হাটে পশু কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে জানাতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট ও বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পশুর হাটে পরিবহন সেক্টরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করে জানান, পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। বরাবরের মতো এবারও আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে পশুর হাট, রেল, সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি যোগ করেন, রোজার ঈদে একমুখী চাপ থাকে। কিন্তু কোরবানির ঈদে সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সড়কে যেমন থাকে তেমনি, পশুবাহী ট্রাক-পিকআপও চলাচল করে। অর্থাৎ মানুষ বাড়ি যায়, গরু আসে। সড়কে দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করতে হয়। পুরো বিষয় বিবেচনায় রেখে আমরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সঠিক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করবে না। চলবে না নছিমন করিমন ভটভটিও। যারা চালানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে চালানো যাবে না। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি যাতে যথাযথভাবে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, ঢাকাসহ সারা দেশে সে বিষয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক নজরদারি করছে। ঘরমুখো মানুষের আরো চাপ আজ বিকেল থেকে শুরু হবে। ঈদের দু-একদিন আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।
আইজিপি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে কোনো গরুর গাড়ি কেউ থামাতে পারবে না। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা সজাগ রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য এবং কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগে মিটিং করেছি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ, পরিবহন, হাট মালিক কর্তৃপক্ষ ইজারাদার ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই মিলে আমরা কাজ করছি। আশা করছি এই ঈদে নির্বিঘ্ন হবে সব কিছু। নৌপথে ও সড়ক পথে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির সামনে ব্যানারে লেখা থাকতে হবে কোন হাটে যাবে। তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। কেউ সমস্যায় পড়লে আর পুলিশকে দ্রুত জানালে আমরাও দ্রুত সহায়তা করতে পারব।
কোরবানির ঈদকে ঘিরে নগদ টাকার চেয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার পরামর্শ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক।
তিনি বলেন, বড় অংকের আর্থিক লেনদেন করলে বা পরিবহন যদি করতে হয় তাহলে ব্যাংকে যান পুলিশের সহযোগিতা নিন। অনেক সময় অনেকে সমস্যায় পড়েন। অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায়। এটা করবেন না, পুলিশের সহযোগিতা নিন। পুলিশ সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। হয়ত ১০-২০ মিনিট দেরি হতে পারে, কিন্তু এর জন্য আপনি ঝুঁকি নিতে যাবেন কেন?
জাল টাকা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, জাল টাকার লেনদেন যাতে না হয় সেজন্য প্রত্যেকটি মার্কেটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করেছি। কেউ যদি জানতে পারেন বুঝতে পারেন পুলিশকে সহযোগিতা করেন পুলিশকে জানান পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব নামে একজন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এ মামলায় জামিন হওয়ায় সাবেক এই বিচারপতির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায়। দ্বিতীয় অভিযোগ- তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগ- জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত ও পঙ্গু করার দায়।
এই মামলায় অভিযুক্ত ২২ জনের মধ্যে বর্তমানে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলসহ বাকি ১৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, টানা তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে সোমবার আসামিপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর বক্তব্য শেষ করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান দাবি করেন, এই মামলায় কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো কোনো উপাদান বা তথ্য-প্রমাণ নেই। একই সাথে পলাতক আসামিদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দেওয়ার আবেদন জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।
তবে প্রসিকিউশন পক্ষ গত ২২ জুন আসামিদের প্রাথমিক অপরাধ ও দায় বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পক্ষে জোরালো আবেদন জানায়। তারও আগে, গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করলে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ২২ জনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসানুল হক ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ২১১ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ের বিবরণীতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহের সত্যতা ও সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায় প্রদান করা হলো। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের "বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন"। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভায় অংশ নিয়ে তিনি "নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন"। কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সেখানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর নির্দেশনার ফলে পুলিশ ও জোটের সশস্ত্র কর্মীদের গুলিতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, মারণাস্ত্রের ব্যবহার এবং কারফিউ জারির মাধ্যমে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর প্রতিটি ক্ষেত্রে হাসানুল হক ইনু উসকানিদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি কেবল হত্যাযজ্ঞের উসকানিই দেননি, বরং ২৯ জুলাইয়ের এক সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতাকে কৌশলে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করেন। এমনকি সরকার পতনের পূর্বদিন ৪ আগস্টেও তিনি শেখ হাসিনার গৃহীত দমনমূলক পদক্ষেপসমূহ অনুমোদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের এই পুরো বিচারিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।
এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। গত ১৪ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত এই দণ্ডাদেশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার সম্পন্ন হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বেসরকারিভাবে জয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই রায়ের ফলে উক্ত আসনের নির্বাচনী ফলাফল আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যাবে না।
এর আগে গত ১৫ জুন দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির শেষ দিনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছিল। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে তা খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। আদালতের ওই আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও শর্ত দেওয়া হয় যে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং তা প্রকাশ করা যাবে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী জয়লাভ করলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ফলাফল ঝুলে ছিল।
আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, যাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও তার স্ত্রী সৈয়দা রোকেয়া বেগমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। সোমবার (২৯ জুন) দুদকের পৃথক দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দিয়েছেন।
শাজাহান খানের ব্যাপারে আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি শাজাহান খান পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখে অপরাধমূলক অসদাচরণ এবং ৯টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ৮৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লেনদেন করে মানিলন্ডারিং করেছেন। সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাজাহান খান একজন আয়করদাতা।
আবেদনে আরো বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ১২ নম্বর আইন) এর ৩০৯(৩)ক ধারায় আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করতে আদালতের আদেশ প্রয়োজন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। উক্ত আইনের নির্দেশনা মোতাবেক আসামি শাজাহান খানের আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের মূলকপি জব্দ এবং মামলার তদন্তকালে পর্যালোচনার নিমিত্ত সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের আদেশ একান্ত প্রয়োজন।
