বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ডিবির লালবাগ জোনের সাবেক ডিসি মশিউর রহমান ও এডিসি মোস্তফা কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরোবিয়া খানমের আদালতে ভুক্তভোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর আশরাফ আলী আজম বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির রায়হান জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাকি তিন আসামি হলেন- ডিবির কোতোয়ালি জোনের সাবেক এডিসি ইয়াসির আরাফাত, লালবাগ জোনের পুলিশ পরিদর্শক শের আলম ও পুলিশের এসআই পলাশ চৌধুরী দীপন।
মামলার বিষয়ে বাদী মীর আশরাফ আলী আজম বলেন, এডিসি মোস্তফা কামাল আমার উপর পাশবিক নির্যাতন করেছে। আমার কোমরের হাড় ভেঙ্গে ফেলেছে। আমার দোষ ছিল আমি বিএনপি করি। আমি এর বিচার চাই।
এদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়, বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই বাদী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ আলী আজম বাসায় ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় ডিবি লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি মশিউর রহমান এবং এডিসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে বাকি আসামিসহ ২০/২৫ জন ডিবি পুলিশ ঘেরাও করে।
এরপর দারোয়ানকে মারধর ও কেচি গেইটের তালা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে। বাসায় থাকা স্ত্রী ও ছেলে ব্যারিস্টার মীর মুহতাসিমের সামনে বাদী মীর আজমকে টেনে হিঁচড়ে বের করেন। বাদী যেতে না চাইলে দুই তালার বাসার দরজা থেকে মারধর ও ধাক্কা দিয়ে সিঁড়িতে ফেলে দেয়। এসময় সাবেক কাউন্সিলর মীর আলী আজমের কোমরের হাড় ভেঙ্গে যায়।
পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে চিকিৎসাধীন থেকে একটু সুস্থ হলেও স্বাভাবিক হাঁটতে অক্ষম অভিযোগ করেন বাদী। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৭/৪৪৮/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ করা হয়।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হামের টিকা নিয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা হামের টিকাকে ড. ইউনূসের প্রত্যক্ষ মদতে বেসরকারি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর দেশত্যাগের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম একটি গণমাধ্যম-কে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ড. ইউনূসের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।’
উল্লেখ্য যে, চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৩ জন শিশু এবং সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জন শিশুসহ সর্বমোট ৯০২টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘Accelerating Digital Legal Aid Services in Bangladesh’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে ৯টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে নির্দেশ দেন।
এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০- এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ওডিআর) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।
১৬ আগস্ট সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্প্রেসহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন।
ওইদিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য গত ৬ আগস্ট তারখ ধার্য করেন। পরে ৬ আগস্ট আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারাদিন অবস্থান করে। দিনভর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মারধর করে।
আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। জনসাধারণের চলাচলে এবং খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন সেজন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে। গণতন্ত্র অধিকারকে হরণ করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯ টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয় এবং রাস্তার আশেপাশে বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বার বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং হত্যার উদ্দেশ্য নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।
দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।
আজ আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আর হয়রানির শিকার হতে দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামি মুক্ত হতে ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।
প্রযুক্তিবান্ধব বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের প্রথম পাইলটিং চালুর পর এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ ৭টি জেলায় উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তিন ধাপে ১৬টি জেলায় চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
এ নিয়ে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘এ কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। আমরা আশা করছি এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো।
মামলাজট নিরসনে বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর একটি ছোট মামলা ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধের আসামিরাও অনেক সময় পার পেয়ে যায়।’
মামলা কমানোর বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বিচার প্রার্থীদের সময়, অর্থ ও হয়রানি কমাতে চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২ জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
নতুন করে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমে যুক্ত হওয়া ১২টি জেলা হলো— টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামি মুক্ত হতে ১২টি জটিল ধাপ পার হতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকে ই-বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। সাথে সাথেই মোবাইলে ওটিপি ও কনফার্মেশন চলে আসবে।’
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে প্রথম পরীক্ষামূলক চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮টি জেলা এবং তৃতীয় ধাপে বগুড়াসহ আর ৭টি জেলা নিয়ে মোট ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ই-বেইলবন্ড সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এসব জেলায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার ফলে এ সুবিধার আওতায় আসার পাশাপাশি বিচারিক গতি বহুগুণ বাড়বে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
মামলা জট নিরসনে বিচারকদের উৎসাহিত করে মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এর জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, এ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চলের বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির আওতায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের অধীন দায়ের করা মামলাগুলোর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস যাতে সমাধান করতে পারে, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন দিয়েছেন।
যেসব আইনের মামলায় এই আপস-মীমাংসার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে সেগুলো হলো—পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ নম্বর ধারা; পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারা; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারা; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারা; দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪৯৪, ৫০০, ৫০১ ও ৫১১ নম্বর ধারা; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮, ৯, ১২, ৩৯, ৪২ ও ৫৪ নম্বর ধারা এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ নম্বর ধারা।
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান ও মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শেষে রামিসা হত্যা মামলার শুনানি শুরু হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মামলায় স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর গত ২৫ জুন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সোহেল রানা। এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। মামলার বিচার শেষে অপরাধের গুরুত্ব ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রায় ঘোষণার পর দুই আসামিকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়। সেখান থেকে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে ডেথ রেফারেন্স। এখন ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দিয়েছে আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়, ডনের বিরুদ্ধে এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই তাকে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট রোববার সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাকে হেফাজতে নেয় সিআইডি।
