বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

'নিখোঁজ' আনার জীবিত নাকি মৃত ?

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৩ মে, ২০২৪ ০০:০২
শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত
শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৪ ০০:০২

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে খুন হয়েছেন না জীবিত আছেন সে বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে তিনি নিখোঁজের তথ্য থাকলেও তার খুন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে গিয়ে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসন সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে (বিইউ) ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এই এমপির হত্যার খবর পাওয়া গেল।

এদিকে কলকাতার নিউ টাউন থানায় হত্যার বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তারা বলছে, মরদেহ পাওয়া যায়নি, কিন্তু রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রক্ত কার? মরদেহ কোথায় গেল? এখন কী অবস্থায় আছেন এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার? তিনি জীবিত না মৃত?

এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় তার যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন, সেই গোপাল বিশ্বাস বুধবার সকালে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছ থেকে এমপি আনার হত্যার খবর পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশের ধারণা, এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা, কেন খুন করেছে; এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরই মধ্যে নিউ টাউন থানার পুলিশ ও বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং এইচডিএফ কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। ওই আবাসিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তারা।

গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে কাজ করছেন।

এদিকে, বুধবার আনোয়ারুল আজিম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধানমন্ডির নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছে। কারা তাকে খুন করেছে, খুনের মোটিভ কী? তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার একটি বাসায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টায় আছি। তাকে (আনোয়ারুল আজিম) হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরবে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতের কেউ এখানে জড়িত নন। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে, তিনি কেন খুন হয়েছেন, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। ভারতের পুলিশ আমাদের জানিয়েছে যে, তিনি খুন হয়েছেন, এটা নিশ্চিত।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমরা পরে সেগুলো প্রকাশ করব।’

এদিকে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৪২)। তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হকও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমপি আনোয়ারুল আজিম সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি ভারতে গেছেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে ডরিন।

অন্যদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিশিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ কলকাতার পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যোগাযোগ রাখছে। কোনো অগ্রগতি থাকলে জানানো হবে।

এমপি আনার চিকিৎসা করাতে গত ১২ মে দুপুরে দর্শনা-গেদে সীমান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় যান। প্রথম দুই দিন যোগাযোগ থাকলেও ১৪ মে থেকে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে আনোয়ারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ- হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকে ওই সংসদ সদস্যের খোঁজে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।

জানা গেছে, এমপি আনার কলকাতায় যাওয়ার পর শহরের অদূরে ব্যারাকপুর এলাকার বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পরে ১৪ মে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় লিখিত নিখোঁজ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) পাঠানো হয়।

পরে ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরতে পারেননি। পরে আনোয়ারুল আজিমকে তিনি (ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ১৭ মে আনোয়ারুলের মেয়ে গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর তিনি আনোয়ারুলের পরিচিতজনের ফোন করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার বিষয়ে জানতে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কী ঘটেছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন ডরিন। মামলা কীভাবে কোথায় করবেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি আজকের মধ্যেই হবে।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। আমরা নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনব। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’

কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনব।’

আনোয়ারুল আজিম ভারতে গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায়, আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার না হলেও তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানিয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ এখনো পায়নি পুলিশ। তবে কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত হাতে নিয়েছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে ওনাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পূর্ব কলকাতার নিউ টাউন অঞ্চলে যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম উঠেছিলেন, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের (এক্সাইজ) কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার রায়ের। তার কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।

আখতারুজ্জামানই ওই ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি এই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কবে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, ১৩ মে উনি এখানে এসেছিলেন।


সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ পরিবারের ছয়জনের ৪ কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তাঁর নিকটাত্মীয়সহ মোট ছয়জনের নামে থাকা ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির করা একটি বিশেষ আবেদনের ওপর ভিত্তি করে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে তাঁদের শেয়ার কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিক্রয় করতে পারবেন না। জাবেদ ছাড়াও শেয়ার অবরুদ্ধ হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবির সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি, মেঘনা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরী, আবুল কাসেম, নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিল ও উৎপল পাল। আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপটি সাবেক মন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক অপরাধের তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড বিভাগ এই মামলার অনুসন্ধান পরিচালনা করছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ‘ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড’ থেকে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা এবং অবৈধ মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে আরও ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অর্জিত এই ৬০ কোটি টাকার প্রকৃত উৎস আড়াল করার জন্য তাঁরা অত্যন্ত কৌশলী পথ বেছে নেন। তাঁরা প্রথমে এই বিশাল অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেন এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে মার্কিন ডলার হিসেবে পুনরায় বাংলাদেশে নিয়ে এসে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। সিআইডি জানিয়েছে, পাচারকৃত এই অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে ইমরানা জামান, উৎপল ও নাসিমের নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির প্রায় ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের বিশাল অংকের শেয়ার কেনা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, এই শেয়ার ক্রয়ের জন্য ‘স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড’ নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উৎপল পাল এবং পরিচালক নাসিম উদ্দিন দুজনেই সাবেক মন্ত্রী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত ৪০ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন হিসাবে জমা করে শেষ পর্যন্ত মেঘনা ব্যাংকের শেয়ার কেনার কাজে লাগানো হয়। বর্তমানে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে মেঘনা ব্যাংকে ৪ কোটি ৬৪ লাখের বেশি শেয়ার রয়েছে। সিআইডি মনে করছে, এই সম্পদগুলো দ্রুত অবরুদ্ধ করা না হলে অপরাধলব্ধ এই অর্থ পুনরায় বেহাত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

উল্লেখ্য যে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ইউসিবির ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে জাবেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় গত সেপ্টেম্বর মাসে জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। বর্তমানে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে থাকা সকল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মমতাজের বাড়ি জব্দের আদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জব্দকৃত সম্পদের তালিকায় রয়েছে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বিলাসবহুল বাড়িসহ মানিকগঞ্জের আরও দুটি বাড়ি। এ ছাড়া ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মমতাজের মোট ৪৭৪ শতাংশ জমি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হকের পক্ষ থেকে এই সম্পদ জব্দের আবেদনটি দাখিল করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক এই সংসদ সদস্য এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে দুদকের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল এই বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্ত চলাকালে এই সম্পদগুলো যাতে কোনোভাবে হস্তান্তর বা বিক্রয় করা না যায়, সেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই দুদক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই কণ্ঠশিল্পী মমতাজ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে অন্তরীণ আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কণ্ঠশিল্পী থেকে রাজনীতিতে এসে এমন বিশাল ভূসম্পত্তি গড়ে তোলার বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ আপাতত রাষ্ট্রের অধীনে চলে গেল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পেছাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে গেছে। তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় সিআইডির পক্ষ থেকে সময় আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করে আগামী মাসের এই নতুন তারিখটি নির্ধারণ করেন। দীর্ঘ এক দশক হতে চললেও এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরণের অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

এই ঐতিহাসিক সাইবার চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। সেই সময় হ্যাকাররা জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে সুইফট কোড ব্যবহার করে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১০ কোটি টাকা চুরি করে। চুরি করা এই বিশাল অংকের অর্থ পরবর্তীতে ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাসিনোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরের কোনো প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া হ্যাকারদের পক্ষে এমন নিখুঁতভাবে অর্থ পাচার করা সম্ভব ছিল না। এই লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এই মামলাটি করেছিলেন। মামলায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২, তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে সিআইডির একটি বিশেষ দল এই মামলার তদন্ত পরিচালনা করছে। যদিও বিগত বছরগুলোতে ফিলিপাইন থেকে কিছু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে চুরির মূল হোতা এবং অভ্যন্তরীণ যোগসাজশকারীদের শনাক্ত করে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের এই সময় বৃদ্ধির ফলে এখন ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।


