বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানার গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে ৯ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক মিন্টু চন্দ্র বণিক তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তাদের পক্ষে রহিম মিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরী জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেক শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়। ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৬ আগস্ট রুবেল হত্যা মামলায় তাদের আরও ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, নায়ক ফেরদৌস, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। এ মামলায় তাহসিফের ‘বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে তাঁকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের বি ব্লকে অবস্থিত একটি বাসা থেকে দীপকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পূর্বে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেছিলেন দীপ। শেষ মুহূর্তে দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে কাটানোর বিষয়টি সামনে আসায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তাঁকে এ মামলায় আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
জননিরাপত্তা জোরদার করতে চাঁদাবাজি, দস্যুতা ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করেছে সরকার।
সরকারি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে অপরাধ দমন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে এ প্রেক্ষাপটে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ (২০০২ সালের ২৮ নম্বর আইন) যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪’-এর ২২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ‘রুলস অব বিজনেস’-এর রুল ‘৩১-এ’ অনুযায়ী খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।
খসড়ার ১৬ ধারায় আসামি-সংশ্লিষ্ট বা অপরাধ-সংশ্লিষ্ট অনলাইন বা ডিজিটাল কথোপকথন, যোগাযোগ, স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজকে এ আইনের অধীন বিচারে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ৬ ধারায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধের উল্লেখের পরিবর্তে দণ্ডবিধির ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ধারার অধীন চাঁদাবাজি এবং ৩৯২ থেকে ৪০২ ধারার অধীন দস্যুতা ও ডাকাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২’-এর ২(খ) ধারায় উল্লেখিত অপরাধগুলোও এর আওতায় থাকবে।
খসড়ার ৩(ঙ) ধারায় বিশেষ আদালতের সংজ্ঞায় ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪’-এর অধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর অধীন ট্রাইব্যুনাল এবং ‘অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২’-এর অধীন ট্রাইব্যুনালসহ আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশেষ আদালতকে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩ ধারায় ‘দণ্ডবিধি’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’ (১৮৬০ সালের ৪৫ নম্বর আইন) বোঝানো হয়েছে।
খসড়াটি নিয়ে কোনো আপত্তি, অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিচার শাখা-৪) বরাবর লিখিতভাবে অথবা [email protected] ই-মেইলে মতামত পাঠানো যাবে।
আইন ও বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বরের পর এ বিষয়ে আর কোনো আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণ করা হবে না।
সরকার আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।’ এটি করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করেছি যে, উনারা হাজিরা দেবেন ধার্য তারিখে, কারাগারে থাকবেন, আদালত দেখছেন, ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে হাজির করে কনফার্ম করছেন। আদালত তার ডিজিটাল হাজিরা কনফার্ম করে নিচ্ছেন।
মামলার জট নিষ্পত্তিতে সরকার বাছাই করে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। এই ৪৬ লাখের উপরে মামলা নিষ্পত্তি করা দুই হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে পাহাড় সমান একটা প্রতিবন্ধকতা। কখনো কখনো তাদের ওপর অমানবিক (ইনহিউম্যান) চাপ পড়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরগুলোতে এই চাপটা আরও বেশি।
‘আমরা চিন্তা করছি, এই সমস্ত জেলাগুলোতে, যেখানে মামলার চাপ বেশি, সেখানে যারা দ্রুত (মামলা) নিষ্পত্তি করতে পারবেন, শুধুমাত্র চাকরি করার জন্য না—জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম দেখাতে পারবেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, আমরা বাছাই করে সে রকম কর্মকর্তাকে আনতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা কোর্ট করে। আমাকে একটু আগেই আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হলো, কোনো কোনো আদালতে...আসছেন ১১টায়, ২টা, ১টা-দেড়টার মধ্যে কাজ শেষ, চলে যাচ্ছেন। যদি এ রকম কেউ আয়েশি জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন, আপনার আয়েশের ব্যবস্থা আমরা করতে পারব, আশা করি এতটুকু অ্যাকোমোডেশন আমরা দিতে পারব। এমন জায়গা আপনাকে দেওয়া হবে, যেখানে আপনি আয়েশ করে চাকরিটা করতে পারবেন।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্তির পর গত ৭ অক্টোবর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, শীর্ষ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও এ মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার শুরু থেকেই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ২ নভেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের সময় কুষ্টিয়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, সশস্ত্র ষড়যন্ত্র এবং সরাসরি ছয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার নির্দেশ দেন।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যালকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিপুল অর্থের সন্দেহজনক লেনদেন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও তার স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পাকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে একটি মামলায় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচার এবং অন্যটিতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিজের ও পরিবারের সম্পদের তথ্য গোপন করতে মনিরুল ইসলাম শ্যালকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
শ্যালকের হিসাবে বিপুল লেনদেন: দুদকের অনুসন্ধানে মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, এসব লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। শাহীনের নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্যও পেয়েছে দুদক। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে না পারার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদকের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, মনিরুল ও তার স্ত্রী নিজেদের সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের কাছে অর্থ স্থানান্তর করেন। এ ক্ষেত্রে শাহীনের অনুকূলে ২৫ কোটি টাকা দান করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে ওই অর্থ হস্তান্তরের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
চার সদস্যের নামে ৩৮ কোটি টাকার সম্পদ: মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে দুদক। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে তাদের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুলের নামে ১১টি হিসাবে প্রায় ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল। তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার পাঁচটি হিসাবে প্রায় ৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি হিসাবে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি হিসাবে প্রায় ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা থাকার তথ্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ: এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের তিন সদস্যের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। এসব হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড থাকার তথ্য দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
