খুলনা অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম শিমুল ভূঁইয়া। তবে গত ১০ বছরেরও বেশি কেউ কোনো দিন তার দেখা পায়নি। তবুও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন টেন্ডার ও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বারবার। এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে (আনার) খুনেও তার নাম জড়িয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে আমানুল্লাহ নামে পরিচপত্র পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে ওই দলের সদস্যরা তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা ও বড় ভাই লাকী ভূঁইয়া ও ছেলে তানভিরকে গ্রেপ্তার করে।
সর্বশেষ ২০১৭ সালে খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থিদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশের বিশেষ শাখা। তাতে শিমুল ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই শিপলু ভূঁইয়াকে ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’র আঞ্চলিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ভূঁইয়া পরিবারের সখ্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে
এই চরমপন্থিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে। শিপলু ভূঁইয়া ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ফুলতলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (বর্তমান ভূমিমন্ত্রী) নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যুবলীগে যোগদান করেন। তাকে দলে ভেড়াতে সহযোগিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন।
শিপলু ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দামোদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হন। তাকে জেতানোর ক্ষেত্রে শেখ আকরাম হোসেন বড় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ আছে। ২০২১ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তিনি বিজয় লাভ করেন।
এ ছাড়াও শিমুল ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা জেলা পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য। সর্বশেষ নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কেয়া খাতুন প্রার্থী হলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে রিটার্নিং অফিসার একক প্রার্থী হিসেবে মুক্তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে মনোনীত করে বিজয়ী করেছেন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিমুল ভূঁইয়াকে কখনো দেখা না গেলেও পরিবারের সঙ্গে তার সবসময় নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
বারবার হত্যাকাণ্ডে শিমুল ভূঁইয়ার নাম
ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার চতুর্থ ছেলে শিমুল ভূঁইয়া। যিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ধারণ করেন। পুলিশের তালিকায় ইতোপূর্বে তাকে ফজল ভূঁইয়া, শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবার গ্রেপ্তারের পর তার নতুন নাম পাওয়া গেছে সৈয়দ আমানুল্লাহ।
সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে আদালতে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবং তার দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তাতে শিমুল ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ মে রাতে ফুলতলা উপজেলার নতুন হাট এলাকায় নিজ বাড়ির বিপরীতে নিজস্ব অফিসে মিঠু ও নওশেরকে হত্যা করা হয়।
১৯৯০ সালের দিকে খুলনার ডুমুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ইমরানকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন শিমুল ভূঁইয়া। পরে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।
তবে ১৯৯৮ সালে দামোদর ইউনিয়নের সরদার আবুল কাশেমকে হত্যায় তার নাম জড়ায়। পরে ২০০০ সালে যশোরের অভয়নগর এলাকায় একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই মামলায় জেল খাটেন শিমুল ভূঁইয়া। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে কখনো কেউ দেখেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থেকেও সে হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিত, ২০১০ সালে ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদল খুনের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বাদল হত্যা মামলাটির বিচার চলাকালে শিমুলের সেজো ভাই মুকুল ভূঁইয়া ওরফে হাতকাটা মুকুল পুলিশের কাছে ক্রসফায়ারে নিহত হন। এ ছাড়া পুলিশের তালিকায় তার বিরুদ্ধে ২৫টি মামলার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
যেভাবে উত্থান হয় শিমুল ভূঁইয়ার
শিমুল ভূঁইয়া ১৯৮৫ সালে দামোদর এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার দৌলতপুরের দিবা-নৈশ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীতে থাকাকালীন শিমুলের যাতায়াত ছিল ঝিনাইদহে। সেখানে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষ নেতা আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে।
একাধিকবার জেলখাটার কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে চরমপন্থি দলে যোগ দেন শিমুল। দায়িত্ব পান খুলনা অঞ্চলের। এরপর তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া।
২০১০ সালের আগ পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চরমপন্থিরা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, সেই সময় শিমুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। খুলনার শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আব্দুর রশিদ তাপু, ডুমুরিয়ার মৃণাল, শৈলেন, দেবু সবাই ছিলেন শিমুলের অধীনে। শিমুল প্রকাশ্যে না এলেও তার নামেই চলত সবকিছু।
যেভাবে শিমুল থেকে আমানুল্লাহ হয়ে ওঠেন
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর শিমুল ভূঁইয়ার কাছ থেকে সৈয়দ আমানুল্লাহ নামের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে ওই পাসপোর্টটি করা হয়েছিল। তবে কীভাবে তিনি এই জালিয়াতি করলেন তার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে ওই সময়ে যেহেতু তার ছোট ভাই শিপলু ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি ভিন্ন নামের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট করতে সহায়তা করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
কলকাতার নিউ টাউনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যকে খুন করে ১৫ মে দেশে ফেরেন আমানুল্লাহ পরিচয় দেওয়া এই শিমুল ভূঁইয়া। পরে গুলশান থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন এমপি আনোয়ারুলকে তারা খুন করেছেন। এই খুনের জন্য আনোয়ারুলের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। আনোয়ারুলের সঙ্গে আক্তারুজ্জামানের সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য পেয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিমকে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে পরিচয় দানকারী এই শিমুল ভূঁইয়া।
সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে আইনগত বিষয় পরিচালনা করার জন্য নতুন করে মোট ২৬৫ জন আইনজীবীকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটার অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জারি করা প্রজ্ঞাপনে পূর্বে দেওয়া সব ধরনের অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ জুলাই) জামালপুরের সরিষাবাড়ী আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলার দুই আসামিকে আদালতে উপস্থিত হতে এই আদেশ জারি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি ফেসবুক ও ইউটিউব টকশোতে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন ডা. মুরাদ হাসান।
অসৎ উদ্দেশ্যে দেওয়া সেই বক্তব্যে তাঁদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মতো ভাবমূর্তি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবি করে জামালপুর জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সহসভাপতি লায়ন রুমেল সরকার বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ডা. মুরাদ হাসানের পাশাপাশি ওই টকশোর উপস্থাপক মহি উদ্দিন হেলাল নাহিদকেও আসামি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পূর্বে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তবে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় এবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁদের হাজিরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিজ্ঞপ্তির পরও আসামিরা অনুপস্থিত থাকলে তাঁদের বিচারকাজ তাঁদের অবর্তমানেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আজ এসব কথা বলেন।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখনো এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। তারা বাংলাদেশ ও জাপানের দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ, তা নিরসনের কৌশল, বিচারপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির বিভিন্ন কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সেমিনারে আলোচিত অভিজ্ঞতা, সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা করে দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সেমিনারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ, সম্ভাব্য সমাধান এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন।
