সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
এর আগে, ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা উল্লেখ করে বুধবার (৭ আগস্ট) পদত্যাগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে আন্দোলনে জড়ালে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে জানানো হয়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে, অফিস চলাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবন, ফয়ার এবং বন্দর ভবনসংলগ্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তারা মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং রায়ের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন, যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও শালীনতার পরিপন্থি।
দপ্তরাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। এসব কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী সুস্পষ্ট অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মিটিং-মিছিল ও গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করা প্রবিধানমালার ৩৮ ধারার ২(ক ও খ), ৩৮(৪) ও ৩৮(৬) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দপ্তরাদেশে বলা হয়, এনসিটি সংক্রান্ত রিট মামলায় আদালত সরকারের চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন। এ অবস্থায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের আন্দোলন, বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের স্মারক অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ৩০ নম্বর বিধিসহ সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরীণ বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করা, গোপনীয় নথি প্রকাশে বিরত থাকা এবং অফিস সময় যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কিছু কর্মচারী ওই নির্দেশনা অমান্য করেছেন।
দপ্তরাদেশে বলা হয়, উপরোক্ত কর্মকাণ্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, অসদাচরণ এবং অনানুগত্যের শামিল। ফলে অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ এর ৩৯ ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
এদিকে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এননিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর আগ মুহূর্তে এ ঘোষণা এসেছে।
উল্লেখ্য এনসিটি ইজারা দিয়ে আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকার চুক্তি করতে যাচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বিএনপিপন্থি দুই সংগঠনের শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। প্রথমে তারা বন্দর ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বন্দর ভবন চত্বরে ঘুরে একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে বন্দর ভবনের ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ওইদিন পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এনসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের এ কর্মসূচিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্কপ। এ ছাড়া স্কপের পক্ষ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি (কাল) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
জামিন ছাড়াই ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়া সেই ৩ আসামিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার র্যাব-১৪ এর সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে র্যাব। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জামিন আদেশ ছাড়াই এ ৩ আসামি ময়মনসিংহ কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কারা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত না বললেও জামিন আদেশ ছাড়া তিন আসমি বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুলবশত এটি হয়েছে। তিন আসামি পালানোর ঘটনায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ আসামি হচ্ছে, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মধ্যতারাটি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আনিছ মিয়া (৩২), রাশেদুল ইসলাম (২৫) ও জাকিরুল ইসলাম (২৮)। গত ২৩ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলায় এ তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করে র্যাব।
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ভুলবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকায় সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আবারও পেছানো হয়েছে। এ নিয়ে মামলার অধিকতর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৩ বার পেছানো হলো। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ফলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। এই রায়ের ফলে এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি সম্পাদনে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।
আদালতের এই রায়টি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এই রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টের একটি দ্বিবৈচিত্র্যময় বা বিভক্ত রায় এসেছিল। সেই সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, অন্যদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিটটি খারিজ করে চুক্তির প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে মত দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ একক বেঞ্চ পূর্বের রুল খারিজ করে দিয়ে সরকারের প্রক্রিয়াটিকে বৈধতা দিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জুলাই বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইনের পক্ষ থেকে এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। রিটে দাবি করা হয়েছিল, এনসিটি পরিচালনার জন্য যথাযথ ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং বা দরপত্র আহ্বান না করেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’—এমন শিরোনামে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে রিটে যুক্ত করা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীরা মনে করেছিলেন, নিজস্ব সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল ছেড়ে দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
আজকের শুনানিতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা করে পর্যবেক্ষণ দেন যে, সরকারের এই চুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি ব্যত্যয় ঘটেনি। এই রায়ের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি বিনিয়োগ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো মনে করে, বিদেশি কোম্পানির হাতে টার্মিনাল লিজ দেওয়া হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই রায়ের দিনই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি বন্দরে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের পর বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার আইনি পথ এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার। এটি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ও বিদেশি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে সংঘটিত ভয়ংকর গণহত্যা ও ৬ শিক্ষার্থীকে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাজা বৃদ্ধির আপিল করেছে প্রসিকিউশন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আদালত সূত্রে জানা গেছে যে, রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের দণ্ডকে অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল মনে করায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন।
রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয় এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত। প্রসিকিউশন এই তিনজনের সর্বোচ্চ সাজায় সন্তুষ্ট থাকলেও অন্য পাঁচ আসামির সাজা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুল, যাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়, যার প্রমাণ হিসেবে ১৯টি ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন মনে করছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালানো এবং গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার পরও ৩ থেকে ৬ বছরের কারাদণ্ড ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাই এই পাঁচ আসামির দণ্ড আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই আজ উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নামের ছয়জন শিক্ষার্থী নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষী গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল গত সোমবার এই রায় দেন। এটি ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় রায়। এর আগে প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন একই আদালত। চানখারপুলের এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পুরোপুরি সুনিশ্চিত করতে সাজা বৃদ্ধির এই আপিলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রাজধানীর কল্যাণপুরে 'জাহাজবাড়ি' নামক ভবনে কথিত জঙ্গি অভিযানের নামে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এই মামলাটি মূলত ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত অভিযানকে কেন্দ্র করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার দাবি করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে কল্যাণপুরের সেই ভবনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ পরিচালনা করে। সেই অভিযানে ৯ জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের দুর্ধর্ষ জঙ্গি হিসেবে দাবি করা হয়। তবে বর্তমান প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ তুলেছে যে, সেটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত 'জঙ্গি নাটক', যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারবহির্ভূতভাবে তরুণদের নির্মূল করা, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবির প্রধান ও ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামসহ আরও ছয়জন। প্রসিকিউশন পক্ষ মনে করে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই ব্যক্তিদের নির্দেশ ও সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের এই পদক্ষেপকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। অভিযোগপত্রে ৯ তরুণকে হত্যার পাশাপাশি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আদালত এখন এই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারের ধারাবাহিকতায় এটি অন্যতম একটি বড় মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নির্মানাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫৩) নামে দুই সহোদরকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে তাদের আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিরা পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়া মাসুদ রানা পৌর ছাত্রলীগের নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম রাব্বির পিতা। এ ঘটনায় ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ নওশাদ আলী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। আটক মাসুদ রানা একাধিক মাদক মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরেও ওই সেনা সদস্য কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে সোমবার অভিযুক্তরা নওশাদ আলীর ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে যান এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এতে নিরুপায় হয়ে ওই সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করায় আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়ায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন। অর্থাৎ, যেকোনো দিন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে সমাপনী বক্তব্য ও আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এর বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করেন এবং বেকসুর খালাস চান। এর আগে গত ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন মামলার আদ্যোপান্ত আদালতের সামনে তুলে ধরে। এ সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওর মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান ও কার্যকলাপ শনাক্ত করে ৩০ জন আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানিকালে মঙ্গলবার কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে মামলার অন্যতম আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের আইনি সহায়তা দিতে এর আগে আদালতের নির্দেশে চারজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়েছিল। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন জাতি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি লড়াইয়ে জয় পেলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট অবিলম্বে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন বিএনপির এই প্রার্থী।
উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে ফটিকছড়ি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ সুগম হলো।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত জেআইসি সেল এবং টিএফআই সেলে গুমের দুটি পৃথক মামলায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিচার কার্যক্রম চলছে।
বিশেষ করে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা ও নির্যাতনের ঘটনায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেবেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। এর আগে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করার কারণেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর তাকে জেআইসি সেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। একই ট্রাইব্যুনালে আজ টিএফআই সেলে (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সংঘটিত গুমের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২ এ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কার্যক্রমও চলছে। আজ এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া জবানবন্দির ওপর আসামিপক্ষের জেরা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আজ শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিকালে আসিবুরকে আদালতে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন এর বিপক্ষে নিজ নিজ যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আফতাবনগরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আল আমিন অংশ নিলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় আল আমিন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, আসিবুর রহমান খানকে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারান্তরীণ রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চার পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। জুলাই বিপ্লবের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এটিই প্রথম রায়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার দায়ে কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিপত্র ও বিচারিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত ওই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন। ছাত্র-জনতার ওপর চালানো এই হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সাব্যস্ত করে আজ এই রায় প্রদান করা হলো।
গত বছরের ১৪ জুলাই পলাতক ও গ্রেপ্তারকৃত মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে প্রসিকিউশন তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উভয়পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২২ ডিসেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে আজ এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ অতিক্রম করল।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই রায় প্রদানের দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রায় প্রস্তুত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এটিই হতে যাচ্ছে কোনো মামলার প্রথম রায়।
প্রায় পাঁচ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাবেক আট শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হচ্ছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনার সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ও মোহাম্মদ ইমরুল। প্রধান এই চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ১৪ জুলাই এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয় এবং ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশন পক্ষ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বিবরণ, ভিডিও ফুটেজ এবং ফোনালাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই হামলায় বহু আন্দোলনকারী হতাহত হন। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।