মোসাব্বির হত্যা মামলার প্রধান শুটার জিন্নাতের স্বীকারোক্তি, তিন সহযোগীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শুটার জিন্নাত আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তিন আসামির রিমান্ডের এই আদেশ দেন। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামি জিন্নাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জিন্নাত স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানিয়েছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এদিন চার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মামলার অন্য তিন আসামি বিল্লাল, রিয়াজ ও আব্দুল কাদিরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে উল্লেখ করেন যে, মোসাব্বির বিগত সরকারের সময় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক হয়রানি ও কারাবাস সহ্য করেছেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হামলায় সুফিয়ান মাসুদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুনানিতে আরও জানানো হয় যে, ঘটনার সাথে জড়িত মূল শুটার রহিম এখনো পলাতক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে তা জানতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য। তবে শুনানি চলাকালে আসামি রিয়াজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং জানান যে ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারে হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মোসাব্বির ও সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুরুতর জখম হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সাড়াসি অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাহরিয়ার কবিরকে হাজির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা ও কঠোর পুলিশি পাহারার মধ্য দিয়ে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শাহরিয়ার কবিরের পাশাপাশি এই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আরও চারজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক এবং সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

শুনানি প্রক্রিয়ার পটভূমি সম্পর্কে জানা গেছে যে, গত ৩০ নভেম্বর প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং সেই প্রেক্ষিতেই আজ তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে আজ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো পৈশাচিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষে এই আইনি লড়াই শুরু করেন।

এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় দেশের সাবেক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়াও ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, ডা. হাছান মাহমুদ এবং সালমান এফ রহমানের মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, ডিএমপির সাবেক হারুন অর রশীদ এবং বিপ্লব কুমার সরকারকেও এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিরাই নন, বরং গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও উসকানি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আজকের এই শুনানির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর শাপলা চত্বরের সেই ট্র্যাজেডির ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আদালত চত্বরে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তজনা বিরাজ করছে।


সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

‘চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা’ আদায়ের পর তা পাচারের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার ভাটারা থানায় মামলাটি করার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে সিআইডি।

মামলার বাকি তিন আসামি হলেন- গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আনিসুলের সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত তৌফিকা করিম ও মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

‘তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে’ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করার তথ্য দিয়েছে পুলিশের এ বিভাগ।


দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মুসলিম আইন অনুসারে কোনো পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত বৈধ এবং এ ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মূলত সংশ্লিষ্ট ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিল’ বা সালিশি পরিষদের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল, সরাসরি স্ত্রীর সম্মতির ওপর নয়। এতদিন জনমনে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে প্রথম স্ত্রীর সশরীরে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ, তবে আদালত তাঁর ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমান আইনে এমন কোনো সরাসরি শর্তের অস্তিত্ব নেই যা স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করে।

আদালতের এই রায়ে ঐতিহাসিক ও বর্তমান আইনের তুলনামূলক চিত্রও ফুটে উঠেছে। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের কঠোর বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে প্রবর্তিত মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন এই আইনে নারীদের ক্ষেত্রে আগের কঠোর সাজা বহাল রাখা হলেও, পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি সরাসরি স্ত্রীর হাত থেকে সরিয়ে সালিশি পরিষদের কর্তৃত্বে ন্যস্ত করা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তাঁর জন্য এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আইনের দৃষ্টিতে সালিশি পরিষদের অনুমোদনই এখানে মুখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে সমাজে বহু বিবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনকারীরা। তাঁরা মনে করেন, এই রায়ের ফলে পারিবারিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে রিটকারী পক্ষ ইতিমধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁরা আদালতে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আইনি মহলে এই রায়টি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যার চূড়ান্ত সমাধান হয়তো পরবর্তী উচ্চতর আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত এই কড়া নির্দেশনা জারি করেছেন।

সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, খায়রুজ্জামান লিটন এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এমনকি প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধলব্ধ এই অর্থ ব্যবহার করে তিনি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন এবং এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। বর্তমানে এই বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে আরও গভীর অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতকে জানিয়েছেন যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে এই ৪১টি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই বিশাল অংকের অর্থ উত্তোলন করে অন্য কোনো গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলতে পারেন অথবা বিদেশে পাচার করে দিতে পারেন। এমতাবস্থায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বার্থে এই হিসাবগুলো থেকে সকল ধরণের লেনদেন বন্ধ রাখা জরুরি বলে মনে করেছেন আদালত। এই আদেশের ফলে লিটন ও তাঁর সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক লেনদেনে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলো।

উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে গত ৬ মার্চ খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আদালত খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও তাঁর স্ত্রী শাহীন আক্তার এবং দুই মেয়ে আনিকা ফারিহা জামান ও মায়সা সামিহা জামানের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তদন্তের এই পর্যায়ে এসে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি লিটন পরিবারের ওপর নতুন করে আইনি চাপের সৃষ্টি করল। সিআইডি মনে করছে, এই ব্যাংক হিসাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে যা বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।


আলিফ হত্যা মামলা ট্রাইব্যুনালে, আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গণেশকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানাধীন লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া গণেশ কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি গণেশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরিফ হত্যা মামলা ট্রাইব্যুনালে:

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, গত বুধবার এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন।

তিনি নিজের ক্ষমতাবলে কোনো মামলার বিচারিক আদালত নির্ধারণ করতে পারেন। সেভাবেই তিনি মামলাটির নথি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। তবে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন মামলার বাদী ও আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।


জাতীয় পার্টি ও এনডিএফ প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে কেন এই দুই রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের নৈতিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি যুক্তি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

এর আগে গত সপ্তাহে ‘জুলাই ঐক্য’র সংগঠক ও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বোরহান মাহমুদ) জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর আবেদনে জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটকারী দাবি করেছেন যে, যারা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী। এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে সরকারের আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিবকে। উচ্চ আদালত এখন তাঁদের কাছ থেকে রুলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব প্রত্যাশা করছে।

নির্বাচনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সারা দেশের ২৪৩টি আসনে তাঁদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে গত ২৬ ডিসেম্বর ল্কেওশোর হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করেছিল। অন্যদিকে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি’র সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক মোর্চা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর আইনি বৈধতা এখন আদালতের আদেশের ওপর অনেকটা ঝুলে গেল। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, হাইকোর্টের এই রুল সেই বিতর্কে নতুন আইনি মাত্রা যোগ করল। খুব শীঘ্রই এই রিটের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হতে পারে বলে জানা গেছে।


জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ : আইন উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ বলে মনে করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা।

আসিফ নজরুল জানান, জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ। আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব (গণঅভ্যুত্থানে) জনধিকৃত সরকারগুলোর পতনের পর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন হয়েছিল। এসব নজির ও আইনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে। ইনশাআল্লাহ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।


জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি: আইন উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা দিতে এবং তাঁদের সকল প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডকে আইনি বৈধতা দিতে ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন যে, জুলাইযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তাঁদের এই অবদানের বিপরীতে দায়মুক্তি পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। মূলত আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন ও খুনিদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যে ধরণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সেগুলোর কারণে যেন পরবর্তীতে কাউকে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে এই ধরণের আইন প্রণয়নের ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের স্পষ্ট বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায়ও অনুরূপ দায়মুক্তি আইন তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে তিনি জানান যে, আরব বসন্তের মতো বড় বড় গণঅভ্যুত্থানে জনধিকৃত সরকারের পতনের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসিফ নজরুলের মতে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয় বরং একটি সার্থক বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের পরবর্তী স্বাভাবিক ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।

অধ্যাদেশটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তথ্য দিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এর একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে এটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সায় পেলে এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে। আসিফ নজরুল তাঁর বার্তার শেষ অংশে ‘জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেন এবং শহীদ ও যোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় বর্তমান সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে জুলাই আন্দোলনের মূল কারিগর ও বিপ্লবীদের জন্য তা একটি বিশাল আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ১৪ জানুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম এবং হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং অন্যদিকে আসামিপক্ষ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাক্ষীর বর্ণনা এবং গুম ও খুনের সাথে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তাঁর বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তাঁরা যুক্তি দেখান যে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তথ্যগতভাবে সঠিক নয় এবং তাঁরা আসামিকে এই মামলা থেকে পূর্ণ অব্যাহতি প্রদানের আর্জি জানান। গত ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ আরও বেশ কয়েকটি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারির আদেশের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হবে কি না। জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।


banner close