গত বছরের ২১ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ডিআইজি মিজান। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সেই মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহালই রেখেছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এ ছাড়া এই মামলায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী, ভাই ও ভাগনেকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই পরিচালক পদে রদবদল করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুদকের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হুদাকে অনুসন্ধান ও তদন্ত-৬ বিভাগ থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩ বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া পরিচালক রিজিয়া খাতুনকে চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে বদলি করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক মমতাজকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও করা হতে পারে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে চলমান ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন মো. মুক্তার হোসেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তারের বুকে ও শরীরে আঘাত হানে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় মুক্তার হোসেন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগমকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর আদালতের আদেশে চার দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জনপ্রিয় এই লোকসংগীত শিল্পী ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার বাদল বলেন, সাধারণত সরকার পরিবর্তনের পর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন—এটিই প্রচলিত নিয়ম। তবে বর্তমানে যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা গত চার মাস ধরে এই সরকারের অধীনেই আইন কর্মকর্তা হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, বেতন নিয়েছেন এবং পদের প্রভাব ব্যবহার করেছেন। হঠাৎ করে রিমুভ হওয়ার ভয়ে তারা রাজনৈতিক ইস্যু টেনে পদত্যাগ করছেন, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর এখন কেন তারা রাজনৈতিক প্রভাবিত বক্তব্য দিচ্ছেন?
বিএনপির এই আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, গত চার মাস এই কর্মকর্তারা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন নাকি ভেতরে থেকে কোনো ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করেছেন, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সরকারের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া একটি স্ববিরোধী আচরণ। উনাদের আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যারিস্টার বাদল আরও মন্তব্য করেন যে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে যারা কাজ করেন, তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা দায়িত্ব পালনের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করার ওপর তিনি জোর দেন।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তারিখ ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে মেঘনা-গোমতী সেতুতে ২০১৬ সালে নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড’কে (সিএনএস) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টাকার অঙ্কে কাজের মূল্য নির্ধারণ না করে বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল তুলেছে। দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক গত বছর ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।’
আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি সহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।
গত ২০ বছরের অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলে- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শফিক নজরুল নামের এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলার পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দায়ের করা পৃথক আরেকটি প্রতারণা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর থানার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, অর্থ লেনদেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে আদালত মামলা দায়ের করেন। আমরা আসামি সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করি, আদালত আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় শতভাগ কমন, পরীক্ষায় পাস করানোর নিশ্চয়তা এবং বিশেষ কোচিং সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চটকদার এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সুবিধা না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তারা সম্মিলিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে, গত ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিনের মধ্যে দুই মামলার জামিন স্থগিত করেন।
ওই তিনটি মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে রোববার এক মামলার শুনানি শেষে নো অর্ডার আদেশ দেন আদালত।
গত বছরের ১২ মে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।
সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন এবং কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন।
সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালতে হাজির করে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সোহেল সৌরভ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর ১৪ নম্বর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাদী গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে মিরপুর ১০ এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. শাকিলের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. কবির হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা গেলে তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানো হলো।
আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন গ্রেফতারের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন আবেদন দায়রা জজ আদালতেও নামঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এ আদেশ দিয়েছেন।
সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় সিএমএম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সিআর মিস ফাইল করি। জামিন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এই আইনজীবী আরও বলেন, ৭টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত তার কারামুক্তি হচ্ছে না।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)।
যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা একযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওই ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে, গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।