শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

'নিখোঁজ' আনার জীবিত নাকি মৃত ?

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৩ মে, ২০২৪ ০০:০২
শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত
শেখ শফিকুল বারী
প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৪ ০০:০২

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে খুন হয়েছেন না জীবিত আছেন সে বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে তিনি নিখোঁজের তথ্য থাকলেও তার খুন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে গিয়ে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসন সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে (বিইউ) ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এই এমপির হত্যার খবর পাওয়া গেল।

এদিকে কলকাতার নিউ টাউন থানায় হত্যার বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তারা বলছে, মরদেহ পাওয়া যায়নি, কিন্তু রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রক্ত কার? মরদেহ কোথায় গেল? এখন কী অবস্থায় আছেন এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার? তিনি জীবিত না মৃত?

এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় তার যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন, সেই গোপাল বিশ্বাস বুধবার সকালে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছ থেকে এমপি আনার হত্যার খবর পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশের ধারণা, এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা, কেন খুন করেছে; এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরই মধ্যে নিউ টাউন থানার পুলিশ ও বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং এইচডিএফ কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। ওই আবাসিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তারা।

গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে কাজ করছেন।

এদিকে, বুধবার আনোয়ারুল আজিম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধানমন্ডির নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছে। কারা তাকে খুন করেছে, খুনের মোটিভ কী? তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার একটি বাসায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টায় আছি। তাকে (আনোয়ারুল আজিম) হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরবে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতের কেউ এখানে জড়িত নন। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে, তিনি কেন খুন হয়েছেন, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। ভারতের পুলিশ আমাদের জানিয়েছে যে, তিনি খুন হয়েছেন, এটা নিশ্চিত।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমরা পরে সেগুলো প্রকাশ করব।’

এদিকে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৪২)। তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হকও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমপি আনোয়ারুল আজিম সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি ভারতে গেছেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে ডরিন।

অন্যদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিশিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ কলকাতার পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যোগাযোগ রাখছে। কোনো অগ্রগতি থাকলে জানানো হবে।

এমপি আনার চিকিৎসা করাতে গত ১২ মে দুপুরে দর্শনা-গেদে সীমান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় যান। প্রথম দুই দিন যোগাযোগ থাকলেও ১৪ মে থেকে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে আনোয়ারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ- হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকে ওই সংসদ সদস্যের খোঁজে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।

জানা গেছে, এমপি আনার কলকাতায় যাওয়ার পর শহরের অদূরে ব্যারাকপুর এলাকার বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পরে ১৪ মে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় লিখিত নিখোঁজ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) পাঠানো হয়।

পরে ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরতে পারেননি। পরে আনোয়ারুল আজিমকে তিনি (ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ১৭ মে আনোয়ারুলের মেয়ে গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর তিনি আনোয়ারুলের পরিচিতজনের ফোন করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার বিষয়ে জানতে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কী ঘটেছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন ডরিন। মামলা কীভাবে কোথায় করবেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি আজকের মধ্যেই হবে।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। আমরা নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনব। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’

কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনব।’

আনোয়ারুল আজিম ভারতে গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায়, আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার না হলেও তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানিয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ এখনো পায়নি পুলিশ। তবে কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত হাতে নিয়েছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে ওনাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পূর্ব কলকাতার নিউ টাউন অঞ্চলে যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম উঠেছিলেন, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের (এক্সাইজ) কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার রায়ের। তার কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।

আখতারুজ্জামানই ওই ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি এই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কবে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, ১৩ মে উনি এখানে এসেছিলেন।


সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়

আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৬ ২৩:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন বিএনপিসমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিসমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ২টায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।

নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে বিএনপিসমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়েছে ১৩টিতে। অপরদিকে জামায়াতসমর্থিত প্যানেল পেয়েছে একটি পদ। এর আগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি।

বিএনপিসমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দু’টি সহসভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দু’টি সহসম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।

সদস্য পদে এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ৭টি সদস্য পদের একটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতসমর্থিত প্যানেলের মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে দুই দিন ধরে ভোটগ্রহণ শেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গণনা শুরু হয় এবং রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এবার ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবীর মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত থেকেছেন। গত কয়েকটি নির্বাচনের মধ্যে ভোটের এই হার সবচেয়ে কম।


গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও রূপাকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায়ের করা মামনতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে এদিন সকালে তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আগামী ৭ জুন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করিনি। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা পাওয়া যাচ্ছে যে পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটা যে ঘটবে তারা আগে থেকেই জানতো এবং এই টোটাল পরিকল্পনার মধ্যে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে ‘সমীকরণ’ রিপোর্ট প্রকাশের মধ্য দিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তারা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে মৃত্যুর তথ্য আড়াল করতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, তদন্ত চলছে যদি আরও কারও নাম আছে অবশ্যই তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে এই মামলায়।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যেসব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা তৎকালীন সময়ে একটা সরকারকে ফ্যাসিস্ট করার ভূমিকায় ছিল। তাদের কারণে আজকে একটা রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট হিসেবে অবিহিত হইলো, একটা সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার হিসেবে আবির্ভূত হইলো। তাহলে এসবের সাথে কোন সাংবাদিক জড়িত থাকে তারা কি বিচারের আওতায় আসবে না? তারা যদি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের অপরাধী বানায় তাহলে কি সহযোগী হিসেবে আসবেন না? আমরা কোন নির্দোষ মানুষকে বিচারের আওতায় আনতে চাই না, আনবোও না। কোনো নির্দোষ মানুষ যাতে আমাদের বিচারের মধ্যে না আসে আবার কোনো অপরাধী যাতে পার পেয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।

এদিকে, আসামি মোজাম্মেল বাবুর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি হয়েছেন এটি আমাদের জানামতে বিরল। সম্ভবত বাংলাদেশেই প্রথম এমনটি ঘটল, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের (সাংবাদিকদের) ন্যারেটিভ বা সংবাদ কারো পছন্দ হতে পারে আবার কারো অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু কারো অপছন্দ হয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে বা অন্য কোনোভাবে মামলা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

এর আগে, ৭ মে এই মামলায় দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে হাজিরের আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমুখ এ মামলার আসামি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তদন্ত শেষ হলে প্রসিকিউশন প্রতিবেদন দাখিল করবেন।


হাছান-নওফেলসহ ১৭ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ মোট ১৭ জন আসামির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত জানান এবং মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ পলাতক আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের আবেদনের পাশাপাশি শুনানির সময় প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় মোট ২২ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আজ শুনানির সময় চারজন বন্দি আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়, যাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান অন্যতম।

পলাতক আসামিদের দীর্ঘ তালিকায় ড. হাছান মাহমুদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন এবং চট্টগ্রামের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতা। এর আগে গত ৩ মে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নেয়।

মামলার অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, মো. ফারুক, তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ও হৃদয় চন্দ্রকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার জন্য আসামিদের দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক সাধারণ মানুষকে গুরুতর আহত করার দায়ভারও তাঁদের ওপর চাপানো হয়েছে।


যৌতুকের মামলায় জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদির ‘সহকর্মী’ তানভীর রাহী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদির ‘সহকর্মী’ তানভীর রাহী আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী

যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান রাহী। শুনানি শেষে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম ৫০০ টাকা মুচলেকায় আগামী ৯ জুন পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ রাহীর স্ত্রী ফাহিমা বিনতে মাহবুব পুস্পিতা তার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। পরে আদালত তাকে ১৫ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আজ বুধবার আদালতে রাহীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশতিয়াক শাহরিয়ার। তিনি আদালতকে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে রাহী ও পুস্পিতার বিয়ে হয়। পরবর্তীসময়ে পারিবারিক কলহের কারণে তারা আলাদা থাকছেন। তবে বর্তমানে দুজনই বিষয়টি মীমাংসা করে আবার সংসার করতে আগ্রহী। এ কারণে আপসের সুযোগ রাখতে জামিন আবেদন করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৭ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে পুস্পিতার কাছে যৌতুক দাবি করা হয় এবং এ নিয়ে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় একটি জিডি করেন পুস্পিতা।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১ মার্চ রাতে লালবাগ হোস্টেলের সামনে দেখা করতে ডেকে গাড়ি কেনার জন্য আবারও ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন রাহী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির ঘনিষ্ঠ ও সাবেক সহকর্মী হিসেবে পরিচিত তানভীর রাহী। তবে তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তিনি।


নতুন মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ভ্যানচালক রিপন হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় ছাত্র-জনতার ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভ্যানচালক রিপন। ওইদিন তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দু’দিন পর ৭ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে রামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২৮ আগস্ট নিহতের স্ত্রী শামীমা আক্তার রুমা বাদী হয়ে ২০০ জনকে আসামি করে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


মানবতাবিরোধী অপরাধ: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিচার শুরুর আদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জন আসামির বিচার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ জুন এই মামলার প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শুনানি শেষে আদালত এই মামলার সকল পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শিক্ষার্থী পারভেজ ও ছয় বছর বয়সী শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণের লক্ষ্যে প্রসিকিউশন ইতোমধ্যে ১৮টি ভিডিও ক্লিপ, অডিও রেকর্ড, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার তথ্যসমৃদ্ধ দালিলিক নথি এবং ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর একটি তালিকা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় শিক্ষার্থী ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় পলাতক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ১৭ জন আসামির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া এই সকল অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ট্রাইব্যুনাল।


ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১২ মে) এ আদেশ দিয়েছেন।

১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।

পাঁচ বছর আগের ওই রিটের ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ চেয়ে সম্পূরক আবেদনটি করেন রিট আবেদনকারী। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