দুদকের আশঙ্কা, ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ সরিয়ে নেওয়া কিংবা বিদেশে স্থানান্তর করা হতে পারে। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখার আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ দেন।
আরও অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে: মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদেশি দুটি দাতব্য সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির আবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে কুয়েতের কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ এবং শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে এসবি কার্যালয় থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তও চলমান রয়েছে।
দুদকের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনিরুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক হিসাবের অর্থের উৎস, সন্দেহজনক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনের বৈধতা যাচাই করে মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দায় নির্ধারিত হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্যদিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। এদিন মামলাটিতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. আনিছুর রহমান (আনিছ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু রয়েছেন পলাতক আসামির মধ্যে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া জামিনে রয়েছেন ১০ জন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হট্টগোল সৃষ্টি, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার আসামিপক্ষের জামিনের আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ আদেশ দেন।
শুনানিতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির ও আব্দুর রাজ্জাকসহ একাধিক আইনজীবী জামিনের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদনের কঠোর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের লাগেজ ডেলিভারিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেখানে উপস্থিত হন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধরের ভয় দেখান, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কৃত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মালবাহী ট্রাকের চালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান জানান, মামলার ৩৪ জন আসামির মধ্যে শুরু থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ২২ জন পলাতক রয়েছেন। এদিন কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৯ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা দুজন সশরীরে হাজিরা দেন এবং অন্য মামলায় কারাগারে থাকা মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামানকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি।
শুনানিকালে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়। শুনানি শেষে বিচারক অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এ ছাড়া আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল মামলার অভিযোগভুক্ত আসামি।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। গাবতলীতে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ওই বছরের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন করেছেন কারাগারে থাকা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিকালে আসামিপক্ষে জামিনের পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরবেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
এর আগে গত ২ অক্টোবর রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলে তিনি বর্তমানে জেলহাজতেই দিন কাটাচ্ছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ সংক্রান্ত সংকট নিয়ে অসন্তোষ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন আখতারুজ্জামান। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, আঘাত, ইচ্ছাকৃত অবমাননা এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
আদালতের আদেশ প্রসঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত এই জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন। তবে আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শরিফুল আলম দাবি করেন, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আগামীতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তারা বিষয়টি প্রমাণ করবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে পরদিন ২১ অক্টোবর সকালে তার বাবা জালাল উদ্দিন রুমী মাদরাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাব চান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদরাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। ওই সময় ক্ষুব্ধ বাবার শিক্ষককে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পরপরই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটির ওপর নিপীড়নের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিজ্ঞ আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদরাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ এনে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টানা এক মাস দশ দিনের অবকাশকালীন ছুটি শেষে রোববার থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হচ্ছে। তবে ছুটি পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের দৈনন্দিন বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবকাশ শেষে আদালতের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ইনার ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে প্রথাগত সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ উপস্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
ঐতিহ্যবাহী এই সৌজন্য সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিকতার কারণেই প্রথম কার্যদিবসে আপিল বিভাগের প্রধান আদালত বা এক নম্বর কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদারকে গুলি করে হত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা মেনে কারাগারে প্রেরণের আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাঁর প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। জরুরি বিভাগে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কড়া পাহারায় তাঁকে নিয়ে পুনরায় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, আসামির রিমান্ড শেষ হওয়ার পর আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর। সেই আইনি নির্দেশনার আলোকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাড্ডা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত দীপু মনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ অন্যান্য মামলায় রিমান্ড ও হাজিরার বাধ্যবাধকতা থাকায় তখন তা কার্যকর করা যায়নি। চলতি বছরের অক্টোবরে পুনরায় আবেদন করা হলে আদালত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড সম্পন্নের আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষিতে গত বুধবার তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছিল।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার। উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা আবু বক্কর শিকদার বাদী হয়ে একই বছরের ২১ আগস্ট বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় সিয়ামের জড়িত
থাকার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে, সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁককে যেন আসামিরা কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।