ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রিভিউ নিষ্পত্তির পর সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল বহাল করা হয়েছে। এখন এই কাউন্সিলের কার্যক্রম কেমন হবে সে বিষয়টি খোলাসা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রিভিউ নিষ্পত্তির পর গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে কোনো অভিযোগ করলে বা পেলে তারা প্রাথমিক একটি অনুসন্ধান করবেন। যাচাই-বাছাই করে দেখবেন যে, অসদাচরণ বা দুর্নীতি (অর্থনৈতিক বা বুদ্ধিভিত্তিক) পাওয়া গেছে কি না। তাহলে রিপোর্টটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি বিচার-বিবেচনা করে তারপর আবার সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাবেন। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল তখন ফুল তদন্ত করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির। তবে এখানে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত মেকানিক্যাল। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের দায়িত্ব হলো অসদাচরণ প্রমাণিত হয়েছে কি না, এটাসহ সুপারিশ পাঠানোর।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এ পর্যন্ত একজন বিচারপতিকে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। সেটা ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল হয়েছিল।
ষোড়শ সংশোধনীতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল বাতিলের আগে সংবিধানের এ সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, (২) অনুচ্ছেদের নিম্নরূপ বিধানাবলী অনুযায়ী ব্যতীত কোনো বিচারককে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত করা যাইবে না।
(৩) একটি সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল থাকিবে যাহা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলিয়া উল্লেখিত হইবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুইজন কর্মে প্রবীণ তাঁহাদের লইয়া গঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কাউন্সিল যদি কোনো সময়ে কাউন্সিলের সদস্য এইরূপ কোনো বিচারকের সামর্থ্য বা আচরণ সম্পর্কে তদন্ত করেন, অথবা কাউন্সিলের কোনো সদস্য যদি অনুপস্থিত থাকেন অথবা অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে কার্য করিতে অসমর্থ্য হন তাহা হইলে কাউন্সিলের যাহারা সদস্য আছেন তাঁহাদের পরবর্তী যে বিচারক কর্মে প্রবীণ তিনিই অনুরূপ সদস্য হিসাবে কার্য করিবেন।
(৪) কাউন্সিলের দায়িত্ব হইবে-
(ক) বিচারকগণের জন্য পালনীয় আচরণবিধি নির্ধারণ করা; এবং
(খ) কোনো বিচারকের অথবা কোনো বিচারক যেরূপ পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতীত তাঁহার পদ হইতে অপসারণযোগ্য নহেন এইরূপ অন্য কোনো পদে আসীন ব্যক্তির সামর্থ্য বা আচরণ সম্পর্কে তদন্ত করা।
(৫) যে ক্ষেত্রে কাউন্সিল অথবা অন্য কোনো সূত্র হইতে প্রাপ্ত তথ্যে রাষ্ট্রপতির এইরূপ বুঝিবার কারণ থাকে যে কোনো বিচারক-
(ক) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁহার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিতে অযোগ্য হইয়া পড়িতে পারেন, অথবা
(খ) গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হইতে পারেন, সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলকে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করিতে ও উহার তদন্ত ফল জ্ঞাপন করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
(৬) কাউন্সিল তদন্ত করিবার পর রাষ্ট্রপতির নিকট যদি এইরূপ রিপোর্ট করেন যে, উহার মতে উক্ত বিচারক তাঁহার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছেন অথবা গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হইয়াছেন তাহা হইলে রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা উক্ত বিচারককে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত করিবেন।
(৭) এই অনুচ্ছেদের অধীনে তদন্তের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল স্বীয় কার্য-পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করিবেন এবং পরওয়ানা জারি ও নির্বাহের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের ন্যায় উহার একই ক্ষমতা থাকিবে।
১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কাছে। মার্শাল প্রক্লেমেশনে করা পঞ্চম সংশোধনীতে এক্ষেত্রে ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনীতে সেটা বাতিল করে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয় সংসদকে। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৯ নভেম্বর এ সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুল শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায়টি দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। পরে একই বছরের ১ আগস্ট ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
গতকাল রোববার সেই রিভিউ আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের রায় বহাল রইলো। একইসঙ্গে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুর্নবহাল করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো.আসাদুজ্জামান। রিটকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
আদালতের বন্ধু হিসেবে শুনানিতে মত দিয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৬ (২,৩,৪,৫,৬,৭ ও ৮) অনুচ্ছেদ বহাল করা হয়েছে। আর পর্যবেক্ষণসহ রিভিউ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিরা কে কোথায় রয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে পারি যে, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের অবস্থান যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, তাহলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেব।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। কিছু কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যা রয়েছে, তা ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংবিধিবদ্ধ অন্য যে সংস্থা রয়েছে, তাদের মাধ্যমে এ অর্থ জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ও ব্যক্তিগত দায়ের বিষয়টি সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের শুট অ্যাট সাইট নির্দেশের পরই নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সব বিচারকার্য তারা জানেন। তাদের বিরুদ্ধে বিচার চললেও তারা মোকাবিলা করেননি। এতে পরিষ্কার বুঝতে হবে যে আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক। তারা অপরাধ করেছেন বলেই পলাতক রয়েছেন। তাদের যেকোনো বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া কোনো অপরাধী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকেন, তাহলে আইনে যেভাবে বিধান আছে সেভাবেই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে। অতএব এখানে মানবাধিকার সংগঠনেরও মন্তব্যের কোনো অবকাশ নেই।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার হয়তো সুযোগ নেই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে বাংলাদেশ সরকার এ রায় বাস্তবায়ন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে হত্যা মামলায় তার ছেলে ও ভাতিজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শান্তিলাল চাকমার ভাতিজা আলোময় চাকমা (৩২) ও ছেলে সোহেল চাকমা (২২)।
