রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে চারটি পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। তারা হলেন- চক্রটির প্রধান ও অস্ত্র তৈরির কারিগর মোখলেছুর রহমান সাগর (৪২), তার প্রধান সহযোগী তানভির আহম্মেদ (৩২), অনিক হাসান (২৮), আবু ইউসুফ সৈকত (২৮), রাজু হোসেন (৩৮) ও আমির হোসেন (৪০)। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ৪টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৭টি পিস্তলের কাঠের ফর্মা, ১০টি ফায়ারিং ম্যাকানিজম, ৪টি ট্রিগার, ২টি পিস্তলের হ্যান্ডগ্রিপ, দুটি ড্রিল বিট, ৫টি র্যাত, ৫০টি স্প্রিং, ৪০টি পিস্তলের নাট-বল্টু, ২টি কম্পাস, ৩টি গজ, ৪টি ক্লাম, ২টি ড্রিল মেশিন, ২টি বাইস, ১টি বার্নি স্কেল, ১টি মুগুর, ২০টি হেস্কো ফ্রেম, ২টি গোল্ড এলএস ফ্লাম, ১টি টুল বক্স, ১টি প্যারেন্ডার মেশিন, ১টি কাঠের যোগান, ১টি হাতুড়ি, ৪টি শিরিষ কাগজ।
র্যাব বলছে, তারা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করে সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করতেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মো. ফরিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক র্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, কিছু অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধভাবে পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন নাশকতাকারীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। এ তথ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। পরে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযানে চারটি পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ চক্রের হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, চক্রটি ভারত থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র নিয়ে আসত। সেগুলো বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করত। এ পর্যন্ত তারা ১৩টি অস্ত্র দেশে নিয়ে আসে। এর মধ্যে থেকে ৯টি অস্ত্র বিক্রি করেছে। প্রথম চালানে ৮টি অস্ত্র এনে বিক্রি করে তারা। পরে আরও ৫টি অস্ত্র আনে। তা থেকে একটি বিক্রি করেছে। বাকি অস্ত্রগুলো বিক্রির সময় তারা গ্রেপ্তার হন। তারা মূলত বেশি লাভের আশায় ভারতীয় অস্ত্র দেশে তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির হোতা মোখলেছুর রহমান সাগর ও কার প্রধান সহযোগী তানভির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার ভোরে বাড্ডার হাজী আব্দুল হামিদ রোডের পূর্ব-পদরদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্য চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার মোখলেছুর অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রটির হোতা। তিনি পেশায় ভাস্কর্য-মূর্তি তৈরির কারিগর। ভাস্কর্য তৈরির দক্ষতার সুবাদে মোখলেছুর রহমান সাগর ভারতের কলকাতা ও শিলিগুড়িতে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে আসছিলেন। পরে সুকুমার নামে একজন অস্ত্র তৈরির কারিগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোখলেছুর অস্ত্র তৈরির দক্ষতা অর্জন করেন। পরে তিনি দেশে এসে অস্ত্র তৈরি করে অল্পদিনে কোটিপতি হওয়ার আশায় অবৈধ অস্ত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে তিনি তানভির, অনিক ও সৈকতকে নিয়ে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার তানভির পেশায় একজন লেজার সিএনসি ডিজাইনার। তিনি যেকোনো কিছু কম্পিউটারে ২ডি নকশা অনুযায়ী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাটিং করার দক্ষতা অর্জন করেন। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তানভির সাগরের দেওয়া নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির মাধ্যমে সাগরের অস্ত্র তৈরির প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সাগর ও তানভির অস্ত্র তৈরি করে সেগুলো অনিক ও সৈকতের কাছে বিক্রির জন্য দিতেন। প্রতিটি পিস্তল-অস্ত্র ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন তারা।
রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও মার্জিনা রায়হান এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় ৯ জন অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি অঞ্চলে মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণহানির এই পরিসংখ্যানে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। রোববার (২৬ জুলাই) ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত ওই আবেদন জানান এসডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। জুলাই গণহত্যায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
যাদের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হয় তারা হলেন ফেরদৌস আহমেদ (তৎকালীন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক), মেহের আফরোজ শাওন (অভিনেত্রী ও নির্মাতা), রিয়াজ আহমেদ (চিত্রনায়ক), অরুণা বিশ্বাস (অভিনেত্রী), শমী কায়সার (নাট্যব্যক্তিত্ব), রোকেয়া প্রাচী (অভিনেত্রী ও নির্দেশক), মাহিয়া মাহি (চিত্রনায়িকা), নিপুণ আক্তার (চিত্রনায়িকা), তানভীন সুইটি (অভিনেত্রী), রুবি হক (নাট্যব্যক্তিত্ব), জ্যোতিকা জ্যোতি (অভিনেত্রী), সাজু খাদেম (অভিনেতা), সোহানা সাবা (অভিনেত্রী), পিয়া জান্নাতুল (মডেল ও আইনজীবী), শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী), হিরো আলম (অভিনেতা), আশা হাবীব ভাবনা (অভিনেত্রী), সাইমন সাদিক (চিত্রনায়ক), সুজাত আজিম (অভিনেত্রী), জায়েদ খান (চিত্রনায়ক ও নির্বাচনী প্রচারকারী), আজিজুল হাকিম (অভিনেতা), চন্দন রেজা (অভিনেতা), আসাদুজ্জামান নূর (প্রবীণ অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী), মারিয়া কিসপট্টা (মডেল), শায়লা ফারজানা মোমিন মেহেদী, সোমা ইসলাম (টেলিভিশন উপস্থাপিকা) এবং আনিস আলমগীর (সাংবাদিক)।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস লিখেন, ‘আমাদের অভিযোগ হলো, ওই ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনাবলীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জনপরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে আমরা এই অভিযোগ দাখিল করছি।’
