খুলনা অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম শিমুল ভূঁইয়া। তবে গত ১০ বছরেরও বেশি কেউ কোনো দিন তার দেখা পায়নি। তবুও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন টেন্ডার ও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বারবার। এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে (আনার) খুনেও তার নাম জড়িয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে আমানুল্লাহ নামে পরিচপত্র পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে ওই দলের সদস্যরা তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা ও বড় ভাই লাকী ভূঁইয়া ও ছেলে তানভিরকে গ্রেপ্তার করে।
সর্বশেষ ২০১৭ সালে খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থিদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশের বিশেষ শাখা। তাতে শিমুল ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই শিপলু ভূঁইয়াকে ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’র আঞ্চলিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ভূঁইয়া পরিবারের সখ্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে
এই চরমপন্থিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে। শিপলু ভূঁইয়া ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ফুলতলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (বর্তমান ভূমিমন্ত্রী) নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যুবলীগে যোগদান করেন। তাকে দলে ভেড়াতে সহযোগিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন।
শিপলু ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দামোদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হন। তাকে জেতানোর ক্ষেত্রে শেখ আকরাম হোসেন বড় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ আছে। ২০২১ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তিনি বিজয় লাভ করেন।
এ ছাড়াও শিমুল ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা জেলা পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য। সর্বশেষ নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কেয়া খাতুন প্রার্থী হলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে রিটার্নিং অফিসার একক প্রার্থী হিসেবে মুক্তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে মনোনীত করে বিজয়ী করেছেন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিমুল ভূঁইয়াকে কখনো দেখা না গেলেও পরিবারের সঙ্গে তার সবসময় নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
বারবার হত্যাকাণ্ডে শিমুল ভূঁইয়ার নাম
ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার চতুর্থ ছেলে শিমুল ভূঁইয়া। যিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ধারণ করেন। পুলিশের তালিকায় ইতোপূর্বে তাকে ফজল ভূঁইয়া, শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবার গ্রেপ্তারের পর তার নতুন নাম পাওয়া গেছে সৈয়দ আমানুল্লাহ।
সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে আদালতে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবং তার দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তাতে শিমুল ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ মে রাতে ফুলতলা উপজেলার নতুন হাট এলাকায় নিজ বাড়ির বিপরীতে নিজস্ব অফিসে মিঠু ও নওশেরকে হত্যা করা হয়।
১৯৯০ সালের দিকে খুলনার ডুমুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ইমরানকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন শিমুল ভূঁইয়া। পরে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।
তবে ১৯৯৮ সালে দামোদর ইউনিয়নের সরদার আবুল কাশেমকে হত্যায় তার নাম জড়ায়। পরে ২০০০ সালে যশোরের অভয়নগর এলাকায় একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই মামলায় জেল খাটেন শিমুল ভূঁইয়া। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে কখনো কেউ দেখেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থেকেও সে হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিত, ২০১০ সালে ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদল খুনের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বাদল হত্যা মামলাটির বিচার চলাকালে শিমুলের সেজো ভাই মুকুল ভূঁইয়া ওরফে হাতকাটা মুকুল পুলিশের কাছে ক্রসফায়ারে নিহত হন। এ ছাড়া পুলিশের তালিকায় তার বিরুদ্ধে ২৫টি মামলার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
যেভাবে উত্থান হয় শিমুল ভূঁইয়ার
শিমুল ভূঁইয়া ১৯৮৫ সালে দামোদর এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার দৌলতপুরের দিবা-নৈশ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীতে থাকাকালীন শিমুলের যাতায়াত ছিল ঝিনাইদহে। সেখানে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষ নেতা আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে।
একাধিকবার জেলখাটার কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে চরমপন্থি দলে যোগ দেন শিমুল। দায়িত্ব পান খুলনা অঞ্চলের। এরপর তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া।
২০১০ সালের আগ পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চরমপন্থিরা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, সেই সময় শিমুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। খুলনার শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আব্দুর রশিদ তাপু, ডুমুরিয়ার মৃণাল, শৈলেন, দেবু সবাই ছিলেন শিমুলের অধীনে। শিমুল প্রকাশ্যে না এলেও তার নামেই চলত সবকিছু।
যেভাবে শিমুল থেকে আমানুল্লাহ হয়ে ওঠেন
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর শিমুল ভূঁইয়ার কাছ থেকে সৈয়দ আমানুল্লাহ নামের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে ওই পাসপোর্টটি করা হয়েছিল। তবে কীভাবে তিনি এই জালিয়াতি করলেন তার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে ওই সময়ে যেহেতু তার ছোট ভাই শিপলু ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি ভিন্ন নামের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট করতে সহায়তা করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
কলকাতার নিউ টাউনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যকে খুন করে ১৫ মে দেশে ফেরেন আমানুল্লাহ পরিচয় দেওয়া এই শিমুল ভূঁইয়া। পরে গুলশান থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন এমপি আনোয়ারুলকে তারা খুন করেছেন। এই খুনের জন্য আনোয়ারুলের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। আনোয়ারুলের সঙ্গে আক্তারুজ্জামানের সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য পেয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিমকে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে পরিচয় দানকারী এই শিমুল ভূঁইয়া।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সার্চ কমিটি গঠনের তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ। সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচাপতি মো. রেজাউল হক।
সার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল। এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিব ড. নাসিমুল গনি।
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন এবং কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন।
সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালতে হাজির করে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সোহেল সৌরভ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর ১৪ নম্বর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাদী গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানা মহিলা লীগের সভাপতি রোকেয়া জামালকে মিরপুর ১০ এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. শাকিলের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. কবির হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা গেলে তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রোকেয়া জামালকে গ্রেফতার দেখানো হলো।
আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন গ্রেফতারের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ তিন মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে এক মামলার শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন আবেদন দায়রা জজ আদালতেও নামঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এ আদেশ দিয়েছেন।
সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় সিএমএম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সিআর মিস ফাইল করি। জামিন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এই আইনজীবী আরও বলেন, ৭টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত তার কারামুক্তি হচ্ছে না।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)।
যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা একযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওই ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে, গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ঢাকার মিরপুরের ডিওএইসএসের বাসায় আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি পরিদর্শক আব্দুল মালেক ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগামী বুধবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন জাহের আলভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনেরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ইকরার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় ওই দিন রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে এ মামলায় আসামি করা হয়। নাসরিন সুলতানা ইতোপূর্বে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জামিন দেওয়া হয়।
কুমিল্লায় এক বিধবা নারীর করা ধর্ষণ মামলায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান আহম্মেদ প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সহিদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জিসান আহম্মেদকে আদালতে হাজির করে। জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১২ জুন রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসান আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা ওই মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দিনই কুমিল্লার রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসান আহম্মেদকে উদ্ধার করা হয়। রাতেই তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান আহম্মেদকে ওই নারীর করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে সুস্থ ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ। তিনি জানান, জামিন মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদমোস্তাফিজুর রহমানের আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সে সময় তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই জামিন পাওয়ার দুই দিন আগে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে দুদকের ওই মামলায় নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান আবুল বারকাত। কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই জুলাই আন্দোলনের ওই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় গ্রেফতার অভিনেত্রী ববির বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশারের (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। আসামিপক্ষে আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. আজিজুল ইসলাম পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে আবুল বাশার একটি গাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও তিনি কোনো গাড়ি সরবরাহ করেননি। পরে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে আবুল বাশার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও টাকা পরিশোধ না করায় বাদী পুনরায় পাওনা টাকা চাইলে আসামি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযোগ অনুযায়ী হুমকি-ধমকিও দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার দায়েরের পর থেকে আবুল বাশার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। গুলশান থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের নামে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার (২১ জুন) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন। শুনানিকালে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান।
দুদকের দাখিলকৃত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্য অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের এজেন্ট হিসেবে নিজেদের নিযুক্ত করেন। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সরকারি খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তারা বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। এভাবে শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিভিন্ন ধাপে অবৈধভাবে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই অর্থ পাচার বা রূপান্তরের মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২৫ মার্চ দুদকের এই মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বর্তমানে অর্থপাচার ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট কমাতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে একদিনে ২ হাজার ৪২৫টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৮৪টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরনো রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে একদিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪২৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পুরনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত চার কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ চার কার্যদিবসে সর্বমোট ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোর বিচারপতিরা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন। আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা জট নিরসনে পুরনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বেসরকারি টিভি চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়ের ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা ও আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন এবং সানি চৌধুরী।
এর আগে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দায়ের করা একটি বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সমন জারি করে, যা পরে গত ১৪ মে মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের আইনি জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে আদালত সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর (সম্পূরক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ জুন।
বুধবার (১৭ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৬তম বারের মতো সময় পেলেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ গত ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।