শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
২৭ চৈত্র ১৪৩২

আদালত থেকে সরানো হচ্ছে লোহার খাঁচা

ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৪ ১৮:৫৭

ঢাকার আদালতের বিভিন্ন এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরানো হচ্ছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম), ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে থাকা লোহার খাঁচা সরানো হচ্ছে বলে জানান আদালত সংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকার আদালতের কয়েকটি এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব আদালতের খাঁচা সরিয়ে ফেলা হবে। গণপূর্ত বিভাগের লোকজন লোহার খাঁচা সরানোর কাজটি করছেন বলে জানান আদালতের কর্মকর্তারা।

আদালত সহায়ক কর্মকর্তাগণ জানান, উচ্চপর্যায় থেকে লোহার খাঁচা সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে ঢাকার আদালতের কয়েকটি কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরানো হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকার আদালতের লোহার খাঁচা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আনা মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তাকে লোহার খাঁচায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

এ নিয়ে গত ১২ জুন ড.মুহাম্মদ ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, অনেকক্ষণ খাঁচার (আসামির কাঠগড়া) মধ্যে ছিলাম। আমি যত দূর জানি যত দিন আসামি অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছে তত দিন তিনি নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবেন। একজন নিরপরাধ নাগরিককে শুনানির সময় লোহার খাঁচায় (আসামির কাঠগড়া) দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এটা আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। এটা গর্হিত কাজ। এটা কারও ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। একটা সভ্য দেশে কেন একজন নাগরিককে শুনানির সময় পশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? যেখানে তিনি তখনো দোষী সাব্যস্ত হননি।

এদিকে দেশের অধস্তন আদালত কক্ষে থাকা লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুলসহ আদেশ দেয়। রিটের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন,সারাদেশে অধস্তন আদালত কক্ষে কতগুলো লোহার খাঁচা রয়েছে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুলও জারি করেন আদালত।

বিষয়:

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: অ্যার্টনি জেনারেল

আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৪৪
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করে অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুস্পষ্টভাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল ময়দানে স্থানীয় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা জনগণ করেছে। দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।’


অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্ত্র আইনের মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীনের আদালত এ রায় দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারির সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র‌্যাব অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানান। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে, র‌্যাবকে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরে র‌্যাব জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আদাবর থানায় চুরির মামলার এজাহারনামীয় আসামি। র‌্যাব তার বাসায় তল্লাশি চালায়। তার দেওয়া তথ্যমতে, সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। এসময় তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

মামলায় চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিল। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে দুষ্কৃতিকারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল করিমের নাম আসে। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।


হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। গত রবিবার (৫ এপ্রিল) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ মামলার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি পেলে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানা যাবে।”

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। তখন পালানোর চেষ্টাকালে ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র‍্যাব।

এ ঘটনায় পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন র‍্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।

তদন্ত শেষে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।


আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরের আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পাশাপাশি মামলার ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।


আবু সাঈদ হত্যা: ৬ আসামিকে আনা হলো ট্রাইব্যুনালে, নিরাপত্তা জোরদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আজ। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি শুরু হয় যুক্তিতর্ক, যা চলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা হচ্ছে আলোচিত এ মামলার রায়।

এদিকে, রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৎপর রয়েছেন পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


শিরীন শারমিনের রিমান্ড নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লালবাগ থানার আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামালার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। এতে মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ওই ঘটনায় ২৫ সালের ২৫ মে ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ, শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।


চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যা: হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই ছয় জনের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে।

মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে ও তৌহিদুল ইসলাম।

আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ২২ আসামির মধ্যে ফজলে করিমসহ ৪ জন গ্রেফতার আছেন। পলাতক ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগে নাম থাকা ২২ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে আগেই অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম।

ঘটনার এক মাস পর ১৮ অগাস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের মা জোছনা বেগম। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

পরে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত শেষে ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করল প্রসিকিউশন।


তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে সোমবার আদালতে তলব করা হয়েছে।

কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে সম্প্রতি মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ এ মামলার তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্ত করেন। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে। গত বছরের ৭ এপ্রিল সর্বশেষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেছিল পিবিআই।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তনুর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


হাইকোর্ট চলবে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলবে হাইকোর্টের বিচারকাজ। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি রাখা হয়েছে।

এদিকে হাইকোর্ট বিভাগের অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি রাখা হয়েছে। সোমবার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে সারাদেশের অধঃস্তন আদালতের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে গত রোববার সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অধঃস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।


ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভার জামিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে করা এক মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তফাদার। তিনি জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর তামান্না জেসমিন রিভাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় রিভাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সূত্র থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান রিভা। এরপর তাকে জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি। পরে ১৬ ডিসেম্বর রাতে তাকে আটক করা হয়।


ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামের মতো টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো ‘অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তার সব বিশেষ সহকারী, উপদেষ্টা ও তৎকালীন প্রেস সচিবের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সারা দেশে অকস্মাৎ বিলুপ্তপ্রায় রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে ব্যক্তিগত খাতে হস্তান্তরের অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


ধর্ম অবমাননার মামলায় জামিন পেলেন বাউল আবুল সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আবুল সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ২০ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরের দিন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াসহ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন ডা. মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আবুল সরকার মানিকগঞ্জের একটি মেলার মঞ্চে পরিবেশিত গানে আল্লাহকে নিয়ে অশ্রদ্ধা ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা বাদীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ২৯৫ এবং ২৯৫ (ক) ধারায় আবুল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।


হাছান, নওফেল ও ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ রোববার (৫ এপ্রিল) এই অভিযোগ জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ।

২২ আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর নাম রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন ও রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে ও তৌহিদুল ইসলাম।

এ মামলায় আগামী ১২ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এর আগেই তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর আইনি যাচাই-বাছাই শেষে রোববার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ অভিযোগের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগে নাম থাকা ২২ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে আগেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম।

ঘটনার এক মাস পর ১৮ অগাস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের মা জোছনা বেগম। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

পরে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত শেষে ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এই ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করল প্রসিকিউশন।


banner close