বিরাজ করছে আতংক ও শঙ্কা।
তাদের মতে বর্তমান সময়ে আইন-শৃংখলা মানা হচ্ছেনা। যত্রতত্র ও কথায় কথায় ‘মব’ সন্ত্রাস করে আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এটির একটি বড় কারণ। ‘মব’ সন্ত্রাসের কারণে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের এসআই, এএসআই পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আগেরমতো কাজ করছে না। তাদের ভেতরে অজানা আতংক কাজ করছে। ফলে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নত হচ্ছে না।
পুলিশ প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে হলে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি সংগঠন, অর্থাৎ নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। তানা হলে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
দুই বছরে ১৫০টির ওপরে হত্যাকাণ্ড :
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর গত দুই বছরে খুলনা জেলা ও নগরীতে দেড়শর অধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই মাদক কাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে ঘটেছে।
খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৭ মাস ২০ দিনে খুলনা নগরীতে ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র মাদক কাণ্ডেই ঘটেছে ৯টি হত্যাকাণ্ড। এসময়ের মধ্যে ২ হাজার ৮১৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও অধিকাংশ অপরাধী জামিনে বেরিয়ে গিয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
চলতি আগস্ট মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
গতকাল বুধবার নগরীর লবণচরা থানাধীন শিশু বাগান আশি বিঘা এলাকায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নাজমুল (১৯) ও মো. মনজুরুল ইসলামকে (২২) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। মাদক নিয়ে বিরোধেই এ দুটি হত্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধি স্কুলের সামনে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির সদস্য মীর মামুনকে গুলি করা হয়। একই দিনে নগরীর রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের কাছে রাজু (২৬) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্ট রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনী মহল গ্রামে জয় ঢালীকে (২৭) জবাই করে হত্যা করা হয়। ১২ আগস্ট রাতে রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে ইব্রাহিম কাটাপ্পা নামের এক চরমপন্থি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
এছাড়া একই দিনে নগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দৃর্বৃত্তরা। ১০ আগস্ট নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সামনে শিমুল (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে আহত করে সন্ত্রাসীরা। ৯ আগস্ট রাতে নগরীর ফরাজীপাড়ার আকবর স্টোরের সামনে বটিয়াঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার দাসকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ৮ আগস্ট বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহদুর মুন্সির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। ১ আগস্ট রাতে নগরীর টুটপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন।
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন পুলিশ ও নাগরিক নেতারা:
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, খুলনার অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধির বড় কারণ মাদক। এ অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে মাদক কাণ্ডে। মাদক, আধিপত্যবিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনা খুলনা অস্থিতিশীলের পেছনে অনেকটাই দায়ী।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর এসআই, এএসআইসহ মাঠ র্পাায়ের অফিসাররা একত্রিভুত হতে পারছে না। ট্রমা থেকে তারা এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাদের মধ্যে ‘মব’ ভীতি কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে গেছে। ৫ আগষ্টের পর আইন ভাঙ্গার প্রবণতা বেড়ে গেছে। কাজেই পুলিশকে সহযোগীতা করতে সমাজের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কেউ না কেউ গোপনে অপরাধীদের সহযোগিতা করে। যার কারণে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী, চরমপন্থিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) এস এম শাকিলুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির ক্ষেত্রে আমরা অসফল বলবো না, চেষ্টা করছি। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে। আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হচ্ছে। আসামিও ধরা হয়েছে। হরিণটানা এলাকার দুই খুনের ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় সাইফি নামের এক সন্ত্রাসীর নাম আসছে। তাকেও এর আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু সম্প্রতি হাইকোট থেকে জামিনে বের হয়েছে সে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজের একজন অভিভাবক থাকা দরকার। নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভুমিকা ছাড়া কোনো কিছুর উন্নয়ন সম্ভব নয়। শহরে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে। পারিবারিক ও সামাজিক অধপতনের কারণে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ দমন সম্ভব না। পুলিশের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আস্থা রাখতে হবে।

