পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগামীকাল সোমবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং সারা দেশের নিম্ন আদালত বন্ধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
তবে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো স্থানে হাইকোর্টের বেঞ্চ বসাতে পারবেন। এছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সারা দেশের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা থাকবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্তে প্রধান বিচারপতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করেছেন:
১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে;
২। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের সব দপ্তর ও শাখাসমূহ যথারীতি বন্ধ থাকবে
৩। তবে প্রধান বিচারপতি জরুরি বিষয়ে প্রয়োজন সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিগুলো আপলোড করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলাম এবং কন্যা বুশরা আফরিনের বিদেশ গমনে আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. সাইফুজ্জামান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে মশার লার্ভা নিধনের যন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চলমান আছে। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে যে, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দেশের বাইরে চলে গেলে চলমান অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বিধায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৬ অক্টোবর রাতে মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলকে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকে এই রায় ঘোষণা করা হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত মোহাম্মদ রাসেলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে এই একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত এই দম্পতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও চেক প্রতারণার অসংখ্য অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে শামীমা সুলতানা এবং এর কিছুকাল পরে মোহাম্মদ রাসেল জামিনে মুক্তি পান। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই গত বছরের জুন মাসে একটি নির্দিষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই সময় থেকেই এই দম্পতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁরা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
পলাতক থাকাকালীন অবস্থায় রাসেল ও শামীমা দম্পতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বেশ কিছু মামলা চলমান রয়েছে এবং ইতিমধ্যে অনেকগুলো মামলায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজকের এই রায়টি মূলত চেক জালিয়াতির শিকার হওয়া একজন পাওনাদারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রদান করা হলো। মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত রাসেলের সরাসরি অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে এই সাজা প্রদান করেন। অন্যদিকে শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আদালত মনে করছে, এই ধরণের দৃষ্টান্তমূলক সাজা ই-কমার্স খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠানের যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান। রিট আবেদনকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ওই নির্ধারিত বেঞ্চ রিটটি শুনতে অনীহা প্রকাশ করার পর তিনি আবেদনটি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে পুনরায় জমা দিয়েছেন। এর ফলে একই দিনে দুটি বড় রাষ্ট্রীয় ভোট আয়োজনের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চ আদালতে এক ধরণের সাময়িক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করার জোর দাবি জানানো হয়। রিটকারীর প্রধান আইনি যুক্তি হলো, বর্তমান ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’-এর কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ বা স্বীকৃতি বাংলাদেশের সংবিধানে নেই। যেহেতু সংবিধান এই ধরণের কোনো ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট সরাসরি দেয়নি, তাই এই সরকারের অধীনে নেওয়া নির্বাচনি প্রক্রিয়ার কোনো আইনি বা সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে পারে না। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যেন বর্তমান তফসিল বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় এবং সেই সরকারের অধীনে নতুনভাবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত সরকার থাকা অপরিহার্য এবং বর্তমান আইনি কাঠামোয় সেটি অনুপস্থিত। তবে প্রথম বেঞ্চ থেকে অপারগতা আসার পর এখন নতুন বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি কবে নাগাদ শুরু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। নির্বাচনি কার্যক্রমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উচ্চ আদালতের এমন অবস্থান রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় আরও ৭ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ হত্যা মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ জনে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তর শাহবাগের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয় থেকে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৬ আসামির জবানবন্দিতে নাম আসা ৮ জনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় মামলার বাদী নারাজি দেন। বাদীর নারাজির ওপর শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে যোগ হওয়া ৭ আসামি হলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলার প্রথম অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীকে।
তারা হলেন ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া (২৬), মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া (২১), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন (২৪), ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩), ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), শাকিব রায়হান (২২), ইয়াসিন আলী (২১), ইয়ামুজ্জামান ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দিন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন (২৩) ও আব্দুল্লাহহিল ক্বাফি (২১)।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত সেদিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলার সঙ্গে তার করা মামলাটি একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তোফাজ্জলের মামা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ক্রিকেট স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে পেটান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ছদ্মনামী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ‘জুলাই ঐক্য’ নামক সংগঠনের পক্ষে এই আবেদনটি জমা দিয়েছেন অন্যতম সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি বোরহান মাহমুদ নামেই সমধিক পরিচিত। রিট আবেদনে মূলত স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানকে আইন ও সংবিধানের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, যারা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে, তাঁদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নৈতিক ও আইনি অধিকার নেই।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই রিট আবেদনের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। খুব শীঘ্রই, সম্ভবত আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থীদের বৈধতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই ধরনের রিট নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রিট আবেদনে জাতীয় পার্টির চলমান অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এবং বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির মধ্যে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, একাধিক গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি নেতৃত্ব দাবি এবং কার হাতে মনোনয়নপত্র দেওয়ার চূড়ান্ত আইনি ক্ষমতা রয়েছে—এই বিষয়গুলো ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। ‘জুলাই ঐক্য’ মনে করে, এমন অস্থিতিশীল ও বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। উচ্চ আদালত এখন এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী ধরনের নির্দেশনা প্রদান করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় পার্টিসহ আরও বেশ কিছু প্রার্থীর নির্বাচনি ভবিষ্যৎ। সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই রিটটি সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের তিনটি গাড়ি এবং ৬ দশমিক ২২ একর জমি জব্দের আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত জব্দকৃত এসব সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের পক্ষ থেকে উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এই সম্পদ জব্দের আবেদনটি দাখিল করেন, যেখানে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আনিসুল হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সাবেক এই মন্ত্রীর ২৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার টাকা জমা হয়েছে এবং সেখান থেকে ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিশাল অংকের এই ব্যাংক লেনদেন এবং স্থাবর সম্পদের মালিকানা নিয়ে ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অবৈধ সম্পদ বেহাত হওয়া রোধ করতে এই সম্পদগুলো দ্রুত ক্রোক বা জব্দ করা অপরিহার্য ছিল। জব্দের নির্দেশ দেওয়া এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক মনে করছে, সম্পদ জব্দ করা না গেলে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রয় করে দিতে পারেন, যা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। বর্তমানে দুদকের পক্ষ থেকে তাঁর অন্যান্য সম্ভাব্য সম্পদের উৎস ও লেনদেনের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে অসত্য তথ্য পরিবেশন কেবল অনভিপ্রেত নয়, বরং এটি বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনমনে আদালতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন লক্ষ্য করেছে যে, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং বেঞ্চ বরাদ্দ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিনিয়র বিচারপতিদের ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য প্রচারিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম মূলত তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ব্যক্তিগত ও মানবিক বিষয়গুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সংবাদ প্রচার করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংবাদ প্রকাশের আগেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ প্রচারের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পারসন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে বস্তুনিষ্ঠতা ও যথার্থতা যাচাই করে নিতে হবে। যদি কোনো মাধ্যম যাচাই না করেই ভুল তথ্য পরিবেশন করে, তবে তার জন্য আইনি দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। মূলত বিচার বিভাগের পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আদালত মনে করে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দৃঢ় করতে সহায়তা করে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠানের যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। রিটে মূলত গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ওই তফসিল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই দিনে দুটি ভিন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া আয়োজনের আইনি সক্ষমতা নিয়ে এই রিটের মাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে কেবলমাত্র বর্তমান তফসিল স্থগিত করার আবেদনই করা হয়নি, বরং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী আবেদন জানিয়েছেন যেন বর্তমানে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় এবং সেই সরকারের অধীনে নতুনভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
আইনি যুক্তি তুলে ধরে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জানান যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' নামক কোনো ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ বা স্বীকৃতি নেই। তাঁর মতে, যেহেতু সংবিধান এই ধরনের কোনো সরকারকে নির্বাচনের ম্যান্ডেট দেয়নি, তাই এই সরকারের অধীনে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে পারে না। তিনি মনে করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য হয় একটি নির্বাচিত সরকার অথবা একটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই সাংবিধানিক অসংগতি দূর করার লক্ষ্যেই তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। কমিশন যে ডেটা পেয়েছে তা দিয়ে প্রমাণিত যে এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম। গুম সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কমিশন। গতকাল রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন কমিশন সদস্যরা।
কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। আর যারা এখনো নিখোঁজ তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা ৪-৬ হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরও ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছে যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অন-রেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি,’ বলেন তিনি।
কমিশন জানায়, হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।
কমিশন সদস্যরা জানান, শেখ হাসিনা নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে করে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশের গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া।
প্রতিবেদনগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
এছাড়া, আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশের গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল সেই সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এই কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিক্টিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বসবাসের উত্তম স্থানে পরিণত করার চেষ্টা করি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।’
রোববার (৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় প্রদান বিচারপতি বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি বিচার অঙ্গনে আগত বিচারক, আইনজীবী ও বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।
আইনজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতি আহবান জানান প্রধান বিচারপতি। সেই সাথে আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে পেশার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতিকে দেয়া গকালকের সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১৮ মে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। মাতা বেগম সিতারা চৌধুরী ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৭৯ সালে নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করে যুক্তরাজ্যের University of Hull এ মানবাধিকার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত আইনজীবী হয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইনপেশা শুরু করেন। ১৯৮৭ সালের ১৭ মে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নে গণমাধ্যমের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের অবদান অনবদ্য এবং এ কারণেই সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘটনাবলি সাধারণ মানুষ মূলত সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পারে, তাই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, সংবাদ পরিবেশনের সময় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া ট্রায়ালে’র মতো নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়। বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আরশাদুর রউফ আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের সব বক্তব্য বা আইনজীবীদের সকল সাবমিশন সব সময় সংবাদের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য নয়। তাই সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং কোনটি জনগুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি নয়, তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিগণ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আগামী দিনে বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং সদস্য ও চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫৭ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২২৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের গোলাবারুদ, ১০টি পেট্রল বোমা, বেশ কিছু ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব যৌথ অভিযান চালানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও বাহিনীটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে তার অব্যাহতিপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করলে ৮ আগস্ট মো. আসাদুজ্জামান এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সম্প্রতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর তিনি নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব এখন মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে দেওয়া হলো।