রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবন ‘গ্রিন কোজি কটেজে’ আগুনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন জেস্টি রেস্টুরেন্টের মালিক মোহর আলী ওরফে পলাশ, ফুকো রেস্টুরেন্টের মালিক আবদুল্লাহ আল মতিন ও ভবনের তত্ত্বাবধায়ক নজরুল ইসলাম খান। এই নিয়ে ওই আগুনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ) মো. আনিচুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বেইলি রোড ও শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের আটতলা ভবনে আগুন লাগে। এতে ৪৬ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৮ শিশু। ভবনের নিচ তলার খাবার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। এই ঘটনায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
এর আগে এই আগুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ‘চুমুক’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান এবং ‘কাচ্চি ভাই’ নামের অন্য একটি খাবারের দোকানের ব্যবস্থাপক জয়নুদ্দিন জিসান।
সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং সদস্য ও চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫৭ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২২৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের গোলাবারুদ, ১০টি পেট্রল বোমা, বেশ কিছু ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব যৌথ অভিযান চালানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও বাহিনীটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে তার অব্যাহতিপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করলে ৮ আগস্ট মো. আসাদুজ্জামান এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সম্প্রতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর তিনি নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব এখন মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে দেওয়া হলো।
দেশের নবনিযুক্ত ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে আগামী ৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় যৌথভাবে তাঁকে সংবর্ধিত করবে। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট—উভয় বিভাগের বিচারপতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত থেকে নতুন প্রধান বিচারপতিকে বরণ করে নেবেন। বিচার বিভাগের ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বার ও বেঞ্চের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা আয়োজনের দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং সরকারের উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ বিচার বিভাগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি ২০২৮ সালের ১৭ মে পর্যন্ত এই সম্মানজনক পদে আসীন থাকবেন।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের আইন অঙ্গনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করার পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনে উচ্চতর এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং মেধা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আজ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে সব আইনি বাধা দূর হলো নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার। তাঁর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশ আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
আজ দুপুরে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম। মূলত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে নাটকীয়ভাবে নির্বাচনী দৌড়ে ফিরে এলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।
এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য মান্নার করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, মান্না এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন মান্না, যার ওপর আজ শুনানি শেষে স্থগিতাদেশ এলো।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’-এর কাছে পাওনা প্রায় ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করেছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ না করায় তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালে নেওয়া ওই ঋণের কিস্তি ও মুনাফা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি।
তবে মাহমুদুর রহমান মান্না শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই আইনি জটিলতায় ফেলা হয়েছে। অবশেষে আজ চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়ায় তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ফিরে পেলেন। আজই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় তড়িঘড়ি করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন নাগরিক ঐক্যের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর এই আইনি বিজয়কে তাঁর সমর্থকরা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশের সকল স্তরের বিচারকদের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিভাষণ দেবেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশের সকল জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের আগামীর কর্মপরিকল্পনা, মামলাজট নিরসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত রবিবার সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ পাঠ করেন। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে সারাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত ১৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং জশিতা ইসলামের পৃথক দুটি আদালত এই আদেশ দেন। আখতার হোসেনের আইনজীবী মো. মুজাহিদুর ইসলাম জানান, একটি মামলায় ৫০০ টাকা এবং অপর মামলায় ১০০০ টাকা বন্ডে তাঁর মক্কেলকে জামিন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের সময় শাহবাগ থানায় এসব মামলা করা হয়েছিল।
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটিতে তিনি ইতিপূর্বেই অব্যাহতি পেয়েছেন। বাকি দুটি মামলায় আজ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল অসুস্থ শরীর নিয়ে দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণের সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। ২০২১ সালে মোদি-বিরোধী আন্দোলন ছাড়াও ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৭ জুলাই রাজু ভাস্কর্যের সামনে শহীদ আবু সাঈদের গায়েবি জানাজাকে কেন্দ্র করে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ তিনি পুরাতন মামলাগুলোতে জামিন পেলেন। মূলত রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা। বর্তমানে সকল মামলায় জামিন বা অব্যাহতি পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করতে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তাঁর আইনজীবীরা এই আবেদনটি দাখিল করেন। হাইকোর্টে ইতিপূর্বে করা রিট আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকতে তিনি এই সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ নিলেন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, আজই বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মান্নার রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। ওই আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, ঋণখেলাপির তকমা থাকায় মান্নার পক্ষে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’-এর কাছে বিপুল পরিমাণ পাওনা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করেছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত এই হিমাগারটির কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হলেও তা জমা না দেওয়ায় মান্নাকে ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরেও তারা নিয়মিত মুনাফা বা কিস্তি পরিশোধ করেনি, যার ফলে বকেয়ার পরিমাণ বর্তমানে ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সচল ও লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, ওই কোল্ড স্টোরেজে মান্নার ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই আইনি জটিলতা মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সবার নজর আজ দুপুরের চেম্বার আদালতের আদেশের দিকে, যা নির্ধারণ করবে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী দৌড়ে থাকতে পারবেন কি না। তাঁর আইনজীবীরা আশা করছেন, উচ্চ আদালত থেকে ইতিবাচক কোনো নির্দেশনা পেলে তিনি পুনরায় প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করছে।
বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আগামীকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) শপথ গ্রহণ করবেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তিনি বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেলেন দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শপথ গ্রহণের পর তিনি দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তাঁর এই নিয়োগ বিচার প্রশাসনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্মান ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগত জীবনে ১৯৮৫ সালে তিনি জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর দুই বছর পর তাঁর পদটি স্থায়ী হয়। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি তাঁকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। মূলত বিচারালয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্য নিয়েই তিনি দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতির আসন অলংকৃত করবেন।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ পদ থেকে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেছেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় তিনি তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য বিচারিক জীবনের ইতি টানলেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই প্রস্থান দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রথিতযশা আইনজ্ঞ হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াডাম কলেজ থেকে আইন বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গেও কাজ করার গৌরবময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁর এই আন্তর্জাতিক মানের পাণ্ডিত্য দেশের উচ্চ আদালতকে সমৃদ্ধ করেছে।
পেশাগত জীবনে ড. রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে ঢাকা জেলা আদালতে এবং ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর মাত্র দুই বছর পর তাঁকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মরহুম ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ এবং দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদের সুযোগ্য সন্তান। পারিবারিক এই গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বহন করেছেন।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিচার বিভাগের আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তাঁর নেওয়া এসব সাহসী পদক্ষেপ ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ আইনি অঙ্গনে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই অবসর দেশের বিচার প্রশাসনে যেমন একটি শূন্যতা তৈরি করল, তেমনি আগামীর জন্য এক আদর্শ পথনির্দেশনাও রেখে গেল।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের সকল সরকারি চাকুরিজীবীর জন্য সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিন বছরের বাধ্যবাধকতাটি বহাল থাকল।
এর আগে, অবসরের পর নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে লড়তে না পারার বিধানটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে চারটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং এই বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকারের মূলনীতির পরিপন্থি। তবে দীর্ঘ শুনানি ও আইনি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট সেই রিট আবেদনগুলো খারিজ করে দেন এবং তিন বছরের এই অপেক্ষমাণ সময়কে বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত যেকোনো সময় রায়ের জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন। আজকের এই রায়ের ফলে স্পষ্ট হলো যে, কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার সাথে সাথেই রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচনি মাঠে নামতে পারবেন না; তাঁকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে উচ্চ আদালতের এই রায় অনেকের নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে এই আদেশ প্রদান করেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে দুইজন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। আজ সকালে তাঁদের ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ সাব-জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলায় পলাতক অন্য দুই আসামি হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানিতে জানান, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রামপুরা এলাকায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, যাতে ২৮ জন প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। বিশেষ করে বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামকে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে। অন্য আসামিরাও এই হত্যাযজ্ঞে প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও আদেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ২১ ডিসেম্বর মামলার উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানালেও আদালত তা আমলে নেননি। আজকের এই আদেশের ফলে রামপুরা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এক বড় অগ্রগতি সাধিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনাল খুব শীঘ্রই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন।
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি আগামী ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের একজন বরেণ্য বিচারক ছিলেন। শিক্ষাজীবনে বিচারপতি জুবায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্মান ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
আইন পেশায় তাঁর বর্ণাঢ্য যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে। বিচারিক জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারকের মর্যাদা পান। কর্মদক্ষতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পরদিন ১৩ আগস্ট তিনি শপথ গ্রহণ করেন। দেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ পদে তাঁর এই নিয়োগ বিচার প্রশাসনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আইনজ্ঞরা প্রত্যাশা করছেন।
বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শীর্ষ পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী শনিবার ৬৭ বছর পূর্ণ করবেন, যা প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের শেষ দিন। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বার্ষিক ছুটি চলায় গত বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর জীবনের শেষ কর্মদিবস। ওই দিন রীতি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গত বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং গেজেট প্রকাশের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই নিয়োগ বিচার বিভাগে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা দেশের বিচার ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।