এদিকে অসুস্থ থাকার কারণে নব-নিযুক্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যোগদানের পর গত ৩ আগস্ট তিনি অপরাধ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। খুলনার ইতিহাসে রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে তা নয়। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতির ইতিহাসে এমন রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। এটা দীর্ঘদিনের একটা সংকটে রূপ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের যতগুলো শাখা মাঠে রয়েছে শাখাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে, না কি পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। না কি প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। না কি শস্যের মধ্যে ভুত আছে। কোথাও না কোথাও ঘাটতি আছে। ঘর থেকে মসজিদ পর্যন্ত কোথাও নিরাপদ নেই। যখন তখন খুনের ঘটনা ঘটছে। পাখিও মানুষের মত মৃত্যু বরণ করে না।
খুলনাকে একটা ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চল হিসেবে সরকার বা প্রশাসনের তরফ থেকে ঘোষণা করা উচিত। প্রয়োজন হলে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। টেকনিক্যাল সাপোর্ট দরকার হলে অভিজ্ঞদের এখানে তাদের আনতে হবে। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে পার পেয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি তালিকাও আছে সাথে তাদের কাছে থাকা অস্ত্রের তালিকা আছে। কিন্তু সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে না। তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তাছাড়া বারবার বলা হচ্ছে মাদকের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। মাদকের ছড়াছড়ির কারণে যে খুনের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে না। আমরা দেখি কিছু ছিটে ফোটা গ্রেপ্তার হচ্ছে। মাদকের চোরাচালানের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখে দাড় করাতে পারলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন এই নাগরিক নেতা।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ‘র চেয়ারম্যান এড. এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা চাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিত ঠিক হোক। যে কোন মূল্যে অপরাধ কর্মকাণ্ড থামাতে হবে। নগরবাসীর মধ্যে যে আতংক বিরাজ করছে তা নিরসন করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএনপি সরকার নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়েই কাজ করতে হবে।
জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৫ আগষ্টের পর এ অঞ্চলে খুন, খারাপী, মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। সন্ত্রাস দমনে ইতোমধ্যেই সরকার নানা ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি স্বীকার করে বলেন, গত কয়েকদিনের সন্ত্রাসী ঘটনা উদ্বেগজনক। গতকালও নগরে দুটি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। শহরজুরে আতংক ছড়িয়েছে। ব্যবসায়িরা অভিযোগ করে বলেছে যে- তারা চাঁদাবাজদের ভয়ে সেল ফোন ধরতে পারছেন না। এ অবস্থা চলতে পারে না।
মঞ্জু বলেন, আমি ইতোমধ্যেই নতুন কেএমপি কমিশনারের সাথে কথা বলেছি। তার কিছু পরিকল্পনা আছে। সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ কমবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন সবধরণের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত।


নির্বাচিত

ঢাকা মেডিকেলে গৃহকর্মীর লাশ রেখে পালানো গৃহকর্তাসহ ৩ জন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাহফুজা আক্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিরা হলেন মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আবদুর রাজ্জাক (৪৭)।

পুলিশ বলছে, গৃহকর্তা, তার স্ত্রী ও শ্বশুর মীমের পরিবারকে জানান, সে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। পরে তারা মীমের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মীম প্রায় এক বছর ধরে আসামিদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। এ সময়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, নির্যাতনের কথা জানিয়ে মীম যখন কাঁদতে কাঁদতে স্বজনদের ফোন করত, তখন আসামিরা উল্টো তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।

গত ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে দাবি করেন, মীম বাসা থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

চার দিন পর ১৭ আগস্ট মীমের পরিবার তার খোঁজে ওই বাসায় যায়। তার অবস্থান জানতে চাইলে আসামিরা তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত ১২ আগস্ট শাহবাগ থানা পুলিশ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।

২০ আগস্ট বাসাবো বাজার থানা থেকে খবর পেয়ে মীমের মা রাবেয়া বেগম শাহবাগ থানায় যান। পরে তার স্বামী ফজলু মিয়া হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি তাদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন রাবেয়া বেগম।

পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা গেছে, মীমের মৃত্যুর ঘটনা গোপন ও দায় এড়াতে আসামিরা তার মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে সানারপাড়ের যে ফ্ল্যাটে পরিবারটি বসবাস করছিল, সেটি ছেড়ে তারা ডেমরার বামইল এলাকায় আত্মগোপন করে।

গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বামইলে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


নির্বাচিত

জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি’ সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম আটক

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি’ চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে (৫০) আটক করেছে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদক আইনসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

গত বুধবার রাতে জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার২০ আগস্ট র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নয়মুল হাসান বলেন, সেলিম মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষস্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারি। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান এনে তিনি তা রাজধানীতে ছড়িয়ে দিতেন।