ঢাকাই সিনেমার খলঅভিনেতা হিসেবে পরিচিত মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন তার খালাতো ভাই আজিজুর রহমান টাইগার। এ মামলায় ডিপজলের পাশাপাশি ম্যানেজার আব্দুল গণি এবং ব্যক্তিগত সহকারী খোকনকেও আসামি করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে এ ওয়ান ট্রেডিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাসেল খন্দকার জানান, বাদীর আর্জি শুনে বিচারক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী আজিজুর রহমান টাইগারের ‘ব্যবসায়িক সুনাম ও পরিচিতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে’ ডিপজল বিভিন্নভাবে তার মানহানির চেষ্টা করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩ আগস্ট ডিপজলের ম্যানেজার আব্দুল গণি দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেখানে বলা হয়, আজিজুর রহমানের নির্দেশে কয়েকজন ডিপজলের ভাড়া দেওয়া নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সাইনবোর্ড ভেঙে নিজেদের নামে নতুন সাইনবোর্ড লাগানোর চেষ্টা করেন এবং সম্পত্তিটির মালিকানা দাবি করে পরবর্তী মাস থেকে ভাড়া দাবি করেন। তবে ওই জিডির তদন্তে পুলিশ আজিজের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক তিনি নিজেই। কিন্তু ডিপজল সেটিকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে ‘হেয় করার চেষ্টা’ করেন।
আজিজুর রহমানের অভিযোগ, ফেসবুক পোস্টের পাশাপাশি টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করা হয়। তাতে তার সামাজিক মর্যাদা ‘ক্ষুণ্ন’ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট হয় এবং তিনি ‘কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির’ মুখে পড়েন।
প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান আসামিপক্ষের আইনজীবীর করা জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ১২ জুলাই (রোববার) এ মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ মামলায় গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন। ওইদিন এ মামলায় তিনজনের জামিন মঞ্জুর হয়।
সে সময় জামিন মঞ্জুর হওয়া তিন আসামিরা হলেন- আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আদালতের সমন উপেক্ষা করায় গত ১৭ জুন আহমেদ জোবায়েরসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আহমেদ জোবায়েরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে মামলা দায়ের করেন সৈয়দ আসাদুজ্জামান। ওইদিনই আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে ১৭ জুনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত তারিখে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলায় পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী এবং সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, চলমান এসব অভিযোগের গভীর তদন্ত শেষে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় বা অবিচার করতে চায় না, তবে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা মিললে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধান অনুসরণ করেই পরবর্তী সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক পথই অনুসরণ করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিগত আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের মোট পরিমাণের সমতুল্য। অর্থনৈতিক অনিয়মের নজির হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, খুলনায় মাত্র পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে মূলত কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত সমস্ত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা আগের তুলনায় বহুলাংশে কমে এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দিকনির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় রাতারাতি সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত বা সহজ পথ নেই; বরং নিয়মিত অধ্যয়ন, আইনি দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় মানসিকতা নিয়েই এই পেশায় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও কোনো ছাড় না দেওয়ার পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন, যেখানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা, দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পাশাপাশি এই গুরুত্বপ্রদ মামলায় অভিযুক্ত পলাতক ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং বর্তমানে অন্য মামলায় কারাবন্দী থাকা ৩ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আনুষ্ঠানিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। উক্ত বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুলকে বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া ও হত্যার মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন এবং ফরমাল চার্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার আরজি জানান। দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আদেশের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
মামলার হেভিওয়েট আসামিদের তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এর পাশাপাশি তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই ১১ জনের মধ্যে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, কর্নেল আনোয়ার লতিফ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম বর্তমানে পৃথক অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঘটনার নির্মম মুহূর্তে তাঁর স্বজন ও শিশুকন্যার সাথে আকুতিমাখা শেষ ফোনালাপের একটি লোমহর্ষক অডিও রেকর্ড দেশ-বিদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং আইনি ও মানবিক কাঠগড়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ও নির্দেশদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতার অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গভীর তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের শাসনকালের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটময় সময়ে রাষ্ট্রের সশস্ত্র তিন বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা গুম, নির্বিচারে হত্যা এবং বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা কথিত ‘আয়নাঘর’-সংক্রান্ত মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, যা মূলত এসব অপরাধের প্রতি তাঁর নীরব সমর্থনেরই সামিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রতিনিধিরা বলেন, পিলখানার নির্মম হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের যৌথ অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নীতির ভিত্তিতে তাঁদের সামগ্রিক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে পলায়নরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও সহযোগিতার দায়ে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া এই অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন। ফলে এই বিষয়েও আলাদাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন এ মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৩ আগস্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এ হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। হোসেন পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু পলাতক রয়েছেন।
মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন কারাগারে আছেন। এছাড়া জামিনে রয়েছেন ১০ জন।
সুত্র: বাসস
রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শ্যুটার মো. চঞ্চল মোল্যাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কাফরুল থানার অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
এ দিন আসামি চঞ্চল মোল্যাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক ইউসুফ আলী ভূইয়া তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এসময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় একই থানার বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবু ও ভিকটিম ইউসুফসহ অন্যান্য লোকজন নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগী পলাতক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।
গুলিটি ইউসুফের বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন।
এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন গুলিবিদ্ধ ইউসুফ, নালাম সরদার ও মনিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইউসুফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ সময় পালাতে গেলে কাফরুল থানাধীন একটি দোকানের সামনে আসামি চঞ্চল মোল্যাকে উপস্থিত লোকজন অস্ত্র-গুলিসহ আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
তার দেহ তল্লাশি করে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চঞ্চল নিজের পরিচয় জানান। পাশাপাশি জিহাদ মোল্লা, মো. জিয়ারুল ও হাসানসহ অজ্ঞাতদের নাম প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।
স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ‘প্রিন্স মামুন’কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে মামুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে এক কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে ভাটারা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় মামুনকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
এদিন আদালতে মামুনের পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। তবে এ সময় বাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদীনি মোহনা একজন ফ্যাশন মডেল। পাঁচ মাস আগে আসামি মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো। এতে অভিযোগ করা হয়, ‘মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিবাহের পর থেকেই তিনি দোকান দেয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মামুন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। মোহনাকে তার পিতা-মাতার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন মামুন। তবে মোহনা অস্বীকৃতি জানালে, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের সময় তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফুলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।
প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন না আসায় বিচারক এই আদেশ দেন।
পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।’
নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।
অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে, গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন ও কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ ও মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ ও সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে উপস্থিত করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে আজ এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে 'প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট' জারি করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তাঁকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এর আগে গত ২১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন বিভাগ।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনী অঞ্চলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিনে প্রসিকিউশন আরও সময় প্রার্থনা করলেও মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় আদালত তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দেন। এর ফলে উভয় সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া আজ একই দিনে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হলো।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হাজির করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘আসামি মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।’
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর। জিয়াকে হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই ছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তখন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।