পরে শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আইনেই আছে যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে হবে। আবেদনকারীপক্ষ বলেছে, যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু আসন্ন ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীবাহী ট্রেনে এই কামরা বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে ওই রিট করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া রুলে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনের ওই দুটি বিধান বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। রেলওয়েসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।


সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২১ জুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কোতোয়ালি থানার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই দিন ঠিক করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১২ মে) মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য সময় আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করেন।

নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ অগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামিরা সদরঘাট ২ নম্বর মসজিদসংলগ্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রেখে অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে হাতে-নাতে আটক হন। পরে তারা তাদের নাম-ঠিকানা জানায়। আটকের পর আসামি আনিসুল হকের কাছে থাকা ব্যাগে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়। এ সময় সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানে সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, এক হাজার ৩২১ ইউরো, ৬২৩০ ভুটানের গুলট্রাম, ৩৩২০ থাই বাথ ও ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলার পরে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক সচেতনভাবে এবং জ্ঞাতসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদন ব্যতীত ব্যবসায়িক উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিজ হেফাজতে রাখেন। তারা জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।


রেজাউল হত্যার দায়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

আপডেটেড ১২ মে, ২০২৬ ২২:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মণ্ডল।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন সাজার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১০ জন খালাস পেয়েছেন। তবে, আসামি জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডলের সাজা হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দ থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা বাবলু সরদারের সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বাবলু সরদারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে আতর আলীর নেতৃত্বে বাবলু সরদার, টোকন সরদার, রায়হান সরদার, গাজীর সরদারসহ বেশ কয়েকজন আতর আলী বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। হাফিজুল চেয়ারম্যান সমর্থকরা সেই পথ দিয়ে ফেরার পথে তাদের আটকে মারধর করা হয়। সেই সময় সেখান দিয়ে ফিরছিলেন রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার। তাকেও আটক করে মারধর করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান আবু ডাক্তার। এ ঘটনায় মো. মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরে ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।


দুদকের মামলায় আবেদ আলীর ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৭ জুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৭ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।

দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা ও ২০ কোটি ৪১ লাখ তিন হাজার ৭৪১ কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ২৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আবেদ আলীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

অপর মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, এক কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে। তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা ও এক কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট তিন কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৩ প্রসিকিউটর নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন ৩ জন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- মাগফুর রহমান শেখ, ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া, ব্যারিস্টার রাফিউল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ নতুন ৩ জন প্রসিকিউটরকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

তাতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য এই তিন জনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়োগ প্রদান করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

প্রজ্ঞাপনে, মাগফুর রহমান শেখকে ডেপুটি অ্যাটর্নি নারেল পদমর্যাদায়, ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া এবং ব্যারিস্টার রাফিউল ইসলামকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।


সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার ছয় মামলায় পাঁচটিতে জামিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত ফারজানা রুপাকে ছয়টি মামলায় এবং শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে তাদের প্রত্যেকের একটি করে মামলায় জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। ফলে সব মামলায় জামিন না হওয়ায় তারা এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গতকাল সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।


গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী জিনাত হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তীর্থ সলিল রায়।

রায়ের পর আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। অর্থাৎ, গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে— তা আজকের পর থেকে জানার কোনো সুযোগ নেই। রিটটি চলমান থাকবে এবং রায় অমান্য করলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি এ রিট আবেদন দায়ের করা হয়। একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন।

রুলে বলা হয়, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাত বিবাদীকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

রিট আবেদনের সময় ইশরাত হাসান জানিয়েছিলেন, ভারতে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের কারণে অনেক সময় প্রসূতি মা মানসিক চাপে পড়েন। এমনকি পারিবারিক চাপে গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটে।

পরে ইউএনএফপিএ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর প্রিভেনশন অব সন প্রিফারেন্স অ্যান্ড দ্য রিস্ক অব জেন্ডার বায়াসড সেক্স সিলেকশন’ শীর্ষক নীতিমালা প্রণয়ন করে।

নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। এ ছাড়া বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে রাখা হয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পরে নীতিমালাটি হলফনামার মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

ইশরাত হাসান বলেন, গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়টি সরকার কোনো আপত্তি ছাড়াই গ্রহণ করেছে। কারণ, এ ধরনের তথ্য জানার ফলে মা মানসিক চাপে পড়তে পারেন, যা মা ও অনাগত সন্তান—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সন্তান জন্মের আগে ছেলে না মেয়ে—তা জানানো বন্ধ হবে। এর ফলে সুস্থ সন্তান জন্ম নিশ্চিত করার পাশাপাশি কন্যাসন্তানকে কেন্দ্র করে মায়েদের ওপর নির্যাতন ও গর্ভপাতের ঝুঁকিও কমে আসবে।


banner close