ঢাকার আদালতের বিভিন্ন এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরানো হচ্ছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম), ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে থাকা লোহার খাঁচা সরানো হচ্ছে বলে জানান আদালত সংশ্লিষ্টরা।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকার আদালতের কয়েকটি এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব আদালতের খাঁচা সরিয়ে ফেলা হবে। গণপূর্ত বিভাগের লোকজন লোহার খাঁচা সরানোর কাজটি করছেন বলে জানান আদালতের কর্মকর্তারা।
আদালত সহায়ক কর্মকর্তাগণ জানান, উচ্চপর্যায় থেকে লোহার খাঁচা সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে ঢাকার আদালতের কয়েকটি কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরানো হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকার আদালতের লোহার খাঁচা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আনা মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তাকে লোহার খাঁচায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
এ নিয়ে গত ১২ জুন ড.মুহাম্মদ ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, অনেকক্ষণ খাঁচার (আসামির কাঠগড়া) মধ্যে ছিলাম। আমি যত দূর জানি যত দিন আসামি অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছে তত দিন তিনি নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবেন। একজন নিরপরাধ নাগরিককে শুনানির সময় লোহার খাঁচায় (আসামির কাঠগড়া) দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এটা আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। এটা গর্হিত কাজ। এটা কারও ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। একটা সভ্য দেশে কেন একজন নাগরিককে শুনানির সময় পশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? যেখানে তিনি তখনো দোষী সাব্যস্ত হননি।
এদিকে দেশের অধস্তন আদালত কক্ষে থাকা লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুলসহ আদেশ দেয়। রিটের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন,সারাদেশে অধস্তন আদালত কক্ষে কতগুলো লোহার খাঁচা রয়েছে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুলও জারি করেন আদালত।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজামের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
দুদক জানিয়েছে, নঈম নিজাম ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। একই সঙ্গে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযোগ, এসব অর্থ দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত এবং মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা হবে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগেও নঈম নিজাম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব আদালত অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যকে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। রিটে পদায়নের প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্ট বেঞ্চের মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় রিটিট ১৯৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত সোমবার রিটিট দায়ের করেন।
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে।
রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী পদে বদলি/নিয়োগের উদ্দেশে জারি করা স্মারকগুলো ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যে পদগুলোতে বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেসব পদ বিধিমালার ৪(১) বিধি কিংবা ওই বিধিমালার তফসিলে উল্লেখ নেই। সে কারণে স্মারকগুলো বেআইনি হিসেবে ঘোষণার যোগ্য।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ–সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত অনুসারে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের অর্থ জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র। কোনোভাবেই জুডিশিয়াল সার্ভিসকে বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিসের সমপর্যায়ে রাখা যাবে না। জুডিশিয়াল সার্ভিসকে এসব সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত, বিলুপ্ত, প্রতিস্থাপিত ও একত্র করা যাবে না। বিচারিক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে বদলি/নিয়োগ ওই মামলায় ঘোষিত নীতির পরিপন্থি।
মূলত ওই সব যুক্তিতে রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনজারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। অথচ পদায়ন–সংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থী। আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।’
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যের পদায়ন–সংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, গত ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারকগুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।
আর রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
ঢাকার আশুলিয়ায় গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাকশিল্প গ্রুপ প্রিটি গ্রুপের আওতাধীন প্রিটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অননুমোদিত পদ্ধতিতে কাভার্ড ভ্যানে পরিবহন করা সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনায় শিল্প গ্রুপটির ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বাদি হয়ে অপরাধজনক নরহত্যা মামলা দায়ের করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলায় প্রিটি গ্রুপের দায়িত্বশীল ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।’
তবে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, জামগড়া এলাকায় অবস্থিত প্রিটি গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কটির দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যবস্থাপক, মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯) ও কামিছুল ইসলাম (৩৬)। শুনানিকালে তাঁদের পক্ষে আদালতে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, “জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত, যা ১০ কার্যদিবসে শেষ করতে বলা হয়।” তিনি আরও জানান, “রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ পাঁচজনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেরেবাংলা নগর থানার জিডি সূত্রে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এসব আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কামিছুল ছাড়া বাকি চারজন ‘দ্বীনি কমিউনিটি সিলেট বিভাগ’, ‘দ্বীনি কমিউনিটি ঢাকা জেলা’, ‘এসো জামায়াতবদ্ধ হই’ এবং ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপের অ্যাডমিন ও সক্রিয় সদস্য। তাঁরা এসব গ্রুপের মাধ্যমে একই মতাদর্শের সদস্য সংগ্রহ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে সন্দেহভাজন এই ১২ জনকে আটক করা হয় এবং পরদিন আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলায় রিমান্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামি হলেন—সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার রাতে মামলাটি থানা পুলিশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান। তিনি জানান, আদালতের আদেশে রিমান্ডে থাকা এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার পরবর্তী সামগ্রিক তদন্ত কার্যক্রম এখন থেকে ডিবি পরিচালনা করবে।
