সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপি আনার হত্যার ঘটনায় তিন বাংলাদেশি আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ১৪:০৭

চিকিৎসা নিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে নিহত হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার ঘটনায় তিনজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও ডিএমপির ডিবিপ্রধান হারুন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় পুলিশ আমাদের নিশ্চিত করেছে এমপি আনার খুন হয়েছেন। তবে তদন্ত শেষে সবকিছু জানাবে বলে জানিয়েছে। এমপি আনারের হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা তিনজনই বাংলাদেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুনের মোটিভ এখনো জানা যায়নি। তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত কিছু বলতে পারছে না ভারতীয় পুলিশ।’

এর আগে, আজ বুধবার কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একজন ক্যাবচালক জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশের ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সালমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান ওরফে সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঋণের আসল টাকা হিসেবে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদে ও বিভিন্নভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে পর্যাপ্ত জামানত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে ঋণের অর্থের উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে প্রথমে ৯০ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ১০ জানুয়ারি ওই ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৫ জুন তা আরও বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, ঋণের শেষ দফায় সীমা বাড়ানোর সময় ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ওই বন্ধক নেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পর্যাপ্ত জামানত না থাকা সত্ত্বেও ঋণের সীমা বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

যাচাই ছাড়াই ঋণ দেওয়ার অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আগে স্কাইমার্কের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচয় ও কেওয়াইসি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর পরিশোধের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

এ ছাড়া ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আগে নেওয়া ঋণের ব্যবহার এবং ঋণের সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতাও যাচাই করা হয়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ না করে ঋণ অনুমোদন ও সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্কাইমার্কের ঋণে সুদ ও অন্যান্য চার্জ ছিল ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সা। ওই দিন ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা।

দুদক এই অর্থকে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও গন্তব্য গোপন করার উদ্দেশ্যে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম আসামি সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন। তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া মামলায় স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর, পরিচালক ইশরাত জাহান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে/হবে।

সালমান এফ রহমান ও তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৪টি ‘ভুয়া ও কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সেই বৃহত্তর অনুসন্ধানের একটি অংশ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার কার্যক্রম এখন এগোবে। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়; মামলার চূড়ান্ত দায় বা অপরাধ নির্ধারণ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


নির্বাচিত

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন রেজাউল হক

বিচারপতি মো. রেজাউল হক। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের প্রবীণ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে গমন ও অবস্থানকালে এবং আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় গমন ও অবস্থানকালে অথবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

এ বিষয়ে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে অর্ধশতক ধরে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ হামলা, দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শুক্রবার শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে হানিফ মিয়া নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় আড়াই শ জনকে আসামি করা হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গভীর রাতে আনুমানিক ২৫০ জনের একটি মুখোশধারী দল ক্লিনিকে অনধিকার প্রবেশ করে দায়িত্বরত দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর ভেতরে তাণ্ডব চালিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি ওষুধপত্র, সরকারি টিকা এবং নগদ অর্থ লুটপাট করে নেয়। পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ক্লিনিকের একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা অবকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলা ও ভাঙচুরের পর দখলদারিত্ব কায়েম করতে ক্লিনিকের জায়গায় ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এবং ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে স্থানীয়দের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনার পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পরোক্ষ ইন্ধন থাকার অভিযোগ তুললেও তাঁর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রটির নিরাপত্তায় ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটি গত ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা এবং শিশুদের টিকাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।


নির্বাচিত

আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে নয়: হাইকোর্ট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো ব্যক্তি একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া সেসব সাজা একই সময়ে ভোগ করার সুযোগ নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, পৃথক মামলায় দণ্ড দেওয়ার সময় সাজা একই সঙ্গে চলবে—এমন স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে।

চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয়টি মামলায় দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

‘মো. নাসির উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে রিটকারীকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

মামলার পটভূমি: রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে কারাগার থেকে মুক্তি না দিয়ে বে-আইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাসির উদ্দিন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পাশাপাশি তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।

