বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ সাতজনকে তেজগাঁও থানার পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা।
এর মধ্যে ইনু, মেনন ও মামুনকে তেজগাঁও থানার রমিজ উদ্দিন হত্যা মামলা এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকিদের শুধু রমিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাদের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
৪ আগস্ট তেজগাঁও থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রমিজ উদ্দিন আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর নিহত রমিজ উদ্দিনের বাবা এ কে এম রকিবুল হাসান বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম একই এলাকায় এ আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় তার ভাই তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মুসলিম আইন অনুসারে কোনো পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত বৈধ এবং এ ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মূলত সংশ্লিষ্ট ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিল’ বা সালিশি পরিষদের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল, সরাসরি স্ত্রীর সম্মতির ওপর নয়। এতদিন জনমনে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে প্রথম স্ত্রীর সশরীরে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ, তবে আদালত তাঁর ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমান আইনে এমন কোনো সরাসরি শর্তের অস্তিত্ব নেই যা স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করে।
আদালতের এই রায়ে ঐতিহাসিক ও বর্তমান আইনের তুলনামূলক চিত্রও ফুটে উঠেছে। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের কঠোর বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে প্রবর্তিত মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন এই আইনে নারীদের ক্ষেত্রে আগের কঠোর সাজা বহাল রাখা হলেও, পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি সরাসরি স্ত্রীর হাত থেকে সরিয়ে সালিশি পরিষদের কর্তৃত্বে ন্যস্ত করা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তাঁর জন্য এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আইনের দৃষ্টিতে সালিশি পরিষদের অনুমোদনই এখানে মুখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে সমাজে বহু বিবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনকারীরা। তাঁরা মনে করেন, এই রায়ের ফলে পারিবারিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে রিটকারী পক্ষ ইতিমধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁরা আদালতে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আইনি মহলে এই রায়টি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যার চূড়ান্ত সমাধান হয়তো পরবর্তী উচ্চতর আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত এই কড়া নির্দেশনা জারি করেছেন।
সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, খায়রুজ্জামান লিটন এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এমনকি প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধলব্ধ এই অর্থ ব্যবহার করে তিনি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন এবং এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। বর্তমানে এই বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে আরও গভীর অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতকে জানিয়েছেন যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে এই ৪১টি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই বিশাল অংকের অর্থ উত্তোলন করে অন্য কোনো গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলতে পারেন অথবা বিদেশে পাচার করে দিতে পারেন। এমতাবস্থায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বার্থে এই হিসাবগুলো থেকে সকল ধরণের লেনদেন বন্ধ রাখা জরুরি বলে মনে করেছেন আদালত। এই আদেশের ফলে লিটন ও তাঁর সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক লেনদেনে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলো।
উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে গত ৬ মার্চ খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আদালত খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও তাঁর স্ত্রী শাহীন আক্তার এবং দুই মেয়ে আনিকা ফারিহা জামান ও মায়সা সামিহা জামানের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তদন্তের এই পর্যায়ে এসে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি লিটন পরিবারের ওপর নতুন করে আইনি চাপের সৃষ্টি করল। সিআইডি মনে করছে, এই ব্যাংক হিসাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে যা বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গণেশকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানাধীন লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া গণেশ কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে।
র্যাব জানায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি গণেশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরিফ হত্যা মামলা ট্রাইব্যুনালে:
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, গত বুধবার এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন।
তিনি নিজের ক্ষমতাবলে কোনো মামলার বিচারিক আদালত নির্ধারণ করতে পারেন। সেভাবেই তিনি মামলাটির নথি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। তবে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন মামলার বাদী ও আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ আসেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে কেন এই দুই রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের নৈতিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি যুক্তি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে গত সপ্তাহে ‘জুলাই ঐক্য’র সংগঠক ও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বোরহান মাহমুদ) জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর আবেদনে জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটকারী দাবি করেছেন যে, যারা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী। এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে সরকারের আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিবকে। উচ্চ আদালত এখন তাঁদের কাছ থেকে রুলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব প্রত্যাশা করছে।