নয়মুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেলিমকে খুঁজছিল। এর আগে বারবার অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে তিনি গুপ্তচরের তথ্যের ভিত্তিতে সটকে পড়তেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে সাদাপোশাকে র‍্যাবের কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করে। তাঁকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার বাসিন্দা মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় সাহাবুদ্দিনের প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা ১৮টি প্লট এবং মোট ৩৭ হাজার টাকার দুটি ব্যাংক হিসাব।

মামলার বিবরণে যায়, মো. সাহাবুদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি ঢাকার সিদ্ধিক বাজারের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব এবং স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাতার বাড়ি গ্রামে।


নির্বাচিত

ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, মাহফুজ আলম, আখতার হোসেন, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সার্জিস আলম, সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্নেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো আইনি সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদনটি হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার তা আপিল বিভাগে নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আজ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ।

গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশাপাশি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর এখন বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে বর্তমানে কোনো বাধা অবশিষ্ট নেই।


নির্বাচিত

হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের পদ শূন্য ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন। রিট আবেদনে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল গণমাধ্যমকে জানান, "আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।"

আবেদনে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে। মূলত হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ভোটার নাজমুল হোসেন আইনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।


নির্বাচিত

কারাবন্দী দীপু মনির স্বামীর মৃত্যু, প্যারলে মুক্তির পর জানাজার সিদ্ধান্ত

ডা. দীপু মনি ও ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ- ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনের বিষয়টি তাঁর প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীপু মনির আইনজীবী ও স্বজনরা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে অবস্থান করছেন।

আজ বুধবার সকালে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, ‘‌‌রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি মারা গেছেন। তবে কোথায় কখন দাফন ও জানাজা হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হবে।’

উল্লেখ্য, প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ২০১৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। গত মে মাসেও তাঁকে হুইলচেয়ারে করে কারাগারে থাকা স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তৌফিক নেওয়াজ পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।


নির্বাচিত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযান এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজিজ আহমেদ ওই সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-র দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের বিধিবিধান অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর মামলায় পলাতক কোনো আসামিকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার এটিই প্রথম উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন জানতে পেরেছে আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকা এই মামলার অন্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর চালানো অভিযান এবং পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় চার স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ জুলাই এই অভিযানের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।

এছাড়া অভিযোগপত্রে সাবেক পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাবেক পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তার নাম রয়েছে। সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপা।

এদিকে, গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বেঞ্চ আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনু ও ড. আবদুর রাজ্জাককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন ওই দিনই জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং মোজাম্মেল হক বাবুসহ ৯ জন গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। ৩০ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।


নির্বাচিত

সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নামের দুই আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আরও অনেককে গুরুতর আহত করার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

মামলার ৩৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার থাকায় পলাতক ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন-এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।


নির্বাচিত

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের বিষয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ (এইচটিপি) বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তামাক বিরোধী জোটের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আদালত এই রুলে জানতে চেয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য নিষিদ্ধ করা এবং বাজার থেকে অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও কার্যকারিতাহীন বলে ঘোষণা করা হবে না। দেশে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যের অবাধ প্রসার রোধ করতে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতেই এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এসব আধুনিক তামাকপণ্য বাজার থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং প্রয়োজনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে বিবাদীদের কাছে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের বিস্তার ঠেকাতে বিবাদীদের কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়ে এই রুলে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আদালতে বাদীপক্ষের হয়ে মামলাটির শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। শুনানিকালে তাঁরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রিট আবেদনটির বাদী হিসেবে ছিলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম।


নির্বাচিত

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে রুল জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ (এইচটিপি) ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তামাক বিরোধী জোট। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছেন।

একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট, ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে বাদীপক্ষে মামলাটি শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতে তুলে ধরেন। মামলার বাদীরা হলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম।


নির্বাচিত

সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। একই সাথে আদালত ৩৪ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা ৪ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানিকালে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এবং আদালতে অপরাধের তিনটি ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। ওই ভিডিওগুলোতে আসামিদের সরাসরি অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়, যা বিচারিক প্যানেল গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা এবং একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিবকে হত্যার ঘটনায় এই আসামিরা সরাসরি জড়িত। এছাড়া অসংখ্য মানুষ ওই দিনের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

আদালতের নির্দেশে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া ৪ জন হলেন—রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক। অন্যদিকে, খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা। ট্রাইব্যুনাল মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার, লবঙ্গ রেস্টুরেন্ট এবং পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধসহ আশপাশের এলাকায় আসামিদের পরিচালিত এই নৃশংসতা স্পষ্টত মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ৩০ জুলাই দাখিলকৃত এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close