শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৩ মাঘ ১৪৩২

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মেনন-ইনু-দীপু মনিসহ সাতজনকে

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:১৭

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ সাতজনকে তেজগাঁও থানার পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এই তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা।

এর মধ্যে ইনু, মেনন ও মামুনকে তেজগাঁও থানার রমিজ উদ্দিন হত্যা মামলা এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকিদের শুধু রমিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাদের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

৪ আগস্ট তেজগাঁও থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রমিজ উদ্দিন আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর নিহত রমিজ উদ্দিনের বাবা এ কে এম রকিবুল হাসান বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম একই এলাকায় এ আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় তার ভাই তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেন।


আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ মোট সাতজনকে হত্যার বর্বরোচিত ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত কেবল দণ্ডাদেশই দেননি, বরং দণ্ডিত সাবেক এমপির সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অপরাধের ঘটনায় এটি তৃতীয় রায় হিসেবে চিহ্নিত হলো।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ১ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান ও এসএম মিরাজুল আলম আজমান তাদের সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গত ২০ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ বা সিএভি হিসেবে রেখেছিলেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার ১৬ জন আসামির মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ মোট আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম এবং পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনসহ মোট আটজন বর্তমানে কারাগারে আছেন। মামলার বিচার চলাকালীন এসআই শেখ আবজালুল হক আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানালে আদালত তা গ্রহণ করেন। রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করায় বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার পর ছয়জনের মরদেহ একটি ভ্যানে স্তূপ করা হয় এবং পরে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার ভিডিও চিত্র দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগসাজশ ও নির্দেশনা ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে এই ঘটনাকে ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক ও জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান আসামীকে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই দণ্ডাদেশের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সাবেক এমপির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের হস্তান্তরের বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষত কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনাল আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।


আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া এবং মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের এই তারিখ ঘোষণা করা হয়।

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর একটি ভ্যানে করে তাদের মরদেহ স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন মরদেহগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছিল, তখন অন্তত একজন ভুক্তভোগী তখনও জীবিত ছিলেন। এছাড়া এর আগের দিন ৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটিও এই মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও চিত্র সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছিল।

এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ বাকি আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ২১ আগস্ট এই ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজ এই ঐতিহাসিক মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৭ হত্যা: ডিবির হারুন ও মনিরুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত ‘জঙ্গি অভিযান’ বা ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে এক চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের প্রভাবশালী ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ এই ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্ত সংস্থার দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

দাখিলকৃত এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন ছাড়াও পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং সাজানো অভিযানের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হত্যার মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলো। এখন আদালতের শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে ইবরাহীম নামে একজন মাদ্রাসা ছাত্র ছিলেন, যিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করতেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ইবরাহীমের পিতা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় তার ছেলেকে গুম এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই তদন্ত সংস্থা মাঠপর্যায়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং অভিযানের নামে ওই সাতজন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। ইবরাহীমের পিতার অভিযোগের পর থেকে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আজ দাখিলকৃত এই ফরমাল চার্জ পর্যালোচনা করে দেখার পর তা আমলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এই মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই বিগত সময়ে ক্রসফায়ার বা কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মনে করছে, দীর্ঘ এক দশক পর এই মামলার মাধ্যমে পাতারটেক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে উন্মোচিত হবে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা আদালতের সামনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করবেন। মূলত এই মামলার মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের আমলে সংগঠিত বিভিন্ন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ আরও প্রশস্ত হলো।


ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক সাইফুল আলমের একটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ প্রদান করেন এবং একইসঙ্গে সাইফুল আলমের স্ত্রী ও মেয়েদের নামে থাকা ট্রাস্ট গ্রিন সিটির ৫ কাঠার একটি প্লট ক্রোকের আদেশও দেওয়া হয়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ও পরিবারের সদস্যদের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন জানান। আবেদনে অনুসন্ধান টিমের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, ‘সাইফুল আলমের সম্পদ বিবরণী যাচাই পূর্বক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা ব্যাংক হিসাবের অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে প্লট ক্রয়ের নিমিত্ত জমা করা প্লটের টাকা (রেজিস্ট্রেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি) উত্তোলন করে অপরাধলব্ধ সম্পদ গোপন করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগে বর্ণিত সম্পদ পুনরায় হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো উদ্ধারকরণ দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১০ ও ১৪ ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ১৮ ধারার বিধান মতে নিম্নবর্ণিত ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) এবং স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা একান্ত আবশ্যক।’


মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই দুই নেতার বিরুদ্ধে ২৩ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ও আগস্টের গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক হিসেবে তাদের ভূমিকা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার মদত দেওয়ার বিষয়টি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। অভিযুক্ত দুই জনই বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের এই নতুন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আজই এই মামলার ওপর বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে প্রসিকিউশনের দাখিল করা এই ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত আমলে নেবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রভাবশালী এই দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্টের নৃশংসতার বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। রাশেদ খান মেনন এবং কামরুল ইসলাম শুরু থেকেই এই তালিকায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে ছিলেন। আজকের শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল থেকে কী ধরণের নির্দেশনা আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা।


হাইকোর্টের বিচারপতির মামনুন রহমানের পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এক বছর ধরে বিচারকাজের বাইরে থাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। কানাডা থেকে বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন।

জানা যায়, বিনাছুটিতে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত তিনি। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯ জন বিচারপতি এখন আর দায়িত্বে নেই (তাদের কেউ কেউ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে, কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, আবার কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন)।

বাকি তিনজন বিচারপতি পদে থাকলেও বেঞ্চের দায়িত্বে (বিচারিক কাজে নিয়োজিত) নেই।

এছাড়া সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল হওয়ায় চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো মোট ১৩ বিচারপতির বাইরেও হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের একজন বিচারপতি মামনুন রহমান।


ভৈরবে কলেজশিক্ষার্থী খুন, প্রধান আসামিসহ আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (২১) নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ২ জনকে আটক করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে মিরাজ মিয়া (২৫), ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (২৪)। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

​​নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ভাদেকুরিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। সে ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুফিয়ান ছিল বড়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​​মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবা ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল সুফিয়ান। সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে এবং মুঠোফোনে মাকে বাড়িতে আসার খবর জানায়।

​রাত ১২টা পার হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী নিউটাউন এলাকার সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ​পিবিআইয়ের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত ​উদ্ধারের সময় লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরদিন শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের হাতের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি সুফিয়ানের বলে নিশ্চিত করেন।

এবিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে ষ্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীর চক্রের কবলে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান নামের এক কিশোর নিহত হয়। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্য অভিযুক্ত মূ্ল আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইয়ের জন্য তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহৃত রয়েছে।


হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমানের পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের আগে তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে সব ধরণের বিচারিক কার্যক্রম থেকে দূরে ছিলেন বলে জানা গেছে। কোনো প্রকার পূর্বানুমতি বা প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রেক্ষাপটে তার এই পদত্যাগের বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি মামনুন রহমানের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল একটি তদন্ত পরিচালনা করে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপতি এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের আরও তিনজন বিচারপতিকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করেছেন। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কাউন্সিল এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

বিচার বিভাগের এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিচার বিভাগে বড় ধরণের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে তাদের মধ্যে নয়জন বিচারপতি আর দায়িত্বে নেই, যাদের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন আবার কেউ সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন। ছুটিতে থাকা বাকি তিনজনের নাম এখনও বিচারপতি হিসেবে থাকলেও তারা কোনো বেঞ্চের দায়িত্ব বা বিচারিক কাজে নিয়োজিত নেই। এছাড়া চলতি মাসেই অপর এক বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাকেও ছুটিতে পাঠানো হয়।