নির্বাচনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সারা দেশের ২৪৩টি আসনে তাঁদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে গত ২৬ ডিসেম্বর ল্কেওশোর হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করেছিল। অন্যদিকে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি’র সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক মোর্চা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর আইনি বৈধতা এখন আদালতের আদেশের ওপর অনেকটা ঝুলে গেল। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, হাইকোর্টের এই রুল সেই বিতর্কে নতুন আইনি মাত্রা যোগ করল। খুব শীঘ্রই এই রিটের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ বলে মনে করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল জানান, জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ। আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব (গণঅভ্যুত্থানে) জনধিকৃত সরকারগুলোর পতনের পর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন হয়েছিল। এসব নজির ও আইনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে। ইনশাআল্লাহ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা দিতে এবং তাঁদের সকল প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডকে আইনি বৈধতা দিতে ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন যে, জুলাইযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তাঁদের এই অবদানের বিপরীতে দায়মুক্তি পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। মূলত আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন ও খুনিদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যে ধরণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সেগুলোর কারণে যেন পরবর্তীতে কাউকে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে এই ধরণের আইন প্রণয়নের ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের স্পষ্ট বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায়ও অনুরূপ দায়মুক্তি আইন তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে তিনি জানান যে, আরব বসন্তের মতো বড় বড় গণঅভ্যুত্থানে জনধিকৃত সরকারের পতনের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসিফ নজরুলের মতে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয় বরং একটি সার্থক বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের পরবর্তী স্বাভাবিক ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।
অধ্যাদেশটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তথ্য দিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এর একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে এটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সায় পেলে এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে। আসিফ নজরুল তাঁর বার্তার শেষ অংশে ‘জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেন এবং শহীদ ও যোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় বর্তমান সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে জুলাই আন্দোলনের মূল কারিগর ও বিপ্লবীদের জন্য তা একটি বিশাল আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুম এবং হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং অন্যদিকে আসামিপক্ষ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাক্ষীর বর্ণনা এবং গুম ও খুনের সাথে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তাঁর বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তাঁরা যুক্তি দেখান যে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তথ্যগতভাবে সঠিক নয় এবং তাঁরা আসামিকে এই মামলা থেকে পূর্ণ অব্যাহতি প্রদানের আর্জি জানান। গত ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ আরও বেশ কয়েকটি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারির আদেশের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হবে কি না। জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন তাঁর বোন ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাজনিন নাহার। জানা গেছে, আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করার জোর আবেদন জানানো হবে এবং একই সাথে মামলার দায় থেকে তাঁকে অব্যাহতি প্রদানের আরজি পেশ করা হবে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের শুনানি সম্পন্ন করেছে। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ১০৩ জন ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ এনে তিনটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে তিনজনকে হত্যার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জন মানুষকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রসিকিউশন পক্ষ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং ইতিপূর্বে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত তিনটি গুরুতর অভিযোগ আমলে নেন। আজকের শুনানির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া কোন দিকে অগ্রসর হবে। মামলাটি বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের আইনি সুরক্ষা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ তথ্য জানান।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অন্তত ৫ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে, ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছে। এছাড়া, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে এখন থেকে কমিশনের পূর্বানুমতি লাগবে না।
অধ্যাদেশটি ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পত্তি বণ্টন ও উত্তরাধিকারের নতুন বিধান: অধ্যাদেশের ২৩ ধারার সংশোধনী অনুযায়ী, ‘দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’ এর ১০৮ ধারায় (সাধারণত ৭ বছর নিখোঁজ থাকার বিধান) যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে কেউ ৫ বছর গুম থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনাল আবেদনের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে উক্ত সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন। তবে, প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনের পদ্ধতি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নির্ধারণ করবে।
