ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে খুন হয়েছেন না জীবিত আছেন সে বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে তিনি নিখোঁজের তথ্য থাকলেও তার খুন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতে গিয়ে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসন সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে (বিইউ) ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এই এমপির হত্যার খবর পাওয়া গেল।
এদিকে কলকাতার নিউ টাউন থানায় হত্যার বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তারা বলছে, মরদেহ পাওয়া যায়নি, কিন্তু রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রক্ত কার? মরদেহ কোথায় গেল? এখন কী অবস্থায় আছেন এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার? তিনি জীবিত না মৃত?
এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় তার যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন, সেই গোপাল বিশ্বাস বুধবার সকালে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছ থেকে এমপি আনার হত্যার খবর পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশের ধারণা, এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা, কেন খুন করেছে; এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরই মধ্যে নিউ টাউন থানার পুলিশ ও বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং এইচডিএফ কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। ওই আবাসিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তারা।
গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, বুধবার আনোয়ারুল আজিম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধানমন্ডির নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছে। কারা তাকে খুন করেছে, খুনের মোটিভ কী? তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার একটি বাসায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টায় আছি। তাকে (আনোয়ারুল আজিম) হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরবে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতের কেউ এখানে জড়িত নন। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে, তিনি কেন খুন হয়েছেন, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। ভারতের পুলিশ আমাদের জানিয়েছে যে, তিনি খুন হয়েছেন, এটা নিশ্চিত।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমরা পরে সেগুলো প্রকাশ করব।’
এদিকে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৪২)। তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হকও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমপি আনোয়ারুল আজিম সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি ভারতে গেছেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে ডরিন।
অন্যদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিশিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ কলকাতার পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যোগাযোগ রাখছে। কোনো অগ্রগতি থাকলে জানানো হবে।
এমপি আনার চিকিৎসা করাতে গত ১২ মে দুপুরে দর্শনা-গেদে সীমান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় যান। প্রথম দুই দিন যোগাযোগ থাকলেও ১৪ মে থেকে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে আনোয়ারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ- হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকে ওই সংসদ সদস্যের খোঁজে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
জানা গেছে, এমপি আনার কলকাতায় যাওয়ার পর শহরের অদূরে ব্যারাকপুর এলাকার বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পরে ১৪ মে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় লিখিত নিখোঁজ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) পাঠানো হয়।
পরে ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরতে পারেননি। পরে আনোয়ারুল আজিমকে তিনি (ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ১৭ মে আনোয়ারুলের মেয়ে গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর তিনি আনোয়ারুলের পরিচিতজনের ফোন করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার বিষয়ে জানতে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কী ঘটেছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন ডরিন। মামলা কীভাবে কোথায় করবেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি আজকের মধ্যেই হবে।’
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। আমরা নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনব। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’
কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনব।’
আনোয়ারুল আজিম ভারতে গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায়, আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার না হলেও তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ এখনো পায়নি পুলিশ। তবে কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত হাতে নিয়েছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে ওনাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূর্ব কলকাতার নিউ টাউন অঞ্চলে যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম উঠেছিলেন, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের (এক্সাইজ) কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার রায়ের। তার কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।
আখতারুজ্জামানই ওই ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি এই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কবে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, ১৩ মে উনি এখানে এসেছিলেন।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল রোববার (৬ জুন) ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই দিন ঠিক করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে, যা বিচারিক ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ তারা শতভাগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করছেন। তবে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্ল্যাহ ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, বাদীপক্ষ তাদের আনা অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেনি, তাই তিনি আদালত থেকে আসামিদের জন্য ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে এবং গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই অবস্থান করায় পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন ও আদালত অনন্য গতিতে কাজ করেছে। মাত্র পাঁচ দিন তদন্ত করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।
আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত করতে অভিযোগপত্র জমার দিনই মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক এবং মাত্র এক দিনে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি হওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও রিজাকুল ইসলাম (৩২)।
শুক্রবার (৫ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক এনজামুল হক।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সংঘটিত স্পর্শকাতর ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তার চুরি করেন। এরপর ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন তিনি।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল অভিযান চালিয়ে একুশে হলসংলগ্ন ভাঙারি দোকান থেকে রিজাকুল ইসলাম (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোড এলাকার একটি ভাঙারি গুদামে চুরি হওয়া তামার তার পাওয়া যায়।
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম।
এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গত বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।
‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।
রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী জয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।
মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাড়ির গেটে দুই বোনকে চাপাতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া দুজন হলেন জুয়েল ওরফে সোর্স আরিফ এবং আনোয়ার হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রানা রায়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহীন মাহমুদ।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরের একটি বাসা থেকে মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল্লাহ। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পরিবার তার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পরিবার।
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে পরবর্তী আইনি ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেছেন।
এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি আসামিদের পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারকের কাছে অনুতপ্ত সুরে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল-ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।” অন্যদিকে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।” তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২ জুন নিহতের বাবা-মাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও আসামিদের পরীক্ষা শেষে মামলাটি রায়ের পূর্ববর্তী ধাপে পৌঁছালো। পুরো বিচারিক কার্যক্রমে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার (০৩ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (০২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন। এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।
এর আগে গত সোমবার (০১ জুন) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায় শেষে আদালত বুধবার (০৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন গ্রহণ করবেন। ৩৪২ ধারায় সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মাতা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তারা এই সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যদানকালে রামিসার বাবা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চেয়ারে বসে তার জবানবন্দি পেশ করেন।