ছুটিতে পাঠানো ১৩ জন বিচারপতির বাইরেও হাইকোর্ট বিভাগের যে দুজন বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি মামনুন রহমান ছিলেন তাদেরই একজন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রশাসনে দীর্ঘদিনের চলমান একটি প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটল। বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় বিচারকাজ থেকে দূরে থাকা বা বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত থাকার মতো বিষয়গুলো উচ্চ আদালতের মর্যাদার সাথে সাংঘর্ষিক, যার ফলে এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। এখন তার শূন্য পদে বা সামগ্রিক বিচারিক কার্যক্রম গতিশীল করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।


পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনার ১০ বছর ও টিউলিপ-রাদওয়ানসহ ১৮ জনের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর পরিবারের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছর এবং শেখ রেহানার অপর দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিককে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ওপর এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাঁদের আরও অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে।

আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এই দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ মোট ১৮ জন আসামিকে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুল হাসান ও আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন।

মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনা তাঁর পদের প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে তাঁর বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা আয়তনের দুটি মূল্যবান সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন। এই প্রক্রিয়ায় রাজউকের আইন ও নীতিমালা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, শেখ রেহানার সন্তানদের নামে এই প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকেও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এই মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হলেও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তীতে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় এবং মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীসহ একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের সম্পদ কুক্ষিগত করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই রায়ের মাধ্যমে তার একটি দৃষ্টান্তমূলক জবাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ ইসলামের রিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং হলফনামায় তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ তুলে এই রিটটি দায়ের করেছেন ওই একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মূলত ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন।

রিট আবেদনে নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন যে, বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও তা গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী। আবেদনে ড. কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত করার জন্য আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এবং অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। নাহিদ ইসলামের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, রিট আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এর আগে ঢাকা-১১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছিল। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই এখন উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে বা হলফনামায় তথ্য গোপন করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ড. কাইয়ুমের নির্বাচনী ভাগ্য।

উল্লেখ্য যে, ভোটের লড়াই শুরুর আগেই এমন আইনি জটিলতা ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদি আদালত এই রিটের প্রেক্ষিতে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন, তবে তা এই আসনের নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও এই রিট আবেদনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আপাতত সবার নজর এখন হাইকোর্টের শুনানির দিকে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রিটকারী পক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি: শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৮ জনের মামলার রায় আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক দুর্নীতি মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় প্রদান করবেন। এই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলা দুটির এজাহার অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁর বোন শেখ রেহানার দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং আজমিনা সিদ্দিককে ১০ কাঠা আয়তনের দুটি মূল্যবান প্লট বরাদ্দ দেন। এই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলার নথিতে শেখ রেহানার আরেক মেয়ে এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে এই দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনের নাম উঠে এলেও পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর ফলে মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করে দুদক। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করেছিলেন।

এই মামলায় শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। এছাড়া রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ এবং রাজউকের কয়েকজন সাবেক পরিচালক ও উপ-পরিচালকও এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। আজ আদালতের রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে, পূর্বাচলের এই মূল্যবান ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে আইনগত স্বচ্ছতা বজায় ছিল কি না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই বিশাল প্রকল্পে আরও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও এই রায়ের মাধ্যমে নতুনভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আদালত প্রাঙ্গণে আজ রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


পল্লবীতে বিদেশি পিস্তলসহ ৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানীর মিরপুরের তালতলা বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ মো. আলাল (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা-পুলিশ। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পল্লবী থানা–পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আলালের বিরুদ্ধে ডাকাতি, পুলিশের ওপর হামলাসহ আগের সাতটি মামলা রয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পল্লবী থানার ওসি এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তালতলা বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিস্তলসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার আলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।


কামরাঙ্গীরচরে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বড় গ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রাত ১১টার দিকে ওই শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত সজীব (১৮) ওই শিশুটির পাশের বাসায় ভাড়া থাকতেন বলে জানান শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তাদের পাশের বাসার ভাড়াটে সজীব শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে সজীবের ঘর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, রাতে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি বাসায় শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সজীব নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে। আশপাশের লোকজন অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর অভিযুক্ত সজীবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


banner close