সৈয়দা রোকেয়া বেগমের ব্যাপারে আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি সৈয়দা রোকেয়া বেগম এবং তার স্বামী সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তার স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রাখার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি সৈয়দা রোকেয়া বেগম একজন আয়করদাতা। আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ১২ নম্বর আইন) এর ৩০৯(৩)ক ধারায় আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করতে আদালতের আদেশ প্রয়োজন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। উক্ত আইনের নির্দেশনা মোতাবেক সৈয়দা রোকেয়া বেগমের আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের মূলকপি জব্দ ও মামলার তদন্তকালে পর্যালোচনার নিমিত্ত সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের আদেশ একান্ত প্রয়োজন।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করা সংক্রান্ত শ্রম আইনের দুটি ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না-জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করাসংক্রান্ত শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং তৃতীয় অথবা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করাসংক্রান্ত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭(১) ও (১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৯ জুন) পৃথক এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্যসচিবসহ ১৩ জন বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।
এর আগে গত ১৫ জুন কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলক এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনকারীর তথ্য অনুসারে, ১৯৭ বিধি অনুযায়ী প্রসূতি ছুটি একজন নারী কর্মচারী পুরো চাকরিজীবনে দুবারের বেশি পাবেন না। আর শ্রম আইনের ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী কোনো নারী কর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ছয় মাস চাকরি না করলে তিনি প্রসূতি ছুটি পাবেন না। ৪৬(২) ধারা অনুসারে, প্রসবের সময় দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকলে ছয় মাসের বেশি চাকরি করলেও নারী কর্মী প্রসূতি ছুটি পাবেন না। এসব বিধি ও ধারা চ্যালেঞ্জ করেই রিটটি করা হয়।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।
তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থি। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে দাবি করেন, মামলার কোনো আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই। পাশাপাশি তদন্তেও নানা ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। এর আগে ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আর ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।
গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।
মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন- সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। তারও দুই দিন আগে ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন আদালতে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আদালতে নিজের আইনি লড়াই নিজে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, প্রসিকিউশনও আন্তরিকভাবে চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুক এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা নিজেই করুক। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরতে চাওয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা ইচ্ছাকে রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যদি তাঁর প্রকৃত সাহস থাকে, তবে অবিলম্বে দেশে ফিরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
একই সময়ে ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমের হালনাগাদ অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সব মিলিয়ে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর ১০টি মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, এই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ হিসেবে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলিসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত হলেন- রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে রায় পড়া শুরু হয়। প্রথমেই রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর অনুমতি সাপেক্ষে এ কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি দেখানো হয়।
শুরুতেই এ মামলার আসামিদের দায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। এরপর চার্জ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম। আর রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।
এদিকে, বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে এজলাসে তোলা হয়। মামলার অপর চার আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় সংঘর্ষের সময় পুলিশি অভিযানের মুখে আমির হোসেন একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। পরে তাকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করা হয়। কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, যাতে তার দুই পায়ে গুলি লাগে। একই দিনে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।
মামলাজট কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে একদিনে ৩ হাজার ৪০৯টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে ৩ হাজার ৯টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৪০০টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ১৮ হাজার ১৮১টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৯৬৮টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে মোট ২৪ হাজার ১৪৯টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকার দলীয় হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন— জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা ৬০ দিনের মধ্যে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট মামলা নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরে রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, ‘রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের ২০ মে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬) পদে ৪৬৮ জনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু গত দুই বছরেও এই পরীক্ষা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
পরে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদুল ইসলামসহ ৬৬ জন হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়কে নির্দেশ দেন। এরপরেও পরীক্ষা অনুষ্ঠানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী ১০ জুলাই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জবাবে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি নুরুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘ইতোপূর্বে চারবার দিন ধার্য করলেও পরীক্ষা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এই ধার্যকৃত দিনেও যে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে তা নিশ্চয়তা কোথায়।’
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেন।
২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের এক মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে আটক হয়েছেন আরেক নারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম নামে ওই নারী আদালতে প্রক্সি দিতে আসেন।
শুনানিকালে আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তাকে এজলাসে আটকের আদেশ দেন। এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু জানান, এজাহারনামীয় মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরে বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে আদালতের হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, ‘প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত মূল আসামি, প্রক্সি আসামি ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আদালত থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক মনোয়ারা বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও অফিসে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে আদালতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি বিচারকের নজরে এলে ওই আইনজীবী কৌশলে সরে যান।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবী বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই। দেখতে হবে। পরে কল দিয়ে জানাচ্ছি।’
এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। ঢাকার জজ কোর্টের আগরবাতি গলির এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার কোনো অপরাধ নেই। অপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন, তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। এত কিছু বুঝি না। যে স্যার ডাকছে, আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। আমি কিছু জানি না। আমার দুটা ছোট ছোট বাচ্চা আছে।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন।
বাদীর সঙ্গে আসামির পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য আসামিকে মোট ২৯ লাখ টাকা দেন বাদী। এর বিপরীতে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন।
পরে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সোনালী ব্যাংকে জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে তা ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।