বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের সংস্কারকাজ শেষ পর্যায়ে

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২ নভেম্বর, ২০২৪ ২০:০১

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের সংস্কারকাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সংস্কারকাজ শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন যে নান্দনিক রূপে দেখা যাবে তার ছবি প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক সাদা ভবনটির (পুরাতন হাইকোর্ট ভবন) নানামুখী সংস্কারকাজে ব্যস্ত রয়েছেন বিভিন্ন মিস্ত্রি ও তাদের কর্মীরা।

এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল-সংলগ্ন বাগান নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এই সংস্কারকাজের সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে। যেখানে কয়েকশ কর্মী এখন নিয়মিত কাজ করছেন।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিচার কার্যক্রম চলবে এমন ট্রাইব্যুনাল ভবনকে উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবনটি সংস্কারের পূর্বে অনেকটাই জরাজীর্ণ ছিল।

এরই মধ্যে দুইবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

ট্রইব্যুনালের পুরাতন মূল ভবনের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় আপাতত ভবন-সংলগ্ন অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে বিচারিক কার্যক্রম।

গত ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। আর ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের পতন হয়।

গত জুলাই-আগস্টে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার অনুগত প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। জাজ্বল্যমান এ অপরাধের বিচার অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১০ মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি ও সাবেক এক সচিবসহ মোট ১৪ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামী ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ অক্টোবর এ আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এ ছাড়া ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।


সাবেক এমপি মুজিবুর কারাগারে

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ২২:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহীন মাহমুদ।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরের একটি বাসা থেকে মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল্লাহ। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পরিবার তার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পরিবার।


আত্মপক্ষ সমর্থনে সোহেল রানার ক্ষমা প্রার্থনা, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে পরবর্তী আইনি ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেছেন।
এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি আসামিদের পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারকের কাছে অনুতপ্ত সুরে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল-ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।” অন্যদিকে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।” তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২ জুন নিহতের বাবা-মাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও আসামিদের পরীক্ষা শেষে মামলাটি রায়ের পূর্ববর্তী ধাপে পৌঁছালো। পুরো বিচারিক কার্যক্রমে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।


রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন বুধবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার (০৩ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (০২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন। এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার (০১ জুন) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায় শেষে আদালত বুধবার (০৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন গ্রহণ করবেন। ৩৪২ ধারায় সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মাতা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তারা এই সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যদানকালে রামিসার বাবা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চেয়ারে বসে তার জবানবন্দি পেশ করেন।

আদালতে আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, গত ১৯ মে সকালে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বনানী এলাকায় পৌঁছানোর পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন ভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। তিনি দোতলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে জানতে পারেন তার মেয়ে ভেতরে আটকা পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখতে পাওয়ার পর আসামিদের ব্যবহৃত স্টিলের খাটটি উঁচু করতেই মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জেরার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি।”

অন্যদিকে, রামিসার মা পারভীন আক্তার তার সাক্ষ্যে বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি রান্না করছিলেন এবং বড় মেয়েকে বলেছিলেন রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে। পরে ঘর থেকে শিশুদের শব্দ না পেয়ে তিনি ভেবেছিলেন তারা চলে গেছে। একপর্যায়ে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি শুরু করেন এবং তিনতলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজার নিচে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি বারবার দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভেতরে ঢুকে তিনি মেয়ের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের নির্দেশ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।” এছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”

আদালত কক্ষের গুমোট পরিবেশে আজ সকালে যখন আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় হাজির করা হয়, তখন আসামি স্বপ্না খাতুনকে কাঁদতে দেখা যায়। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান শুনানির শুরুতে আদালতের কাছে আবেদন করেন যেন আসামিরা যাতায়াতের সময় গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ না পান। উল্লেখ্য, গত সোমবার এই মামলায় চার্জ গঠন করার পর আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ঘটনার দিন সোহেল রানা শিশুটিকে হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না তখন বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অবিচল রয়েছেন নিহতের শোকাতুর পরিবার।


রামিসা হত্যা: আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে নিজের সন্তান হারানোর বিচার চেয়েছেন পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এ সময় তিনি মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, "আর কোনও বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।"

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আব্দুল হান্নান অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমি আদালতের কাছে আমার নিষ্পাপ সন্তানের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে এই বিচারের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমি চাই না, আর কোনও বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হোক, কোনও পরিবার সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়ুক কিংবা বিচার চেয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে বাধ্য হোক। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার অনুরোধ, এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হোক যাতে কোনও আসামি স্বীকারোক্তি দিলে এক মাসের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থা থাকে। দেশের মানুষও দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রত্যাশা করে। আমিও সেই প্রত্যাশাই করছি।”

সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন রামিসার বাবার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদেরও জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং মামলার ১৭ জন সাক্ষীকে সমন জারি করেন। মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ঘটনার পর সোহেল ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং তিনি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দ্রুত তদন্ত শেষে গত ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনার পর মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।


ত্বকী হত্যা: ১ জুলাইয়ের মধ্যে `পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন’ দাখিলের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আগামী ধার্য তারিখ (১ জুলাই) পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (০১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের এ নির্দেশ দেন।

এদিন মামলার আসামিদের মধ্যে ইউসুফ হোসেন, কাজল হাওলাদার, আবদুল্লাহ্ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন, মামুন মিয়া, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত হোসেন আদালতে হাজিরা দেন। অপর দুই আসামি সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান সীমান্ত পলাতক আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগের ধার্য তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র দাখিলের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা অগ্রগতির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা আবেদন দেননি। তাই দ্রুত আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আবেদন জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, ‘ধার্য তারিখে আদালতে মামলার আসামিরা হাজিরা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, শুনানি শেষে আদালত আগামী ১ জুলাই পরবর্তী ধার্য তারিখে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে এ পর্যন্ত ১০৪ বার সময় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।’ গত ২৬ এপ্রিল আরও ৩০ দিনের সময় চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানালেন, প্রতিবেদন তৈরিতে এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন। এই অনুমতির জন্যও কি মাসের পর মাস সময় চলে যাবে?


শিশু রামিসা হত্যার বিচার শুরু, নতুন নাম আনল ঘাতক সোহেল রানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত চত্বরে হাজির করার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে দাবি করেন যে তিনি একা এই অপরাধে জড়িত নন এবং এতে তাঁর স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। তিনি সরাসরি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’ ঘাতক সোহেল আরও দাবি করেন যে ডলার মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন বিত্তশালী ব্যক্তি।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ইতোমধ্যেই গত ২৪ মে আদালতে ১৮ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে এই দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। তদন্তে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অভিযোগপত্র আমলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমকে জানান যে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ ও লিগ্যাল এইড আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই মন্তব্য করেছেন যে রায় দ্রুত ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা বিচার কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি ও কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে দ্রুত বিচার পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। পরবর্তীতে ঘর থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন নিথর দেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং সোহেল রানার নতুন করে দেওয়া বয়ান তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যু : অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) রাতে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, নিহত এক শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে যেখানে এই ঘটনাকে "অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রাণ হারানো নবজাতকদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, কারণ স্বজনরা শিশুদের মরদেহে অস্ত্রোপচার না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চরম অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকায় এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

অপরদিকে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।


মা দীপু মনির প্যারোলে মুক্তি চেয়ে মেয়ের আবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জুলাই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির স্বামী তওফীক নাওয়াজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর সাতদিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছেন কন্যা তানি দীপাভলী নাওয়াজ। বুধবার (২৭ মে) মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর এই মানবিক আবেদনটি দাখিল করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তওফীক নাওয়াজ বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। মুন্সীগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন পেয়েছি, আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন।”

ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম একটি জানান যে, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা দীপু মনির স্বামীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হওয়ায় তাঁর তদারকির জন্য এই প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আরও জানানো হয়, তওফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার, লিভারের জটিলতা ও ব্রেন স্ট্রোকে ভুগছেন। গত মঙ্গলবার রক্ত দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীপু মনি বর্তমানে প্রায় ৩৭টি মামলায় তদন্তাধীন আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।

দীর্ঘ ২১ মাস কারান্তরীণ থাকায় অসুস্থ স্বামীর সেবা করার সুযোগ পাননি ডা. দীপু মনি। বর্তমানে স্বামীর এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর সান্নিধ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তদারকি করা একান্ত জরুরি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। মানবিক কারণে এই চরম বিপদের সময় স্বামীর জীবন রক্ষার চেষ্টা চালানো এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে শেষ সময়ে জীবনসঙ্গীর পাশে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করতেই সাতদিনের এই সাময়িক মুক্তির প্রার্থনা করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন এখন আবেদনটি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।


সাড়ে পাঁচ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলায় সাড়ে পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর এনায়েত করিম চৌধুরী নামক এক প্রবাসীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটকের পর গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে শওকত মাহমুদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তাকে পুনরায় একই ধরনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মূলত ‘মঞ্চ ৭১’ নামক একটি সংগঠনের আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠককে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত ঘটে। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তের ভিত্তিতে শওকত মাহমুদকেও এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব থেকে স্বাধীন: আইনমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ২১:৫৯
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে আলোকপাত করেন।

সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, “আমাদের দেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন তা অন্য কোথাও কমই উপভোগ করে। তা না হলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ এত হেরে যেত না।” বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। মূলত বিচারক ও আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সংখ্যার অপ্রতুলতার কারণেই বিচার কার্যক্রমে সময় বেশি লাগছে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া স্থানীয় আলোচিত একটি ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন যে, “রামিসা হত্যা মামলার যেন ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।” এ সময় বিচার বিভাগকে আরও গতিশীল করার লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে ।


শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচারের জন্য মামলা শিশু ট্রাইব্যুনালে বদলি

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। রোববার (২৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে আদালত দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করেন।

মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানা ইতোমধ্যেই গত ২০ মে আদালতে নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যার প্রেক্ষিতে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্র দাখিলের দিন তাঁদের দুজনকে কড়া পাহারায় আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনায় মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি ঘর থেকে বের হলে ঘাতক সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা রামিসাকে খুঁজতে বের হন এবং আসামিদের ঘরের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান। দেখা যায়, একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন নিথর দেহ পড়ে আছে এবং অন্য একটি কক্ষের ভেতরে রাখা বালতির মধ্য থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, মরদেহটি চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করার পাশাপাশি দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়েছিল। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর সোহেল রানা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুরো দেশ কাঁপিয়ে দেওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এখন শিশু ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই শুরু হবে।


সাবেক উপমন্ত্রী জ্যাকবকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দিয়েছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ জ্যাকবের জামিন আবেদন করা হলে তা শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে জ্যাকবকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক এস. এম. রাশেদুর রেজা। এ বিষয়ে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

শুনানি উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) সাবেক উপমন্ত্রী জ্যাকবকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এবং একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক এস. এম রাশেদুর রেজা মামলা দায়ের করেন।

নথি থেকে জানা গেছে, ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখা এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে মোট ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


banner close