শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:১৯

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

এর আগে, ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা উল্লেখ করে বুধবার (৭ আগস্ট) পদত্যাগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।


তদন্তে দীর্ঘসূত্রতায় সাজা হয় না ৫২ শতাংশ মামলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক    

রাজধানীতে বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। আগামী ১৮ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই তারিখ ধার্য করেন। গতকাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। এ নিয়ে এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৬ বার পেছানো হলো।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান। ওই দিন তিনি আদালতকে জানান, তিনি তদন্তভার নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। আশা করা যায় খুব শিগগিরই তদন্ত শেষ হবে। মামলার তদন্ত বিলম্বিত হওয়ায় আদালত সেদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটি তদন্ত পর্যায়েই রয়েছে প্রায় ১৪ বছর ধরে। কোনো কূলকিনারাই খুঁজে পাননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কেবল এ ঘটনাই নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের হত্যা মামলাগুলোর তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গড়ে একটি মামলার তদন্ত সম্পন্ন হতেই সময় লাগছে প্রায় ১০ বছর ১১ মাস। কিছু ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ৩০ বছরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, তদন্তে এ অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষীদের বয়ানেও আসে পরিবর্তন। পাশাপাশি তদন্তের দুর্বলতাও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। ফলে থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর প্রায় ৫২ শতাংশই প্রমাণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ, যার সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব অসংগতি। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কমে আসবে তদন্তের সময়। সেই সঙ্গে বাড়বে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দক্ষতাও।

‘মামলায় সাজার হার কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান প্রতিবেদন’ শীর্ষক পিবিআইয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে যতটুকু সময় ব্যয় হয়, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি সময় লাগে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুনের ঘটনার ৩০ বছর পর আদালতের রায় আসছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসা এ চিত্র মূলত দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি কাঠামোগত দুর্বলতাকেই নির্দেশ করছে। খুনের মতো অপরাধে যদি সাজার হার না বাড়ে, তবে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে। তদন্তে স্বচ্ছতা ও বিচারে দ্রুততা—এ দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশকেই নির্ভুল তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো মামলা বা হত্যা মামলার ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা পুলিশের দায়িত্ব। আমরা দেখেছি এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ফাইল ঘুরতে থাকে, কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয় না। তদন্তের নামে মূলত সময়ক্ষেপণ বা কাউকে প্রক্রিয়াগতভাবে সুযোগ করে দেয়া হয় এর মাধ্যমে। এটা আইনগতভাবে অপরাধ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে বিচারকে বিলম্বিত করা। দিনের পর দিন যখন এ ধরনের কার্যক্রম চলে তখন কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝেও আইনের প্রতি একধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়।’

দীর্ঘ সময় ধরে হত্যা মামলার তদন্ত চলতে থাকলে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তার মতে, আলামত নষ্ট হয়ে গেলে মামলার নির্ভরযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায় এবং এ সুযোগে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের গবেষণায়ও দেখা গেছে, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে নিষ্পত্তি হওয়া ২৩৮টি হত্যা মামলার মধ্যে প্রায় ৫১ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়ে গেছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি মামলায় অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। এর বিপরীতে সাজার হার ছিল মাত্র ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত বিচারের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় সাক্ষী এবং বাদীরা অনেক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, যা সরাসরি মামলার রায়কে প্রভাবিত করে। আবার দীর্ঘ সময় আগে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী খুঁজে পাওয়া বা তাদের স্মৃতিতে থাকা ঘটনার বর্ণনা অক্ষুণ্ণ রাখাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে আবার জীবনের নিরাপত্তার অভাব বা সামাজিক চাপে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

হত্যা মামলার নির্ভুল তদন্তের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলা দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলা। এ ধরনের মামলা নির্ভুল তদন্তে বেশকিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। যেমন ফরেনসিক, ব্যালিস্টিক পরীক্ষাসহ নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে হাজির করে বয়ান রেকর্ডের বিষয় থাকে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিটি হত্যা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।’

পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। এ সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।


ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিহতের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন বিষয়টি জানান। তিনি আরও জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। তবে পরে আদেশ দেবেন বলে আদালত জানিয়েছেন।

আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন— বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সাবেক শিক্ষাসচিব সিদ্দিক জুবায়ের, বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মুহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান ও রাজউকের ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা)। এদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলাজনিত নরহত্যা ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়, যাদের বেশির ভাগই শিশু।


৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার সেই ইমি কারামুক্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি দুই মাস পর কারামুক্ত হয়েছেন। হাইকোর্টের দেওয়া জামিনে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে তিনি মুক্তি পান।