রুলের শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী মো. শাহ আলম দাবি করেন, মামলাগুলোর বিচার চলাকালে নাসির উদ্দিন কারাগারে ছিলেন। ওই সময়কে তার সাজা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় কারাভোগের সময় সাজা থেকে সমন্বয় করলে তার সাজা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই তাকে কারামুক্ত করা উচিত।

অন্যদিকে বিবাদীদের আইনজীবী সামীর সাত্তার দাবি করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য মামলায়ও দণ্ডিত হলে এবং আদালত রায়ে সাজা একই সঙ্গে চলবে—এমন স্পষ্ট নির্দেশ না দিলে একটি সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সাজা কার্যকর হবে। নাসির উদ্দিনের মামলাগুলোতে বিচারিক আদালত সাজা একসঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সার্কুলার অনুযায়ী, বিচার চলাকালে যে মামলায় আসামি হেফাজতে ছিলেন, কেবল সেই মামলার সাজা থেকে ওই সময় বাদ যাবে। এক মামলায় কারাভোগের সময় অন্য মামলার সাজা ভোগের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না।

পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট রুল খারিজ করে রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেন, রিটকারী নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। বিচার বা অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারগত ত্রুটিও প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে ওই ধারার অধীনে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমে রিটের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ বা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই।

রিটকারীকে রায় ও আদেশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে নিম্ন আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

ছয় মামলার কারাভোগের হিসাব করতে হবে:

রিটকারীর আইনজীবীকে ছয়টি মামলার বিচার চলাকালে নাসির উদ্দিনের কারাভোগের সময়ের হিসাব করে একটি ‘ক্যালকুলেশন শিট’ প্রস্তুতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের নথি যাচাইয়ের পর হিসাবটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার সময় হিসাব করে সংশ্লিষ্ট মামলার সাজা থেকে তা বাদ দেবে। তবে এক মামলায় আটক থাকার সময় অন্য মামলার সাজা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচার চলাকালে আসামি যে নির্দিষ্ট মামলায় কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলার মোট সাজা থেকে ওই সময় বাদ দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী, পৃথক মামলায় বিচারিক আদালত সাজা একই সঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ না দিলে প্রতিটি মামলার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।

হাইকোর্ট আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ না করা পর্যন্ত রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করে বিচারিক আদালতের দেওয়া ফৌজদারি রায়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগও নেই।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি ৫ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম আবদুল্লাহ খালেদ সাকিব। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি পরিকল্পিতভাবে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মচারীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই নাশকতামূলক চক্রান্তের পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং এজাহারবহির্ভূত পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের ফোনালাপের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ওসির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি অনুমোদন লাভের পর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দায়ের করা হয়।


নির্বাচিত

হিসাব করা হতো না জিয়াউলের অস্ত্র-গুলির

সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক থাকাকালে বরিশালের র‌্যাব-৮-এ কিছু অস্ত্র-গুলি দিয়ে রেখেছিলেন, যার কোনো হিসাব করা হতো না বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর জেরায় এ কথা বলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাব্বির রহমান বলেন, ‘আমাদের র‌্যাব-৮-এর অভিযানের সময় যদি কোনো গুলি খরচ হতো, তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হতো। তবে জিয়া স্যার কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র-গুলি আমাদের দপ্তরে (বরিশালের র‌্যাব–৮) দিয়ে রেখেছিলেন, যার কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না।’

জিয়াউল আহসান ওই অস্ত্র–গুলি কোথা থেকে আনতেন, সে বিষয়ে মেজর (অব.) সাব্বির রহমান বলেন, ‘এই অতিরিক্ত অস্ত্র–গুলিগুলো আনা হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জব্দকৃত আলামত থেকে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কী কী অস্ত্র ছিল, তা আমার জানা নেই।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১৩তম সাক্ষী সাব্বির রহমান। ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাব্বির রহমানের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।

