শপথ নিয়েছেন আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া চার বিচারপতি। আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাজেস লাউঞ্জে এ চার বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
গতকাল সোমবার (১২ আগস্ট) হাইকোর্ট বিভাগের চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তারা হলেন- বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগের চারজন বিচারককে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করেছেন। এ নিয়োগ শপথের দিন থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করেন আপিল বিভাগের আরও পাঁচ বিচারপতি।
এদিন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন দুপুরে তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী: প্রয়াত বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান চৌধুরীর ছেলে জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্য থেকেও আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি নেন। ১৯৮৫ সালে তিনি জেলা আদালতে ও ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পরে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম: সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম রসায়নে স্নাতক, আইনে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জেলা আদালতে, ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৬ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পরে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি মো. রেজাউল হক: মো. রেজাউল হক এম এ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ সালে তিনি জেলা আদালতে ও ১৯৯০ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পরে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক: এস এম এমদাদুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯০ সালে তিনি জেলা আদালতে ও ১৯৯২ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পরে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর এ জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান এই অভিনেত্রী এবং পরবর্তীতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন।
মামলাটিতে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন পরীমনি। তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন জানালে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এর তীব্র বিরোধিতা করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময় চেয়ে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন হিসেবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করেন।
মারধর, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ তুলে ২০২২ সালের ৬ জুলাই সাভার থানায় পরীমনি ও তাঁর সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিনও আদালতে গরহাজির থাকায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, যা পরদিন ২৭ জুন আত্মসমর্পণের মাধ্যমে প্রত্যাহার হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে গিয়ে তিন লিটারের একটি ব্লু লেবেল মদের পার্সেল বিনামূল্যে না পেয়ে নাসির উদ্দিনের ওপর চড়াও হন পরীমনি। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাশট্রে ছুড়ে মারলে নাসির উদ্দিনের ডান কানের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। এছাড়া তিনি ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং বাধা পেয়ে তাঁর সহযোগী জিমি বাদীকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতের সেই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে বোট ক্লাবে নিজেকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। পরবর্তীতে ১৩ জুন তিনি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে ওই ব্যবসায়ী গ্রেফতার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা সেই ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলার বিচারকাজ বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ক্লাবে ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হয়ে এ আবেদন দাখিল করেন।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বুধবার আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেছেন। এর আগে বুধবার মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত তারিখে পরীমণি এলার্জিজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর আইনজীবীরা সময়ের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে বাদীপক্ষের জামিন বাতিলের আবেদন গ্রহণ করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে এ নালিশি মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পরীমণি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সমন জারি করলে ২০২৪ সালের ২৫ জুন পরীমণি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
নাসির উদ্দিন মাহমুদের মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন গভীর রাতে আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে মদ্যপানে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে বিনামূল্যে একটি দামি বিদেশি মদের বোতল পার্সেল দাবি করলে বাদী তাতে অসম্মতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরীমণি গালমন্দ করার পাশাপাশি সার্ভিং গ্লাস ও নিজের মুঠোফোন ছুড়ে মারেন, যার আঘাতে নাসির উদ্দিন বুকে ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয় যে, এ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আইনি সুবিধা নিতে পরীমণি পরবর্তীতে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার পাল্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।
২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাকেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।
মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বান্ধবীকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, রিমান্ডে থাকাকালীন ওই তরুণী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। মামলার আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে থাকায়, দুই আসামির বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করতে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ ও ক্রসচেক করা প্রয়োজন।
এছাড়া ঘটনার দিন উত্তরার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় তাদের মধ্যে কোনো বাকবিতণ্ডা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল কি না, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অজ্ঞাত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩০ অক্টোবর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে তলব করে ৪ নভেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাজিরার জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (৪ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
ফুয়াদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক ও অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান।
পরে ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকায় ফুয়াদ আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে ২৩ নভেম্বর পরবর্তী হাজিরার দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ১ নভেম্বর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, এবি পার্টির একটি অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেন ফুয়াদ। সেখানে তিনি ‘বস্তায় বস্তায় লেনদেন হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর জানান, তার এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেন। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ফুয়াদের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো নোটিশ জারি করা হয়। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতেই তাঁকে ৪ নভেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে তলব করে ৪ নভেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাজিরার জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (৪ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
ফুয়াদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক ও অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান।
পরে ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকায় ফুয়াদ আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে ২৩ নভেম্বর পরবর্তী হাজিরার দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ১ নভেম্বর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, এবি পার্টির একটি অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেন ফুয়াদ। সেখানে তিনি ‘বস্তায় বস্তায় লেনদেন হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর জানান, তার এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেন। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ফুয়াদের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো নোটিশ জারি করা হয়। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতেই তাঁকে ৪ নভেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আলোচিত অভিভাবক শাহজালাল রুমীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন।
আদালতে শাহজালাল রুমীর জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাহজালাল রুমীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের পর বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এরপর মামলায় নিজের পক্ষে আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন শাহজালাল রুমী। ওই আবেদনের ওপর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে পিবিআই।
মামলার তদন্তে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় এবং সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সত্যতা মিলেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের কথা বলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তার গুলশানের বাসায় যান রিয়াদ ও জানে আলম অপু। তল্লাশিতে তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর, ওই দুই ব্যক্তি পুনরায় পুলিশ ছাড়া বাসায় প্রবেশ করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, বাসার মালিক সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এই টাকা গ্রহণের ভিডিও ফুটেজও পিবিআইয়ের হাতে রয়েছে।