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইমিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ইমির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এর আগে একবার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছিল।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মার্চ রাতে। সেদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় মাইক লাগিয়ে ভাষণ প্রচারের সময় এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ একদল শিক্ষার্থী বাধা দেন।

পরে ইমি ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে রিকশাসহ থানার ভেতরে নেওয়া হয়। এ সময় থানার ভেতরেই আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। ওই মামলায় ইমিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।


জামিন পাননি সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় সাগর হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন নাকচ করেছেন আদালত।

বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৭ এর বিচারক তাওহীদা আক্তার এই আদেশ দেন।

নথি থেকে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থানাধীন ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান মো. সাগর। এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর নিহতের মা বিউটি আক্তার মিরপুর থানায় শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে ২৪২ জনের নামে হত্যা মামলায় দায়ের করেন। মমতাজ এই মামলায় ৪৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে মমতাজকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।


সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলমের আয়কর নথি জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর সাবেক চিফ হুইপের আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন৷

আবেদনে বলা হয়, আসামি নূর-ই-আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ৭৯৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নিজ ভোগ দখলে রাখেন। আসামির ৮টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৩২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার অপরাধ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেন। তিনি একজন আয়কর দাতা। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির মূল আয়কর নথির শুরু হতে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় মূল রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নির্বাচিত হন নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন। গণ‌অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতন হলে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও তার ভাই নিক্সন চৌধুরী সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, নূর ই আলম চৌধুরী লিটন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা।


রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল মন্ডল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আবদুল জলিল মণ্ডলের জামিন প্রার্থনা করে আদালতে শুনানি করেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।
শুনানি চলাকালে আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, তাঁর মক্কেল এই আলোচিত মামলার রাজসাক্ষী হতে আগ্রহী। তবে ট্রাইব্যুনাল বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সাবেক এই ডিআইজির জামিন আবেদনটি মঞ্জুর না করে তা নাকচ করে দেন। বর্তমানে তিনি এই মামলার আসামি হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।


নাটোরে শিশুকে যুবক দেখিয়ে মামলায় ফাঁসলেন বাদী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে ৭ বছর বয়সি এক শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল ৭ বছরের এক শিশু আদালতে হাজির হয়ে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পান, বাদী শাহানুর রহমান মামলার এজাহারে ওই আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করেছেন। অথচ জন্ম নিবন্ধন অনুসারে ঘটনার তারিখে তার বয়স সাত বছর ছিল। শিশুটি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিষয়টি জানতে পেরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে শিশুটির প্রকৃত বয়স কেন উল্লেখ করা হয়নি, এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন।

সেই মোতাবেক মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। পরে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সাথে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহের অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন।


হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১৭ মে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে, তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেছেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট গুলিবিদ্ধ হয়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।

তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন।


আজহারীর ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা, ২ জন রিমান্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আট আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদেন এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিম হোসেন ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) ও মো. ইমরান (২৪)।

গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার থেকে জানা গেছে- গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) ও ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত। সেই ভুয়া ভিডিওতে ড. আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।​

বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপসহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।


শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৮ জন নিহত হওয়ার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৫ মে) নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্ত্বরে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়েছে। অনেকের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়নি। কিন্তু তদন্তের সময় তাদের কবর পরিদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত সংস্থার লোকজন কথা বলেছেন।

আসামিদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আসামির সংখ্যা ৩০ এর নিচে হবে না। আর ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার আছেন, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সাবেক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন পুলিশ প্রধান, পুলিশ কমিশনারসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই ওই ঘটনায় জড়িত। তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সমাপ্ত হয়ে গেছে। আশা করছি আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনায় জড়িত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এই মামলায় ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ।


সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের হাইকোর্টে জামিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাসহ তিন মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাসহ তিন মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলায় তাকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলাম সুজনকে যাত্রাবাড়ী থানার গোপী বাঘের রাইয়ান কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের মালিক রফিকুল ইসলামকে হত্যার মামলায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২৮ আগস্ট রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৫ জনকে আসামি করা হয়।

২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ইমরান হোসেন নামে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।


সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু জামিন পাননি

আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ১৭:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা এক হত্যা মামলায় একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে কারাগারে থাকা সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। তার পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল এই রুল জারি করা হয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে সপরিবারে ভারতে যাওয়ার সময় শ্যামল দত্তকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। মোজাম্মেল বাবু সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।

ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে। বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়।


সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সিসিটিভি স্থাপনে রুল জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে হাই ডেফিনেশন (এইচডি) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের বেঞ্চ এ রুল জারি করেছেন।

আইনসচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে সব সাবরেজিস্ট্রার অফিসে পাবলিক ডিসপ্লে মনিটরসহ এইচডি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সারওয়ার রিট করেছিলেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।


banner close