এর আগে সোমবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত মামলার প্রধান আসামি গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদার এক দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উল্লেখ করেন, প্রভাব খাটিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে বিয়েতে বাধ্য করার পর ন্যাম ভবনের বাসায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটেও নিপীড়নের কথা উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল আত্মহত্যার প্ররোচনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো চক্রান্ত ছিল—তা উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গাজী নজরুলকে একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য দাবি করে রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করেন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুনে শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের পর থেকে মরিয়ম ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো, যা মরিয়ম মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। গত রবিবার বিকেলে এমপির দেওয়া ফোনের ভিত্তিতে স্বজনরা ন্যাম ভবনে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় ভেতর থেকে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় বিছানা থেকে মরিয়মের হাতে লেখা একটি চিঠিও উদ্ধার করে পুলিশ, যাতে গভীর মানসিক কষ্ট ও বিশ্বাসভঙ্গের কথা লিপিবদ্ধ ছিল।
মামলায় এমপির ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও প্ররোচনার দায়ে আসামি করা হয়েছে এবং বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় এমপির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। আলোচিত সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিননামা নিম্ন আদালতে দাখিলের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ন্যাম ভবন থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে এক আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় দেন। নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন (৩৪), কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন (২৫)। তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন।
রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ টাঙ্গাইল সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান স্বপন নয়া দিগন্তকে জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। তিনি আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ বিগত ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। গোয়েন্দা পুলিশের এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী লাভলু মিয়া আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ সেই আট জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককেই আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামিমুল আকতার (শামিম)।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে গত দুই মাসে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার বাবা। তার দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে নির্যাতন করতেন এবং এসব বিষয় পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন, আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার দুজনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। এরপর তিনি গাজী নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। বিয়েতে মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতর মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশের সহায়তায় দরজা খোলার পর মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানার ওপর কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুটও পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে মরিয়মের লেখা বলে উল্লেখ করা চিরকুটগুলোর বিষয়বস্তুও তুলে ধরা হয়েছে। একটি চিরকুটে আত্মসম্মান ও বারবার নত হওয়ার কথা, অন্যটিতে বিশ্বাস করে ‘যুদ্ধে’ নেমে হেরে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে। আরেকটিতে বিশ্বাসভঙ্গের কারণে কষ্ট এবং হাসিমুখে সব সহ্য করার কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি লেখায় অন্য নারীর স্বামীকে নিজের করে নেওয়া এবং ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া যায় না—এমন বক্তব্য রয়েছে।
তবে এসব চিরকুটের লেখক মরিয়মই কি না, লেখাগুলোর সময় ও প্রেক্ষাপট কী ছিল—এসব তদন্তের বিষয়। প্রয়োজনে হাতের লেখা ও চিরকুটের সত্যতা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হতে পারে।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পর্যায় থেকে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল জানান, ভিডিওর তরুণী মরিয়ম এবং তিনি তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছেন।
গাজী নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সম্মতিতে মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি।
ভিডিও প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে। ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় বক্তব্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এবং সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয় এক নয়।
জুলাইয়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা নতুন মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
চলতি বছরের জুনে দ্বিতীয় বিয়ে, জুলাইয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশ, এরপর দলীয় তদন্ত ও বহিষ্কার এবং সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা—পরপর এসব ঘটনায় তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না, আত্মহত্যার পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কি না এবং এজাহারে আনা নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা—সবই এখন তদন্তের বিষয়।