আদালত সূত্র জানায়, রায়ের সময় সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি আলোময় চাকমা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোহেল চাকমাকে রায়ের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোময় ও সোহেল চাকমা শান্তিলাল চাকমাকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি সড়কে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে আটকে ধারালো দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়।
মামলার সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে হত্যার পর ভিকটিমের রক্ত পান করার অভিযোগও উঠে আসে। পরে মরদেহটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় নয় দিন পর কাচালং নদীর লাইল্যাগোনা এলাকা থেকে শান্তিলাল চাকমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় শঙ্কর চাকমা সাজেক থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তদন্ত শেষে এসআই সফিকুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন
হত্যাকাণ্ডটিকে আদালত অত্যন্ত নৃশংস ও নিষ্ঠুর হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক হামলা চালাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে সরাসরি প্ররোচিত ও উসকে দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত অকাট্য প্রমাণের বরাত দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, ফোনে কথোপকথনের সময় ওবায়দুল কাদের সরাসরি সাদ্দামকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এ ছাড়া রাজপথে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে তিনি ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার মতো বর্বরোচিত নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১১ জুলাই ছাত্রলীগকে সহিংসতায় লেলিয়ে দেওয়ার এই নির্দেশনার পরপরই ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ নিরীহ শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ঘটে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভায় ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন যে ছাত্র আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনার কারণে তৎকালীন সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা একযোগে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ চালায়। ফলে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন, যা ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে শীর্ষ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে তার ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদদের পরিবার এবং আহত-পঙ্গু যোদ্ধাদের কল্যাণে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডাদেশের পাশাপাশি যে পাঁচ আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের অর্ধেক অংশ ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ কিংবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, আইনে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুযোগ থাকলেও ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মতো দণ্ডিতদের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এই রায়কে প্রত্যাশিত আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনের বিধান অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্তরা ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন; অন্যথায় নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে সাজা বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য ছয়জন আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাত শীর্ষ আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার পর একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী তাঁদের সাক্ষ্য প্রদান করেন, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। টানা ৯ কার্যদিবস উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি এবং প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২৩টি সিরিজের প্রামাণ্য নথিপত্র উপস্থাপনের পর গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
আদালতে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমনে দণ্ডপ্রাপ্তরা পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, দমন-পীড়নের নির্দেশ এবং নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলার ষড়যন্ত্রে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার মাধ্যমে সংঘটিত এই নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুস্পষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এই সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই বহুল আলোচিত মামলার রায় প্রকাশ করবেন। এর আগে সোমবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
মামলার অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন নস্যাৎ করতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে সহিংস উসকানি, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ এবং বিভিন্ন গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আজকের রায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিপূরণ ও দণ্ড কার্যকরের অংশ হিসেবে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়েও ট্রাইব্যুনাল থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসতে পারে।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানিকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে হত্যাকাণ্ডের সচিত্র ডিজিটাল প্রমাণ ছাড়াও সহিংসতা ও প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা সম্বলিত ১৪টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
দেশব্যাপী মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের প্রতি চলমান যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ নূরুল হুদা সোমবার স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, আইন সচিব ও ধর্ম সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
পাঁচ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে রিট করার কথা বলা হয়েছে নোটিশে। নোটিশে বলা হয়, আলিয়া, কওমি ও হিফজসহ সব ধরনের মাদ্রাসার জন্য অভিন্নভাবে প্রযোজ্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল প্রণয়ন গঠন ও বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।
প্রতিটি মাদ্রাসা ও আবাসিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। হাইকোর্টের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত রায়ের মডেল অনুসরণ করে গঠিত এই কমিটি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
