ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে খুন হয়েছেন না জীবিত আছেন সে বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে তিনি নিখোঁজের তথ্য থাকলেও তার খুন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতে গিয়ে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসন সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে (বিইউ) ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এই এমপির হত্যার খবর পাওয়া গেল।
এদিকে কলকাতার নিউ টাউন থানায় হত্যার বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তারা বলছে, মরদেহ পাওয়া যায়নি, কিন্তু রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রক্ত কার? মরদেহ কোথায় গেল? এখন কী অবস্থায় আছেন এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার? তিনি জীবিত না মৃত?
এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় তার যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন, সেই গোপাল বিশ্বাস বুধবার সকালে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছ থেকে এমপি আনার হত্যার খবর পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশের ধারণা, এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা, কেন খুন করেছে; এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরই মধ্যে নিউ টাউন থানার পুলিশ ও বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং এইচডিএফ কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। ওই আবাসিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তারা।
গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, বুধবার আনোয়ারুল আজিম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধানমন্ডির নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছে। কারা তাকে খুন করেছে, খুনের মোটিভ কী? তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার একটি বাসায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টায় আছি। তাকে (আনোয়ারুল আজিম) হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরবে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতের কেউ এখানে জড়িত নন। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে, তিনি কেন খুন হয়েছেন, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। ভারতের পুলিশ আমাদের জানিয়েছে যে, তিনি খুন হয়েছেন, এটা নিশ্চিত।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমরা পরে সেগুলো প্রকাশ করব।’
এদিকে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৪২)। তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হকও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমপি আনোয়ারুল আজিম সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি ভারতে গেছেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে ডরিন।
অন্যদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিশিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ কলকাতার পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যোগাযোগ রাখছে। কোনো অগ্রগতি থাকলে জানানো হবে।
এমপি আনার চিকিৎসা করাতে গত ১২ মে দুপুরে দর্শনা-গেদে সীমান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় যান। প্রথম দুই দিন যোগাযোগ থাকলেও ১৪ মে থেকে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে আনোয়ারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ- হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকে ওই সংসদ সদস্যের খোঁজে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
জানা গেছে, এমপি আনার কলকাতায় যাওয়ার পর শহরের অদূরে ব্যারাকপুর এলাকার বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পরে ১৪ মে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় লিখিত নিখোঁজ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) পাঠানো হয়।
পরে ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরতে পারেননি। পরে আনোয়ারুল আজিমকে তিনি (ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ১৭ মে আনোয়ারুলের মেয়ে গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর তিনি আনোয়ারুলের পরিচিতজনের ফোন করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার বিষয়ে জানতে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কী ঘটেছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন ডরিন। মামলা কীভাবে কোথায় করবেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি আজকের মধ্যেই হবে।’
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। আমরা নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনব। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’
কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনব।’
আনোয়ারুল আজিম ভারতে গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায়, আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার না হলেও তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ এখনো পায়নি পুলিশ। তবে কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত হাতে নিয়েছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে ওনাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূর্ব কলকাতার নিউ টাউন অঞ্চলে যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম উঠেছিলেন, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের (এক্সাইজ) কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার রায়ের। তার কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।
আখতারুজ্জামানই ওই ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি এই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কবে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, ১৩ মে উনি এখানে এসেছিলেন।
অন্ধকার রাতে একটা সময় মানুষ সঙ্গী খুঁজত সাহসের জন্য, নিরাপত্তার জন্য। মানুষের উপস্থিতি টের পেলে মনে জন্ম নিত ভরসা। কিন্তু আজ, চেনা মানুষের ছায়াও যেন আমাদের বুকে কাঁপন ধরায়। ঘাতকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে নারী ও শিশুদের মাঝে—কখনো পরম পূজনীয় বাবা, কখনো স্বামী, আবার কখনো ঘরের পাশের অতি পরিচিত প্রতিবেশী হয়ে। ফলে যে হাত পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রাখার কথা, সেই হাতই এখন ধারাল অস্ত্রে রূপ নিয়েছে। যে কোলকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ভাবা হয়, সেই কোলেই নিভে যাচ্ছে নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সংবাদ একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধই নয়, সামাজিক মনস্তত্ত্বের গভীর অসুস্থতার লক্ষণ।