২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আসামিরা পুনরায় ওই বাসায় গেলে, মালিকের অভিযোগে পুলিশ রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ডিবির সহায়তায় পলাতক জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ এবং আরেক আসামি জানে আলম অপু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ আছে।
জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ‘আমি গরিবের ছেলে, টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।’ টাকার লোভ সামলাতে না পেরে তিনি চাঁদা চেয়েছিলেন বলে জানান।
অপুর জবানবন্দি অনুযায়ী, আদায়কৃত ১০ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে অপু একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন এবং কিছু টাকা দিয়ে ধারদেনা শোধ করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আসামিরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন তারা।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সী গত ১৫ অক্টোবর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটিতে একজন আসামি শিশু হওয়ায় তার বিচার হবে শিশু আদালতে। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বর্তমানে সব আসামি জামিনে রয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ২১ বারের মতো পেছাল।
মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ আদায় শেষে ফেরার পথে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি। এরপর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটিতে হত্যার ধারা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা) সংযোজনের নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। ওই অভিযোগপত্রে নাম থাকা আসামিদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে এবং ৬ জন পলাতক রয়েছেন। তবে ডিবির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়।
শিশু সহিংসতা দমন ও প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনে বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করা হয়েছে।
সেই লক্ষে সারা দেশে গঠিত হয়েছে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। শিশু সহিংসতায় করা মামলায় এই ট্রাইব্যুনালে সাজার পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত ৯ মাসে ২টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত ৭ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই মামলা মাত্র ৫ কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রতি জেলা সদরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল থাকবে এবং প্রয়োজনে সরকার উক্ত জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করতে পারবে। এই ট্রাইব্যুনাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারে সরকার পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ, ভিকটিমকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালেরই অংশ। নবগঠিত এই ট্রাইব্যুনাল গত বছর জুন মাস থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করে।
এই ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মামলার বিচার করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বাসসকে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ট্রাইব্যুনালে ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ৬টি মামলার মধ্যে ২টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বাসসকে বলেন, শিশু সহিংসতার মামলার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। শিশু সহিংসতা মামলা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। শিশু সহিংসতার মামলায় শুধু কারাদণ্ড নয়, মৃত্যুদণ্ড ও বড় অংকের অর্থদণ্ডের রায় দিচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। রায়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজার বিধান রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সেই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে। সূত্র: বাসস
প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের। দীর্ঘ এই সময়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে না একবারও। আদালত ১৩১ বার সময় নির্ধারণ করলেও তদন্ত শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ৫ নভেম্বর ১৩২তম বারের মতো প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য রয়েছে। অন্যদিকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সাগরের মা সালেহা মনিরের এখন একটাই চাওয়া—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
ছেলে ও পুত্রবধূকে হারানোর স্মৃতি মনে করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭৪ বছর বয়সি সালেহা মনির। তার প্রশ্ন, এত বছরেও কেন এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হলো না?
সালেহা মনির বলেন, ‘কোন মা তার সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন না? ঘটনাটা তো একেবারেই স্পষ্ট ছিল। এত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ কেউ কিছু বের করতে পারল না।’
ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে যেন বিচার দেখে যেতে পারি, এটাই আমার আশা।’
সালেহা মনির জানান, টেলিভিশনে তিনি দেখেছেন, তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টাস্কফোর্সের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এর আগে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে দীর্ঘ তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেহেরুন রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান। তদন্তে বারবার সময় চাওয়াকে তিনি হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন।
রোমান বলেন, ‘টাস্কফোর্সের বারবার ছয় মাস করে সময় বাড়ানোর আবেদন আসলে তদন্ত বিলম্বিত করার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এতে প্রমাণ হয়, তদন্তে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।’
তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং টাস্কফোর্সের প্রধানকে তলব করা হয়েছে।
রোমানের মতে, আইসিটি প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রসিকিউটরের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
১৫ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত: সাগর সরওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় তাদের হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।
এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর ও মিন্টু বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পলাশ পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
তিন দফায় বদলেছে তদন্ত সংস্থা: ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হওয়ার পর প্রথমে ওই থানার পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তিন দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিবি তদন্ত চালায়।
এরপর ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি মামলাটির তদন্ত করে। বর্তমানে বাহিনীটির নাম স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে এর আহ্বায়ক করা হয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নতুন তদন্তে কতটা অগ্রগতি: গত ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় টাস্কফোর্স।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের তদন্তকারীরা ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন। টাস্কফোর্স দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আলামত ও তথ্য তদন্তের স্বার্থে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন, বারবার সময় বৃদ্ধি এবং নতুন করে আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে সাগর-রুনি হত্যার বিচার কবে শুরু হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
একদিকে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দুই পরিবার, অন্যদিকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সালেহা মনিরের সময় ফুরিয়ে আসছে। ছেলের হত্যার বিচার দেখে যাওয়ার যে আকুতি তিনি জানিয়েছেন, তা এখনো অপূর্ণ।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
আমির হোসেন আমু ছাড়া অপর ছয় আসামি হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে সাবেক সাতজন এমপি-মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা-উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এসব নেতার ভূমিকা ছিল।
আসামিরা ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং তা কাজে লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দেওয়া নয় দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।
বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার (২ নভেম্বর) মামলাটি আদেশের জন্য ওঠে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেয়।
আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ঢাকার বায়ুদূষণ বাড়ছে। কিন্তু এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবির করা এক জনস্বার্থমূলক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে বিবাদীদের প্রতি নয় দফা নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে ছিল- নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি ছেটানো, বালুবাহী ট্রাক ঢেকে পরিবহন, নির্মাণকাজের স্থান ঘিরে রাখা, মার্কেটের বর্জ্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগে ভরে অপসারণ এবং ঢাকার আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা। পরে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়ে আদালতে আবেদন করে এইচআরপিবি। প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এ মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আখতারুজ্জামানকে জামিন দিয়েছেন।
এর আগে ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী জামিন নামঞ্জুর করেন।
গত ২ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়া নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা হুমকি-ধমকিতে গড়ায়।
পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।