সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ন্যায়বিচার করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৮:২৭

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নির্মূলে জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ন্যায়বিচার করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ রোববার একথা বলেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার প্রধান আসামি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হবে। জুলাইয়ের গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ন্যায়বিচার করা হবে। গণহত্যায় জড়িত কোনো তথ্য-প্রমাণ কারো কাছে থাকলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দ্রুত ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, সৎ দক্ষ ও সাহসী বিচারক নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে শেখ হাসিনাসহ যারা সম্ভাব্য আসামি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সম্ভাব্য প্রধান অপরাধী দেশ থেকে পালিয়েছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া; সেটা আমরা শুরু করবো। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অপরাধী প্রত্যার্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ২০১৩ সালে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এ চুক্তিটি হয়েছিলো। তিনি যেহেতু বাংলাদেশে গণহত্যার প্রধান আসামি হবেন মনে করি। বা অধিকাংশ মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। সতুরাং এ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তাকে আইনগতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করবো।

নিজের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এভিডেন্স কালেক্ট করা। অপরাধটা গোটা বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সব জায়গায় একইসেঙ্গ সংঘঠিত হয়েছে। প্রত্যেকটা জায়গায় একটা কমন ইনস্ট্রাকশন ছিলো গুলি করে সব মেরে ফেলা। এ অপরাধের যে আলামতগুলো সেগুলো সংগ্রহ করে কম্পাইল করা এটা একটা চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আসামিরা এখনো পলাতক প্রধান আসামি দেশত্যাগ করেছেন। অনেকে দেশত্যাগের চেষ্টায় আছেন। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

গণহত্যার আলামতের বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে, যেহেতু ঘটনাগুলো তাজা, এ মামলায় যারা আসামি হবেন তারা এখনো বাংলাদেশে আছেন। অনেকে দায়িত্বেও আছেন। তারা এ আলামতগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন। তাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব এ আলমতগুলো দ্রুত সংরক্ষণ করা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো সংগ্রহ করা। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার হাতে নিয়ে আসা। যেন এ আলামতগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। চিফ প্রসিকিউটর সব ধরণের আলামত তদন্ত সংস্থা বা প্রসিকিউশনের কাছে পৌঁছানোর জন্য ছাত্র-জনতাসহ ভুক্তভোগীদের প্রতি আহ্বান জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এটা এমন একটা বিচার হবে যে, বিচারের পরে শহীদ পরিবার, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, বাদীপক্ষসহ আসামিপক্ষও মনে করবে তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করা হয়েছে। আসামিদের প্রতি জুলুম করা হবে না আবার ছাড়ও দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অপরাধগুলোর মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে তদন্ত কালে আসামিদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন হবে। নিশ্চয়ই আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তার চাইবো। আমাদের প্রথম চেষ্টা থাকবে যরা সম্ভাব্য অপরাধী তারা যাতে আদালতের জুরিসডিকশনের বাইরে চলে যেতে না পারেন। সেটা ঠেকানোর চেষ্টা থাকবে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা সরকারের সঙ্গে বসে এগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবো।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে সংঘটিত অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে।

বৈষম্যবিরোধী টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডারদের হামলায় সরকারি হিসেবেই ৮০০ লোক নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে বহু মানুষ। এখনো চিকিৎসাধীন কয়েক হাজার মানুষ। এ গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন টিম নিয়োগ দেওয়া হয়।


সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪৯
অনলাইন ডেস্ক

শর্তসাপেক্ষে জামিন লাভের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করার পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। মুক্তি পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি জানান, ‘বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।’ তবে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আদালত তার জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বেনজীর আহমেদকে তার পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় রাখতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। দুবাইয়ের আদালতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার নথি ও মামলার তথ্য উপস্থাপনের পর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ আসে। যদিও এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার আটকের খবর বাংলাদেশ সরকারকে জানায়। উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছেড়েছিলেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে।


শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার সকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুতাসিম বিল্লাহর আদালত পৃথক দুটি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের এই রিমান্ড আদেশ দেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা মামলা এবং সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল। আদালত উভয় মামলায় ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও ইমনের চার সহযোগীকেও অস্ত্র মামলায় ৫ দিন করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

ইমনকে বর্তমানে হাটহাজারী এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তার নির্মাণাধীন ভবনে হামলার অভিযোগে করা অন্য একটি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পুরো আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গত বুধবার যশোর থেকে ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমন ও তার সহযোগী রায়হান চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের হয়ে ৫০ জন শুটারের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতেন। বিশেষ করে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবি এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান কাজ। এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং সেই প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ইমনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

পারিবারিক জীবনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ইমনের শুরুর লক্ষ্য ছিল একজন বড় ক্রিকেটার হওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থবিত্তের লালসায় তিনি অপরাধ জগতে পা বাড়ান এবং দ্রুতই বড় সাজ্জাদের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগীতে পরিণত হন। ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া খুন এবং পতেঙ্গা এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যার মতো আলোচিত ঘটনাগুলোতে ইমনের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। অস্ত্র চালনায় দক্ষ ইমন নিজের অধীনে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ রাখতেন।


গুমে জড়িত এবং আলামত নষ্টের চেষ্টাকারীরা বিচারের আওতায় আসবে: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুমের সাথে জড়িত এবং আলামত নষ্টের চেষ্টা যারা করেছিল, তারা বিচারের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুমের সাথে যারা জড়িত এবং বন্দিশালার আলামত নষ্ট ও দেয়াল তুলে যারা গোপন কক্ষগুলো লুকানোর চেষ্টা করেছিল, তারা প্রত্যেকে বিচারের আওতায় আসবে।’

আয়নাঘরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আয়নাঘর কোনো কল্পনা নয়, এটি যে বাস্তব তা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় আছে।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ভারতে পাচারের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও এখানে এই আয়নাঘরেই (টিএফআই সেল) রাখা হয়েছিল।

এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি। তাদের সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর ও আসামিদের আইনজীবীরা। কয়েকদিন পর ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরেও যাবেন তারা।

পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও অংশ নেন।

প্রসিকিউশন জানায়, ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকার বিরোধীদের ধরে নিয়ে যেসব গোপন ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব গোপন বন্দিশালার বিভিন্ন আলামত আগেই নষ্ট করা হয়েছে। অবশিষ্ট যা আছে তাও সময় বাড়ার সাথে সাথে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতিরা তা পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

গুমের চলমান দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। র‍্যাবের আয়নাঘরে গুম করে নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার চলছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার দশ সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ব্যারিস্টার আরমানসহ অনেকেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ডিজিএফআই-এর গুমের মামলায় শেখ হাসিনাসহ আর ও ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।


সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আবারও হুমায়ুন করিম সিদ্দিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন করিম সিদ্দিক। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পূর্বে দেওয়া সব নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ১৮০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ওই তালিকায় অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন করিম সিদ্দিকের নাম রয়েছে। এর আগে তিনি প্রথম ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে এ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

জানা যায়, অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন করিম সিদ্দিক সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের বাসুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. আব্দুল খালেক সরকার এবং মাতা বানু বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পরিবারে তৃতীয়। তিনি স্থানীয় বাসুরিয়া শামসুন নাহার উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গোপালপুরের হেমনগর ডিগ্রি কলেজ থেকে সফলতার সাথে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি রাজধানীর গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং সুনামের সাথে ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক পথচলায় তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা জজকোর্টে তার আইনি পেশা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস শুরু করেন। আইন অঙ্গনে দীর্ঘদিনের দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনরায় পদায়ন করা হলো।

​তার এই অর্জনে জামালপুরের সরিষাবাড়ীসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ ও সহকর্মীরা শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মেয়াদেও তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দায়িত্ব পালন করবেন।


রাষ্ট্র হারলেও সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়াই স্বস্তি: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