মামলা পরিচালনায় পাবলিক প্রসিকিউটর : সংশোধিত অধ্যাদেশের ১৩ ধারার পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে সরকার। তবে, কমিশন না থাকা অবস্থায় বা জরুরি প্রয়োজনে সরকার সরাসরি পিপি নিয়োগ করতে পারবে অথবা জেলা ও মহানগর পিপি বা অতিরিক্ত পিপি-দের ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। ভুক্তভোগীর পক্ষে ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও এতে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা: নতুন অধ্যাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি সুরক্ষাকে সহজতর করা হয়েছে। মামলা দায়ের বা কার্যধারা শুরুর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কমিশনের অনুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে, ট্রাইব্যুনাল চাইলে আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন তলব করতে পারবেন।
গুম হওয়া ব্যক্তির সংজ্ঞা ও আওতা: সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অথবা এই অধ্যাদেশ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর অধীনে দায়েরকৃত মামলায় যারা গুম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেননি, তারাই এই আইনের অধীনে ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলাম এবং কন্যা বুশরা আফরিনের বিদেশ গমনে আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. সাইফুজ্জামান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে মশার লার্ভা নিধনের যন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চলমান আছে। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে যে, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দেশের বাইরে চলে গেলে চলমান অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বিধায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৬ অক্টোবর রাতে মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলকে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকে এই রায় ঘোষণা করা হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত মোহাম্মদ রাসেলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে এই একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত এই দম্পতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও চেক প্রতারণার অসংখ্য অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে শামীমা সুলতানা এবং এর কিছুকাল পরে মোহাম্মদ রাসেল জামিনে মুক্তি পান। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই গত বছরের জুন মাসে একটি নির্দিষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই সময় থেকেই এই দম্পতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁরা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
পলাতক থাকাকালীন অবস্থায় রাসেল ও শামীমা দম্পতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বেশ কিছু মামলা চলমান রয়েছে এবং ইতিমধ্যে অনেকগুলো মামলায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজকের এই রায়টি মূলত চেক জালিয়াতির শিকার হওয়া একজন পাওনাদারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রদান করা হলো। মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত রাসেলের সরাসরি অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে এই সাজা প্রদান করেন। অন্যদিকে শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আদালত মনে করছে, এই ধরণের দৃষ্টান্তমূলক সাজা ই-কমার্স খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠানের যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান। রিট আবেদনকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ওই নির্ধারিত বেঞ্চ রিটটি শুনতে অনীহা প্রকাশ করার পর তিনি আবেদনটি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে পুনরায় জমা দিয়েছেন। এর ফলে একই দিনে দুটি বড় রাষ্ট্রীয় ভোট আয়োজনের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চ আদালতে এক ধরণের সাময়িক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করার জোর দাবি জানানো হয়। রিটকারীর প্রধান আইনি যুক্তি হলো, বর্তমান ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’-এর কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ বা স্বীকৃতি বাংলাদেশের সংবিধানে নেই। যেহেতু সংবিধান এই ধরণের কোনো ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট সরাসরি দেয়নি, তাই এই সরকারের অধীনে নেওয়া নির্বাচনি প্রক্রিয়ার কোনো আইনি বা সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে পারে না। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যেন বর্তমান তফসিল বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় এবং সেই সরকারের অধীনে নতুনভাবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত সরকার থাকা অপরিহার্য এবং বর্তমান আইনি কাঠামোয় সেটি অনুপস্থিত। তবে প্রথম বেঞ্চ থেকে অপারগতা আসার পর এখন নতুন বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি কবে নাগাদ শুরু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। নির্বাচনি কার্যক্রমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উচ্চ আদালতের এমন অবস্থান রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় আরও ৭ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ হত্যা মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ জনে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তর শাহবাগের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয় থেকে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৬ আসামির জবানবন্দিতে নাম আসা ৮ জনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় মামলার বাদী নারাজি দেন। বাদীর নারাজির ওপর শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে যোগ হওয়া ৭ আসামি হলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলার প্রথম অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীকে।
তারা হলেন ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া (২৬), মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া (২১), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন (২৪), ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩), ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), শাকিব রায়হান (২২), ইয়াসিন আলী (২১), ইয়ামুজ্জামান ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দিন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন (২৩) ও আব্দুল্লাহহিল ক্বাফি (২১)।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত সেদিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলার সঙ্গে তার করা মামলাটি একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তোফাজ্জলের মামা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ক্রিকেট স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে পেটান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়।