২০০৯ সালের অক্টোবরে সাব্বির রহমান র‌্যাব-৮ বরিশালে উপঅধিনায়ক হিসেবে যোগ দেন। তখন র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাব্বির র‌্যাবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ (হত্যা) করার নির্দেশ পাওয়ার পর তা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। গতকাল বৃহস্পতিবার জেরায় তিনি বলেন, ‘কারণ, আমার ভয় হচ্ছিল যে তাহলে আমার পরিণতিও আলকাছ মাঝির মতোই হবে।’

১৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দিতে মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, ‘২০১১ সালের জুন মাসে জিয়াউল আহসান তাকে ফোন করেন। ফোনে ‘‘গলফ কাজে’’ (কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে বা সাগরে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করাকে গলফ অপারেশন বলা হতো) নিয়োগপ্রাপ্ত মাঝিদের অন্যতম আলকাছ মাঝির বিষয়ে তার কাছে জানতে চান।’ উত্তরে তিনি জানান, এই মাঝির ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। এতে জিয়াউল আহসান কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আলকাছ মাঝি গলফ অপারেশনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছে, যা র‌্যাবের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’ এ কথা বলে জিয়াউল আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দেন।

বিষয়টি শোনার পর শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন বলে জানান সাব্বির রহমান। সপ্তাহখানেক পর ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারেন, জিয়াউল ফোনে ডেকে নেওয়ার পর থেকে আলকাছ মাঝিকে আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষী সাব্বির রহমান বলেন, ‘আলকাছ মাঝি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তার স্ত্রী জিডির (সাধারণ ডায়েরি) অনুলিপি র‌্যাবের কাছে দাখিল না করায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুসন্ধান করেননি। তারা আলকাছ মাঝির মোবাইলের কললিস্ট ধরে অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে আর অগ্রসর হতে পারেননি।’

২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের ধইঞ্চাবাড়ী এলাকায় র‌্যাব–৮ অভিযান করেছিল কি না, তা মনে নেই বলে জেরায় উল্লেখ করেন সাব্বির রহমান। জেরায় তিনি বলেন, ‘সেই অভিযানে তিনি ছিলেন কি না, তাও তার মনে নেই। অভিযানের বিষয়ে সেদিন প্রথম আলো পত্রিকায় মুঠোফোনে তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কি না, সেটাও মনে নেই।’

সাব্বির রহমান বলেন, ‘এ কথা সত্য নয় যে ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজু বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হন। এর মধ্যে আলকাছ মাঝিও ছিলেন।’

সাব্বির রহমান বলেন, ‘এ কথাও সত্য নয় যে আলকাছ মাঝি কখনো মাঝি ছিলেন না এবং তিনি বনদস্যু ছিলেন।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান। তিনি গ্রেপ্তার আছেন। গতকাল তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় স্ত্রীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণা’ মামলায় ফের রিমান্ডে গাজী নজরুল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় আবাও ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর আগের ৪ দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হাজির করে ফের ৭ দিন রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল জানিয়েছেন মরিয়ম আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মামলার ‘মূল রহস্য’ উদঘাটনে নজরুলকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এদিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তাকে পুলিশি পাহারায় আদালতে তোলা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে গাজী নজরুলের পক্ষে তার আইনজীবী মো মাহবুবুর রহমানসহ অনেকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপনের আদালত নজরুলের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর নজরুলের চার দিন ও তার ১ম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২২ সেপ্টেম্বর এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওইদিনই রাত ১০টার দিকে নজরুল ও তার ১ম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন।

বাদীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তিনি দেশীয় ও আমদানিকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন। প্রথম দিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলায় বলা হয়, ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো অর্থ জমা দেওয়া হতো। এ ছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয়। এতে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাদী নিজের দায় এড়ানো, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব মামলা করেছেন।

তাদের আরও দাবি, একই থানার পুলিশ চারটি মামলার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে পরবর্তী দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলেও তদন্তের তথ্যে প্রতীয়মান হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একটি আইনমান্যকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশ দেশের প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আশা, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিরোধের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত হবে।

