সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

অনির্দিষ্টকালের জন্য সুপ্রিম কোর্টসহ সব আদালত বন্ধ

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৯:১১

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগামীকাল সোমবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং সারা দেশের নিম্ন আদালত বন্ধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

তবে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো স্থানে হাইকোর্টের বেঞ্চ বসাতে পারবেন। এছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সারা দেশের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা থাকবে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্তে প্রধান বিচারপতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করেছেন:

১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে;

২। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের সব দপ্তর ও শাখাসমূহ যথারীতি বন্ধ থাকবে

৩। তবে প্রধান বিচারপতি জরুরি বিষয়ে প্রয়োজন সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিগুলো আপলোড করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়:

গুমের পেছনে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: কমিশন

*নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপির
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। কমিশন যে ডেটা পেয়েছে তা দিয়ে প্রমাণিত যে এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম। গুম সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কমিশন। গতকাল রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন কমিশন সদস্যরা।
কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। আর যারা এখনো নিখোঁজ তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা ৪-৬ হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরও ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছে যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অন-রেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি,’ বলেন তিনি।
কমিশন জানায়, হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।
কমিশন সদস্যরা জানান, শেখ হাসিনা নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে করে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশের গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া।
প্রতিবেদনগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
এছাড়া, আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশের গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল সেই সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এই কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিক্টিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।


আসুন, দেশকে বসবাসের উত্তমস্থানে পরিণত করার চেষ্টা করি : প্রধান বিচারপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বসবাসের উত্তম স্থানে পরিণত করার চেষ্টা করি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।’

রোববার (৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রদান বিচারপতি বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি বিচার অঙ্গনে আগত বিচারক, আইনজীবী ও বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

আইনজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতি আহবান জানান প্রধান বিচারপতি। সেই সাথে আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে পেশার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতিকে দেয়া গকালকের সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১৮ মে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। মাতা বেগম সিতারা চৌধুরী ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৭৯ সালে নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করে যুক্তরাজ্যের University of Hull এ মানবাধিকার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত আইনজীবী হয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইনপেশা শুরু করেন। ১৯৮৭ সালের ১৭ মে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।


বিচার বিভাগের সংস্কার ও অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নে গণমাধ্যমের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের অবদান অনবদ্য এবং এ কারণেই সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘটনাবলি সাধারণ মানুষ মূলত সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পারে, তাই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, সংবাদ পরিবেশনের সময় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া ট্রায়ালে’র মতো নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়। বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আরশাদুর রউফ আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের সব বক্তব্য বা আইনজীবীদের সকল সাবমিশন সব সময় সংবাদের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য নয়। তাই সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং কোনটি জনগুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি নয়, তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিগণ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আগামী দিনে বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ১৫৭

গতকাল সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। ছবি: আইএসপিআর
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং সদস্য ও চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫৭ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২২৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের গোলাবারুদ, ১০টি পেট্রল বোমা, বেশ কিছু ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব যৌথ অভিযান চালানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও বাহিনীটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।


ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে দায়িত্ব প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে তার অব্যাহতিপত্র জমা দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করলে ৮ আগস্ট মো. আসাদুজ্জামান এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

সম্প্রতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর তিনি নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব এখন মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে দেওয়া হলো।


প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা ৪ জানুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নবনিযুক্ত ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে আগামী ৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় যৌথভাবে তাঁকে সংবর্ধিত করবে। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট—উভয় বিভাগের বিচারপতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত থেকে নতুন প্রধান বিচারপতিকে বরণ করে নেবেন। বিচার বিভাগের ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বার ও বেঞ্চের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা আয়োজনের দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং সরকারের উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ বিচার বিভাগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি ২০২৮ সালের ১৭ মে পর্যন্ত এই সম্মানজনক পদে আসীন থাকবেন।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের আইন অঙ্গনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করার পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনে উচ্চতর এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং মেধা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আজ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন।


হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত: নির্বাচনে লড়তে পারবেন মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে সব আইনি বাধা দূর হলো নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার। তাঁর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশ আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।

আজ দুপুরে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম। মূলত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে নাটকীয়ভাবে নির্বাচনী দৌড়ে ফিরে এলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য মান্নার করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, মান্না এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন মান্না, যার ওপর আজ শুনানি শেষে স্থগিতাদেশ এলো।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’-এর কাছে পাওনা প্রায় ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করেছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ না করায় তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালে নেওয়া ওই ঋণের কিস্তি ও মুনাফা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি।

তবে মাহমুদুর রহমান মান্না শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই আইনি জটিলতায় ফেলা হয়েছে। অবশেষে আজ চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়ায় তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ফিরে পেলেন। আজই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় তড়িঘড়ি করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন নাগরিক ঐক্যের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর এই আইনি বিজয়কে তাঁর সমর্থকরা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।


৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশের সকল স্তরের বিচারকদের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিভাষণ দেবেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশের সকল জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের আগামীর কর্মপরিকল্পনা, মামলাজট নিরসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত রবিবার সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ পাঠ করেন। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে সারাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শাহবাগের ২ মামলায় এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের জামিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত ১৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং জশিতা ইসলামের পৃথক দুটি আদালত এই আদেশ দেন। আখতার হোসেনের আইনজীবী মো. মুজাহিদুর ইসলাম জানান, একটি মামলায় ৫০০ টাকা এবং অপর মামলায় ১০০০ টাকা বন্ডে তাঁর মক্কেলকে জামিন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের সময় শাহবাগ থানায় এসব মামলা করা হয়েছিল।

আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটিতে তিনি ইতিপূর্বেই অব্যাহতি পেয়েছেন। বাকি দুটি মামলায় আজ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল অসুস্থ শরীর নিয়ে দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণের সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। ২০২১ সালে মোদি-বিরোধী আন্দোলন ছাড়াও ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৭ জুলাই রাজু ভাস্কর্যের সামনে শহীদ আবু সাঈদের গায়েবি জানাজাকে কেন্দ্র করে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ তিনি পুরাতন মামলাগুলোতে জামিন পেলেন। মূলত রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা। বর্তমানে সকল মামলায় জামিন বা অব্যাহতি পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।


হাইকোর্টে রিট খারিজের পর এবার চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করতে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তাঁর আইনজীবীরা এই আবেদনটি দাখিল করেন। হাইকোর্টে ইতিপূর্বে করা রিট আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকতে তিনি এই সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ নিলেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, আজই বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মান্নার রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। ওই আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, ঋণখেলাপির তকমা থাকায় মান্নার পক্ষে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’-এর কাছে বিপুল পরিমাণ পাওনা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করেছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত এই হিমাগারটির কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হলেও তা জমা না দেওয়ায় মান্নাকে ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরেও তারা নিয়মিত মুনাফা বা কিস্তি পরিশোধ করেনি, যার ফলে বকেয়ার পরিমাণ বর্তমানে ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সচল ও লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, ওই কোল্ড স্টোরেজে মান্নার ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই আইনি জটিলতা মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সবার নজর আজ দুপুরের চেম্বার আদালতের আদেশের দিকে, যা নির্ধারণ করবে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী দৌড়ে থাকতে পারবেন কি না। তাঁর আইনজীবীরা আশা করছেন, উচ্চ আদালত থেকে ইতিবাচক কোনো নির্দেশনা পেলে তিনি পুনরায় প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করছে।


আগামীকাল শপথ নেবেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আগামীকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) শপথ গ্রহণ করবেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তিনি বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেলেন দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শপথ গ্রহণের পর তিনি দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তাঁর এই নিয়োগ বিচার প্রশাসনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্মান ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগত জীবনে ১৯৮৫ সালে তিনি জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর দুই বছর পর তাঁর পদটি স্থায়ী হয়। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি তাঁকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। মূলত বিচারালয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্য নিয়েই তিনি দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতির আসন অলংকৃত করবেন।


দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের বর্ণাঢ্য বিচারিক জীবনের অবসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ পদ থেকে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেছেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় তিনি তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য বিচারিক জীবনের ইতি টানলেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই প্রস্থান দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রথিতযশা আইনজ্ঞ হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াডাম কলেজ থেকে আইন বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গেও কাজ করার গৌরবময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁর এই আন্তর্জাতিক মানের পাণ্ডিত্য দেশের উচ্চ আদালতকে সমৃদ্ধ করেছে।

পেশাগত জীবনে ড. রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে ঢাকা জেলা আদালতে এবং ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর মাত্র দুই বছর পর তাঁকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মরহুম ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ এবং দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদের সুযোগ্য সন্তান। পারিবারিক এই গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বহন করেছেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিচার বিভাগের আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তাঁর নেওয়া এসব সাহসী পদক্ষেপ ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ আইনি অঙ্গনে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই অবসর দেশের বিচার প্রশাসনে যেমন একটি শূন্যতা তৈরি করল, তেমনি আগামীর জন্য এক আদর্শ পথনির্দেশনাও রেখে গেল।


সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের ৩ বছর আগে নির্বাচন করতে পারবেন না: হাইকোর্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের সকল সরকারি চাকুরিজীবীর জন্য সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিন বছরের বাধ্যবাধকতাটি বহাল থাকল।

এর আগে, অবসরের পর নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে লড়তে না পারার বিধানটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে চারটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং এই বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকারের মূলনীতির পরিপন্থি। তবে দীর্ঘ শুনানি ও আইনি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট সেই রিট আবেদনগুলো খারিজ করে দেন এবং তিন বছরের এই অপেক্ষমাণ সময়কে বৈধ বলে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত যেকোনো সময় রায়ের জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন। আজকের এই রায়ের ফলে স্পষ্ট হলো যে, কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার সাথে সাথেই রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচনি মাঠে নামতে পারবেন না; তাঁকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে উচ্চ আদালতের এই রায় অনেকের নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


banner close