ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে খুন হয়েছেন না জীবিত আছেন সে বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছ থেকে তিনি নিখোঁজের তথ্য থাকলেও তার খুন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতে গিয়ে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসন সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে (বিইউ) ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এই এমপির হত্যার খবর পাওয়া গেল।
এদিকে কলকাতার নিউ টাউন থানায় হত্যার বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তারা বলছে, মরদেহ পাওয়া যায়নি, কিন্তু রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রক্ত কার? মরদেহ কোথায় গেল? এখন কী অবস্থায় আছেন এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার? তিনি জীবিত না মৃত?
এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় তার যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন, সেই গোপাল বিশ্বাস বুধবার সকালে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছ থেকে এমপি আনার হত্যার খবর পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশের ধারণা, এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা, কেন খুন করেছে; এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরই মধ্যে নিউ টাউন থানার পুলিশ ও বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং এইচডিএফ কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। ওই আবাসিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তারা।
গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, বুধবার আনোয়ারুল আজিম হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধানমন্ডির নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছে। কারা তাকে খুন করেছে, খুনের মোটিভ কী? তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার একটি বাসায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টায় আছি। তাকে (আনোয়ারুল আজিম) হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরবে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতের কেউ এখানে জড়িত নন। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে, তিনি কেন খুন হয়েছেন, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। ভারতের পুলিশ আমাদের জানিয়েছে যে, তিনি খুন হয়েছেন, এটা নিশ্চিত।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমরা পরে সেগুলো প্রকাশ করব।’
এদিকে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ৪২)। তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হকও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমপি আনোয়ারুল আজিম সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি ভারতে গেছেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে ডরিন।
অন্যদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি গণমাধ্যম সূত্রে। তবে ইন্ডিয়ান বা কলকাতা পুলিশ আমাদের এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তিনি জীবিত নাকি মৃত তা এখনো অফিশিয়ালি নিশ্চিত নই। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ কলকাতার পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যোগাযোগ রাখছে। কোনো অগ্রগতি থাকলে জানানো হবে।
এমপি আনার চিকিৎসা করাতে গত ১২ মে দুপুরে দর্শনা-গেদে সীমান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় যান। প্রথম দুই দিন যোগাযোগ থাকলেও ১৪ মে থেকে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে আনোয়ারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ- হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকে ওই সংসদ সদস্যের খোঁজে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি ও কলকাতা হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
জানা গেছে, এমপি আনার কলকাতায় যাওয়ার পর শহরের অদূরে ব্যারাকপুর এলাকার বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পরে ১৪ মে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে গোপালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় লিখিত নিখোঁজ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) পাঠানো হয়।
পরে ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী ফোন ধরতে পারেননি। পরে আনোয়ারুল আজিমকে তিনি (ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ১৭ মে আনোয়ারুলের মেয়ে গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারপর তিনি আনোয়ারুলের পরিচিতজনের ফোন করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার বিষয়ে জানতে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কী ঘটেছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য এসেছেন ডরিন। মামলা কীভাবে কোথায় করবেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি আজকের মধ্যেই হবে।’
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। আমরা নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনব। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’
কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনব।’
আনোয়ারুল আজিম ভারতে গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায়, আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার না হলেও তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ এখনো পায়নি পুলিশ। তবে কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত হাতে নিয়েছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে ওনাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূর্ব কলকাতার নিউ টাউন অঞ্চলে যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম উঠেছিলেন, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের (এক্সাইজ) কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার রায়ের। তার কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি।
আখতারুজ্জামানই ওই ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিমের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি এই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কবে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, ১৩ মে উনি এখানে এসেছিলেন।
নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কিছু আইন কর্মকর্তার অনিয়ম, নোট বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজ দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিজের কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল। এসময় সিনিয়র আইনজীবীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, সিনিয়র আইনজীবী ও সংসদ সদস্য ফজলুল রহমান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা ও মোহাম্মদ অনীক আর হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
গত বুধবার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার আইনের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আলোচিত এ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফ্রিংয়ে ডিবির প্রধান বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পল্টন থানায় দায়ের করা মানবপাচার মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর নিজ বাসা থেকে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘পাঁচটির মতো’ মামলা রয়েছে।
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। একই বছর এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পেছন থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন বলে ধারণা করা হয়।
সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। এরপর ২০০৮ সালের জুনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য জানান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে হাজির করা হয়।