শিশু আইন-২০১৩-এর ৭ থেকে ৯ ধারার আওতায় গঠিত জাতীয়, জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডগুলোকে নিজ নিজ এলাকার প্রতিটি মাদ্রাসার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এর ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিটি মাদ্রাসার প্রবেশপথ, করিডোর, শ্রেণিকক্ষ ও সাধারণ আবাসিক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে বাথরুম, টয়লেটসহ কোনো ব্যক্তিগত স্থানে ক্যামেরা বসানো যাবে না। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন ক্ষুণ্ন না হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে।
নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি। সোমবার দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার, ভাই আব্দুল গাফফার, বোন জিন্নাত আরাসহ পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় জামাইকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। পরে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নাছরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে আরও তিন লাখ টাকা আনার জন্য নাছরিনকে চাপ দেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।’ এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।
নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে আমরা ধারণা করছি। যে ঘরে মরদেহ ঝুলছিল, সেই ঘরের ভেতরে আরও একটি দরজা রয়েছে। ওই দরজা ব্যবহার করে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং তদন্তে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার, বোন জিন্নাত আরা ও ভগ্নিপতি হাফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নাছরিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জামাতা আব্দুল মান্নান, তার পুত্রবধূ আরিফা বেগম এবং দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা বাড়িতে নেই। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
মাদকের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ভোলায় ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুজন মাদক কারবারি আটক। সোমবার সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।’
এরই ধারাবাহিকতায়, গত রোববার বিকাল ৫টায় ভোলার সদর থানাধীন পূর্ব ইলিশার ৬নং বাঘার হাওলাসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি সিএনজি তল্লাশি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত গাঁজা এবং আটককৃত মাদক কারবারির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পালিয়ে যাওয়া মো. রেনু মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। তবে কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে লোকজনের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান রেনু মিয়া।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৬৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় উভয় মামলার এজাহারভুক্ত মোট ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নাদিম নামের এক যুবককে হত্যাচেষ্টার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬৬ জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাদিম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় মামলাটি করা হয়েছিল। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দাখিল করা এ অভিযোগপত্রের ওপর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। এ মামলার অন্য শীর্ষ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ এবং সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
অন্যদিকে আন্দোলনে বাবুল মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। গত ১৩ আগস্ট আদালতে জমা দেওয়া এ মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা, যার প্রেক্ষিতে তাঁর স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং এস এম শাহজাদাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে অব্যাহতি চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমানসহ ৩৯ জন।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তার পরিবার।
রোববার পরিবারের পক্ষে মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আল রোমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের হাতে এ অভিযোগ তুলে দেন।
অভিযোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রে পড়ে কি না বা এখানে বিচার সম্ভব কি না, তা আইনানুযায়ী যাচাই-বাছাই করবে প্রসিকিউশন টিম। পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সকে হস্তান্তর করা হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্ত বর্তমানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। এর আগে নিম্ন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা এ পর্যন্ত ১২৯ বার সময় নিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, চট্টগ্রামে জুলাই গণহত্যা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার কিছু অভিযোগ প্রসিকিউশন পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য ব্যাহত করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাগর রুনি হত্য মামলার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি খুন হন। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিছু বের করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে দেওয়া হয়। অথচ সংস্থাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়া দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।
ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কাফেলার উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করেন।
পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ২৫ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মামলাটিতে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে আরো ১২ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার এবং রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।
আসামিদের মধ্যে মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর কারাগারে রয়েছেন। অপর তিন আসামি জামিনে আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল চাপেন কয়েক দুর্বৃত্ত। দরজা খুললে দুজন বাসায় ঢুকে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ড্রয়িংরুমে বসেন। কিছুক্ষণ পর আরো ছয় থেকে সাতজন সেখানে প্রবেশ করেন।
এ সময় নুরুল ইসলামের মামাতো ভাই মারুফ হোসেন চেয়ার আনতে ভেতরে যান। ফিরে এসে তিনি নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রাখতে দেখেন আসামিদের। পরে দুর্বৃত্তরা বাসার সবাইকে বেঁধে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।
নুরুল ইসলাম ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’ এবং মাই টিভির ‘সত্যের সন্ধানে’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন।