আইনপেশা পরিচালনায় আইনজীবীদেরকে তাদের পেশাগত নৈতিক মানদণ্ড রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘আইন পেশার আদর্শ ও নৈতিকতা’ এবং ‘বিচারিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনার উদ্ভোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পেশাগত নৈতিকতা ও মূল্যবোধের যথাযথ অনুশীলন আইন পেশার মূলভিত্তি। যদি পেশাগত মূল্যবোধের অনুশীলন ব্যতিরেক আইন চর্চা করা হয়, তবে বিচারাঙ্গন পরিণত হবে নিছক কাঠ-পাথরের কিছু স্থাপনায়। যদি বিচারাঙ্গনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আইনজীবীরা আইনপেশা পরিচালনায় পেশাগত নৈতিক মানদণ্ড রক্ষায় যথাযথ গুরুত্ব প্রদান না করেন তাহলে মানুষের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মহান সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে।’
ওবায়দুল হাসান বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে আসেন, আইনজীবীদের দ্বারস্থ হন। এই অসহায় মানুষগুলোকে আইনি সেবা প্রদানের যে নৈতিক দায়িত্ব আইনজীবীদের রয়েছে, সেই দায়িত্ব পালনে সবাইকে মানবিক হতে হবে। আইনজীবী হিসেবে সাফল্য কেবল মামলার জয়-পরাজয়ের নিক্তিতে মাপলেই চলবে না, বরং আদালতে আইনের ব্যাখ্যা প্রদানে কতটা মানবিকতা ও উদারতার পরিচয় দিচ্ছেন কিংবা মামলায় জয় লাভের তুলনায় ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে কি-না এই বিষয়গুলোই কিন্তু একজন সত্যিকারের আইনজীবী হিসেবে অন্যদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবে।
তিনি বলেন, একজন আইনজীবীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মক্কেলের গোপনীয়তা রক্ষা করা। উন্নত দেশ গুলোতে এই বিষয়টা যতটা গুরুত্বসহকারে দেখা হয়, আমরা ততটা গুরুত্ব প্রদান করি না। কিন্তু আমাদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। মামলা পরিচালনাকালে আইনজীবীরা আদালতকে সঠিক গাইড করবেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীরা আদালতের অফিসার হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।
প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘আইনজীবীরা নির্দিষ্ট একটি পরিসরে তাদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিধায় এখানে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা যেন হয় সুস্থ্য। আইনি প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। ক্লায়েন্ট বা মামলা নিয়ে হোক বা ব্যক্তিগত বা পেশাগত প্রতিহিংসার কারণে হোক, আইনাঙ্গনে নিজেদের মধ্যে কদর্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবেন না। আইন যতই নিরস হোক না কেন আইন পেশা পরিচালনাও একটা শিল্প। এই শিল্পের সৌন্দর্য যেন মলিন না হয় সেদিকে আইনজীবীদের খেয়াল রাখতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্ট বার এই সেমিনারের আয়োজন করে। সুপ্রিম কোর্ট বার এর শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল সেশনে বক্তা ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার। এ ছাড়া সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে এটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ এম আমিন উদ্দিন আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এই সময় সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক, বার এর সাবেক সভাপতি প্রয়াত আবদুল বাসেত মজুমদার, মাহবুবে আলম, মইনুল হোসেন, আব্দুল মতিন খসরু, এ জে মোহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ প্রয়াত আইনজীবীদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানান।
নাটোরের গুরুদাসপুরে ৭ বছর বয়সি এক শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল ৭ বছরের এক শিশু আদালতে হাজির হয়ে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পান, বাদী শাহানুর রহমান মামলার এজাহারে ওই আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করেছেন। অথচ জন্ম নিবন্ধন অনুসারে ঘটনার তারিখে তার বয়স সাত বছর ছিল। শিশুটি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিষয়টি জানতে পেরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে শিশুটির প্রকৃত বয়স কেন উল্লেখ করা হয়নি, এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন।
সেই মোতাবেক মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। পরে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সাথে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহের অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে, তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেছেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট গুলিবিদ্ধ হয়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন।
ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আট আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদেন এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিম হোসেন ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) ও মো. ইমরান (২৪)।
গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার থেকে জানা গেছে- গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) ও ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত। সেই ভুয়া ভিডিওতে ড. আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।
বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপসহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৮ জন নিহত হওয়ার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৫ মে) নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্ত্বরে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়েছে। অনেকের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়নি। কিন্তু তদন্তের সময় তাদের কবর পরিদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত সংস্থার লোকজন কথা বলেছেন।
আসামিদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আসামির সংখ্যা ৩০ এর নিচে হবে না। আর ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার আছেন, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাবেক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন পুলিশ প্রধান, পুলিশ কমিশনারসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই ওই ঘটনায় জড়িত। তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সমাপ্ত হয়ে গেছে। আশা করছি আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।
শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনায় জড়িত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এই মামলায় ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাসহ তিন মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাসহ তিন মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলায় তাকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলাম সুজনকে যাত্রাবাড়ী থানার গোপী বাঘের রাইয়ান কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের মালিক রফিকুল ইসলামকে হত্যার মামলায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২৮ আগস্ট রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৫ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ইমরান হোসেন নামে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা এক হত্যা মামলায় একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে কারাগারে থাকা সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। তার পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল এই রুল জারি করা হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে সপরিবারে ভারতে যাওয়ার সময় শ্যামল দত্তকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। মোজাম্মেল বাবু সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।
ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে। বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়।
সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে হাই ডেফিনেশন (এইচডি) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের বেঞ্চ এ রুল জারি করেছেন।
আইনসচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে পাবলিক ডিসপ্লে মনিটরসহ এইচডি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সারওয়ার রিট করেছিলেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা জানান। এসময় তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের যে অভিযোগ এসেছে তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছরে নামিয়ে আনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ প্রস্তাবের পক্ষে নন। তবে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ এলে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় আগামী ১৭ মে মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম আইন নিয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার লামিন ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত শনিবার আসামিকে আদালতে হাজির করে উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশ। পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদুজ্জামান। আদালত ওই দিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকার বিভিন্ন স্কুলগামী ছাত্রীর মধ্যে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেলসহ প্রাইভেটকারের তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।
গাজীপুরের পুবাইল থানার একটি এলাকা থেকে ১ মে দুপুরে মূল আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার লামিনের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার রায়েরদিয়া উলুখোলা এলাকায়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী উত্তরার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২২ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষা শেষে বাবার সঙ্গে বাসায় ফেরার পথে উত্তরা পূর্ব থানার সেক্টর-৬ এলাকায় লামিন ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন।
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দিয়েছেন।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে বিশেষ অভিযানে মিরপুর থেকে তামান্না নুসরাত বুবলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই মো. শরিফুল ইসলাম গত ২৯ এপ্রিল বুবলীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করা হয়।
এদিন শুনানিকালে বুবলীকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা বিপ্লব শেখ (১৯) হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো.হাসিব উল্লাহ পিয়াস তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছেন।
মিরপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাবিব উল্ল্যাহ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বিসিবির এই অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ মোট সাতজন আইনজীবী এ রিটটি দাখিল করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তিন মাসের জন্য ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে আরও আছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরি, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানায়, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি সাময়িকভাবে বিসিবির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাতে ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
গত ২ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশ এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন এই দুই নেতা।