মামলায় ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।


নির্বাচিত

গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুর গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় করা প্ররোচনার মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তা‌রের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে কারাগারে রাখার আদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ওবায়দুরের পক্ষে আদালতে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম থেকে রেসপন্স স্পেশাল ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলাটির তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ওবায়দুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সেদিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে গত মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।


নির্বাচিত

ক্রিকেটার সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৭ নভেম্বর

ছবি: জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারবাজার কারসাজি, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৭ বারের মতো পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের ওরফে হিরু, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজি ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।

এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন ওইদিন ধার্য করেন আদালত। এ নিয়ে সাতবার পেছালো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।

গত বছরের ১৭ জুন ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ অভিপ্রায়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ১৭ ধারা) পরিকল্পিতভাবে লঙ্ঘনপূর্বক নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টসমূহে অসাধু, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে ফটকা ব্যবসার মতো একাধিক লেনদেন, জুয়া ও গুজবের মাধ্যমে বাজারের কারচুপি করেছেন।

পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার সংঘবদ্ধভাবে ক্রমাগত ক্রয়-বিক্রয়পূর্বক কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারসমূহে বিনিয়োগে প্রতারণাপূর্বক প্রলুব্ধ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। এ ঘটনায় ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎপূর্বক অস্বাভাবিক রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ বা প্রসিড অব ক্রাইম শেয়ারবাজার থেকে সংঘবদ্ধভাবে উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়— আসামি মো. আবুল খায়ের ওরফে হিরুর শেয়ারবাজারে কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করে বাজার কারসাজিতে যোগসাজশ করেন। সরাসরি সহায়তাপূর্বক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কারসাজিকৃত শেয়ারে বিনিয়োগে প্রতারণাপূর্বক প্রলুব্ধ করে তাদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে শেয়ার বাজার হতে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন।


নির্বাচিত

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মরিয়মের মামা কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওবায়দুর রহমানের পক্ষে আদালতে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

ওবায়দুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে আদালত গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গাজী নজরুলের রিমান্ডও চলমান রয়েছে।

মামলাটির তদন্তভার পরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর পর তার বাবা ও পরিবারের পক্ষ থেকে ওবায়দুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ওবায়দুরের ভূমিকা ছিল।

এদিকে, গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাতেও ওবায়দুরের নাম আলোচনায় আসে। একটি প্রতিবেদনে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, ভিডিও ধারণের পর ওবায়দুর তার কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্বামী ও প্রথম স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও কারও প্ররোচনা বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা ডিবির তদন্তে নির্ধারিত হবে।


নির্বাচিত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে নঈম নিজামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি: বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজামের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

দুদক জানিয়েছে, নঈম নিজাম ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। একই সঙ্গে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের অভিযোগ, এসব অর্থ দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত এবং মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা হবে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগেও নঈম নিজাম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব আদালত অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন।


নির্বাচিত

জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যকে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। রিটে পদায়নের প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্ট বেঞ্চের মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় রিটিট ১৯৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত সোমবার রিটিট দায়ের করেন।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে।

রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী পদে বদলি/নিয়োগের উদ্দেশে জারি করা স্মারকগুলো ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যে পদগুলোতে বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেসব পদ বিধিমালার ৪(১) বিধি কিংবা ওই বিধিমালার তফসিলে উল্লেখ নেই। সে কারণে স্মারকগুলো বেআইনি হিসেবে ঘোষণার যোগ্য।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ–সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত অনুসারে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের অর্থ জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র। কোনোভাবেই জুডিশিয়াল সার্ভিসকে বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিসের সমপর্যায়ে রাখা যাবে না। জুডিশিয়াল সার্ভিসকে এসব সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত, বিলুপ্ত, প্রতিস্থাপিত ও একত্র করা যাবে না। বিচারিক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে বদলি/নিয়োগ ওই মামলায় ঘোষিত নীতির পরিপন্থি।

মূলত ওই সব যুক্তিতে রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনজারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। অথচ পদায়ন–সংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থী। আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।’

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যের পদায়ন–সংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, গত ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারকগুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।

আর রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।


নির্বাচিত

banner close