পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিসিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থে ইন্ডিয়ান পুলিশ আমাদের কাছে যে ধরনের সহযোগিতা চাইছে তা আমরা দিচ্ছি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে, আজ সকালে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম দাবি করে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ কোলকাতার নিউটাউন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ভারতীয় পুলিশ।
আজ বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারতের এক ডিআইজির উদ্বৃতি দিয়ে আমাদের পুলিশও বলেছে আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ পাওয়া গেছে কলকাতায়। বিষয়টি নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত তথ্য নেই আমাদের কাছে। আমাদের আইজি ডিটেইলস খবর নিচ্ছে। সব নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানাব আমি।’
আনোয়ারুল আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, এমপি আনারকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে আনোয়ারুল আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আব্দুর রউফ বলেছিলেন, ১১ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। কিন্তু এরপর ১৬ মে তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে শাহরিয়ার কবিরকে আগামী ১২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ার কবিরকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনকালে গুলিতে গৃহকর্মী লিজা আক্তার নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। এদিন পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ।
ওই রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ার কবিরকে আদালতে হাজির করে আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে রফিকুল ইসলাম ও আরিফ নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান। ২০ অক্টোবর তাকে ফের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে (পুতুল) এক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন। সে অনুযায়ী রায় দেওয়া হলো। পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩।
এদিকে, রায়কে কেন্দ্র ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যসহ বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
রায়ে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলো রাষ্ট্রপক্ষ।
এই তিন মামলায় শুরু থেকে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পলাতক রয়েছেন। রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা তিন মামলার আসামি। জয় ও পুতুল পৃথক এক মামলার আসামি।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এই মামলায় ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলায় অপর আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউক-এর সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
অপরদিকে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ১৪ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরো দু’জনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এ মামলায় আদালতে ২৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়াও এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এছাড়াও, রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট জালিয়াতির ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদি হয়ে শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এই মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার অপর ১৬ আসামি হলেন— জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউক-এর সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, তদন্ত প্রাপ্তে আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক ৩ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। এই তিন মামলায় কেবল রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি ও স্থাপনা) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণের পর কারাগারে রয়েছেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ হাসিনা, তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে, ছোট বোন শেখ রেহানা ও তাঁর দুই ছেলে-মেয়ের নামে প্রতিটি ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা ছয়টি মামলার মধ্যে এই তিনটির রায় হয়েছে আজ।
এ ছাড়া শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও রেহানার বড় মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা অপর একটি মামলার রায়ের দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১ ডিসেম্বর। আজ যে তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে হয় ২৩ নভেম্বর। সেদিনই রায়ের এই তারিখ ধার্য করা হয়।
চলতি বছরের ১২,১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এই তিন মামলাসহ ছয়টি মামলা করে দুদক। ২৫ মার্চ প্রতিটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ৩১ জুলাই আদালত এই তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দের মামলায় তিনিসহ ১২ জন আসামি। আরেক মামলায় জয়সহ ১৭ জন এবং অন্য মামলায় পুতুলসহ ১৮ জন আসামি। প্রতিটি মামলায়ই শেখ হাসিনা এবং রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আসামি। ছয় মামলার মধ্যে বাকি তিনটি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বিচারাধীন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ ও অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের জন্য ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য রয়েছে।