মামলায় রাষ্ট্র হেরে গেলেও যদি একজন সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, তবে সেটিই একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিনের কোটচাঁদপুর আগমন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যখন সমাজে এবং বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেও আমি আনন্দিত হই। রাষ্ট্র মামলায় হেরে গেলেও যদি একজন নাগরিক ন্যায়বিচার পান, সেটিই একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্র বা ব্যক্তি- কে জিতল, সেটি মুখ্য নয়; বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিচার ব্যবস্থা যখন একজন নাগরিককে তার প্রাপ্য ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরও সেখানে অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। বরং এমন বিচার মানুষের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করে।’

কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


সারজিস-নাসীরুদ্দীনসহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির শীর্ষ ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে হবিগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন এই মামলার আবেদন করেন। মামলাটিতে ১০ জন নামীয় আসামির পাশাপাশি আরও ৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেই সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলায় জেলা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা গুরুতর জখম হন এবং তাদের কাছ থেকে দামী পাঁচটি আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এদিকে, আলোচিত এই সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপি এর আগে ভিন্ন দাবি করেছিল। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাই ওইদিন তাদের মিছিলে হামলা করেছিল, যাতে সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় এক কর্মীর চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই সময় নিরাপত্তার খাতিরে এনসিপি নেতারা পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ছাত্রদলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ-দখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশই মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে।

বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমরা কাজ করতে চাই, আমরা পরিবর্তন করতে চাই জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন করতে আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব আমরা করব।

প্রসঙ্গক্রমে আইনমন্ত্রী জানান, বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা গুমের (এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করবে সরকার।


সুপ্রিম কোর্টে ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩১

সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে আইনগত বিষয় পরিচালনা করার জন্য নতুন করে মোট ২৬৫ জন আইনজীবীকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটার অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জারি করা প্রজ্ঞাপনে পূর্বে দেওয়া সব ধরনের অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।


মুরাদকে হাজির করতে আদালতের বিজ্ঞপ্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) জামালপুরের সরিষাবাড়ী আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলার দুই আসামিকে আদালতে উপস্থিত হতে এই আদেশ জারি করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি ফেসবুক ও ইউটিউব টকশোতে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন ডা. মুরাদ হাসান।

অসৎ উদ্দেশ্যে দেওয়া সেই বক্তব্যে তাঁদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মতো ভাবমূর্তি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবি করে জামালপুর জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সহসভাপতি লায়ন রুমেল সরকার বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ডা. মুরাদ হাসানের পাশাপাশি ওই টকশোর উপস্থাপক মহি উদ্দিন হেলাল নাহিদকেও আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পূর্বে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তবে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় এবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁদের হাজিরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তির পরও আসামিরা অনুপস্থিত থাকলে তাঁদের বিচারকাজ তাঁদের অবর্তমানেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।


দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আজ এসব কথা বলেন।

আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখনো এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। তারা বাংলাদেশ ও জাপানের দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ, তা নিরসনের কৌশল, বিচারপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির বিভিন্ন কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সেমিনারে আলোচিত অভিজ্ঞতা, সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা করে দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সেমিনারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ, সম্ভাব্য সমাধান এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন।


দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্বের রুল নিষ্পত্তি করে এই জামিন আদেশ দেন। আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। তিনি জানান, খিলগাঁও থানার হত্যা মামলা এবং মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় রুল অ্যাবসুলেট করে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের মাত্র কিছুক্ষণ আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।

পরবর্তীতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ছাড়াও হবিগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।


শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, বুধবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দেন সাবেক এই মন্ত্রী। পরে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

আলোচিত এ মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃনাল কান্তি দাশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ও ডা. ইমরান এইচ সরকার।

এছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মোখলেসুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মো. মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মুহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান ও বি এম ফরমান আলী।

এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন ৯ জন আসামি। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।


এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই এই আবেদনটি করেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আটক থাকায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে, তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সে সময় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানেও তিনি কারান্তরীণ রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। সেই হামলায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে এক যুবক বাম হাতের কনুইতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে এই মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থেই সাবেক এই উপাচার্যকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।


banner close