অপর দুই আসামি মেনন ও মানিককে হাজিরার জন্য আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২১ জানুয়ারি এই মামলায় মেনন ও মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আইনজীবী জিয়াউল হক বাদী হয়ে আদালতে মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগেও ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; তিনি মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী ছিলেন।’ ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া আসামিরা বিভিন্ন সময়ে জিয়া পরিবার সম্পর্কেও বিরূপ ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আরও দুই প্রার্থীর করা পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দিয়েছেন।
আবেদনকারী দুই প্রার্থী হলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আখতারুল আলম।
আদালতে কামরুলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও আখতারুলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শামীম দরজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
হাইকোর্ট নির্বাচনী আবেদন দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল আহসান ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট পান।
ময়মনসিংহ-৪ আসনে ভোটে কারচুপি ও অনিয়ম অভিযোগ নিয়ে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ কামরুল আহসান নির্বাচনী আবেদনটি করেন বলে জানান তার আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি প্রথম বলেন, হাইকোর্ট ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স ও নির্বাচনীসামগ্রী হেফাজতে নিয়ে সংরক্ষণ করতে ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পান। আর বিএনপির মো. আখতারুল আলম পান ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।
আসনটিতে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে আখতারুল আলম নির্বাচনী আবেদনটি করেন বলে জানান তার আইনজীবী মো. শামীম দরজী।
চব্বিশের জুলাই মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রবিবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন।
এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের তালিকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এ ছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলরসহ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় চারজন আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজ অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ চূড়ান্ত করা হলো।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন সরকারি দল ও তাদের সহযোগী সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নৃশংসতা চালায়। অভিযুক্ত আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারান এবং আরও অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হন। এই নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য উদঘাটনে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের আগে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারের স্বচ্ছতার স্বার্থে যা যা করণীয় এবং যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, সবই নেওয়া হবে। বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়, সে চেষ্টা করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন পার পেয়ে না যান- এই লক্ষ্য থেকেই ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ল'রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ।
প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, সেই তথ্য উদঘাটন করবে এ কমিটি। তবে সম্প্রতি পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগের ঘটনা তদন্তে এ কমিটি গঠন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শামীম সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির আহমেদ সোহেল মনঞ্জুর।
এর আগে ৩০-এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে। এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এর আগে ৩০-এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে। এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগর। বুধবার (১১ মার্চ) আদালতে এ আবেদন করেন।
এর আগে ৩০-এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ‘নির্বাচনি আবেদন’ করার বিধান রয়েছে। এসব আবেদনের শুনানির জন্য গঠিত বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে বর্তমানে নিয়মিতভাবে শুনানি চলছে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
আট মাস ধরে কারাবন্দি বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মুক্তির পথ খুলল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের মামলায় তার জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার রায় দেন।
এরপর তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেন, ‘সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। চার মামলায় হাইকোর্ট ৮ মার্চ জামিন দেন। দুদকের মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল অ্যাসলিউট অর্থাৎ জামিন মঞ্জুর করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।’
এদিকে চারটি মামলায় জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। তবে তা এখনো শুনানির তালিকায় ওঠেনি বলে জানান আইনজীবী মোনায়েম নবী।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাইকোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চ ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। এই পাঁচ মামলায় অধঃস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেছিলেন তিনি।
পাঁচ মামলায় আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত বছরের ২৬ অক্টোবর খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুল দেন। মামলাগুলোয় কেন খায়রুল হককে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এর মধ্যে হাইকোর্টে রুল শুনানির মধ্য দিয়ে চার মামলায় খায়রুল হকের পৃথক চারটি জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। আর দুদকের করা মামলায় জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বুধবার রুল অ্যাবসলিউট (রুল যথাযথ) বলে রায় ঘোষণা দেন আদালত।
আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান ও মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়, যার পরিণতিতে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ঘুষকাণ্ডে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সব ধরনের অনিয়ম তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগটি আমরা হালকাভাবে দেখছি না। এ নিয়ে আমার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। আমাদের এই কমিটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে সেই তথ্য আমরা উদঘাটন করব। যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি প্রসিকিউশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ আসে, তবে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, এই কমিটি সব ধরনের অনিয়ম তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন সকাল থেকেই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ল রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য হয়েছে ৩০ মার্চ। অভিযোগ গঠন বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বুধবার (১১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদেশের এই দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এর আগে ২৫ এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।
শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ‘২০০১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক নির্বাচনি আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।