আমেরিকান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সান্ড্রা ব্লুমের মতে, অপরাধ সংঘটনে ও সহিংসতা বিস্তারে ব্যক্তির চেয়ে সমাজ অধিক দায়ী। যে সমাজে আগ্রাসনকে উৎসাহিত করা হয়, বা যে সমাজ-রাষ্ট্রের রীতিনীতি-আইন-প্রতিষ্ঠান অপরাধ সংঘটনে সহায়ক, সেখানে এ ধরনের প্রবণতা বেশি। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হত্যার মতো সহিংস অপরাধের সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতপূর্ণ শৈশব, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস, মাদকাসক্তি, তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার অক্ষমতাসহ ব্যক্তিত্বের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য, পিতা-মাতার অপরাধ প্রবণতা প্রভৃতির সম্পর্ক রয়েছে।
বিখ্যাত অস্ট্রিয়ান নিউরোলজিস্ট ও মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতবাদ উদ্ধৃত করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কমিউনিটি ও সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অসচেতনে আত্মধ্বংসী মৃত্যু প্রবৃত্তি থাকে। এ প্রবৃত্তির অনিয়ন্ত্রিত আধিপত্যই মানুষের আগ্রাসী আচরণের জন্য দায়ী। কানাডিয়ান-আমেরিকান সাইকোলজিস্ট আলবার্ট বান্দুরার সামাজিক শিক্ষার মতবাদ অনুযায়ী, মানুষ সমাজের অন্যদের দেখে আচরণ শেখে এবং তা পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করে। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, সমাজের খ্যাত বা পরিচিত ব্যক্তি, ‘রোল-মডেল’, গল্প-উপন্যাস-নাটক-সিনেমার চরিত্র থেকে ও দেখে মানুষ শেখে এবং পছন্দ ও প্রণোদনা অনুযায়ী তা আত্মস্থ করে।
তিনি বলেন, এই মতবাদ অনুযায়ী, আমাদের চারপাশের মানুষ, প্রিয় টিভি শো, সিনেমা বা কম্পিউটার গেমের নায়ক চরিত্র যতটা অপরাধপ্রবণ হবে, আমাদের অপরাধ প্রবণতার ঝুঁকিও তত বাড়বে। মানুষ যত অপরাধী, খুনিকে পুরস্কৃত হতে, বাহবা পেতে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও পূজনীয় হতে দেখবে, ততই এসব অপরাধে প্রবৃত্ত হতে উদ্বুদ্ধ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মূল্যবোধের সংকট, মাদকের বিস্তার, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং অনলাইনে উসকানিমূলক কনটেন্টের প্রভাব মানুষকে ক্রমেই সহিংস করে তুলছে। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের দুর্বল প্রয়োগও অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। ফলে অপরাধীরা অনেক সময় ভয়হীন হয়ে উঠছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিত্যদিনের এসব নৃশংস ঘটনায় মানুষের একাংশের মধ্যে এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হচ্ছে। ভয়াবহ কোনো হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের সংবাদও অনেকের কাছে যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এটি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। তারা বলছেন, এই হিংস্রতা ও নৃশংসতার বিস্তার ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ; সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি জোরদার না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন সন্তান মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং রসুল মিয়াসহ (২২) পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-আর্থিক লেনদেন, পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের জেরে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। শুধু গাজীপুরেই নয় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অহরহ ঘটনা ঘটেই চলেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে শুধু মাচে©ই ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। আর এই সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৬টি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসে ১১৫ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে মারা যায় ৩৪ শিশু। আর পারিবারিক পরিমণ্ডলে নির্যাতনে মারা যায় ২৫ শিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১১ জনকে। আর ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করে দুই শিশু। একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ১৯৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই ৪ মাসে নারীদের বিরুদ্ধে ১৪১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে; যার মধ্যে ৫৬ জন নারী তার স্বামীর দ্বারা হত্যার শিকার হন। স্বামীর পরিবার দ্বারা হত্যার শিকার হন ৮ জন। আর নিজের পরিবারের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ২১ জন নারী। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ৪ মাসে ধর্ষণের শিকার হন ১৮০ জন নারী। যার মধ্যে গ্যাং রেপের ঘটনা ছিল ৫৬টি। ধর্ষণের শিকার হওয়ার নারীদের মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সি শিশুও আছে অন্তত ১৬ জন। যার মধ্যে একজনকে আবার গ্যাং রেপ করা হয়। আর ৪ মাসে ধর্ষণের কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ৪৪ নারী। সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছরের কিশোরীর ৭ মাসের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা মানুষের মনোজগতে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফারহানা জামান বলেন, সমাজে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও নৃশংসতার পেছনে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের নেতিবাচক প্রভাব কাজ করছে। তিনি বলেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন দ্রুত সফলতা ও তাৎক্ষণিক ভোগের মানসিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা হতাশা ও সহিংস প্রবণতা বাড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষের শৈশব দারিদ্র্য ও মানসিক বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটে। সেই বঞ্চনা ও হতাশা অনেক সময় পরবর্তীতে সহিংস আচরণে রূপ নেয়। একই সঙ্গে যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং মাদকের বিস্তার সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে ড. ফারহানা জামান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও আদর্শিক পরিবর্তন জরুরি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সহজে বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামের নারী ও প্রান্তিক মানুষের কাছে বিচার পাওয়ার পথ এখনো জটিল ও দূরবর্তী। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সহজ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা জোরদার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নৃশংস ও সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং মাদকের প্রভাব বড় কারণ হিসাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা খুব শক্তিশালী ছিল। মানুষ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকত। সবাই সবার খোঁজখবর রাখতেন, সামাজিক বন্ধন ছিল দৃঢ়। যৌথ পরিবার ও সামাজিক সংযোগ মানুষের ওপর এক ধরনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ তৈরি করত। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর জীবন ও নিউক্লিয়ার পরিবার ব্যবস্থার বিস্তারে মানুষ ক্রমেই একাকিত্ব, হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগছে। এই হতাশা থেকেই অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং পরে সহিংস অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘটনাসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় আমরা দেখেছি, মাদকের বড় ধরনের প্রভাব ছিল। মাদক একজন মানুষকে শুধু অপরাধপ্রবণই করে না, বরং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের মতে, অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করাও জরুরি।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ মনে করেন, সমাজে বাড়তে থাকা হত্যা ও নৃশংসতার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা বড় কারণ হিসাবে কাজ করছে। পরিবার ও সমাজের মধ্যে যে মূল্যবোধ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। এছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়াও সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে এবং ভুক্তভোগীরা চূড়ান্ত বিচার দেখে যেতে পারেন না। ফলে অপরাধীরা শাস্তির ভয় হারিয়ে ফেলছে।