অপর দুটি মামলা করা হয়েছে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে আজমির সিদ্দিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে। এ দুই মামলায়ও শেখ হাসিনা ও রাজউকের কর্মকর্তারা আসামি। এ দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য আছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তাঁরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। বুধবার এ অভিযানে সার-কীটনাশক, বীজ, ফার্মেসি ও মুদিদোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।
এ সময় ‘মেসার্স সাহা ট্রেডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানে তদারকি করে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক পণ্য জব্দ করা হয়। এছাড়া সারের মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা ও সারসহ অন্যান্য পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব সাহাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৫১ ধারায় ১৬ হাজার টাকা, মেসার্স খাজুরা স্টোরকে সার বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান না করা ও র্যাকে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক সংরক্ষণ করার অপরাধে একই ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে মেসার্স সাহা ফার্মেসিতে অভিযানে বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ কমার্শিয়াল প্যাকেটে লুকিয়ে বিক্রয় ও অস্বাস্থ্যকরভাবে ওষুধ সংরক্ষণের অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সবাইকে ভবিষ্যতে এ ধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।
অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তাঅধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে মোট ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় সবাইকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো. রবিউল ইসলাম, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
সরকারি ভূমি অনলাইন ব্যবস্থাপনার সার্ভারে ঢুকে ভুয়া আইডি খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে এক ব্যক্তির বৈধ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল জিনাত সুলতানার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দড়িগোয়ালী এলাকার বাসিন্দা এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন শিকদার। আদালত শুনানি শেষে চট্টগ্রাম পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে মামলাটি তদন্তের জন্য আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- কুমিল্লার জেলার দাউদকান্দি থানার দড়িগোয়ালী গ্রামের মৃত নেকবার আলী সিকদারের ছেলে কবির হোসেন সিকদার ও একই থানার সুন্দলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুয়েল দাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ বা হ্যাকিং, ক্ষতিসাধন, অনুনোমোদিত তথ্য সংগ্রহ ও সহায়তাসহ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা যায়, মামলার বাদী জসিম উদ্দিন শিকদার সর্বশেষ ২০২৩ সালে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করেছিলেন। তিনি গত ১৯ আগস্ট সুন্দলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তার ক্রয়কৃত ৪০ শতক জায়গার ২ বছরের খাজনা পরিশোধ করতে যান। এ সময় সংশিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা ও মামলার আসামি জামাল উদ্দিন তার খাজনা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার বর্ণিত খতিয়ান নাম্বারে মানিক সিকদার নামে অন্য কেউ মালিকানা নিবন্ধন আছে। পরবর্তীতে বাদী অনলাইনে ভূমি ব্যবস্থাপনা সার্ভারে প্রবেশ করে তপশীলভুক্ত ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত ওই প্রোফাইল প্রিন্ট আউট করেন। তাতে বাদী দেখেন, মামলার আসামি কবির হোসেন সিকদার, ছদ্মনাম মানিক সিকদার নাম দিয়ে অনলাইনে জাল-জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে ওই আইডি এবং ভূমি সংক্রান্ত প্রোফাইল তৈরি করেন। আসামি কবির হোসেন সিকদার জালিয়াতির ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অনলাইনে ওই প্রোফাইল খুললেও বাদীর বিনা অনুমতিতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার-০১৮১৯০৩৫৭৮২ সেখানে ব্যবহার করেন। বাদীর নামে নিবন্ধিত ওই মোবাইল নাম্বারটি ২০০০ সাল থেকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খাজনা পরিশোধের নিমিত্তে একটা অনলাইন আইডি গেলে জায়গার মালিকানার খতিয়ান, জাতীয় পরিচয়পত্র, রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নাম্বার, মৌরশি সম্পত্তি হলে ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে ভূমি ব্যবস্থাপনার সার্ভারে জমা দিতে হয়। এসব না থাকলে ভূমি অফিস কোন ব্যক্তি আইডির আবেদন অনুমোদন দিতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি অফিস প্রতারক চক্রের সেই আইডি অনুমোদন দিয়েছিলেন সুন্দলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এরমাধ্যমে অনলাইন ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে প্রবেশ করে বাদীর সম্পত্তি আত্মসাত চেষ্টা ও জটিলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার আসামি ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সুন্দলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, মামলার আসামি কবির হোসেন হচ্ছে বাদীর ছোট ভাই।
যখন সর্ম্পক ভাল ছিল তখন ছোট ভাইকে প্রোফাইল খুলে এখন অস্বীকার করছেন বাদী। আবার মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। এই বিষয়টা আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন।