আদালতে আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, গত ১৯ মে সকালে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বনানী এলাকায় পৌঁছানোর পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন ভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। তিনি দোতলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে জানতে পারেন তার মেয়ে ভেতরে আটকা পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখতে পাওয়ার পর আসামিদের ব্যবহৃত স্টিলের খাটটি উঁচু করতেই মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জেরার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি।”
অন্যদিকে, রামিসার মা পারভীন আক্তার তার সাক্ষ্যে বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি রান্না করছিলেন এবং বড় মেয়েকে বলেছিলেন রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে। পরে ঘর থেকে শিশুদের শব্দ না পেয়ে তিনি ভেবেছিলেন তারা চলে গেছে। একপর্যায়ে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি শুরু করেন এবং তিনতলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজার নিচে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি বারবার দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভেতরে ঢুকে তিনি মেয়ের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের নির্দেশ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।” এছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”
আদালত কক্ষের গুমোট পরিবেশে আজ সকালে যখন আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় হাজির করা হয়, তখন আসামি স্বপ্না খাতুনকে কাঁদতে দেখা যায়। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান শুনানির শুরুতে আদালতের কাছে আবেদন করেন যেন আসামিরা যাতায়াতের সময় গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ না পান। উল্লেখ্য, গত সোমবার এই মামলায় চার্জ গঠন করার পর আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ঘটনার দিন সোহেল রানা শিশুটিকে হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না তখন বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অবিচল রয়েছেন নিহতের শোকাতুর পরিবার।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে নিজের সন্তান হারানোর বিচার চেয়েছেন পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এ সময় তিনি মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, "আর কোনও বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।"
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আব্দুল হান্নান অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমি আদালতের কাছে আমার নিষ্পাপ সন্তানের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে এই বিচারের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমি চাই না, আর কোনও বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হোক, কোনও পরিবার সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়ুক কিংবা বিচার চেয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে বাধ্য হোক। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার অনুরোধ, এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হোক যাতে কোনও আসামি স্বীকারোক্তি দিলে এক মাসের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থা থাকে। দেশের মানুষও দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রত্যাশা করে। আমিও সেই প্রত্যাশাই করছি।”
সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন রামিসার বাবার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদেরও জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং মামলার ১৭ জন সাক্ষীকে সমন জারি করেন। মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ঘটনার পর সোহেল ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং তিনি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দ্রুত তদন্ত শেষে গত ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনার পর মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আগামী ধার্য তারিখ (১ জুলাই) পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (০১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের এ নির্দেশ দেন।
এদিন মামলার আসামিদের মধ্যে ইউসুফ হোসেন, কাজল হাওলাদার, আবদুল্লাহ্ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন, মামুন মিয়া, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত হোসেন আদালতে হাজিরা দেন। অপর দুই আসামি সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান সীমান্ত পলাতক আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগের ধার্য তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র দাখিলের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা অগ্রগতির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা আবেদন দেননি। তাই দ্রুত আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আবেদন জানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, ‘ধার্য তারিখে আদালতে মামলার আসামিরা হাজিরা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, শুনানি শেষে আদালত আগামী ১ জুলাই পরবর্তী ধার্য তারিখে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে এ পর্যন্ত ১০৪ বার সময় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।’ গত ২৬ এপ্রিল আরও ৩০ দিনের সময় চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানালেন, প্রতিবেদন তৈরিতে এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন। এই অনুমতির জন্যও কি মাসের পর মাস সময় চলে যাবে?
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত চত্বরে হাজির করার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে দাবি করেন যে তিনি একা এই অপরাধে জড়িত নন এবং এতে তাঁর স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। তিনি সরাসরি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’ ঘাতক সোহেল আরও দাবি করেন যে ডলার মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন বিত্তশালী ব্যক্তি।
সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ইতোমধ্যেই গত ২৪ মে আদালতে ১৮ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে এই দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। তদন্তে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অভিযোগপত্র আমলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমকে জানান যে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ ও লিগ্যাল এইড আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই মন্তব্য করেছেন যে রায় দ্রুত ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা বিচার কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি ও কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে দ্রুত বিচার পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। পরবর্তীতে ঘর থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন নিথর দেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং সোহেল রানার নতুন করে দেওয়া বয়ান তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) রাতে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, নিহত এক শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে যেখানে এই ঘটনাকে "অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাণ হারানো নবজাতকদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, কারণ স্বজনরা শিশুদের মরদেহে অস্ত্রোপচার না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চরম অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকায় এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অপরদিকে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির স্বামী তওফীক নাওয়াজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর সাতদিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছেন কন্যা তানি দীপাভলী নাওয়াজ। বুধবার (২৭ মে) মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর এই মানবিক আবেদনটি দাখিল করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তওফীক নাওয়াজ বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। মুন্সীগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন পেয়েছি, আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন।”
ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম একটি জানান যে, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা দীপু মনির স্বামীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হওয়ায় তাঁর তদারকির জন্য এই প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আরও জানানো হয়, তওফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার, লিভারের জটিলতা ও ব্রেন স্ট্রোকে ভুগছেন। গত মঙ্গলবার রক্ত দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীপু মনি বর্তমানে প্রায় ৩৭টি মামলায় তদন্তাধীন আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।
দীর্ঘ ২১ মাস কারান্তরীণ থাকায় অসুস্থ স্বামীর সেবা করার সুযোগ পাননি ডা. দীপু মনি। বর্তমানে স্বামীর এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর সান্নিধ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তদারকি করা একান্ত জরুরি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। মানবিক কারণে এই চরম বিপদের সময় স্বামীর জীবন রক্ষার চেষ্টা চালানো এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে শেষ সময়ে জীবনসঙ্গীর পাশে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করতেই সাতদিনের এই সাময়িক মুক্তির প্রার্থনা করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন এখন আবেদনটি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।