মরিয়মের কথিত চিরকুট, পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ, বিয়ের পরের জীবন, গাজী নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে সম্পর্ক, ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে আগের বিরোধ এবং জুলাইয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও—সবকিছু তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তকারীরা তাদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করবেন। অভিযোগ, চিরকুট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কোনটি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এদিন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এমপি গাজী নজরুল এবং তাঁর স্ত্রীকে এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় শেরেবাংলা নগর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানি চলাকালে এজলাসে বসে গাজী নজরুল আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন, মামলার নথি পর্যালোচনা করেন এবং ওকালতনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মৃত্যুর সময় একই ফ্ল্যাটে অবস্থান করায় ভিকটিমের আত্মহত্যার পেছনে তাঁদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল কি না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন বা প্ররোচনার কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অন্য কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা শনাক্তকরণ এবং এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের অবস্থান নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তারের স্বার্থেই এই রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুন মাসে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং তিনি ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেই থাকতেন। তবে বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রী ও এমপির ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন মরিয়ম। এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে এমপির দেওয়া ফোনের ভিত্তিতে স্বজনরা ন্যাম ভবনে পৌঁছান এবং পুলিশের সহায়তায় ভেতরের ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ এবং বিছানায় তাঁর হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। আসামিদের অমানবিক নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
রাজধানীর ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রবিবার রাতে ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর তিনি মরিয়ামকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি পাঠায়।
রাজধানীর ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
এর আগে রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন আবাসিক এলাকার (ন্যাম ভবন) ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ পেয়ে তারা ফ্ল্যাটে উপস্থিত হয় এবং রাত ১০টার দিকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে মরিয়ামের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, ঘটনার সময় গাজী নজরুল ইসলাম ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত হতে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, মরিয়ামের মৃত্যুর পূর্বে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এমপি দাবি করেন যে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সম্মতিক্রমেই মরিয়ামের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। একই সঙ্গে ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি মরিয়ামের মামা ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে ভিডিও কেলেঙ্কারির জেরে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছিলেন ওবায়দুর রহমান। সেই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া আগাম জামিনের জামিননামা রবিবারই ঢাকার নিম্ন আদালতে দাখিল করেছিলেন গাজী নজরুল। আর আদালত থেকে জামিননামা জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নিথর দেহ।
আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।
মামলাটি করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা। এতে আসামি করা হয়েছে এমপি, তার স্ত্রী ও বাদীর শ্যালক সেই গাড়ি চালককে।
এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর জামায়াত সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের কারণে আজ মরিয়মের এই পরিণতি হলো।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তখন বাসায় থাকা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে নিহত মরিয়মের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। পরে মামলার পর এমপি ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে গাজী নজরুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
পরবর্তীতে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
র্যাব নাম পরিবর্তন হওয়ার পর প্রথমবারের মত কোন মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি। ঢাকার মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির এক মামলা তদন্তে এসআরবিকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে এসআরবিকে নির্দেশ দেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি।
আদেশে বলা হয়, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ১০(গ) ধারায় এ বাহিনীকে মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভূমির বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।
আদেশে আরও বলা হয়, তাই বাদীর নালিশি দরখাস্তটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দ্বারা তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত। এই আইনের ১৫(২) ধারায় মোতাবেক মহাপরিচালক, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন কোনো সদস্য দিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হল।
এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এসআরবি বিল পাস হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বর আইনটির গেজেট প্রকাশের পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পরিবর্তে নতুন ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়।
আইন অনুযায়ী আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করতে পারে।
মামলায় বলা হয়েছে, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় থাকেন। তাদের চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ওই বাড়ির মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে আসামিরা ‘জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা’ করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আর্জিতে বলা হয়, একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন বাদী মিজানুর রহমানের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে যান ।
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে মামলায় পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনায় কারাগারে থাকা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা তানবীর হাসান সৈকতকে শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দমনপীড়নের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এই আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন। অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানবীর হাসান সৈকত বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।