ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে ‘গ্যাস বাবু’ দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড চলাকালীন বাবুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর বাবু ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
পরে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ৬ জুন রাতে ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়া এলাকা থেকে বাবুকে আটক করে ঢাকার ডিবির একটি দল। পরে ৯ জুন বাবুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডি থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তার আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুর্নীতির মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ জ্যাকবের জামিন আবেদন করা হলে তা শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে জ্যাকবকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক এস. এম. রাশেদুর রেজা। এ বিষয়ে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানি উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) সাবেক উপমন্ত্রী জ্যাকবকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এবং একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক এস. এম রাশেদুর রেজা মামলা দায়ের করেন।
নথি থেকে জানা গেছে, ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখা এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে মোট ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন এই গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেছেন।
শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সব ফরেনসিক রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক রিপোর্টগুলো পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈজ্ঞানিক এই তথ্য-প্রমাণ হাতে আসায় পুলিশ এখন চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজ করছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের শুরুতে পুলিশ প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিপক্ষকে কোনো আইনিসেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য যদি আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা দেন, তবে তার বিরুদ্ধে কার্যনির্বাহী কমিটি ও জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) জুম মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. রাশেদুল ইসলাম আদালতে আসামিকে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন আবেদন করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার শ্যালক ভ্যানে কাপড় বিক্রি করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ব্যবসায়ী রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
একই ঘটনায় ব্যবসায়ীর শ্যালকও গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাম পায়ে গুলি লাগে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিক্ষেপ করা টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে বর্তমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ জুন ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করে।
জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়।
ভ্যান থেকে নামানোর পর গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি হাসপাতাল থেকে আসছেন এবং সবার কাছে দোয়া চান। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন হাসপাতাল থেকে তাকে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি। পরবর্তীতে তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, একটি দুর্ঘটনার কারণে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে চিকিৎসকরা তাকে ম্যাগনেটিক থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর বর্তমানে তাকে এই থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এই চিকিৎসার সুব্যবস্থা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখার জন্য পলক সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ আজ এই হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার চার্জশিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ একাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩৪ জনের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান ও শাহজাহান খান বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং আজ তাদের উপস্থিতিতেই আদালতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে রোববার (১৭ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসন আমলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবী এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে আমরা রিটটি করেছিলাম।
এই ১৮ মাসে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ দেশের সর্বক্ষেত্রে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা এখানে বাঞ্ছনীয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার এসেও বিষয়টিকে ওভারথ্রো (উপেক্ষা) করতে না পারে।
রিটকারী অপর আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, এই সময়ে যা কিছু ঘটেছে, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছি। পুরো বিষয়টি কীভাবে তদন্ত হবে, তা সরকার ঠিক করবে।
গত শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় নিয়েছিলেন সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জানার জন্য। তবে আজ আদালত শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।
রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। দণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বাদী পক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশে বিদিশা হুসাইনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।
২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা হুসাইন বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা হুসাইন টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
বাদীর অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদিশা হুসাইন বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। সোহেল জানিয়েছেন, প্রথমে ওই শিশুকে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনও করেন। বুধবার (২০ মে) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান এ কথা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়।
জবানবন্দিতে সোহেল জানান, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করেন। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। এ ছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় তাকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। পরে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। তবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ রায় দেন। সাজার পাশাপাশি তাকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ মামলায় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিদিশা সাংবাদিকদের জানান, মামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা এ মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে বাদীর।
মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পরপরই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং কড়া পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানা না গেলেও আদালত সূত্র জানিয়েছে, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। ঘটনাটি সেসময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। পরে তদন্তভার পান চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।
তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে এজাহারভুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আদালতে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ছিলেন- জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।
নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।
দুর্নীতির দুই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ পৃথক আদেশে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
এই দুই মামলার একটি করা হয়েছে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে। অন্যটি হলো ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে মামলা। দুটি মামলাই করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সাবেক বিচারপতি মানিকের পক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) পৃথক এই দুই মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাতে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করে বিজিবি। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা এবং দুর্নীতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি কারাগারে আছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র দেশের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষকে মিথ্যা ও ভুয়া আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র দেশের বিভিন্ন জেলার একাধিক ব্যক্তিকে অপরাধমূলক কার্যকলাপে অভিযুক্ত করে মিথ্যা ও ভুয়া আইনি নোটিশ দিয়ে হয়রানিসহ জেল-জরিমানা ও শাস্তির ভয়ভীতি দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আইন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ক্রাইম ইউনিট সেল নামে কোনো বিভাগ, শাখা কিংবা সেল নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতারক চক্রের এ ধরনের কার্যকলাপে বিভ্রান্ত ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে আইএসপিআর।
সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে গুলি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রভাষক ডাক্তার রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন এ রায় দিয়েছেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ডাক্তার রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারকালীন হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে।’
দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছিলেন রায়হান শরীফ। একপর্যায়ে তার ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে গুলি করেন। গুলিটি তমালের ডান পায়ে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রায়হান শরীফকে শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু উদ্ধার করে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।