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়েছে।
শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখনই নিজেদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবতো। এছাড়া দেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক ‘জোকার’ বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা কোনও রাজনৈতিক নেতাসুলভ বক্তব্য নয়।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহৃত হয়। তার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন টিকটকার হিসেবে তাকে সবাই অভিহিত করেন। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য-কর্মকাণ্ডের কারণে জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।’
মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা রাজনৈতিক ছদ্মবেশে প্রকৃতপক্ষে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তারাও এরকমই দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছদ্মবরণে তারা ছিলেন দুর্বৃত্তপরায়ণ, দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী। তারা প্রত্যেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত দায় ও সুপিরিয়র কমান্ডের দায় রয়েছে। এ কারণে আমরা সাত আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। কেননা মামলার সব অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাজনীতি বন্ধে কড়া শাস্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে তাদের মতো এমন দুষ্কৃতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ আর ফিরে না আসুক। এরকম কোনও ব্যক্তি যেন বাংলাদেশে আর কখনোই রাজনীতি করার সাহস না পান। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।’
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। গত ২২ জানুয়ারি এই সাতজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক নির্দেশনা ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন, যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংস সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ১৩ বছর পর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদ। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তার আপিল শুনানি মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার (১০ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।
আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানান, ‘আপিল আবেদনের সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে আপিল আবেদনটি করা হয়েছে।’
আইন অনুযায়ী, রায় প্রকাশের এক মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিধান আছে। তবে আবুল কালাম আযাদের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে এই আপিলটি করা হয়।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সে সময় তিনি পলাতক ছিলেন। এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলার প্রথম রায়।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রায়ের ১৩ বছর পর গত ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মসমর্পণের শর্তে নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। আত্মসমর্পণের পর আপিলের জন্য তাকে নথিপত্র সরবরাহ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা ও তার স্বামী মোমেন মেহেদীসহ মোট ছয়জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামিদের জামিন নাকচের এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। জামিন নামঞ্জুর হওয়া অন্য চার আসামি হলেন—সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাপ মণ্ডল এবং হরী সরকার।
আদালতের নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে শাহবাগ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন বাবুল সরদার নামের এক ব্যক্তি। এজাহারে শান্তা ফারজানা ও তার স্বামীসহ নির্দিষ্ট ছয়জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়েছে যে, প্রধান দুই আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তারা ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ এবং এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে চরম অবমাননা করে ‘নেশাখোর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে শেখ হাসিনাকে দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। পাশাপাশি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ও জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নানামুখী অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। তাদের এই রাষ্ট্রবিরোধী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড জনমনে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছিল বলে মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই অপপ্রচারের ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আসামিরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে একটি উসকানিমূলক মিছিল বের করেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত থাকা এসটিএফ সদস্য আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ জানালে আসামিরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখ ও দুই হাত মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত ও জখম করেন বলে এজাহারে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের (৭৩) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
গত ৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৬ আগস্ট আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. মাসুদুর রহমান। তবে ওইদিন এই মামলার মূল নথি না থাকায় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন সোমবার।
ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ রেজা এ তথ্য জানান।
ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে বলে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সহযোগী অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে গ্রেফতার এবং তাদের রাষ্ট্রোবিরোধী অবৈধ পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ, হেফাজতে থাকা অবৈধ ককটেল বোমার উৎসসহ মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের জন্য নিবীড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালান। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাস বিরোধিতা আইনে পুলিশ মামলাটি দায়ের করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কাদের ও পলকের এমন একটি ফোনালাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ কল রেকর্ডটি জমা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক চলাকালে এ ফোনালাপ উপস্থাপন করা হয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
দাখিল করা ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘নেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ পরবর্তী কথোপকথনেও পলক জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।
প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কাদের ও পলকের এই কথোপকথন মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ফোনালাপটির অনুলিপি হলো—
পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি।
কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও।
পলক: জি।
কাদের: ইন্টারনেট।
পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?
কাদের: নিয়ে নাও।
পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।
কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...
পলক: হ্যাঁ, একটু ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...
কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।
পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি ও উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এ মামলায় মোট সাতজন আসামি রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই পলাতক।