মনজিল মোরশেদ আরো বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই জায়গায়ও নানা দুর্বলতা রয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের ওপর মামলার চাপ বেড়ে যাওয়ায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিচারকের তুলনায় মামলার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অসংখ্য মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এতে সমাজে আইনের কার্যকারিতা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ছে।
আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন শোনেননি হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত বলেছেন, আমরা বিসিবির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করব না।
রোববার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেছেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান। এর আগে বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
পরে ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, আদালত বলেছেন, আমরা বিসিবির নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করব না।
গত শনিবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির ১১ সদস্যের এডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির কর্মকর্তাসহ ১২ জন এ রিট আবেদন করেন।
আবেদনকারী ১২ জনের মধ্যে দেশের ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট।
রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ) এর মাজারে ওরস চলাকালে সময়ে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল ও আরমান দেওয়ান। ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক গৌতম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওরস চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে।
এ ঘটনায় রেশমী বেগম নামে এক নারী মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার ইন্সপেক্টর তারিকুর রহমান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দিয়েছেন।
এর ফলে ওই দুই মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তার কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এর আগে ১০ মামলায় হাইকোর্টে জামিন মঞ্জুরের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে গত ২ মার্চ একটি মামলায় এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দুই মামলায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করলে তা আজ চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ ও জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশে কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছি।
প্রসঙ্গত, এর আগে কয়েক দফায় ১০ মামলায় আইভীকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখে আদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (১৭ মে) রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১২ মে বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন পান।
আদেশের পরে তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই। তবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে বুধবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
এরও আগে ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেয়।
পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ ও আদাবর থানায় করা রুবেল হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্টে আবেদন করেন। সেই দুই মামলায় ১২ মে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রবিবার আদালতে আমির হামজার হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আজ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।’
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। ওই দিন আদালত তাকে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে রবিবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচার করার অভিযোগে ৫ চীনা নাগরিককে ফের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৬ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে গত দুই দিন থেকে রিমান্ডে থাকা আরো তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) একই অপরাধে মোট আটজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওইদিন রোকন উদ্দিন নামে এক আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), জেমস ঝু (৪৩)। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)।
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন বিএনপিসমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিসমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ২টায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।
নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে বিএনপিসমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়েছে ১৩টিতে। অপরদিকে জামায়াতসমর্থিত প্যানেল পেয়েছে একটি পদ। এর আগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি।
বিএনপিসমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দু’টি সহসভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দু’টি সহসম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।