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্বের রুল নিষ্পত্তি করে এই জামিন আদেশ দেন। আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। তিনি জানান, খিলগাঁও থানার হত্যা মামলা এবং মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় রুল অ্যাবসুলেট করে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের মাত্র কিছুক্ষণ আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।
পরবর্তীতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ছাড়াও হবিগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, বুধবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দেন সাবেক এই মন্ত্রী। পরে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আলোচিত এ মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃনাল কান্তি দাশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ও ডা. ইমরান এইচ সরকার।
এছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মোখলেসুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মো. মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মুহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান ও বি এম ফরমান আলী।
এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন ৯ জন আসামি। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই এই আবেদনটি করেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আটক থাকায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে, তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সে সময় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানেও তিনি কারান্তরীণ রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। সেই হামলায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে এক যুবক বাম হাতের কনুইতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে এই মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থেই সাবেক এই উপাচার্যকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তিকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেপ্তার বা অন্য কোনো উপায়ে হয়রানি না করার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া আদেশটি স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই সংক্রান্ত হাইকোর্টের রুলটি আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের আদেশটি আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন। এর আইনগত অর্থ হলো, যদি কোনো ব্যক্তির নাম মামলার এজাহারে সরাসরি উল্লেখ নাও থাকে, তবুও তদন্ত চলাকালীন যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পান, তবে আইনত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
এর আগে হাইকোর্ট এক আদেশে জানিয়েছিল যে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাদের ক্ষেত্রে শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। কয়েকজন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছিল কেন আবেদনকারীদের বারবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্টের সেই আদেশগুলো চ্যালেঞ্জ করেই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ, যার ফলশ্রুতিতে আজ এই স্থগিতাদেশ প্রদান করা হলো।
পুলিশের ওপর হামলার একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দেন আইভী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সংক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্দোষ হয়েও আজ আমি অপরাধী। সারাজীবন অন্যায়, হত্যা, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি; অথচ আজ আমাকেই অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আছেন এবং আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছে—একদিন সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই এবং বিচার অবশ্যই পাওয়া যাবে। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে দেওভোগে নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।
আইভীর আদালতে আগমনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে তার বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও নেতাকর্মী উপস্থিত হন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল এবং পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, গত বছর আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। এ মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ মে একটি হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসংক্রান্ত মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ ৩৯১ দিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে থাকার পর চলতি বছরের ৪ জুন উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এই রায় ঘোষণা করেন। দুদকের প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকায় তার এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও আয়ের উৎসের বিবরণী চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করলেও নির্দিষ্ট ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা দাখিল করেননি। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ৬ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ১৫ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে তিনি কারান্তরীণ রয়েছেন।
এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির পৃথক দুই মামলায় করোনা ভুয়া রিপোর্ট কেলেঙ্কারির রিজেন্ট হাসপাতালে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার অর্থঋণ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন তাকে গ্রেপ্তারের এ আদেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, এনআরবি ব্যাংক থেকে সাহেদ পৃথকভাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার এবং ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে খেলাপি হন সাহেদ।
সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলা দু’টিতে জামিন আবেদন করি। তবে আসামি সাহেদ ঋণের টাকার ২৫ শতাংশ জমা দিতে না পারায় আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আমরা এখন আপিল করব।’
শেয়ারবাজারে কারসাজি, অর্থ পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। সোমবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তা দাখিল করতে পারেনি। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।
আদালতের এই কার্যক্রমের বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান এবং আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সিরিজ ট্রানজেকশন ও প্রতারণামূলক ট্রেডিংয়ের আশ্রয় নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেন। এই কারসাজির ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং আসামিরা অবৈধভাবে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করেন, যা আইনি ভাষায় ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত। তদন্তে প্রধান আসামি আবুল খায়েরের ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা তিনি তার স্ত্রীর সহায়তায় পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, আবুল খায়েরের মাধ্যমে কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারসের শেয়ারে তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাকিব বাজার ম্যানিপুলেশনে সরাসরি সহায়তা প্রদান করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ার বাজার থেকে আত্মসাৎ করেন। গত ১৭ মে দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বর্তমানে ওএসডিপ্রাপ্ত পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন।
আদালতের এই আদেশের বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সোমবার সে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মাগুরার পুলিশ সুপার থাকাকালীন বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তৎকালীন এসপি বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। এরপর মার্চ মাসে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার সময় জহিরুল নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে যাবতীয় তদারকি করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাগুরার বাংলো, অফিসের বিশ্রামাগার এবং বাদীর ঢাকার বাসভবনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হলেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে বাদীর বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগের পর গত ২০ মে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করেন এবং গত ১৪ জুলাই ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত আজ এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও মার্জিনা রায়হান এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় ৯ জন অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি অঞ্চলে মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণহানির এই পরিসংখ্যানে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।