এদিকে মামলার বাদী জসিম উদ্দিন শিকদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কবির হোসেন আমার সৎ ভাই। সে এলাকার ভূমিদস্যু। সে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে আমার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও ভাগ্নি টিউলিপসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর।
মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ তারিখ ঘোষণা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মঈনুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আইনজীবীরা বলেন, দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের করা মামলাটিতে প্রধান আসামি শেখ রেহানা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটির তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক-এর সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলাটির অন্যান্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্তে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির বিষয়ে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে ওই চার আসামির বিচার শুরু হলো।
মামলার অপর আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।
মামলায় জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সূচনা বক্তব্যের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১ হাজার ৫৯০টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তালেবুর রহমান জানান, গত সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২১টি বাস, ৪টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ড ভ্যান, ৮৬টি সিএনজি ও ১৫৯টি মোটরসাইকেলসহ ৩৭১টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ৯টি সিএনজি ও ৩৬টি মোটরসাইকেলসহ ৮৫টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১০টি বাস, ৫টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৩৪টি সিএনজি ও ১৪৬টি মোটরসাইকেলসহ ২৪৭টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৯টি বাস, ৫টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ড ভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৯০টি মোটরসাইকেলসহ ১৫৭টি মামলা হয়েছে।
তালেবুর রহমান জানান, অন্যদিকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৭টি বাস, ১টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ড ভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ১১৯টি মোটরসাইকেলসহ ২৩৯টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১৫টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৫০টি সিএনজি ও ৯১টি মোটরসাইকেলসহ ২৪৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৯টি সিএনজি ও ৩৯টি মোটরসাইকেলসহ ১ হাজার ১৩৩টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৫টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ৭৯টি মোটরসাইকেলসহ ১৩২টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানকালে ৪০০টি গাড়ি ডাম্পিং ও ১৯৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সপ্তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
এদিন জবানবন্দি দেন রুকুনুজ্জামান। তিনি ১২ নম্বর সাক্ষী। ৪৩ বছর বয়সী এই পুলিশ পরিদর্শক সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে কর্মরত রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও গ্রেপ্তার চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ জন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
এর আগে, গত ১১ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন এএসআই (নিরস্ত্র) মো. বায়জীদ খান, এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহিন মিয়া ও ফরাজি হাসপাতালের স্টাফ নার্স লিংকন মাঝি। এর আগের দিন জবানবন্দি দেন দুজন। ৪ নভেম্বর পুলিশের এসআই মো. গোলাম কিবরিয়া খান ও তদন্ত সংস্থার সহকারী লাইব্রেরিয়ান কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর তৃতীয়-চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মো. নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইয়াকুব। জবানবন্দিতে গত বছরের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রীতে পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো নৃশংস-নির্মমতার কথা ট্রাইব্যুনালের সামনে আনেন। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চান তারা।
গত ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুলিবিদ্ধ বাসিত খান মুসার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জবানবন্দিতে ১৯ জুলাই তার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। নিজের চোখের সামনেই তার একমাত্র ছেলে মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। একই বুলেটে শহীদ হন মা মায়া ইসলাম। বাচ্চা ছেলেটি বেঁচে থাকলেও কথা বলতে পারছে না। ফলে তছনছ হয়ে যায় তাদের পরিবারের সব স্বপ্ন। ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন কার্নিশে ঝুলে থাকা গুলিবিদ্ধ হওয়া আমির হোসেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান। আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনান তিনি। এরপর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন চঞ্চল। ১৬ সেপ্টেম্বর পলাতক চার আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবুর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর পলাতক চার আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২৫ আগস্ট পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) দাখিল করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে ঢাকায় থাকা ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ওঠেন তিনি।
ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে ওই নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন আমির। কিন্তু তাকে দেখে ফেলে পুলিশ। পরে তার ওপর ছয়টি গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে তিন তলায় পড়ে গেলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করেন। এরপর বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগী এই তরুণ।
এছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। একইসঙ্গে মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিলে এখনও কথা বলতে পারছে না এই শিশু।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল। এর নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জন হত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদওয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার শুনানি হবে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ২৮ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। সে সময় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায় এবং অন্য আসামিরাও এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ট্রাইব্যুনালে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলো।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ দিন ধার্য করেন। খবর বাসসের।
এদিন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামি খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
তবে শেখ হাসিনাসহ অপর ১৬ আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন।
মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটির তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্তে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বিরোধী মতের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলার শুনানি চলছে। এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে র্যাব এবং ডিজিএফআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন, আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসামিপক্ষে আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক এই আবেদন জমা দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল এই মামলার শুনানি নিচ্ছেন। শুনানিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেরতসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা আইনজীবী) নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সেনা কর্মকর্তারা হলেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এদিকে, গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশকে তার সাংবিধানিক জীবনের ব্যাকরণ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে আইনের শাসন কোনো আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অলঙ্কার নয়। বরং আইনের শাসন হল সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি নৈতিক পাঠ, যা ন্যায্যতা, যুক্তি এবং জনগণের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে। এটি অধিকারের মাধ্যমে, সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে, শাসিতদের যে মর্যাদা প্রদান করে তার মাধ্যমে এর দিকে ইঙ্গিত করে।
শনিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর গভর্নন্সে স্টাডিজ আয়োজিত বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লব সংবিধান বাতিলের কথা বলে নাই বরং এটি সংবিধানের প্রতি আমাদের আনুগত্য ও দায়িত্ববোধকে শুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল, ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং অতীতের কাটাছেড়ার পরও বর্তমান সংবিধানই বিচার বিভাগের বৈধতার বাতিঘর।
প্রধান বিচারপতি তার রোডম্যাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের সংস্কার রোডম্যাপটি আবির্ভূত হয়েছিল, সাংবিধানিক স্বাভাবিকতার জন্য জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে কাঠামো দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। গত কয়েক মাস ধরে, যখন আমরা অভূতপূর্ব বিচারিক রোডশোর একটি ধারাবাহিকতায় সারা দেশে এই রোডম্যাপটি বহন করছি, তখন আমরা গভীরভাবে হৃদয়স্পর্শী কিছু প্রত্যক্ষ করেছি। একটি বিচার বিভাগ তার প্রাতিষ্ঠানিক ভাগ্যের ওপর অভিভাবকত্ব পুনরুদ্ধার করতে আগ্রহী এবং একটি আইনি সম্প্রদায় তার নাগরিক পেশা পুনরায় আবিষ্কার করছে। এই চেতনাই আমাদের আদালত সাংবিধানিক ভুলভ্রান্তিগুলোকে সংশোধন করেছে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, আমরা একটি বিচারিক নিয়োগ কলেজিয়াম চালু করেছি, যার ফলে স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত এবং পরামর্শমূলক বিচারিক নিয়োগের যাত্রা শুরু হয়েছে।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, মাসদার হোসেন মামলার উল্লেখ ছাড়া বিচার বিভাগের কোনো আধুনিক সংস্কার সুসংগততা দাবি করতে পারে না। সেই রায় বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনকে খোদাই করেছে এবং রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের একটি হিসেবে কাজ করার জন্য সক্ষম একজন পেশাদার লিভিয়াথানের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে, আমরা এই আইনশাস্ত্রকে সক্রিয় করার চেষ্টা করেছি, পরিষেবাতে কাঠামোগত সংস্কার প্রবর্তন, কর্মজীবনের পথগুলোকে নিয়মিতকরণ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেছি। এই পদক্ষেপগুলো কেবল আমলাতান্ত্রিক পুনর্গঠন নয়, এগুলো ভারসাম্য, স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য তৈরি সাংবিধানিক সংশোধন। কিন্তু সংস্কার, যতই মহৎ হোক না কেন, কেবল স্থাপত্যের ওপর টিকে থাকতে পারে না। এটি মালিকানার ওপর টিকে থাকে, যারা এর ছাউনির নীচে বাস করে এবং এর করিডোরের মধ্যে শ্বাস নেয়।