সদস্য পদে এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ৭টি সদস্য পদের একটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতসমর্থিত প্যানেলের মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে দুই দিন ধরে ভোটগ্রহণ শেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গণনা শুরু হয় এবং রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এবার ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবীর মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত থেকেছেন। গত কয়েকটি নির্বাচনের মধ্যে ভোটের এই হার সবচেয়ে কম।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায়ের করা মামনতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে এদিন সকালে তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আগামী ৭ জুন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করিনি। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা পাওয়া যাচ্ছে যে পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটা যে ঘটবে তারা আগে থেকেই জানতো এবং এই টোটাল পরিকল্পনার মধ্যে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে ‘সমীকরণ’ রিপোর্ট প্রকাশের মধ্য দিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তারা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে মৃত্যুর তথ্য আড়াল করতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও যোগ করেন, তদন্ত চলছে যদি আরও কারও নাম আছে অবশ্যই তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে এই মামলায়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, যেসব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা তৎকালীন সময়ে একটা সরকারকে ফ্যাসিস্ট করার ভূমিকায় ছিল। তাদের কারণে আজকে একটা রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট হিসেবে অবিহিত হইলো, একটা সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার হিসেবে আবির্ভূত হইলো। তাহলে এসবের সাথে কোন সাংবাদিক জড়িত থাকে তারা কি বিচারের আওতায় আসবে না? তারা যদি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের অপরাধী বানায় তাহলে কি সহযোগী হিসেবে আসবেন না? আমরা কোন নির্দোষ মানুষকে বিচারের আওতায় আনতে চাই না, আনবোও না। কোনো নির্দোষ মানুষ যাতে আমাদের বিচারের মধ্যে না আসে আবার কোনো অপরাধী যাতে পার পেয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।
এদিকে, আসামি মোজাম্মেল বাবুর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি হয়েছেন এটি আমাদের জানামতে বিরল। সম্ভবত বাংলাদেশেই প্রথম এমনটি ঘটল, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের (সাংবাদিকদের) ন্যারেটিভ বা সংবাদ কারো পছন্দ হতে পারে আবার কারো অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু কারো অপছন্দ হয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে বা অন্য কোনোভাবে মামলা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এর আগে, ৭ মে এই মামলায় দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে হাজিরের আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমুখ এ মামলার আসামি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তদন্ত শেষ হলে প্রসিকিউশন প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ মোট ১৭ জন আসামির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত জানান এবং মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ পলাতক আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের আবেদনের পাশাপাশি শুনানির সময় প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় মোট ২২ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আজ শুনানির সময় চারজন বন্দি আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়, যাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান অন্যতম।
পলাতক আসামিদের দীর্ঘ তালিকায় ড. হাছান মাহমুদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন এবং চট্টগ্রামের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতা। এর আগে গত ৩ মে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নেয়।
মামলার অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, মো. ফারুক, তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ও হৃদয় চন্দ্রকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার জন্য আসামিদের দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক সাধারণ মানুষকে গুরুতর আহত করার দায়ভারও তাঁদের ওপর চাপানো হয়েছে।
জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদির ‘সহকর্মী’ তানভীর রাহী আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী
যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান রাহী। শুনানি শেষে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম ৫০০ টাকা মুচলেকায় আগামী ৯ জুন পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ রাহীর স্ত্রী ফাহিমা বিনতে মাহবুব পুস্পিতা তার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। পরে আদালত তাকে ১৫ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আজ বুধবার আদালতে রাহীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশতিয়াক শাহরিয়ার। তিনি আদালতকে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে রাহী ও পুস্পিতার বিয়ে হয়। পরবর্তীসময়ে পারিবারিক কলহের কারণে তারা আলাদা থাকছেন। তবে বর্তমানে দুজনই বিষয়টি মীমাংসা করে আবার সংসার করতে আগ্রহী। এ কারণে আপসের সুযোগ রাখতে জামিন আবেদন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৭ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে পুস্পিতার কাছে যৌতুক দাবি করা হয় এবং এ নিয়ে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় একটি জিডি করেন পুস্পিতা।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১ মার্চ রাতে লালবাগ হোস্টেলের সামনে দেখা করতে ডেকে গাড়ি কেনার জন্য আবারও ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন রাহী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির ঘনিষ্ঠ ও সাবেক সহকর্মী হিসেবে পরিচিত তানভীর রাহী। তবে তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তিনি।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ভ্যানচালক রিপন হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় ছাত্র-জনতার ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভ্যানচালক রিপন। ওইদিন তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দু’দিন পর ৭ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে রামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২৮ আগস্ট নিহতের স্ত্রী শামীমা আক্তার রুমা বাদী হয়ে ২০০ জনকে আসামি করে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
গত জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জন আসামির বিচার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ জুন এই মামলার প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত এই মামলার সকল পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শিক্ষার্থী পারভেজ ও ছয় বছর বয়সী শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণের লক্ষ্যে প্রসিকিউশন ইতোমধ্যে ১৮টি ভিডিও ক্লিপ, অডিও রেকর্ড, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার তথ্যসমৃদ্ধ দালিলিক নথি এবং ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর একটি তালিকা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় শিক্ষার্থী ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় পলাতক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ১৭ জন আসামির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া এই সকল অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ট্রাইব্যুনাল।